যুক্তরাষ্ট্রে কসমেটিক্স পণ্যে উচ্চ মাত্রার ফ্লোরিন

যুক্তরাষ্ট্রে কসমেটিক্স পণ্যে উচ্চ মাত্রার ফ্লোরিন

নতুন গবেষণায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় পাওয়া যায় এমন ২৩১টি কসমেটিক্স পণ্যের মধ্যে ৫২ শতাংশ পণ্যে উচ্চ মাত্রায় ফ্লোরিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর অর্থ ওইসব পণ্যে পিএফএএস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বিক্রি হওয়া বিপুল সংখ্যক কসমেটিক্স পণ্যে উচ্চ মাত্রায় ফ্লোরিন পাওয়া গেছে। ওইসব পণ্যে ‘ফরেভার কেমিক্যাল’ নামে পরিচিত সম্ভাব্য ক্ষতিকর পার-অ্যান্ড পলিফ্লুরোঅ্যালকাইল সাবসটেন্সেস (পিএফএএস) থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সায়েন্স এলার্টের শনিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, মানুষের তৈরি হাজার হাজার যৌগিক পদার্থের সংমিশ্রণ পিএফএএস। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে গৃহস্থালী ও বাণিজ্যিক পণ্য উৎপাদনে এসব যৌগ ব্যবহার হয়ে আসছে।

গত কয়েক দশকের গবেষণায় দেখা যায়, টেকসই পিএফএএস পরিবেশে ব্যাপক মাত্রায় পাওয়া যায়। মানুষ ও জীবজন্তুর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ক্ষতিকর প্রভাবের সঙ্গে পিএফএএস যৌগিক পদার্থের উচ্চ মাত্রায় উপস্থিতির যোগসূত্র রয়েছে।

পিএফএএস সম্ভাব্য ও অজানা ঝুঁকির কারণ হলেও এতে বিভিন্ন ধরনের যৌগ উপস্থিত থাকায় অনেক ‘ফরেভার কেমিক্যাল’ এখনও বিভিন্ন পণ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইউরোপ ও এশিয়ার কসমেটিক্স পণ্যে এই কেমিক্যাল পাওয়ার ঘটনা আগের এক গবেষণায় জানা যায়।

বিজ্ঞানীদের গবেষণায় সম্প্রতি দেখা যায়, উত্তর আমেরিকায় বিক্রি হওয়া কসমেটিক্স পণ্যে পিএফএএস কেমিক্যাল রয়েছে।

নতুন ওই গবেষণায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় পাওয়া যায় এমন ২৩১টি কসমেটিক্স পণ্যের মধ্যে ৫২ শতাংশ পণ্যে উচ্চ মাত্রায় ফ্লোরিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর অর্থ ওইসব পণ্যে পিএফএএস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ নটর ডেমের পদার্থবিদ গ্রাহাম পিয়াসলি বলেন, ‘এসব কসমেটিক্স পণ্য চোখ ও মুখের চারদিকে দেয়া হয়। চামড়া, টিয়ার ডাক্টের পাশাপাশি শ্বাস বা খাবার গ্রহণের সময় এসব যৌগ শরীরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘পিএফএএস স্থির কেমিক্যাল। রক্তপ্রবাহে একবার ঢুকলে এটি সেখানেই থাকে ও জমাটবদ্ধ হয়।’

পরীক্ষা-নিরীক্ষায় লিপস্টিক, ফাউন্ডেশন, কনসিলারসহ আরও অনেক কসমেটিক্স পণ্যে উচ্চ মাত্রায় ফ্লোরিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

ওয়াটারপ্রুফ মাসকারায় অনেক বেশি মাত্রায় ফ্লোরিন পাওয়া গেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা মাসকারার মধ্যে ৮২ শতাংশ মাসকারায় ওই কেমিক্যাল পাওয়া যায়।

মুখে ব্যবহার করা প্রসাধন সামগ্রীর (পাউডার, ব্লাশ, ব্রোঞ্জার, হাইলাইটার, প্রাইমার, স্প্রে) ৪০ শতাংশের মধ্যে ফ্লোরিন পাওয়া গেছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা বলেন, “উচ্চ মাত্রার ফ্লোরিনের উপস্থিতি থাকা পণ্যের (ফাউন্ডেশন, লিকুইড লিপস্টিক, ওয়াটারপ্রুফ মাসকারাসহ অন্যান্য কসমেটিক্স) বিজ্ঞাপনে ‘পানি ও তেল প্রতিরোধী’ বা ‘দীর্ঘস্থায়ী’এসব কথা লেখা থাকে।”

গবেষনায় কসমেটিক্স পণ্যে পিএফএএসের উপস্থিতি ধরা পড়লেও এগুলোর মড়কে ভিন্ন কথা লেখা রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) নীতিমালার লঙ্ঘন।

গবেষকেরা বলেন, ‘২৩১ কসমেটিক্স পণ্যের মধ্যে মাত্র ৮ শতাংশ পণ্যের মড়কে উপাদানের অংশে পিএফএএসের উল্লেখ ছিল। আর ২৯টি পণ্যের মধ্যে কেবল ৩ শতাংশ পণ্যের উপাদানে পিএফএএস যুক্ত ছিল।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নিয়ানডারথালরা কি ছবি আঁকত

নিয়ানডারথালরা কি ছবি আঁকত

স্পেনের আর্দালেস গুহায় রঙিন স্ট্যালাগমাইটস। ছবি: এএফপি

নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে আর্দালেস গুহায় রঙের উপস্থিতি কমপক্ষে ৬৪ হাজার ৮০০ বছরের পুরোনো বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সে সময় পৃথিবীর বুকে আধুনিক মানুষের অস্তিত্ব ছিল না।

স্পেনের একটি গুহায় ৬০ হাজার বছরের পুরোনো রঙের ছোঁয়া বিলুপ্ত নিয়ানডারথালদের বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

তাদের করা গবেষণার বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাগৈতিহাসিক আর্দালেস গুহার ভেতরের পাথুরে কাঠামো ‘স্ট্যালাগমাইটস’-এর স্তম্ভজাতীয় বস্তুগুলো রঙিন করে তোলা হয়েছে রং ‘ছিটিয়ে আর ফুঁ দিয়ে’।

স্ট্যালাগমাইটস হলো বদ্ধ জায়গায় ছাদ চুইয়ে মেঝেতে পড়ে জমাট বাঁধা ক্যালসিয়াম কার্বনেটের স্তূপ যা দেখতে নানা আকৃতির স্তম্ভের মতো। অনেক সময় বহু বছর ধরে জমে থাকা লাভা, কাদা, বালু, লোহা ও অন্যান্য ধাতবের তরলও স্ট্যালাগমাইটসে পরিণত হয়।

আর্দালেস গুহাজুড়ে এমন অনেক স্ট্যালাগমাইটসের দেখা মেলে, যেগুলোর গায়ে আলাদা করে রঙের উপস্থিতিও পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

এ থেকেই তাদের ধারণা, অনেক বছরের গবেষণায় নিয়ানডারথালদের সভ্যতার ছোঁয়া না পাওয়া ও বর্বর বলে বিবেচনা করা হলেও তাদের মধ্যে হয়তো শিল্পবোধ ছিল। স্পেনের প্রাচীন গুহাটিতে রঙের ছোঁয়া তাদের শিল্পবোধেরই প্রতিফলন বলে সোমবার প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আর্দালেস গুহার ‘স্ট্যালাগমাইটস ডোম’ বা স্তম্ভগুলোতে মেটে লাল রঙের উপস্থিতির পেছনে মানুষের পূর্বপুরুষ নিয়ানডারথালদের হাত থাকতে পারে বলে ২০১৮ সালে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। তখন থেকেই প্যালেওআর্কিওলজির জগতে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়ায় এটি।

বিজ্ঞানের পরিভাষায় মানুষ তথা হোমো স্যাপিয়েন্সের আদি রূপ হলো নিয়ানডারথাল। প্রায় ৪০ হাজার বছর আগে পৃথিবীর বুক থেকে নিয়ানডারথালরা বিলুপ্ত হয়ে যায় বলে ধারণা করা হয়।

নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে আর্দালেস গুহায় রঙের উপস্থিতি কমপক্ষে ৬৪ হাজার ৮০০ বছরের পুরোনো বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সে সময় পৃথিবীর বুকে আধুনিক মানুষের অস্তিত্ব ছিল না।

শুরুতে ওই রং আয়রন অক্সাইডের প্রবাহ থেকে সৃষ্টি বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু নতুন বিশ্লেষণে মিলেছে ভিন্ন তথ্য। বিজ্ঞানীরা জানান, ফুঁ দিয়ে আর ছিটিয়ে স্ট্যালাগমাইটসগুলো রং করা হয়েছিল।

গুহার প্রাকৃতিক নমুনার সঙ্গে ওই রঙিন পদার্থের গঠনবিন্যাসে পার্থক্য থেকেই এ রং বাইরে থেকে আনা হয়েছে বলে ধারণা জন্মায় বিজ্ঞানীদের। এরপরই বিষয়টি নিয়ে নতুন উদ্যমে শুরু হয় গবেষণা।

ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি অফ বোহদুর গবেষক ডি’এরিকো বলেন, ‘আমাদের ধারণা, কয়েক হাজার বছর ধরে বিভিন্ন উপলক্ষে গুহাটি রং করতেই এখানে আসত নিয়ানডারথালরা।’

এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, গুহাটিতে একেকটি রঙের প্রলেপ একেক সময় দেয়া হয়েছিল। একেকটি প্রলেপের মধ্যে ১০ হাজার বছরের বেশি সময়ের পার্থক্যও ধরা পড়েছে।

শেয়ার করুন

ডিজিটালাইজ হচ্ছে দেশের ৭৩টি গণগ্রন্থাগার

ডিজিটালাইজ হচ্ছে দেশের ৭৩টি গণগ্রন্থাগার

লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনার ডিজিটাল পদ্ধতি অনুযায়ী থরে থরে সাজানো থাকবে ই-বুক। থাকবে শিশু ও মুজিব কর্নার। প্রতিটি ই-লাইব্রেরি এমনভাবে সাজানো হবে, যাতে ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের পাশাপাশি মোবাইল ফোন থেকেও সহজেই ভার্চুয়াল গ্রন্থাগারে ঢুকে পছন্দের বইটি পড়তে পারবেন।

জ্ঞানসমৃদ্ধ নতুন প্রজন্ম গঠনে দেশের ৭৩টি গণগ্রন্থাগারকে ডিজিটালাইজ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের ৭১টি সরকারি ও দুটি বেসরকারি গ্রন্থাগারকে ডিজিলাইজ করবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার এ কথা জানিয়েছে আইসিটি বিভাগ।

এতে বলা হয়, মানসম্পন্ন অনলাইন সেবাকে সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে গ্রন্থাগারগুলোকে পরিণত করা হবে ই-লাইব্রেরিতে।

এ বিষয়ে রোববার রাতে আইসিটি বিভাগ ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে অনলাইনে এক পর্যালোচনা সভা হয়।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে এ সভায় যুক্ত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এ ছাড়াও আরও যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব, গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) এনামুল কবিরসহ তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা।

সরকারের উদ্যোগটি বাস্তবায়নে রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় সভায়।

এতে জানানো হয়, লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনার ডিজিটাল পদ্ধতি অনুযায়ী থরে থরে সাজানো থাকবে ই-বুক। থাকবে শিশু ও মুজিব কর্নার। প্রতিটি ই-লাইব্রেরি এমনভাবে সাজানো হবে, যাতে ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের পাশাপাশি মোবাইল ফোন থেকেও সহজেই ভার্চুয়াল গ্রন্থাগারে ঢুকে পছন্দের বইটি পড়তে পারবেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ল্যান নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করে লাইব্রেরিগুলোকে ডিজিটাল রূপান্তরে তারহীন প্রযুক্তির ইন্টারনেট সংযোগ, আইপি ফোন, বিভাগীয় গ্রন্থাগারগুলোর জন্য আরএফআইডি প্রযুক্তির ব্যবস্থা করবে আইসিটি বিভাগ।

শেয়ার করুন

বিল গেটসের টয়লেটে মল পরিণত হবে ‘সম্পদে’

বিল গেটসের টয়লেটে মল পরিণত হবে ‘সম্পদে’

স্যানিটেশন নিয়ে কাজ করছেন বিল গেটস। ছবি: গেটসনোটস

পৃথিবীর অর্ধেক জনগোষ্ঠীর (প্রায় ৩৬০ কোটি) টয়লেট নেই বা তারা অনিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবহার করে। অনিরাপদ স্যানিটেশনের অর্থ দূষিত পানি ও মাটি। এতে অসুস্থতা, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

অস্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত করতে ১০ বছর আগে টয়লেট নতুন করে উদ্ভাবনের চ্যালেঞ্জ বিশ্বকে দিয়েছিল বিল গেটস ফাউন্ডেশন।

পৃথিবীর অর্ধেক জনগোষ্ঠীর (প্রায় ৩৬০ কোটি) টয়লেট নেই বা অনিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবহার করে।

অনিরাপদ স্যানিটেশনের অর্থ দূষিত পানি ও মাটি। এতে অসুস্থতা, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ডায়রিয়াসহ অন্যান্য স্যানিটেশন সংশ্লিষ্ট রোগে ভুগে বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় পাঁচ লাখ শিশুর মৃত্যু হয়।

তবে এই স্যানিটেশন সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে মনে করছেন বিল গেটস। তার ব্লগ সাইট গেটসনোটস-এ এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

২০১১ সালে বিল গেটস ফাউন্ডেশনের ‘রিইনভেন্ট দ্য টয়লেট চ্যালেঞ্জ’ প্রকল্প গবেষকদের কাছ থেকে জানতে চায়, পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা বা প্রবাহমান পানির ওপর নির্ভর না করে নিরাপদ স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা যায় কি না।

বিল গেটস ফাউন্ডেশনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা বেশ কিছু চমকপ্রদ চিন্তা হাজির করেন।

অল্প পানি ও বিদ্যুতের সাহায্যে বা এসবের সাহায্য ছাড়াই মানব বর্জ্য নিরাপদে প্রক্রিয়াজাত করার টয়লেট নকশা করেন তারা।

ওই বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা এমন এক ধরনের টয়লেট তৈরি করেন যেখানে সার, পরিষ্কার পানি ও বিদ্যুৎসহ মূল্যবান আরও সম্পদে পরিণত হয় মল।

অন্য গবেষকরা টয়লেট, সেপটিক ট্যাংক ও পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা থেকে মল প্রক্রিয়াজাত করার নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন।

এর মাধ্যমে পুরো সম্প্রদায়ের বর্জ্য খাবার পানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়।

ওমনি-প্রসেসরস নামে পরিচিত এসব যন্ত্র মলমূত্র ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টও ব্যবহার করা যেতে পারে।

উদ্ভাবনের পরবর্তী ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির অধ্যাপক ড. শ্যানন ইর নেতৃাত্বধীন দল ওইসব চিন্তা থেকে কম খরচে কীভাবে টয়লেট উদ্ভাবন করা যায়, তা বের করবে।

এর নাম দেয়া হয়েছে জেনারেশন টু রিইনভেন্টেড টয়লেট।

বাজারে এসব উদ্ভাবন সামনে আনতে এখনও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি গবেষকরা। তবে চ্যালেঞ্জ উতরানো গেলে এসব উদ্ভাবন কোটি কোটি মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনবে।

মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে আশাবাদী। আগামী ১০ বছর বা তারও পরে আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।’

শেয়ার করুন

বিজ্ঞানমনস্করাও হতে পারেন ‘অন্ধবিশ্বাসী’

বিজ্ঞানমনস্করাও হতে পারেন ‘অন্ধবিশ্বাসী’

আর্জেন্টিনার বুয়েনোস আইরেসের মেডিক্যাল সেন্টারে এইচআইভি ভাইরাস নিয়ে পরীক্ষা করছেন এক ছাত্র। ছবি: এএফপি

‘বিজ্ঞানীর ফাঁদে পা দেয়ার প্রবণতা আছে মানুষের। যে কারণে যেসব মানুষ বিজ্ঞানকে বিশ্বাস করেন বা যাদের বিজ্ঞানকে বিশ্বাস করতে শেখানো হয়েছে, তারাও অন্যদের মতো বোকা বনে যেতে পারেন।’

বিজ্ঞানে বিশ্বাসীরাও প্রায়ই উদ্ভট কিছুতে বিশ্বাস করে বসেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, পরীক্ষিত সত্যের মোড়কে ঢাকা ভুল তথ্যকে নির্ভুল পথে নিতে বিজ্ঞানের সূক্ষ্ম পরীক্ষা-নিরীক্ষার পদ্ধতি অনেক গভীর।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভিনিয়া ও ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয়ের আরবানা-ক্যাম্পেইনের একদল গবেষকের গবেষণায় দেখা গেছে, বিজ্ঞানসম্মত মনে হওয়া অনেক তথ্যের ওপর অন্ধবিশ্বাস কী করে ‘অপবিজ্ঞানকে’ এগিয়ে নিতে পারে। জার্নাল অফ এক্সপেরিমেন্টাল স্যোসাল সাইকোলজিতে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণা নিবন্ধটি

গবেষণার অংশ হিসেবে অনলাইনে চারটি এক্সপেরিমেন্ট করা হয়। সর্বনিম্ন ৩৮২ জন থেকে সর্বোচ্চ ৬০৫ জন স্বেচ্ছায় এগুলোতে অংশ নেন। এক্সপেরিমেন্টগুলোয় দুটি কল্পিত ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করা হয়। যার একটি ছিল জিনগত পরিবর্তন ঘটানো অনুজীবের কারণে ক্যানসার হতে পারে। অন্যটি ছিল, একটি ভাইরাস-নির্ভর জীবাণু অস্ত্রের ওপর।

এক্সপেরিমেন্টে প্রতিটি গল্পকে বৈচিত্র্যময় করে, সেগুলোকে বৈজ্ঞানিক শব্দ ও সাধারণ শব্দ ব্যবহার করে উপস্থাপন করা হয়। বিশ্লেষণে দেখা যায়, যে সব অংশগ্রহণকারী বিজ্ঞানমনস্ক, তারা স্বাভাবিকভাবে বৈজ্ঞানিক শব্দ ব্যবহার করা গল্পে দিয়ে প্রভাবিত বেশি হয়েছেন।

এই গবেষণার ফলের ওপর ভিত্তি করে দেখা যায়, বিজ্ঞানের ওপর ভরসা বা বিশ্বাস বাড়ানোর প্রচেষ্টা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও অপবিজ্ঞানের প্রতি বিশ্বাস আরও দৃঢ় করতে পারে।

তবে একটি এক্সপেরিমেন্ট থেকে কিছুটা আশাবাদীও হওয়া যেতে পারে। এতে অংশগ্রহণকারীদের বলা হলো, ‘মিডিয়া বা অন্যান্য উৎস কী বলছে সেটার প্রতি অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে নিজেদের কথা ভাবতে হবে’, তখন অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের জবাব নিয়ে আবারও চিন্তা করেন। এতে করে কাহিনীগুলোর প্রতি তাদের সমর্থন কমতে থাকে।

গবেষকেরা বলছেন, বৈজ্ঞানিক মনে হওয়া দাবিগুলো নিয়ে সংশয় ধরে রাখার এই পরামর্শ আপাতদৃষ্টিতে সঠিক। যেহেতু ভুল তথ্যের সমুদ্রে নির্ভরযোগ্য সত্য ডুবতে বসেছে, তাই সঠিক তথ্য কীভাবে সবার কাছে পৌঁছানো যায় সেটি বের করার প্রয়োজন ক্রমশ বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভেনিয়া ও ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয়ের আরবানা-ক্যাম্পেইনের সামাজিক মনোবিদ ডলোরেস আলবারাসিন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের এমন লোক আরও দরকার, যারা তথ্যের সমালোচনা করতে পারেন। সমালোচনামূলক মানসিকতা ব্যক্তির নির্বুদ্ধিতাকে হ্রাস করতে পারে। এতে করে ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলিতে বিশ্বাস আরোপের সম্ভাবনা কমে আসবে।’

গবেষকেরা বলছেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কয়েক শতাব্দীর ধারাবাহিক উন্নতিতে বিজ্ঞান আসলে কী করতে পারে সেটা মূল্যায়নের পর বেশির ভাগ মানুষ অধিকাংশ ইতিবাচক ফলের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টাকে যুক্ত করেন।

কাকে বিশ্বাস করতে হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া জটিল হলেও, সামগ্রিকভাবে বেশিরভাগ মানুষ বিজ্ঞানকে ভালো মনে করে বিশ্বাস স্থাপন করে।

এ সমস্যার মূলে রয়েছে লাখো বছরের বিবর্তনের ফলে পরিবর্তিত ও সহজে মনোযোগ হারানো মানব মস্তিষ্ক।

মনোযোগ দেয়ার জায়গার অভাব না থাকায়, যে তথ্য আমাদের জন্য উপকারী সেটি শনাক্ত করতে মানব মস্তিষ্ককে আরও হিসাবি হওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন গবেষকেরা।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, প্রকৃতির মৌলিক বিষয়গুলোর হিসাবের চাহিদার চেয়ে মানুষের চিন্তা প্রক্রিয়া বেশি বিবর্তিত হয়েছে অন্য মানুষের মস্তিষ্কের সঙ্গে কাজ করার চাহিদার কারণে।

বলা হচ্ছে, আমাদের সচেতন জ্ঞান শর্টকাট খুঁজতে বেশি ব্যস্ত, যাকে বলা হয় হিউরিস্টিকস। এর মাধ্যমে মস্তিষ্ক ভাষা, মুখের অভিব্যক্তি, এমনকি ফ্যাশনের উপর ভিত্তি করে দ্রুত নির্ধারণ করে- কে আমাদের পক্ষে ও কে পক্ষে নয়।

এই ধরনের হিউরিস্টিক পদ্ধতির ওপর মস্তিষ্কের অতিরিক্ত নির্ভরতাকে থামাতে পারে সমালোচনামূলক পদ্ধতি। এটি মনব মস্তিষ্ককে বিশ্বাস গড়ে তোলা বা সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আরও তথ্য খোঁজার সুযোগ দেয়।

গবেষণাটিতে সমালোচনামূলক চিন্তা করার গুরুত্বসহ বিজ্ঞানের প্রচারের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, খুব কম মানুষের নিজেদের বিশ্বাসকে আবার শুরু থেকে গড়ে তোলার সময় আছে। শেষ পর্যন্ত প্রায় সবাই এমন কারও ওপর নির্ভর করেন, যাকে মনে হয় তিনি খুব ‘খুব ভালো জানেন’। অথচ নির্ভর করা সেই ব্যক্তিটি অনেক ক্ষেত্রেই ইচ্ছাকৃত ভাবে ধোঁকা দেন বা নিজেই ভুল পথে হাঁটেন।

আলবারাসিন বলেন, ‘বিজ্ঞানীর ফাঁদে পা দেয়ার প্রবণতা আছে মানুষের। যে কারণে যেসব মানুষ বিজ্ঞানকে বিশ্বাস করেন বা যাদের বিজ্ঞানকে বিশ্বাস করতে শেখানো হয়েছে, তারাও অন্যদের মতো বোকা বনে যেতে পারেন।’

শেয়ার করুন

সাগরের নিচে লুকানো মহাদেশের উপরিভাগ আইসল্যান্ড

সাগরের নিচে লুকানো মহাদেশের উপরিভাগ আইসল্যান্ড

যুক্তরাজ্যের ডারহাম ইউনিভার্সিটির জিওফিজিক্স বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক জিলিয়ান ফোলজারের নেতৃত্বাধীন গবেষক দল বলছে, মহাসাগরের নিচে লুকানো মহাদেশটির শিখরে রয়েছে আইসল্যান্ড।

উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের নিচে আইসল্যান্ডিয়া নামে বিশাল এক মহাদেশ থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

আর এ ধারণা সত্য প্রমাণ হলে বিশ্বজুড়ে সাগরের নিচে নিমজ্জিত অন্যান্য মহাদেশ নিয়েও অনুসন্ধান শুরু হবে।

গবেষকদের অনুমান, প্রস্তাবিত আইসল্যান্ডিয়া মহাদেশ কমপক্ষে ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমাইল পর্যন্ত বিস্তৃত।

গ্রিনল্যান্ডের উত্তরাঞ্চল থেকে সম্ভবত ইউরোপের পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত এটি সম্প্রসারিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের ডারহাম ইউনিভার্সিটির জিওফিজিক্স বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক জিলিয়ান ফোলজারের নেতৃত্বাধীন গবেষক দল বলছে, মহাসাগরের নিচে লুকানো মহাদেশটির শিখরে রয়েছে আইসল্যান্ড।

ফোলজার ও তার সহকর্মীদের বরাতে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডাভিত্তিক ম্যাগাজিন ভাইস জানিয়েছে, আইসল্যান্ডিয়ার অস্তিত্বের বিষয়টি একটি অনুমান।

গভীর ড্রিলিং, ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও জিরকনের মতো নানা খনিজ পদার্থের বিশ্লেষণসহ অন্যান্য পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ফোলজার ও তার সহকর্মীরা বলেন, ‘আইসল্যান্ডিয়ার অস্তিত্ব পরীক্ষা করা উচিত।

‘নতুন পদ্ধতি ও অনুমানের বাস্তব রূপ দিতে আইসল্যান্ডিয়া হচ্ছে একটি সুবিধাজনক উদাহরণ।

‘এর মাধ্যমে সাগরে লুকানো অন্যান্য মহাদেশেরও অনুসন্ধান সহজ হবে।

চমকপ্রদ ভূ-প্রকৃতি ও আগ্নেয়গিরির অহরহ অগ্ন্যুৎপাতের কারণে আর্থ সায়েন্টিস্টদের দীর্ঘদিনের আকর্ষণের বিষয় আইসল্যান্ড।

উত্তর আমেরিকান ও ইউরেশিয়ান কন্টিনেন্টাল প্লেটের সীমানার সবার ওপরে আইসল্যান্ডের অবস্থান।

বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের ধারণা, ওশানিক ক্রাস্ট (আংশিক গলিত পাথর) আইল্যান্ডকে ঘিরে রেখেছে। গঠন ও ঘনত্বের দিক থেকে এই ওশানিক ক্রাস্ট কন্টিনেন্টাল ক্রাস্টের থেকে আলাদা।

মানবজাতি এ কন্টিনেন্টাল ক্রাস্টের ওপরই বসবাস করছে।

কন্টিনেন্টাল ক্রাস্টের চেয়ে ওশানিক ক্রাস্ট তুলনামূলকভাবে ভারী। এর ফলে এটি মহাদেশের নিচে ডুবে থাকলেও পৃথিবীর ম্যান্টল স্তরের ওপরে অবস্থান করে।

এসব কারণে ওশানিক ক্রাস্ট কন্টিনেন্টাল ক্রাস্টের চেয়ে আকৃতিতে যথেষ্ট পাতলা ও কম প্রাচীন।

ফোলজার ও তার সহকর্মীদের সাম্প্রতিক ধারণা, আইসল্যান্ডকে ঘিরে রেখেছে কন্টিনেন্টাল ক্রাস্ট, ওশানিক ক্রাস্ট নয়।

কারণ আইসল্যান্ডের নিচে থাকা স্তর প্রায় ২৫ মাইল গভীর, যা ওশানিক ক্রাস্টের গড় চার মাইল পুরুত্বের চেয়েও পুরু।

১৯৭৭ সালের এক গবেষণায়ও বলা হয়, আইসল্যান্ড হয়তো কন্টিনেন্টাল ক্রাস্টেই অবস্থিত।

শেয়ার করুন

ডাইনোসর বিলুপ্ত করে দেয়া গ্রহাণুর ‘আঘাতের ক্ষত’ লুইজিয়ানায়

ডাইনোসর বিলুপ্ত করে দেয়া গ্রহাণুর ‘আঘাতের ক্ষত’ লুইজিয়ানায়

বর্তমান মেক্সিকোর ইউকাতান উপদ্বীপে সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে গ্রহাণুর আঘাতের কাল্পনিক দৃশ্য। ছবি: সায়েন্স নিউজ

গ্রহাণুটি আঘাত হেনেছিল মেক্সিকোর ইউকাতান উপদ্বীপে। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় সৃষ্ট রিপল মার্কসের গড় উচ্চতা ১৬ মিটার। চিহ্নগুলোর একেকটির দূরত্ব প্রায় ৬০০ মিটার।

সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে ডাইনোসর বিলুপ্ত করে দেয়া গ্রহাণুর আঘাতের পরোক্ষ অনেক চিহ্ন আজও রয়ে গেছে পৃথিবীর বুকে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে ভূগর্ভে আবিষ্কৃত বিশাল অসমান পৃষ্ঠও সৃষ্টি হয়েছে ওই গ্রহাণুর আঘাতেই।

এ ধরনের অসমান পৃষ্ঠকে ইংরেজি ভাষায় বলা হয় ‘রিপল মার্কস’। বয়ে যাওয়া বাতাস বা পানিপ্রবাহের কারণে ভূপৃষ্ঠের কোনো অংশ ঢেউয়ের আকার ধারণ করলে সেটাই ‘রিপল মার্কস’।

পৃথিবীর বুকে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সর্ববৃহৎ রিপল মার্কসটি রয়েছে লুইজিয়ানার ভূগর্ভে।

সাধারণ অবস্থায় নদী বা সাগরের তীরে রিপল মার্কসের উচ্চতা কয়েক সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

তবে সায়েন্স নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, লুইজিয়ানার মধ্যাঞ্চলে ভূপৃষ্ঠের দেড় হাজার মিটার গভীরে শৈলশিরার মতো বিন্যস্ত কাঠামোগুলোর উচ্চতা তিন তলা ভবনের সমান। দুটি আইফেল টাওয়ার পাশাপাশি যে পরিমাণ জায়গা নেবে, তার সমান এর পরিধি।

গবেষকরা মনে করছেন, গ্রহাণুটির আঘাতে সৃষ্ট সুনামিতে হয়েছে এ রিপল মার্কস।

লুইজিয়ানা ইউনিভার্সিটির ভূতত্ত্ববিদ গ্যারি কিন্সল্যান্ড বলেন, ‘ছয় কোটি ৬০ লাখ বছর আগে যা ঘটেছিল, তার প্রমাণ প্রকৃতিই সংরক্ষণ করেছে। বিষয়টি চমৎকার।

‘লুইজিয়ানার পাঁচ হাজার ফুট গভীরে পলির জীবাশ্মে চাপা পড়ে আছে সেটি।’

গ্রহাণুটি আঘাত হেনেছিল বর্তমান মেক্সিকোর ইউকাতান উপদ্বীপে। এর প্রভাবে লুইজিয়ানায় সৃষ্ট রিপল মার্কসের গড় উচ্চতা ১৬ মিটার। একেকটির মধ্যে দূরত্ব প্রায় ৬০০ মিটার।

কিন্সল্যান্ড জানান, রিপল মার্কগুলোর আকার, আকৃতি, দিক ও অবস্থানের ভিত্তিতে এটি ঐতিহাসিক গ্রহাণুর আঘাতের পরোক্ষ ফল বলে মনে করা হচ্ছে।

গ্রহাণুটির আঘাতে সুনামির কারণে মেক্সিকো উপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ পলি সরে লুইজিয়ানার দিকে এসেছিল। সে সময় অবশ্য এসব পলি পানির নিচেই ছিল, বর্তমানে যা জীবাশ্ম।

সুনামির ব্যাপকতা সত্ত্বেও এর প্রভাবে সৃষ্ট রিপল মার্কস এর আগে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

মুহূর্তের জন্য নিয়ন্ত্রণহীন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন

মুহূর্তের জন্য নিয়ন্ত্রণহীন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন

চীন ও মঙ্গোলিয়া সীমান্তের আকাশে ৪২০ কিলোমিটার উচ্চতায় আইএসএসের সঙ্গে যুক্ত হয় নাউকা। ছবি: নাসা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে নাসা জানায়, হঠাৎ ত্রুটির কারণে নির্দিষ্ট অবস্থান থেকে ৪৫ ডিগ্রি সরে গিয়েছিল মহাকাশ স্টেশনটি। সে সময় বেশ কয়েক মিনিটের জন্য যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়েছিলেন নভোচারীরা।

অল্প সময়ের জন্য নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন আইএসএস। মহাকাশ কেন্দ্রটিতে রাশিয়ার নতুন পৌঁছানো একটি মডিউলে অসাবধানতাবশত আগুন ধরে গেলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটি ঠিক করার মাধ্যমে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং বর্তমানে স্বাভাবিকভাবেই সব কার্যক্রম চলছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, আট দিনের যাত্রা শেষে আইএসএসে বৃহস্পতিবার অবতরণ করে নাউকা মডিউলটি। এর বেশ কয়েক ঘণ্টা পর ত্রুটির বিষয়টি সামনে আসে।

পরে আইএসএসের অন্যান্য মডিউল চালু করে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় মহাকাশ কেন্দ্রটি। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে মহাকাশ কেন্দ্রটিতে সাতজন নভোচারী আছেন। এ ঘটনায় তাদের কোনো বিপদ হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে নাসা জানায়, হঠাৎ ত্রুটির কারণে নির্দিষ্ট অবস্থান থেকে ৪৫ ডিগ্রি সরে গিয়েছিল মহাকাশ স্টেশনটি। সে সময় বেশ কয়েক মিনিটের জন্য যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়েছিলেন নভোচারীরা।

ত্রুটি ঠিক করে আবারও স্টেশনটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

এদিকে ৩০ জুলাই আইএসএসে বোয়িংয়ের মানববিহীন একটি মহাকাশযান পাঠানোর কথা ছিল বোয়িং ও নাসার।

দুর্ঘটনার পর এ কার্যক্রম অন্তত ৩ আগস্ট পর্যন্ত পেছানো হয়েছে।

১৩ মিটার দীর্ঘ ও ২০ টন ওজনের নাউকা মডিউলটি কক্ষপথে আইএসএসের পেছনের অংশে যুক্ত ছিল। স্টেশনে রাশিয়ার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করত এটি।

চীন ও মঙ্গোলিয়া সীমান্তের আকাশে ৪২০ কিলোমিটার উচ্চতায় আইএসএসের সঙ্গে যুক্ত হয় নাউকা।

২০০৭ সালে মডিউলটি চালু করার কথা থাকলেও মূলত অর্থসংস্থানে ঘাটতির কারণে বারবার সে সময় পিছিয়েছে। এ ছাড়া প্রকৌশলীরাও এটি তৈরির সময় বেশ কিছু কারিগরি জটিলতার মুখে পড়েছিলেন।

এক সপ্তাহ আগে কাজাখস্তানের বাইকোনূর কসমোড্রোম থেকে আইএসএসের উদ্দেশে রওনা দেয় মডিউলটি। তখন মস্কো থেকে মডিউলটি নিয়ন্ত্রণের সময়েও জটিলতা দেখা দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত তারিখেই আইএসএসে অবতরণে সফল হয় মডিউলটি।

নতুন মডিউলটির মাধ্যমে আইএসএসে ৭০ ঘনমিটার জায়গা বাড়বে। এই বাড়তি জায়গায় নভোচারীরা পণ্য মজুত করবেন এবং এখান থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা পরিচালনা করবেন।

মডিউলটির সঙ্গে একটি বড় যান্ত্রিক হাত আছে, যা সরবরাহ করেছে ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি ইএসএ। ১১ মিটার দীর্ঘ যন্ত্রটি আইএসএসে রাশিয়ার অংশগুলোতে কাজ করতে পারবে। ‘কনুই’য়ের অংশের সাহায্যে এটি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলাচল করবে।

বিশ্রামের জায়গা হিসেবেও ব্যবহৃত হবে মডিউলটি। এতে একটি টয়লেটও আছে।

আইএসএসে রাশিয়ার ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই নাউকা মডিউলটি যুক্ত হলো মহাকাশ স্টেশনটিতে।

বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা একমাত্র মহাকাশ স্টেশন আইএসএসের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, কানাডা, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ২০২৪ সালে মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে আইএসএসের।

আইএসএসে অংশ নিতে দেয়া হয়নি চীনকে। পৃথিবীর কক্ষপথে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় নতুন মহাকাশ স্টেশন নিয়ে কাজ করছে চীন। চলতি বছরের এপ্রিলে ভবিষ্যৎ স্টেশনের প্রথম মডিউলও মহাকাশে পাঠিয়েছে বেইজিং।

২০২২ সালের মধ্যে নতুন স্টেশনটিতে পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরু করবে বলে আশাবাদী চীন। পরিকল্পনা সফল হলে ২০২৪ সালে পৃথিবীর বাইরে একমাত্র মহাকাশ স্টেশনটি হবে চীনের। আকারে এটি আইএসএসের চার ভাগের এক ভাগ। কিন্তু এতে মহাকাশ গবেষণাগারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে চীনের।

শেয়ার করুন