`বিস্ময়কর' ব্যাকটেরিয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ৭৭% হ্রাস

অ্যাডিস মশা নিয়ে গবেষণায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের হার ৭৭ শতাংশ কমে যায়। ছবি: বিশ্ব মশা কর্মসূচি

`বিস্ময়কর' ব্যাকটেরিয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ৭৭% হ্রাস

ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া ডেঙ্গু ভাইরাসের পুনরুৎপাদনের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে মানবদেহে অ্যাডিস মশা কামড়ানোর সময় ডেঙ্গু রোগের সংক্রমণ তুলনামূলক কম ঘটে।

ডেঙ্গু জ্বরের জন্য দায়ী অ্যাডিস মশা নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার এক শহরে গবেষণা করেছেন দেশটির একদল বিজ্ঞানী। গবেষণার একপর্যায়ে দেখা যায়, শহরটিতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের হার ৭৭ শতাংশ কমে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সম্প্রতি এমনটাই বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনটির বরাতে বৃহস্পতিবার বিবিসি জানিয়েছে, গবেষণায় ‘বিস্ময়কর’ ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত মশা ব্যবহার করা হয়। ওই ব্যাকটেরিয়া মশার ডেঙ্গু রোগ ছড়ানোর ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

ইন্দোনেশিয়ার ইয়োগিকার্তা শহরে বিজ্ঞানীরা ট্রায়ালটি পরিচালনা করেন। ডেঙ্গু ভাইরাস পুরোপুরি নির্মূলের সম্ভাবনায় ট্রায়ালটি আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।

বিশ্ব মশা কর্মসূচি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়ার বিজ্ঞানীদের গবেষণা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

৫০ বছর আগে অল্পসংখ্যক মানুষ ডেঙ্গু জ্বরের নাম শুনেছিল। এখন এটি মহামারির আকার ধারণ করেছে। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বিশ্বে ক্রমাগত বাড়ছে।

১৯৭০ সালে কেবল বিশ্বের নয়টি দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এখন প্রতিবছর ৪০ কোটি মানুষ এ জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে।

ডেঙ্গু জ্বর ‘ব্রেক-বোন ফিবার’ নামেই বেশি পরিচিত। কারণ এতে আক্রান্ত হলে পেশি ও হাড়ে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।

ইন্দোনেশিয়ার বিজ্ঞানীরা ট্রায়ালে ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত মশা ব্যবহার করেন। গবেষক দলের একজন ড. ক্যাটি অ্যান্ডার্স ওই মশাগুলোকে ‘প্রাকৃতিকভাবে বিস্ময়কর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া মশার কোনো ক্ষতি করে না। তবে মশার যেসব অঙ্গের মধ্য দিয়ে ডেঙ্গু ভাইরাস প্রবেশ করে, সেসব অঙ্গের বাইরে অবস্থায় নেয় এই ব্যাকটেরিয়া।

ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া ডেঙ্গু ভাইরাসের পুনরুৎপাদনের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে মানবদেহে অ্যাডিস মশা কামড়ানোর সময় ডেঙ্গু রোগের সংক্রমণ তুলনামূলক কম ঘটে।

ট্রায়ালে ৫০ লাখ মশার ডিম ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া দিয়ে সংক্রমিত করা হয়। প্রতি দুই সপ্তাহ পরপর ইন্দোনেশিয়ার ইয়োগিকার্তা শহরের ২৪টি এলাকায় কয়েক বালতি পানিতে ডিমগুলো রাখা হয়। ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ সংক্রমিত মশা জন্ম নেয়ার প্রক্রিয়া শেষ হতে নয় মাস সময় লাগে।

ট্রায়ালের ফলে দেখা যায়, শহরটিতে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের হার ৭৭ শতাংশ কমে যায়। ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত মশা প্রকৃতিতে ছাড়ার পর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি ৮৬ শতাংশ রোগীকে।

ড. অ্যান্ডার্স বিবিসিকে বলেন, ‘এটি খুবই রোমাঞ্চকর ঘটনা। সত্যি বলতে কী, এই ঘটনা আমাদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বড় বড় শহরে ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত মশার ডিম রাখলে আরও ভালো ফল পাওয়া যাবে বলে আমরা মনে করছি।’

আরও পড়ুন:
মশা নিধন: জলজ আবর্জনা তাড়াতে জার্মানি থেকে আসছে যন্ত্র
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত
ডেঙ্গু না করোনা: ডাক্তাররা ধন্দে
মেয়র জাহাঙ্গীরের দাফন সম্পন্ন
ডেঙ্গুতে নড়াইলের মেয়রের মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পোষাপ্রাণির অভাব মেটাবে তামাগোচি হাতঘড়ি

পোষাপ্রাণির অভাব মেটাবে তামাগোচি হাতঘড়ি

তামাগোচি স্মার্ট হাতে জাপানি গানের দল নিজিউর সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

তামাগোচি ডিভাইসটিতে পোষাপ্রাণিকে আদর করা, খাওয়ানো ও লালনপালনের অনুভূতি পান ব্যবহারকারীরা। এটিকে অনেকে ‘ডিজিটাল পেট’ নামেও অভিহিত করেন।

পোষাপ্রাণির বিকল্প হিসেবে নব্বইয়ের দশক থেকে তামাগোচি নামে একটি ডিভাইস ব্যবহার করছেন জাপানের অনেক মানুষ। এটি তৈরি করেছে ভিডিও গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বানদাই।

এবার সেই তামাগোচিকে হাতঘড়ির আকারে বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন এই ভার্সনটির নাম দেয়া হয়েছে তামাগোচি স্মার্ট।

সোমবার সংবাদমাধ্যম ভাইসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তামাগোচি ডিভাইসটিতে পোষাপ্রাণিকে আদর করা, খাওয়ানো ও লালনপালনের অনুভূতি পান ব্যবহারকারীরা। এটিকে অনেকে ‘ডিজিটাল পেট’ নামেও অভিহিত করেন।

১৯৯৬ সালের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো বাজারে আসে তামাগোচি। ডিভাইসটির প্রধান ক্রেতা ছিল জাপানের স্কুলগামী মেয়েরা। শিগগিরই এটি জাপানের বাইরেও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

বানদাইয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৮৩ মিলিয়ন তামাগোচি ডিভাইস বিক্রি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এবছর তামাগোচির রজতজয়ন্তীতে ডিভাইসটির প্রচারে যুক্ত হয়েছে জনপ্রিয় জাপানি ব্যান্ড নিজিউ।

তামাগোচির আগের ভার্সনটিতে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। ব্যবহারকারীর কাছে ঠিকমতো আদরযত্ন না পেলে বন্ধ হয়ে যেত ডিভাইসটি। নতুন ভার্সনে এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা হয়েছে।

তামাগোচি স্মার্ট উল্টো ব্যবহারকারীর মন খারাপের সময় পাশে থাকার চেষ্টা করবে। হাতঘড়ির আকারে হওয়ায় এটি যেকোনো জায়গায় সঙ্গে নিতে পারবেন ব্যবহারকারী। এছাড়া মোবাইল অ্যাপেও তামাগোচি ইন্সটল করে নিজের ডিজিটাল প্রাণিকে সঙ্গে রাখতে পারবেন।

২৩ নভেম্বর বাজারে আসতে যাওয়া তামাগোচি স্মার্টে দশটি ডিজিটাল পোষাপ্রাণির সঙ্গ পাওয়ার সুবিধা থাকবে। প্রতিটি ডিভাইসের দাম পড়বে ৫৭ দশমিক ৬৪ ডলার।

বানদাই জানিয়েছে, ডিভাইসটি শুরুতে জাপানের বাজারে পাওয়া গেলেও আন্তর্জাতিক বাজারে আসতে আরও সময় লাগতে পারে।

শিশুদের খেলনা হিসেবে নব্বইয়ের দশক থেকেই ডিজিটাল পেট জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে। প্রথমবারের মতো ম্যাজিকস ডগস নামে ডিজিটাল পেট আনে ভিডিও গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পিএফ। এরপরে তামাগোচি ও নাইনটেনডগস নামে আরও কয়েকটি ডিজিটাল পেট বাজারে আসে।

আরও পড়ুন:
মশা নিধন: জলজ আবর্জনা তাড়াতে জার্মানি থেকে আসছে যন্ত্র
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত
ডেঙ্গু না করোনা: ডাক্তাররা ধন্দে
মেয়র জাহাঙ্গীরের দাফন সম্পন্ন
ডেঙ্গুতে নড়াইলের মেয়রের মৃত্যু

শেয়ার করুন

আগের চেয়ে দ্রুত বিবর্তন ঘটছে মানুষের

আগের চেয়ে দ্রুত বিবর্তন ঘটছে মানুষের

ফাইল ছবি।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিককালের পৃথিবীতে মানুষের বিবর্তন শুধু জিনের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং জেনেটিক রূপান্তরের চেয়ে সংস্কৃতিই মানব বিবর্তনকে ত্বরান্বিত করছে। নতুন এই ধারণা অনুযায়ী, টিকে থাকার সুবিধার জন্য জেনেটিক রূপান্তর এখন আর জরুরি নয়।

হোম স্যাপিয়েন্সের উদ্ভবের পর থেকেই প্রাকৃতিক নির্বাচনের কারণে আমাদের পূর্বপুরুষেরা পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়েছেন। এর পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে জিনগত বিবর্তন। জেনেটিক এই রূপান্তরের কারণেই বর্তমান মানুষের আবির্ভাব।

তবে এক গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিককালের পৃথিবীতে মানুষের বিবর্তন শুধু জিনের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং জেনেটিক রূপান্তরের চেয়ে সংস্কৃতিই মানব বিবর্তনকে ত্বরান্বিত করছে।

নতুন এই ধারণা অনুযায়ী, টিকে থাকার সুবিধার জন্য জেনেটিক রূপান্তর এখন আর জরুরি নয়। বরং সংস্কৃতির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে গড়ে ওঠা অভ্যাসই ‘রূপান্তর’ এর মূল চালিকা শক্তি, যা মানুষকে টিকে থাকার সুবিধা দিচ্ছে।

এই ‘সাংস্কৃতিক বিবর্তন’ আগামীতেও মানবজাতির ভাগ্যকে আরও শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে বলে গবেষকদের ধারণা।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ মাইনের বায়োলজি অ্যান্ড ইকোলজি বিভাগের গবেষক জ্যাক উড বিজ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইট লাইভ সায়েন্সকে বলেন, ‘যখন কোনো প্রজাতিকে ভাইরাস আক্রমণ করে, সাধারণত সেটি জেনেটিক রূপান্তরের মাধ্যমে ওই ভাইরাস থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখে।’

এই ধরনের বিবর্তন ঘটে ধীরে। কারণ, যারা ভাইরাস আক্রমণের ক্ষেত্রে স্পর্শকাতর তারা মৃত্যুবরণ করে এবং যারা টিকে থাকে তারা আগ্রাসী ভাইরাস সংক্রান্ত জেনেটিক কোড পরের প্রজন্মে সঞ্চার করে।

তবে বর্তমানে এ ধরনের হুমকিতে জেনেটিকভাবে ভাবে খাপ খাইয়ে নেয়ার আর দরকার নেই। বরং এখন মানুষ এখন কোনো নির্দিষ্ট একজনের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বহু মানুষের সংগ্রহ করা সাংস্কৃতিক জ্ঞানের ‘রূপান্তরের’ ফলে আবিষ্কৃত টিকা ও অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম।

ইউনিভার্সিটি অফ মাইনের সোশ্যাল ইকোসিস্টেম মডেলিংয়ের সহযোগী অধ্যাপক টিম ওয়ারিং বলেন, “টিকা উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানব সংস্কৃতি তার সম্মিলিত ‘ইমিউন সিস্টেম’ উন্নত করছে”।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক বিবর্তনের ফলেও জিনগত বিবর্তন ঘটে। ওয়ারিং লাইভ সায়েন্সকে বলেন, ‘গরুর দুধ পান করা শুরুতে একটা সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য থাকলেও পরে তা এক দল মানুষের জেনেটিক বিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়।’

এ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে জেনেটিক পরিবর্তনের আগে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন হচ্ছে।

ওয়ারিং বলেন, সাংস্কৃতিক বিবর্তনের ধারণাটি শুরু হয়েছে বিবর্তনবাদের জনকের কাছ থেকেই। চার্লস ডারউইন বুঝতে পেরেছিলেন, মানুষের অভ্যাস বিবর্তিত হতে পারে এবং সেটি সন্তানের মধ্যে তার শারীরিক বৈশিষ্ট্যের মতোই হস্তান্তর করা সম্ভব। কিন্তু তার সময়ে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন, আচরণের পরিবর্তন উত্তরাধিকার সূত্রে পায় সন্তানেরা।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনও মায়ের যদি এমন প্রবণতা থাকে, যা তার মেয়েকে খাবার অন্বেষণ শেখাতে পারে; তাহলে তিনি সেটি তার মেয়েকে দিয়ে যাবেন। এতে তার মেয়ের টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়বে এবং এর ফলে, এই প্রবণতা আরও মানুষের মধ্যে আরও বেশি দেখা যাবে।

‘প্রসিডিংস অফ দ্য রয়্যাল সোসাইটি বি’ এর জার্নালে ২ জুন প্রকাশিত গবেষণায় ওয়ারিং ও উড দাবি করেন, মানব ইতিহাসের কোনো এক সময়ে সংস্কৃতি আমাদের ডিএনএর বিবর্তনকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। দুই গবেষক বলছেন, সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আমাদের এমনভাবে বিবর্তিত হতে সাহায্য করছে, যা শুধু জৈবিক পরিবর্তনের পক্ষে সম্ভব ছিল না।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তারা বরেন, সংস্কৃতি দল বা গ্রুপ নির্ভর। দলের সবাই একে অপরের সঙ্গে কথা বলেন, শেখেন ও অনুকরণ করেন। এই দলভিত্তিক আচরণ, সংস্কৃতি থেকে শেখা, খাপ খাইয়ে নেয়ার পদ্ধতি জিনগত ভাবে টিকে থাকার সুবিধার চেয়ে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

একজন ব্যক্তি অল্প সময়ে প্রায় সীমাহীন সংখ্যক লোকের কাছ থেকে দক্ষতা ও তথ্য গ্রহণ করতে পারেন এবং ঘুরেফিরে আরও অনেকের কাছে সেই তথ্য ছড়িয়ে দিতে সক্ষম। গবেষকেরা বলছেন মানুষ যত বেশি লোকের কাছ থেকে শিখতে পারছে তত ভাল। বড় দলগুলো ছোট দলের চেয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে ও আন্তঃদলীয় প্রতিযোগিতা অভিযোজন ক্ষমতাকে উদ্দীপ্ত করে, যা তাদের টিকে থাকতে সহায়তা করে।

নতুন ধারণা ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সংস্কৃতিতে নতুন বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটে।

বিপরীতভাবে, একজন ব্যক্তি বাবা-মায়ের কাছ থেকে কেবল জেনেটিক তথ্য উত্তরাধিকার সূত্রে পান এবং তাদের ডিম্বাণু বা শুক্রাণুতে তুলনামূলকভাবে মাত্র কয়েকটি এলোমেলো রূপান্তর রেকর্ড করেন। এগুলো তাদের সন্তানদের ছোট গ্রুপের মধ্যে সঞ্চারিত করতে প্রায় ২০ বছর সময় লাগে। এই পরিবর্তনের গতি অনেক ধীর।

গবেষণাটির বিষয়ে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার কগনিটিভ অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্সেসের সহযোগী অধ্যাপক পল স্মলডিনো বলেন,‘এই থিওরির জন্য অপেক্ষা ছিল দীর্ঘদিনের। বিবর্তনমূলক জীববিজ্ঞান সংস্কৃতির সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করে তা বর্ণনা করার জন্য অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।’

গবেষকদের মতে, মানব সংস্কৃতির উপস্থিতি বিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

লাইভ সায়েন্সকে স্মলডিনো বলেন, ‘তাদের (দুই গবেষক) বড় দাবি হচ্ছে, মানুষের পরবর্তী বিবর্তনভিত্তিক রূপান্তরের সেতুবন্ধনের জায়গায় রয়েছে সাংস্কৃতিক প্রভাব।’

প্রাণের উদ্ভব ও বিকাশের ক্ষেত্রে এ ধরনের সেতুবন্ধন বিবর্তনের গতিপ্রকৃতির ওপর বিরাট প্রভাব ফেলেছে। ডিএনএযুক্ত কোষের বিবর্তন ছিল এমন একটি বড় পর্যায়। এরপর ক্ষুদ্রাঙ্গ ও জটিল অভ্যন্তরীণ কাঠামোযুক্ত কোষের আবির্ভাব সবকিছুকে বদলে দেয়। প্রাণি ও উদ্ভিদকোষের আবির্ভাব ছিল আরেকটি বড় পরিবর্তন। লিঙ্গের উদ্ভব, ভূ-পৃষ্ঠে জীবনের শুরু- এর সবগুলোই একেকটি বড় মাইলফলক।

এই প্রতিটি ঘটনাই বিবর্তন যেভাবে কাজ করে তাতে বদল এনেছে। গবেষকেরা বলছেন, এখন মানুষ আরও একটি বিবর্তনীয় রূপান্তরের মধ্যে পড়েছে। এখনও জিনগত পরিবর্তন অব্যাহত থাকলেও তা মানুষের টিকে থাকার শর্তকে খুব বেশি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।

ওয়ারিং এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদে আমাদের প্রস্তাব এই যে, আমরা একক জেনেটিক জীব থেকে পিঁপড়ার বাসা বা মৌমাছির চাকের মতো সুপার অর্গানিজমে পরিণত হওয়া সাংস্কৃতিক গ্রুপে পরিণত হয়েছি।’

আরও পড়ুন:
মশা নিধন: জলজ আবর্জনা তাড়াতে জার্মানি থেকে আসছে যন্ত্র
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত
ডেঙ্গু না করোনা: ডাক্তাররা ধন্দে
মেয়র জাহাঙ্গীরের দাফন সম্পন্ন
ডেঙ্গুতে নড়াইলের মেয়রের মৃত্যু

শেয়ার করুন

মানসিক প্রশান্তি পেতে লেখালেখি

মানসিক প্রশান্তি পেতে লেখালেখি

মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে লেখালেখি। ছবি: দ্য কনজারভেশন

সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা যায়, অনুভূতি সহজভাবে প্রকাশের মাধ্যমে আত্ম-সচেতনতা বৃদ্ধিও সম্ভব, যা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতেও সহায়তা করে। তবে কোনো রকমে লিখে ফেললেই তা অর্জিত হয় না; বরং এ জন্য লেখা হতে হবে আত্ম-সচেতনতাধর্মী।

স্পষ্ট ভাষায়, জোরালো শব্দে অনুভূতি ফুটিয়ে তোলার ওপর জোর দিতেন প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে।

মানুষের মনস্তত্ত্ব কিংবা মনোবিজ্ঞান হেমিংওয়ে কতটা বুঝতেন জানা নেই। তবে লেখার এমন ধরন যে মানসিক প্রশান্তি দিতে পারে, তা নিশ্চিত করেছেন গবেষকরা।

তারা জানিয়েছেন, মনকে ব্যথাতুর করে তোলার যত অনুভূতি, সেগুলো লিখে ফেললে তা আখেরে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।

গবেষণাভিত্তিক বিশ্লেষণ ও সংবাদকেন্দ্রিক সাময়িকী দ্য কনজারেভেশনের একটি প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে এমন তথ্য।

এতে জানানো হয়েছে, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর লেখালেখির ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে হয়েছে দুই শতাধিক গবেষণা।

তবে লেখালেখির মনস্তাত্ত্বিক উপযোগিতা বেশিরভাগ মানুষের জন্য সঙ্গতিপূর্ণ বলে জানা গেলেও কেন বা কীভাবে এটি সাহায্য করে, সে বিষয়ে একমত নন গবেষকরা।

একটি তত্ত্বে বলা হয়েছে, মনে মনে সবকিছু চেপে যাওয়ার অভ্যাস মানসিক অশান্তির কারণ। এ ক্ষেত্রে সেসব লিখে ফেলা অনুভূতি প্রকাশের সবচেয়ে নিরাপদ ও সুরক্ষিত মাধ্যম হতে পারে।

সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা যায়, অনুভূতি সহজভাবে প্রকাশের মাধ্যমে আত্ম-সচেতনতা বৃদ্ধি সম্ভব, যা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতেও সহযোগিতা করে।

তবে কোনো রকমে লিখে ফেললেই তা অর্জিত হয় না; বরং এ জন্য লেখা হতে হবে আত্ম-সচেতনতাধর্মী।

আত্ম-সচেতনতাধর্মী লেখা ব্যক্তিকে নিজের প্রতি মনোযোগী করে। এর মাধ্যমে তার আচরণ, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, অনুভূতি, বিশ্বাস, মূল্যবোধ, স্পৃহাসহ সব ধরনের অনুভূতি সজাগ হয়ে ওঠে।

গবেষণায় দেখা যায়, আত্ম-সচেতন হয়ে ওঠার মাধ্যমে ব্যক্তি নানাভাবে উপকৃত হন। এটি আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, অন্যকে সহজে গ্রহণে উৎসাহিত করে। এটি আমাদের আত্ম-নিয়ন্ত্রণের চর্চায় সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনে ভালো সিদ্ধান্ত নিতেও সহযোগিতা করে।

আত্ম-সচেতনতা কর্মক্ষেত্রে সন্তোষ তৈরি করে এবং কার্যকর নেতৃত্বদানের পথও খুলে দেয়।

আত্ম-সচেতনতা মানবজীবনের অনেক রং ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। এটি চর্চার মাধ্যমে আত্মোন্নয়ন সম্ভব।

বিশেষ করে প্রতিদিন এ চর্চা সম্ভব বলে লেখালেখির মাধ্যমে আত্ম-সচেতনতা তৈরি একই সঙ্গে কার্যকর ও সহজ পদ্ধতি।

নিজেদের পুরোনো লেখা পড়ে দেখার মাধ্যমে নিজের চিন্তা, অনুভূতি, আচরণ ও বিশ্বাসের গভীরে প্রবেশ করাও সহজ।

আত্ম-সচেতনতা তথা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী তিন ধরনের লেখার ওপর জোর দিচ্ছেন গবেষকরা।

১. স্পষ্ট লেখা

মনকে সুস্থ রাখার চেষ্টা হিসেবে মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা প্রায়ই মানসিক চাপের জন্য দায়ী ঘটনার বিষয়ে নিজেদের চিন্তা ও অনুভূতি স্পষ্ট করে লেখার পরামর্শ দেন। ব্যক্তির জন্য সংবেদনশীল, এমন বিষয়ের প্রতি অনুভূতির স্বচ্ছতা প্রকাশে সাহায্য করে এ ধরনের লেখা, যা সাধারণভাবে খানিকটা কঠিন।

গবেষণায় দেখা যায়, আত্ম-সচেতনতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট লেখা বিষণ্নতার উপসর্গ, দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ কমিয়ে আনে।

২. চিন্তাশীল লেখা

চিন্তাশীল লেখার ব্যবহার সাধারণত দেখা যায় কর্মক্ষেত্রে। বিশেষ করে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক, মনোবিজ্ঞানী ও সমাজকর্মীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে তাদের এ ধরনের লেখার সাহায্য নিতে বলা হয়।

চিন্তাশীল লেখা ব্যক্তিকে নিজের বিশ্বাস ও কর্ম বিশ্লেষণ করে দেখার সুযোগ করে দেয়। নতুন কিছু শেখা ও আত্মোন্নয়নের দারুণ উপায় এটি।

চিন্তাশীলভাবে লিখতে হলে ব্যক্তিকে নিজের প্রতি কিছু প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতে হয়। কৌতুহলী, বিশ্লেষণধর্মী ও উদার প্রশ্নের উত্তরও ভেবে বের করতে হয় তাকেই। এতে নিজের অভিজ্ঞতা ও অন্যদের সঙ্গে তার অনুভূতির আদান-প্রদানের মাধ্যমে তিনি শেখেন এবং তার আত্ম-সচেতনতা বাড়ে।

এ ধরনের চর্চা কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পর্ক উন্নয়নেও সাহায্য করে, যা মানসিক সুস্বাস্থ্যের অন্যতম নির্দেশক।

৩. সৃজনশীল লেখা

কবিতা, ছোট গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি সৃজনশীল লেখার অন্যতম উদাহরণ। এ ধরনের লেখায় ব্যক্তির কল্পনাশক্তি ও স্মৃতিশক্তি বাড়ে।

নানা রকম উপমা ও রূপক শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে ভিন্ন রূপে অর্থবহ করে তোলা হয় লেখাকে। ফলে চিন্তা, অনুভূতি, বুদ্ধি, ধারণা ও বিশ্বাসকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার দারুণ একটি উপায় সৃজনশীল লেখা।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে নিজের উদ্বেগ প্রকাশে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী কিংবা বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক নিয়ে নিজের বিশ্বাস তুলে ধরতে শিশুসাহিত্যের আশ্রয় নেয়া হয়। অনিদ্রা সম্পর্কে বোঝাতে প্যাঁচার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে একটি কবিতাও লিখে ফেলা যায়।

অনুশোচনার মতো কঠিন অভিজ্ঞতা লেখার মাধ্যমে অন্যদের সহজে বোঝানো সম্ভব। কারণ এ ধরনের অনুভূতি মৌখিকভাবে বোঝানো বা বোঝা অনেকের কাছেই বেশ কঠিন।

সৃজনশীল লেখা মানুষকে শব্দ বেছে নিতে, উপমা আর ছবি ব্যবহারে উৎসাহ দেয়। এতে বার্তা প্রদান অনেক সহজ হয়ে যায়। এভাবে সৃজনশীল সিদ্ধান্ত-গ্রহণ ক্ষমতা ব্যক্তির আত্ম-সচেতনতা ও আত্মসম্মান জোরালো করে, যা মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ দরকার।

মানসিক সুস্বাস্থ্যের প্রথম শর্তই আত্ম-সচেতনতা। আর এটি অর্জনে শুরুর ধাপ হতে পারে লেখালেখি। প্রতিদিন এ জন্য মাত্র ১৫ মিনিট সময় বের করা হতে পারে নিজের জন্য বড় সুযোগ।

আরও পড়ুন:
মশা নিধন: জলজ আবর্জনা তাড়াতে জার্মানি থেকে আসছে যন্ত্র
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত
ডেঙ্গু না করোনা: ডাক্তাররা ধন্দে
মেয়র জাহাঙ্গীরের দাফন সম্পন্ন
ডেঙ্গুতে নড়াইলের মেয়রের মৃত্যু

শেয়ার করুন

‘জিরাফের চেয়ে উঁচু ছিল গন্ডার’

‘জিরাফের চেয়ে উঁচু ছিল গন্ডার’

মধ্য এশিয়ায় হেঁটে বেড়াত একধরনের গন্ডার, যারা এখনকার জিরাফের চেয়েও বেশি উঁচু ও বিশালাকার ছিল। ছবি: সংগৃহীত

মাটি থেকে এদের মাথার উচ্চতা ছিল ১৬ ফুটের ওপরে। এখনকার জিরাফের গড় উচ্চতা হয়ে থাকে ১৪-১৯ ফুটের মধ্যে। খুঁজে পাওয়া গন্ডারের ফসিলটি বিশ্লেষণ করে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এক্সপ্লোরার ও ফ্রান্সের অধ্যাপক পিয়েরা ওলিভিয়া অ্যান্তয়িন বলেন, ‘এই বিশাল আকারের গন্ডারগুলো প্রায় চারতলা ভবনের উচ্চতার সমান গাছের ওপরের ফুল খেতে পারত।’

মধ্য এশিয়ায় ৫ কোটি বছর আগে হেঁটে বেড়াত একধরনের গন্ডার, যারা এখনকার জিরাফের চেয়েও বেশি উঁচু ও বিশালাকার ছিল।

চীনের মধ্যাঞ্চলীয় লিনজিয়া অববাহিকার বাদামী রংয়ের পাথরের মাঝে বিশাল এই স্তন্যপায়ী প্রাণীর ফসিলের সন্ধান মিলেছে।

মেরুদণ্ডী প্রাণী নিয়ে কাজ করা চীনের ইনস্টিটিউট অব ভার্টেব্রেট প্যালিওনটোলজি অ্যান্ড প্যালিওনথ্রোপলজির গবেষক ড. তাও দেং জানান, নতুন শনাক্ত হওয়া স্তন্যপায়ী প্রাণীর ফসিলটির গঠনের সঙ্গে প্রাচীনকালে পশ্চিম পাকিস্তানে বসবাস করা প্রকাণ্ড আকারের গন্ডারের মিল রয়েছে।

দুই কোটি ৩০ লাখ বছর থেকে ৫ কোটি বছর এই সময়কালে বিশালকার প্রাণীগুলো মধ্য এশিয়াসহ ভারতীয় উপমহাদেশ ও চীনে ঘুরে বেড়াত।

তিব্বতের সুউচ্চ মালভূমির উষ্ণ আবহাওয়া ও বিশাল বনভূমি পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু এমন স্তন্যপায়ী প্রাণীগুলোর বসবাসের উপযোগী পরিবেশ ছিল বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

তবে গন্ডারের মতো নাকের ওপর এদের শিং ছিল না। মাটি থেকে এদের মাথার উচ্চতা ছিল ১৬ ফুটের ‌ওপরে। এখনকার জিরাফের গড় উচ্চতা হয়ে থাকে ১৪-১৯ ফুটের মধ্যে।

খুঁজে পাওয়া গন্ডারের ফসিলটি বিশ্লেষণ করে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এক্সপ্লোরার ও ফ্রান্সের অধ্যাপক পিয়েরা ওলিভিয়া অ্যান্তয়িন বলেন, ‘এই বিশাল আকারের গন্ডারগুলো প্রায় চারতলা ভবনের উচ্চতার সমান গাছের ওপরের ফুল খেতে পারত।’

এরা প্রাচীন প্যারাসেরাথেরেস গোত্রের গন্ডার ছিল যাদের ওজন গড়ে ২৪ টনের বেশি ছিল, যা বর্তমানে আফ্রিকার চারটি হাতির ওজনের সমান।

আরও পড়ুন:
মশা নিধন: জলজ আবর্জনা তাড়াতে জার্মানি থেকে আসছে যন্ত্র
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত
ডেঙ্গু না করোনা: ডাক্তাররা ধন্দে
মেয়র জাহাঙ্গীরের দাফন সম্পন্ন
ডেঙ্গুতে নড়াইলের মেয়রের মৃত্যু

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে কসমেটিক্স পণ্যে উচ্চ মাত্রার ফ্লোরিন

যুক্তরাষ্ট্রে কসমেটিক্স পণ্যে উচ্চ মাত্রার ফ্লোরিন

নতুন গবেষণায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় পাওয়া যায় এমন ২৩১টি কসমেটিক্স পণ্যের মধ্যে ৫২ শতাংশ পণ্যে উচ্চ মাত্রায় ফ্লোরিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর অর্থ ওইসব পণ্যে পিএফএএস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বিক্রি হওয়া বিপুল সংখ্যক কসমেটিক্স পণ্যে উচ্চ মাত্রায় ফ্লোরিন পাওয়া গেছে। ওইসব পণ্যে ‘ফরেভার কেমিক্যাল’ নামে পরিচিত সম্ভাব্য ক্ষতিকর পার-অ্যান্ড পলিফ্লুরোঅ্যালকাইল সাবসটেন্সেস (পিএফএএস) থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সায়েন্স এলার্টের শনিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, মানুষের তৈরি হাজার হাজার যৌগিক পদার্থের সংমিশ্রণ পিএফএএস। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে গৃহস্থালী ও বাণিজ্যিক পণ্য উৎপাদনে এসব যৌগ ব্যবহার হয়ে আসছে।

গত কয়েক দশকের গবেষণায় দেখা যায়, টেকসই পিএফএএস পরিবেশে ব্যাপক মাত্রায় পাওয়া যায়। মানুষ ও জীবজন্তুর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ক্ষতিকর প্রভাবের সঙ্গে পিএফএএস যৌগিক পদার্থের উচ্চ মাত্রায় উপস্থিতির যোগসূত্র রয়েছে।

পিএফএএস সম্ভাব্য ও অজানা ঝুঁকির কারণ হলেও এতে বিভিন্ন ধরনের যৌগ উপস্থিত থাকায় অনেক ‘ফরেভার কেমিক্যাল’ এখনও বিভিন্ন পণ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইউরোপ ও এশিয়ার কসমেটিক্স পণ্যে এই কেমিক্যাল পাওয়ার ঘটনা আগের এক গবেষণায় জানা যায়।

বিজ্ঞানীদের গবেষণায় সম্প্রতি দেখা যায়, উত্তর আমেরিকায় বিক্রি হওয়া কসমেটিক্স পণ্যে পিএফএএস কেমিক্যাল রয়েছে।

নতুন ওই গবেষণায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় পাওয়া যায় এমন ২৩১টি কসমেটিক্স পণ্যের মধ্যে ৫২ শতাংশ পণ্যে উচ্চ মাত্রায় ফ্লোরিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর অর্থ ওইসব পণ্যে পিএফএএস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ নটর ডেমের পদার্থবিদ গ্রাহাম পিয়াসলি বলেন, ‘এসব কসমেটিক্স পণ্য চোখ ও মুখের চারদিকে দেয়া হয়। চামড়া, টিয়ার ডাক্টের পাশাপাশি শ্বাস বা খাবার গ্রহণের সময় এসব যৌগ শরীরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘পিএফএএস স্থির কেমিক্যাল। রক্তপ্রবাহে একবার ঢুকলে এটি সেখানেই থাকে ও জমাটবদ্ধ হয়।’

পরীক্ষা-নিরীক্ষায় লিপস্টিক, ফাউন্ডেশন, কনসিলারসহ আরও অনেক কসমেটিক্স পণ্যে উচ্চ মাত্রায় ফ্লোরিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

ওয়াটারপ্রুফ মাসকারায় অনেক বেশি মাত্রায় ফ্লোরিন পাওয়া গেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা মাসকারার মধ্যে ৮২ শতাংশ মাসকারায় ওই কেমিক্যাল পাওয়া যায়।

মুখে ব্যবহার করা প্রসাধন সামগ্রীর (পাউডার, ব্লাশ, ব্রোঞ্জার, হাইলাইটার, প্রাইমার, স্প্রে) ৪০ শতাংশের মধ্যে ফ্লোরিন পাওয়া গেছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা বলেন, “উচ্চ মাত্রার ফ্লোরিনের উপস্থিতি থাকা পণ্যের (ফাউন্ডেশন, লিকুইড লিপস্টিক, ওয়াটারপ্রুফ মাসকারাসহ অন্যান্য কসমেটিক্স) বিজ্ঞাপনে ‘পানি ও তেল প্রতিরোধী’ বা ‘দীর্ঘস্থায়ী’এসব কথা লেখা থাকে।”

গবেষনায় কসমেটিক্স পণ্যে পিএফএএসের উপস্থিতি ধরা পড়লেও এগুলোর মড়কে ভিন্ন কথা লেখা রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) নীতিমালার লঙ্ঘন।

গবেষকেরা বলেন, ‘২৩১ কসমেটিক্স পণ্যের মধ্যে মাত্র ৮ শতাংশ পণ্যের মড়কে উপাদানের অংশে পিএফএএসের উল্লেখ ছিল। আর ২৯টি পণ্যের মধ্যে কেবল ৩ শতাংশ পণ্যের উপাদানে পিএফএএস যুক্ত ছিল।’

আরও পড়ুন:
মশা নিধন: জলজ আবর্জনা তাড়াতে জার্মানি থেকে আসছে যন্ত্র
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত
ডেঙ্গু না করোনা: ডাক্তাররা ধন্দে
মেয়র জাহাঙ্গীরের দাফন সম্পন্ন
ডেঙ্গুতে নড়াইলের মেয়রের মৃত্যু

শেয়ার করুন

৩ নভোচারীসহ মহাকাশযাত্রা চীনের যানের

৩ নভোচারীসহ মহাকাশযাত্রা চীনের যানের

শেনঝুউ-১২ নামের চীনের মহাকাশযান দেশটির স্থায়ী মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশে ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করেছে। ছবি: সংগৃহীত

রকেটে থাকা তিন নভোচারী হলেন নি হাইশেং (৫৬), লিউ বোমিং (৫৪) ও তাং হংকব (৪৫)। মহাকাশকেন্দ্রের বাসযোগ্য স্থান তিয়ানহেতে তিন মাস থেকে কাজ করবেন তারা।

তিন নভোচারীসহ একটি মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করেছে চীন। পৃথিবীর কক্ষপথের কিছুটা নিচের দিকে স্থাপিত দেশটির স্থায়ী মহাকাশ স্টেশনের প্রথমাংশের উদ্দেশে ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করে যানটি।

শেনঝুউ-১২ নামের মহাকাশযানটি বহনকারী রকেট (লং মার্চ টু-এফ) মহাকাশে স্থাপিত স্টেশন তিয়ানহের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ২২ মিনিটে।

দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ গানসুর জিইউকুয়ান স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকেন্দ্র থেকে রকেটটি যাত্রা করে।

রকেটে থাকা তিন নভোচারী হলেন নি হাইশেং (৫৬), লিউ বোমিং (৫৪) ও তাং হংকব (৪৫)। মহাকাশকেন্দ্রের বাসযোগ্য স্থান তিয়ানহেতে তিন মাস থেকে কাজ করবেন তারা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সিটি বাসের চেয়ে কিছুটা বড় ও দেখতে সিলিন্ডারের মতো এই তিয়ানহেতে অবস্থানকালে তিন নভোচারী মহাকাশ স্টেশনটিতে বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরিতে কাজ করবেন।

একই সঙ্গে মহাকাশে কীভাবে দীর্ঘসময় শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থেকে অবস্থান করা যায়, সেসব বিষয় নিয়েও কাজ করবেন তারা।

মহাকাশযাত্রার এক দিন আগে নভোচারী লি বলেন, ‘নভোচারীসহ চীনের মহাকাশযানটিতে থাকতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।’

এই অভিজ্ঞ নভোচারী অন্য দুইজনের কাছে একজন নির্ভরযোগ্য শিক্ষক হিসেবে বিবেচিত।

৩ নভোচারীসহ মহাকাশযাত্রা চীনের যানের

মহাকাশযাত্রা শুরুর আগে তিন নভোচারী নি হাইশেং (৫৬), লিউ বোমিং (৫৪) ও তাং হংকব (৪৫)। ছবি: সংগৃহীত

২০০৩ সালের পর থেকে চীন নভোচারীসহ ছয়টি মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করে। এ পর্যন্ত মহাকাশে গেছেন দেশটির ১১ নভোচারী।

মহাকাশে চীনের স্থায়ী স্টেশন

গত ২৯ এপ্রিল মহাকাশে যাত্রা শুরু হয়েছে চীনের নতুন স্থায়ী স্টেশনের। অবশ্য এখনই পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি স্টেশনটি।

ওই স্টেশনের কেবল প্রথম অংশ পৌঁছেছে পৃথিবীর কক্ষপথে। সচল হয়েছে স্টেশনটির গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।

স্টেশনটির চালু হওয়া প্রথম অংশের নাম তিয়ানহে মডিউল। এতে নভোচারীদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। বেইজিংয়ের উচ্চাভিলাষী মহাকাশ কর্মসূচির সবশেষ অগ্রগতি এটি।

চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় হাইনান প্রদেশের ওয়েনশ্যাং স্পেস লঞ্চ সেন্টার থেকে বৃহস্পতিবার উৎক্ষেপণ করা হয় লং মার্চ-ফাইভবি রকেট। এই রকেটের মাধ্যমেই মডিউলটি নতুন মহাকাশ স্টেশনে পাঠানো হয়। ২০২২ সালের মধ্যে নতুন স্টেশনটিতে পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরু করবে বলে আশাবাদী চীন।

বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা একমাত্র মহাকাশ স্টেশন আইএসএসের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, কানাডা, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এতে অংশ নিতে দেয়া হয়নি চীনকে।

২০২৪ সালেই মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে আইএসএসের। ধারণা করা হচ্ছে, এরপর পৃথিবীর কক্ষপথে একমাত্র মহাকাশ স্টেশনটি হবে চীনের।

আকারে এটি আইএসএসের চার ভাগের এক ভাগ। কিন্তু এতে মহাকাশ গবেষণাগারের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকবে চীনের।

অনেকের ধারণা, প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যকে রুখে দিতে সাম্প্রতিক সময়ে চীন তাদের মহাকাশ অভিযান জোরদার করেছে।

আরও পড়ুন:
মশা নিধন: জলজ আবর্জনা তাড়াতে জার্মানি থেকে আসছে যন্ত্র
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত
ডেঙ্গু না করোনা: ডাক্তাররা ধন্দে
মেয়র জাহাঙ্গীরের দাফন সম্পন্ন
ডেঙ্গুতে নড়াইলের মেয়রের মৃত্যু

শেয়ার করুন

স্বীকৃতি পেল পঞ্চম মহাসাগর ‘সাদার্ন ওশান’

স্বীকৃতি পেল পঞ্চম মহাসাগর ‘সাদার্ন ওশান’

সাদার্ন ওশানের লেমাঁ চ্যানেলে ভাসমান হিমশৈল। ছবি: সংগৃহীত

সাদার্ন ওশানের নামকরণ করা হয়েছে অ্যান্টার্কটিক সার্কামপোলার কারেন্ট (এসিসি) বা অ্যান্টার্কটিকের মেরুঞ্চলীয় স্রোতের ওপর ভিত্তি করে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, তিন কোটি ৪০ লাখ বছর আগে যখন দক্ষিণ আমেরিকা থেকে অ্যান্টার্কটিকা বিচ্ছিন্ন হয় তখন এসিসির উৎপত্তি। এর কারণে পৃথিবীর নিম্নভাগে পানির নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ হয়।

প্রায় ১০০ বছর ধরে স্বীকৃতির অপেক্ষায় থাকার পর মহাসাগর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে সাদার্ন ওশান। এতে করে প্রশান্ত, আটলান্টিক, ভারত ও আর্কটিক মহাসাগরের পর পৃথিবীর পঞ্চম মহাসাগর হিসেবে চিহ্নিত হলো অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের চারপাশ ঘিরে থাকা এই জলসীমা।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি গত সপ্তাহে এই স্বীকৃতি দেয়।

৮ জুন বিশ্ব মহাসাগর দিবসে বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্ত নেন যে, এখন থেকে মানচিত্রে সাদার্ন ওশানকে চিহ্নিত করা হবে।

জিওগ্রাফিক সোসাইটির ভূতত্ত্ববিদ অ্যালেক্স টেইট ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ওয়েবসাইটকে বলেন, ‘বহু বছর ধরেই সাদার্ন ওশানকে বিজ্ঞানীরা চিহ্নিত করে এসেছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে একে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।’

নতুন স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সুবিধা হবে উল্লেখ করে টেইট বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা নাম ধরে কোনো একটা মহাসাগর সম্পর্কে পড়াশোনা করে। সাদার্ন ওশানকে অন্তর্ভুক্ত না করলে তারা নির্দিষ্ট করে এর সম্বন্ধে জানবে না ও বুঝতে পারবে না এটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’

১৯১৫ সাল থেকে পৃথিবীর মানচিত্র তৈরি করছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক। তারা এতদিন মানচিত্রে মাত্র চারটি মহাসাগর চিহ্নিত করে এসেছে। সাধারণভাবে মহাসাগরগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে একে ঘিরে থাকা মহাদেশগুলোর নাম অনুসারে।

কিন্তু সাদার্ন ওশানের নামকরণ করা হয়েছে অ্যান্টার্কটিক সার্কামপোলার কারেন্ট (এসিসি) বা অ্যান্টার্কটিকের মেরুঞ্চলীয় স্রোতের ওপর ভিত্তি করে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, তিন কোটি ৪০ লাখ বছর আগে যখন দক্ষিণ আমেরিকা থেকে অ্যান্টার্কটিকা বিচ্ছিন্ন হয় তখন এসিসির উৎপত্তি। এর কারণে পৃথিবীর নিম্নভাগে পানির নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ হয়।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক জানায়, এসিসি ও সাদার্ন ওশানের অধিকাংশ পানি উত্তরের মহাসাগরগুলোর চেয়ে ঠান্ডা ও কম লবণাক্ত। আটলান্টিক, প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগর থেকে পানি টেনে এনে এসিসি একটি প্রাকৃতিক ‘কনভেয়ার বেল্ট’ তৈরি করে যা
পৃথিবীজুড়ে সূর্যের তাপ সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করে। আর এসিসির ঠান্ডা পানি কার্বনকে গভীর সমুদ্রে নিমজ্জিত করতে সাহায্য করে। এসিসির ঠান্ডা পানিতে হাজারো সামুদ্রিক জীবের বাস।

স্বীকৃতি পেল পঞ্চম মহাসাগর ‘সাদার্ন ওশান’
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের মানচিত্রে সাদার্ন ওশান। ছবি: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক



স্প্যানিশ অভিযাত্রী ভাসকো নুনিয়েস দে বালবোয়া প্রথমবারের মতো ১৬০০ শতকে পৃথিবীর দক্ষিণ দিকের এই বিস্তৃত জলরাশি আবিষ্কার করেন। ধীরে ধীরে এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটু জলপথ হয়ে ওঠে।

কয়েক শ বছর পর উনবিংশ শতাব্দীতে সমুদ্র বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো তাদের জাহাজ ও নৌবাহিনীর সুবিধার্থে নিজেদের সমুদ্র ও জলসীমা বিশেষজ্ঞ বিভাগ গড়ে তোলে।

১৯২১ সালে শুরু হওয়া ইন্টারন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফিক অর্গানাইজেশনের (আইএইচও) শুরুর দিককার নথিতে প্রথমবারের মতো সাদার্ন ওশান নামটি ব্যবহার করা হয়।

কিন্তু ১৯৫৩ সালে আইএইচও এই নামটি প্রত্যাহার করে নেয়। ওই বছর প্রকাশিত গাইডলাইনে তাদের যুক্তি ছিল, ‘অধিকাংশ গৃহীত মতের ভিত্তি এটাই প্রতীয়মান হয় যে, ওই জলসীমাকে মহাসাগর বলার কোনো যুক্তি নেই।’

বিজ্ঞানীরা এর সঙ্গে একমত হননি। সাদার্ন ওশানের গুরুত্ব ও অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলো তাদের কাছে পরিষ্কার হওয়ার পর থেকে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এই নামের ব্যবহার বাড়তে থাকে।

দ্য ইউএস বোর্ড অন জিওগ্রাফিক নেইমস ১৯৯৯ সাল থেকে এটি ব্যবহার করা শুরু করে। আর ন্যাশনাল ওশিয়ানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) এটি ব্যবহার করা শুরু করে ২০২১ সাল থেকে।

ওশান শব্দটি ইংরেজিতে এসেছে গ্রিক দেবতা ওশানাসের নাম থেকে। গ্রিক পুরাণ অনুযায়ী ইউরেনাস ও গায়ার ছেলে ওশানাস নদীর দেবতা।

প্রাচীন গ্রিসের লোকদের বিশ্বাস ছিল ‘ওশান’ এমন একটি নদী যা পুরো পৃথিবীকে ঘিরে আছে। সেখান থেকেই শব্দটিকে বিশ্বের বিভিন্ন মহাসাগরগুলোর নামকরণে ব্যবহার করা হয়।

আরও পড়ুন:
মশা নিধন: জলজ আবর্জনা তাড়াতে জার্মানি থেকে আসছে যন্ত্র
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত
ডেঙ্গু না করোনা: ডাক্তাররা ধন্দে
মেয়র জাহাঙ্গীরের দাফন সম্পন্ন
ডেঙ্গুতে নড়াইলের মেয়রের মৃত্যু

শেয়ার করুন