২০০ কোটি বছরের পুরোনো পানি কানাডায়

কানাডার অন্টারিওতে ভূপৃষ্ঠের গভীরে ২০০ কোটি বছরের পুরোনো পানি। ছবি: সংগৃহীত

২০০ কোটি বছরের পুরোনো পানি কানাডায়

প্রাচীন এই পানির সঙ্গে মিশে থাকা বিভিন্ন গ্যাস (যেমন: হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ও জেনন) বিশ্লেষণ করে এর বয়স বের করতে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

কানাডায় মিলেছে ২০০ কোটি বছরের পুরোনো পানি, যা পৃথিবীর প্রাচীনতম বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

সায়েন্স অ্যালার্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়, অন্টারিওর কিড মাইন খনিতে ভূপৃষ্ঠের প্রায় দুই মাইল গভীরে একটি প্রাচীন পুলে আবিষ্কৃত হয় এই পানি।

সর্বপ্রথম ২০১৩ সালে ওই এলাকায় বিশ্বের গভীরতম একটি ধাতব পদার্থের খনিতে যে পানির সন্ধান পান বিজ্ঞানীরা, সেটি ছিল ১৫০ কোটি বছরের পুরোনো। সেটি ছিল ভূপৃষ্ঠের দেড় মাইল গভীরে।

এর গভীরতা দেখে মাটি আরও খুঁড়ে যেতে উৎসাহ পান বিজ্ঞানীরা। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে বেরিয়ে আসে এর চেয়েও পুরোনো পানির খোঁজ।

সে সময় টরন্টো ইউনিভার্সিটির জিওকেমিস্ট বারবারা শেরউড লোলার বিবিসিকে বলেছিলেন, ‘২০১৩ সালের আবিষ্কারের পর বহমান পানির প্রবাহ কত পুরোনো হতে পারে, সে বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হয় আমাদের। তাই গবেষণা চালিয়ে যাই আমরা। খনিটি অনেক গভীর বলে সেটির সঙ্গে সঙ্গে আমরাও ভূপৃষ্ঠের গভীর থেকে গভীরতম অংশে পৌঁছাতে পেরেছি।’

২০১৬ সালে আবিষ্কৃত প্রাচীন পানির দ্বিতীয় উৎসটি ছিল বিজ্ঞানীদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি।

শেরউড লোলার বলেন, ‘যখন কেউ শোনে এই পানির কথা, তারা ভাবে পাথরে আটকে থাকা সামান্য একটু পানি হয়তো আমরা খুঁজে পেয়েছি। কিন্তু আসলে যে পরিমাণ পানির সন্ধান পেয়েছি, তা অনেক। প্রতি মিনিটে এর গতিবেগ এক লিটার।’

ভূগর্ভস্থ পানির স্রোত সাধারণত ভূপৃষ্ঠের বহমান পানির স্রোতের তুলনায় অনেক ধীরগতির হয়ে থাকে। বছরে ভূগর্ভস্থ পানির গতিবেগ এক মিটার পর্যন্ত হতে পারে।

কিন্তু খননের পর ভূগর্ভস্থ পানির স্রোতের গতিবেগ প্রতি মিনিটে দুই লিটার।

প্রাচীন এই পানির সঙ্গে মিশে থাকা বিভিন্ন গ্যাস (যেমন: হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ও জেনন) বিশ্লেষণ করে এর বয়স বের করতে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

এ নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশ হয় ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ফ্রান্সিসকোতে আমেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়নের নিয়মিত বৈঠকে।

এর আগে অক্টোবরের গবেষণায় জানা যায়, ভূপৃষ্ঠ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন এই পানি যে পরিবেশে উৎপন্ন হয়েছে, সেটি স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্র জন্ম দিতে সক্ষম। আর এই বাস্তুতন্ত্র টিকে থাকতে পারে কয়েক শ কোটি বছর।

অবশ্য এখনও সেখানে জীবন্ত কোনো প্রাণের সন্ধান পাননি বিজ্ঞানীরা। গবেষণার বাকি আরও অনেক।

বিজ্ঞানীদের আশা, আরও এমন কিছু প্রাচীন পানির উৎসের সন্ধান মিলতে পারে যা আরও বিশদ অনুসন্ধানে সাহায্য করবে তাদের।

আরও পড়ুন:
নিয়ানডারথাল ও প্রাচীন মানুষের গুণতে শেখার ইতিহাস
৭৮ হাজার বছরের প্রাচীন কবর আফ্রিকায়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মঙ্গলের হ্রদে তরল পদার্থ পানি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি

মঙ্গলের হ্রদে তরল পদার্থ পানি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি

মঙ্গল গ্রহে বেশ কয়েকটি হ্রদের হদিশ পেয়েছে নাসা। ছবি: এএফপি

লাল গ্রহটির দক্ষিণ মেরুর বিশাল অংশজুড়ে ভূগর্ভস্থ সেসব হ্রদে বয়ে চলেছে তরল পদার্থ, যা পানি হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

মঙ্গল গ্রহে বিশালাকৃতির বেশ কয়েকটি হ্রদ এখনও রয়েছে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত পেয়েছে নাসা।

লাল গ্রহটির দক্ষিণ মেরুর বিশাল অংশজুড়ে ভূগর্ভস্থ সেসব হ্রদে বয়ে চলেছে তরল পদার্থ, যা পানি হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণা পত্রিকা জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স।

নাসার বরাত দিয়ে শুক্রবার আনন্দবাজার জানিয়েছে, মঙ্গলের দক্ষিণ মেরুতে তাপমাত্রা এত কম যে সেই বিশাল বিশাল হ্রদে তরল পদার্থ জমে বরফ হয়ে গেছে।

তবে সেই বরফ শুকনো কার্বন ডাই-অক্সাইডের কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি বি়জ্ঞানীরা। মঙ্গলে আগ্নেয়গিরি জেগে থাকলে পানি তরল অবস্থায় থাকতে পারে বলে ধারণা তাদের।

গবেষকেরা জানান, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (এসা) মঙ্গলযান মার্স এক্সপ্রেস অরবিটার থেকে পাঠানো রেডিও সিগন্যাল লাল গ্রহের সেসব হ্রদ থেকে এই বার্তাই নিয়ে এসেছে যে, এখনও তরলের স্রোতে ভরা অসংখ্য ভূগর্ভস্থ বিশাল হ্রদ রয়েছে মঙ্গলের দক্ষিণ মেরুতে।

রেডিও সিগন্যালের সূত্রে জানা গেছে, এতদিন লাল গ্রহে যে পরিমাণ পানি এখনও টিকে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে পানি রয়েছে দক্ষিণ মেরুতে।

নাসার ‘মার্সিস মিশনের’ সহযোগী প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর জেফ্রি প্লট বলেন, ‘ওই রেডিও সিগন্যালগুলো খতিয়ে দেখে মনে হয়েছে, হয় মঙ্গলের দক্ষিণ মেরুর প্রায় পুরোটাই পানিতে ভরা, না হলে ওইসব হ্রদে হয়তো অন্য কোনো পদার্থ রয়েছে।

‘তবে পানি থাকার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
নিয়ানডারথাল ও প্রাচীন মানুষের গুণতে শেখার ইতিহাস
৭৮ হাজার বছরের প্রাচীন কবর আফ্রিকায়

শেয়ার করুন

চীনে করোনা সংক্রমণ শুরু হতে পারে উনিশের অক্টোবরে

চীনে করোনা সংক্রমণ শুরু হতে পারে উনিশের অক্টোবরে

২০১৯ সালের অক্টোবরে চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হতে পারে নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ছবি: এএফপি

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ কেন্টের বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৯ সালের অক্টোবরের শুরুর দিকে থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সার্স-কোভ-২ এর আবির্ভাব হয়।

২০১৯ সালের অক্টোবরে চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হতে পারে। এর দুই মাস পর ডিসেম্বরে দেশটির উহান শহরে মানবদেহে ভাইরাসটির অস্তিত্ব প্রথম শনাক্ত হয়।

চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী পিএলওএস প্যাথোজেন্সে শুক্রবার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ কেন্টের বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৯ সালের অক্টোবরের শুরুর দিকে থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সার্স-কোভ-২ এর আবির্ভাব হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইরাসের আবির্ভাবের সম্ভাব্য তারিখ ২০১৯ সালের ১৭ নভেম্বর। পরের বছর ২০২০ সালের জানুয়ারির দিকে এটি সম্ভবত বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রথম করোনা শনাক্তের কথা বিশ্বকে জানায় চীন। উহান শহরের হুয়ানান সিফুড মার্কেট থেকে এটির সংক্রমণ হতে পারে বলে সে সময় ধারণা করা হয়।

ডিসেম্বরের আগে চীনে করোনার উপস্থিতির সঙ্গে হুয়ানান সিফুড মার্কেটের যোগসূত্র জানা যায়নি। এর অর্থ হলো মার্কেটটি থেকে ছড়ানোর আগেই সার্স-কোভ-২ এর সংক্রমণ শুরু হয়।

চলতি বছরে মার্চের শেষের দিকে চীন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে অবশ্য স্বীকার করা হয়, উহানে প্রাদুর্ভাবের আগেই করোনায় বিছিন্নভাবে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে।

চলতি সপ্তাহে চীনে করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকের ডিলিট করা সিকোয়েন্সিং ডাটা উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল শহরের ফ্রেড হাচিনসন ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টারের বিজ্ঞানী ড. জেস ব্লুম।

ডাটায় দেখা যায়, হুয়ানান সিফুড মার্কেট থেকে সংগ্রহ করা নমুনা সামগ্রিকভাবে সার্স-কোভ-২কে প্রতিনিধিত্ব করে না; বরং হুয়ানান থেকে ছড়ানোর আগে এটির উপস্থিতি ডাটায় পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অফ হেলথ রয়টার্সকে জানায়, গত বছরের মার্চে গবেষণায় ব্যবহৃত নমুনা সিকোয়েন্স রিড আর্কাইভে জমা দেয়া হয়। পরে চীনের অনুসন্ধানকারীদের অনুরোধে সেসব ডিলিট করা হয়।

চীনা অনুসন্ধানকারীদের ভাষ্য ছিল, নমুনা হালনাগাদ করে অন্য আরেকটি আর্কাইভে জমা দেয়া হবে।

সমালোচকদের ভাষ্য, ডিলিট করায় এটাই প্রমাণ হয় যে, করোনার উৎস ঢাকার চেষ্টা করেছিল চীন।

হার্ভার্ডের ব্রড ইনস্টিটিউটের গবেষক অ্যালিনা চ্যান টুইটবার্তায় বলেন, ‘উহানে করোনা কীভাবে ছড়ায় এ তথ্য সংবলিত গুরুত্বপূর্ণ ডাটা ডিলিট করতে আন্তর্জাতিক ডাটাবেজকে বিজ্ঞানীরা কেন বলবেন?’

আরও পড়ুন:
নিয়ানডারথাল ও প্রাচীন মানুষের গুণতে শেখার ইতিহাস
৭৮ হাজার বছরের প্রাচীন কবর আফ্রিকায়

শেয়ার করুন

ছবিতে স্ট্রবেরি মুন

ছবিতে স্ট্রবেরি মুন

বছরের শেষ সুপার মুন হিসেবে আকাশে এখন প্রভা ছড়াচ্ছে ‘স্ট্রবেরি মুন’। ঠিক এই মুহূর্তে দৃশ্যমান পূর্ণিমার চাঁদে অবশ্য গোলাপি ছাঁট নেই। তবে সাধারণ পূর্ণিমার চাঁদের চেয়ে তার পার্থক্য সুস্পষ্ট। এবারের নামটি এরই মধ্যে বিশেষ আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। এই নামটি এসেছে উত্তর আমেরিকার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে

জুনের এই পূর্ণিমার পর গ্রীষ্ম শুরু হয় উত্তর গোলার্ধে। ছোট হতে থাকে দিন, বাড়তে থাকে রাতের দৈর্ঘ্য। আগের কালে ডাকোটা, লাকোটাসহ কয়েকটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী এই পূর্ণিমার পর থেকেই স্ট্রবেরি সংগ্রহ শুরু করত। আর সে কারণেই এই পূর্ণিমার চাঁদের নাম ‘স্ট্রবেরি মুন’।

স্ট্রবেরির সঙ্গে মিলিয়ে আজ রাতের চাঁদের রং গোলাপি দেখতে চাইলে অবশ্য হতাশ হতে হবে। কারণ, আকাশে চাঁদের অবস্থান অনেকটা কাছে মনে হবে ঠিকই, তবে এর প্রভায় গোলাপি ছাঁট থাকার সম্ভাবনা একদম কম।

আরও পড়ুন: মুনের আলোয় ভাসবে রাত

সাইফুল ইসলামের ক্যামেরায় এই সুপার মুনের কয়েকটি ছবি:

ছবিতে স্ট্রবেরি মুন

ছবিতে স্ট্রবেরি মুন

ছবিতে স্ট্রবেরি মুন

ছবিতে স্ট্রবেরি মুন

আরও পড়ুন:
নিয়ানডারথাল ও প্রাচীন মানুষের গুণতে শেখার ইতিহাস
৭৮ হাজার বছরের প্রাচীন কবর আফ্রিকায়

শেয়ার করুন

‘এলিয়েনের নজরদারি’, ২৯ গ্রহ চিহ্নিত

‘এলিয়েনের নজরদারি’, ২৯ গ্রহ চিহ্নিত

মহাকাশবিজ্ঞানীদের হিসাব বলছে, প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে বা বাসযোগ্য এই গ্রহগুলো থেকে পৃথিবীর কক্ষপথ দেখা সম্ভব। এমনকি মানুষের তারবিহীন যোগাযোগে অনুপ্রবেশ করাও সম্ভব।

এলিয়েন বা ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায় বিজ্ঞানীরা। তবে কোনো কোনো মহাকাশবিজ্ঞানী এলিয়েনের অস্তিত্ব ধরে নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তাদের একটি অংশ মনে করছেন, অনেকগুলো গ্রহ থেকে পৃথিবীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে পারে এলিয়েনরা। এমন ২৯টি গ্রহ চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা।

মহাকাশবিজ্ঞানীদের হিসাব বলছে, প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে বা বাসযোগ্য এই গ্রহগুলো থেকে পৃথিবীর কক্ষপথ দেখা সম্ভব। এমনকি মানুষের তারবিহীন যোগাযোগে অনুপ্রবেশ করাও সম্ভব।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়, পৃথিবীর ওপর নজরদারি সম্ভব, এমন কয়েকটি সৌরজগতের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করেছেন বিজ্ঞানীরা।

তারা ধরে নিয়েছেন, সেসব সৌরজগতে প্রাণের অস্তিত্ব আছে। এ ধারণাকে কেন্দ্র করে সৌরজগতগুলোর কক্ষপথে ঘুরতে থাকা বিশেষ কিছু গ্রহও চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচারে বুধবার প্রকাশ হয় মূল গবেষণা প্রতিবেদনটি

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সত্যিই এলিয়েন থাকলে অবস্থানগত সুবিধার কারণে গ্রহগুলো থেকে তারা পৃথিবীতে প্রাণের চিহ্ন শনাক্ত করতে পারে।

ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার গায়া ক্যাটালগ বিশ্লেষণ করেছেন নিউ ইয়র্কের কর্নেল ইউনিভার্সিটির কার্ল সাগান ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও মহাকাশবিজ্ঞানের অধ্যাপক লিসা কাল্টেনেগার এবং আমেরিকান মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রির জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. জ্যাকি ফাহের্টি।

তারা পৃথিবীর ৩২৬ আলোকবর্ষের মধ্যে অবস্থিত ২ হাজার ৩৪টি সৌরজগৎ চিহ্নিত করেছেন, যেগুলো থেকে পৃথিবীর অস্তিত্ব বোঝা সম্ভব।

চেনা সৌরজগতের বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে এমন ১ হাজার ৭১৫টি সৌরজগৎ আলাদাভাবে চিহ্নিত করেছেন তারা।

বিজ্ঞানীদের মতে, এলিয়েনের ধারণা বাস্তব হলে দেড় হাজারের বেশি সৌরজগতের কোনোটি থেকে হয়তো গত ৫ হাজার বছরের কোনো সময় পৃথিবীকে সূর্যের ধারেকাছে আবিষ্কার করেছে ভিনগ্রহের প্রাণীরা। আবার পৃথিবীর কক্ষপথ শনাক্ত সম্ভব এসব সৌরজগতের মধ্যে এমন ৪৬টি আছে, যেগুলোতে মানুষের অস্তিত্ব চিহ্নিত করার মতো পর্যাপ্ত গ্রহ আছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, গত প্রায় ১০০ বছর ধরে তথ্য আদান-প্রদানে রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেটসহ তারবিহীন যোগাযোগের অনেক পথ তৈরি করেছে মানুষ।

এই ৪৬ সৌরজগতের বিশেষ কিছু গ্রহ থেকে এলিয়েনদের পক্ষে মানুষের এই তারবিহীন যোগাযোগে সহজেই আড়ি পাতা সম্ভব।

গবেষকদের মতে, রস ১২৮, ট্র্যাপিস্টসহ এ ধরনের গ্রহের সংখ্যা ২৯টি।

লিসা কাল্টেনেগার বলেন, ‘গ্রহ আবিষ্কারের একটা উপায় হলো বিভিন্ন তারা থেকে পৃথিবীর দিকে আলো আসার কোনো পথ বন্ধ বলে বোঝা যাওয়া।’

শক্তিশালী অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পৃথিবীর সৌরজগতের বাইরে হাজার হাজার গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এগুলোর ৭০ শতাংশই আবিষ্কৃত হয়েছে এমন সময়, যখন সেসব গ্রহ নিজেদের সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় পৃথিবীতে আলো পৌঁছানোর পথে বাধা দিয়েছে।

মূলত এ রকম গ্রহগুলোর মধ্যে পৃথিবীকে সহজে লক্ষ্য করার মতো অবস্থানে কোনগুলো আছে, সেগুলো শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা।

আরও পড়ুন:
নিয়ানডারথাল ও প্রাচীন মানুষের গুণতে শেখার ইতিহাস
৭৮ হাজার বছরের প্রাচীন কবর আফ্রিকায়

শেয়ার করুন

স্ট্রবেরি মুনের আলোয় ভাসবে রাত

স্ট্রবেরি মুনের আলোয় ভাসবে রাত

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের দিকে এই মহাজাগতিক দৃশ্যের প্রত্যক্ষদর্শী হবে বাংলাদেশের মানুষও। এ বছরে এটাই শেষ সুপার মুন। এই সুপার মুন একটি বিশেষ কারণে আলাদা। কারণ, আজ রাতের আকাশে উদিত হচ্ছে যে চাঁদ, তার নাম ‘স্ট্রবেরি মুন’।

পৃথিবী থেকে চাঁদের সর্বোচ্চ দূরত্ব ৪ লাখ ১০ হাজার কিলোমিটারের মতো। তবে ডিম্বাকার ঘূর্ণনপথের কারণে মাঝেমধ্যে পৃথিবীর অনেকটা কাছে চলে আসে চাঁদ।

পৃথিবীর সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে থাকা চাঁদের দূরত্ব যখন স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় ১২ শতাংশ কমে আসে, তখন চন্দ্রপ্রভা হয় আরও উজ্জ্বল। দূরত্বের হিসাবে চাঁদের অবস্থান পৃথিবী থেকে তখন ৩ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটারের আশপাশে। আর এই উজ্জ্বল, বড় আকারে দৃশ্যমান চাঁদেরই নাম সুপার মুন।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের দিকে এই মহাজাগতিক দৃশ্যের প্রত্যক্ষদর্শী হবে বাংলাদেশের মানুষও। এ বছরে এটাই শেষ সুপার মুন।

এই সুপার মুন একটি বিশেষ কারণে আলাদা। কারণ, আজ রাতের আকাশে উদিত হচ্ছে যে চাঁদ, তার নাম ‘স্ট্রবেরি মুন’।

এই নামটি এসেছে উত্তর আমেরিকার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে। জুনের এই পূর্ণিমার পর গ্রীষ্ম শুরু হয় উত্তর গোলার্ধে। ছোট হতে থাকে দিন, বাড়তে থাকে রাতের দৈর্ঘ্য। আগের কালে ডাকোটা, লাকোটাসহ কয়েকটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী এই পূর্ণিমার পর থেকেই স্ট্রবেরি সংগ্রহ শুরু করত। আর সে কারণেই এই পূর্ণিমার চাঁদের নাম ‘স্ট্রবেরি মুন’।

স্ট্রবেরির সঙ্গে মিলিয়ে আজ রাতের চাঁদের রং গোলাপি দেখতে চাইলে অবশ্য হতাশ হতে হবে। কারণ, আকাশে চাঁদের অবস্থান অনেকটা কাছে মনে হবে ঠিকই, তবে এর প্রভায় গোলাপি ছাঁট থাকার সম্ভাবনা একদম কম।

চাঁদের লালচে রূপ কখনও কখনও অবশ্য দেখা যায়, তবে তার কারণ একেবারেই আলাদা। চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদ যখন পুরোপুরি ঢেকে যায়, তখন সূর্যের আলোর লাল তরঙ্গ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্যে দিয়ে পৌঁছে যায় চাঁদে। এ কারণে পূর্ণ গ্রহণের সময়েও অনেক সময় চাঁদে দেখা যায় লাল আভা।

তবে আজ রাতে চাঁদে লাগছে না কোনো গ্রহণ, বরং পৃথিবীর কাছাকাছি এসে বাড়বে উজ্জ্বলতা। এই ঔজ্জ্বল্য সূর্যের কাছ থেকে ধার করা আলোয় হলেও, সেই আলো সরাসরি সূর্য থেকে পড়বে চাঁদের বুকে।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাধা না থাকায় চাঁদ থেকে প্রতিফলিত সূর্যের এই আলো নরম হয়েই ধরা দেবে মানুষের চোখে।

আরও পড়ুন:
নিয়ানডারথাল ও প্রাচীন মানুষের গুণতে শেখার ইতিহাস
৭৮ হাজার বছরের প্রাচীন কবর আফ্রিকায়

শেয়ার করুন

আগুন লাগলে সতর্ক করবে ‘ব্লুবেরি’

আগুন লাগলে সতর্ক করবে ‘ব্লুবেরি’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী সঞ্জিত মণ্ডলের নেতৃত্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ১৩তম ব্যাচের জুয়েল দেবনাথ ও একই ব্যাচের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মিষ্টু পাল মিলে তৈরি করেছেন ব্লুবেরিকে।

আগুন লাগলে বা গ্যাস লাইন ফুটো হলেই সতর্ক করবে। যেকোনো কিছু জানতে চাইলে গড়গড় করে উত্তর বলে দেবে।

না কোনো মানুষ নয়, বরং মানবাকৃতির একটি রোবট এই কাজগুলো করবে। নীল রঙের রোবটটির নাম ব্লুবেরি। রোবটটিতে রাস্পবেরি পাই (ক্রেডিট কার্ড আকৃতির সিঙ্গেল বোর্ড কম্পিউটার) ব্যবহার করায় এর নামকরণ করা হয়েছে 'ব্লুবেরি'।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী তৈরি করেছেন এই রোবট। রোবটটি তৈরির জন্য তারা গঠন করেছেন ‘কোয়ান্টা রোবোটিক্স’ নামের একটি টিম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী সঞ্জিত মণ্ডলের নেতৃত্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ১৩তম ব্যাচের জুয়েল দেবনাথ ও একই ব্যাচের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মিষ্টু পাল মিলে তৈরি করেছেন ব্লুবেরিকে।

জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা অ্যাকাডেমির অর্থায়নে এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আবু মুসা আসারীর সহযোগিতায় প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে তিন মাসে রোবটটি তৈরি করেছেন তারা।

ব্লুবেরির নির্মাতা ওই তিন শিক্ষার্থীর দাবি, আরও উন্নত করা গেলে করোনার নমুনা সংগ্রহেও রোবটটিকে ব্যবহার করা যাবে।

এর আগে ২০১৯ সালে সঞ্জিত মণ্ডল, জুয়েল নাথসহ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী মিলে তৈরি করেছিলেন দেশের চতুর্থ মানবাকৃতির রোবট 'সিনা'। সে সময় মাত্র দুই মাসে প্রায় ৩৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ওই রোবটটি তৈরি করেন তারা।

তারা জানান, রোবটটিকে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক কিংবা বাচ্চাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়ার মাধ্যমে নতুন কিছু শেখানোর কাজেও ব্যবহার করা যাবে। দেশের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রোবট তৈরিতে আকৃষ্ট করার একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা এটি। ভবিষ্যতে রোবটটিকে আরও উন্নত করা সম্ভব, এটাকে চাইলে প্রায় প্রতিদিনই হালনাগাদ করা যাবে।

সঞ্জিত মণ্ডল বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে অনেক প্রজেক্ট করি ইলেকট্রনিকস প্রজেক্ট বা বিভিন্ন সায়েন্স প্রজেক্ট। অনেক কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ করেছি। সামনে আরও ভালো কিছু করার সুযোগ চাই, সবার সহযোগিতা ও আশীর্বাদ চাই।’

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল অ্যারোন্যাটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আয়োজিত ‘নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন সঞ্জিত মণ্ডল।

কোয়ান্টা রোবোটিক্সের আরেক সদস্য জুয়েল দেবনাথ বলেন, “গতবারের রোবট 'সিনা'র চেয়ে ব্লুবেরি অনেক আপডেটেড এবং এটিকে প্রতিনিয়ত আপডেট করা যাবে। এটা তৈরি করতে গিয়ে দিনরাতের পার্থক্য ভুলেই গিয়েছিলাম। এমনও আছে টানা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করেছি। কোডের মধ্যে এররের পর এররের সম্মুখীন হতে হতে অনেক ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম। কোডের কিছু কিছু গোপন এরর ধরতে ৪/৫ ঘণ্টা ল্যাপটপের সামনে বসে থেকেছি, তাও চেষ্টা করা বন্ধ করিনি। চেষ্টা করব পরে আরও ভালো কিছু করতে।”

কোয়ান্টা রোবোটিক্সের আরেক সদস্য মিষ্টু বলেন, ‘এই রোবট তৈরিটা ছিল আমার প্রথম কোনো প্রজেক্ট। যদিও আমি কম্পিটিটিভ প্রোগ্রামিংয়ের সঙ্গে আগে থেকেই জড়িত। কিন্তু এমন কোনো ছোট বা বড় প্রজেক্ট এর আগে করিনি। শুরু থেকেই অনেক ধরনের সমস্যার (কোডে এরর বা ডিভাইসে সমস্যা) মুখোমুখি হয়েছি। তবু থেমে থাকিনি। ইলেকট্রনিকসের সঙ্গে কোডিংয়ের সম্পর্ক যতটা দেখতে সুন্দর, কাজ করতে ততটাই কষ্ট। এই রোবটটিকে আমাদের আরও উন্নত করার সুযোগ আছে এবং আমরা সেটা নিয়ে কাজ করে যাব।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস মিয়া বলেন, ‘করোনার কারণে তাদের কাজটি আমরা অনুষ্ঠান করে জানান দিতে পারিনি। শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তাদের সফলতা কামনা করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রোবট তৈরির বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এমরান কবির চৌধুরী আনন্দ প্রকাশ করেন বলেন, ‘আমাদের কাছে বিষয়টি গৌরবের। এ ধরনের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করতে আমি সব সময় প্রস্তুত।’

আরও পড়ুন:
নিয়ানডারথাল ও প্রাচীন মানুষের গুণতে শেখার ইতিহাস
৭৮ হাজার বছরের প্রাচীন কবর আফ্রিকায়

শেয়ার করুন

করোনার চিকিৎসায় আইভারমেকটিনের ট্রায়াল

করোনার চিকিৎসায় আইভারমেকটিনের ট্রায়াল

করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় আইভারমেকটিনের কার্যকারিতা নিয়ে পরীক্ষা করছেন গবেষকরা। ছবি: এএফপি

গবেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত অ্যাজিথ্রোমাইসিন ও ডক্সিসাইক্লিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর। ফলে এমন ক্ষেত্রে আইভারমেকটিনের ব্যবহার কিছুটা আশা দেখিয়েছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় জীবাণুবিরোধী ওষুধ আইভারমেকটিনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখছেন ব্রিটিশ গবেষকরা।

করোনার সম্ভাব্য ওষুধ হিসেবে আইভারমেকটিনের উপযোগিতা নিয়ে এ গবেষণার কথা বুধবার জানায় অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি।

যুক্তরাজ্যে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় হয়েছে এ গবেষণা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ছাড়াই করোনা রোগীদের সুস্থ করে তোলার পথ খুঁজতে ওষুধটি নিয়ে গবেষণা করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, আইভারমেকটিনের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে করোনাভাইরাসের বিস্তারের গতি কমানো সম্ভব হয়েছে।

ছোট একটি দলের ওপর পরীক্ষায় দেখা যায়, আক্রান্ত হওয়ার শুরুতেই এ ওষুধটি প্রয়োগ করা হলে মানবদেহে এটি ভাইরাস বাড়তে এবং মৃদু উপসর্গ বেশি দিন স্থায়ী হতে দেয় না।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পরিচালিত এ গবেষণার নাম দেয়া হয়েছে ‘প্রিন্সিপ্যাল’।

গবেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত অ্যাজিথ্রোমাইসিন ও ডক্সিসাইক্লিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর। ফলে এমন ক্ষেত্রে আইভারমেকটিনের ব্যবহার কিছুটা আশা দেখিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অনেক দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা করোনার চিকিৎসায় আইভারমেকটিন ব্যবহারের বিরোধী।

করোনায় আক্রান্তদের ওপর শুধু পরীক্ষামূলকভাবে ওষুধটি প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

তবে ভারত, কলম্বিয়াসহ অনেক দেশেই করোনায় আক্রান্তদের সুস্থ করে তুলতে ওষুধটি ব্যবহার করছেন চিকিৎসকরা।

ব্রিটিশ গবেষক দলের সহ-প্রধান ক্রিস বাটলার বলেন, ‘প্রিন্সিপ্যালের মতো বড় পরিসরের পরীক্ষায় আইভারমেকটিন অন্তুর্ভুক্ত করার মাধ্যমে করোনার চিকিৎসায় এটির কার্যকারিতা প্রমাণের চেষ্টা করেছি আমরা। একই সঙ্গে এটি ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধাও খতিয়ে দেখেছি।’

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লিভারের অসুখে ভুগছেন এবং রক্তের ঘনত্ব কমানো ওষুধ নিচ্ছেন এমন ব্যক্তিদের ওপর এ পরীক্ষা করা হয়নি। আইভারমেকটিনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অন্যান্য চিকিৎসা নেয়া ব্যক্তিদেরও এ পরীক্ষার বাইরে রাখা হয়েছে।

করোনার প্রাদুর্ভাবের দেড় বছর পার হলেও ভাইরাসটির নতুন ধরন থেকে রেহাই পেত সুনির্দিষ্ট ওষুধ উদ্ভাবন হয়নি।

করোনার চিকিৎসায় পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহৃত সপ্তম ওষুধ আইভারমেকটিন।

এর আগে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় রেমডেসিভির, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন, লোপিনাভির বা রিটোনাভির, কর্টিকোস্টেরয়েড, অ্যান্টিকোয়াগুলেন্টস, ফ্যাভিপিরেভির জরুরি ব্যবহারে অনুমোদন দেয় ডব্লিউএইচও।

বর্তমানে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ফ্যাভিপিরেভিরের সঙ্গে আইভারমেকটিনের কার্যকারিতা তুলনা করে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা।

আরও পড়ুন:
নিয়ানডারথাল ও প্রাচীন মানুষের গুণতে শেখার ইতিহাস
৭৮ হাজার বছরের প্রাচীন কবর আফ্রিকায়

শেয়ার করুন