শুক্রে নাসার জোড়া অভিযান

সূর্যের দ্বিতীয় নিকটতম পৃথিবীর যমজখ্যাত শুক্র গ্রহ। ছবি: এএফপি

শুক্রে নাসার জোড়া অভিযান

শুক্র গ্রহের ঘন বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত বিভিন্ন উপাদান বিশ্লেষণ করবে দাভিঞ্চি প্লাস। এর মাধ্যমে গ্রহটিতে তীব্র তাপমাত্রার কারণ জানা সম্ভব হবে। অন্যদিকে পৃষ্ঠ থেকে কক্ষপথ পর্যন্ত শুক্রের মানচিত্র তৈরি করবে ভেরিটাস। এর মাধ্যমে গ্রহটির ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস জানা সম্ভব হবে।

৩০ বছর পর ‘পৃথিবীর যমজ’ খ্যাত শুক্র গ্রহে নতুন অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিলো যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রহটিতে নাসা দুটি মহাকাশযান পাঠাবে। দুটি অভিযানের জন্য ৫০ কোটি ডলার করে ১০০ কোটি ডলার বরাদ্দ দেয়া হবে।

ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুটি অভিযানের নাম দেয়া হয়েছে দাভিঞ্চি প্লাস ও ভেরিটাস।

‘ডিপ অ্যাটমোস্ফিয়ার ভেনাস ইনভেস্টিগেশন অফ নোবেল গ্যাসেস, কেমিস্ট্রি অ্যান্ড ইমেজিং’-এর আদ্যাক্ষর ‘ডিএভিআইএনসিআই’ এবং ‘ভেনাস এমিসিভিটি, রেডিও সায়েন্স, ইনসার, টোপোগ্রাফি অ্যান্ড স্পেক্ট্রোস্কপি’র আদ্যাক্ষর ‘ভিইআরআইটিএএস’ নিয়ে এ নামকরণ করা হয়েছে।

নাসা জানিয়েছে, শুক্রের ঘন বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত বিভিন্ন উপাদান বিশ্লেষণ করবে দাভিঞ্চি প্লাস। এর মাধ্যমে গ্রহটিতে তীব্র তাপমাত্রার কারণ জানা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে পৃষ্ঠ থেকে কক্ষপথ পর্যন্ত শুক্রের মানচিত্র তৈরি করবে ভেরিটাস। এর মাধ্যমে গ্রহটির ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস জানা সম্ভব হবে।

পৃথিবীর প্রতিবেশী ও সূর্যকে প্রদক্ষিণরত দ্বিতীয় নিকটতম গ্রহ শুক্রের আকৃতি অনেকটা পৃথিবীর মতো। তবে পৃথিবীর চেয়ে শুক্র আকারে খানিকটা ছোট ও অনেক গরম।

এর পৃষ্ঠের ওপরই কার্বন ডাইঅক্সাইডের ঘন ও বিষাক্ত বায়ুমণ্ডল রয়েছে। তার সঙ্গে আছে সালফারিক এসিড ড্রপলেটের মেঘ।

এসব কারণে শুক্রের তাপমাত্রা ৮৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৪৭১ সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। সে তাপমাত্রায় সিসা গলে যায়।

শুক্রের বাতাস এতটাই ঘন আর চাপযুক্ত যে একে গ্যাস না বলে তরলও বলা যায়।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, শুক্রে একসময় সমুদ্র ছিল। অর্থাৎ এ গ্রহে কোনো না কোনো সময় প্রাণের অস্তিত্ব ছিল বলে আশাবাদী তারা।

মঙ্গলের পর পৃথিবীর দ্বিতীয় নিকটতম প্রতিবেশী শুক্র নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণা তুলনামূলক কম।

গত ফেব্রুয়ারিতে মঙ্গলপৃষ্ঠে অভিযান শুরু করে নাসার পারসিভারেন্স রোভার।

অন্যদিকে ১৯৯০ সালে শেষবার শুক্রে মহাকাশযান পাঠিয়েছিল নাসা। চার বছর ধরে শুক্রের কক্ষপথ ঘুরে গ্রহটির পৃষ্ঠের প্রথম মানচিত্র ও মাধ্যাকর্ষণ ক্ষেত্রের নকশা তৈরি করে ম্যাগেলান নামের ওই মহাকাশযানটি।

অভিযানে ইতি টানার আগে বায়ুমণ্ডলের তথ্য সংগ্রহে শুক্রের আরও কাছে পাঠানো হয়েছিল ম্যাগেলানকে। প্রায় একই ভূমিকায় দেখা যাবে দাভিঞ্চি প্লাসকে।

শুক্রের পৃষ্ঠে যদি দাভিঞ্চি প্লাস সফল অবতরণে সক্ষমও হয়, তাও তীব্র তাপমাত্রায় বড়জোড় ২০ মিনিট সেখানে টিকে থাকতে পারবে মহাকাশযানটি।

বুধ প্রদক্ষিণের পর ১৯৭৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রের ঘন বায়ুমণ্ডলের ছবি তুলেছিল নাসার মহাকাশযান মেরিনার ১০।

আরও পড়ুন:
মঙ্গল জয়ের প্রথম ছবি প্রকাশ করল চীন
চীনের মঙ্গল জয়
মঙ্গলে উড়ছে নাসার হেলিকপ্টার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

স্বীকৃতি পেল পঞ্চম মহাসাগর ‘সাদার্ন ওশান’

স্বীকৃতি পেল পঞ্চম মহাসাগর ‘সাদার্ন ওশান’

সাদার্ন ওশানের লেমাঁ চ্যানেলে ভাসমান হিমশৈল। ছবি: সংগৃহীত

সাদার্ন ওশানের নামকরণ করা হয়েছে অ্যান্টার্কটিক সার্কামপোলার কারেন্ট (এসিসি) বা অ্যান্টার্কটিকের মেরুঞ্চলীয় স্রোতের ওপর ভিত্তি করে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, তিন কোটি ৪০ লাখ বছর আগে যখন দক্ষিণ আমেরিকা থেকে অ্যান্টার্কটিকা বিচ্ছিন্ন হয় তখন এসিসির উৎপত্তি। এর কারণে পৃথিবীর নিম্নভাগে পানির নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ হয়।

প্রায় ১০০ বছর ধরে স্বীকৃতির অপেক্ষায় থাকার পর মহাসাগর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে সাদার্ন ওশান। এতে করে প্রশান্ত, আটলান্টিক, ভারত ও আর্কটিক মহাসাগরের পর পৃথিবীর পঞ্চম মহাসাগর হিসেবে চিহ্নিত হলো অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের চারপাশ ঘিরে থাকা এই জলসীমা।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি গত সপ্তাহে এই স্বীকৃতি দেয়।

৮ জুন বিশ্ব মহাসাগর দিবসে বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্ত নেন যে, এখন থেকে মানচিত্রে সাদার্ন ওশানকে চিহ্নিত করা হবে।

জিওগ্রাফিক সোসাইটির ভূতত্ত্ববিদ অ্যালেক্স টেইট ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ওয়েবসাইটকে বলেন, ‘বহু বছর ধরেই সাদার্ন ওশানকে বিজ্ঞানীরা চিহ্নিত করে এসেছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে একে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।’

নতুন স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সুবিধা হবে উল্লেখ করে টেইট বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা নাম ধরে কোনো একটা মহাসাগর সম্পর্কে পড়াশোনা করে। সাদার্ন ওশানকে অন্তর্ভুক্ত না করলে তারা নির্দিষ্ট করে এর সম্বন্ধে জানবে না ও বুঝতে পারবে না এটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’

১৯১৫ সাল থেকে পৃথিবীর মানচিত্র তৈরি করছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক। তারা এতদিন মানচিত্রে মাত্র চারটি মহাসাগর চিহ্নিত করে এসেছে। সাধারণভাবে মহাসাগরগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে একে ঘিরে থাকা মহাদেশগুলোর নাম অনুসারে।

কিন্তু সাদার্ন ওশানের নামকরণ করা হয়েছে অ্যান্টার্কটিক সার্কামপোলার কারেন্ট (এসিসি) বা অ্যান্টার্কটিকের মেরুঞ্চলীয় স্রোতের ওপর ভিত্তি করে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, তিন কোটি ৪০ লাখ বছর আগে যখন দক্ষিণ আমেরিকা থেকে অ্যান্টার্কটিকা বিচ্ছিন্ন হয় তখন এসিসির উৎপত্তি। এর কারণে পৃথিবীর নিম্নভাগে পানির নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ হয়।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক জানায়, এসিসি ও সাদার্ন ওশানের অধিকাংশ পানি উত্তরের মহাসাগরগুলোর চেয়ে ঠান্ডা ও কম লবণাক্ত। আটলান্টিক, প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগর থেকে পানি টেনে এনে এসিসি একটি প্রাকৃতিক ‘কনভেয়ার বেল্ট’ তৈরি করে যা
পৃথিবীজুড়ে সূর্যের তাপ সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করে। আর এসিসির ঠান্ডা পানি কার্বনকে গভীর সমুদ্রে নিমজ্জিত করতে সাহায্য করে। এসিসির ঠান্ডা পানিতে হাজারো সামুদ্রিক জীবের বাস।

স্বীকৃতি পেল পঞ্চম মহাসাগর ‘সাদার্ন ওশান’
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের মানচিত্রে সাদার্ন ওশান। ছবি: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক



স্প্যানিশ অভিযাত্রী ভাসকো নুনিয়েস দে বালবোয়া প্রথমবারের মতো ১৬০০ শতকে পৃথিবীর দক্ষিণ দিকের এই বিস্তৃত জলরাশি আবিষ্কার করেন। ধীরে ধীরে এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটু জলপথ হয়ে ওঠে।

কয়েক শ বছর পর উনবিংশ শতাব্দীতে সমুদ্র বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো তাদের জাহাজ ও নৌবাহিনীর সুবিধার্থে নিজেদের সমুদ্র ও জলসীমা বিশেষজ্ঞ বিভাগ গড়ে তোলে।

১৯২১ সালে শুরু হওয়া ইন্টারন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফিক অর্গানাইজেশনের (আইএইচও) শুরুর দিককার নথিতে প্রথমবারের মতো সাদার্ন ওশান নামটি ব্যবহার করা হয়।

কিন্তু ১৯৫৩ সালে আইএইচও এই নামটি প্রত্যাহার করে নেয়। ওই বছর প্রকাশিত গাইডলাইনে তাদের যুক্তি ছিল, ‘অধিকাংশ গৃহীত মতের ভিত্তি এটাই প্রতীয়মান হয় যে, ওই জলসীমাকে মহাসাগর বলার কোনো যুক্তি নেই।’

বিজ্ঞানীরা এর সঙ্গে একমত হননি। সাদার্ন ওশানের গুরুত্ব ও অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলো তাদের কাছে পরিষ্কার হওয়ার পর থেকে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এই নামের ব্যবহার বাড়তে থাকে।

দ্য ইউএস বোর্ড অন জিওগ্রাফিক নেইমস ১৯৯৯ সাল থেকে এটি ব্যবহার করা শুরু করে। আর ন্যাশনাল ওশিয়ানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) এটি ব্যবহার করা শুরু করে ২০২১ সাল থেকে।

ওশান শব্দটি ইংরেজিতে এসেছে গ্রিক দেবতা ওশানাসের নাম থেকে। গ্রিক পুরাণ অনুযায়ী ইউরেনাস ও গায়ার ছেলে ওশানাস নদীর দেবতা।

প্রাচীন গ্রিসের লোকদের বিশ্বাস ছিল ‘ওশান’ এমন একটি নদী যা পুরো পৃথিবীকে ঘিরে আছে। সেখান থেকেই শব্দটিকে বিশ্বের বিভিন্ন মহাসাগরগুলোর নামকরণে ব্যবহার করা হয়।

আরও পড়ুন:
মঙ্গল জয়ের প্রথম ছবি প্রকাশ করল চীন
চীনের মঙ্গল জয়
মঙ্গলে উড়ছে নাসার হেলিকপ্টার

শেয়ার করুন

মানুষের পা পড়ার অপেক্ষায় চীনের মহাকাশ স্টেশন

মানুষের পা পড়ার অপেক্ষায় চীনের মহাকাশ স্টেশন

৩ নভোচারীকে মহাকাশ স্টেশনে পাঠাচ্ছে চীন। ছবি: এএফপি

চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, প্রায় তিন মাস সেখানে থাকবেন নভোচারীরা। তাদের প্রত্যেকের থাকার জন্য রয়েছে আলাদা মডিউল, একটি বাথরুম, খাবার রুম এবং ই-মেইল আদানপ্রদান ও পৃথিবীর সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপনে একটি বিশেষ কক্ষ।

চীনের নতুন মহাকাশ স্টেশনে প্রথমবার নভোচারীসহ রকেট পাঠাতে যাচ্ছে দেশটি। তিন নভোচারীকে নিয়ে রকেটটি রওনা দেবে বৃহস্পতিবার।

এটি হবে মহাকাশে চীনের এযাবৎকালের দীর্ঘতম মিশন, যেখানে মানুষ পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ বছরে প্রথমবার মহাকাশে মানুষ পাঠাতে যাচ্ছে বেইজিং।

ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মহাকাশ স্টেশনটিতে নভোচারীদের জন্য থাকবে ১২০ ধরনের স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু খাদ্য, শরীরচর্চার জন্য মহাকাশে চলতে সক্ষম বিশেষ ধরনের ট্রেডমিল ইত্যাদি।

চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, প্রায় তিন মাস সেখানে থাকবেন নভোচারীরা। তাদের প্রত্যেকের থাকার জন্য রয়েছে আলাদা মডিউল, একটি বাথরুম, খাবার রুম এবং ই-মেইল আদানপ্রদান ও পৃথিবীর সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপনে একটি বিশেষ কক্ষ।

চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় গোবি মরুভূমিতে অবস্থিত জিউকুয়ান উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ২২ মিনিটে মহাকাশের উদ্দেশ্য রওনা দেবে লং মার্চ-টুএফ।

তিয়াংগং স্পেস স্টেশনের মূল অংশ তিয়ানহেতে অবতরণ করবে তাদের বহনকারী মহাকাশযানটি। গত ২৯ এপ্রিল পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপন করা হয় তিয়াংগং।

আগামী দেড় বছরের মধ্যে তিয়াংগংকে পরিপূর্ণ স্পেস স্টেশন হিসেবে রূপ দিতে আরও ১১টি অভিযান পরিচালনা করবে চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। এর মধ্যে আছে স্যোলার প্যানেল সংযুক্তিকরণ ও দুটি গবেষণাগার মডিউল।

মহাকাশে অন্তত ১০ বছর তিয়াংগংকে সচল রাখা লক্ষ্য চীনের।

মিশনের কমান্ডার নিয়ে হাইশেং বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘গত এক দশকে চীনের মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে অনেকগুলো উজ্জ্বল অধ্যায় যোগ করেছি আমরা। নতুন এই মিশন আমাদের জাতীয় প্রত্যাশা পূরণের সূচনা।’

মহাকাশের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং হাঁটাচলায় সুবিধা করতে তার দলের সদস্যরা ছয় হাজার ঘণ্টার বেশি সময় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

চীনে নভোচারীর প্রশিক্ষণের জন্য বাছাইকৃত ১৯৯৮ সালের প্রথম দলটির একজন নিয়ে হাইশেং। এ পর্যন্ত মহাকাশে দুটি মিশনে অংশ নিয়েছেন তিনি।

তিনি ও তার দলের সবাই চীনা সেনাবাহিনীর সদস্য।

যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, কানাডা, ইউরোপ ও জাপানের সম্মিলিত অংশগ্রহণে নির্মিত মহাকাশের একমাত্র স্টেশন আইএসএসে চীনা নভোচারীদের নিষিদ্ধ করার পর থেকে মহাকাশে একক আধিপত্য তৈরির লক্ষ্য নেয় বেইজিং।

২০২৪ সালে শেষ হবে আইএসএসের মেয়াদ। এটি পুনরায় পূর্ণাঙ্গরূপে সচল হতে হতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

আরও পড়ুন:
মঙ্গল জয়ের প্রথম ছবি প্রকাশ করল চীন
চীনের মঙ্গল জয়
মঙ্গলে উড়ছে নাসার হেলিকপ্টার

শেয়ার করুন

পিসিআর টেস্টের চেয়ে কার্যকর কুকুরের নাক

পিসিআর টেস্টের চেয়ে কার্যকর কুকুরের নাক

পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর। ছবি: খালিজ টাইমস

বিশ্লেষণের পরিসংখ্যানভিত্তিক অনুমান পদ্ধতি বায়েজিয়ান ইনফারেন্স ব্যবহার করে দেখা গেছে, ৩ হাজার ১৩৪ জন ব্যক্তির দেহে করোনা শনাক্তে আরটি-পিসিআর টেস্টের তুলনায় বেশি সঠিক ফল পাওয়া গেছে কুকুরের ঘ্রাণশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে।

করোনাভাইরাস শনাক্তে আরটি-পিসিআর পরীক্ষার চেয়েও বেশি কার্যকর কুকুরের ঘ্রাণশক্তি।

আবুধাবিভিত্তিক এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে এমন তথ্য।

কেন্দ্রীয় শুল্ক কর্তৃপক্ষের বিস্ফোরক শনাক্তকারী কুকুরকে মানুষের ঘামের গন্ধ শুঁকে করোনা শনাক্তের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

দুবাইভিত্তিক পত্রিকা খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৩ হাজার ২৯০ জনের মধ্য থেকে করোনাভাইরাস নেগেটিভ ৩ হাজার ২৪৯ জনকে বাদ দিতে পেরেছে কুকুরগুলো।

এ ছাড়া বিশ্লেষণের পরিসংখ্যানভিত্তিক অনুমান পদ্ধতি বায়েজিয়ান ইনফারেন্স ব্যবহার করে দেখা গেছে, ৩ হাজার ১৩৪ জন ব্যক্তির দেহে করোনা শনাক্তে আরটি-পিসিআর টেস্টের তুলনায় বেশি সঠিক ফল পাওয়া গেছে কুকুরের ঘ্রাণশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে।

মানুষের নাক ও গলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে চালানো হয় আরটি-পিসিআর টেস্ট।

আবুধাবির ফেডারেল শুল্ক কর্তৃপক্ষ, হায়ার কলেজেস অফ টেকনোলজি ও ফোর উইন্ডস কে-নাইন সলিউশনসের অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞরা সমন্বিতভাবে এ গবেষণা চালিয়েছেন।

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচারে গত সপ্তাহে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়।

এতে বলা হয়, উপসর্গবিহীন করোনা আক্রান্তদের শনাক্তেও সক্ষম পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কে-নাইন কুকুর।

৩ হাজার ১৩৪ জনের সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আরটি-পিসিআর টেস্টে যেখানে করোনা শনাক্তে সাফল্যের হার ৭৩ শতাংশ, সেখানে কে-নাইন কুকুরের সাফল্যের হার ৮৯ শতাংশ।

গবেষণার জন্য নমুনা নেয়া হয়েছিল আল মাফরাক ওয়ার্কার্স সিটি পরিদর্শনকারীদের কাছ থেকে।

নমুনাদাতাদের সবাই পুরুষ। তাদের বয়স ১৯ থেকে ৬৭ বছরের মধ্যে। তাদের ৯০ শতাংশের বেশি এশীয় বংশোদ্ভূত। এদের ৩৮ শতাংশ ভারত ও ২৮ শতাংশ পাকিস্তানের।

কুকুরের ঘ্রাণশক্তির মাধ্যমে করোনা শনাক্তে একই ব্যক্তিদের বগলের ঘামও সংগ্রহ করা হয়েছিল।

কেন্দ্রীয় শুল্ক কর্তৃপক্ষের কে-নাইন ইউনিটের পরিচালক আব্দুল সালাম আল শামসির অধীনে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে।

আবুধাবি ও শারজাহ বিমানবন্দর, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট আর দুবাইয়ের কয়েকটি বড় বড় অনুষ্ঠানস্থলে কুকুর দিয়ে করোনাভাইরাস শনাক্তে সাফল্য মিলেছে।

আগে বিভিন্ন হত্যা রহস্য সমাধান এবং বন্দরে পৌঁছানো পণ্যের ভেতর মাদক ও বিস্ফোরক শনাক্তে সাহায্য করেছে এসব কুকুর।

আরও পড়ুন:
মঙ্গল জয়ের প্রথম ছবি প্রকাশ করল চীন
চীনের মঙ্গল জয়
মঙ্গলে উড়ছে নাসার হেলিকপ্টার

শেয়ার করুন

মঙ্গলে চীনের ছাপ

মঙ্গলে চীনের ছাপ

মঙ্গলগ্রহের ইউটোপিয়া প্ল্যানিশিয়া অঞ্চলে চীনের পাঠানো রোভার ঝুরং। ছবি: এএফপি

চায়না ন্যাশনাল স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, মঙ্গলের লাল মাটিতে চীনের লাল পতাকা শোভিত ঝুরঙের ঘুরে বেড়ানোর পথটি স্পষ্ট। এই দাগকেই ‘চীনের ছাপ’ আখ্যা দিয়েছে বেইজিং।

পৃথিবীর নিকটতম প্রতিবেশি মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে চীনের চিহ্ন আঁকলো চীনা রোভার ‘ঝুরং’।

চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার শুক্রবার প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে এ দৃশ্য।

ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোলার প্যানেলের ‘ডানা’ মেলে আর দুই ক্যামেরার ‘চোখ’ ব্যবহার করে মঙ্গলপৃষ্ঠে পাখির ভঙ্গিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে ঝুরং।

গত মে মাসে মঙ্গলে অবতরণ করে চীনের পাঠানো রোভারটি। এর মাধ্যমে মানুষের নির্মিত কোনো অনুসন্ধানী রোবট প্রথমবার সফলভাবে স্পর্শ করে লাল গ্রহটির পৃষ্ঠ।

মহাকাশে চীনের ‘সুপারপাওয়ার’ হওয়ার লক্ষ্যে বেইজিংয়ের মাইলফলক এটি।

চীনে আগুনের দেবতা হিসেবে পরিচিত পৌরাণিক চরিত্র ঝুরঙের নামে নামকরণ করা হয় রোভারটির।

মঙ্গলে অবতরণের পর থেকেই ‘উটোপিয়া প্ল্যানিশিয়া’ নামে পরিচিত বিস্তীর্ণ সমভূমির ‘টোপোগ্রাফি’ বা প্রাকৃতিক স্থানবিবরণী নিয়ে গবেষণা করছে ঝুরং। আগ্নেয়গিরির লাভায় গঠিত ওই অঞ্চলটি।

চায়না ন্যাশনাল স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (সিএনএসএ) প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, মঙ্গলের লাল মাটিতে চীনের লাল পতাকা শোভিত ঝুরঙের ঘুরে বেড়ানোর পথটি স্পষ্ট।

এই দাগকেই ‘চীনের ছাপ’ আখ্যা দিয়েছে বেইজিং।

সৌর শক্তিতে পরিচালিত ছয় চাকার ঝুরঙের ওজন ২৪০ কেজি। আপাতত ছবি তুলে, ভূতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ ও নমুনা হিসেবে পাথর সংগ্রহ করেই সময় কাটছে রোভারটির। এসব কাজ চলবে তিন মাস পর্যন্ত।

সিএনএসএ জানিয়েছে, পরিকল্পনামাফিকই কাজ করছে ঝুরং। মঙ্গলের বুকে এখনও বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে সেটি।

মহাকাশ জয়ের দৌড়ে এখন পর্যন্ত পৃথিবীর বাইরে মানুষ পাঠিয়েছে চীন, চাঁদে যান পাঠিয়েছে আর মঙ্গলে রোভার।

চীনের পর মঙ্গল ছুঁয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আর রাশিয়াও।

সবশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে মঙ্গল স্পর্শ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পাঠানো রোভার পারসিভারেন্স। মঙ্গলে এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে সেটি।

এর আগে মঙ্গলে রোভার সফলভাবে অবতরণ করাতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মঙ্গল জয়ের প্রথম ছবি প্রকাশ করল চীন
চীনের মঙ্গল জয়
মঙ্গলে উড়ছে নাসার হেলিকপ্টার

শেয়ার করুন

`বিস্ময়কর' ব্যাকটেরিয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ৭৭% হ্রাস

`বিস্ময়কর' ব্যাকটেরিয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ৭৭% হ্রাস

অ্যাডিস মশা নিয়ে গবেষণায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের হার ৭৭ শতাংশ কমে যায়। ছবি: বিশ্ব মশা কর্মসূচি

ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া ডেঙ্গু ভাইরাসের পুনরুৎপাদনের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে মানবদেহে অ্যাডিস মশা কামড়ানোর সময় ডেঙ্গু রোগের সংক্রমণ তুলনামূলক কম ঘটে।

ডেঙ্গু জ্বরের জন্য দায়ী অ্যাডিস মশা নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার এক শহরে গবেষণা করেছেন দেশটির একদল বিজ্ঞানী। গবেষণার একপর্যায়ে দেখা যায়, শহরটিতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের হার ৭৭ শতাংশ কমে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সম্প্রতি এমনটাই বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনটির বরাতে বৃহস্পতিবার বিবিসি জানিয়েছে, গবেষণায় ‘বিস্ময়কর’ ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত মশা ব্যবহার করা হয়। ওই ব্যাকটেরিয়া মশার ডেঙ্গু রোগ ছড়ানোর ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

ইন্দোনেশিয়ার ইয়োগিকার্তা শহরে বিজ্ঞানীরা ট্রায়ালটি পরিচালনা করেন। ডেঙ্গু ভাইরাস পুরোপুরি নির্মূলের সম্ভাবনায় ট্রায়ালটি আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।

বিশ্ব মশা কর্মসূচি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়ার বিজ্ঞানীদের গবেষণা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

৫০ বছর আগে অল্পসংখ্যক মানুষ ডেঙ্গু জ্বরের নাম শুনেছিল। এখন এটি মহামারির আকার ধারণ করেছে। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বিশ্বে ক্রমাগত বাড়ছে।

১৯৭০ সালে কেবল বিশ্বের নয়টি দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এখন প্রতিবছর ৪০ কোটি মানুষ এ জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে।

ডেঙ্গু জ্বর ‘ব্রেক-বোন ফিবার’ নামেই বেশি পরিচিত। কারণ এতে আক্রান্ত হলে পেশি ও হাড়ে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।

ইন্দোনেশিয়ার বিজ্ঞানীরা ট্রায়ালে ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত মশা ব্যবহার করেন। গবেষক দলের একজন ড. ক্যাটি অ্যান্ডার্স ওই মশাগুলোকে ‘প্রাকৃতিকভাবে বিস্ময়কর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া মশার কোনো ক্ষতি করে না। তবে মশার যেসব অঙ্গের মধ্য দিয়ে ডেঙ্গু ভাইরাস প্রবেশ করে, সেসব অঙ্গের বাইরে অবস্থায় নেয় এই ব্যাকটেরিয়া।

ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া ডেঙ্গু ভাইরাসের পুনরুৎপাদনের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে মানবদেহে অ্যাডিস মশা কামড়ানোর সময় ডেঙ্গু রোগের সংক্রমণ তুলনামূলক কম ঘটে।

ট্রায়ালে ৫০ লাখ মশার ডিম ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া দিয়ে সংক্রমিত করা হয়। প্রতি দুই সপ্তাহ পরপর ইন্দোনেশিয়ার ইয়োগিকার্তা শহরের ২৪টি এলাকায় কয়েক বালতি পানিতে ডিমগুলো রাখা হয়। ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ সংক্রমিত মশা জন্ম নেয়ার প্রক্রিয়া শেষ হতে নয় মাস সময় লাগে।

ট্রায়ালের ফলে দেখা যায়, শহরটিতে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের হার ৭৭ শতাংশ কমে যায়। ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত মশা প্রকৃতিতে ছাড়ার পর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি ৮৬ শতাংশ রোগীকে।

ড. অ্যান্ডার্স বিবিসিকে বলেন, ‘এটি খুবই রোমাঞ্চকর ঘটনা। সত্যি বলতে কী, এই ঘটনা আমাদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বড় বড় শহরে ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত মশার ডিম রাখলে আরও ভালো ফল পাওয়া যাবে বলে আমরা মনে করছি।’

আরও পড়ুন:
মঙ্গল জয়ের প্রথম ছবি প্রকাশ করল চীন
চীনের মঙ্গল জয়
মঙ্গলে উড়ছে নাসার হেলিকপ্টার

শেয়ার করুন

এই অণুজীবের আয়ু ২৪ হাজার বছর

এই অণুজীবের আয়ু ২৪ হাজার বছর

রেডিওকার্বন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ পাওয়া যায় এই ধরনের অণুজীবগুলো ২৪ হাজার বছর আগের। ছবি: সংগৃহীত

বয়স নির্ধারণে ব্যবহৃত রেডিওকার্বন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ পাওয়া যায় এই ধরনের অণুজীবগুলো ২৪ হাজার বছর আগের। সব বাধা পেরিয়ে তারা এখনও জীবিত এবং বংশবিস্তারে সক্ষম। সোমবারের এই গবেষণা প্রকাশের আগে বিশ্বাস করা হতো, এই রোটিফারগুলো হিমাঙ্কের নিচে সর্বোচ্চ ১০ বছর টিকে থাকতে পারে।

অতিক্ষুদ্রাকার ও বহুকোষী প্রাণী বিডেলয়েডসের দেহে জটিল শারীরিক গঠন থাকায় এরা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বিকিরণ সহনীয় অণুজীব।

এরা তীব্র মাত্রার অম্লতা, অনাহার, কম মাত্রার অক্সিজেন এবং অনেক বছর ধরে চলা পানি শূন্যতা সহ্য করে টিকে থাকতে পারে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞানী ম্যাথিউ ম্যাসেলসন বলেন, ‘এরা (বিডেলয়েডস) বিশ্বে যেকোনো ধরনের প্রতিকূলতার মধ্যেও বেঁচে থাকতে পারে। সহনশীলতার বিবেচনায় এরা বিশ্বের সব প্রাণীকে ছাড়িয়ে গেছে।’

কারেন্ট বায়োলজি নামের একটি জার্নালে গত সোমবার প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, কয়েক হাজার বছর ধরে হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রায় থাকার পরেও বিডেলয়েডস আবার জীবিত হয়ে উঠে।

সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

এরা হচ্ছে গুটি কয়েক টেনসি গোত্রের প্রাণী যা অবিশ্বাস্যরকমভাবে পুরোপুরি অপ্রতিকূল পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকার জন্য সুপরিচিত।

গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা উত্তর-পূর্ব সাইবেরিয়ায় পারমাফ্রস্টের (মাটির নিচে বরফের স্তর) মধ্যে প্রায় ১১ ফুট খনন করে এই জাতীয় শক্তিশালী অণুজীবগুলোর নমুনা সংগ্রহ করেন।

প্রাচীন এসব পারমাফ্রস্টের মধ্যে আবদ্ধ অবস্থায় ১৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় নিচে হাজার হাজার বছর ধরে টিকে রয়েছে এ ধরনের অণুজীব।

গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ওডস হোলে অবস্থিত মেরিন বায়োলজিকাল ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী ক্রিস্টিন গ্রিবল বলেন, ‘তীব্র ক্ষমতাসম্পন্ন এই সব অণুজীব (রোটিফার) চরম প্রতিকূল পরিবেশ সহ্য করে বেঁচে থাকার এটি আরও একটি উদাহরণ।’

বয়স নির্ধারণে ব্যবহৃত রেডিওকার্বন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ পাওয়া যায় এই ধরনের অণুজীবগুলো ২৪ হাজার বছর আগের। সব বাধা পেরিয়ে তারা এখনও জীবিত এবং বংশবিস্তারে সক্ষম।

সোমবারের এই গবেষণা প্রকাশের আগে বিশ্বাস করা হতো, এই রোটিফারগুলো হিমাঙ্কের নিচে সর্বোচ্চ ১০ বছর টিকে থাকতে পারে।

আমাদের চারপাশে শ্যাওলাযুক্ত আর্দ্র স্তূপ, বৃষ্টির পানি, পাখির স্নানের পানি এবং আর্কটিক ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চল এবং এর মধ্যবর্তী সব মিঠা পানিতেই রয়েছে বিডেলয়েড রোটিফার।

মাইক্রোস্কোপের আবিষ্কারের পর থেকেই এদের নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

১৭০২ সালে, অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহোয়েক তার বাড়ির ড্রেনের পানিতে বিডেলয়েড শনাক্ত করেন যাদের তিনি নাম দেন ‘ক্ষুদ্র গোলাকার অণুজীব।’

কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখনও ঠিক বুঝতে পারছেন না যে কীভাবে বিডেলয়েড রোটিফারগুলো তাদের কোষ এবং অঙ্গগুলো ভয়াবহ বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে সুরক্ষিত রাখতে পারে। এবং ভেঙে যাওয়া ডিএনএগুলো আবারও সারিয়ে তুলতে পারে।

নিজেদের টিকিয়ে রাখতে এই অণুজীবগুলোর জৈবিক কৌশলগুলোর ওপর আরও বেশি গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তাদের কোষ, টিস্যু ও অঙ্গ সুরক্ষার এই রহস্য উম্মোচিত হলে তবে মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীদের কোষ ও টিস্যু হাজার বছর টিকিয়ে রাখার যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন বিজ্ঞানীরা।

আরও পড়ুন:
মঙ্গল জয়ের প্রথম ছবি প্রকাশ করল চীন
চীনের মঙ্গল জয়
মঙ্গলে উড়ছে নাসার হেলিকপ্টার

শেয়ার করুন

বৃহত্তম ডাইনোসরের তালিকায় নতুন প্রজাতি

বৃহত্তম ডাইনোসরের তালিকায় নতুন প্রজাতি

বিজ্ঞানীদের কল্পনায় অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম ডাইনোসর অস্ট্রেলোটাইটান কোঅপারেন্সিস। ছবি: কুইন্সল্যান্ড মিউজিয়াম

বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন প্রজাতির ডাইনোসরটি অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে এযাবৎকালে আবিষ্কৃত বৃহত্তম ডাইনোসর। একই সঙ্গে সারা পৃথিবীতে এ পর্যন্ত যত ডাইনোসরের সন্ধান মিলেছে, সেগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ ১৫টি প্রজাতির একটি।

সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে পৃথিবীর বুক থেকে বিলুপ্ত ডাইনোসর নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণা নিয়মিতই নিচ্ছে নতুন মোড়। সবশেষ জানা গেল, অস্ট্রেলিয়ায় বিচরণ ছিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডাইনোসরের।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০০৭ সালে আবিষ্কৃত একটি ডাইনোসরের জীবাশ্মকে নতুন প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন প্রজাতির ডাইনোসরটি অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে এযাবৎকালে আবিষ্কৃত বৃহত্তম ডাইনোসর। একই সঙ্গে সারা পৃথিবীতে এ পর্যন্ত যত ডাইনোসরের সন্ধান মিলেছে, সেগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ ১৫টি প্রজাতির একটি।

এটির নাম দেয়া হয়েছে ‘অস্ট্রেলোটাইটান কোঅপারেন্সিস’ বা ‘দ্য সাদার্ন টাইটান’।

টাইটানোসর গোত্রীয় ডাইনোসরটি প্রায় একটি বাস্কেটবল কোর্টের সমান ছিল। এর উচ্চতা ছিল ২১ ফুট। এটি লম্বায় ছিল ৯৮ ফুটের বেশি।

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে দুই যুগ আগে সন্ধান মেলে ডাইনোসরের কঙ্কালটির।

এটির প্রজাতি এবং পরিচিত অন্যান্য প্রজাতির সঙ্গে এর পার্থক্য নির্ণয়ে গত এক দশক গবেষণা চালিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এ জন্য বিভিন্ন ডাইনোসরের হাড় স্ক্যানের মাধ্যমে তথ্য বিশ্লেষণ করতে হয়েছে তাদের।

অন্যতম প্রধান গবেষক ড. স্কট হকনাল বলেন, ‘কাছাকাছি তিন গোত্র উইনটোনোটাইটান, ডায়াম্যানটাইনোসরাস অ্যান্ড সাভানাসরাসের সমগোত্রীয় এটি। মনে হচ্ছে যেন অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম ডাইনোসরগুলো সবাই বড় একটি সুখী পরিবারের অংশ ছিল।’

প্রত্যন্ত অঞ্চলে কঙ্কালের সন্ধান, বিশাল আকৃতি আর ভঙ্গুর অবস্থার কারণে এটি নিয়ে গবেষণায় লেগেছে দীর্ঘ সময়।

যদিও ডাইনোসরটির দেহাবশেষের অনেকটাই অক্ষত ছিল বলে জানিয়েছেন কুইন্সল্যান্ড মিউজিয়াম ও ইরোমাঙ্গা ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের গবেষকরা।

বিশাল আকৃতির এই ডাইনোসরের মাথা ছিল ক্ষুদ্রাকার। গলা আর লেজ ছিল অনেক লম্বা। খাম্বার মতো মোটা পা ছিল। এই ডাইনোসর ছিল তৃণভোজী।

এর চারণকাল ছিল ৯ কোটি ২০ লাখ থেকে ৯ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে।

আরও পড়ুন:
মঙ্গল জয়ের প্রথম ছবি প্রকাশ করল চীন
চীনের মঙ্গল জয়
মঙ্গলে উড়ছে নাসার হেলিকপ্টার

শেয়ার করুন