৩২ বছরে থেমেছে যে ভূমিকম্প

প্রবালের জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে ভূমিকম্পের ব্যাপ্তি নির্ধারণ করেছেন গবেষকরা। ছবি: এএফপি

৩২ বছরে থেমেছে যে ভূমিকম্প

মূল আঘাতটি হানার আগে দ্বীপের নিচের একাধিক টেকটনিক প্লেটের কম্পন এবং একটির সঙ্গে অপরটির ঠোকাঠুকি চলেছে ৩২ বছর। কিন্তু সাগরের তলদেশে এই কম্পন ও ঠোকাঠুকি এতোই মৃদু ছিল যে টের পায়নি সুমাত্রাবাসী।

ইতিহাসের যে প্রলয়ঙ্কারী ভূমিকম্পের কথাই বলা হোক না কেন, স্থায়িত্ব ছিল বড়জোর কয়েক সেকেন্ড বা মিনিট। সেখানে একটি ভূমিকম্পই টানা ৩২ বছর ধরে চলেছে, এমনটা বেশ অবিশ্বাস্য।

কিন্তু বাস্তবেই এমনটা ঘটেছে ভূমিকম্পপ্রবণ ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে।

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নজিরবিহীন ওই ভূমিকম্পে ইন্দোনেশিয়া কেঁপেছিল ১৮৬১ সালে। ধারণা করা হচ্ছিল, ভূগর্ভের টেকটনিক প্লেটের কোনো চ্যুতি হঠাৎ বড় ধরনের ফাটলে রূপ নেয়ায় ভয়াবহ ওই কম্পন সৃষ্টি হয়।

নেচার সায়েন্সে প্রকাশিত মূল গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল আঘাতটি হানার আগে দ্বীপের নিচের একাধিক টেকটনিক প্লেটের কম্পন এবং একটির সঙ্গে অপরটির ঠোকাঠুকি চলেছে ৩২ বছর।

কিন্তু সাগরের তলদেশে এই কম্পন ও ঠোকাঠুকি এতোই মৃদু ছিল যে টের পায়নি সুমাত্রাবাসী।

সায়েন্টিফিক আমেরিকান ডটকমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১৬০ বছর আগে আঘাত হানা ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল কমপক্ষে ৮ দশমিক ৫। কম্পনের তীব্রতায় সৃষ্ট সুনামি, অর্থাৎ ভয়াবহ সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে প্রাণ যায় হাজার হাজার মানুষের।

দীর্ঘ কিন্তু নীরব কম্পনকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় ‘স্লো-স্লিপ ইভেন্ট’।

সাম্প্রতিক যত স্লো-স্লিপ ইভেন্ট শনাক্ত হয়েছে, সেগুলোর ব্যাপ্তি ছিল কয়েক ঘণ্টা, দিন বা সপ্তাহ। স্থায়িত্বে বছর ছাড়িয়েছে হাতেগোণা কয়েকটি কম্পন।

গবেষকরা বলছেন, ইতিহাসে দীর্ঘ যত ‘স্লো-স্লিপ ইভেন্ট’ শনাক্ত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে দীর্ঘতম এবং অপ্রত্যাশিত ব্যাপ্তির কম্পন ছিল তিন দশকের বেশি সময় স্থায়ী হওয়া সুমাত্রার ওই ভূমিকম্প।

সুমাত্রা উপকূলের প্রবালের জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে ভূমিকম্পটির ব্যাপ্তির বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন গবেষকরা।

সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিকাল ইউনিভার্সটির গবেষক ও গবেষণা প্রতিবেদনটির সহ-লেখক রিশাভ মল্লিক বলেন, প্রবাল কেবল পানির নিচেই বাঁচতে পারে, খোলা বাতাসে নয়। টেকটনিক প্লেটের নড়াচড়ায় সমুদ্রের উচ্চতায় পরিবর্তন আসলে সে পরিবর্তনের কারণে প্রবালের আকৃতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে।

২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্ট কম্পন ও সুনামিতে প্রাণ যায় কয়েকটি দেশের উপকূলের সোয়া দুই লাখ মানুষের।

গবেষকরা জানান, এর কয়েক বছর আগেই আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের তলদেশে স্লো-স্লিপ চলছিল।

এসব গবেষণা ভূতাত্ত্বিকদের বিপজ্জনক ভূমিকম্প আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণে সাহায্য করতে পারে।

তবে প্রতিটি স্লো-স্লিপের ব্যাপ্তির পার্থক্য অনেক বলে এর মাধ্যমে আসন্ন বিপজ্জনক ভূমিকম্প শনাক্ত করা বা পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব নয়।

ভূমিকম্পপ্রবণ 'রিং অফ ফায়ার' অঞ্চলে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় প্রতি বছরই আঘাত হানে ছোট-বড় ভূমিকম্প।

আরও পড়ুন:
অসমে ভূমিকম্প: ভাঙল ঘর, ফাটল সড়ক
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া
দেশের উত্তরাঞ্চলে মৃদু ভূকম্পন
নিউজিল্যান্ডে এবার ৮.১ মাত্রার ভূমিকম্প

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মঙ্গলে চীনের ছাপ

মঙ্গলে চীনের ছাপ

মঙ্গলগ্রহের ইউটোপিয়া প্ল্যানিশিয়া অঞ্চলে চীনের পাঠানো রোভার ঝুরং। ছবি: এএফপি

চায়না ন্যাশনাল স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, মঙ্গলের লাল মাটিতে চীনের লাল পতাকা শোভিত ঝুরঙের ঘুরে বেড়ানোর পথটি স্পষ্ট। এই দাগকেই ‘চীনের ছাপ’ আখ্যা দিয়েছে বেইজিং।

পৃথিবীর নিকটতম প্রতিবেশি মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে চীনের চিহ্ন আঁকলো চীনা রোভার ‘ঝুরং’।

চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার শুক্রবার প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে এ দৃশ্য।

ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোলার প্যানেলের ‘ডানা’ মেলে আর দুই ক্যামেরার ‘চোখ’ ব্যবহার করে মঙ্গলপৃষ্ঠে পাখির ভঙ্গিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে ঝুরং।

গত মে মাসে মঙ্গলে অবতরণ করে চীনের পাঠানো রোভারটি। এর মাধ্যমে মানুষের নির্মিত কোনো অনুসন্ধানী রোবট প্রথমবার সফলভাবে স্পর্শ করে লাল গ্রহটির পৃষ্ঠ।

মহাকাশে চীনের ‘সুপারপাওয়ার’ হওয়ার লক্ষ্যে বেইজিংয়ের মাইলফলক এটি।

চীনে আগুনের দেবতা হিসেবে পরিচিত পৌরাণিক চরিত্র ঝুরঙের নামে নামকরণ করা হয় রোভারটির।

মঙ্গলে অবতরণের পর থেকেই ‘উটোপিয়া প্ল্যানিশিয়া’ নামে পরিচিত বিস্তীর্ণ সমভূমির ‘টোপোগ্রাফি’ বা প্রাকৃতিক স্থানবিবরণী নিয়ে গবেষণা করছে ঝুরং। আগ্নেয়গিরির লাভায় গঠিত ওই অঞ্চলটি।

চায়না ন্যাশনাল স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (সিএনএসএ) প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, মঙ্গলের লাল মাটিতে চীনের লাল পতাকা শোভিত ঝুরঙের ঘুরে বেড়ানোর পথটি স্পষ্ট।

এই দাগকেই ‘চীনের ছাপ’ আখ্যা দিয়েছে বেইজিং।

সৌর শক্তিতে পরিচালিত ছয় চাকার ঝুরঙের ওজন ২৪০ কেজি। আপাতত ছবি তুলে, ভূতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ ও নমুনা হিসেবে পাথর সংগ্রহ করেই সময় কাটছে রোভারটির। এসব কাজ চলবে তিন মাস পর্যন্ত।

সিএনএসএ জানিয়েছে, পরিকল্পনামাফিকই কাজ করছে ঝুরং। মঙ্গলের বুকে এখনও বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে সেটি।

মহাকাশ জয়ের দৌড়ে এখন পর্যন্ত পৃথিবীর বাইরে মানুষ পাঠিয়েছে চীন, চাঁদে যান পাঠিয়েছে আর মঙ্গলে রোভার।

চীনের পর মঙ্গল ছুঁয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আর রাশিয়াও।

সবশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে মঙ্গল স্পর্শ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পাঠানো রোভার পারসিভারেন্স। মঙ্গলে এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে সেটি।

এর আগে মঙ্গলে রোভার সফলভাবে অবতরণ করাতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

আরও পড়ুন:
অসমে ভূমিকম্প: ভাঙল ঘর, ফাটল সড়ক
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া
দেশের উত্তরাঞ্চলে মৃদু ভূকম্পন
নিউজিল্যান্ডে এবার ৮.১ মাত্রার ভূমিকম্প

শেয়ার করুন

`বিস্ময়কর' ব্যাকটেরিয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ৭৭% হ্রাস

`বিস্ময়কর' ব্যাকটেরিয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ৭৭% হ্রাস

অ্যাডিস মশা নিয়ে গবেষণায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের হার ৭৭ শতাংশ কমে যায়। ছবি: বিশ্ব মশা কর্মসূচি

ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া ডেঙ্গু ভাইরাসের পুনরুৎপাদনের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে মানবদেহে অ্যাডিস মশা কামড়ানোর সময় ডেঙ্গু রোগের সংক্রমণ তুলনামূলক কম ঘটে।

ডেঙ্গু জ্বরের জন্য দায়ী অ্যাডিস মশা নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার এক শহরে গবেষণা করেছেন দেশটির একদল বিজ্ঞানী। গবেষণার একপর্যায়ে দেখা যায়, শহরটিতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের হার ৭৭ শতাংশ কমে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সম্প্রতি এমনটাই বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনটির বরাতে বৃহস্পতিবার বিবিসি জানিয়েছে, গবেষণায় ‘বিস্ময়কর’ ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত মশা ব্যবহার করা হয়। ওই ব্যাকটেরিয়া মশার ডেঙ্গু রোগ ছড়ানোর ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

ইন্দোনেশিয়ার ইয়োগিকার্তা শহরে বিজ্ঞানীরা ট্রায়ালটি পরিচালনা করেন। ডেঙ্গু ভাইরাস পুরোপুরি নির্মূলের সম্ভাবনায় ট্রায়ালটি আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।

বিশ্ব মশা কর্মসূচি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়ার বিজ্ঞানীদের গবেষণা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

৫০ বছর আগে অল্পসংখ্যক মানুষ ডেঙ্গু জ্বরের নাম শুনেছিল। এখন এটি মহামারির আকার ধারণ করেছে। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বিশ্বে ক্রমাগত বাড়ছে।

১৯৭০ সালে কেবল বিশ্বের নয়টি দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এখন প্রতিবছর ৪০ কোটি মানুষ এ জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে।

ডেঙ্গু জ্বর ‘ব্রেক-বোন ফিবার’ নামেই বেশি পরিচিত। কারণ এতে আক্রান্ত হলে পেশি ও হাড়ে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।

ইন্দোনেশিয়ার বিজ্ঞানীরা ট্রায়ালে ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত মশা ব্যবহার করেন। গবেষক দলের একজন ড. ক্যাটি অ্যান্ডার্স ওই মশাগুলোকে ‘প্রাকৃতিকভাবে বিস্ময়কর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া মশার কোনো ক্ষতি করে না। তবে মশার যেসব অঙ্গের মধ্য দিয়ে ডেঙ্গু ভাইরাস প্রবেশ করে, সেসব অঙ্গের বাইরে অবস্থায় নেয় এই ব্যাকটেরিয়া।

ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া ডেঙ্গু ভাইরাসের পুনরুৎপাদনের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে মানবদেহে অ্যাডিস মশা কামড়ানোর সময় ডেঙ্গু রোগের সংক্রমণ তুলনামূলক কম ঘটে।

ট্রায়ালে ৫০ লাখ মশার ডিম ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া দিয়ে সংক্রমিত করা হয়। প্রতি দুই সপ্তাহ পরপর ইন্দোনেশিয়ার ইয়োগিকার্তা শহরের ২৪টি এলাকায় কয়েক বালতি পানিতে ডিমগুলো রাখা হয়। ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ সংক্রমিত মশা জন্ম নেয়ার প্রক্রিয়া শেষ হতে নয় মাস সময় লাগে।

ট্রায়ালের ফলে দেখা যায়, শহরটিতে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের হার ৭৭ শতাংশ কমে যায়। ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত মশা প্রকৃতিতে ছাড়ার পর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি ৮৬ শতাংশ রোগীকে।

ড. অ্যান্ডার্স বিবিসিকে বলেন, ‘এটি খুবই রোমাঞ্চকর ঘটনা। সত্যি বলতে কী, এই ঘটনা আমাদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বড় বড় শহরে ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত মশার ডিম রাখলে আরও ভালো ফল পাওয়া যাবে বলে আমরা মনে করছি।’

আরও পড়ুন:
অসমে ভূমিকম্প: ভাঙল ঘর, ফাটল সড়ক
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া
দেশের উত্তরাঞ্চলে মৃদু ভূকম্পন
নিউজিল্যান্ডে এবার ৮.১ মাত্রার ভূমিকম্প

শেয়ার করুন

এই অণুজীবের আয়ু ২৪ হাজার বছর

এই অণুজীবের আয়ু ২৪ হাজার বছর

রেডিওকার্বন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ পাওয়া যায় এই ধরনের অণুজীবগুলো ২৪ হাজার বছর আগের। ছবি: সংগৃহীত

বয়স নির্ধারণে ব্যবহৃত রেডিওকার্বন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ পাওয়া যায় এই ধরনের অণুজীবগুলো ২৪ হাজার বছর আগের। সব বাধা পেরিয়ে তারা এখনও জীবিত এবং বংশবিস্তারে সক্ষম। সোমবারের এই গবেষণা প্রকাশের আগে বিশ্বাস করা হতো, এই রোটিফারগুলো হিমাঙ্কের নিচে সর্বোচ্চ ১০ বছর টিকে থাকতে পারে।

অতিক্ষুদ্রাকার ও বহুকোষী প্রাণী বিডেলয়েডসের দেহে জটিল শারীরিক গঠন থাকায় এরা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বিকিরণ সহনীয় অণুজীব।

এরা তীব্র মাত্রার অম্লতা, অনাহার, কম মাত্রার অক্সিজেন এবং অনেক বছর ধরে চলা পানি শূন্যতা সহ্য করে টিকে থাকতে পারে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞানী ম্যাথিউ ম্যাসেলসন বলেন, ‘এরা (বিডেলয়েডস) বিশ্বে যেকোনো ধরনের প্রতিকূলতার মধ্যেও বেঁচে থাকতে পারে। সহনশীলতার বিবেচনায় এরা বিশ্বের সব প্রাণীকে ছাড়িয়ে গেছে।’

কারেন্ট বায়োলজি নামের একটি জার্নালে গত সোমবার প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, কয়েক হাজার বছর ধরে হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রায় থাকার পরেও বিডেলয়েডস আবার জীবিত হয়ে উঠে।

সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

এরা হচ্ছে গুটি কয়েক টেনসি গোত্রের প্রাণী যা অবিশ্বাস্যরকমভাবে পুরোপুরি অপ্রতিকূল পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকার জন্য সুপরিচিত।

গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা উত্তর-পূর্ব সাইবেরিয়ায় পারমাফ্রস্টের (মাটির নিচে বরফের স্তর) মধ্যে প্রায় ১১ ফুট খনন করে এই জাতীয় শক্তিশালী অণুজীবগুলোর নমুনা সংগ্রহ করেন।

প্রাচীন এসব পারমাফ্রস্টের মধ্যে আবদ্ধ অবস্থায় ১৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় নিচে হাজার হাজার বছর ধরে টিকে রয়েছে এ ধরনের অণুজীব।

গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ওডস হোলে অবস্থিত মেরিন বায়োলজিকাল ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী ক্রিস্টিন গ্রিবল বলেন, ‘তীব্র ক্ষমতাসম্পন্ন এই সব অণুজীব (রোটিফার) চরম প্রতিকূল পরিবেশ সহ্য করে বেঁচে থাকার এটি আরও একটি উদাহরণ।’

বয়স নির্ধারণে ব্যবহৃত রেডিওকার্বন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ পাওয়া যায় এই ধরনের অণুজীবগুলো ২৪ হাজার বছর আগের। সব বাধা পেরিয়ে তারা এখনও জীবিত এবং বংশবিস্তারে সক্ষম।

সোমবারের এই গবেষণা প্রকাশের আগে বিশ্বাস করা হতো, এই রোটিফারগুলো হিমাঙ্কের নিচে সর্বোচ্চ ১০ বছর টিকে থাকতে পারে।

আমাদের চারপাশে শ্যাওলাযুক্ত আর্দ্র স্তূপ, বৃষ্টির পানি, পাখির স্নানের পানি এবং আর্কটিক ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চল এবং এর মধ্যবর্তী সব মিঠা পানিতেই রয়েছে বিডেলয়েড রোটিফার।

মাইক্রোস্কোপের আবিষ্কারের পর থেকেই এদের নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

১৭০২ সালে, অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহোয়েক তার বাড়ির ড্রেনের পানিতে বিডেলয়েড শনাক্ত করেন যাদের তিনি নাম দেন ‘ক্ষুদ্র গোলাকার অণুজীব।’

কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখনও ঠিক বুঝতে পারছেন না যে কীভাবে বিডেলয়েড রোটিফারগুলো তাদের কোষ এবং অঙ্গগুলো ভয়াবহ বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে সুরক্ষিত রাখতে পারে। এবং ভেঙে যাওয়া ডিএনএগুলো আবারও সারিয়ে তুলতে পারে।

নিজেদের টিকিয়ে রাখতে এই অণুজীবগুলোর জৈবিক কৌশলগুলোর ওপর আরও বেশি গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তাদের কোষ, টিস্যু ও অঙ্গ সুরক্ষার এই রহস্য উম্মোচিত হলে তবে মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীদের কোষ ও টিস্যু হাজার বছর টিকিয়ে রাখার যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন বিজ্ঞানীরা।

আরও পড়ুন:
অসমে ভূমিকম্প: ভাঙল ঘর, ফাটল সড়ক
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া
দেশের উত্তরাঞ্চলে মৃদু ভূকম্পন
নিউজিল্যান্ডে এবার ৮.১ মাত্রার ভূমিকম্প

শেয়ার করুন

বৃহত্তম ডাইনোসরের তালিকায় নতুন প্রজাতি

বৃহত্তম ডাইনোসরের তালিকায় নতুন প্রজাতি

বিজ্ঞানীদের কল্পনায় অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম ডাইনোসর অস্ট্রেলোটাইটান কোঅপারেন্সিস। ছবি: কুইন্সল্যান্ড মিউজিয়াম

বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন প্রজাতির ডাইনোসরটি অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে এযাবৎকালে আবিষ্কৃত বৃহত্তম ডাইনোসর। একই সঙ্গে সারা পৃথিবীতে এ পর্যন্ত যত ডাইনোসরের সন্ধান মিলেছে, সেগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ ১৫টি প্রজাতির একটি।

সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে পৃথিবীর বুক থেকে বিলুপ্ত ডাইনোসর নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণা নিয়মিতই নিচ্ছে নতুন মোড়। সবশেষ জানা গেল, অস্ট্রেলিয়ায় বিচরণ ছিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডাইনোসরের।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০০৭ সালে আবিষ্কৃত একটি ডাইনোসরের জীবাশ্মকে নতুন প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন প্রজাতির ডাইনোসরটি অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে এযাবৎকালে আবিষ্কৃত বৃহত্তম ডাইনোসর। একই সঙ্গে সারা পৃথিবীতে এ পর্যন্ত যত ডাইনোসরের সন্ধান মিলেছে, সেগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ ১৫টি প্রজাতির একটি।

এটির নাম দেয়া হয়েছে ‘অস্ট্রেলোটাইটান কোঅপারেন্সিস’ বা ‘দ্য সাদার্ন টাইটান’।

টাইটানোসর গোত্রীয় ডাইনোসরটি প্রায় একটি বাস্কেটবল কোর্টের সমান ছিল। এর উচ্চতা ছিল ২১ ফুট। এটি লম্বায় ছিল ৯৮ ফুটের বেশি।

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে দুই যুগ আগে সন্ধান মেলে ডাইনোসরের কঙ্কালটির।

এটির প্রজাতি এবং পরিচিত অন্যান্য প্রজাতির সঙ্গে এর পার্থক্য নির্ণয়ে গত এক দশক গবেষণা চালিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এ জন্য বিভিন্ন ডাইনোসরের হাড় স্ক্যানের মাধ্যমে তথ্য বিশ্লেষণ করতে হয়েছে তাদের।

অন্যতম প্রধান গবেষক ড. স্কট হকনাল বলেন, ‘কাছাকাছি তিন গোত্র উইনটোনোটাইটান, ডায়াম্যানটাইনোসরাস অ্যান্ড সাভানাসরাসের সমগোত্রীয় এটি। মনে হচ্ছে যেন অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম ডাইনোসরগুলো সবাই বড় একটি সুখী পরিবারের অংশ ছিল।’

প্রত্যন্ত অঞ্চলে কঙ্কালের সন্ধান, বিশাল আকৃতি আর ভঙ্গুর অবস্থার কারণে এটি নিয়ে গবেষণায় লেগেছে দীর্ঘ সময়।

যদিও ডাইনোসরটির দেহাবশেষের অনেকটাই অক্ষত ছিল বলে জানিয়েছেন কুইন্সল্যান্ড মিউজিয়াম ও ইরোমাঙ্গা ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের গবেষকরা।

বিশাল আকৃতির এই ডাইনোসরের মাথা ছিল ক্ষুদ্রাকার। গলা আর লেজ ছিল অনেক লম্বা। খাম্বার মতো মোটা পা ছিল। এই ডাইনোসর ছিল তৃণভোজী।

এর চারণকাল ছিল ৯ কোটি ২০ লাখ থেকে ৯ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে।

আরও পড়ুন:
অসমে ভূমিকম্প: ভাঙল ঘর, ফাটল সড়ক
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া
দেশের উত্তরাঞ্চলে মৃদু ভূকম্পন
নিউজিল্যান্ডে এবার ৮.১ মাত্রার ভূমিকম্প

শেয়ার করুন

শিশুর ভয়ভীতির নিয়ন্ত্রক ব্যাকটেরিয়া!

শিশুর ভয়ভীতির নিয়ন্ত্রক ব্যাকটেরিয়া!

পাকস্থলীর ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে পারে শিশুর ভয়ের অনুভূতি। ছবি: ইউনিসেফ

গবেষক দলের সদস্য রেবেকা নিকমায়ার বলেন, ‘শিশুদের বিকাশে ভয় একটি স্বাভাবিক বিষয়। নানা বিপদ সম্পর্কে সচেতন হতে এটির দরকার রয়েছে। কিন্তু নিরাপদ থাকার সময়েও তারা যদি ভয় পায়, তাহলে পরবর্তী জীবনে এর থেকে উদ্বিগ্নতা ও বিষণ্ণতার মতো অসুখ তৈরি হতে পারে।’

মানুষ অনেক কারণেই ভয় পেতে পারে। কেউ বেশি ভয় পায়, কেউ কম ভয় পায়।

তবে শিশুদের ক্ষেত্রে ভয়ের এই মাত্রা কেমন হবে তার সঙ্গে পাকস্থলীতে থাকা এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির একদল বিজ্ঞানী।

বিজ্ঞান বিষয়ক ওয়েবসাইট সায়েন্স অ্যালার্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আমাদের শরীরের ভেতরে থাকা ক্ষুদ্র জীবাণুগুলো যেভাবে আমাদের অস্তিত্বকে প্রভাবিত করে সেটি বেশ অবাক করার মতোই।

আমাদের শৈশবে পাকস্থলিতে থাকা অণুজীবরা আমাদের পরবর্তী জীবনের অনেক কিছুই নির্ধারণ করতে পারে।

মিশিগান ইউনিভার্সিটির ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব শিশুদের পাকস্থলিতে অণুজীবের ভারসাম্য কম, তারা পাকস্থলীতে অণুজীবের ভারসাম্য থাকা শিশুদের তুলনায় অল্পতেই বেশি ভয় পেয়েছে।

গবেষণায় এক বছর বয়সী ৩০ শিশু অংশ নিয়েছিল। গবেষকরা তাদের ভয় দেখাতে হ্যালোইন মুখোশ পরে হাজির হয়েছিলেন। তবে পুরো গবেষণাটিই এমনভাবে পরিচালিত হয়েছিল যাতে শিশুরা খুব বেশি ভয় না পায়। এসময় তাদের অভিভাবকরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

গবেষণায় অংশ নেয়া শিশুদের মল পরীক্ষা করে পাকস্থলীর অণুজীবের পরিমাণ বোঝার চেষ্টা করা হয়েছিল।

গবেষণায় দেখা যায়, পাকস্থলীতে ব্যাকটেরিওডস নামের অণুজীবের কম উপস্থিতি এবং ভেইল্লোনেল্লা, ডায়ালিস্টার, বিফিডোব্যাকটেরিয়াম, ল্যাকটোবেসিলাসক্লস্ট্রিডায়ালস নামের অণুজীবের আধিক্য বেশি ভয় পাওয়ার পেছনে দায়ী।

গবেষক দলের সদস্য রেবেকা নিকমায়ার বলেন, ‘শিশুদের বিকাশে ভয় একটি স্বাভাবিক বিষয়। নানা বিপদ সম্পর্কে সচেতন হতে এটির দরকার রয়েছে। কিন্তু নিরাপদ থাকার সময়েও তারা যদি ভয় পায়, তাহলে পরবর্তী জীবনে এর থেকে উদ্বিগ্নতা ও বিষণ্ণতার মতো অসুখ তৈরি হতে পারে।’

গবেষকরা বলছেন, পাকস্থলীতে অণুজীবের তারতম্য কেন ভয়ের মাত্রার ওপরেও প্রভাব ফেলে সেটি নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন:
অসমে ভূমিকম্প: ভাঙল ঘর, ফাটল সড়ক
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া
দেশের উত্তরাঞ্চলে মৃদু ভূকম্পন
নিউজিল্যান্ডে এবার ৮.১ মাত্রার ভূমিকম্প

শেয়ার করুন

২০০ কোটি বছরের পুরোনো পানি কানাডায়

২০০ কোটি বছরের পুরোনো পানি কানাডায়

কানাডার অন্টারিওতে ভূপৃষ্ঠের গভীরে ২০০ কোটি বছরের পুরোনো পানি। ছবি: সংগৃহীত

প্রাচীন এই পানির সঙ্গে মিশে থাকা বিভিন্ন গ্যাস (যেমন: হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ও জেনন) বিশ্লেষণ করে এর বয়স বের করতে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

কানাডায় মিলেছে ২০০ কোটি বছরের পুরোনো পানি, যা পৃথিবীর প্রাচীনতম বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

সায়েন্স অ্যালার্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়, অন্টারিওর কিড মাইন খনিতে ভূপৃষ্ঠের প্রায় দুই মাইল গভীরে একটি প্রাচীন পুলে আবিষ্কৃত হয় এই পানি।

সর্বপ্রথম ২০১৩ সালে ওই এলাকায় বিশ্বের গভীরতম একটি ধাতব পদার্থের খনিতে যে পানির সন্ধান পান বিজ্ঞানীরা, সেটি ছিল ১৫০ কোটি বছরের পুরোনো। সেটি ছিল ভূপৃষ্ঠের দেড় মাইল গভীরে।

এর গভীরতা দেখে মাটি আরও খুঁড়ে যেতে উৎসাহ পান বিজ্ঞানীরা। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে বেরিয়ে আসে এর চেয়েও পুরোনো পানির খোঁজ।

সে সময় টরন্টো ইউনিভার্সিটির জিওকেমিস্ট বারবারা শেরউড লোলার বিবিসিকে বলেছিলেন, ‘২০১৩ সালের আবিষ্কারের পর বহমান পানির প্রবাহ কত পুরোনো হতে পারে, সে বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হয় আমাদের। তাই গবেষণা চালিয়ে যাই আমরা। খনিটি অনেক গভীর বলে সেটির সঙ্গে সঙ্গে আমরাও ভূপৃষ্ঠের গভীর থেকে গভীরতম অংশে পৌঁছাতে পেরেছি।’

২০১৬ সালে আবিষ্কৃত প্রাচীন পানির দ্বিতীয় উৎসটি ছিল বিজ্ঞানীদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি।

শেরউড লোলার বলেন, ‘যখন কেউ শোনে এই পানির কথা, তারা ভাবে পাথরে আটকে থাকা সামান্য একটু পানি হয়তো আমরা খুঁজে পেয়েছি। কিন্তু আসলে যে পরিমাণ পানির সন্ধান পেয়েছি, তা অনেক। প্রতি মিনিটে এর গতিবেগ এক লিটার।’

ভূগর্ভস্থ পানির স্রোত সাধারণত ভূপৃষ্ঠের বহমান পানির স্রোতের তুলনায় অনেক ধীরগতির হয়ে থাকে। বছরে ভূগর্ভস্থ পানির গতিবেগ এক মিটার পর্যন্ত হতে পারে।

কিন্তু খননের পর ভূগর্ভস্থ পানির স্রোতের গতিবেগ প্রতি মিনিটে দুই লিটার।

প্রাচীন এই পানির সঙ্গে মিশে থাকা বিভিন্ন গ্যাস (যেমন: হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ও জেনন) বিশ্লেষণ করে এর বয়স বের করতে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

এ নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশ হয় ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ফ্রান্সিসকোতে আমেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়নের নিয়মিত বৈঠকে।

এর আগে অক্টোবরের গবেষণায় জানা যায়, ভূপৃষ্ঠ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন এই পানি যে পরিবেশে উৎপন্ন হয়েছে, সেটি স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্র জন্ম দিতে সক্ষম। আর এই বাস্তুতন্ত্র টিকে থাকতে পারে কয়েক শ কোটি বছর।

অবশ্য এখনও সেখানে জীবন্ত কোনো প্রাণের সন্ধান পাননি বিজ্ঞানীরা। গবেষণার বাকি আরও অনেক।

বিজ্ঞানীদের আশা, আরও এমন কিছু প্রাচীন পানির উৎসের সন্ধান মিলতে পারে যা আরও বিশদ অনুসন্ধানে সাহায্য করবে তাদের।

আরও পড়ুন:
অসমে ভূমিকম্প: ভাঙল ঘর, ফাটল সড়ক
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া
দেশের উত্তরাঞ্চলে মৃদু ভূকম্পন
নিউজিল্যান্ডে এবার ৮.১ মাত্রার ভূমিকম্প

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে ‘ভিনগ্রহের প্রাণী রহস্যের’ সমাধান কতদূর

যুক্তরাষ্ট্রে ‘ভিনগ্রহের প্রাণী রহস্যের’ সমাধান কতদূর

ইউএফওকে যুদ্ধবিমান নিয়ে ধাওয়া করার একটি কাল্পনিক চিত্র। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, সামরিক পাইলটদের চোখে ধরা পড়া উড়ন্ত বস্তুগুলো আসলেই এলিয়েনদের তৈরি করা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মহাকাশযান কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ইউএপি টাস্কফোর্স।

যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে দেখা দেয়া ‘আনআইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্ট’ (ইউএফও) বা মানবজগতে অপরিচিত উড়ন্ত বস্তু আসলে কী ছিল, সে রহস্যের কিনারা হচ্ছে না।

ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সমাধান ছাড়াই এ বিষয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন চলতি মাসের শেষে জমা দেয়া হবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে।

সত্যিই ইউএফও দেখা গেছে বলে ধারণার কথা স্বীকার করেছেন গোয়েন্দারা। কিন্তু যেসব ইউএফও দেখা যাওয়ার কথা হচ্ছে, সেগুলো আসলেই ভিনজগতের প্রাণীদের মহাকাশযান কি না, সে প্রশ্নেরও উত্তর মেলেনি। এ প্রশ্নের কারণেই দীর্ঘ হলো এলিয়েনে বিশ্বাসীদের অপেক্ষা।

এই প্রতিবেদনটি জমা দিতে গত বছরের শেষ দিকে আনআইডেন্টিফায়েড এরিয়াল ফেনোমেনা (ইউএপি) টাস্কফোর্সকে নির্দেশ দিয়েছিল কংগ্রেস।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, সামরিক পাইলটদের চোখে ধরা পড়া উড়ন্ত বস্তুগুলো আসলেই এলিয়েনদের তৈরি করা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মহাকাশযান কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ইউএপি টাস্কফোর্স।

প্রতিবেদনে গত কয়েক বছরে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলোর প্রমাণ হিসেবে ধারণ করা ভিডিও আছে। কিন্তু এসব ঘটনার কোনো ব্যাখ্যা নেই।

এ অবস্থায় এলিয়েনের অস্তিত্বের নিশ্চিত প্রমাণ না মিললেও প্রতিবেদনে ভিনগ্রহে প্রাণীদের পৃথিবীতে আসার সম্ভাবনা উড়িয়েও দেয়া হয়নি।

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, গত ২০ বছরের প্রায় ১২০টি ঘটনা খতিয়ে দেখে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে গোপন সামরিক তৎপরতা বা সরকারি প্রযুক্তির কোনো সম্পর্ক নেই।

বিশ্বজুড়ে কয়েক দশক ধরে বহুল আলোচিত বিষয় এলিয়েনের অস্তিত্ব। এ নিয়ে জল্পনা যত বাড়ছে, ততই জটিল হচ্ছে এ রহস্য।

আধুনিক বিজ্ঞানের যুগেও বিষয়টির মীমাংসা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় এ নিয়ে নানা রকম ষড়যন্ত্র তত্ত্বও তৈরি হয়েছে।

সতর্ক পেন্টাগন

ইউএফও নিয়ে মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বৈমানিকদের চোখে বারবার ইউএফও দেখা দেয়া নিয়ে বিপুলসংখ্যক ভিডিওর ছড়াছড়ি রয়েছে অনলাইনে। এগুলো মানুষের কৌতূহল আরও বাড়িয়েছে।

অনেকে আবার বলেন, রাশিয়া-চীনের মতো দেশের অত্যাধুনিক সামরিক ও নজরদারিবিষয়ক প্রযুক্তির ফসল এগুলো।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘প্রচলিত সব ধারণাকেই গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি আমরা। আমাদের আকাশসীমা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কারণ এর সঙ্গে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও সম্পৃক্ত।’

দ্য টাইমস জানিয়েছে, মূল প্রতিবেদন জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। তবে প্রতিবেদনে কী সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন গোয়েন্দারা, সে বিষয়টি গোপন থাকবে।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, এলিয়েনের অস্তিত্বের প্রশ্নে সম্ভবত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেননি গোয়েন্দারা।

আরও পড়ুন:
অসমে ভূমিকম্প: ভাঙল ঘর, ফাটল সড়ক
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া
দেশের উত্তরাঞ্চলে মৃদু ভূকম্পন
নিউজিল্যান্ডে এবার ৮.১ মাত্রার ভূমিকম্প

শেয়ার করুন