কখন, কোথায় আঘাত হানতে পারে ইয়াস

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ থেকে সাইক্লোনে পরিণত হওয়া ইয়াসের অবস্থান। ছবি: ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর

কখন, কোথায় আঘাত হানতে পারে ইয়াস

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস বুধবার ভারতের ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। স্যাটেলাইট ও জিপিএস রিডিং অনুযায়ী এটি অতি প্রবল সাইক্লোনে পরিণত হয়ে বুধবার দুপুরের আগেই ওড়িশার ভদ্রক জেলায় আঘাত করতে পারে ঝড়ের চোখ।

পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপটি উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে সাইক্লোন ‘ইয়াস’-এ পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সোমবার সকালের বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে একই এলাকায় (১৬.৬০ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯.৫০ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে।

সোমবার সকাল ৬টায় ঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬০৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।



ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইয়াস-এর কারণে ভারতীয় উপকূল অঞ্চলে মঙ্গলবার বৃষ্টিপাত শুরু হবে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ার থেকে বর্তমানে এটি ৬০০ কিলোমিটার দূরে আছে।

কখন, কোথায় আঘাত হানতে পারে ইয়াস
সোমবার বেলা আড়াইটায় ইয়াস-এর অবস্থান। ছবি: উইন্ডিডটকম



আগামী ২৪ ঘণ্টায় প্রবল সাইক্লোনে পরিণত হয়ে এর গতিবেগ দাঁড়াবে ঘণ্টায় ১৫৫-১৬৫ কিলোমিটার। যা ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় এটি অতি প্রবল সাইক্লোনে পরিণত হবে।

কখন, কোথায় আঘাত হানতে পারে ইয়াস
মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় যেখানে থাকতে পারে ইয়াস। ছবি: উইন্ডিডটকম

পূর্বাভাস বলছে, বুধবার এটি ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ ও ওড়িশার পরদ্বীপের মাঝে উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানবে ঝড়টি। স্যাটেলাইট ও জিপিএস রিডিং অনুযায়ী অতি প্রবল সাইক্লোনের আকার ধারণ করার পর বুধবার বেলা ১১টার দিকে ওড়িশার ভদ্রক জেলায় আঘাত করতে পারে ঝড়ের কেন্দ্রস্থল বা চোখ।

কখন, কোথায় আঘাত হানতে পারে ইয়াস
বুধবার বেলা ১১টায় ওড়িশার ভদ্রক জেলায় আঘাত করতে পারে ইয়াস। ছবি: উইন্ডিডটকম

বুধবার ইয়াসের সম্ভাব্য গতিপথ

ওড়িশার উপকূলে ইয়াসের কেন্দ্রস্থল বা চোখ প্রবেশ করবে দুপুরের আগে। এর সম্ভাব্য গতিপথ:

সকাল ৮টা: অতি প্রবল সাইক্লোন হিসেবে অবস্থান থাকবে ওড়িশার ভদ্রক জেলার পূর্বে বঙ্গোপসাগরে।

বেলা ১১টা: ভদ্রক জেলার ধামরা এলাকায় অতি প্রবল সাইক্লোন হিসেবে আঘাত করবে ইয়াস-এর চোখ। এই চোখ বা ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৭৪ থেকে ৯২ কিলোমিটার।

বেলা ২টা: ওড়িশার বাসুদেবপুর জেলায় থাকবে সাইক্লোনের চোখ।

রাত ১১টা: ওড়িশার কপ্তিপদ এলাকা অতিক্রম করে ঝাড়খন্ডের দিকে এগোতে থাকবে।

রাত ১টা (২৭ মে): সাইক্লোন থেকে লঘুচাপে পরিণত হয়ে সরে যাবে আরও উত্তর-পশ্চিমে।

ঝড়ের এখনকার গতিপথ বলছে, উপকূলে আঘাতের সময় বাংলাদেশ থেকে অনেকটা দূরে থাকবে ইয়াস-এর চোখ।

কখন, কোথায় আঘাত হানতে পারে ইয়াস
ওড়িশার ভদ্রক জেলা থেকে সুন্দরবনের দূরত্ব। ছবি: গুগল ম্যাপস


এমনকি গুগল ম্যাপে দেখা যাচ্ছে, ঝড়ের মূল কেন্দ্র যেখানে আঘাত করবে, সেই ভদ্রকের দূরত্ব সুন্দরবন থেকেও প্রায় ৩০০ কিলোমিটার। তবে এর প্রভাবে বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস বয়ে যেতে পারে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলে।

ইয়াস আঘাত হানার দিন ঢাকার গড় তাপমাত্রা থাকবে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে ৮০ ভাগ। আর ৩৪ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে রাজধানীর ওপর দিয়ে।

আরও পড়ুন:
ইয়াস দিক বদলালে শুরু হবে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া
ইয়াস আরও শক্তিশালী, ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত
ঝড় আসছে, সতর্ক হোন: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ছবিতে স্ট্রবেরি মুন

ছবিতে স্ট্রবেরি মুন

বছরের শেষ সুপার মুন হিসেবে আকাশে এখন প্রভা ছড়াচ্ছে ‘স্ট্রবেরি মুন’। ঠিক এই মুহূর্তে দৃশ্যমান পূর্ণিমার চাঁদে অবশ্য গোলাপি ছাঁট নেই। তবে সাধারণ পূর্ণিমার চাঁদের চেয়ে তার পার্থক্য সুস্পষ্ট। এবারের নামটি এরই মধ্যে বিশেষ আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। এই নামটি এসেছে উত্তর আমেরিকার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে

জুনের এই পূর্ণিমার পর গ্রীষ্ম শুরু হয় উত্তর গোলার্ধে। ছোট হতে থাকে দিন, বাড়তে থাকে রাতের দৈর্ঘ্য। আগের কালে ডাকোটা, লাকোটাসহ কয়েকটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী এই পূর্ণিমার পর থেকেই স্ট্রবেরি সংগ্রহ শুরু করত। আর সে কারণেই এই পূর্ণিমার চাঁদের নাম ‘স্ট্রবেরি মুন’।

স্ট্রবেরির সঙ্গে মিলিয়ে আজ রাতের চাঁদের রং গোলাপি দেখতে চাইলে অবশ্য হতাশ হতে হবে। কারণ, আকাশে চাঁদের অবস্থান অনেকটা কাছে মনে হবে ঠিকই, তবে এর প্রভায় গোলাপি ছাঁট থাকার সম্ভাবনা একদম কম।

আরও পড়ুন: মুনের আলোয় ভাসবে রাত

সাইফুল ইসলামের ক্যামেরায় এই সুপার মুনের কয়েকটি ছবি:

ছবিতে স্ট্রবেরি মুন

ছবিতে স্ট্রবেরি মুন

ছবিতে স্ট্রবেরি মুন

ছবিতে স্ট্রবেরি মুন

আরও পড়ুন:
ইয়াস দিক বদলালে শুরু হবে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া
ইয়াস আরও শক্তিশালী, ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত
ঝড় আসছে, সতর্ক হোন: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

‘এলিয়েনের নজরদারি’, ২৯ গ্রহ চিহ্নিত

‘এলিয়েনের নজরদারি’, ২৯ গ্রহ চিহ্নিত

মহাকাশবিজ্ঞানীদের হিসাব বলছে, প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে বা বাসযোগ্য এই গ্রহগুলো থেকে পৃথিবীর কক্ষপথ দেখা সম্ভব। এমনকি মানুষের তারবিহীন যোগাযোগে অনুপ্রবেশ করাও সম্ভব।

এলিয়েন বা ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায় বিজ্ঞানীরা। তবে কোনো কোনো মহাকাশবিজ্ঞানী এলিয়েনের অস্তিত্ব ধরে নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তাদের একটি অংশ মনে করছেন, অনেকগুলো গ্রহ থেকে পৃথিবীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে পারে এলিয়েনরা। এমন ২৯টি গ্রহ চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা।

মহাকাশবিজ্ঞানীদের হিসাব বলছে, প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে বা বাসযোগ্য এই গ্রহগুলো থেকে পৃথিবীর কক্ষপথ দেখা সম্ভব। এমনকি মানুষের তারবিহীন যোগাযোগে অনুপ্রবেশ করাও সম্ভব।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়, পৃথিবীর ওপর নজরদারি সম্ভব, এমন কয়েকটি সৌরজগতের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করেছেন বিজ্ঞানীরা।

তারা ধরে নিয়েছেন, সেসব সৌরজগতে প্রাণের অস্তিত্ব আছে। এ ধারণাকে কেন্দ্র করে সৌরজগতগুলোর কক্ষপথে ঘুরতে থাকা বিশেষ কিছু গ্রহও চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচারে বুধবার প্রকাশ হয় মূল গবেষণা প্রতিবেদনটি

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সত্যিই এলিয়েন থাকলে অবস্থানগত সুবিধার কারণে গ্রহগুলো থেকে তারা পৃথিবীতে প্রাণের চিহ্ন শনাক্ত করতে পারে।

ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার গায়া ক্যাটালগ বিশ্লেষণ করেছেন নিউ ইয়র্কের কর্নেল ইউনিভার্সিটির কার্ল সাগান ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও মহাকাশবিজ্ঞানের অধ্যাপক লিসা কাল্টেনেগার এবং আমেরিকান মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রির জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. জ্যাকি ফাহের্টি।

তারা পৃথিবীর ৩২৬ আলোকবর্ষের মধ্যে অবস্থিত ২ হাজার ৩৪টি সৌরজগৎ চিহ্নিত করেছেন, যেগুলো থেকে পৃথিবীর অস্তিত্ব বোঝা সম্ভব।

চেনা সৌরজগতের বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে এমন ১ হাজার ৭১৫টি সৌরজগৎ আলাদাভাবে চিহ্নিত করেছেন তারা।

বিজ্ঞানীদের মতে, এলিয়েনের ধারণা বাস্তব হলে দেড় হাজারের বেশি সৌরজগতের কোনোটি থেকে হয়তো গত ৫ হাজার বছরের কোনো সময় পৃথিবীকে সূর্যের ধারেকাছে আবিষ্কার করেছে ভিনগ্রহের প্রাণীরা। আবার পৃথিবীর কক্ষপথ শনাক্ত সম্ভব এসব সৌরজগতের মধ্যে এমন ৪৬টি আছে, যেগুলোতে মানুষের অস্তিত্ব চিহ্নিত করার মতো পর্যাপ্ত গ্রহ আছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, গত প্রায় ১০০ বছর ধরে তথ্য আদান-প্রদানে রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেটসহ তারবিহীন যোগাযোগের অনেক পথ তৈরি করেছে মানুষ।

এই ৪৬ সৌরজগতের বিশেষ কিছু গ্রহ থেকে এলিয়েনদের পক্ষে মানুষের এই তারবিহীন যোগাযোগে সহজেই আড়ি পাতা সম্ভব।

গবেষকদের মতে, রস ১২৮, ট্র্যাপিস্টসহ এ ধরনের গ্রহের সংখ্যা ২৯টি।

লিসা কাল্টেনেগার বলেন, ‘গ্রহ আবিষ্কারের একটা উপায় হলো বিভিন্ন তারা থেকে পৃথিবীর দিকে আলো আসার কোনো পথ বন্ধ বলে বোঝা যাওয়া।’

শক্তিশালী অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পৃথিবীর সৌরজগতের বাইরে হাজার হাজার গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এগুলোর ৭০ শতাংশই আবিষ্কৃত হয়েছে এমন সময়, যখন সেসব গ্রহ নিজেদের সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় পৃথিবীতে আলো পৌঁছানোর পথে বাধা দিয়েছে।

মূলত এ রকম গ্রহগুলোর মধ্যে পৃথিবীকে সহজে লক্ষ্য করার মতো অবস্থানে কোনগুলো আছে, সেগুলো শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা।

আরও পড়ুন:
ইয়াস দিক বদলালে শুরু হবে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া
ইয়াস আরও শক্তিশালী, ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত
ঝড় আসছে, সতর্ক হোন: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

স্ট্রবেরি মুনের আলোয় ভাসবে রাত

স্ট্রবেরি মুনের আলোয় ভাসবে রাত

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের দিকে এই মহাজাগতিক দৃশ্যের প্রত্যক্ষদর্শী হবে বাংলাদেশের মানুষও। এ বছরে এটাই শেষ সুপার মুন। এই সুপার মুন একটি বিশেষ কারণে আলাদা। কারণ, আজ রাতের আকাশে উদিত হচ্ছে যে চাঁদ, তার নাম ‘স্ট্রবেরি মুন’।

পৃথিবী থেকে চাঁদের সর্বোচ্চ দূরত্ব ৪ লাখ ১০ হাজার কিলোমিটারের মতো। তবে ডিম্বাকার ঘূর্ণনপথের কারণে মাঝেমধ্যে পৃথিবীর অনেকটা কাছে চলে আসে চাঁদ।

পৃথিবীর সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে থাকা চাঁদের দূরত্ব যখন স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় ১২ শতাংশ কমে আসে, তখন চন্দ্রপ্রভা হয় আরও উজ্জ্বল। দূরত্বের হিসাবে চাঁদের অবস্থান পৃথিবী থেকে তখন ৩ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটারের আশপাশে। আর এই উজ্জ্বল, বড় আকারে দৃশ্যমান চাঁদেরই নাম সুপার মুন।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের দিকে এই মহাজাগতিক দৃশ্যের প্রত্যক্ষদর্শী হবে বাংলাদেশের মানুষও। এ বছরে এটাই শেষ সুপার মুন।

এই সুপার মুন একটি বিশেষ কারণে আলাদা। কারণ, আজ রাতের আকাশে উদিত হচ্ছে যে চাঁদ, তার নাম ‘স্ট্রবেরি মুন’।

এই নামটি এসেছে উত্তর আমেরিকার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে। জুনের এই পূর্ণিমার পর গ্রীষ্ম শুরু হয় উত্তর গোলার্ধে। ছোট হতে থাকে দিন, বাড়তে থাকে রাতের দৈর্ঘ্য। আগের কালে ডাকোটা, লাকোটাসহ কয়েকটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী এই পূর্ণিমার পর থেকেই স্ট্রবেরি সংগ্রহ শুরু করত। আর সে কারণেই এই পূর্ণিমার চাঁদের নাম ‘স্ট্রবেরি মুন’।

স্ট্রবেরির সঙ্গে মিলিয়ে আজ রাতের চাঁদের রং গোলাপি দেখতে চাইলে অবশ্য হতাশ হতে হবে। কারণ, আকাশে চাঁদের অবস্থান অনেকটা কাছে মনে হবে ঠিকই, তবে এর প্রভায় গোলাপি ছাঁট থাকার সম্ভাবনা একদম কম।

চাঁদের লালচে রূপ কখনও কখনও অবশ্য দেখা যায়, তবে তার কারণ একেবারেই আলাদা। চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদ যখন পুরোপুরি ঢেকে যায়, তখন সূর্যের আলোর লাল তরঙ্গ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্যে দিয়ে পৌঁছে যায় চাঁদে। এ কারণে পূর্ণ গ্রহণের সময়েও অনেক সময় চাঁদে দেখা যায় লাল আভা।

তবে আজ রাতে চাঁদে লাগছে না কোনো গ্রহণ, বরং পৃথিবীর কাছাকাছি এসে বাড়বে উজ্জ্বলতা। এই ঔজ্জ্বল্য সূর্যের কাছ থেকে ধার করা আলোয় হলেও, সেই আলো সরাসরি সূর্য থেকে পড়বে চাঁদের বুকে।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাধা না থাকায় চাঁদ থেকে প্রতিফলিত সূর্যের এই আলো নরম হয়েই ধরা দেবে মানুষের চোখে।

আরও পড়ুন:
ইয়াস দিক বদলালে শুরু হবে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া
ইয়াস আরও শক্তিশালী, ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত
ঝড় আসছে, সতর্ক হোন: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

আগুন লাগলে সতর্ক করবে ‘ব্লুবেরি’

আগুন লাগলে সতর্ক করবে ‘ব্লুবেরি’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী সঞ্জিত মণ্ডলের নেতৃত্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ১৩তম ব্যাচের জুয়েল দেবনাথ ও একই ব্যাচের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মিষ্টু পাল মিলে তৈরি করেছেন ব্লুবেরিকে।

আগুন লাগলে বা গ্যাস লাইন ফুটো হলেই সতর্ক করবে। যেকোনো কিছু জানতে চাইলে গড়গড় করে উত্তর বলে দেবে।

না কোনো মানুষ নয়, বরং মানবাকৃতির একটি রোবট এই কাজগুলো করবে। নীল রঙের রোবটটির নাম ব্লুবেরি। রোবটটিতে রাস্পবেরি পাই (ক্রেডিট কার্ড আকৃতির সিঙ্গেল বোর্ড কম্পিউটার) ব্যবহার করায় এর নামকরণ করা হয়েছে 'ব্লুবেরি'।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী তৈরি করেছেন এই রোবট। রোবটটি তৈরির জন্য তারা গঠন করেছেন ‘কোয়ান্টা রোবোটিক্স’ নামের একটি টিম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী সঞ্জিত মণ্ডলের নেতৃত্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ১৩তম ব্যাচের জুয়েল দেবনাথ ও একই ব্যাচের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মিষ্টু পাল মিলে তৈরি করেছেন ব্লুবেরিকে।

জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা অ্যাকাডেমির অর্থায়নে এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আবু মুসা আসারীর সহযোগিতায় প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে তিন মাসে রোবটটি তৈরি করেছেন তারা।

ব্লুবেরির নির্মাতা ওই তিন শিক্ষার্থীর দাবি, আরও উন্নত করা গেলে করোনার নমুনা সংগ্রহেও রোবটটিকে ব্যবহার করা যাবে।

এর আগে ২০১৯ সালে সঞ্জিত মণ্ডল, জুয়েল নাথসহ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী মিলে তৈরি করেছিলেন দেশের চতুর্থ মানবাকৃতির রোবট 'সিনা'। সে সময় মাত্র দুই মাসে প্রায় ৩৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ওই রোবটটি তৈরি করেন তারা।

তারা জানান, রোবটটিকে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক কিংবা বাচ্চাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়ার মাধ্যমে নতুন কিছু শেখানোর কাজেও ব্যবহার করা যাবে। দেশের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রোবট তৈরিতে আকৃষ্ট করার একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা এটি। ভবিষ্যতে রোবটটিকে আরও উন্নত করা সম্ভব, এটাকে চাইলে প্রায় প্রতিদিনই হালনাগাদ করা যাবে।

সঞ্জিত মণ্ডল বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে অনেক প্রজেক্ট করি ইলেকট্রনিকস প্রজেক্ট বা বিভিন্ন সায়েন্স প্রজেক্ট। অনেক কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ করেছি। সামনে আরও ভালো কিছু করার সুযোগ চাই, সবার সহযোগিতা ও আশীর্বাদ চাই।’

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল অ্যারোন্যাটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আয়োজিত ‘নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন সঞ্জিত মণ্ডল।

কোয়ান্টা রোবোটিক্সের আরেক সদস্য জুয়েল দেবনাথ বলেন, “গতবারের রোবট 'সিনা'র চেয়ে ব্লুবেরি অনেক আপডেটেড এবং এটিকে প্রতিনিয়ত আপডেট করা যাবে। এটা তৈরি করতে গিয়ে দিনরাতের পার্থক্য ভুলেই গিয়েছিলাম। এমনও আছে টানা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করেছি। কোডের মধ্যে এররের পর এররের সম্মুখীন হতে হতে অনেক ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম। কোডের কিছু কিছু গোপন এরর ধরতে ৪/৫ ঘণ্টা ল্যাপটপের সামনে বসে থেকেছি, তাও চেষ্টা করা বন্ধ করিনি। চেষ্টা করব পরে আরও ভালো কিছু করতে।”

কোয়ান্টা রোবোটিক্সের আরেক সদস্য মিষ্টু বলেন, ‘এই রোবট তৈরিটা ছিল আমার প্রথম কোনো প্রজেক্ট। যদিও আমি কম্পিটিটিভ প্রোগ্রামিংয়ের সঙ্গে আগে থেকেই জড়িত। কিন্তু এমন কোনো ছোট বা বড় প্রজেক্ট এর আগে করিনি। শুরু থেকেই অনেক ধরনের সমস্যার (কোডে এরর বা ডিভাইসে সমস্যা) মুখোমুখি হয়েছি। তবু থেমে থাকিনি। ইলেকট্রনিকসের সঙ্গে কোডিংয়ের সম্পর্ক যতটা দেখতে সুন্দর, কাজ করতে ততটাই কষ্ট। এই রোবটটিকে আমাদের আরও উন্নত করার সুযোগ আছে এবং আমরা সেটা নিয়ে কাজ করে যাব।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস মিয়া বলেন, ‘করোনার কারণে তাদের কাজটি আমরা অনুষ্ঠান করে জানান দিতে পারিনি। শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তাদের সফলতা কামনা করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রোবট তৈরির বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এমরান কবির চৌধুরী আনন্দ প্রকাশ করেন বলেন, ‘আমাদের কাছে বিষয়টি গৌরবের। এ ধরনের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করতে আমি সব সময় প্রস্তুত।’

আরও পড়ুন:
ইয়াস দিক বদলালে শুরু হবে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া
ইয়াস আরও শক্তিশালী, ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত
ঝড় আসছে, সতর্ক হোন: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

করোনার চিকিৎসায় আইভারমেকটিনের ট্রায়াল

করোনার চিকিৎসায় আইভারমেকটিনের ট্রায়াল

করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় আইভারমেকটিনের কার্যকারিতা নিয়ে পরীক্ষা করছেন গবেষকরা। ছবি: এএফপি

গবেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত অ্যাজিথ্রোমাইসিন ও ডক্সিসাইক্লিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর। ফলে এমন ক্ষেত্রে আইভারমেকটিনের ব্যবহার কিছুটা আশা দেখিয়েছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় জীবাণুবিরোধী ওষুধ আইভারমেকটিনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখছেন ব্রিটিশ গবেষকরা।

করোনার সম্ভাব্য ওষুধ হিসেবে আইভারমেকটিনের উপযোগিতা নিয়ে এ গবেষণার কথা বুধবার জানায় অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি।

যুক্তরাজ্যে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় হয়েছে এ গবেষণা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ছাড়াই করোনা রোগীদের সুস্থ করে তোলার পথ খুঁজতে ওষুধটি নিয়ে গবেষণা করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, আইভারমেকটিনের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে করোনাভাইরাসের বিস্তারের গতি কমানো সম্ভব হয়েছে।

ছোট একটি দলের ওপর পরীক্ষায় দেখা যায়, আক্রান্ত হওয়ার শুরুতেই এ ওষুধটি প্রয়োগ করা হলে মানবদেহে এটি ভাইরাস বাড়তে এবং মৃদু উপসর্গ বেশি দিন স্থায়ী হতে দেয় না।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পরিচালিত এ গবেষণার নাম দেয়া হয়েছে ‘প্রিন্সিপ্যাল’।

গবেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত অ্যাজিথ্রোমাইসিন ও ডক্সিসাইক্লিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর। ফলে এমন ক্ষেত্রে আইভারমেকটিনের ব্যবহার কিছুটা আশা দেখিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অনেক দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা করোনার চিকিৎসায় আইভারমেকটিন ব্যবহারের বিরোধী।

করোনায় আক্রান্তদের ওপর শুধু পরীক্ষামূলকভাবে ওষুধটি প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

তবে ভারত, কলম্বিয়াসহ অনেক দেশেই করোনায় আক্রান্তদের সুস্থ করে তুলতে ওষুধটি ব্যবহার করছেন চিকিৎসকরা।

ব্রিটিশ গবেষক দলের সহ-প্রধান ক্রিস বাটলার বলেন, ‘প্রিন্সিপ্যালের মতো বড় পরিসরের পরীক্ষায় আইভারমেকটিন অন্তুর্ভুক্ত করার মাধ্যমে করোনার চিকিৎসায় এটির কার্যকারিতা প্রমাণের চেষ্টা করেছি আমরা। একই সঙ্গে এটি ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধাও খতিয়ে দেখেছি।’

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লিভারের অসুখে ভুগছেন এবং রক্তের ঘনত্ব কমানো ওষুধ নিচ্ছেন এমন ব্যক্তিদের ওপর এ পরীক্ষা করা হয়নি। আইভারমেকটিনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অন্যান্য চিকিৎসা নেয়া ব্যক্তিদেরও এ পরীক্ষার বাইরে রাখা হয়েছে।

করোনার প্রাদুর্ভাবের দেড় বছর পার হলেও ভাইরাসটির নতুন ধরন থেকে রেহাই পেত সুনির্দিষ্ট ওষুধ উদ্ভাবন হয়নি।

করোনার চিকিৎসায় পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহৃত সপ্তম ওষুধ আইভারমেকটিন।

এর আগে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় রেমডেসিভির, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন, লোপিনাভির বা রিটোনাভির, কর্টিকোস্টেরয়েড, অ্যান্টিকোয়াগুলেন্টস, ফ্যাভিপিরেভির জরুরি ব্যবহারে অনুমোদন দেয় ডব্লিউএইচও।

বর্তমানে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ফ্যাভিপিরেভিরের সঙ্গে আইভারমেকটিনের কার্যকারিতা তুলনা করে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা।

আরও পড়ুন:
ইয়াস দিক বদলালে শুরু হবে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া
ইয়াস আরও শক্তিশালী, ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত
ঝড় আসছে, সতর্ক হোন: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

পোষাপ্রাণির অভাব মেটাবে তামাগোচি হাতঘড়ি

পোষাপ্রাণির অভাব মেটাবে তামাগোচি হাতঘড়ি

তামাগোচি স্মার্ট হাতে জাপানি গানের দল নিজিউর সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

তামাগোচি ডিভাইসটিতে পোষাপ্রাণিকে আদর করা, খাওয়ানো ও লালনপালনের অনুভূতি পান ব্যবহারকারীরা। এটিকে অনেকে ‘ডিজিটাল পেট’ নামেও অভিহিত করেন।

পোষাপ্রাণির বিকল্প হিসেবে নব্বইয়ের দশক থেকে তামাগোচি নামে একটি ডিভাইস ব্যবহার করছেন জাপানের অনেক মানুষ। এটি তৈরি করেছে ভিডিও গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বানদাই।

এবার সেই তামাগোচিকে হাতঘড়ির আকারে বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন এই ভার্সনটির নাম দেয়া হয়েছে তামাগোচি স্মার্ট।

সোমবার সংবাদমাধ্যম ভাইসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তামাগোচি ডিভাইসটিতে পোষাপ্রাণিকে আদর করা, খাওয়ানো ও লালনপালনের অনুভূতি পান ব্যবহারকারীরা। এটিকে অনেকে ‘ডিজিটাল পেট’ নামেও অভিহিত করেন।

১৯৯৬ সালের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো বাজারে আসে তামাগোচি। ডিভাইসটির প্রধান ক্রেতা ছিল জাপানের স্কুলগামী মেয়েরা। শিগগিরই এটি জাপানের বাইরেও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

বানদাইয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৮৩ মিলিয়ন তামাগোচি ডিভাইস বিক্রি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এবছর তামাগোচির রজতজয়ন্তীতে ডিভাইসটির প্রচারে যুক্ত হয়েছে জনপ্রিয় জাপানি ব্যান্ড নিজিউ।

তামাগোচির আগের ভার্সনটিতে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। ব্যবহারকারীর কাছে ঠিকমতো আদরযত্ন না পেলে বন্ধ হয়ে যেত ডিভাইসটি। নতুন ভার্সনে এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা হয়েছে।

তামাগোচি স্মার্ট উল্টো ব্যবহারকারীর মন খারাপের সময় পাশে থাকার চেষ্টা করবে। হাতঘড়ির আকারে হওয়ায় এটি যেকোনো জায়গায় সঙ্গে নিতে পারবেন ব্যবহারকারী। এছাড়া মোবাইল অ্যাপেও তামাগোচি ইন্সটল করে নিজের ডিজিটাল প্রাণিকে সঙ্গে রাখতে পারবেন।

২৩ নভেম্বর বাজারে আসতে যাওয়া তামাগোচি স্মার্টে দশটি ডিজিটাল পোষাপ্রাণির সঙ্গ পাওয়ার সুবিধা থাকবে। প্রতিটি ডিভাইসের দাম পড়বে ৫৭ দশমিক ৬৪ ডলার।

বানদাই জানিয়েছে, ডিভাইসটি শুরুতে জাপানের বাজারে পাওয়া গেলেও আন্তর্জাতিক বাজারে আসতে আরও সময় লাগতে পারে।

শিশুদের খেলনা হিসেবে নব্বইয়ের দশক থেকেই ডিজিটাল পেট জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে। প্রথমবারের মতো ম্যাজিকস ডগস নামে ডিজিটাল পেট আনে ভিডিও গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পিএফ। এরপরে তামাগোচি ও নাইনটেনডগস নামে আরও কয়েকটি ডিজিটাল পেট বাজারে আসে।

আরও পড়ুন:
ইয়াস দিক বদলালে শুরু হবে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া
ইয়াস আরও শক্তিশালী, ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত
ঝড় আসছে, সতর্ক হোন: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

আগের চেয়ে দ্রুত বিবর্তন ঘটছে মানুষের

আগের চেয়ে দ্রুত বিবর্তন ঘটছে মানুষের

ফাইল ছবি।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিককালের পৃথিবীতে মানুষের বিবর্তন শুধু জিনের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং জেনেটিক রূপান্তরের চেয়ে সংস্কৃতিই মানব বিবর্তনকে ত্বরান্বিত করছে। নতুন এই ধারণা অনুযায়ী, টিকে থাকার সুবিধার জন্য জেনেটিক রূপান্তর এখন আর জরুরি নয়।

হোম স্যাপিয়েন্সের উদ্ভবের পর থেকেই প্রাকৃতিক নির্বাচনের কারণে আমাদের পূর্বপুরুষেরা পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়েছেন। এর পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে জিনগত বিবর্তন। জেনেটিক এই রূপান্তরের কারণেই বর্তমান মানুষের আবির্ভাব।

তবে এক গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিককালের পৃথিবীতে মানুষের বিবর্তন শুধু জিনের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং জেনেটিক রূপান্তরের চেয়ে সংস্কৃতিই মানব বিবর্তনকে ত্বরান্বিত করছে।

নতুন এই ধারণা অনুযায়ী, টিকে থাকার সুবিধার জন্য জেনেটিক রূপান্তর এখন আর জরুরি নয়। বরং সংস্কৃতির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে গড়ে ওঠা অভ্যাসই ‘রূপান্তর’ এর মূল চালিকা শক্তি, যা মানুষকে টিকে থাকার সুবিধা দিচ্ছে।

এই ‘সাংস্কৃতিক বিবর্তন’ আগামীতেও মানবজাতির ভাগ্যকে আরও শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে বলে গবেষকদের ধারণা।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ মাইনের বায়োলজি অ্যান্ড ইকোলজি বিভাগের গবেষক জ্যাক উড বিজ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইট লাইভ সায়েন্সকে বলেন, ‘যখন কোনো প্রজাতিকে ভাইরাস আক্রমণ করে, সাধারণত সেটি জেনেটিক রূপান্তরের মাধ্যমে ওই ভাইরাস থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখে।’

এই ধরনের বিবর্তন ঘটে ধীরে। কারণ, যারা ভাইরাস আক্রমণের ক্ষেত্রে স্পর্শকাতর তারা মৃত্যুবরণ করে এবং যারা টিকে থাকে তারা আগ্রাসী ভাইরাস সংক্রান্ত জেনেটিক কোড পরের প্রজন্মে সঞ্চার করে।

তবে বর্তমানে এ ধরনের হুমকিতে জেনেটিকভাবে ভাবে খাপ খাইয়ে নেয়ার আর দরকার নেই। বরং এখন মানুষ এখন কোনো নির্দিষ্ট একজনের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বহু মানুষের সংগ্রহ করা সাংস্কৃতিক জ্ঞানের ‘রূপান্তরের’ ফলে আবিষ্কৃত টিকা ও অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম।

ইউনিভার্সিটি অফ মাইনের সোশ্যাল ইকোসিস্টেম মডেলিংয়ের সহযোগী অধ্যাপক টিম ওয়ারিং বলেন, “টিকা উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানব সংস্কৃতি তার সম্মিলিত ‘ইমিউন সিস্টেম’ উন্নত করছে”।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক বিবর্তনের ফলেও জিনগত বিবর্তন ঘটে। ওয়ারিং লাইভ সায়েন্সকে বলেন, ‘গরুর দুধ পান করা শুরুতে একটা সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য থাকলেও পরে তা এক দল মানুষের জেনেটিক বিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়।’

এ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে জেনেটিক পরিবর্তনের আগে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন হচ্ছে।

ওয়ারিং বলেন, সাংস্কৃতিক বিবর্তনের ধারণাটি শুরু হয়েছে বিবর্তনবাদের জনকের কাছ থেকেই। চার্লস ডারউইন বুঝতে পেরেছিলেন, মানুষের অভ্যাস বিবর্তিত হতে পারে এবং সেটি সন্তানের মধ্যে তার শারীরিক বৈশিষ্ট্যের মতোই হস্তান্তর করা সম্ভব। কিন্তু তার সময়ে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন, আচরণের পরিবর্তন উত্তরাধিকার সূত্রে পায় সন্তানেরা।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনও মায়ের যদি এমন প্রবণতা থাকে, যা তার মেয়েকে খাবার অন্বেষণ শেখাতে পারে; তাহলে তিনি সেটি তার মেয়েকে দিয়ে যাবেন। এতে তার মেয়ের টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়বে এবং এর ফলে, এই প্রবণতা আরও মানুষের মধ্যে আরও বেশি দেখা যাবে।

‘প্রসিডিংস অফ দ্য রয়্যাল সোসাইটি বি’ এর জার্নালে ২ জুন প্রকাশিত গবেষণায় ওয়ারিং ও উড দাবি করেন, মানব ইতিহাসের কোনো এক সময়ে সংস্কৃতি আমাদের ডিএনএর বিবর্তনকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। দুই গবেষক বলছেন, সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আমাদের এমনভাবে বিবর্তিত হতে সাহায্য করছে, যা শুধু জৈবিক পরিবর্তনের পক্ষে সম্ভব ছিল না।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তারা বরেন, সংস্কৃতি দল বা গ্রুপ নির্ভর। দলের সবাই একে অপরের সঙ্গে কথা বলেন, শেখেন ও অনুকরণ করেন। এই দলভিত্তিক আচরণ, সংস্কৃতি থেকে শেখা, খাপ খাইয়ে নেয়ার পদ্ধতি জিনগত ভাবে টিকে থাকার সুবিধার চেয়ে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

একজন ব্যক্তি অল্প সময়ে প্রায় সীমাহীন সংখ্যক লোকের কাছ থেকে দক্ষতা ও তথ্য গ্রহণ করতে পারেন এবং ঘুরেফিরে আরও অনেকের কাছে সেই তথ্য ছড়িয়ে দিতে সক্ষম। গবেষকেরা বলছেন মানুষ যত বেশি লোকের কাছ থেকে শিখতে পারছে তত ভাল। বড় দলগুলো ছোট দলের চেয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে ও আন্তঃদলীয় প্রতিযোগিতা অভিযোজন ক্ষমতাকে উদ্দীপ্ত করে, যা তাদের টিকে থাকতে সহায়তা করে।

নতুন ধারণা ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সংস্কৃতিতে নতুন বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটে।

বিপরীতভাবে, একজন ব্যক্তি বাবা-মায়ের কাছ থেকে কেবল জেনেটিক তথ্য উত্তরাধিকার সূত্রে পান এবং তাদের ডিম্বাণু বা শুক্রাণুতে তুলনামূলকভাবে মাত্র কয়েকটি এলোমেলো রূপান্তর রেকর্ড করেন। এগুলো তাদের সন্তানদের ছোট গ্রুপের মধ্যে সঞ্চারিত করতে প্রায় ২০ বছর সময় লাগে। এই পরিবর্তনের গতি অনেক ধীর।

গবেষণাটির বিষয়ে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার কগনিটিভ অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্সেসের সহযোগী অধ্যাপক পল স্মলডিনো বলেন,‘এই থিওরির জন্য অপেক্ষা ছিল দীর্ঘদিনের। বিবর্তনমূলক জীববিজ্ঞান সংস্কৃতির সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করে তা বর্ণনা করার জন্য অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।’

গবেষকদের মতে, মানব সংস্কৃতির উপস্থিতি বিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

লাইভ সায়েন্সকে স্মলডিনো বলেন, ‘তাদের (দুই গবেষক) বড় দাবি হচ্ছে, মানুষের পরবর্তী বিবর্তনভিত্তিক রূপান্তরের সেতুবন্ধনের জায়গায় রয়েছে সাংস্কৃতিক প্রভাব।’

প্রাণের উদ্ভব ও বিকাশের ক্ষেত্রে এ ধরনের সেতুবন্ধন বিবর্তনের গতিপ্রকৃতির ওপর বিরাট প্রভাব ফেলেছে। ডিএনএযুক্ত কোষের বিবর্তন ছিল এমন একটি বড় পর্যায়। এরপর ক্ষুদ্রাঙ্গ ও জটিল অভ্যন্তরীণ কাঠামোযুক্ত কোষের আবির্ভাব সবকিছুকে বদলে দেয়। প্রাণি ও উদ্ভিদকোষের আবির্ভাব ছিল আরেকটি বড় পরিবর্তন। লিঙ্গের উদ্ভব, ভূ-পৃষ্ঠে জীবনের শুরু- এর সবগুলোই একেকটি বড় মাইলফলক।

এই প্রতিটি ঘটনাই বিবর্তন যেভাবে কাজ করে তাতে বদল এনেছে। গবেষকেরা বলছেন, এখন মানুষ আরও একটি বিবর্তনীয় রূপান্তরের মধ্যে পড়েছে। এখনও জিনগত পরিবর্তন অব্যাহত থাকলেও তা মানুষের টিকে থাকার শর্তকে খুব বেশি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।

ওয়ারিং এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদে আমাদের প্রস্তাব এই যে, আমরা একক জেনেটিক জীব থেকে পিঁপড়ার বাসা বা মৌমাছির চাকের মতো সুপার অর্গানিজমে পরিণত হওয়া সাংস্কৃতিক গ্রুপে পরিণত হয়েছি।’

আরও পড়ুন:
ইয়াস দিক বদলালে শুরু হবে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া
ইয়াস আরও শক্তিশালী, ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত
ঝড় আসছে, সতর্ক হোন: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন