অনুভূতি ভাগাভাগি করে নেবে ওয়াইসা

অনুভূতি ভাগাভাগি করে নেবে ওয়াইসা

প্রতিষ্ঠাতা জো আগারওয়াল বলেন, ওয়াইসার কাজ মানসিক রোগ শনাক্ত করা নয়। বরং মানুষের মনের কথা জেনে মন ভালো করতে সহযোগিতা করবে অ্যাপটি। মূলত ঘুম ঠিক করতে, বিষণ্নতা কমাতে বা সম্পর্কবিষয়ক পরামর্শ পেতে এর দ্বারস্থ হন ব্যবহারকারীরা।

সুখ-দুঃখ, আনন্দ, রাগ-ক্ষোভসহ নানা বিচিত্র অনুভূতির মধ্য দিয়ে যান একেকজন মানুষ। অনেক সময় মনের আবেগ-অনুভূতি অন্য কারও সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেয়ার দরকার পড়ে। এ ক্ষেত্রে অনেকেই আবার পিছিয়ে যান নিরাপত্তাহীনতা বা বিশ্বাসের অভাব কিংবা নিজের অন্তর্মুখী স্বভাবসহ নানা কারণে। তাদের সমস্যার সমাধান হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবটের কথা বলছেন একদল প্রযুক্তিবিদ।

প্রযুক্তিবিষয়ক অনলাইন পোর্টাল টেকক্রাঞ্চের একটি প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পরিচালিত মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক অ্যাপ ওয়াইসা দেবে এ সুবিধা।

ওয়াইসার প্রধান নির্বাহী জো আগারওয়াল বলেন, ‘বেশ কিছু কারণে ব্যক্তির সঙ্গে অনুভূতি ভাগাভাগি করে নেয়া কঠিন একটি কাজ। রোবটের সঙ্গে কাজটি বেশ সহজ হবে বলেই মনে হয়। যে কোনো রোবট নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন অনুভূতিপ্রবণ রোবট এ কাজে মানুষকে সহযোগিতা করবে।’

আগারওয়ালের প্রতিষ্ঠান টাচকিন ইসার্ভিসেজের নকশায় তৈরি হয়েছে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা অ্যাপ ওয়াইসা। ভারতে ব্যাঙ্গালুরু, যুক্তরাষ্ট্রে বোস্টন আর যুক্তরাজ্যে লন্ডন থেকে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

ওয়াইসাকে ‘চ্যাটবট’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে টাচকিন ইসার্ভিসেস। বলছে, শব্দের ব্যবহার করে অথবা অ্যাপ ব্যবহারকারীকে ১৫০টি ভিন্ন থেরাপি থেকে একটি বেছে নেয়ার পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করবে ওয়াইসা।

আগারওয়ালের দ্বিতীয় অ্যাপ ওয়াইসা। এর আগে প্রবীণদের জন্য একটি অ্যাপ তৈরি করেছিলেন তিনি, যা বাজার ধরতে পারেনি। এতে হতাশ হয়ে পড়েন তিনি। তখনই তার মাথায় আসে ওয়াইসা তৈরির বুদ্ধি। ২০১৬ সাল থেকে চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার কাজ শুরু করেন এই প্রযুক্তিবিদ।

চলতি বছরের মার্চে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের ১৭টি অ্যাপের একটিতে উঠে আসে ওয়াইসা। চলতি মাসে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম, বোস্টনের ডব্লিউ হেলথ ভেনচার্স, পি ভেনচার্স ও কাই ক্যাপিটালের মাধ্যমে ৫৫ লাখ ডলারের পৃষ্ঠপোষকতা পেতে সক্ষম হয়েছে অ্যাপটি।

এ পর্যন্ত ৯০ লাখ ডলারের তহবিল পেয়েছে ওয়াইসা। অ্যাপটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। অ্যাপটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন ৬০ জন কর্মী। ওয়াইসার সঙ্গে যুক্ত আছেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও।

আগারওয়াল বলেন, ওয়াইসার কাজ মানসিক রোগ শনাক্ত করা নয়। বরং মানুষের মনের কথা জেনে মন ভালো করতে সহযোগিতা করবে অ্যাপটি। মূলত ঘুম ঠিক করতে, বিষন্নতা কমাতে, বা সম্পর্কবিষয়ক পরামর্শ পেতে এর দ্বারস্থ হন ব্যবহারকারীরা।

ওয়াইসার ৩০ লাখ ব্যবহারকারীর মধ্য থেকে মাত্র ১০ শতাংশকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে অ্যাপটি। বিষন্নতা ও উদ্বেগবিষয়ক প্রশ্নের উত্তরের ওপর ভিত্তি করে এ পরামর্শ দেয়া হয়।

ওয়াইসার ব্যবহারকারীদের ৬০ শতাংশই চেয়েছেন কেউ তাদের কথা শুনুক এবং সমর্থন করুক।

আরও পড়ুন:
ইতালির গুহায় ৯ নিয়ানডারথাল
ওজনের হেরফের
চর্বি আর সাবানের শত্রুতা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আগুন লাগলে সতর্ক করবে ‘ব্লুবেরি’

আগুন লাগলে সতর্ক করবে ‘ব্লুবেরি’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী সঞ্জিত মণ্ডলের নেতৃত্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ১৩তম ব্যাচের জুয়েল দেবনাথ ও একই ব্যাচের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মিষ্টু পাল মিলে তৈরি করেছেন ব্লুবেরিকে।

আগুন লাগলে বা গ্যাস লাইন ফুটো হলেই সতর্ক করবে। যেকোনো কিছু জানতে চাইলে গড়গড় করে উত্তর বলে দেবে।

না কোনো মানুষ নয়, বরং মানবাকৃতির একটি রোবট এই কাজগুলো করবে। নীল রঙের রোবটটির নাম ব্লুবেরি। রোবটটিতে রাস্পবেরি পাই (ক্রেডিট কার্ড আকৃতির সিঙ্গেল বোর্ড কম্পিউটার) ব্যবহার করায় এর নামকরণ করা হয়েছে 'ব্লুবেরি'।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী তৈরি করেছেন এই রোবট। রোবটটি তৈরির জন্য তারা গঠন করেছেন ‘কোয়ান্টা রোবোটিক্স’ নামের একটি টিম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী সঞ্জিত মণ্ডলের নেতৃত্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ১৩তম ব্যাচের জুয়েল দেবনাথ ও একই ব্যাচের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মিষ্টু পাল মিলে তৈরি করেছেন ব্লুবেরিকে।

জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা অ্যাকাডেমির অর্থায়নে এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আবু মুসা আসারীর সহযোগিতায় প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে তিন মাসে রোবটটি তৈরি করেছেন তারা।

ব্লুবেরির নির্মাতা ওই তিন শিক্ষার্থীর দাবি, আরও উন্নত করা গেলে করোনার নমুনা সংগ্রহেও রোবটটিকে ব্যবহার করা যাবে।

এর আগে ২০১৯ সালে সঞ্জিত মণ্ডল, জুয়েল নাথসহ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী মিলে তৈরি করেছিলেন দেশের চতুর্থ মানবাকৃতির রোবট 'সিনা'। সে সময় মাত্র দুই মাসে প্রায় ৩৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ওই রোবটটি তৈরি করেন তারা।

তারা জানান, রোবটটিকে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক কিংবা বাচ্চাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়ার মাধ্যমে নতুন কিছু শেখানোর কাজেও ব্যবহার করা যাবে। দেশের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রোবট তৈরিতে আকৃষ্ট করার একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা এটি। ভবিষ্যতে রোবটটিকে আরও উন্নত করা সম্ভব, এটাকে চাইলে প্রায় প্রতিদিনই হালনাগাদ করা যাবে।

সঞ্জিত মণ্ডল বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে অনেক প্রজেক্ট করি ইলেকট্রনিকস প্রজেক্ট বা বিভিন্ন সায়েন্স প্রজেক্ট। অনেক কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ করেছি। সামনে আরও ভালো কিছু করার সুযোগ চাই, সবার সহযোগিতা ও আশীর্বাদ চাই।’

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল অ্যারোন্যাটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আয়োজিত ‘নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন সঞ্জিত মণ্ডল।

কোয়ান্টা রোবোটিক্সের আরেক সদস্য জুয়েল দেবনাথ বলেন, “গতবারের রোবট 'সিনা'র চেয়ে ব্লুবেরি অনেক আপডেটেড এবং এটিকে প্রতিনিয়ত আপডেট করা যাবে। এটা তৈরি করতে গিয়ে দিনরাতের পার্থক্য ভুলেই গিয়েছিলাম। এমনও আছে টানা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করেছি। কোডের মধ্যে এররের পর এররের সম্মুখীন হতে হতে অনেক ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম। কোডের কিছু কিছু গোপন এরর ধরতে ৪/৫ ঘণ্টা ল্যাপটপের সামনে বসে থেকেছি, তাও চেষ্টা করা বন্ধ করিনি। চেষ্টা করব পরে আরও ভালো কিছু করতে।”

কোয়ান্টা রোবোটিক্সের আরেক সদস্য মিষ্টু বলেন, ‘এই রোবট তৈরিটা ছিল আমার প্রথম কোনো প্রজেক্ট। যদিও আমি কম্পিটিটিভ প্রোগ্রামিংয়ের সঙ্গে আগে থেকেই জড়িত। কিন্তু এমন কোনো ছোট বা বড় প্রজেক্ট এর আগে করিনি। শুরু থেকেই অনেক ধরনের সমস্যার (কোডে এরর বা ডিভাইসে সমস্যা) মুখোমুখি হয়েছি। তবু থেমে থাকিনি। ইলেকট্রনিকসের সঙ্গে কোডিংয়ের সম্পর্ক যতটা দেখতে সুন্দর, কাজ করতে ততটাই কষ্ট। এই রোবটটিকে আমাদের আরও উন্নত করার সুযোগ আছে এবং আমরা সেটা নিয়ে কাজ করে যাব।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস মিয়া বলেন, ‘করোনার কারণে তাদের কাজটি আমরা অনুষ্ঠান করে জানান দিতে পারিনি। শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তাদের সফলতা কামনা করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রোবট তৈরির বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এমরান কবির চৌধুরী আনন্দ প্রকাশ করেন বলেন, ‘আমাদের কাছে বিষয়টি গৌরবের। এ ধরনের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করতে আমি সব সময় প্রস্তুত।’

আরও পড়ুন:
ইতালির গুহায় ৯ নিয়ানডারথাল
ওজনের হেরফের
চর্বি আর সাবানের শত্রুতা

শেয়ার করুন

করোনার চিকিৎসায় আইভারমেকটিনের ট্রায়াল

করোনার চিকিৎসায় আইভারমেকটিনের ট্রায়াল

করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় আইভারমেকটিনের কার্যকারিতা নিয়ে পরীক্ষা করছেন গবেষকরা। ছবি: এএফপি

গবেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত অ্যাজিথ্রোমাইসিন ও ডক্সিসাইক্লিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর। ফলে এমন ক্ষেত্রে আইভারমেকটিনের ব্যবহার কিছুটা আশা দেখিয়েছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় জীবাণুবিরোধী ওষুধ আইভারমেকটিনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখছেন ব্রিটিশ গবেষকরা।

করোনার সম্ভাব্য ওষুধ হিসেবে আইভারমেকটিনের উপযোগিতা নিয়ে এ গবেষণার কথা বুধবার জানায় অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি।

যুক্তরাজ্যে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় হয়েছে এ গবেষণা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ছাড়াই করোনা রোগীদের সুস্থ করে তোলার পথ খুঁজতে ওষুধটি নিয়ে গবেষণা করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, আইভারমেকটিনের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে করোনাভাইরাসের বিস্তারের গতি কমানো সম্ভব হয়েছে।

ছোট একটি দলের ওপর পরীক্ষায় দেখা যায়, আক্রান্ত হওয়ার শুরুতেই এ ওষুধটি প্রয়োগ করা হলে মানবদেহে এটি ভাইরাস বাড়তে এবং মৃদু উপসর্গ বেশি দিন স্থায়ী হতে দেয় না।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পরিচালিত এ গবেষণার নাম দেয়া হয়েছে ‘প্রিন্সিপ্যাল’।

গবেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত অ্যাজিথ্রোমাইসিন ও ডক্সিসাইক্লিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর। ফলে এমন ক্ষেত্রে আইভারমেকটিনের ব্যবহার কিছুটা আশা দেখিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অনেক দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা করোনার চিকিৎসায় আইভারমেকটিন ব্যবহারের বিরোধী।

করোনায় আক্রান্তদের ওপর শুধু পরীক্ষামূলকভাবে ওষুধটি প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

তবে ভারত, কলম্বিয়াসহ অনেক দেশেই করোনায় আক্রান্তদের সুস্থ করে তুলতে ওষুধটি ব্যবহার করছেন চিকিৎসকরা।

ব্রিটিশ গবেষক দলের সহ-প্রধান ক্রিস বাটলার বলেন, ‘প্রিন্সিপ্যালের মতো বড় পরিসরের পরীক্ষায় আইভারমেকটিন অন্তুর্ভুক্ত করার মাধ্যমে করোনার চিকিৎসায় এটির কার্যকারিতা প্রমাণের চেষ্টা করেছি আমরা। একই সঙ্গে এটি ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধাও খতিয়ে দেখেছি।’

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লিভারের অসুখে ভুগছেন এবং রক্তের ঘনত্ব কমানো ওষুধ নিচ্ছেন এমন ব্যক্তিদের ওপর এ পরীক্ষা করা হয়নি। আইভারমেকটিনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অন্যান্য চিকিৎসা নেয়া ব্যক্তিদেরও এ পরীক্ষার বাইরে রাখা হয়েছে।

করোনার প্রাদুর্ভাবের দেড় বছর পার হলেও ভাইরাসটির নতুন ধরন থেকে রেহাই পেত সুনির্দিষ্ট ওষুধ উদ্ভাবন হয়নি।

করোনার চিকিৎসায় পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহৃত সপ্তম ওষুধ আইভারমেকটিন।

এর আগে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় রেমডেসিভির, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন, লোপিনাভির বা রিটোনাভির, কর্টিকোস্টেরয়েড, অ্যান্টিকোয়াগুলেন্টস, ফ্যাভিপিরেভির জরুরি ব্যবহারে অনুমোদন দেয় ডব্লিউএইচও।

বর্তমানে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ফ্যাভিপিরেভিরের সঙ্গে আইভারমেকটিনের কার্যকারিতা তুলনা করে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা।

আরও পড়ুন:
ইতালির গুহায় ৯ নিয়ানডারথাল
ওজনের হেরফের
চর্বি আর সাবানের শত্রুতা

শেয়ার করুন

পোষাপ্রাণির অভাব মেটাবে তামাগোচি হাতঘড়ি

পোষাপ্রাণির অভাব মেটাবে তামাগোচি হাতঘড়ি

তামাগোচি স্মার্ট হাতে জাপানি গানের দল নিজিউর সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

তামাগোচি ডিভাইসটিতে পোষাপ্রাণিকে আদর করা, খাওয়ানো ও লালনপালনের অনুভূতি পান ব্যবহারকারীরা। এটিকে অনেকে ‘ডিজিটাল পেট’ নামেও অভিহিত করেন।

পোষাপ্রাণির বিকল্প হিসেবে নব্বইয়ের দশক থেকে তামাগোচি নামে একটি ডিভাইস ব্যবহার করছেন জাপানের অনেক মানুষ। এটি তৈরি করেছে ভিডিও গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বানদাই।

এবার সেই তামাগোচিকে হাতঘড়ির আকারে বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন এই ভার্সনটির নাম দেয়া হয়েছে তামাগোচি স্মার্ট।

সোমবার সংবাদমাধ্যম ভাইসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তামাগোচি ডিভাইসটিতে পোষাপ্রাণিকে আদর করা, খাওয়ানো ও লালনপালনের অনুভূতি পান ব্যবহারকারীরা। এটিকে অনেকে ‘ডিজিটাল পেট’ নামেও অভিহিত করেন।

১৯৯৬ সালের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো বাজারে আসে তামাগোচি। ডিভাইসটির প্রধান ক্রেতা ছিল জাপানের স্কুলগামী মেয়েরা। শিগগিরই এটি জাপানের বাইরেও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

বানদাইয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৮৩ মিলিয়ন তামাগোচি ডিভাইস বিক্রি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এবছর তামাগোচির রজতজয়ন্তীতে ডিভাইসটির প্রচারে যুক্ত হয়েছে জনপ্রিয় জাপানি ব্যান্ড নিজিউ।

তামাগোচির আগের ভার্সনটিতে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। ব্যবহারকারীর কাছে ঠিকমতো আদরযত্ন না পেলে বন্ধ হয়ে যেত ডিভাইসটি। নতুন ভার্সনে এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা হয়েছে।

তামাগোচি স্মার্ট উল্টো ব্যবহারকারীর মন খারাপের সময় পাশে থাকার চেষ্টা করবে। হাতঘড়ির আকারে হওয়ায় এটি যেকোনো জায়গায় সঙ্গে নিতে পারবেন ব্যবহারকারী। এছাড়া মোবাইল অ্যাপেও তামাগোচি ইন্সটল করে নিজের ডিজিটাল প্রাণিকে সঙ্গে রাখতে পারবেন।

২৩ নভেম্বর বাজারে আসতে যাওয়া তামাগোচি স্মার্টে দশটি ডিজিটাল পোষাপ্রাণির সঙ্গ পাওয়ার সুবিধা থাকবে। প্রতিটি ডিভাইসের দাম পড়বে ৫৭ দশমিক ৬৪ ডলার।

বানদাই জানিয়েছে, ডিভাইসটি শুরুতে জাপানের বাজারে পাওয়া গেলেও আন্তর্জাতিক বাজারে আসতে আরও সময় লাগতে পারে।

শিশুদের খেলনা হিসেবে নব্বইয়ের দশক থেকেই ডিজিটাল পেট জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে। প্রথমবারের মতো ম্যাজিকস ডগস নামে ডিজিটাল পেট আনে ভিডিও গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পিএফ। এরপরে তামাগোচি ও নাইনটেনডগস নামে আরও কয়েকটি ডিজিটাল পেট বাজারে আসে।

আরও পড়ুন:
ইতালির গুহায় ৯ নিয়ানডারথাল
ওজনের হেরফের
চর্বি আর সাবানের শত্রুতা

শেয়ার করুন

আগের চেয়ে দ্রুত বিবর্তন ঘটছে মানুষের

আগের চেয়ে দ্রুত বিবর্তন ঘটছে মানুষের

ফাইল ছবি।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিককালের পৃথিবীতে মানুষের বিবর্তন শুধু জিনের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং জেনেটিক রূপান্তরের চেয়ে সংস্কৃতিই মানব বিবর্তনকে ত্বরান্বিত করছে। নতুন এই ধারণা অনুযায়ী, টিকে থাকার সুবিধার জন্য জেনেটিক রূপান্তর এখন আর জরুরি নয়।

হোম স্যাপিয়েন্সের উদ্ভবের পর থেকেই প্রাকৃতিক নির্বাচনের কারণে আমাদের পূর্বপুরুষেরা পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়েছেন। এর পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে জিনগত বিবর্তন। জেনেটিক এই রূপান্তরের কারণেই বর্তমান মানুষের আবির্ভাব।

তবে এক গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিককালের পৃথিবীতে মানুষের বিবর্তন শুধু জিনের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং জেনেটিক রূপান্তরের চেয়ে সংস্কৃতিই মানব বিবর্তনকে ত্বরান্বিত করছে।

নতুন এই ধারণা অনুযায়ী, টিকে থাকার সুবিধার জন্য জেনেটিক রূপান্তর এখন আর জরুরি নয়। বরং সংস্কৃতির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে গড়ে ওঠা অভ্যাসই ‘রূপান্তর’ এর মূল চালিকা শক্তি, যা মানুষকে টিকে থাকার সুবিধা দিচ্ছে।

এই ‘সাংস্কৃতিক বিবর্তন’ আগামীতেও মানবজাতির ভাগ্যকে আরও শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে বলে গবেষকদের ধারণা।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ মাইনের বায়োলজি অ্যান্ড ইকোলজি বিভাগের গবেষক জ্যাক উড বিজ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইট লাইভ সায়েন্সকে বলেন, ‘যখন কোনো প্রজাতিকে ভাইরাস আক্রমণ করে, সাধারণত সেটি জেনেটিক রূপান্তরের মাধ্যমে ওই ভাইরাস থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখে।’

এই ধরনের বিবর্তন ঘটে ধীরে। কারণ, যারা ভাইরাস আক্রমণের ক্ষেত্রে স্পর্শকাতর তারা মৃত্যুবরণ করে এবং যারা টিকে থাকে তারা আগ্রাসী ভাইরাস সংক্রান্ত জেনেটিক কোড পরের প্রজন্মে সঞ্চার করে।

তবে বর্তমানে এ ধরনের হুমকিতে জেনেটিকভাবে ভাবে খাপ খাইয়ে নেয়ার আর দরকার নেই। বরং এখন মানুষ এখন কোনো নির্দিষ্ট একজনের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বহু মানুষের সংগ্রহ করা সাংস্কৃতিক জ্ঞানের ‘রূপান্তরের’ ফলে আবিষ্কৃত টিকা ও অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম।

ইউনিভার্সিটি অফ মাইনের সোশ্যাল ইকোসিস্টেম মডেলিংয়ের সহযোগী অধ্যাপক টিম ওয়ারিং বলেন, “টিকা উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানব সংস্কৃতি তার সম্মিলিত ‘ইমিউন সিস্টেম’ উন্নত করছে”।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক বিবর্তনের ফলেও জিনগত বিবর্তন ঘটে। ওয়ারিং লাইভ সায়েন্সকে বলেন, ‘গরুর দুধ পান করা শুরুতে একটা সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য থাকলেও পরে তা এক দল মানুষের জেনেটিক বিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়।’

এ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে জেনেটিক পরিবর্তনের আগে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন হচ্ছে।

ওয়ারিং বলেন, সাংস্কৃতিক বিবর্তনের ধারণাটি শুরু হয়েছে বিবর্তনবাদের জনকের কাছ থেকেই। চার্লস ডারউইন বুঝতে পেরেছিলেন, মানুষের অভ্যাস বিবর্তিত হতে পারে এবং সেটি সন্তানের মধ্যে তার শারীরিক বৈশিষ্ট্যের মতোই হস্তান্তর করা সম্ভব। কিন্তু তার সময়ে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন, আচরণের পরিবর্তন উত্তরাধিকার সূত্রে পায় সন্তানেরা।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনও মায়ের যদি এমন প্রবণতা থাকে, যা তার মেয়েকে খাবার অন্বেষণ শেখাতে পারে; তাহলে তিনি সেটি তার মেয়েকে দিয়ে যাবেন। এতে তার মেয়ের টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়বে এবং এর ফলে, এই প্রবণতা আরও মানুষের মধ্যে আরও বেশি দেখা যাবে।

‘প্রসিডিংস অফ দ্য রয়্যাল সোসাইটি বি’ এর জার্নালে ২ জুন প্রকাশিত গবেষণায় ওয়ারিং ও উড দাবি করেন, মানব ইতিহাসের কোনো এক সময়ে সংস্কৃতি আমাদের ডিএনএর বিবর্তনকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। দুই গবেষক বলছেন, সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আমাদের এমনভাবে বিবর্তিত হতে সাহায্য করছে, যা শুধু জৈবিক পরিবর্তনের পক্ষে সম্ভব ছিল না।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তারা বরেন, সংস্কৃতি দল বা গ্রুপ নির্ভর। দলের সবাই একে অপরের সঙ্গে কথা বলেন, শেখেন ও অনুকরণ করেন। এই দলভিত্তিক আচরণ, সংস্কৃতি থেকে শেখা, খাপ খাইয়ে নেয়ার পদ্ধতি জিনগত ভাবে টিকে থাকার সুবিধার চেয়ে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

একজন ব্যক্তি অল্প সময়ে প্রায় সীমাহীন সংখ্যক লোকের কাছ থেকে দক্ষতা ও তথ্য গ্রহণ করতে পারেন এবং ঘুরেফিরে আরও অনেকের কাছে সেই তথ্য ছড়িয়ে দিতে সক্ষম। গবেষকেরা বলছেন মানুষ যত বেশি লোকের কাছ থেকে শিখতে পারছে তত ভাল। বড় দলগুলো ছোট দলের চেয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে ও আন্তঃদলীয় প্রতিযোগিতা অভিযোজন ক্ষমতাকে উদ্দীপ্ত করে, যা তাদের টিকে থাকতে সহায়তা করে।

নতুন ধারণা ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সংস্কৃতিতে নতুন বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটে।

বিপরীতভাবে, একজন ব্যক্তি বাবা-মায়ের কাছ থেকে কেবল জেনেটিক তথ্য উত্তরাধিকার সূত্রে পান এবং তাদের ডিম্বাণু বা শুক্রাণুতে তুলনামূলকভাবে মাত্র কয়েকটি এলোমেলো রূপান্তর রেকর্ড করেন। এগুলো তাদের সন্তানদের ছোট গ্রুপের মধ্যে সঞ্চারিত করতে প্রায় ২০ বছর সময় লাগে। এই পরিবর্তনের গতি অনেক ধীর।

গবেষণাটির বিষয়ে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার কগনিটিভ অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্সেসের সহযোগী অধ্যাপক পল স্মলডিনো বলেন,‘এই থিওরির জন্য অপেক্ষা ছিল দীর্ঘদিনের। বিবর্তনমূলক জীববিজ্ঞান সংস্কৃতির সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করে তা বর্ণনা করার জন্য অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।’

গবেষকদের মতে, মানব সংস্কৃতির উপস্থিতি বিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

লাইভ সায়েন্সকে স্মলডিনো বলেন, ‘তাদের (দুই গবেষক) বড় দাবি হচ্ছে, মানুষের পরবর্তী বিবর্তনভিত্তিক রূপান্তরের সেতুবন্ধনের জায়গায় রয়েছে সাংস্কৃতিক প্রভাব।’

প্রাণের উদ্ভব ও বিকাশের ক্ষেত্রে এ ধরনের সেতুবন্ধন বিবর্তনের গতিপ্রকৃতির ওপর বিরাট প্রভাব ফেলেছে। ডিএনএযুক্ত কোষের বিবর্তন ছিল এমন একটি বড় পর্যায়। এরপর ক্ষুদ্রাঙ্গ ও জটিল অভ্যন্তরীণ কাঠামোযুক্ত কোষের আবির্ভাব সবকিছুকে বদলে দেয়। প্রাণি ও উদ্ভিদকোষের আবির্ভাব ছিল আরেকটি বড় পরিবর্তন। লিঙ্গের উদ্ভব, ভূ-পৃষ্ঠে জীবনের শুরু- এর সবগুলোই একেকটি বড় মাইলফলক।

এই প্রতিটি ঘটনাই বিবর্তন যেভাবে কাজ করে তাতে বদল এনেছে। গবেষকেরা বলছেন, এখন মানুষ আরও একটি বিবর্তনীয় রূপান্তরের মধ্যে পড়েছে। এখনও জিনগত পরিবর্তন অব্যাহত থাকলেও তা মানুষের টিকে থাকার শর্তকে খুব বেশি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।

ওয়ারিং এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদে আমাদের প্রস্তাব এই যে, আমরা একক জেনেটিক জীব থেকে পিঁপড়ার বাসা বা মৌমাছির চাকের মতো সুপার অর্গানিজমে পরিণত হওয়া সাংস্কৃতিক গ্রুপে পরিণত হয়েছি।’

আরও পড়ুন:
ইতালির গুহায় ৯ নিয়ানডারথাল
ওজনের হেরফের
চর্বি আর সাবানের শত্রুতা

শেয়ার করুন

মানসিক প্রশান্তি পেতে লেখালেখি

মানসিক প্রশান্তি পেতে লেখালেখি

মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে লেখালেখি। ছবি: দ্য কনজারভেশন

সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা যায়, অনুভূতি সহজভাবে প্রকাশের মাধ্যমে আত্ম-সচেতনতা বৃদ্ধিও সম্ভব, যা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতেও সহায়তা করে। তবে কোনো রকমে লিখে ফেললেই তা অর্জিত হয় না; বরং এ জন্য লেখা হতে হবে আত্ম-সচেতনতাধর্মী।

স্পষ্ট ভাষায়, জোরালো শব্দে অনুভূতি ফুটিয়ে তোলার ওপর জোর দিতেন প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে।

মানুষের মনস্তত্ত্ব কিংবা মনোবিজ্ঞান হেমিংওয়ে কতটা বুঝতেন জানা নেই। তবে লেখার এমন ধরন যে মানসিক প্রশান্তি দিতে পারে, তা নিশ্চিত করেছেন গবেষকরা।

তারা জানিয়েছেন, মনকে ব্যথাতুর করে তোলার যত অনুভূতি, সেগুলো লিখে ফেললে তা আখেরে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।

গবেষণাভিত্তিক বিশ্লেষণ ও সংবাদকেন্দ্রিক সাময়িকী দ্য কনজারেভেশনের একটি প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে এমন তথ্য।

এতে জানানো হয়েছে, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর লেখালেখির ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে হয়েছে দুই শতাধিক গবেষণা।

তবে লেখালেখির মনস্তাত্ত্বিক উপযোগিতা বেশিরভাগ মানুষের জন্য সঙ্গতিপূর্ণ বলে জানা গেলেও কেন বা কীভাবে এটি সাহায্য করে, সে বিষয়ে একমত নন গবেষকরা।

একটি তত্ত্বে বলা হয়েছে, মনে মনে সবকিছু চেপে যাওয়ার অভ্যাস মানসিক অশান্তির কারণ। এ ক্ষেত্রে সেসব লিখে ফেলা অনুভূতি প্রকাশের সবচেয়ে নিরাপদ ও সুরক্ষিত মাধ্যম হতে পারে।

সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা যায়, অনুভূতি সহজভাবে প্রকাশের মাধ্যমে আত্ম-সচেতনতা বৃদ্ধি সম্ভব, যা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতেও সহযোগিতা করে।

তবে কোনো রকমে লিখে ফেললেই তা অর্জিত হয় না; বরং এ জন্য লেখা হতে হবে আত্ম-সচেতনতাধর্মী।

আত্ম-সচেতনতাধর্মী লেখা ব্যক্তিকে নিজের প্রতি মনোযোগী করে। এর মাধ্যমে তার আচরণ, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, অনুভূতি, বিশ্বাস, মূল্যবোধ, স্পৃহাসহ সব ধরনের অনুভূতি সজাগ হয়ে ওঠে।

গবেষণায় দেখা যায়, আত্ম-সচেতন হয়ে ওঠার মাধ্যমে ব্যক্তি নানাভাবে উপকৃত হন। এটি আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, অন্যকে সহজে গ্রহণে উৎসাহিত করে। এটি আমাদের আত্ম-নিয়ন্ত্রণের চর্চায় সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনে ভালো সিদ্ধান্ত নিতেও সহযোগিতা করে।

আত্ম-সচেতনতা কর্মক্ষেত্রে সন্তোষ তৈরি করে এবং কার্যকর নেতৃত্বদানের পথও খুলে দেয়।

আত্ম-সচেতনতা মানবজীবনের অনেক রং ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। এটি চর্চার মাধ্যমে আত্মোন্নয়ন সম্ভব।

বিশেষ করে প্রতিদিন এ চর্চা সম্ভব বলে লেখালেখির মাধ্যমে আত্ম-সচেতনতা তৈরি একই সঙ্গে কার্যকর ও সহজ পদ্ধতি।

নিজেদের পুরোনো লেখা পড়ে দেখার মাধ্যমে নিজের চিন্তা, অনুভূতি, আচরণ ও বিশ্বাসের গভীরে প্রবেশ করাও সহজ।

আত্ম-সচেতনতা তথা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী তিন ধরনের লেখার ওপর জোর দিচ্ছেন গবেষকরা।

১. স্পষ্ট লেখা

মনকে সুস্থ রাখার চেষ্টা হিসেবে মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা প্রায়ই মানসিক চাপের জন্য দায়ী ঘটনার বিষয়ে নিজেদের চিন্তা ও অনুভূতি স্পষ্ট করে লেখার পরামর্শ দেন। ব্যক্তির জন্য সংবেদনশীল, এমন বিষয়ের প্রতি অনুভূতির স্বচ্ছতা প্রকাশে সাহায্য করে এ ধরনের লেখা, যা সাধারণভাবে খানিকটা কঠিন।

গবেষণায় দেখা যায়, আত্ম-সচেতনতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট লেখা বিষণ্নতার উপসর্গ, দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ কমিয়ে আনে।

২. চিন্তাশীল লেখা

চিন্তাশীল লেখার ব্যবহার সাধারণত দেখা যায় কর্মক্ষেত্রে। বিশেষ করে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক, মনোবিজ্ঞানী ও সমাজকর্মীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে তাদের এ ধরনের লেখার সাহায্য নিতে বলা হয়।

চিন্তাশীল লেখা ব্যক্তিকে নিজের বিশ্বাস ও কর্ম বিশ্লেষণ করে দেখার সুযোগ করে দেয়। নতুন কিছু শেখা ও আত্মোন্নয়নের দারুণ উপায় এটি।

চিন্তাশীলভাবে লিখতে হলে ব্যক্তিকে নিজের প্রতি কিছু প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতে হয়। কৌতুহলী, বিশ্লেষণধর্মী ও উদার প্রশ্নের উত্তরও ভেবে বের করতে হয় তাকেই। এতে নিজের অভিজ্ঞতা ও অন্যদের সঙ্গে তার অনুভূতির আদান-প্রদানের মাধ্যমে তিনি শেখেন এবং তার আত্ম-সচেতনতা বাড়ে।

এ ধরনের চর্চা কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পর্ক উন্নয়নেও সাহায্য করে, যা মানসিক সুস্বাস্থ্যের অন্যতম নির্দেশক।

৩. সৃজনশীল লেখা

কবিতা, ছোট গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি সৃজনশীল লেখার অন্যতম উদাহরণ। এ ধরনের লেখায় ব্যক্তির কল্পনাশক্তি ও স্মৃতিশক্তি বাড়ে।

নানা রকম উপমা ও রূপক শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে ভিন্ন রূপে অর্থবহ করে তোলা হয় লেখাকে। ফলে চিন্তা, অনুভূতি, বুদ্ধি, ধারণা ও বিশ্বাসকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার দারুণ একটি উপায় সৃজনশীল লেখা।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে নিজের উদ্বেগ প্রকাশে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী কিংবা বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক নিয়ে নিজের বিশ্বাস তুলে ধরতে শিশুসাহিত্যের আশ্রয় নেয়া হয়। অনিদ্রা সম্পর্কে বোঝাতে প্যাঁচার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে একটি কবিতাও লিখে ফেলা যায়।

অনুশোচনার মতো কঠিন অভিজ্ঞতা লেখার মাধ্যমে অন্যদের সহজে বোঝানো সম্ভব। কারণ এ ধরনের অনুভূতি মৌখিকভাবে বোঝানো বা বোঝা অনেকের কাছেই বেশ কঠিন।

সৃজনশীল লেখা মানুষকে শব্দ বেছে নিতে, উপমা আর ছবি ব্যবহারে উৎসাহ দেয়। এতে বার্তা প্রদান অনেক সহজ হয়ে যায়। এভাবে সৃজনশীল সিদ্ধান্ত-গ্রহণ ক্ষমতা ব্যক্তির আত্ম-সচেতনতা ও আত্মসম্মান জোরালো করে, যা মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ দরকার।

মানসিক সুস্বাস্থ্যের প্রথম শর্তই আত্ম-সচেতনতা। আর এটি অর্জনে শুরুর ধাপ হতে পারে লেখালেখি। প্রতিদিন এ জন্য মাত্র ১৫ মিনিট সময় বের করা হতে পারে নিজের জন্য বড় সুযোগ।

আরও পড়ুন:
ইতালির গুহায় ৯ নিয়ানডারথাল
ওজনের হেরফের
চর্বি আর সাবানের শত্রুতা

শেয়ার করুন

‘জিরাফের চেয়ে উঁচু ছিল গন্ডার’

‘জিরাফের চেয়ে উঁচু ছিল গন্ডার’

মধ্য এশিয়ায় হেঁটে বেড়াত একধরনের গন্ডার, যারা এখনকার জিরাফের চেয়েও বেশি উঁচু ও বিশালাকার ছিল। ছবি: সংগৃহীত

মাটি থেকে এদের মাথার উচ্চতা ছিল ১৬ ফুটের ওপরে। এখনকার জিরাফের গড় উচ্চতা হয়ে থাকে ১৪-১৯ ফুটের মধ্যে। খুঁজে পাওয়া গন্ডারের ফসিলটি বিশ্লেষণ করে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এক্সপ্লোরার ও ফ্রান্সের অধ্যাপক পিয়েরা ওলিভিয়া অ্যান্তয়িন বলেন, ‘এই বিশাল আকারের গন্ডারগুলো প্রায় চারতলা ভবনের উচ্চতার সমান গাছের ওপরের ফুল খেতে পারত।’

মধ্য এশিয়ায় ৫ কোটি বছর আগে হেঁটে বেড়াত একধরনের গন্ডার, যারা এখনকার জিরাফের চেয়েও বেশি উঁচু ও বিশালাকার ছিল।

চীনের মধ্যাঞ্চলীয় লিনজিয়া অববাহিকার বাদামী রংয়ের পাথরের মাঝে বিশাল এই স্তন্যপায়ী প্রাণীর ফসিলের সন্ধান মিলেছে।

মেরুদণ্ডী প্রাণী নিয়ে কাজ করা চীনের ইনস্টিটিউট অব ভার্টেব্রেট প্যালিওনটোলজি অ্যান্ড প্যালিওনথ্রোপলজির গবেষক ড. তাও দেং জানান, নতুন শনাক্ত হওয়া স্তন্যপায়ী প্রাণীর ফসিলটির গঠনের সঙ্গে প্রাচীনকালে পশ্চিম পাকিস্তানে বসবাস করা প্রকাণ্ড আকারের গন্ডারের মিল রয়েছে।

দুই কোটি ৩০ লাখ বছর থেকে ৫ কোটি বছর এই সময়কালে বিশালকার প্রাণীগুলো মধ্য এশিয়াসহ ভারতীয় উপমহাদেশ ও চীনে ঘুরে বেড়াত।

তিব্বতের সুউচ্চ মালভূমির উষ্ণ আবহাওয়া ও বিশাল বনভূমি পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু এমন স্তন্যপায়ী প্রাণীগুলোর বসবাসের উপযোগী পরিবেশ ছিল বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

তবে গন্ডারের মতো নাকের ওপর এদের শিং ছিল না। মাটি থেকে এদের মাথার উচ্চতা ছিল ১৬ ফুটের ‌ওপরে। এখনকার জিরাফের গড় উচ্চতা হয়ে থাকে ১৪-১৯ ফুটের মধ্যে।

খুঁজে পাওয়া গন্ডারের ফসিলটি বিশ্লেষণ করে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এক্সপ্লোরার ও ফ্রান্সের অধ্যাপক পিয়েরা ওলিভিয়া অ্যান্তয়িন বলেন, ‘এই বিশাল আকারের গন্ডারগুলো প্রায় চারতলা ভবনের উচ্চতার সমান গাছের ওপরের ফুল খেতে পারত।’

এরা প্রাচীন প্যারাসেরাথেরেস গোত্রের গন্ডার ছিল যাদের ওজন গড়ে ২৪ টনের বেশি ছিল, যা বর্তমানে আফ্রিকার চারটি হাতির ওজনের সমান।

আরও পড়ুন:
ইতালির গুহায় ৯ নিয়ানডারথাল
ওজনের হেরফের
চর্বি আর সাবানের শত্রুতা

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে কসমেটিক্স পণ্যে উচ্চ মাত্রার ফ্লোরিন

যুক্তরাষ্ট্রে কসমেটিক্স পণ্যে উচ্চ মাত্রার ফ্লোরিন

নতুন গবেষণায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় পাওয়া যায় এমন ২৩১টি কসমেটিক্স পণ্যের মধ্যে ৫২ শতাংশ পণ্যে উচ্চ মাত্রায় ফ্লোরিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর অর্থ ওইসব পণ্যে পিএফএএস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বিক্রি হওয়া বিপুল সংখ্যক কসমেটিক্স পণ্যে উচ্চ মাত্রায় ফ্লোরিন পাওয়া গেছে। ওইসব পণ্যে ‘ফরেভার কেমিক্যাল’ নামে পরিচিত সম্ভাব্য ক্ষতিকর পার-অ্যান্ড পলিফ্লুরোঅ্যালকাইল সাবসটেন্সেস (পিএফএএস) থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সায়েন্স এলার্টের শনিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, মানুষের তৈরি হাজার হাজার যৌগিক পদার্থের সংমিশ্রণ পিএফএএস। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে গৃহস্থালী ও বাণিজ্যিক পণ্য উৎপাদনে এসব যৌগ ব্যবহার হয়ে আসছে।

গত কয়েক দশকের গবেষণায় দেখা যায়, টেকসই পিএফএএস পরিবেশে ব্যাপক মাত্রায় পাওয়া যায়। মানুষ ও জীবজন্তুর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ক্ষতিকর প্রভাবের সঙ্গে পিএফএএস যৌগিক পদার্থের উচ্চ মাত্রায় উপস্থিতির যোগসূত্র রয়েছে।

পিএফএএস সম্ভাব্য ও অজানা ঝুঁকির কারণ হলেও এতে বিভিন্ন ধরনের যৌগ উপস্থিত থাকায় অনেক ‘ফরেভার কেমিক্যাল’ এখনও বিভিন্ন পণ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইউরোপ ও এশিয়ার কসমেটিক্স পণ্যে এই কেমিক্যাল পাওয়ার ঘটনা আগের এক গবেষণায় জানা যায়।

বিজ্ঞানীদের গবেষণায় সম্প্রতি দেখা যায়, উত্তর আমেরিকায় বিক্রি হওয়া কসমেটিক্স পণ্যে পিএফএএস কেমিক্যাল রয়েছে।

নতুন ওই গবেষণায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় পাওয়া যায় এমন ২৩১টি কসমেটিক্স পণ্যের মধ্যে ৫২ শতাংশ পণ্যে উচ্চ মাত্রায় ফ্লোরিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর অর্থ ওইসব পণ্যে পিএফএএস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ নটর ডেমের পদার্থবিদ গ্রাহাম পিয়াসলি বলেন, ‘এসব কসমেটিক্স পণ্য চোখ ও মুখের চারদিকে দেয়া হয়। চামড়া, টিয়ার ডাক্টের পাশাপাশি শ্বাস বা খাবার গ্রহণের সময় এসব যৌগ শরীরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘পিএফএএস স্থির কেমিক্যাল। রক্তপ্রবাহে একবার ঢুকলে এটি সেখানেই থাকে ও জমাটবদ্ধ হয়।’

পরীক্ষা-নিরীক্ষায় লিপস্টিক, ফাউন্ডেশন, কনসিলারসহ আরও অনেক কসমেটিক্স পণ্যে উচ্চ মাত্রায় ফ্লোরিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

ওয়াটারপ্রুফ মাসকারায় অনেক বেশি মাত্রায় ফ্লোরিন পাওয়া গেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা মাসকারার মধ্যে ৮২ শতাংশ মাসকারায় ওই কেমিক্যাল পাওয়া যায়।

মুখে ব্যবহার করা প্রসাধন সামগ্রীর (পাউডার, ব্লাশ, ব্রোঞ্জার, হাইলাইটার, প্রাইমার, স্প্রে) ৪০ শতাংশের মধ্যে ফ্লোরিন পাওয়া গেছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা বলেন, “উচ্চ মাত্রার ফ্লোরিনের উপস্থিতি থাকা পণ্যের (ফাউন্ডেশন, লিকুইড লিপস্টিক, ওয়াটারপ্রুফ মাসকারাসহ অন্যান্য কসমেটিক্স) বিজ্ঞাপনে ‘পানি ও তেল প্রতিরোধী’ বা ‘দীর্ঘস্থায়ী’এসব কথা লেখা থাকে।”

গবেষনায় কসমেটিক্স পণ্যে পিএফএএসের উপস্থিতি ধরা পড়লেও এগুলোর মড়কে ভিন্ন কথা লেখা রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) নীতিমালার লঙ্ঘন।

গবেষকেরা বলেন, ‘২৩১ কসমেটিক্স পণ্যের মধ্যে মাত্র ৮ শতাংশ পণ্যের মড়কে উপাদানের অংশে পিএফএএসের উল্লেখ ছিল। আর ২৯টি পণ্যের মধ্যে কেবল ৩ শতাংশ পণ্যের উপাদানে পিএফএএস যুক্ত ছিল।’

আরও পড়ুন:
ইতালির গুহায় ৯ নিয়ানডারথাল
ওজনের হেরফের
চর্বি আর সাবানের শত্রুতা

শেয়ার করুন