আরও ২ ধরনের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে মানুষ: গবেষণা

করোনাভাইরাসের আরও দুইটি ধরন দ্রুত মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

আরও ২ ধরনের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে মানুষ: গবেষণা

ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির পশুবিষয়ক ভাইরাসবিদ আনাসটাসিয়া ভ্লাসোভা বলেন, ‘বিড়াল ও কুকুর থেকে ছড়ানো করোনাভাইরাস পৃথিবীর সব জায়গাতেই রয়েছে। তবে সেই ভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষে এখনও সংক্রমিত হয়নি।’

করোনাভাইরাসের আরও দুটি ধরন দ্রুত মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ পেয়েছে নতুন গবেষণায়।

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া ইউনিভার্সিটির এই গবেষণায় বলা হয়েছে, কুকুর ও বিড়াল থেকে সংক্রমিত এই বিশেষ ধরনের করোনাভাইরাস দুটি এখনও মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়নি।

ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির পশুবিষয়ক ভাইরাসবিদ আনাসটাসিয়া ভ্লাসোভা বলেন, ‘বিড়াল ও কুকুর থেকে ছড়ানো করোনাভাইরাস পৃথিবীর সব জায়গাতেই রয়েছে। তবে সেই ভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষে এখনও সংক্রমিত হয়নি।’

কয়েক বছর আগে মালয়েশিয়ায় নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল আটটি শিশু। তাদের সবাই নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিল বলে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।

ওই শিশুরা করোনাভাইরাসের যে ধরনটিতে আক্রান্ত ছিল, তার উৎস ছিল কুকুর। আইওয়া ইউনিভার্সিটির করা ক্লিনিক্যাল ইনফেকসাস ডিজিজেস নামের এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

এই গবেষণায় এর আগে অংশ নেয়া ভাইরাসবিদ স্টেনলি পার্লম্যান বলেন, ‘করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণায় আমরা দেখতে পাই ভাইরাসটি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রজাতিকে আক্রান্ত করেছে।’

তবে নতুন করোনাভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়েছিল কি না, তা তাদের গবেষণায় স্পষ্ট করা হয়নি।

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স ম্যাগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার এমন তথ্য উঠে আসে।

গবেষকরা শঙ্কা জানিয়েছেন, আক্রান্ত মানুষের শরীরে অবস্থান নিয়ে নতুন এই করোনাভাইরাসটি হয়তো অন্য মানুষের শরীরে সংক্রমিত হওয়ার শক্তি অর্জন করে ফেলতে পারে।

এই প্রথম প্রকাশিত গবেষণায় শঙ্কা জানানো হয়, কুকুর প্রজাতির প্রাণী থেকে মানবদেহে সংক্রমিত করোনাভাইরাসের ধীরে ধীরে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হওয়ার শক্তি সঞ্চয় করতে পারে।

করোনাভাইরাসের এখন পর্যন্ত শনাক্ত ৭টি ধরনের মধ্যে কেবল সার্স কোভ-২ ধরনের করোনাভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষে দ্রুত ছড়িয়ে যাওয়ার ক্ষমতা অর্জন করে। আর এর প্রকোপে সৃষ্ট মহামারিতে সারা বিশ্বে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে প্রায় সাড়ে ৩৪ লাখ মানুষ। আক্রান্ত হয়েছে সাড়ে ১৬ কোটির বেশি মানুষ।

আরও পড়ুন:
করোনার উৎস নিয়ে আরও অনুসন্ধান চান গবেষকরা
‘চিকিৎসকেরা সতর্ক করলেও সাবধান হয়নি ভারত সরকার’
মাস্ক পরতে হবে না ওয়ালমার্ট ক্রেতাদের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পিসিআর টেস্টের চেয়ে কার্যকর কুকুরের নাক

পিসিআর টেস্টের চেয়ে কার্যকর কুকুরের নাক

পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর। ছবি: খালিজ টাইমস

বিশ্লেষণের পরিসংখ্যানভিত্তিক অনুমান পদ্ধতি বায়েজিয়ান ইনফারেন্স ব্যবহার করে দেখা গেছে, ৩ হাজার ১৩৪ জন ব্যক্তির দেহে করোনা শনাক্তে আরটি-পিসিআর টেস্টের তুলনায় বেশি সঠিক ফল পাওয়া গেছে কুকুরের ঘ্রাণশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে।

করোনাভাইরাস শনাক্তে আরটি-পিসিআর পরীক্ষার চেয়েও বেশি কার্যকর কুকুরের ঘ্রাণশক্তি।

আবুধাবিভিত্তিক এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে এমন তথ্য।

কেন্দ্রীয় শুল্ক কর্তৃপক্ষের বিস্ফোরক শনাক্তকারী কুকুরকে মানুষের ঘামের গন্ধ শুঁকে করোনা শনাক্তের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

দুবাইভিত্তিক পত্রিকা খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৩ হাজার ২৯০ জনের মধ্য থেকে করোনাভাইরাস নেগেটিভ ৩ হাজার ২৪৯ জনকে বাদ দিতে পেরেছে কুকুরগুলো।

এ ছাড়া বিশ্লেষণের পরিসংখ্যানভিত্তিক অনুমান পদ্ধতি বায়েজিয়ান ইনফারেন্স ব্যবহার করে দেখা গেছে, ৩ হাজার ১৩৪ জন ব্যক্তির দেহে করোনা শনাক্তে আরটি-পিসিআর টেস্টের তুলনায় বেশি সঠিক ফল পাওয়া গেছে কুকুরের ঘ্রাণশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে।

মানুষের নাক ও গলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে চালানো হয় আরটি-পিসিআর টেস্ট।

আবুধাবির ফেডারেল শুল্ক কর্তৃপক্ষ, হায়ার কলেজেস অফ টেকনোলজি ও ফোর উইন্ডস কে-নাইন সলিউশনসের অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞরা সমন্বিতভাবে এ গবেষণা চালিয়েছেন।

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচারে গত সপ্তাহে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়।

এতে বলা হয়, উপসর্গবিহীন করোনা আক্রান্তদের শনাক্তেও সক্ষম পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কে-নাইন কুকুর।

৩ হাজার ১৩৪ জনের সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আরটি-পিসিআর টেস্টে যেখানে করোনা শনাক্তে সাফল্যের হার ৭৩ শতাংশ, সেখানে কে-নাইন কুকুরের সাফল্যের হার ৮৯ শতাংশ।

গবেষণার জন্য নমুনা নেয়া হয়েছিল আল মাফরাক ওয়ার্কার্স সিটি পরিদর্শনকারীদের কাছ থেকে।

নমুনাদাতাদের সবাই পুরুষ। তাদের বয়স ১৯ থেকে ৬৭ বছরের মধ্যে। তাদের ৯০ শতাংশের বেশি এশীয় বংশোদ্ভূত। এদের ৩৮ শতাংশ ভারত ও ২৮ শতাংশ পাকিস্তানের।

কুকুরের ঘ্রাণশক্তির মাধ্যমে করোনা শনাক্তে একই ব্যক্তিদের বগলের ঘামও সংগ্রহ করা হয়েছিল।

কেন্দ্রীয় শুল্ক কর্তৃপক্ষের কে-নাইন ইউনিটের পরিচালক আব্দুল সালাম আল শামসির অধীনে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে।

আবুধাবি ও শারজাহ বিমানবন্দর, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট আর দুবাইয়ের কয়েকটি বড় বড় অনুষ্ঠানস্থলে কুকুর দিয়ে করোনাভাইরাস শনাক্তে সাফল্য মিলেছে।

আগে বিভিন্ন হত্যা রহস্য সমাধান এবং বন্দরে পৌঁছানো পণ্যের ভেতর মাদক ও বিস্ফোরক শনাক্তে সাহায্য করেছে এসব কুকুর।

আরও পড়ুন:
করোনার উৎস নিয়ে আরও অনুসন্ধান চান গবেষকরা
‘চিকিৎসকেরা সতর্ক করলেও সাবধান হয়নি ভারত সরকার’
মাস্ক পরতে হবে না ওয়ালমার্ট ক্রেতাদের

শেয়ার করুন

মঙ্গলে চীনের ছাপ

মঙ্গলে চীনের ছাপ

মঙ্গলগ্রহের ইউটোপিয়া প্ল্যানিশিয়া অঞ্চলে চীনের পাঠানো রোভার ঝুরং। ছবি: এএফপি

চায়না ন্যাশনাল স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, মঙ্গলের লাল মাটিতে চীনের লাল পতাকা শোভিত ঝুরঙের ঘুরে বেড়ানোর পথটি স্পষ্ট। এই দাগকেই ‘চীনের ছাপ’ আখ্যা দিয়েছে বেইজিং।

পৃথিবীর নিকটতম প্রতিবেশি মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে চীনের চিহ্ন আঁকলো চীনা রোভার ‘ঝুরং’।

চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার শুক্রবার প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে এ দৃশ্য।

ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোলার প্যানেলের ‘ডানা’ মেলে আর দুই ক্যামেরার ‘চোখ’ ব্যবহার করে মঙ্গলপৃষ্ঠে পাখির ভঙ্গিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে ঝুরং।

গত মে মাসে মঙ্গলে অবতরণ করে চীনের পাঠানো রোভারটি। এর মাধ্যমে মানুষের নির্মিত কোনো অনুসন্ধানী রোবট প্রথমবার সফলভাবে স্পর্শ করে লাল গ্রহটির পৃষ্ঠ।

মহাকাশে চীনের ‘সুপারপাওয়ার’ হওয়ার লক্ষ্যে বেইজিংয়ের মাইলফলক এটি।

চীনে আগুনের দেবতা হিসেবে পরিচিত পৌরাণিক চরিত্র ঝুরঙের নামে নামকরণ করা হয় রোভারটির।

মঙ্গলে অবতরণের পর থেকেই ‘উটোপিয়া প্ল্যানিশিয়া’ নামে পরিচিত বিস্তীর্ণ সমভূমির ‘টোপোগ্রাফি’ বা প্রাকৃতিক স্থানবিবরণী নিয়ে গবেষণা করছে ঝুরং। আগ্নেয়গিরির লাভায় গঠিত ওই অঞ্চলটি।

চায়না ন্যাশনাল স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (সিএনএসএ) প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, মঙ্গলের লাল মাটিতে চীনের লাল পতাকা শোভিত ঝুরঙের ঘুরে বেড়ানোর পথটি স্পষ্ট।

এই দাগকেই ‘চীনের ছাপ’ আখ্যা দিয়েছে বেইজিং।

সৌর শক্তিতে পরিচালিত ছয় চাকার ঝুরঙের ওজন ২৪০ কেজি। আপাতত ছবি তুলে, ভূতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ ও নমুনা হিসেবে পাথর সংগ্রহ করেই সময় কাটছে রোভারটির। এসব কাজ চলবে তিন মাস পর্যন্ত।

সিএনএসএ জানিয়েছে, পরিকল্পনামাফিকই কাজ করছে ঝুরং। মঙ্গলের বুকে এখনও বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে সেটি।

মহাকাশ জয়ের দৌড়ে এখন পর্যন্ত পৃথিবীর বাইরে মানুষ পাঠিয়েছে চীন, চাঁদে যান পাঠিয়েছে আর মঙ্গলে রোভার।

চীনের পর মঙ্গল ছুঁয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আর রাশিয়াও।

সবশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে মঙ্গল স্পর্শ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পাঠানো রোভার পারসিভারেন্স। মঙ্গলে এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে সেটি।

এর আগে মঙ্গলে রোভার সফলভাবে অবতরণ করাতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

আরও পড়ুন:
করোনার উৎস নিয়ে আরও অনুসন্ধান চান গবেষকরা
‘চিকিৎসকেরা সতর্ক করলেও সাবধান হয়নি ভারত সরকার’
মাস্ক পরতে হবে না ওয়ালমার্ট ক্রেতাদের

শেয়ার করুন

`বিস্ময়কর' ব্যাকটেরিয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ৭৭% হ্রাস

`বিস্ময়কর' ব্যাকটেরিয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ৭৭% হ্রাস

অ্যাডিস মশা নিয়ে গবেষণায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের হার ৭৭ শতাংশ কমে যায়। ছবি: বিশ্ব মশা কর্মসূচি

ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া ডেঙ্গু ভাইরাসের পুনরুৎপাদনের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে মানবদেহে অ্যাডিস মশা কামড়ানোর সময় ডেঙ্গু রোগের সংক্রমণ তুলনামূলক কম ঘটে।

ডেঙ্গু জ্বরের জন্য দায়ী অ্যাডিস মশা নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার এক শহরে গবেষণা করেছেন দেশটির একদল বিজ্ঞানী। গবেষণার একপর্যায়ে দেখা যায়, শহরটিতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের হার ৭৭ শতাংশ কমে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সম্প্রতি এমনটাই বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনটির বরাতে বৃহস্পতিবার বিবিসি জানিয়েছে, গবেষণায় ‘বিস্ময়কর’ ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত মশা ব্যবহার করা হয়। ওই ব্যাকটেরিয়া মশার ডেঙ্গু রোগ ছড়ানোর ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

ইন্দোনেশিয়ার ইয়োগিকার্তা শহরে বিজ্ঞানীরা ট্রায়ালটি পরিচালনা করেন। ডেঙ্গু ভাইরাস পুরোপুরি নির্মূলের সম্ভাবনায় ট্রায়ালটি আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।

বিশ্ব মশা কর্মসূচি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়ার বিজ্ঞানীদের গবেষণা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

৫০ বছর আগে অল্পসংখ্যক মানুষ ডেঙ্গু জ্বরের নাম শুনেছিল। এখন এটি মহামারির আকার ধারণ করেছে। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বিশ্বে ক্রমাগত বাড়ছে।

১৯৭০ সালে কেবল বিশ্বের নয়টি দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এখন প্রতিবছর ৪০ কোটি মানুষ এ জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে।

ডেঙ্গু জ্বর ‘ব্রেক-বোন ফিবার’ নামেই বেশি পরিচিত। কারণ এতে আক্রান্ত হলে পেশি ও হাড়ে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।

ইন্দোনেশিয়ার বিজ্ঞানীরা ট্রায়ালে ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত মশা ব্যবহার করেন। গবেষক দলের একজন ড. ক্যাটি অ্যান্ডার্স ওই মশাগুলোকে ‘প্রাকৃতিকভাবে বিস্ময়কর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া মশার কোনো ক্ষতি করে না। তবে মশার যেসব অঙ্গের মধ্য দিয়ে ডেঙ্গু ভাইরাস প্রবেশ করে, সেসব অঙ্গের বাইরে অবস্থায় নেয় এই ব্যাকটেরিয়া।

ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া ডেঙ্গু ভাইরাসের পুনরুৎপাদনের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে মানবদেহে অ্যাডিস মশা কামড়ানোর সময় ডেঙ্গু রোগের সংক্রমণ তুলনামূলক কম ঘটে।

ট্রায়ালে ৫০ লাখ মশার ডিম ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া দিয়ে সংক্রমিত করা হয়। প্রতি দুই সপ্তাহ পরপর ইন্দোনেশিয়ার ইয়োগিকার্তা শহরের ২৪টি এলাকায় কয়েক বালতি পানিতে ডিমগুলো রাখা হয়। ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ সংক্রমিত মশা জন্ম নেয়ার প্রক্রিয়া শেষ হতে নয় মাস সময় লাগে।

ট্রায়ালের ফলে দেখা যায়, শহরটিতে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের হার ৭৭ শতাংশ কমে যায়। ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত মশা প্রকৃতিতে ছাড়ার পর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি ৮৬ শতাংশ রোগীকে।

ড. অ্যান্ডার্স বিবিসিকে বলেন, ‘এটি খুবই রোমাঞ্চকর ঘটনা। সত্যি বলতে কী, এই ঘটনা আমাদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বড় বড় শহরে ওলব্যাকিয়া ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত মশার ডিম রাখলে আরও ভালো ফল পাওয়া যাবে বলে আমরা মনে করছি।’

আরও পড়ুন:
করোনার উৎস নিয়ে আরও অনুসন্ধান চান গবেষকরা
‘চিকিৎসকেরা সতর্ক করলেও সাবধান হয়নি ভারত সরকার’
মাস্ক পরতে হবে না ওয়ালমার্ট ক্রেতাদের

শেয়ার করুন

এই অণুজীবের আয়ু ২৪ হাজার বছর

এই অণুজীবের আয়ু ২৪ হাজার বছর

রেডিওকার্বন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ পাওয়া যায় এই ধরনের অণুজীবগুলো ২৪ হাজার বছর আগের। ছবি: সংগৃহীত

বয়স নির্ধারণে ব্যবহৃত রেডিওকার্বন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ পাওয়া যায় এই ধরনের অণুজীবগুলো ২৪ হাজার বছর আগের। সব বাধা পেরিয়ে তারা এখনও জীবিত এবং বংশবিস্তারে সক্ষম। সোমবারের এই গবেষণা প্রকাশের আগে বিশ্বাস করা হতো, এই রোটিফারগুলো হিমাঙ্কের নিচে সর্বোচ্চ ১০ বছর টিকে থাকতে পারে।

অতিক্ষুদ্রাকার ও বহুকোষী প্রাণী বিডেলয়েডসের দেহে জটিল শারীরিক গঠন থাকায় এরা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বিকিরণ সহনীয় অণুজীব।

এরা তীব্র মাত্রার অম্লতা, অনাহার, কম মাত্রার অক্সিজেন এবং অনেক বছর ধরে চলা পানি শূন্যতা সহ্য করে টিকে থাকতে পারে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞানী ম্যাথিউ ম্যাসেলসন বলেন, ‘এরা (বিডেলয়েডস) বিশ্বে যেকোনো ধরনের প্রতিকূলতার মধ্যেও বেঁচে থাকতে পারে। সহনশীলতার বিবেচনায় এরা বিশ্বের সব প্রাণীকে ছাড়িয়ে গেছে।’

কারেন্ট বায়োলজি নামের একটি জার্নালে গত সোমবার প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, কয়েক হাজার বছর ধরে হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রায় থাকার পরেও বিডেলয়েডস আবার জীবিত হয়ে উঠে।

সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

এরা হচ্ছে গুটি কয়েক টেনসি গোত্রের প্রাণী যা অবিশ্বাস্যরকমভাবে পুরোপুরি অপ্রতিকূল পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকার জন্য সুপরিচিত।

গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা উত্তর-পূর্ব সাইবেরিয়ায় পারমাফ্রস্টের (মাটির নিচে বরফের স্তর) মধ্যে প্রায় ১১ ফুট খনন করে এই জাতীয় শক্তিশালী অণুজীবগুলোর নমুনা সংগ্রহ করেন।

প্রাচীন এসব পারমাফ্রস্টের মধ্যে আবদ্ধ অবস্থায় ১৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় নিচে হাজার হাজার বছর ধরে টিকে রয়েছে এ ধরনের অণুজীব।

গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ওডস হোলে অবস্থিত মেরিন বায়োলজিকাল ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী ক্রিস্টিন গ্রিবল বলেন, ‘তীব্র ক্ষমতাসম্পন্ন এই সব অণুজীব (রোটিফার) চরম প্রতিকূল পরিবেশ সহ্য করে বেঁচে থাকার এটি আরও একটি উদাহরণ।’

বয়স নির্ধারণে ব্যবহৃত রেডিওকার্বন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ পাওয়া যায় এই ধরনের অণুজীবগুলো ২৪ হাজার বছর আগের। সব বাধা পেরিয়ে তারা এখনও জীবিত এবং বংশবিস্তারে সক্ষম।

সোমবারের এই গবেষণা প্রকাশের আগে বিশ্বাস করা হতো, এই রোটিফারগুলো হিমাঙ্কের নিচে সর্বোচ্চ ১০ বছর টিকে থাকতে পারে।

আমাদের চারপাশে শ্যাওলাযুক্ত আর্দ্র স্তূপ, বৃষ্টির পানি, পাখির স্নানের পানি এবং আর্কটিক ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চল এবং এর মধ্যবর্তী সব মিঠা পানিতেই রয়েছে বিডেলয়েড রোটিফার।

মাইক্রোস্কোপের আবিষ্কারের পর থেকেই এদের নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

১৭০২ সালে, অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহোয়েক তার বাড়ির ড্রেনের পানিতে বিডেলয়েড শনাক্ত করেন যাদের তিনি নাম দেন ‘ক্ষুদ্র গোলাকার অণুজীব।’

কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখনও ঠিক বুঝতে পারছেন না যে কীভাবে বিডেলয়েড রোটিফারগুলো তাদের কোষ এবং অঙ্গগুলো ভয়াবহ বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে সুরক্ষিত রাখতে পারে। এবং ভেঙে যাওয়া ডিএনএগুলো আবারও সারিয়ে তুলতে পারে।

নিজেদের টিকিয়ে রাখতে এই অণুজীবগুলোর জৈবিক কৌশলগুলোর ওপর আরও বেশি গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তাদের কোষ, টিস্যু ও অঙ্গ সুরক্ষার এই রহস্য উম্মোচিত হলে তবে মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীদের কোষ ও টিস্যু হাজার বছর টিকিয়ে রাখার যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন বিজ্ঞানীরা।

আরও পড়ুন:
করোনার উৎস নিয়ে আরও অনুসন্ধান চান গবেষকরা
‘চিকিৎসকেরা সতর্ক করলেও সাবধান হয়নি ভারত সরকার’
মাস্ক পরতে হবে না ওয়ালমার্ট ক্রেতাদের

শেয়ার করুন

বৃহত্তম ডাইনোসরের তালিকায় নতুন প্রজাতি

বৃহত্তম ডাইনোসরের তালিকায় নতুন প্রজাতি

বিজ্ঞানীদের কল্পনায় অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম ডাইনোসর অস্ট্রেলোটাইটান কোঅপারেন্সিস। ছবি: কুইন্সল্যান্ড মিউজিয়াম

বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন প্রজাতির ডাইনোসরটি অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে এযাবৎকালে আবিষ্কৃত বৃহত্তম ডাইনোসর। একই সঙ্গে সারা পৃথিবীতে এ পর্যন্ত যত ডাইনোসরের সন্ধান মিলেছে, সেগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ ১৫টি প্রজাতির একটি।

সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে পৃথিবীর বুক থেকে বিলুপ্ত ডাইনোসর নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণা নিয়মিতই নিচ্ছে নতুন মোড়। সবশেষ জানা গেল, অস্ট্রেলিয়ায় বিচরণ ছিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডাইনোসরের।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০০৭ সালে আবিষ্কৃত একটি ডাইনোসরের জীবাশ্মকে নতুন প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন প্রজাতির ডাইনোসরটি অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে এযাবৎকালে আবিষ্কৃত বৃহত্তম ডাইনোসর। একই সঙ্গে সারা পৃথিবীতে এ পর্যন্ত যত ডাইনোসরের সন্ধান মিলেছে, সেগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ ১৫টি প্রজাতির একটি।

এটির নাম দেয়া হয়েছে ‘অস্ট্রেলোটাইটান কোঅপারেন্সিস’ বা ‘দ্য সাদার্ন টাইটান’।

টাইটানোসর গোত্রীয় ডাইনোসরটি প্রায় একটি বাস্কেটবল কোর্টের সমান ছিল। এর উচ্চতা ছিল ২১ ফুট। এটি লম্বায় ছিল ৯৮ ফুটের বেশি।

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে দুই যুগ আগে সন্ধান মেলে ডাইনোসরের কঙ্কালটির।

এটির প্রজাতি এবং পরিচিত অন্যান্য প্রজাতির সঙ্গে এর পার্থক্য নির্ণয়ে গত এক দশক গবেষণা চালিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এ জন্য বিভিন্ন ডাইনোসরের হাড় স্ক্যানের মাধ্যমে তথ্য বিশ্লেষণ করতে হয়েছে তাদের।

অন্যতম প্রধান গবেষক ড. স্কট হকনাল বলেন, ‘কাছাকাছি তিন গোত্র উইনটোনোটাইটান, ডায়াম্যানটাইনোসরাস অ্যান্ড সাভানাসরাসের সমগোত্রীয় এটি। মনে হচ্ছে যেন অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম ডাইনোসরগুলো সবাই বড় একটি সুখী পরিবারের অংশ ছিল।’

প্রত্যন্ত অঞ্চলে কঙ্কালের সন্ধান, বিশাল আকৃতি আর ভঙ্গুর অবস্থার কারণে এটি নিয়ে গবেষণায় লেগেছে দীর্ঘ সময়।

যদিও ডাইনোসরটির দেহাবশেষের অনেকটাই অক্ষত ছিল বলে জানিয়েছেন কুইন্সল্যান্ড মিউজিয়াম ও ইরোমাঙ্গা ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের গবেষকরা।

বিশাল আকৃতির এই ডাইনোসরের মাথা ছিল ক্ষুদ্রাকার। গলা আর লেজ ছিল অনেক লম্বা। খাম্বার মতো মোটা পা ছিল। এই ডাইনোসর ছিল তৃণভোজী।

এর চারণকাল ছিল ৯ কোটি ২০ লাখ থেকে ৯ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে।

আরও পড়ুন:
করোনার উৎস নিয়ে আরও অনুসন্ধান চান গবেষকরা
‘চিকিৎসকেরা সতর্ক করলেও সাবধান হয়নি ভারত সরকার’
মাস্ক পরতে হবে না ওয়ালমার্ট ক্রেতাদের

শেয়ার করুন

শিশুর ভয়ভীতির নিয়ন্ত্রক ব্যাকটেরিয়া!

শিশুর ভয়ভীতির নিয়ন্ত্রক ব্যাকটেরিয়া!

পাকস্থলীর ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে পারে শিশুর ভয়ের অনুভূতি। ছবি: ইউনিসেফ

গবেষক দলের সদস্য রেবেকা নিকমায়ার বলেন, ‘শিশুদের বিকাশে ভয় একটি স্বাভাবিক বিষয়। নানা বিপদ সম্পর্কে সচেতন হতে এটির দরকার রয়েছে। কিন্তু নিরাপদ থাকার সময়েও তারা যদি ভয় পায়, তাহলে পরবর্তী জীবনে এর থেকে উদ্বিগ্নতা ও বিষণ্ণতার মতো অসুখ তৈরি হতে পারে।’

মানুষ অনেক কারণেই ভয় পেতে পারে। কেউ বেশি ভয় পায়, কেউ কম ভয় পায়।

তবে শিশুদের ক্ষেত্রে ভয়ের এই মাত্রা কেমন হবে তার সঙ্গে পাকস্থলীতে থাকা এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির একদল বিজ্ঞানী।

বিজ্ঞান বিষয়ক ওয়েবসাইট সায়েন্স অ্যালার্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আমাদের শরীরের ভেতরে থাকা ক্ষুদ্র জীবাণুগুলো যেভাবে আমাদের অস্তিত্বকে প্রভাবিত করে সেটি বেশ অবাক করার মতোই।

আমাদের শৈশবে পাকস্থলিতে থাকা অণুজীবরা আমাদের পরবর্তী জীবনের অনেক কিছুই নির্ধারণ করতে পারে।

মিশিগান ইউনিভার্সিটির ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব শিশুদের পাকস্থলিতে অণুজীবের ভারসাম্য কম, তারা পাকস্থলীতে অণুজীবের ভারসাম্য থাকা শিশুদের তুলনায় অল্পতেই বেশি ভয় পেয়েছে।

গবেষণায় এক বছর বয়সী ৩০ শিশু অংশ নিয়েছিল। গবেষকরা তাদের ভয় দেখাতে হ্যালোইন মুখোশ পরে হাজির হয়েছিলেন। তবে পুরো গবেষণাটিই এমনভাবে পরিচালিত হয়েছিল যাতে শিশুরা খুব বেশি ভয় না পায়। এসময় তাদের অভিভাবকরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

গবেষণায় অংশ নেয়া শিশুদের মল পরীক্ষা করে পাকস্থলীর অণুজীবের পরিমাণ বোঝার চেষ্টা করা হয়েছিল।

গবেষণায় দেখা যায়, পাকস্থলীতে ব্যাকটেরিওডস নামের অণুজীবের কম উপস্থিতি এবং ভেইল্লোনেল্লা, ডায়ালিস্টার, বিফিডোব্যাকটেরিয়াম, ল্যাকটোবেসিলাসক্লস্ট্রিডায়ালস নামের অণুজীবের আধিক্য বেশি ভয় পাওয়ার পেছনে দায়ী।

গবেষক দলের সদস্য রেবেকা নিকমায়ার বলেন, ‘শিশুদের বিকাশে ভয় একটি স্বাভাবিক বিষয়। নানা বিপদ সম্পর্কে সচেতন হতে এটির দরকার রয়েছে। কিন্তু নিরাপদ থাকার সময়েও তারা যদি ভয় পায়, তাহলে পরবর্তী জীবনে এর থেকে উদ্বিগ্নতা ও বিষণ্ণতার মতো অসুখ তৈরি হতে পারে।’

গবেষকরা বলছেন, পাকস্থলীতে অণুজীবের তারতম্য কেন ভয়ের মাত্রার ওপরেও প্রভাব ফেলে সেটি নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন:
করোনার উৎস নিয়ে আরও অনুসন্ধান চান গবেষকরা
‘চিকিৎসকেরা সতর্ক করলেও সাবধান হয়নি ভারত সরকার’
মাস্ক পরতে হবে না ওয়ালমার্ট ক্রেতাদের

শেয়ার করুন

২০০ কোটি বছরের পুরোনো পানি কানাডায়

২০০ কোটি বছরের পুরোনো পানি কানাডায়

কানাডার অন্টারিওতে ভূপৃষ্ঠের গভীরে ২০০ কোটি বছরের পুরোনো পানি। ছবি: সংগৃহীত

প্রাচীন এই পানির সঙ্গে মিশে থাকা বিভিন্ন গ্যাস (যেমন: হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ও জেনন) বিশ্লেষণ করে এর বয়স বের করতে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

কানাডায় মিলেছে ২০০ কোটি বছরের পুরোনো পানি, যা পৃথিবীর প্রাচীনতম বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

সায়েন্স অ্যালার্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়, অন্টারিওর কিড মাইন খনিতে ভূপৃষ্ঠের প্রায় দুই মাইল গভীরে একটি প্রাচীন পুলে আবিষ্কৃত হয় এই পানি।

সর্বপ্রথম ২০১৩ সালে ওই এলাকায় বিশ্বের গভীরতম একটি ধাতব পদার্থের খনিতে যে পানির সন্ধান পান বিজ্ঞানীরা, সেটি ছিল ১৫০ কোটি বছরের পুরোনো। সেটি ছিল ভূপৃষ্ঠের দেড় মাইল গভীরে।

এর গভীরতা দেখে মাটি আরও খুঁড়ে যেতে উৎসাহ পান বিজ্ঞানীরা। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে বেরিয়ে আসে এর চেয়েও পুরোনো পানির খোঁজ।

সে সময় টরন্টো ইউনিভার্সিটির জিওকেমিস্ট বারবারা শেরউড লোলার বিবিসিকে বলেছিলেন, ‘২০১৩ সালের আবিষ্কারের পর বহমান পানির প্রবাহ কত পুরোনো হতে পারে, সে বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হয় আমাদের। তাই গবেষণা চালিয়ে যাই আমরা। খনিটি অনেক গভীর বলে সেটির সঙ্গে সঙ্গে আমরাও ভূপৃষ্ঠের গভীর থেকে গভীরতম অংশে পৌঁছাতে পেরেছি।’

২০১৬ সালে আবিষ্কৃত প্রাচীন পানির দ্বিতীয় উৎসটি ছিল বিজ্ঞানীদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি।

শেরউড লোলার বলেন, ‘যখন কেউ শোনে এই পানির কথা, তারা ভাবে পাথরে আটকে থাকা সামান্য একটু পানি হয়তো আমরা খুঁজে পেয়েছি। কিন্তু আসলে যে পরিমাণ পানির সন্ধান পেয়েছি, তা অনেক। প্রতি মিনিটে এর গতিবেগ এক লিটার।’

ভূগর্ভস্থ পানির স্রোত সাধারণত ভূপৃষ্ঠের বহমান পানির স্রোতের তুলনায় অনেক ধীরগতির হয়ে থাকে। বছরে ভূগর্ভস্থ পানির গতিবেগ এক মিটার পর্যন্ত হতে পারে।

কিন্তু খননের পর ভূগর্ভস্থ পানির স্রোতের গতিবেগ প্রতি মিনিটে দুই লিটার।

প্রাচীন এই পানির সঙ্গে মিশে থাকা বিভিন্ন গ্যাস (যেমন: হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ও জেনন) বিশ্লেষণ করে এর বয়স বের করতে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

এ নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশ হয় ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ফ্রান্সিসকোতে আমেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়নের নিয়মিত বৈঠকে।

এর আগে অক্টোবরের গবেষণায় জানা যায়, ভূপৃষ্ঠ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন এই পানি যে পরিবেশে উৎপন্ন হয়েছে, সেটি স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্র জন্ম দিতে সক্ষম। আর এই বাস্তুতন্ত্র টিকে থাকতে পারে কয়েক শ কোটি বছর।

অবশ্য এখনও সেখানে জীবন্ত কোনো প্রাণের সন্ধান পাননি বিজ্ঞানীরা। গবেষণার বাকি আরও অনেক।

বিজ্ঞানীদের আশা, আরও এমন কিছু প্রাচীন পানির উৎসের সন্ধান মিলতে পারে যা আরও বিশদ অনুসন্ধানে সাহায্য করবে তাদের।

আরও পড়ুন:
করোনার উৎস নিয়ে আরও অনুসন্ধান চান গবেষকরা
‘চিকিৎসকেরা সতর্ক করলেও সাবধান হয়নি ভারত সরকার’
মাস্ক পরতে হবে না ওয়ালমার্ট ক্রেতাদের

শেয়ার করুন