দুই মিনিটে ঘুমিয়ে পড়বেন যেভাবে

দুই মিনিটে ঘুমিয়ে পড়বেন যেভাবে

ঘুমানোর জায়গা ভালো না হওয়া, শরীরের অসুবিধাজনক অবস্থান, দুশ্চিন্তাসহ ঠিক সময়ে ঘুম না আসার অনেক কারণ রয়েছে। অনেক সময় নিছক ঘুমানোর চেষ্টার কারণেও ঘুম আসতে দেরি হতে পারে।

বিছানায় ওলটপালট করছেন অথচ ঘুম আসছে না? ঘুমানোর চেয়ে বেশি সময় নষ্ট হচ্ছে ঘুমানোর চেষ্টায়? ঘুমের এমন সমস্যা আপনার একার নয়।

সুস্থ থাকার জন্য প্রত্যেক মানুষেরই ঘড়ি ধরে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম আমাদের উজ্জীবিত করে, মাথা ঠাণ্ডা রাখে, হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখে ও এতে শরীরের বাড়তি ওজনও কমে।

ঘুমানোর জায়গা ভালো না হওয়া, শরীরের অসুবিধাজনক অবস্থান, দুচিন্তাসহ ঠিক সময়ে ঘুম না আসার অনেক কারণ রয়েছে। অনেক সময় নিছক ঘুমানোর চেষ্টার কারণেও ঘুম আসতে দেরি হতে পারে!

ঘুমের এই সমস্যার সমাধান কী? কীভাবে আমরা দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে পারি?

অনেক টোটকা সমাধানের পাশাপাশি দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার কিছু বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির কথা জানানো হয়েছে টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে।

সামরিক পদ্ধতি

দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। প্রথমে মুখের পেশিগুলোকে শিথিল করে নিন। ঘাড়ের পেশিকেও শিথিল করে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন। দুই পা ও উরুকে শিথিল করে কোনো একটি সুন্দর দৃশ্যের কথা ভাবুন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনি দেখবেন, ঘুমিয়ে পড়েছেন!

যত বেশি সময় ধরে এটি অনুশীলন করবেন, তত দ্রুত আপনি ঘুমিয়ে পড়তে পারবেন।

৪-৭-৮ পদ্ধতি

জিহ্বাকে মুখের তালুতে ঠেকান। ঠোঁট বন্ধ রেখে জিহ্বা একইরকম রাখুন। এখন ধীরে ধীরে ঠোঁট খুলুন এবং মুখ দিয়ে শ্বাস ছাড়ুন। আবার শ্বাস নিয়ে ঠোঁট বন্ধ করুন। এক থেকে চার পর্যন্ত গুনে সাত সেকেন্ড শ্বাস বন্ধ রাখুন। এবার আট সেকেন্ড ধরে শ্বাস ছাড়ুন।

অন্তত চার বার এই ৪-৭-৮ পদ্ধতিটি অনুশীলনে আপনার পুরো শরীর শিথিল হয়ে আসবে এবং আপনি ঘুমিয়ে পড়বেন।

তবে যাদের শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা আছে তারা পদ্ধতিটি অনুসরণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

প্রগ্রেসিভ মাসল রিল্যাক্সাসেশন (পিএমআর)

নিদ্রাহীনতায় ভোগা মানুষদের জন্য এটি খুবই কার্যকরী পদ্ধতি। প্রথমে আপনার চোখের ভ্রূ অন্তত পাঁচ সেকেন্ডের জন্য উপরের দিকে তুলে রাখুন। এর ফলে কপালে কিছুটা চাপ পড়বে। ভ্রূ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে দশ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন। এবার দুই গাল চওড়া করে হাসার ভান করুন। কয়েক সেকেন্ড পরে মুখ স্বাভাবিক অবস্থায় আনুন। একটু পরে শরীরের বিভিন্ন অংশ শিথিল করুন। এর ফলে আপনার সমস্ত দুশ্চিন্তা দূর হবে এবং দ্রুত ঘুমিয়ে পড়বেন।

প্যারাডক্সিক্যাল ইনটেনশন

আপনি যদি প্রায়ই নিদ্রাহীনতায় ভোগেন তাহলে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার জন্য এটি ভালো উপায়। এতে শিথিল হওয়ার বদলে শরীরকে জেগে থাকতে বলা হয়। এর ফলে শরীর দ্রুতই নিজেকে ক্লান্ত মনে করে ও ঘুমিয়ে পড়তে চায়। এই পদ্ধতি খুব একটা প্রচলিত না হলেও অন্য যেকোনো উপায়ের চেয়ে দ্রুত কাজ করে।

এই কৌশলগুলো ছাড়াও দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার জন্য স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা জরুরি। পুষ্টিকর খাবারও এক্ষেত্রে ভালো ভূমিকা রাখে। ঘুমাতে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে ক্যাফেইন বা উত্তেজক পানীয় পরিহার করতে হবে। রাতে হালকা খাবার পাকস্থলীকে চাপমুক্ত রাখে। এটি ভালো ঘুমে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন:
আসছে শীত, নিচ্ছে তারা ঘুমের প্রস্তুতি...

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চীনের মঙ্গল জয়

চীনের মঙ্গল জয়

মঙ্গলগ্রহে দ্বিতীয় দেশ হিসেবে মহাকাশযান পাঠিয়েছে চীন। ছবি: সিএনএসএ

মঙ্গলে এতদিন পর্যন্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে মহাকাশযান অবতরণ করাতে পেরেছিল। চীন সেই হিসাবে দ্বিতীয় দেশ হয়ে মঙ্গলে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিল।

মঙ্গল গ্রহে সফলভাবে মহাকাশযান অবতরণ করাতে পেরেছে চীন।

দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম শনিবার মঙ্গলে রোবট অবতরণ করানোর কথা জানিয়েছে।

ছয় চাকার ঝুরং নামের রোবটটি গ্রহের উত্তর গোলার্ধের ইউটোপিয়া প্ল্যাটিনিয়াকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ধরে এগিয়ে যায়।

যানটি নামার সময় একটি সুরক্ষিত ক্যাপসুল, একটি প্যারাস্যুট ও রকেট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিরূপ আবহাওয়াতেও সফলভাবে রোবটটির অবতরণকে বড় ধরনের অর্জন হিসেবেই দেখছে চীন।

মঙ্গলে এতদিন পর্যন্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে মহাকাশযান অবতরণ করাতে পেরেছিল। চীন সেই হিসাবে দ্বিতীয় দেশ হয়ে মঙ্গলে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিল।

ঝুরং অর্থ আগুনের ঈশ্বর। মহাকাশযানটি মঙ্গলবার তিয়েনওয়েন-১ কক্ষপথে যায়। এটি গত ফেব্রুয়ারিতে গ্রহের ওপর এসে পৌঁছেছিল।

যানটি একটি সুরক্ষিত স্থানে অবতরণ করানোর জন্য ইউটোপিয়ায় সমীক্ষা চালায়। অবতরণ করানোর অনেক আগেই উচ্চ রেজ্যুলেশনের ছবি নেয়া শুরু হয়।

ছবি নেয়ার উদ্দেশ্য ছিল, এমন একটি জায়গা বাছাই করা যেখানে রোবটটির অবতরণ সহজ হয়। এমন জায়গা খোঁজা হচ্ছিল যেখানে বড় কোনো পাথর নেই।

চীনের প্রকৌশলীরা খুব সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করেছেন।

পৃথিবী থেকে মঙ্গলের দূরত্ব ৩২ কোটি কিলোমিটার। এই দূরত্ব থেকে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি পৃথিবীতে আসতে সময় লাগবে কমপক্ষে ১৮ মিনিট।

ঝুরং অবতরণ করানোর প্রতিটি ধাপই খুব সাবধানে ও নিজস্বতার সঙ্গে করতে হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট প্রটোকল মেনে সেটি অবতরণ করানো হয়েছে বলে জানিয়েছে চীন।

অবতরণের সময় প্রথমে ক্যাপসুলটি মার্টেন বায়ুর চাপ ধীরে ধীরে কমিয়ে এনে নামতে শুরু করে। এর পরপরই এর গতি কমাতে প্যারাস্যুটটি খুলে যায়। শেষ পর্যন্ত রোবটটি রকেটচালিত যান থেকে ধীরে ধীরে মঙ্গলের মাটি স্পর্শ করে।

চীন দীর্ঘদিন থেকেই মঙ্গলে যান পাঠানোর চেষ্টা করে আসছে। শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা সফল হলো। এর আগে চীন নিজেদের ছাপ রেখেছে চাঁদেও।

ঝুরং রোবটটি মঙ্গলে অবতরণ করাতে গত ৯০ দিন দেশটির বিজ্ঞানীরা কঠোর পরিশ্রম করেছেন বলে জানায় চীন। ২৪০ কেজি ওজনের রোবটটির পুরোটাই সৌরশক্তিনির্ভর।

মঙ্গলে মহাকাশযানটির সফল অবতরণের পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
আসছে শীত, নিচ্ছে তারা ঘুমের প্রস্তুতি...

শেয়ার করুন

তিন বছরেই স্বাবলম্বী বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

তিন বছরেই স্বাবলম্বী বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

মহাকাশে পাঠানোর তিন বছর পরে এসে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের বার্ষিক আয় এক কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি।

বিসিএসসিএলের চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নিজের খরচে তো আমরা অবশ্যই চলি। বাৎসরিক আয়ের মাত্র এক শতাংশ লাগে এ কোম্পানি চালাতে। আমাদের টিভি চ্যানেলগুলো নিয়মিত বিল শোধ করলে এ কোম্পানি চালানো কোনো ব্যাপারই না। নিজস্ব টাকাতেই চলতে পারব।’

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণের তিন বছরেই নিজেদের অর্থে ব্যয় নির্বাহ শুরু করেছে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল)। এরই মধ্যে মহাকাশে কোম্পানির দ্বিতীয় কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ পাঠানো প্রস্তুতি নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সবচেয়ে বড় সফলতা ধরা হয় মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পাঠানো। তিন বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালের ১২ মে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ কেনাভেরালে কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে সফল উৎক্ষেপণ করা হয় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১।

উৎক্ষেপণের ছয় মাস পর স্যাটেলাইটের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বুঝে পায় বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে মহাকাশে স্যাটেলাইট প্রেরণকারী ৫৭তম দেশ হওয়ার গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ হয়েছে ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা।

দেশের প্রথম কৃত্রিম এ উপগ্রহ উৎক্ষেপণের চিন্তা শুরু হয় ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পরপরই। এর নকশা তৈরির পরামর্শক নিয়োগ করা হয় ২০১২ সালে। নকশা প্রস্তুত হওয়ার পর প্রায় ১ হাজার ৬৫২ কোটি টাকায় ফ্রান্সের থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেসের কাছ থেকে কেনা হয় দেশের প্রথম স্যাটেলাইটটি।

বঙ্গবন্ধু-১ মূলত একটি যোগাযোগ স্যাটেলাইট। এটি দিয়ে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো তাদের অনুষ্ঠান প্রচার করছে। পাশাপাশি ডিজিটাল নানা সেবা পৌঁছে যাচ্ছে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও।

বিসিএসসিএলের চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নিজের খরচে তো আমরা অবশ্যই চলি। বাৎসরিক আয়ের মাত্র এক শতাংশ লাগে এ কোম্পানি চালাতে। আমাদের টিভি চ্যানেলগুলো নিয়মিত বিল শোধ করলে এ কোম্পানি চালানো কোনো ব্যাপারই না। নিজস্ব টাকাতেই চলতে পারব।’

বিসিএসসিএল কর্মকর্তারা জানান, বছরে এই স্যাটেলাইট থেকে গড়ে এক কোটি ২০ লাখ টাকা করে আয় হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এ মোট ট্রান্সপন্ডার সংখ্যা ৪০। শুরুতে সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, দেশের জন্য ২০টি রেখে বাকিগুলো বিদেশি গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা হবে।

বিসিএসসিএল বলছে, উৎক্ষেপণের দুই বছরেও কোনো ট্রান্সপন্ডার বিদেশি কোনো গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা যায়নি।

বিসিএসসিএল চেয়ারম্যান শাহজাহান মাজমুদ বলেন, ‘যখন মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়, তখন পৃথিবীতে স্যাটেলাইটের সংখ্যা খুব বেশি ছিল না। স্যাটেলাইট ব্যান্ডইউথ বা ফ্রিকোয়েন্সির দামও ছিল অনেক বেশি।

‘কিন্তু দেখা গেল, এটা উঠতে উঠতে পৃথিবীর অনেক দেশ অনেক স্যাটেলাইট তুলে ফেলেছে। এতে স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইডথের দাম অনেক কমে যায়। এ জন্য আমরা আগের পরিকল্পনা মতো বাইরে বিক্রি করতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে অফার আছে। ফিলিপিন, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল আমাদের অফার দিয়েছে। কিন্তু দাম অনেক কম। আমরা বলেছি, এ দামে আমরা বিক্রি করব না। এ জন্য আমরা বাইরে বিক্রি করিনি।’

টেলিভিশন সম্প্রচারের বাহিরেও বর্তমানে দেশের ৪০টি প্রত্যন্ত দ্বীপে টেলিমেডিসিন ও টেলি এডুকেশন সেবা দিচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।

বিসিএসসিএল চেয়ারম্যান বলেন, ‘যারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকেন, যেমন দ্বীপ কিংবা রিমোট এলাকা বা পার্বত্য এলাকায়, যেখানে ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল যায় না, সেখানে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ব্যান্ডউইথ আমরা পৌঁছে দিতে পারি। আমরা এরই মধ্যে মূল ভূখণ্ড থেকে অনেক দুরে অবস্থান করা ৪০টি দ্বীপে প্রযুক্তিসেবা পৌঁছে দিচ্ছি।

‘ওই সমস্ত জায়গায় হয়তো ভালো চিকিৎসক পাওয়া যাবে না, সেখানে এখানকার চিকিৎসকদের দিয়ে টেলিমেডিসিন সেবা দেয়া হচ্ছে। আরেকটি হচ্ছে, টেলি এডুকেশন। সেখানে হয়তো ভালো শিক্ষা ব্যবস্থা নেই, ভালো শিক্ষক নেই। কিন্তু এই পদ্ধতিতে আমরা এখানকার শিক্ষকদের দিয়ে সেখানে শিক্ষা পৌঁছে দিচ্ছি।’

আসছে বঙ্গবন্ধু-২

বঙ্গবন্ধু-১ এর সফলতার পর এবার দেশের দ্বিতীয় কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিসিএসসিএল। এটির নাম ঠিক করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগেই মহাকাশে পাঠানো হবে এ স্যাটেলাইট। সে হিসেবে ২০২৩ সালে দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ করবে সরকার।

বঙ্গবন্ধু-১ একটি জিওস্টেশনারি কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট, যা কাজে লাগছে যোগাযোগের জন্য। আবহাওয়া, সামরিক বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত সুবিধা এতে মিলছে না। সেই ঘাটতি পূরণেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বিসিএসসিএলের চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা মনে করি, যদি জুন মাসে অর্ডার দিতে পারি, তাহলে দেড় বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালের গোড়ার দিকে বা প্রথম কোয়ার্টারে আমরা স্যাটেলাইট পাঠাতে পারব।

‘দ্বিতীয় স্যাটেলাইটটির কার্যপরিধি বিস্তৃত থাকবে। এটি অনেকটা হাইব্রিড স্যাটেলাইট হতে পারে। স্যাটেলাইটটিকে আবহাওয়া, নজরদারি বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।’

আরও পড়ুন:
আসছে শীত, নিচ্ছে তারা ঘুমের প্রস্তুতি...

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো ছাড়া হলো জিএম মশা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো ছাড়া হলো জিএম মশা

অ্যাডিস অ্যাজিপ্টি মশা। ছবি: সংগৃহীত

অক্সিটেকের মডিফায়েড মশার (যার সবই পুরুষ) অভ্যন্তরে এক ধরনের প্রাণঘাতী জিন রয়েছে। যখন মডিফায়েড মশাটি বন্য স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হয়, তখন তাদের লার্ভার মধ্যে ওই প্রাণঘাতী জিনটি প্রবেশ করে।

রোগ বহনকারী মশা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফ্লোরিডা কিজ দ্বীপপুঞ্জে জেনেটিক্যালি মডিফায়েড (জিএম) মশা ছেড়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বায়োটেকনোলজি কোম্পানি অক্সিটেক।

এর মধ্য দিয়ে উত্তর আমেরিকার দেশটিতে প্রথমবারের মতো জিএম মশা প্রকৃতিতে মুক্ত করা হয়।

এর আগে নিজেদের মডিফায়েড অ্যাডিস অ্যাজিপ্টি মশা ব্রাজিল, কেম্যান আইল্যান্ডস, পানামা ও মালয়েশিয়ায় ছেড়েছিল অক্সিটেক।

সে সময় কোম্পানিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ওইসব এলাকায় স্থানীয় অ্যাডিস অ্যাজিপ্টি মশার সংখ্যা কমপক্ষে ৯০ শতাংশ কমে যায়।

জিকা, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও হলুদ জ্বরের মতো রোগ বহন করে অ্যাডিস অ্যাজিপ্টি মশা। কীটনাশক ব্যবহার না করেই মডিফায়েড মশা রোগ বহনকারী অ্যাডিস অ্যাজিপ্টির বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে সক্ষম বলে দেখা যায়।

অক্সিটেকের মডিফায়েড মশার (যার সবই পুরুষ) অভ্যন্তরে এক ধরনের প্রাণঘাতী জিন রয়েছে। যখন মডিফায়েড মশাটি বন্য স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হয়, তখন তাদের লার্ভার মধ্যে ওই প্রাণঘাতী জিনটি প্রবেশ করে।

জিনটি পুরুষ মশার কোনো ক্ষতি না করলেও এটি স্ত্রী লার্ভার মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রোটিন গঠনে বাধা দেয়। এতে পরিপক্ব হওয়ার আগেই ওইসব লার্ভার মৃত্যু হয়।

স্ত্রী মশাই কেবল মানুষকে কামড়ায়। মডিফায়েড মশা ও তাদের বেঁচে থাকা পুরুষ লার্ভা মানুষের মধ্যে রোগের সংক্রমণ ঘটাতে পারে না।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল নেচারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লোরিডা কিজ দ্বীপপুঞ্জে থাকা মশার মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ অ্যাডিস অ্যাজিপ্টি গোত্রের। তা সত্ত্বেও এটি ওই এলাকায় ব্যাপকসংখ্যক মানুষের মধ্যে মশাবাহিত রোগের সংক্রমণ ঘটায়।

এ গোত্রের মশা নিয়ন্ত্রণে প্রতি বছর ১০ লাখ ডলার অর্থ বরাদ্দ রাখতে হয় ফ্লোরিডা কিজ মসকিটো কন্ট্রোল ডিস্ট্রিক্ট (এফকেএমসিডি) বোর্ডকে।

জেনেটিক্যালি মডিফায়েড মশার বিষয়ে বোর্ডের ভাষ্য, পরিবেশে কয়েক লাখ জিএম মশা ছেড়ে দিলে তা তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী ও কার্যকর বিকল্প হতে পারে।

নেচারের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১০ সালে মশা নিয়ন্ত্রণে প্রথম অক্সিটেকের শরণাপন্ন হয় এফকেএমসিডি। এক দশকের মূল্যায়ন ও স্থানীয় পর্যায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এফকেএমসিডি ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ) ফ্লোরিডা কিজ দ্বীপপুঞ্জে জিএম মশা ছাড়ার অনুমোদন দেয়।

চলতি বছরের এপ্রিলের শেষের দিকে ফ্লোরিডা কিজ দ্বীপপুঞ্জের কাডজো কি, রামরড কি ও ভ্যাকা কি এলাকার ছয়টি স্থানে মশার ডিমের বাক্স রাখা হয়। ১২ সপ্তাহের মধ্যে ওইসব বাক্স থেকে প্রায় ১২ হাজার নতুন পুরুষ মশা নির্গত হওয়ার কথা।

চলতি বছরের শেষের দিকে ২ কোটি মশা নিয়ে দ্বিতীয় ট্রায়াল শুরু করবে অক্সিটেক। তার আগে বাক্স থেকে নির্গত ওইসব মশার কাছে প্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্রাথমিক ট্রায়াল শুরু করা হবে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে।

বাক্স থেকে মশা কতদূর পর্যন্ত যায়, কতদিন বাঁচে এবং প্রাণঘাতী জিন প্রবেশ করানোর মধ্য দিয়ে স্ত্রী মশার মৃত্যু ঘটে কি না, এসব পর্যবেক্ষণ করতে ট্রায়ালজুড়ে মশা ধরবে অক্সিটেক।

ট্রায়ালে মডিফায়েড মশা শনাক্তের সুবিধার্থে নতুন জিনের প্রবর্তন করেছে কোম্পানিটি। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট রঙের আলোর নিচে ওইসব মশা জ্বলে উঠবে।

অবশ্য জিএম মশার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয় মশা, প্রাণী বা ইকোসিস্টেমের ওপর জিএম মশার কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ব্রাজিলের জ্যাকোবিনা শহরে জিএম মশা ছাড়ার পর দেখা যায়, মিলনের আগে কয়েকটি স্ত্রী লার্ভাকে মেরে ফেলতে ব্যর্থ হয় জিএম মশার প্রাণঘাতী জিন। তাদের হাইব্রিড লার্ভার মধ্যে ওই প্রাণঘাতী জিনের দেখা মেলেনি। এর বদলে আদি কিউবান ও মেক্সিকান মশার জিন তাদের মধ্যে পাওয়া যায়।

জিএম মশা তৈরিতে আদি কিউবান ও মেক্সিকান মশা ব্যবহার করা হয়েছিল। এই নতুন জিন মশার জীবনচক্রে আদৌ পরিবর্তন ঘটাতে পারে কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

আরও পড়ুন:
আসছে শীত, নিচ্ছে তারা ঘুমের প্রস্তুতি...

শেয়ার করুন

মৌমাছি করবে করোনা শনাক্ত

মৌমাছি করবে করোনা শনাক্ত

মৌমাছির মাধ্যমে করোনাভাইরাস শনাক্তের পদ্ধতির কথা জানিয়েছেন নেদার‍ল্যান্ডসের গবেষকরা। ছবি: সংগৃহীত

নেদারল্যান্ডসের ওয়াগেনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব-পশুচিকিৎসা গবেষণাগারের বিজ্ঞানীরা মৌমাছিদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য সংক্রমিত নমুনা শনাক্তের পর পুরস্কার হিসেবে মিষ্টিপানি দেন। যেসব মৌমাছি নমুনা শনাক্ত করতে পারেনি তাদের কোনো পুরস্কার দেননি গবেষকরা।

কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না, তা পরীক্ষা করতে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে পিসিআর টেস্ট। পিসিআরে পরীক্ষার পর ফল পেতে অপেক্ষা করতে হয় কয়েক ঘণ্টা থেকে শুরু করে কয়েক দিন পর্যন্ত।

তবে নেদারল্যান্ডসের গবেষকরা বলছেন, তারা মৌমাছির মাধ্যমে শনাক্ত করতে পেরেছেন করোনা, যাতে সময় লেগেছে কয়েক সেকেন্ড।

গবেষকরা জানান, করোনা শনাক্তের কাজে লাগানো মৌমাছিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

অস্বাভাবিক ঘ্রাণশক্তির জন্য পরিচিত মৌমাছি। সেই ঘ্রাণশক্তিকেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করে সফল হয়েছেন গবেষকরা।

নেদারল্যান্ডসের ওয়াগেনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব-পশুচিকিৎসা গবেষণাগারের বিজ্ঞানীরা মৌমাছিদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য সংক্রমিত নমুনা শনাক্তের পর পুরস্কার হিসেবে মিষ্টিপানি দেন। যেসব মৌমাছি নমুনা শনাক্ত করতে পারেনি তাদের কোনো পুরস্কার দেননি গবেষকরা।

প্রকল্পটির নেতৃত্ব দেয়া ভাইরোলজির অধ্যাপক উইম ভ্যান ডার পোয়েল বলেন, এই প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠার পর মৌমাছিরা সংক্রমিত নমুনা শনাক্ত করতে পেরে স্বাভাবিকভাবেই তাদের জিহ্বা এগিয়ে দিচ্ছিল পুরস্কারের লোভে।

তিনি বলেন, ‘খামারিদের কাছ থেকে আমরা খুব সাধারণ মৌমাছি সংগ্রহ করি। পরে সেগুলোকে নিরাপদ জায়গায় রাখি।

‘এরপর তারা পজিটিভ নমুনা শনাক্ত করলে মিষ্টিজাতীয় পানি দিই। মৌমাছিরা ভাইরাস শনাক্ত করতে পারলেই এই মিষ্টিপানির জন্য তাদের হুলগুলো এগিয়ে দেয়।’

গবেষকরা জানান, মৌমাছি যখন পান করার জন্য তাদের জিহ্বা স্ট্রর মতো করে সামনে বাড়িয়ে দেয়, তখন নিশ্চিত যে নমুনাটি করোনা পজিটিভ কোনো রোগীর।

গবেষকরা জানান, মৌমাছির কাছ থেকে তাৎক্ষণিক ফল যেমন পাওয়া যায়, তেমনি পতঙ্গটিকে ব্যবহার করে পরীক্ষা চালাতে লাগে না কোনো অর্থ। বিশেষ করে যেসব দেশে করোনা পরীক্ষার স্বল্পতা রয়েছে সেসব দেশে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে।

বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌমাছি, পোকামাকড় ও প্রাণী ইমিউন বিষয়ের অধ্যাপক ডার্ক ডি গ্রাফ মৌমাছি দিয়ে অদূরভবিষ্যতে করোনার নমুনা পরীক্ষাকে বিকল্প মনে করেন না।

তিনি বলেন, এটা চমৎকার ধারণা। তবে করোনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রচলিত পদ্ধতি বা ডায়াগনস্টিক সরঞ্জাম ব্যবহার করাই শ্রেয়। সেখানে মৌমাছি ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

‘মৌমাছিকে আমার খুব পছন্দ। সেদিক থেকে বলতে গেলে আমি মৌমাছি অন্য উদ্দেশ্যেই ব্যবহারের পক্ষপাতী; কোভিড-১৯ শনাক্ত করতে নয়।’

গ্রাফ বলেন, নব্বইয়ের দশক থেকেই গন্ধ শুঁকে বিস্ফোরক ও বিষাক্ত কোনো দ্রব্য শনাক্ত করতে পোকামাকড় যে কার্যকর ভূমিকা রাখে, তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ দেখিয়েছে।

তিনি বলেন, ওয়াগেনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার কার্যকারিতা সম্পর্কে খুব কম জানা যাচ্ছে।

যদিও তিনি বলছেন, একেবাবেই যখন পিসিআর দিয়ে করোনা পরীক্ষার কোনো সুযোগ থাকবে না, তখন মৌমাছি দিয়ে তা করা যাবে।

আরও পড়ুন:
আসছে শীত, নিচ্ছে তারা ঘুমের প্রস্তুতি...

শেয়ার করুন

করোনাভাইরাস প্রভাব ফেলছে মানব জিনে!

করোনাভাইরাস প্রভাব ফেলছে মানব জিনে!

গবেষণায় তিনটি আলাদা ডিএনএ সিক্যুয়েন্সিং কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। আর সব নমুনাতেই ভাইরাল উপাদানের অংশবিশেষ পেয়েছেন গবেষকেরা। তবে তারা বলছেন, এসব অবশেষ নতুন করে সক্রিয় ভাইরাস তৈরি করতে সক্ষম নয়।

কোভিড-১৯-এর জন্য দায়ী করোনাভাইরাসের আরএনএ আণবিক প্রক্রিয়ায় (রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ) রূপান্তরিত হয়ে সংক্রমিত ব্যক্তির ডিএনএকে প্রভাবিত করতে সক্ষম।

এ সংক্রান্ত প্রমাণ উপস্থাপন করে একদল গবেষক বলছেন, করোনাভাইরাসের জিনগত বৈশিষ্ট্য মানব ক্রোমজমে যুক্ত হওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। এর ফলে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শেষ হওয়ার পরেও অনেকে দীর্ঘমেয়াদে অসুস্থ থাকছেন। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে মাস পার হয়ে যাওয়ার পরেও তারা করোনা পজেটিভ হিসেবে শনাক্ত হতে পারেন।

গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির স্টেম সেল বিশেষজ্ঞ রুডলফ জেনিস এবং জিন বিশেষজ্ঞ রিচার্ড ইয়ং। তাদের গবেষণাটি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসে (পিএসএএস) প্রকাশিত হয়েছে

গবেষক দলটি এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে প্রি-প্রিন্ট জার্নাল বায়োআর্কাইভে একটি ধারণাপত্র প্রকাশ করেছিল। তখন এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

অনেকেই তখন অভিযোগ তুলেছিলেন, এ ধরনের ধারণাপত্র ফাইজার, মডার্নার মতো এমআরএনএ টিকা সম্পর্কে জনমনে ভীতি তৈরি করতে পারে। কারণ করোনার আরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করেই এসব টিকা তৈরি হয়েছে। তবে জেনিস ও ইয়ং বলছেন, তাদের গবেষণার ফল কোনোভাবেই টিকাকেন্দ্রিক নয়।

পিএনএএস একটি প্রভাবশালী পিআর রিভিউড জার্নাল, যেখানে যাচাই-বাছাই শেষে গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়।

সায়েন্স ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, মানবদেহে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। হাজার হাজার বছর ধরে এসব ভাইরাসের জিনগত কিছু উপাদান মানুষের জিনের অংশও হয়ে গেছে। লাইন ওয়ান নামে পরিচিত এ ধরনের উপাদান মানব জিনে এখন ১৭ শতাংশ। জেনিস ও ইয়ংয়ের দলের গবেষণায় টেস্ট টিউব প্রমাণ যাচাই করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে করোনাভাইরাসে মানব কোষ আক্রান্ত হওয়ার পর এই ভাইরাসের লাইন ওয়ান নতুন করে কোষের ক্রোমজমে যুক্ত হতে সক্ষম।

এই গবেষণায় তিনটি আলাদা ডিএনএ সিক্যুয়েন্সিং কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। আর সব নমুনাতেই ভাইরাল উপাদানের অংশবিশেষ পেয়েছেন গবেষকেরা। তবে তারা বলছেন, এসব অবশেষ নতুন করে সক্রিয় ভাইরাস তৈরি করতে সক্ষম নয়। এগুলো কেবল মানব ডিএনএতে প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন:
আসছে শীত, নিচ্ছে তারা ঘুমের প্রস্তুতি...

শেয়ার করুন

ইতালির গুহায় ৯ নিয়ানডারথাল

ইতালির গুহায় ৯ নিয়ানডারথাল

রোমের দক্ষিণে প্রাগৈতিহাসিক একটি গুহায় মিলেছে ৯ নিয়ানডারথালের দেহাবশেষ। ছবি: এএফপি

হোমো স্যাপিয়েন্সের আদি রূপ হলো নিয়ানডারথাল। প্রায় ৪০ হাজার বছর আগে পৃথিবীর বুক থেকে নিয়ানডারথালরা বিলুপ্ত হয়ে যায় বলে ধারণা করা হয়।

ইতালির প্রাগৈতিহাসিক একটি গুহায় ৯ নিয়ানডারথালের দেহাবশেষ খুঁজে পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। ধারণা করা হচ্ছে, হিংস্র হায়েনার শিকার হয়েছিল তারা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, উপকূলবর্তী স্যান ফেলিস সির্সেও শহরের গুয়াত্তারি গুহায় মিলেছে নিয়ানডারথালদের হাড়ের জীবাশ্ম। এর মধ্যে আছে খুলির অংশ আর চোয়ালের হাড়ের টুকরাও।

বিজ্ঞানের পরিভাষায় মানুষ তথা হোমো স্যাপিয়েন্সের আদি রূপ হলো নিয়ানডারথাল। প্রায় ৪০ হাজার বছর আগে পৃথিবীর বুক থেকে নিয়ানডারথালরা বিলুপ্ত হয়ে যায় বলে ধারণা করা হয়।

এখনকার মানুষের মধ্যেও নিয়ানডারথালদের ডিএনএর সামান্য অংশ বিদ্যমান বলে জানান বিজ্ঞানীরা।

সদ্য আবিষ্কৃত ৯ নিয়ানডারথালের দেহাবশেষ সম্পর্কে ইতালির সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এদের মধ্যে ৮ নিয়ানডারথালের দেহাবশেষ ৫০ হাজার থেকে ৬৮ হাজার বছর আগের। আর সবচেয়ে পুরোনো নিয়ানডারথালের দেহাবশেষ ৯০ হাজার থেকে এক লাখ বছরের পুরোনোও হতে পারে।

রোমের ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গুহায় পাওয়া গেছে নিয়ানডারথালের কঙ্কালগুলো। এর মধ্যে সাতটি পুরুষের, একটি নারীর ও আরেকটি কিশোর নিয়ানডারথালের কঙ্কাল।

তর ভের্জাটা ইউনিভার্সিটির প্রত্নতত্ত্বের অধ্যাপক মারিও রোলফো জানান, এই নিয়ানডারথালদের হায়েনারা হত্যার পর খাওয়ার জন্য মৃতদেহগুলো টেনেহিঁচড়ে গুহায় এনে ফেলেছিল।

তিনি বলেন, ‘অসুস্থ ও বয়স্ক নিয়ানডারথালদের শিকার করত হায়েনারা।’

ইতালির সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী দারিও ফ্রাঞ্চেসচিনি বলেন, ‘এটা এমন একটি আবিষ্কার যা নিয়ে সারা বিশ্বে আলোচনা হবে। এই আবিষ্কারের মাধ্যমে নিয়ানডারথালদের বিষয়ে আরও গবেষণার পথ খুলে যাবে।’

১৯৩৯ সালেও গুয়াত্তারি গুহায় নিয়ানডারথালদের অল্প কিছু দেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছিল। এরপর থেকেই গুহাটি নিয়ানডারথালদের ইতিহাস নিয়ে গবেষণার জন্য অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিচিতি পায়।

প্রাচীনকালেই কোনো এক সময়ে ভূমিকম্প বা ভূমিধসের ফলে বন্ধ হয়েছিল গুহাটি। এ কারণেই সেখানে অনেক প্রাগৈতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষিত আছে বলে ধারণা করা হয়।

আরও পড়ুন:
আসছে শীত, নিচ্ছে তারা ঘুমের প্রস্তুতি...

শেয়ার করুন

মালদ্বীপের কাছে মহাসাগরে আছড়ে পড়ল চীনা রকেট

মালদ্বীপের কাছে মহাসাগরে আছড়ে পড়ল চীনা রকেট

মালদ্বীপের কাছে ভারত মহাসাগরে আছড়ে পড়েছে চীনা রকেটের ধ্বংসাবশেষ।

চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় হাইনান প্রদেশের ওয়েনশ্যাং স্পেস লঞ্চ সেন্টার থেকে গত ২৯ এপ্রিল উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল ১০০ ফুট লম্বা ও ১৬ ফুট চওড়া লং মার্চ-ফাইভবি রকেটটি।

নিয়ন্ত্রণ হারানো ২১ টন ওজনের চীনা রকেট ‘লং মার্চ ফাইভবি’ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর মালদ্বীপের কাছে ভারত মহাসাগরে আছড়ে পড়েছে ।

বেইজিংয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

চায়না ম্যানড স্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং অফিস জানিয়েছে, বেইজিং সময় রোববার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে রকেটটি।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংস্থাটির অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত একটি পোস্টে বলা হয়, দ্রাঘিমারেখার পূর্বে ২৮ দশমিক ৩৮ ডিগ্রি ‌ও অক্ষাংশের ৩৪ দশমিক ৪৩ ডিগ্রি উত্তর কৌণিক অবস্থান থেকে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে যাচ্ছে রকেটটির ধ্বংসাবশেষ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমধ্যসাগরের কোথাও পড়ার কথা ছিল রকেটটির।

চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় হাইনান প্রদেশের ওয়েনশ্যাং স্পেস লঞ্চ সেন্টার থেকে গত ২৯ এপ্রিল উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল ১০০ ফুট লম্বা ও ১৬ ফুট চওড়া লং মার্চ-ফাইভবি রকেটটি।

ওয়েনশ্যাং স্পেস লঞ্চ সেন্টার থেকে গত ২৯ এপ্রিল লং মার্চ-ফাইভবি রকেটের উৎক্ষেপণ দেখছেন উৎসাহী চীনারা। ছবি: এএফপি

২০২২ সালের মধ্যে মহাকাশে চীনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ স্টেশন চালুর লক্ষ্যে গত ২৯ এপ্রিল রকেটটির মাধ্যমে তিয়ানহে মডিউল পাঠায় বেইজিং, যাতে নভোচারীদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। বেইজিংয়ের উচ্চাভিলাষী মহাকাশ কর্মসূচির সবশেষ অগ্রগতি এটি।

চলতি বছরের মধ্যেই আরও অনেক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এ ধরনের কমপক্ষে ১০টি মডিউল কক্ষপথে পাঠানোর পরিকল্পনা আছে বেইজিংয়ের।

বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা একমাত্র মহাকাশ স্টেশন আইএসএসের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, কানাডা, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এতে অংশ নিতে দেয়া হয়নি চীনকে।

২০২৪ সালেই মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে আইএসএসের। ধারণা করা হচ্ছে, এরপর পৃথিবীর কক্ষপথে একমাত্র মহাকাশ স্টেশনটি হবে চীনের।

আকারে চীনেরটি আইএসএসের চার ভাগের এক ভাগ। কিন্তু এতে মহাকাশ গবেষণাগারের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকবে পূর্ব এশিয়ার দেশটির।

আরও পড়ুন:
আসছে শীত, নিচ্ছে তারা ঘুমের প্রস্তুতি...

শেয়ার করুন