স্বপ্নও দেখে অক্টোপাস

স্বপ্নও দেখে অক্টোপাস

মেডেইরস বলেন, ‘অক্টোপাসের সক্রিয় নিদ্রার স্থায়ীত্ব খুবই কম; কয়েক সেকেন্ড থেকে সর্বোচ্চ এক মিনিট পর্যন্ত। এ সময়ে যদি তারা স্বপ্ন দেখেও, তবে তা ছোট কোনো ভিডিও ক্লিপ বা জিফির মতো স্থায়ী হতে পারে।’

পৃথিবীর বিস্ময়কর প্রাণীদের একটি অক্টোপাস। আট পা, তিন হৃদপিণ্ড, নীল রক্ত, ক্যামোফ্লেজের ক্ষমতা, সঙ্গমের পরই মৃত্যু প্রাণীটিকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে। সম্প্রতি অক্টোপাস সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য জানতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রাজিলের একদল বিজ্ঞানীর অক্টোপাস নিয়ে করা গবেষণায় দেখা যায়, অনেকটা মানুষের মতো ঘুমাতে পারে অক্টোপাস। এমনকি স্বপ্নও দেখতে পারে।

ঘুমানোর সময় অক্টোপাসের শরীরের রং পরিবর্তন হয়, তা আগেই জানা। নতুন গবেষণায় দেখা যায়, একভাবে নয়, দুইভাবে ঘুমায় অক্টোপাস, যার একটি ‘নীরব নিদ্রা’ আর অন্যটি ‘সক্রিয় নিদ্রা’। উভয় ক্ষেত্রেই দেহের রঙের পরিবর্তন ঘটে।

নীরব নিদ্রার সময় অক্টোপাস স্থির থাকে। এ সময় তাদের চামড়ার রং বিবর্ণ থাকে; চোখের তারা চেরা থাকে। অন্যদিকে সক্রিয় নিদ্রার সময় তাদের চামড়ার রং ও টেক্সচারে কয়েকবার পরিবর্তন হয়। কোনো কিছুর সংস্পর্শে আসার সময় দুটি চোখই নড়াচড়া করে।

নীরব নিদ্রা সাত মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। আর সক্রিয় নিদ্রার সময়কাল ৬০ সেকেন্ডেরও কম।

অক্টোপাসের ঘুমানোর বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মানুষসহ অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি ও সরীসৃপের সাদৃশ্য রয়েছে।

ব্রাজিলের ফেডারেল ইউনিভার্সিটি অফ রিও গ্রান্ডে ডো নর্তের ব্রেন ইনস্টিটিউটের ডক্টোরাল শিক্ষার্থী মেডেইরস বলেন, ‘যদি অক্টোপাস স্বপ্ন দেখে, তবে তা আমাদের মতো জটিল হওয়ার সম্ভাবনা কম।’

তিনি বলেন, ‘অক্টোপাসের সক্রিয় নিদ্রার স্থায়ীত্ব খুবই কম; কয়েক সেকেন্ড থেকে সর্বোচ্চ এক মিনিট পর্যন্ত। এ সময়ে যদি তারা স্বপ্ন দেখেও তবে তা ছোট কোনো ভিডিও ক্লিপ বা জিফির মতো স্থায়ী হতে পারে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

যে আঘাতে ডাইনোসর বিলুপ্ত, তাতেই জন্ম অ্যামাজনের!

যে আঘাতে ডাইনোসর বিলুপ্ত, তাতেই জন্ম অ্যামাজনের!

গবেষক কার্লোস জারামিলো বলেন, ‘গ্রহাণুটি ভূপাতিত হওয়ার আগের দিনগুলোতে ফিরে গেলে দেখা যাবে এখনকার বনাঞ্চলটি সে সময় এক ধরনের উন্মুক্ত চারণক্ষেত্র ছিল। পুরো অঞ্চলটি প্রচুর ফার্ন, কাঁটাজাতীয় ঝোপঝাড় আর ডাইনোসরে ভর্তি ছিল। আর এখন যে সমৃদ্ধ বনাঞ্চলটি আমরা দেখি, সেটি ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগের একটি ঘটনার ফসল।’

সাড়ে ছয় কোটির বেশি বছর আগে বিশাল আকৃতির একটি গ্রহাণুর আঘাতে পৃথিবীর বুক থেকে ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। বলা হচ্ছে, সেই গ্রহাণুর আঘাতই সর্ববৃহৎ বনাঞ্চল অ্যামাজনের জন্মের কারণ।

পানামার স্মিথসনিয়ান ট্রপিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকরা করেছেন এমন দাবি।

নিউ সায়েন্টিস্ট ডটকমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান মেক্সিকোর ইউকাতান উপদ্বীপে কোটি কোটি বছর আগে আঘাত হেনেছিল গ্রহাণুটি। মেক্সিকো উপসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরের মধ্যবর্তী দ্বীপাঞ্চলটি দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম রেইনফরেস্ট।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, গ্রহাণুর আঘাতের আগে যে রকম গাছপালা ছিল অঞ্চলটিতে, এখনকার প্রাকৃতিক পরিবেশ তার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সাড়ে ছয় কোটি বছর আগের আর পরের পরিবেশে ভিন্নতা স্বাভাবিক হলেও মনে করা হচ্ছে যে এখনকার পরিবেশের সূচনা হয়েছিল গ্রহাণুর আঘাত থেকেই।

গবেষক কার্লোস জারামিলো বলেন, ‘গ্রহাণুটি ভূপাতিত হওয়ার আগের দিনগুলোতে ফিরে গেলে দেখা যাবে এখনকার বনাঞ্চলটি সে সময় এক ধরনের উন্মুক্ত চারণক্ষেত্র ছিল। পুরো অঞ্চলটি প্রচুর ফার্ন, কাঁটাজাতীয় ঝোপঝাড় আর ডাইনোসরে ভর্তি ছিল। আর এখন যে সমৃদ্ধ বনাঞ্চলটি আমরা দেখি, সেটি ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগের একটি ঘটনার ফসল।’

জারামিলো ও তার সহকর্মীরা ফসিলে পরিণত হওয়া হাজার হাজার প্রাগৈতিহাসিক পরাগ ও পাতার নমুনা বিশ্লেষণ করেছেন। দক্ষিণ আমেরিকায় সেগুলোর অস্তিত্ব ছিল গ্রহাণুটির আঘাতের ঠিক আগেই।

গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রহাণুর আঘাতের প্রভাবে অঞ্চলটিতে গাছপালার বৈচিত্র্য কমে গিয়েছিল ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত, যা পুনরুদ্ধার হতে লেগেছে কোটি বছর।

ফসিলে পরিণত পাতায় পোকামাকড়ের কামড় থেকে প্রমাণ মিলেছে যে বৈচিত্র্য এসেছে অ্যামাজনের কীটপতঙ্গেও।

গ্রহাণুর আঘাতের আগে যেসব ত্রিকোণাকার ছোট গাছপালা আর ফার্ন ছিল, গ্রহাণুর আঘাতে সেগুলো প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায়। এরপর অঞ্চলটিতে আধিপত্য ছিল এক ধরনের ফুল গাছের।

গবেষকদের মতে, প্রকৃতিতে বড় ধরনের কোনো আকস্মিক পরিবর্তন এলে তা গোটা বাস্তুতন্ত্রকেই পাল্টে দেয়।

শেয়ার করুন

‘চিকিৎসকদের লিঙ্গ ও জেন্ডারের পার্থক্য বুঝতে হবে’

‘চিকিৎসকদের লিঙ্গ ও জেন্ডারের পার্থক্য বুঝতে হবে’

লিঙ্গ ও জেন্ডার সমার্থক নয়। লিঙ্গের উল্লেখ মানেই এর সঙ্গে জীববিজ্ঞান, অর্থাৎ ব্যক্তির জননকোষ, ক্রোমোজোম, হরমোন ও প্রজনন অঙ্গ সম্পর্কিত। আর ব্যক্তির জেন্ডারের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তির মনস্তত্ত্ব, আচার-আচরণ, অঙ্গভঙ্গি, সামাজিকতাবোধ ইত্যাদি। ফলে রোগীদের মধ্যে দুটি বিষয়ের পার্থক্য নির্ণয় করতে না পারলে চিকিৎসায় বড় ধরনের ফাঁক থেকে যেতে পারে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

লিঙ্গ ও জেন্ডারের পার্থক্য নিয়ে চিকিৎসকদের বিভ্রান্তি চিকিৎসায় ত্রুটির কারণ হতে পারে। চিকিৎসকদের প্রতি এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন স্কটিশ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সেইন্ট অ্যান্ড্রুজ ইউনিভার্সিটির একদল মেডিক্যাল গবেষক বলছেন, প্রায় সময়ই চিকিৎসকরা লিঙ্গ ও জেন্ডারের পার্থক্য গুলিয়ে ফেলেন। এতে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ভুল চিকিৎসা অথবা চিকিৎসা অকার্যকর হয় বলে প্রমাণ মিলেছে।

শুক্রবার চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকী ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয় এ বিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদনটি।

এতে বলা হয়, সুষ্ঠু স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে লিঙ্গ ও জেন্ডারের পুঙ্খানুপুঙ্খ পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারা একজন চিকিৎসকের জন্য খুবই জরুরি। এতে ব্যর্থতা হৃদরোগ থেকে শুরু করে মাদকাসক্তিসহ সব ধরনের রোগীর চিকিৎসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

লিঙ্গ ও জেন্ডারের মধ্যকার পার্থক্যটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারণ করে দিয়েছে আগেই। সহজ সংজ্ঞায়, লিঙ্গ ব্যাপারটি জীববিজ্ঞান সম্পর্কিত; যার মাধ্যমে নারী-পুরুষের জৈবিক পার্থক্য তুলে ধরা হয়। অন্যদিকে, নারী ও পুরুষের সামাজিক পার্থক্য প্রসঙ্গে জেন্ডার শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

লিঙ্গ বা নারী-পুরুষের জৈবিক পার্থক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্যগুলো শারীরিক, সর্বজনীন, অপরিবর্তনীয় ও প্রাকৃতিক।

অন্যদিকে জেন্ডার অর্থাৎ নারী-পুরুষের ওপর সামাজিকভাবে আরোপিত পার্থক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক। ব্যক্তির সামাজিক দায়দায়িত্ব, আচরণ ও প্রত্যাশা জেন্ডার শব্দটির সঙ্গে সম্পৃক্ত; যা স্থান, কাল, সমাজ, সংস্কৃতিভেদে ভিন্ন, পরিবর্তনীয় এবং অনেক সময় ইতিহাসনির্ভরও হতে পারে।

স্কটিশ গবেষক দলটি বলছে, পার্থক্যটি অহরহ গুলিয়ে ফেলছেন চিকিৎসকরা। ফলে সাম্প্রতিক চিকিৎসা দেয়ার সময় লিঙ্গ ও জেন্ডার শব্দ দুটির একটিকে অন্যটির বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের চর্চা বেড়েছে।

সেইন্ট অ্যান্ড্রুজ ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ মেডিসিনের ড. মার্গারেট ম্যাককার্টেনি বলেন, ‘শুধু চিকিৎসকরাই নন, আমাদের সমাজে, এমনকি গবেষকদের মধ্যেও এই চর্চা বাড়ছে। দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে শ্রেণিভুক্ত ও সঠিক ক্ষেত্রে এ দুটির ব্যবহার নিশ্চিত করা না হলে সামগ্রিকভাবে চিকিৎসায় ত্রুটি ও অকার্যকারিতার ঘটনা বাড়বে।’

কিন্তু দুটি শব্দের পার্থক্য নির্ধারণে ভুলের ফলে কেন সব ধরনের রোগীর চিকিৎসায় ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ে?

গবেষণা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, লিঙ্গ ও জেন্ডার সমার্থক নয়। লিঙ্গের উল্লেখ মানেই এর সঙ্গে জীববিজ্ঞান, অর্থাৎ ব্যক্তির জননকোষ, ক্রোমোজোম, হরমোন ও প্রজনন অঙ্গ সম্পর্কিত। আর ব্যক্তির জেন্ডারের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তির মনস্তত্ত্ব, আচার-আচরণ, অঙ্গভঙ্গি, সামাজিকতাবোধ ইত্যাদি।

ফলে রোগীদের মধ্যে দুটি বিষয়ের পার্থক্য নির্ণয় করতে না পারলে চিকিৎসায় বড় ধরনের ফাঁক থেকে যেতে পারে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

লন্ডনের কিংস কলেজের নারী স্বাস্থ্য ও ধাত্রীবিদ্যার ইমেরিটাস অধ্যাপক সুজান বিউলি বলেন, ‘সব ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে এ পার্থক্য সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে না পারলে নিরাপদ ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জটিল হয়ে যায়।’

শেয়ার করুন

গবেষণায় ব্যয় কমলে বিপর্যয়, শঙ্কা যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীদের

গবেষণায় ব্যয় কমলে বিপর্যয়, শঙ্কা যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীদের

গবেষণায় ব্যয় না কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের শীর্ষ বিজ্ঞানীরা। ছবি: এএফপি

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, গবেষণা খাতে তহবিল কমলে মাঝপথে অনেক প্রকল্পের কাজ বাতিল হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া মেধাবী বিজ্ঞানীরা দেশ ছেড়ে অন্য দেশে পাড়ি জমাতে পারেন।

গবেষণা ব্যয় কমানো হলে সার্বিক বিপর্যয় হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী।

তাদের ভাষ্য, গবেষণা খাতে তহবিল কমলে মাঝপথে অনেক প্রকল্পের কাজ বাতিল হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া মেধাবী বিজ্ঞানীরা দেশ ছেড়ে অন্য দেশে পাড়ি জমাতে পারেন।

বুধবার দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারি থেকে শুরু করে জীবাণু প্রতিরোধ, জলবায়ু সংকটসহ অনেক বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা।

দেশটির প্রধান বিজ্ঞানবিষয়ক সরকারি অর্থ প্রদানকারী সংস্থা ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জানায়, অফিশিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্সের (ওডিএ) আওতায় দেয়া অনুদান ২৪ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড থেকে ১২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে নামানো হয়েছে। এর পরপরই ওইসব গবেষণা প্রকল্পে অর্থ সরবরাহ কমে যায়।

চলতি বছরের শুরুর দিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে আসে যুক্তরাজ্য। এর ফলে ইইউর ইন্টারন্যাশনাল হরাইজন প্রোগামে যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীদের গবেষণায় অংশ নিতে ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশনকে প্রতি বছর অর্থ দিতে হবে। অর্থের এ পরিমাণ ২০০ কোটি পাউন্ড, যা দিতে হবে তহবিলটির সাড়ে ৮০০ কোটি পাউন্ডের বার্ষিক বাজেট থেকে।

যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, গবেষণায় বরাদ্দ কমানোর ফলে দেশটির ১৮ হাজার গবেষকের চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

নোবেলজয়ী ও লন্ডনের ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক স্যার পল নার্স বলেন, ‘সরকারের উচিত বিজ্ঞানের পক্ষে সহায়তা দেয়া অব্যাহত রাখা; এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তহবিল কমানো হলে এর পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে। এমনকি অস্তিত্ব সংকটে পড়াও অস্বাভাবিক কিছু নয়।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের এ পদক্ষেপ বিজ্ঞানীদের অন্য জায়গায় চলে যেতে বাধ্য করবে। এটি পারস্পরিক যোগাযোগ ধ্বংস করে দেবে। এটি বিশ্বের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক প্রভাবকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এর কোনো মানে হয় না।’

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাজ্যকে ‘বৈশ্বিক বিজ্ঞানবিষয়ক সুপারপাওয়ারে’ পরিণত করার আকাঙ্ক্ষার কথা বলেছেন। কিন্তু দেশটির বিজ্ঞানীদের ভাষ্য, যেখানে অন্যান্য দেশ গবেষণা খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, সেখানে যুক্তরাজ্য এ খাতে ব্যয় কমাচ্ছে।

করোনাসৃষ্ট সংকটের কারণে চিকিৎসা সংক্রান্ত দাতব্য তহবিলে মন্দা দেখা দিলে যুক্তরাজ্যে গবেষণা খাতে সমস্যা আরও বেড়ে যায়।

শেয়ার করুন

দীর্ঘসময় মহাকাশ ভ্রমণ ও সাঁতার হৃদপিণ্ডের সংকোচন ঘটাতে পারে

দীর্ঘসময় মহাকাশ ভ্রমণ ও সাঁতার হৃদপিণ্ডের সংকোচন ঘটাতে পারে

গবেষণার বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সাঁতার ও লম্বা সময়ের জন্য মহাকাশযাত্রার মাধ্যমে হৃদপিণ্ডের ওপর লোড কমে, যার ফলে অঙ্গটির সংকোচন ঘটে। উভয় ক্ষেত্রে হৃদপিণ্ডে পরিবর্তন ঠেকাতে শারীরিক ব্যায়াম খুব একটা সহায়ক ছিল না।

মহাকাশে দীর্ঘদিন অবস্থান ও দীর্ঘ সময় ধরে সাঁতার কাটলে হৃদপিণ্ড সংকুচিত হতে পারে।

মহাকাশচারী স্কট কেলি ও অ্যাথলেট বেনোয়া লুকোন্টকে নিয়ে করা গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণার বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, দুইটি কাজের মাধ্যমেই হৃদপিণ্ডের ওপর লোড কমে, যার ফলে অঙ্গটির সংকোচন ঘটে। উভয় ক্ষেত্রে হৃদপিণ্ডে পরিবর্তন ঠেকাতে শারীরিক ব্যায়াম খুব একটা সহায়ক ছিল না।

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস শহরের ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস সাউথওয়েস্টার্ন মেডিক্যাল সেন্টার এ সংক্রান্ত গবেষণা পরিচালনা করে। এর নেতৃত্বে ছিলেন ইন্টারনাল মেডিসিনের অধ্যাপক ড. বেঞ্জামিন লেভাইন। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সার্কুলেশনে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়।

মহাকাশে দীর্ঘ সময়ের যাত্রাগুলোর ওপর এ গবেষণার প্রভাব থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আগামী দশকগুলোতে মঙ্গল গ্রহে অভিযান আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে নাসার।

অধ্যাপক লেভাইন বলেন, ‘অনেক বছরের গবেষণা শেষে আমরা যে বিষয়টি জানতে পেরেছি, সেটি হলো আমাদের হৃদপিণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে প্লাস্টিক ধাঁচের। এ কারণে যেকোনো ধরনের ভারের সঙ্গে এটি খাপ খাইয়ে নেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাধ্যাকর্ষণের উল্টো দিকে গিয়ে মহাকাশ ফ্লাইটগুলোতে রক্ত উপরের দিকে পাম্প করা লাগে না।’

মহাকাশে দীর্ঘসময় অবস্থানের প্রভাব শরীরে কেমন পড়ে, তা গবেষণা করতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) ৩৪০ দিন কাটান স্কট কেলি।

অন্যদিকে ২০১৮ সালের ৫ জুন প্রশান্ত মহাসাগরে সাঁতার কাটা শুরু করেন বেনোয়া লুকোন্ট। ১৫৯ দিনে ২ হাজার ৮২১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন তিনি।

দীর্ঘ সময় ধরে সাঁতার হৃদপিণ্ডের ভারে পরিবর্তন ঘটায়। মাধ্যাকর্ষণের কারণে এটি ঘটে। কারণ সাঁতারু উল্লম্ব অবস্থানের চেয়ে আনুভূমিক অবস্থানেই থাকেন বেশি।

দৈনিক গড়ে ৫.৮ ঘণ্টা সাঁতার কাটেন লুকোন্ট। প্রতি রাতে ঘুমাতেন প্রায় আট ঘণ্টা। এর অর্থ দৈনিক ৯ থেকে ১৭ ঘণ্টা চিৎ হয়ে থাকতেন তিনি।

মহাকাশ ফ্লাইট নকল করতে বিজ্ঞানীরা কখনো কখনো বিছানায় বিশ্রাম নিয়ে গবেষণা করেন। কারণ বিছানায় শুয়ে থাকলে মাথা থেকে পা পর্যন্ত গ্রেডিয়েন্ট পুরোপুরি লোপ পায়, যা হৃদপিণ্ডে ভার রাখে। তবে লেভাইনের ভাষ্য, উপুড় হয়ে পানিতে ডুব দেয়া কক্ষপথে থাকার চেয়ে ভালো উদাহরণ।

তিনি বলেন, ‘এখন পা থেকে মাথা পর্যন্ত গ্রেডিয়েন্ট থেকে সরিয়ে এনে ওই ব্যক্তিকে পানিতে ছেড়ে দেন। এর মাধ্যমে আপনি ওই গ্রেডিয়েন্টও সমন্বয় করতে পারবেন। এটা অনেকটা মহাকাশে থাকার মতোই।

‘মহাকাশ ও পানি—দুই ক্ষেত্রেই ব্যক্তি রক্ত উপরের দিকে পাম্প করছেন না। এতে উভয় ক্ষেত্রে হৃদপিণ্ডে ভর কমতে শুরু করে।’

গবেষণা সহযোগী জেমস ম্যাকনামারা বলেন, ‘সাঁতারের পর চার বা পাঁচ মাসের মধ্যে লুকোন্টের হৃদপিণ্ডের বাম নিলয়ে প্রায় ২০-২৫ শতাংশ ভর কমে যায়। গত এক বছরে ক্যাপ্টেন কেলির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে ১৯ ও ২৭ শতাংশ ভর কমতে দেখা যায়।’

গবেষণায় এও বলা হয়েছে, শারীরিক ব্যায়াম হৃদপিণ্ডের ভর কমানো ঠেকাতে পারে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন নভোচারীদের পেশি ও হাড় ক্ষয় রোধে ব্যায়াম করার কথা বলে। তবে ব্যায়ামের পরও ক্যাপ্টেন কেলির হৃদপিণ্ডে সংকোচন ঠেকানো যায়নি।

শেয়ার করুন

১০০ বছরে পৃথিবীতে আঘাত হানবে না অ্যাপোফিস

১০০ বছরে পৃথিবীতে আঘাত হানবে না অ্যাপোফিস

নাসার ছবিতে পৃথিবীর কক্ষপথ অতিক্রম করা গ্রহাণু অ্যাপোফিস।

আগের পূর্বাভাসে ২০২৯, ২০৩৬ ও ২০৬৮ সালে গ্রহাণুটি পৃথিবীতে আঘাত হানার মতো কাছাকাছি আসতে পারে বলে জানিয়েছিল নাসা। নতুন তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সে সব শঙ্কাই পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

১০০ বছরের জন্য হাঁফ ছেড়ে বসতে পারে পৃথিবীবাসী। কারণ অন্তত এ সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবেই পৃথিবীর দিকে আসছে না অ্যাপোফিস গ্রহাণু। জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

২০০৪ সালে প্রথম আবিষ্কৃত হয় ৩৪০ মিটার ব্যাসের গ্রহাণুটি। প্রাচীন মিসরে বিশৃঙ্খলা ও অন্ধকারের দেবতা অ্যাপোফিসের নামে হয় এর নামকরণ।

পৃথিবীর জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক গ্রহাণুগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত অ্যাপোফিস। সবশেষ গত ৫ মার্চ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি আসে গ্রহাণুটি। ১ কোটি মাইল দূর থেকে অতিক্রম করে পৃথিবীকে।

নাসা বলছে, এবার মোটামুটি ১০০ বছরের জন্য অ্যাপোফিসের ঝুঁকি থেকে পৃথিবী মুক্তি। তবে অবশ্যই যদি গ্রহাণুটির এখনকার গতিপথ ও বেগ অব্যাহত থাকে, তা হলেই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

আগের পূর্বাভাসে ২০২৯, ২০৩৬ ও ২০৬৮ সালে গ্রহাণুটি পৃথিবীতে আঘাত হানার মতো কাছাকাছি আসতে পারে বলে জানিয়েছিল নাসা। নতুন তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সে সব শঙ্কাই পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

নাসার পৃথিবীর কাছাকাছি মহাজাগতিক বস্তু বিষয়ক গবেষক ডেভিড ফারনোশিয়া বলেন, ‘শেষ শঙ্কা ছিল ২০৬৮ সালকে ঘিরে। কিন্তু এখন আর সে ঝুঁকিও দেখছি না আমরা। আমাদের হিসাব বলছে, কমপক্ষে আগামী ১০০ বছরের মধ্যে পৃথিবীর নিরাপদ দূরত্ব অতিক্রম করবে না অ্যাপোফিস।

তবে ২০২৯ সালের ১৩ এপ্রিল সবচেয়ে কাছ থেকে পৃথিবীকে অতিক্রম করে যাবে গ্রহানুটি। ভূপৃষ্ঠের ৩২ হাজার কিলোমিটার দূর ঘেঁষে যাবে, যা পৃথিবী ও চাঁদের দূরত্বের ১০ ভাগের ১ ভাগ।

পৃথিবীর পূর্ব গোলার্ধ্ব থেকে অর্থাৎ এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের অংশবিশেষের বাসিন্দারা সে সময় খালি চোখে অ্যাপোফিস দেখতেও পারবেন। এতদিন যে সুযোগ ছিল খালি নভোচারী ও মহাকাশবিজ্ঞানীদের।

গত ৫ মার্চও পৃথিবী থেকে অ্যাপোফিসকে দেখা গিয়েছিল। তবে সে জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন টেলিস্কোপ ও বাইনোকুলারের দরকার হয়েছিল।

শেয়ার করুন

পুষ্প রেণুতে করোনা বেশি ছড়ায়: গবেষণা

পুষ্প রেণুতে করোনা বেশি ছড়ায়: গবেষণা

জার্মানির ইউনির্ভাসিটি অফ আউগসবুর্গের এনভায়রোমেন্টাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান স্টেফানি গিলস বলেন, ‘গবেষণায় আমরা দেখি, বায়ুবাহিত পরাগের সঙ্গে করোনা সংক্রমণের হারের পরিসংখ্যানগত উল্লেখযোগ্য ও ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে। আমরা প্রতিবেদনে দেখিয়েছি, পরাগ অ্যান্টিভাইরাল ইন্টারফেরন রেসপন্স কমাতে পারে। অর্থাৎ বায়ুবাহিত পরাগ মানুষের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে।’

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরুতে বিজ্ঞানীরা জানায়, করোনাভাইরাস খুবই ঠাণ্ডা উপযোগী। ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রের মতো তীব্র ঠাণ্ডা আবহাওয়ার দেশে ভাইরাসটি বেশি ছড়াবে। কিন্তু ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইরান, ব্রাজিলসহ অন্যান্য গ্রীষ্মপ্রধান দেশে করোনার ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের ঘটনায় বিজ্ঞানীদের সেসব গবেষণা অনেক আগেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

করোনাকে ঘিরে প্রথম দিককার সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত হলেও এর গতি প্রকৃতি নিয়ে থামেনি বিজ্ঞানীদের পরীক্ষা নিরীক্ষা। এবার জার্মানির শীর্ষ পর্যায়ের এক দল বিজ্ঞানী গবেষণায় দেখেছেন, ফুলের রেণুর সঙ্গে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া এবং ঠাণ্ডাজনিত রোগের যোগসূত্র রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে সিজিটিএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বায়ুবাহিত রেণু মানবদেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। এর অর্থ বাতাসে পরাগের অতিরিক্ত উপস্থিতি সর্দি-কাশি বা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

জার্মানির টেকনিক্যাল ইউনির্ভাসিটি অফ মিউনিখ ও গবেষণা সংস্থা হেলহোজ সেনথুম মুনশেনের গবেষকরা এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন।

গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল এ তিন মাস ৩১টি দেশ থেকে ২৪৮ প্রকারের পরাগের নমুনা সংগ্রহ করেন তারা। প্রাপ্ত নমুনা সমন্বয়ে কাজ করেন বিভিন্ন দেশের ১৫৪ জন বিশ্লেষক।

জার্মানির ইউনির্ভাসিটি অফ আউগসবুর্গের এনভায়রনমেন্টাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান স্টেফানি গিলস বলেন, ‘গবেষণায় আমরা দেখি, বায়ুবাহিত পরাগের সঙ্গে করোনা সংক্রমণের হারের পরিসংখ্যানগত উল্লেখযোগ্য ও ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে। আমরা প্রতিবেদনে দেখিয়েছি, পরাগ অ্যান্টিভাইরাল ইন্টারফেরন রেসপন্স কমাতে পারে। অর্থাৎ বায়ুবাহিত পরাগ মানুষের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে।’

এ বিষয়ে অ্যারোবায়োলজিস্ট ড. এথানাসিওস ড্যামিয়ালিস বলেন, ‘পরাগ মৌসুম, শহরের ঘনত্ব, আর্দ্রতা, বায়ু তাপমাত্রার মতো অন্যান্য বিষয়ও বিবেচনা করছি আমরা। করোনা সংক্রমণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে এমন শক্তিশালী পরাগ স্পেন, সুইজারল্যান্ডে পাওয়া গেছে।’

জলবায়ু পরিবর্তন বাতাসে পরাগের সংখ্যা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এটি পরাগ মৌসুমের সময়ও বাড়িয়ে দেয়।

প্রতিবেদনে করোনা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে লকডাউনের মতো বিধিনিষেধের ইতিবাচক ফলের কথা বলা হয়। বিজ্ঞানীদের ভাষ্য, লকডাউন কত কঠোরভাবে মানা হচ্ছে তার চেয়ে সংক্রমণের কত আগে সেটি ঘোষণা করা হচ্ছে, তা জরুরি।

তবে এ প্রতিবেদন নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার কথা বলেছেন গবেষকেরা।

ইউনির্ভাসিটি অফ আউগসবুর্গের অধ্যাপক গিলস বলেন, ‘বাতাসে পরাগের উপস্থিতি ও করোনা সংক্রমণের হারের মধ্যে আমরা পরিসংখ্যানগত সম্পর্ক পেয়েছি, কার্যকারণগত নয়। এ ছাড়া পরাগ করোনা সংক্রমণের চালিকাশক্তি নয়। এটি করোনার বাহকও না।’

শেয়ার করুন