১০০ বছরে পৃথিবীতে আঘাত হানবে না অ্যাপোফিস

নাসার ছবিতে পৃথিবীর কক্ষপথ অতিক্রম করা গ্রহাণু অ্যাপোফিস।

১০০ বছরে পৃথিবীতে আঘাত হানবে না অ্যাপোফিস

আগের পূর্বাভাসে ২০২৯, ২০৩৬ ও ২০৬৮ সালে গ্রহাণুটি পৃথিবীতে আঘাত হানার মতো কাছাকাছি আসতে পারে বলে জানিয়েছিল নাসা। নতুন তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সে সব শঙ্কাই পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

১০০ বছরের জন্য হাঁফ ছেড়ে বসতে পারে পৃথিবীবাসী। কারণ অন্তত এ সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবেই পৃথিবীর দিকে আসছে না অ্যাপোফিস গ্রহাণু। জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

২০০৪ সালে প্রথম আবিষ্কৃত হয় ৩৪০ মিটার ব্যাসের গ্রহাণুটি। প্রাচীন মিসরে বিশৃঙ্খলা ও অন্ধকারের দেবতা অ্যাপোফিসের নামে হয় এর নামকরণ।

পৃথিবীর জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক গ্রহাণুগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত অ্যাপোফিস। সবশেষ গত ৫ মার্চ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি আসে গ্রহাণুটি। ১ কোটি মাইল দূর থেকে অতিক্রম করে পৃথিবীকে।

নাসা বলছে, এবার মোটামুটি ১০০ বছরের জন্য অ্যাপোফিসের ঝুঁকি থেকে পৃথিবী মুক্তি। তবে অবশ্যই যদি গ্রহাণুটির এখনকার গতিপথ ও বেগ অব্যাহত থাকে, তা হলেই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

আগের পূর্বাভাসে ২০২৯, ২০৩৬ ও ২০৬৮ সালে গ্রহাণুটি পৃথিবীতে আঘাত হানার মতো কাছাকাছি আসতে পারে বলে জানিয়েছিল নাসা। নতুন তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সে সব শঙ্কাই পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

নাসার পৃথিবীর কাছাকাছি মহাজাগতিক বস্তু বিষয়ক গবেষক ডেভিড ফারনোশিয়া বলেন, ‘শেষ শঙ্কা ছিল ২০৬৮ সালকে ঘিরে। কিন্তু এখন আর সে ঝুঁকিও দেখছি না আমরা। আমাদের হিসাব বলছে, কমপক্ষে আগামী ১০০ বছরের মধ্যে পৃথিবীর নিরাপদ দূরত্ব অতিক্রম করবে না অ্যাপোফিস।

তবে ২০২৯ সালের ১৩ এপ্রিল সবচেয়ে কাছ থেকে পৃথিবীকে অতিক্রম করে যাবে গ্রহানুটি। ভূপৃষ্ঠের ৩২ হাজার কিলোমিটার দূর ঘেঁষে যাবে, যা পৃথিবী ও চাঁদের দূরত্বের ১০ ভাগের ১ ভাগ।

পৃথিবীর পূর্ব গোলার্ধ্ব থেকে অর্থাৎ এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের অংশবিশেষের বাসিন্দারা সে সময় খালি চোখে অ্যাপোফিস দেখতেও পারবেন। এতদিন যে সুযোগ ছিল খালি নভোচারী ও মহাকাশবিজ্ঞানীদের।

গত ৫ মার্চও পৃথিবী থেকে অ্যাপোফিসকে দেখা গিয়েছিল। তবে সে জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন টেলিস্কোপ ও বাইনোকুলারের দরকার হয়েছিল।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মঙ্গলের আকাশে উড়ল নাসার হেলিকপ্টার

মঙ্গলের আকাশে উড়ল নাসার হেলিকপ্টার

হেলিকপ্টারের ইনভিগেশন ক্যামেরায় ধারণ করা ইনজেনুইটির ছায়ার ছবি প্রকাশ করা হয়। ছবি: নাসা

সোমবার এক মিনিটেরও কম সময় আকাশ ভেসেছে ইনজেনুইটি। তবে পৃথিবী থেকে নিয়ন্ত্রিত একটি যান ভিনগ্রহের আকাশে এভাবে ভেসে থাকাকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে নাসা।

অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (নাসা) প্রথম হেলিকপ্টার মঙ্গল গ্রহের আকাশে উড়েছে। ছোট্ট এই ড্রোনের নাম ইনজেনুইটি।

সোমবার এক মিনিটেরও কম সময় আকাশ ভেসেছে ইনজেনুইটি। তবে পৃথিবী থেকে নিয়ন্ত্রিত একটি যান ভিনগ্রহের আকাশে এভাবে ভেসে থাকাকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে নাসা।

বিবিসি জানায়, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইনজেনুইটির উড্ডয়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে এমন রোমাঞ্চকর ভাসান-উড়ানের খেলা আরও চলবে বলে জানিয়েছে নাসা।

ইনজেনুইটি। ছবি: নাসা

ইনজেনুইটি সোমবার ইস্টার্ন টাইম জোন (ইডিটি) অনুযায়ী ভোর সাড়ে তিনটায় উড়তে শুরু করে।

ঐতিহাসিক এই উড়ালের ঘটনা গত ১১ এপ্রিল হওয়ার কথা ছিল। তবে ৯ এপ্রিল প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা শুরুর পর কিছুটা দেরি হয়ে যায়। ইনজেনুইটি বেশ কয়েকটি পরীক্ষায় সফল হয়েছে।

নাসার পারসিভারেন্স রোভার পেটে ইনজেনুইটিকে নিয়ে লাল গ্রহের জেজেরো ক্রেটার স্পর্শ করে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। ইনজেনুইটি আকারে বেশ ছোটই বলা হয়। এর উচ্চতা ১৯ ইঞ্চি, ওজন ১ দশমিক ৮ কেজি।

ক্যালিফোর্নিয়ার পাসাডোনায় অবস্থিত নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির (জেপিএল) ইনজেনুইটির প্রকল্প ব্যবস্থাপক মিমি অং বলেন, ‘আমরা এখন বলতে পারি, মানুষ ভিনগ্রহেও হেলিকপ্টার উড়িয়েছে।‘

১৯০৩ সালে প্রথম বিমানের সফল উড়ান সম্পন্ন করা রাইট ভাইদের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রাইট ব্রাদার্স মুহূর্তের কথা প্রায়ই বলি, মঙ্গল গ্রহ বিবেচনায় এটাই হচ্ছে আমাদের সেই সময়।‘

নাসার ইলাস্ট্রেশনে উড়ছে ইনজেনুইটি। ছবি: নাসা

যদিও ইনজেনুইটি বাতাসে ভেসে ছিল মাত্র ৪০ সেকেন্ড। তিন মিটার উপরে উঠে একটা ঘুরান দিয়েই অবতরণ করে এটি।

লাল গ্রহে এই উড়ানও অবশ্য সহজ নয়। সেখানকার বাতাস পৃথিবীর তুলনায় অনেকটাই পাতলা। বাতাসের ঘনত্ব পৃথিবীর তুলনায় মাত্র এক শতাংশ।

ইনজেনুইটির গায়ে এরিয়াল ছবি নেয়ার জন্য একটি ক্যামেরা আছে। সোলারের মাধ্যমে এতে শক্তি সঞ্চয় করা হয়।

পরবর্তীতে পারসিভারেন্স রোভার মঙ্গলগ্রহে প্রাচীন জীবনের অস্তিত্ব খুঁজবে এবং ভবিষ্যৎ উদ্ধার কাজের জন্য নমুনা সংগ্রহ করবে।

শেয়ার করুন

‘বায়ুবাহিত করোনা’ ঠেকাতে এবার মাস্ক বদলের পরামর্শ

‘বায়ুবাহিত করোনা’ ঠেকাতে এবার মাস্ক বদলের পরামর্শ

'দুটি এন৯৫ বা কেএন৯৫ মাস্ক কিনুন। ২৪ ঘণ্টা পরপর এগুলো একের পর এক ব্যবহার করুন। কাপড়ের মাস্ক বাদ দিন।’

বায়ুবাহিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এন৯৫ বা কেএন৯৫ মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ডের রোগ সংক্রমণবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডা. ফাহিম ইউনুস।

চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট বৃহস্পতিবার এক গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, কোভিড ১৯ এর জন্য দায়ী সার্স কোভ ২ প্রধানত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। ভাইরাসটি বায়ুবাহিত হওয়ার কারণে প্রচলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা মানুষকে রক্ষা করতে পারছে না।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ডা. ইউনুস শনিবার এক টুইট বার্তায় করোনা ঠেকাতে উন্নত মাস্ক পরার পরামর্শ দেন বলে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ডা. ইউনুস বলেন, ‘ভয়ের কিছু নেই, আমরা জানি কোভিড ড্রপলেট (হাঁচি-কাশির অণুকণা) থেকে বাতাসে ছড়িয়ে যায়। এর সমাধান হলো দুটি এন৯৫ বা কেএন৯৫ মাস্ক কিনুন। একদিন একটি মাস্ক ব্যবহার করে পরের দিনে ব্যবহারের জন্য অন্যটি একটি কাগজের ব্যাগে রেখে দিন। এভাবে ২৪ ঘণ্টা পরপর দুটি মাস্ক একের পর এক ব্যবহার করুন। মাস্ক ঠিকঠাক থাকলে, নষ্ট না হলে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সেগুলো ব্যবহার করা যায়। কাপড়ের মাস্ক বাদ দিন।’

করোনার মাস্ক

ল্যানসেটের প্রতিবেদন বিষয়ে ডা. ইউনুস আরেক টুইটে লেখেন, ‘বায়ুবাহিত অর্থ এই না, বাইরের বাতাস দূষিত হয়ে গেছে। বরং বায়ুবাহিত অর্থ বাতাসে ভাইরাসটি থাকতে পারে, বিশেষ করে ঘরের ভেতরে, যা কি না ঝুঁকিপূর্ণ। আমাদের পার্ক ও সাগর সৈকত এখনও মাস্ক ছাড়া চলাচলের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে দুই ব্যক্তির মধ্যে ছয় ফুট দূরত্ব থাকতে হবে।’

কী ছিল ল্যানসেটের প্রতিবেদনে

ল্যানসেটে প্রকাশিত যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ছয় বিশেষজ্ঞে গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, খোলা জায়গার চেয়ে আবদ্ধ পরিবেশেই করোনাভাইরাস বেশি ছড়ায়। গবেষক দলটির নেতৃত্বে ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ডের প্রাইমারি কেয়ার হেলথ সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ট্রিস গ্রিনহালজ।

গবেষক দলের সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো বোল্ডারের ডিপার্টমেন্ট অফ কেমেস্ট্রি অ্যান্ড বায়োকেমেস্ট্রির অধ্যাপক হোসে লুইস জিমেনেজ বলেন, ‘বাতাসের মাধ্যমেও করোনাভাইরাস ছড়ানোর প্রমাণ আমাদের চমকে দিয়েছে। আমরা আরও প্রমাণ পেয়েছি, বড় ড্রপলেটের মাধ্যমে সংক্রমণ বলতে গেলে একদম নেই। ’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এবং অন্য জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের উচিত নতুন বৈজ্ঞানিক প্রমাণকে গ্রহণ করা, আর সেটা ঘটলে বাতাসের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণ কমিয়ে আনার উপায়ের দিকে সবাই মনোযোগ দিতে পারবে।’

আরও পড়ুন: ‘বায়ুবাহিত করোনা’: দেশের বিশেষজ্ঞরা চান নতুন কৌশল

গবেষক দলটি তাদের দাবির সপক্ষে ১০টি সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে গত বছরের মার্চে ওয়াশিংটনের একটি চার্চে ভয়ঙ্কর সংক্রমণের ঘটনা, যেখানে একজনের থেকেই ৫৩ জন সংক্রমিত হয়েছিলেন। ওই ঘটনায় দীর্ঘ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংক্রমিত মূল ব্যক্তির কাছাকাছি না থেকেও বাকিরা কোভিড ১৯ সংক্রমিত হয়েছিলেন। সেখানে বদ্ধ পরিবেশে বাতাসের মাধ্যমে করোনা ছড়িয়েছিল বলে ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রিস গ্রিনহালজের দলটি বলছে, উন্মুক্ত পরিবেশের চেয়ে আবদ্ধ জায়গায় করোনাভাইরাস ছড়ানোর মাত্রা অনেক বেশি। আবদ্ধ জায়গায় বাতাস চলাচলের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে এই সংক্রমণ অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।

গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়েছে, কোভিডের যত সংক্রমণ, তার প্রায় ৪০ শতাংশই ঘটছে উপসর্গহীন আক্রান্তদের মাধ্যমে। এই উপসর্গবিহীন আক্রান্তদের হাঁচি-কাশি নেই, এটাও ভাইরাসের বায়ুবাহী সংক্রমণের বিষয়টিকে সমর্থন করে।

গবেষণা প্রতিবেদনে হোটেলে পাশাপাশি কক্ষে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের সংক্রমিত হওয়ার উদাহরণ দেয়া হয়েছে, যারা কখনওই একে অপরের মুখোমুখি হননি বা সংস্পর্শে আসেননি।

এর পাশাপাশি গবেষক দল বলছে, তারা ড্রপলেটের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর সামান্য কিছু প্রমাণ পেয়েছেন, গবেষণার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এভাবে কোভিড ১৯ সংক্রমণের প্রমাণ মেলেনি।

গবেষক দলের প্রধান ট্রিস গ্রিনহালজ বলেন, ‘আমরা তরলের গতিশীলতা এবং সক্রিয় ভাইরাসের বিচ্ছিন্নতার মতো অত্যন্ত জটিল বিষয় সংক্রান্ত নথিপত্রের ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়েছি। কিছু ক্ষেত্রে আমাদের দুর্বলতা থাকলেও সামগ্রিকভাবে বায়ুবাহিত সংক্রমণের প্রচুর ও শক্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে।’

বায়ুবাহিত এই সংক্রমণ থেকে মানুষকে রক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আর দেরি করা ঠিক হবে না বলেও মন্তব্য করেন গ্রিনহালজ।

শেয়ার করুন

মানুষ-বানরের কোষ দিয়ে হাইব্রিড ভ্রূণ

মানুষ-বানরের কোষ দিয়ে হাইব্রিড ভ্রূণ

ছোট লেজের ম্যাকাক বানরের ভ্রূণে ইনজেকশনের মাধ্যমে মানুষের কোষ ঢুকিয়ে দেন গবেষকরা। এরপর ভ্রূণটির বেড়ে ওঠা পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন তারা। মানুষ ও বানরের কোষ বিভক্ত হয়ে একসঙ্গে বিকশিত হতে দেখেন তারা।

মানুষের দেহের কোষ বানরের ভ্রূণে যুক্ত করে গবেষণাগারে প্রথমবারের মতো তৈরি হলো সংকর প্রাণীর প্রাথমিক ভ্রূণ।

বৈজ্ঞানিক গবেষণার অংশ হিসেবে ভেড়া, শূকরসহ বিভিন্ন প্রাণীর ভ্রূণে মানবকোষ প্রবেশ করানোর ইতিহাস থাকলেও বানরের ক্ষেত্রে এটি প্রথম সফল পরীক্ষা।

এ ধরনের গবেষণা প্রতিস্থাপনযোগ্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ঘাটতি মেটানোর সূচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই বানরের ভ্রূণে মানবকোষের সফল স্থাপনকে মাইলফলক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা।

চলতি সপ্তাহে জীববিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘সেল’-এ প্রকাশ হয় এ-সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদনটি

প্রতিবেদনে বলা হয়, ছোট লেজের ম্যাকাক বানরের ভ্রূণে ইনজেকশনের মাধ্যমে মানুষের কোষ ঢুকিয়ে দেন গবেষকরা। এরপর ভ্রূণটির বেড়ে ওঠা পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন তারা। মানুষ ও বানরের কোষ বিভক্ত হয়ে একসঙ্গে বিকশিত হতে দেখেন তারা।

নিষিক্ত হওয়ার পর ১৯ দিন পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল পরীক্ষামূলক তিনটি ভ্রূণ।

এ পরীক্ষায় বানরের ভ্রূণে প্রবেশ করানো হয়েছিল মানুষের ‘স্টেম সেল’। এ কোষ দেহের পেশি থেকে শুরু করে মস্তিষ্ক পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কোষে রূপ নিতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের একদল গবেষক যৌথভাবে গবেষণাটি করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার সালক ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজিক্যাল স্টাডিজে এ গবেষণায় নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক হুয়ান কার্লোস ইজপিসুয়া বেলমন্ট।

তিনি জানান, গবেষণায় প্রাপ্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি হলো মানবকোষযুক্ত প্রতিটি ভ্রূণের বিকাশ হয় বিভিন্ন মাত্রায়। কোষগুলো উৎস অনুযায়ী আলাদা হয়ে যায়।

মানুষ ও অন্য প্রাণীর সংকর করাকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় কাইমেরাস। বিজ্ঞানীদের মতে, এ ধরনের গবেষণার সাহায্যে মানবদেহের প্রাথমিক বিকাশ, রোগের বিস্তার, বার্ধক্যসহ বিভিন্ন বিষয়ের গভীরে যাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ এবং মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তৈরিতে সহায়ক এ গবেষণা।

২০১৭ সালে বিজ্ঞানীদের এই দলটিই ভেড়া, শূকর ও গরুর ভ্রূণে মানবকোষ এবং ধেড়ে ইঁদুরের ভ্রূণে নেংটি ইঁদুরের কোষ প্রবেশ করানোর খবর দিয়েছিলেন।

এ গবেষণা উসকে দিয়েছে বিতর্ক। বৈজ্ঞানিক গবেষণার অংশ হিসেবে এ ধরনের পরীক্ষার নৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত খোদ বিজ্ঞানীরাই।

বিরোধীরা বলছেন, এ গবেষণায় ভ্রূণটিকে ২০ দিন বাঁচিয়ে রাখা হলেও পরবর্তী সময়ে অন্য বিজ্ঞানীরা হয়তো আরও দীর্ঘ সময় এ ধরনের ভ্রূণ তৈরি করে গবেষণা করবেন।

তারা মনে করছেন, মানবদেহ কিংবা আংশিক অমানব সংকরের ওপর কাটাছেঁড়া মানবিকতার নীতিবহির্ভূত।

শেয়ার করুন

‘নিস্তব্ধ’ সাগরের বছর ২০২০: যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা

‘নিস্তব্ধ’ সাগরের বছর ২০২০: যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ নিউ হ্যাম্পশায়ারের সেন্টার ফর অ্যাকুস্টিকস রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশনের পরিচালক জেনিফার মিকসিস-ওল্ডস বলেন, লকডাউনের সময় বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল ও জাহাজ চলাচলের পথে মনুষ্যসৃষ্ট শব্দ কমে যায়। এর ফলে প্রাকৃতিকভাবে গবেষণা চালানো সহজ হয়েছে। শিল্প বিপ্লবের পর থেকে সাগরে বাতাস, ঢেউ ও বরফের শব্দ ছাপিয়ে মনুষ্যসৃষ্ট শব্দ রাজত্ব করছে।

করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় বিশ্বের অনেক দেশ নানা ধরনের বিধিনিষেধসহ লকডাউনের মতো কড়া অবস্থান নেয়। অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে লকডাউন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তবে এর উপকারিতাও অস্বীকার করার জো নেই। লকডাউনের সময় সবচেয়ে সুনসান থাকে সমুদ্রাঞ্চল। ২০২০ সালকে তাই বিজ্ঞানীরা সাগরের সবচেয়ে ‘নিস্তব্ধ বছর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সম্প্রতি এক গবেষণায় এমন কথাই বলা হয়েছে বলে শনিবার দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের ভাষ্য, গত বছর জাহাজের ইঞ্জিনের শব্দ, বড় জালে মাছ ধরা, তেল ও অন্যান্য খনিজ পদার্থের অনুসন্ধান-উত্তোলনসহ অন্যান্য কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্য হারে কম ছিল।

তিমি, কোরাল ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীদের ওপর শব্দ কী মাত্রায় ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, তার তুলনামূলক মূল্যবান তথ্য-উপাত্ত হঠাৎ শান্ত হয়ে যাওয়া সাগর দিতে পারবে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

সমতলে আলোর দূষণের মতো সাগরে মানব শব্দ নিয়ে ক্রমেই উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে, মনুষ্যসৃষ্ট শব্দ সাগরে বাস করা বিভিন্ন প্রজাতির জীবনযাত্রাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিশেষ করে যেসব প্রাণী যোগাযোগ ও চলাচলের জন্য শব্দের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য শব্দদূষণ হুমকিস্বরূপ।

কম ফ্রিকোয়েন্সির সিগন্যাল ব্যবহার করে সামুদ্রিক প্রাণীরা হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়।

প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গবেষণা করে দেখা গেছে, ১৯৬০ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত প্রতি দশকে মনুষ্যসৃষ্ট শব্দ ১০০ হার্টজের নিচে তিন ডেসিবল করে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ মাত্রায় শব্দ দূষণ সাগরের নিজস্ব প্রাকৃতিক শব্দের প্রায় সমান।

গত বছরের মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে লকডাউনের সময় এ দূষণ অনেক কমে যায়। তবে শিপিং কোম্পানিগুলো জুন থেকে সাগরে চলাচল শুরু করলে শব্দ দূষণ আবার আগের জায়গায় ফিরে যায়।

গত বছরের এপ্রিলের মতো সাগর এত নীরব আগামী কয়েক দশকে আর হবে না বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। লকডাউনের ব্যতিক্রমী সময়ের ডাটা আগামী কয়েক মাসে বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকীতে প্রকাশ করা হবে বলে জানান তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের রকফেলার ইউনিভার্সিটির প্রোগ্রাম ফর দ্য হিউম্যান এনভায়রোমেন্টের পরিচালক জেসি আসুবেল বলেন, ‘লকডাউনের সময়ে পাওয়া রোমাঞ্চকর তথ্যের জন্য প্রস্তুত হও।’

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ নিউ হ্যাম্পশায়ারের সেন্টার ফর অ্যাকুস্টিকস রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশনের পরিচালক জেনিফার মিকসিস-ওল্ডস বলেন, লকডাউনের সময় বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল ও জাহাজ চলাচলের পথে মানব শব্দ কমে যায়। এর ফলে প্রাকৃতিকভাবে গবেষণা চালানো সহজ হয়েছে। শিল্প বিপ্লবের পর থেকে সাগরে বাতাস, ঢেউ ও বরফের শব্দ ছাপিয়ে মনুষ্যসৃষ্ট শব্দ রাজত্ব করছে।

আসুবেলের নেতৃত্বাধীন গবেষণা একটি বড় প্রকল্পের অংশ। ইন্টারন্যাশনাল কোয়ায়েট ওশান এক্সপেরিমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা আসুবেল।

সমুদ্র নিয়ে ২০১৫ সালে শুরু হওয়া গবেষণাটি ১০ বছর ধরে চলবে। এ সময়জুড়ে সাগরের বিভিন্ন জায়গার শব্দ নিয়ে পরীক্ষা হবে। গবেষণার বেশ কয়েকটি লক্ষ্যের একটি হলো তথ্য হাজির করা, যা দেখিয়ে সামুদ্রিক ইকোসিস্টেমের স্বার্থে জাহাজ অপারেটর, তেল-গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধানকারী ও জেট স্কি ব্যবহারকারীদের শব্দ কম করার অনুরোধ জানানো যাবে।

শেয়ার করুন

রেমডিসিভির বা প্লাজমার জাদুকরি ক্ষমতা নেই : চিকিৎসক

রেমডিসিভির বা প্লাজমার জাদুকরি ক্ষমতা নেই : চিকিৎসক

প্লাজমা ব্যাংকে প্লাজমা দান করছেন করোনা থেকে সুস্থ হওয়া এক ব্যক্তি। ছবি: পিটিআই

‘রেমডিসিভিরকে ঘিরে এক ধরনের হুজুগ তৈরি হয়েছে। বেশ কয়েকটি ট্রায়ালে দেখা গেছে, করোনায় মৃত্যু ঠেকাতে এটির তেমন কোনো ভূমিকা নেই। সবার জন্য ওষুধটি দরকারিও না। চিকিৎসার শুরুতেই অক্সিজেনের প্রয়োজন, এমন বিশেষ রোগীদের ক্ষেত্রেই কেবল রেমডিসিভির ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়। তবে এ বিষয়েও প্রশ্ন রয়েছে।’

প্লাজমা ডোনেশন ও রেমডিসিভির ওষুধের অনুরোধ জানিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কিছু পোস্ট দিয়েছেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বজনেরা। তবে করোনা চিকিৎসায় এসবের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছিল, করোনায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের চিকিৎসায় রেমডিসিভির উপকারী, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ডব্লিউএইচওর নির্দেশনা কমিটির সুপারিশ, যতই অসুস্থ হোক না কেন, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের রেমডিসিভিরের দরকার নেই। এটি ভেন্টিলেশনের প্রয়োজনীয়তা কমায় না।

প্লাজমা থেরাপির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। জীবন বাঁচাতে এটিও তেমন উপকারী নয়। গত বছর করোনা রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে তাই দেখা গেছে।

তাহলে কোভিড রোগীর চিকিৎসায় হাসপাতালগুলো প্লাজমা থেরাপি বা রেমডিসিভির সুপারিশ করে কেন?

এ বিষয়ে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসের সহযোগী অধ্যাপক ড. নীরাজ নিশ্চল দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘করোনা চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপি বা রেমডিসিভির কোনো ম্যাজিক বুলেট নয়।

‘রেমডিসিভিরকে ঘিরে এক ধরনের হুজুগ তৈরি হয়েছে। বেশ কয়েকটি ট্রায়ালে দেখা গেছে, করোনায় মৃত্যু ঠেকাতে এটির তেমন কোনো ভূমিকা নেই। সবার জন্য ওষুধটি দরকারিও না। চিকিৎসার শুরুতেই অক্সিজেনের প্রয়োজন, এমন বিশেষ রোগীদের ক্ষেত্রেই কেবল রেমডিসিভির ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়। তবে এ বিষয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

‘রেমডিসিভিরের জন্য তাই তাড়াহুড়োর কিছু নেই। প্লাজমা থেরাপির বিষয়েও একই কথাই বলব। এটিও সবার জন্য নয়। এই বার্তা জোরে ও সুস্পষ্টভাবে সবার কাছে যাওয়া উচিত।’

দিল্লির স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. এসপি ব্রত বলেন, করোনায় গুরুতর আক্রান্ত রোগীদের কদাচিৎ রেমডিসিভির দেয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় রেমডিসিভিরের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। দেশে এই ওষুধের মজুত খুব বেশি নেই। অল্প সময়ের ভেতরে কীভাবে আক্রান্তের স্বজনেরা এটি জোগাড় করবে? জরুরি কিছু প্রয়োজনে রেমডিসিভির ব্যবহারে সুপারিশ করা হয়। একই কথা প্লাজমা থেরাপির বিষয়েও। কারণ করোনা চিকিৎসায় কোনো ওষুধ নেই। এটি সারাতে সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। এ অবস্থায় প্লাজমা ব্যবহার করা হয়।’

দিল্লির আরেকটি হাসপাতালও একই বক্তব্য দেয়। তাদের স্টকে রেমডিসিভির নেই। আক্রান্তের স্বজনদেরও এটি বন্দেবস্ত করতে বলা হয় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্লাজমা থেরাপির মাধ্যমে করোনার চিকিৎসা সেকেলে। কার্যকর নয় বলেও প্রমাণিত। প্লাজমা থেরাপি বা রেমডিসিভির কোনোটিই আমরা এখন পর্যন্ত ব্যবহার করিনি।’

দিল্লির বিএলকে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের বুক ও শ্বাসযন্ত্রের রোগবিষয়ক চিকিৎসক ডা. সন্দীপ নায়ার বলেন, মাঝারি ও গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসায় রেমডিসিভির দেয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের নীতি অনুযায়ী, করোনায় আক্রান্ত রোগীদের যাদের অসুস্থতা ততটা তীব্র নয়, তাদের ভর্তি করা হয় না। তাই বেশির ভাগ রোগীই রেমডিসিভির নিতে পারেন। নির্বাচিত রোগীদের সতর্কতার সঙ্গে প্লাজমা চিকিৎসা দেয়া হয়। সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে উপসর্গ ধরা পড়া করোনায় মাঝারি আক্রান্ত রোগীরা এই চিকিৎসায় উপকার পান।’

শেয়ার করুন

করোনা বায়ুবাহিত, আবদ্ধ জায়গায় সংক্রমণ বেশি: গবেষণা

করোনা বায়ুবাহিত, আবদ্ধ জায়গায় সংক্রমণ বেশি: গবেষণা

চিকিৎসাবিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে বৃহস্পতিবার গবেষণা নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ডের প্রাইমারি কেয়ার হেলথ সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ট্রিস গ্রিনহালজ।

কোভিড ১৯ এর জন্য দায়ী সার্স কোভ ২ প্রধানত বাতাসের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে বলে উঠে এসেছে এক গবেষণায়। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ছয় বিশেষজ্ঞ এই গবেষণার ভিত্তিতে বলছেন, করোনাভাইরাস বায়ুবাহিত হওয়ার কারণেই প্রচলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থাগুলো মানুষকে রক্ষা করতে পারছে না।

চিকিৎসাবিষয়ক প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে বৃহস্পতিবার গবেষণা নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছে। গবেষক দলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ডের প্রাইমারি কেয়ার হেলথ সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ট্রিস গ্রিনহালজ।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম কোভিড ১৯ সংক্রমণ ধরা পরে। এর কয়েক মাসের মধ্যে মহামারি ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। বাংলাদেশেও কোভিড ১৯ সংক্রমণ প্রথম শনাক্ত হয়ে গত বছরের ৮ মার্চ।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা শুরু থেকেই বলছে, করোনাভাইরাস মূলত সংক্রমিত ব্যক্তির হাঁচি, কাশির মাধ্যমে নিকটজনের কাছে ছড়ায়। এজন্য, হাঁচি-কাশি আক্রান্তদের কাছ থেকে অন্তত ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা, সাবান দিয়ে বারবার হাত ধোয়া, আক্রান্তদের চিহ্নিত করে আইসোলেশনসহ বেশকিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দিচ্ছে সংস্থাটি। এছাড়া, কোভিড ১৯ সংক্রমণের মাত্রা কমাতে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে লকডাউনের কৌশলও নেয়া হচ্ছে।

তবে ট্রিস গ্রিনহালজের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ছয় বিশেষজ্ঞ অবিলম্বে করোনাভাইরাস মোকাবিলার প্রচলিত পদ্ধতি ঢেলে সাজাতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন

গবেষক দলের সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো বোল্ডারের ডিপার্টমেন্ট অফ কেমেস্ট্রি অ্যান্ড বায়োকেমেস্ট্রির অধ্যাপক হোসে লুইস জিমেনেজ বলেন, ‘বাতাসের মাধ্যমেও করোনাভাইরাস ছড়ানোর প্রমাণ আমাদের চমকে দিয়েছে। আমরা আরও প্রমাণ পেয়েছি, বড় ড্রপলেটের মাধ্যমে সংক্রমণ বলতে গেলে একদম নেই। ’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এবং অন্য জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের উচিত নতুন বৈজ্ঞানিক প্রমাণকে গ্রহণ করা, আর সেটা ঘটলে বাতাসের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণ কমিয়ে আনার উপায়ের দিকে সবাই মনোযোগ দিতে পারবে।’

গবেষক দলটি তাদের দাবির সপক্ষে ১০টি সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে গত বছরের মার্চে ওয়াশিংটনের একটি চার্চে ভয়ঙ্কর সংক্রমণের ঘটনা, যেখানে একজনের থেকেই ৫৩ জন সংক্রমিত হয়েছিলেন। ওই ঘটনায় দীর্ঘ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংক্রমিত মূল ব্যক্তির কাছাকাছি না থেকেও বাকিরা কোভিড ১৯ সংক্রমিত হয়েছিলেন। সেখানে বদ্ধ পরিবেশে বাতাসের মাধ্যমে করোনা ছড়িয়েছিল বলে ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রিস গ্রিনহালজের দলটি বলছে, উন্মুক্ত পরিবেশের চেয়ে আবদ্ধ জায়গায় করোনাভাইরাস ছড়ানোর মাত্রা অনেক বেশি। আবদ্ধ জায়গায় বাতাস চলাচলের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে এই সংক্রমণ অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।

গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়েছে, কোভিডের যত সংক্রমণ, তার প্রায় ৪০ শতাংশই ঘটছে উপসর্গহীন আক্রান্তদের মাধ্যমে। এই উপসর্গবিহীন আক্রান্তদের হাঁচি-কাশি নেই, এটাও ভাইরাসের বায়ুবাহী সংক্রমণের বিষয়টিকে সমর্থন করে।

গবেষণা প্রতিবেদনে হোটেলে পাশাপাশি কক্ষে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের সংক্রমিত হওয়ার উদাহরণ দেয়া হয়েছে, যারা কখনওই একে অপরের মুখোমুখি হননি বা সংস্পর্শে আসেননি।

এর পাশাপাশি গবেষক দল বলছে, তারা ড্রপলেটের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর সামান্য কিছু প্রমাণ পেয়েছেন, গবেষণার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এভাবে কোভিড ১৯ সংক্রমণের প্রমাণ মেলেনি।

গবেষক দলের প্রধান ট্রিস গ্রিনহালজ বলেন, ‘আমরা তরলের গতিশীলতা এবং সক্রিয় ভাইরাসের বিচ্ছিন্নতার মতো অত্যন্ত জটিল বিষয় সংক্রান্ত নথিপত্রের ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়েছি। কিছু ক্ষেত্রে আমাদের দুর্বলতা থাকলেও সামগ্রিকভাবে বায়ুবাহিত সংক্রমণের প্রচুর ও শক্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে।’

বায়ুবাহিত এই সংক্রমণ থেকে মানুষকে রক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আর দেরি করা ঠিক হবে না বলেও মন্তব্য করেন গ্রিনহালজ।

শেয়ার করুন

করোনা সারায় অ্যাজমার ইনহেলার?

করোনা সারায় অ্যাজমার ইনহেলার?

বাংলাদেশে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বিউডেসোনাইড ইনহেলার ও ক্যাপসুল উৎপাদন করছে। ছবি: সংগৃহিত

বাংলাদেশে ইনসেপ্টা, একমি, স্কয়ার, অ্যারিস্টোফার্মা, হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বিউডেসোনাইড ইনহেলার ও ক্যাপসুল উৎপাদন করছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বয়স্ক রোগীর চিকিৎসায় অপেক্ষাকৃত সস্তা ও সহজলভ্য অ্যাজমার একটি ওষুধ বেশ কার্যকর বলে উঠে এসেছে গবেষণায়।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬৫ বছর ও ৫০ বছরের বেশি বয়সী করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ওপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, বিউডেসোনাইড ইনহেলারে তাদের শারীরিক জটিলতা কমেছে এবং তারা দ্রুত রোগমুক্ত হয়েছেন।

বাংলাদেশে ইনসেপ্টা, একমি, স্কয়ার, অ্যারিস্টোফার্মা, হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বিউডেসোনাইড ইনহেলার ও ক্যাপসুল উৎপাদন করছে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রায়ালে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের টানা দুই সপ্তাহ দিনে দুই বার করে এই ইনহেলার দেয়া হয়। দেখা গেছে, যাদের ওই ইনহেলার দেয়া হয়নি, তাদের চেয়ে ইনহেলার নেয়া ব্যক্তিরা দ্রুত ভালো বোধ করছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠছেন।

গবেষকেরা বলছেন, ট্রায়ালের এই ফল বিশ্বজুড়ে করোনা চিকিৎসার ধরন বদলে দিতে পারে। অনেক দেশেই অল্প সংখ্যক করোনা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হতে পারছেন। এমন অবস্থায় ঘরে থেকেই অনেকে এই ইনহেলারের সাহায্যে সুস্থ হতে পারেন।

গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রি প্রিন্ট জার্নাল মেডআর্কাইভে প্রকাশিত হয়েছে। এটি পিআর রিভিউয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্রিস বাটলার দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, অপেক্ষাকৃত সস্তা, সহজলভ্য, খুবই কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার এই অ্যাজমার ওষুধ করোনায় আক্রান্তদের দ্রুত সুস্থ করে। আরোগ্যের পর তারা ভালো থাকেন। এ ছাড়া শারীরিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটে তাদের।’

বাটলার বলেন, ‘আমরা মনে করি, বিশ্বে করোনা চিকিৎসায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা আমাদের গবেষণালব্ধ প্রতিবেদন যাচাই বাছাই করবেন। কারণ এ চিকিৎসাপদ্ধতি করোনায় আক্রান্তদের দ্রুত সুস্থ করবে।’

ট্রায়ালে করোনা রোগীদের টানা দুই সপ্তাহ দিনে দুইবার ৮০০ মাইক্রোগ্রাম বিউডেসোনাইড ইনহেল করতে বলা হয়। ২৮ দিন তাদের ফলো আপে রাখা হয়।

দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের তিন দিন আগেই ওই রোগীরা সুস্থ হয়েন। এ ছাড়া তাদের মধ্যে ৩২ শতাংশ ১৪ দিনের মধ্যে আরোগ্য লাভ করেন। ২৮ দিনের মাথায় ভালো ছিলেন তারা।

বাটলারের সহকর্মী অধ্যাপক রিচার্ড হবস বলেন, ‘ঘরে চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিউডেসোনাইড কার্যকর একটি ওষুধ। করোনা চিকিৎসার শুরুর দিকে এটি নিলে উপকার পাওয়া যাবে। আমাদের গবেষণার ফল মহামারি চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। কমিউনিটিভিত্তিক গবেষণায় এটি অনেক বড় অর্জন।’

শেয়ার করুন