পৃথিবীর শেষ পরিণতি ব্ল্যাক হোলে!

গায়া অবজারভেটরির তৈরি মিল্কিওয়ের ত্রিমাত্রিক মানচিত্র

পৃথিবীর শেষ পরিণতি ব্ল্যাক হোলে!

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, স্যাজিটেরিয়াস এ* ব্ল্যাক হোলের করাল গ্রাসে পতিত হতে যাচ্ছে আমাদের পৃথিবী। এর তীব্র আকর্ষণ উপেক্ষা করার সাধ্য নেই আমাদের সৌরজগতের।

মহাবিশ্বে ছড়িয়ে আছে অগুণতি গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ। সেগুলোরই একটি মিল্কিওয়ে, বাংলায় যার নাম আকাশগঙ্গা। এই মিল্কিওয়ের মাঝারি আকারের একটি নক্ষত্র সূর্য, যার চারপাশে পাক খাচ্ছে আমাদের অতি প্রিয় গ্রহ পৃথিবী।

মহাবিশ্বের রহস্যের খুব সামান্যই এ পর্যন্ত জানতে পেরেছে মানুষ, তবে যতই দিন যাচ্ছে জানার মাত্রা বাড়ছে গুণিতক আকারে। পৃথিবীর সীমা ছাড়িয়ে মহাকাশকে বোঝার চেষ্টায় যোগ হচ্ছে নতুন নতুন প্রযুক্তি।

মিল্কিওয়ের একটি বিস্তৃত মানচিত্র তৈরির পেছনে অনেক দিন ধরেই লেগে আছেন জ্যোতির্বিদেরা। আর সেই চেষ্টার অংশ হিসেবেই দিন কয়েক আগে প্রকাশিত হয়েছে মিল্কিওয়ের ত্রিমাত্রিক মানচিত্র।

মহাকাশের দিকে ২০১৩ সাল থেকে চোখ রাখছে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ইএসএ) গায়া অবজারভেটরি। পৃথিবী ও সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরপাক খাওয়া এই বিশেষায়িত স্পেসক্র্যাফটের নিবিড় পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে ছায়াপথের ত্রিমাত্রিক মানচিত্র

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই মানচিত্র ছায়াপথের কোটি কোটি নক্ষত্র ও তাদের কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান গ্রহের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে সহায়তা করবে। পাশাপাশি বৃহৎ বিস্ফোরণের (বিগ ব্যাং) পর থেকে মহাবিশ্ব কীভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে- সে সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাবেন জ্যোতির্বিদেরা।

ছায়াপথের ত্রিমাত্রিক মানচিত্রে সব মিলিয়ে ১৮০ কোটি নক্ষত্রের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আকাশগঙ্গায় অদেখা বস্তুর (ডার্ক ম্যাটার) পরিমাণ কতটা হতে পারে, এই ছায়াপথের মোট ভর কত- সে সম্পর্কেও ধারণা মিলবে মানচিত্রটি বিশ্লেষণের মাধ্যমে।

ইএসএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘গায়ার তথ্য জ্যোতির্বিদদের মিল্কিওয়ের নতুন ও পুরোন নক্ষত্র সম্পর্কে জানার দরজা খুলে দেবে। কম্পিউটার মডেলে দেখা গেছে, প্রতিনিয়ত অসংখ্য নতুন তারা জন্ম নেয়ায় বেড়েই চলেছে মিল্কিওয়ের আকার।’

এ তো গেল মহাকাশ বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের কথা, বিপরীত দিক থেকে একটি ভয়ের খবরও কিন্তু আছে। ত্রিমাত্রিক মানচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে ভয়ঙ্কর এক পরিণতির দিকে।

আকাশগঙ্গার ঠিক মাঝখানে আছে বিশালাকার এক কৃষ্ণগহ্বর (ব্ল্যাক হোল), যার নাম স্যাজিটেরিয়াস এ*। তাপ হারিয়ে মরে যাওয়া নক্ষত্রই পরিণত হয় ব্ল্যাক হোলে। নিকষ কালো এই দানব এরপর গিলে খেতে থাকে আশপাশের সব গ্রহ-নক্ষত্র। এমন কি আলোও হারিয়ে যায় ব্ল্যাক হোলের অন্ধকারে, কৃষ্ণগহ্বরের ভেতরে সময় হয়ে যায় নিশ্চল।

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ধীরে ধীরে স্যাজিটেরিয়াস এ* ব্ল্যাক হোলের করাল গ্রাসে পতিত হতে যাচ্ছে আমাদের পৃথিবী। ১৯৮৫ সালের একটি পর্যবেক্ষণ তথ্যের ভিত্তিতে মনে করা হচ্ছিল স্যাজিটেরিয়াস এ* থেকে পৃথিবীর অবস্থান ২৭ হাজার ৭০০ আলোকবর্ষ দূরে। তবে নতুন ত্রিমাত্রিক মানচিত্রে এই দূরত্ব ২৫ হাজার ৮০০ আলোকবর্ষ।

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, পৃথিবীর শেষ গন্তব্য সম্ভবত স্যাজিটেরিয়াস এ* ব্ল্যাক হোল। এর তীব্র আকর্ষণ উপেক্ষা করার সাধ্য নেই আমাদের সৌরজগতের।

তবে এখনই ঘাবড়ানোর কারণ নেই। প্রায় ২৬ হাজার আলোকবর্ষ দূরত্ব পার হওয়া মুখের কথা নয়। আলোর গতিতেও পৃথিবী যদি ধেয়ে যায় মিল্কিওয়ের কেন্দ্রের অতিকায় দানবটির দিকে, তাহলেও সময় লাগবে ২৬ হাজার বছর।

আলো প্রতি সেকেন্ডে ১ লাখ ৮৬ হাজার মাইল দূরত্ব অতিক্রমে সক্ষম। আর এক আলোকবর্ষ দূরত্ব মানে এক লাখ কোটি মাইল। ফলে পৃথিবীর নাগাল পেতে স্যাজিটেরিয়াস এ* ব্ল্যাক হোলকে অপেক্ষা করতে হবে হাজার হাজার বছর।

শেয়ার করুন

মন্তব্য