মনুষ্যবাহী প্রথম বেসরকারি মহাকাশযানের যাত্রা

মনুষ্যবাহী প্রথম বেসরকারি মহাকাশযানের যাত্রা

নাসার কর্মকর্তারা জানান, উড়াল দেয়ার দুই ঘণ্টার কম সময়ের আগে ক্যাপসুলে একটি ছিদ্র দেখা দিয়েছিল। কিন্তু টেকনিশিয়ানরা মেরামত করতে পারায় সময়মতোই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এলোন মাস্কের রকেট নির্মাণ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের নভোযানে করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রের (আইএসএস) পথে উড়াল দিয়েছেন চার নভোচারী।

এই প্রথম কোনো বেসরকারি মালিকানাধীন মহাকাশযানে করে মহাশূন্যে মনুষ্যবাহী পূর্ণাঙ্গ ক্রু পাঠাল যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নভোচারীদের বহন করছে ‘রেসিলিয়েন্স’ নামে পরিচিত স্পেসএক্সের নতুন ডিজাইনের ‘ক্রু ড্রাগন’ ক্যাপসুল।

রোববার ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ২৭ মিনিটে নাসার কেনিডি স্পেস সেন্টার থেকে ক্যাপসুলটি নিয়ে ‘স্পেসএক্স ফ্যালকন ৯’ রকেট মহাশূন্যের পথে উড়াল দেয়।

উৎক্ষেপণের প্রায় এক ঘণ্টা পর ‘ক্রু ড্রাগন’ থেকে স্পেসএক্সের মিশন কন্ট্রোলকে কমান্ডার নভোচারী মাইক হপকিন্স বলেন, ‘এটা রোমাঞ্চকর এক অভিযান। সবাই অনেক উৎফুল্ল।’

ক্রু ড্রাগন পরবর্তী ২৭ ঘণ্টায় ক্রমান্বয়ে তার কক্ষপথে পৌঁছাবে; মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় ৪টায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অবতরণ করবে।

নাসার কর্মকর্তারা জানান, উড়াল দেয়ার দুই ঘণ্টার কম সময়ের আগে ক্যাপসুলে একটি ছিদ্র দেখা দিয়েছিল। কিন্তু টেকনিশিয়ানরা মেরামত করতে পারায় সময়মতোই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আইএসএসে স্পেসএক্সের প্রথম অভিযানে যে চার নভোচারী রয়েছেন তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রেরই তিন জন মাইকেল হপকিন্স, ভিক্টর গ্লোভার ও শ্যানন ওয়াকার। অপর জন হলেন জাপানের সৈচি নগুচি।

নাসার পক্ষ থেকে বলা হয়, মহাশূন্যে ‘ক্রু ড্রাগন’ এর উড়াল দেয়ার কথা ছিল গত শনিবার। কিন্তু ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় ‘এটা’র প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা স্থগিত করা হয়।

মহাকাশে স্পেসএক্সের নভোযানের সফল উৎক্ষেপণের সময় কেনেডি স্পেস সেন্টারে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। ডনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে মহাশূন্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এই উৎক্ষেপণে অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এই অভিযানকে ‘বিজ্ঞানের শক্তির প্রমাণ’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য