চাঁদে মিলেছে বিপুল পানির সন্ধান

চাঁদে মিলেছে বিপুল পানির সন্ধান

নাসা বলছে, আগের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি পানি রয়েছে চাঁদের বুকে। কেবল অন্ধকারাচ্ছন্ন মেরু অঞ্চলেই নয়, সূর্যালোক পৌঁছায় যেসব অংশে সেখানেও রয়েছে পানির উপস্থিতি। পানির এই আধার চাঁদের বুকে মানব বসতি গড়তে নাসার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সহায়ক হবে।

চাঁদে পানির বিপুল উপস্থিতির সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা- নাসা।

সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন নাসার বিজ্ঞানীরা।

তারা বলছেন, আগের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি পানি রয়েছে চাঁদের বুকে। কেবল অন্ধকারাচ্ছন্ন মেরু অঞ্চলেই নয়, সূর্যালোক পৌঁছায় যেসব অংশে সেখানেও রয়েছে পানির উপস্থিতি।

পানির এই আধার চাঁদের বুকে মানব বসতি গড়তে নাসার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সহায়ক হবে বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

এ বিষয়ক দুটি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে নেচার অ্যাস্ট্রোনমি জার্নালে। আর সেই গবেষণায় যুক্ত বিজ্ঞানীরাই তাদের অনুসন্ধানের ফলাফল সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন।

নাসার লুনার রিকনোসিন্স অরবিটার ২০০৯ সাল থেকে ঘুরছে চাঁদের চারপাশে। এছাড়া, পৃথিবীর প্রায় ১১ কিলোমিটার উপর থেকে মহাকাশে নজর রাখছে স্ট্র্যাটোস্ফেরিক অবজারভেটরি ফর ইনফ্রারেড অ্যাস্ট্রোনমি, সংক্ষেপে সোফিয়া

এ দুটি পর্যবেক্ষক কেন্দ্রের অনুসন্ধানের ভিত্তিতেই চাঁদে বিপুল পানির অস্তিত্ব থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে নাসা।

প্রথম অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা সোফিয়া থেকে এমন এক তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ চালিয়েছেন, যার মাধ্যমে চাঁদের আলোকিত অংশেও পানিকণার অস্তিত্ব ধরা পড়েছে।

সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে নাসার সায়েন্স মিশন ডাইরেক্টরেটের অ্যাস্ট্রোফিজিক্স ডিভিশনের প্রধান পল হেটজ বলেন, ‘আমাদের কাছে চাঁদের সূর্যালোকিত অংশে পানি থাকার কিছু ইঙ্গিত আগে থেকেই ছিল। এখন আমরা নিশ্চিতভাবে জানি সেটা আছে। এই আবিষ্কার চন্দ্রপৃষ্ঠ সম্পর্কে আমাদের ধারণা বদলে দেয়ার পাশাপাশি দূর মহাকাশে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের জোগান সম্পর্কে উৎসাহিত করবে।’

সোফিয়া আসলে বিশেষায়িত একটি এয়ারক্র্যাফট- বোয়িং সেভেন ফোর সেভেন এসপি। মহাকাশের নজর রাখার কাজে একে ব্যবহার করছে নাসা।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বেশ উপরের দিকে থাকায় সোফিয়া বায়ুমণ্ডলের ইনফ্রারেড জটিলতার প্রায় ৯৯ শতাংশকেই পেছনে ফেলে নির্বিবাদে মহাকাশে নজর রাখতে পারে। পৃথিবীর বুকের যে কোনো টেলিস্কোপের চেয়ে সোফিয়ার টেলিস্কোপ থেকে দূর আকাশের অনেক নিখুঁত ছবি পান নাসার বিজ্ঞানীরা।

নাসার লুনার রিকনোসিন্স অরবিটারের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে দ্বিতীয় গবেষণায়। আর তাতে বেরিয়ে এসেছে, চাঁদের যে অংশে কখনোই সূর্যের আলো পৌঁছায় না, সেই এলাকার পরিমাণ সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার বর্গমাইল। এতদিন বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, এমন অংশ মাত্র সাত হাজার বর্গমাইল।

চাঁদের এই বিশাল অন্ধকার অংশেও রয়েছে জমাট বাঁধা বরফের বিপুল সঞ্চয়। এই গবেষণা দলের সদস্য এবং ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো বোলডারের সহকারী অধ্যাপক পল হায়েন বলেন, ‘আমাদের অনুসন্ধান সঠিক হলে চাঁদে সুপেয় পানি, রকেট জ্বালানিসহ নাসার জন্য পানিসংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় আর কিছুর অভাব থাকবে না।’

নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির অধীনে ২০৩০ এর দশকের মধ্যে চাঁদে মানব বসতি গড়ার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সেখানে ২০২৪ সালে প্রথম নারীকে পাঠানোর কথা রয়েছে।

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বরফের সম্ভাব্য অস্তিত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান করছিল নাসা। এছাড়া, এক সময়ে লাভার স্রোত বইত চাঁদের বুকে এমন একটি খাদ নিয়েও সংস্থাটি বিশেষভাবে আগ্রহী। নাসা মনে করছে, খাদটি চাঁদে মানুষের নিরাপদ বসতি গড়ার একটি আদর্শ জায়গা হতে পারে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

স্টিফেন হকিংয়ের ‘গ্র্যান্ড ডিজাইন’ বাংলায়

স্টিফেন হকিংয়ের ‘গ্র্যান্ড ডিজাইন’ বাংলায়

বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। ছবি: এএফপি

বইটি স্টিফেন হকিং ও লিওনার্দ ম্লোদিনোর যৌথভাবে লেখা গ্র্যান্ড ডিজাইন বইয়ের অবশ্য সরাসরি অনুবাদ নয়। বরং বইটিতে হকিংদের মূল ভাবনাগুলোকে নিয়ে এবং একই নামে হকিংয়ের কণ্ঠস্বরে চিত্রিত একটি তথ্যচিত্র ট্রিলজির বাংলা রূপান্তর এই বই। যার মূল উপজীব্য সৃষ্টি, মহাসৃষ্টি, মানব-অস্তিত্ব, মানবজীবন, মানব-জীবনের অর্থ বা তাৎপর্য।

বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের অনবদ্য ভাষ্য ‘গ্র্যান্ড ডিজাইন’-এর বাংলা রূপান্তর করা হয়েছে। এটি রূপান্তর করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক ড. সেলিম মোজাহার।

বইটি স্টিফেন হকিং ও লিওনার্দ ম্লোদিনোর যৌথভাবে লেখা গ্র্যান্ড ডিজাইন বইয়ের অবশ্য সরাসরি অনুবাদ নয়। বরং বইটিতে হকিংদের মূল ভাবনাগুলোকে নিয়ে এবং একই নামে হকিংয়ের কণ্ঠস্বরে চিত্রিত একটি তথ্যচিত্র ট্রিলজির (ডিড গড ক্রিয়েট দ্য ইউনিভার্স, মিনিং অব লাইফ, কি টু দ্য কসমস) এর বাংলা রূপান্তর এই বই। যার মূল উপজীব্য সৃষ্টি, মহাসৃষ্টি, মানব-অস্তিত্ব, মানবজীবন, মানব-জীবনের অর্থ বা তাৎপর্য।

বৃহস্পতিবার অনলাইনে বইটির পাঠ উন্মোচন করেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (বিএসি) চেয়ারম্যান ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. সুশান্ত দাস এবং বিজ্ঞানবক্তা ও বিজ্ঞান-বিষয়ক পত্রিকা ‘মহাবৃত্ত’-এর সম্পাদক আসিফুর রহমান।

স্টিফেন হকিংয়ের ‘গ্র্যান্ড ডিজাইন’ বইটি বাংলায় আনা হয়েছে
বিখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিংয়ের গ্র্যান্ড ডিজাইন বইটি বাংলায় আনা হয়েছে

অনুষ্ঠানে সেলিম মোজাহার বলেন, ‘কেবল বিজ্ঞান নয়, সাহিত্য-শিল্প-সমাজ-দর্শনসহ জ্ঞানের সব শাখার পাঠকের কাছে বইটি প্রয়োজনীয় ও সুখপাঠ্য হবে।’

বিজ্ঞানবক্তা আসিফ বলেন, ‘বইটি বাংলা ভাষার বিজ্ঞান-সাহিত্যে এক অনন্য সংযোজন।

‘এটা নিঃসন্দেহে এক দারুণ কাজ।’

অধ্যাপক সুশান্ত দাস বলেন, ‘বাংলা ভাষায় রূপান্তরিত বইটি যেকোনো বিষয়ের পাঠকের কাছে সহজবোধ্য ও সমাদৃত হবে বলে আমার বিশ্বাস। বইটি বিজ্ঞানে আগ্রহীদের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করবে।’

বুকিশ পাবলিকেশন্স গ্র্যান্ড ডিজাইন বইটি প্রকাশ করেছে।

মনন সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত উন্মোচন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, লেখক ও গবেষক ড. মাহবুবুল হক।

শেয়ার করুন

নতুন প্রজাতির পিঁপড়া আবিষ্কার, জেন্ডার নিরপেক্ষ নাম

নতুন প্রজাতির পিঁপড়া আবিষ্কার, জেন্ডার নিরপেক্ষ নাম

ইকুয়েডরের একটি বনে পাওয়া গেছে নতুন প্রজাতির পিঁপড়া। ছবি: বিবিসি

এই ক্ষুদ্রাকৃতির পিঁপড়ার একটি বৈজ্ঞানিক নামও দেয়া হয়েছে, যার শেষে দে (they) রয়েছে। এর বৈজ্ঞানিক নাম স্টুমিজেনাস আয়ার্থে (Strumigenys ayersthey)। এর নামকরণ করা হয়েছে শিল্পী জেরেমি আয়ার্সের সম্মানার্থে। জেরেমি নন-বাইনারি জেন্ডার পরিচয়কে সমর্থন করেন বলে নামকরণে ভিন্নতা আনা হয়েছে।

নতুন আবিষ্কৃত এক প্রজাতির পিঁপড়ার নামকরণে প্রথমবারের মতো জেন্ডার নিরপেক্ষতাকে বেছে নেয়া হয়েছে।

এটি পাওয়া গেছে ইকুয়েডরের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় চিরসবুজ এক বনে, এটাই সম্ভবত একমাত্র প্রজাতি যার কোনো জেন্ডারভিত্তিক নাম দেয়া হয়নি।

বিবিসি প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগে মানুষের সম্মানে শত শত পিঁপড়ার নামকরণ করা হয়েছে। নামকরণে এই (ae) ব্যবহার করা হয়েছে নারী বোঝাতে, আর পুরুষ বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে আই (i)।

এই ক্ষুদ্রাকৃতির পিঁপড়ার একটি বৈজ্ঞানিক নামও দেয়া হয়েছে, যার শেষে দে (they) রয়েছে। এর বৈজ্ঞানিক নাম স্টুমিজেনাস আয়ার্থে (Strumigenys ayersthey)। এর নামকরণ করা হয়েছে শিল্পী জেরেমি আয়ার্সের সম্মানার্থে। জেরেমি নন-বাইনারি জেন্ডার পরিচয়কে সমর্থন করেন বলে নামকরণে ভিন্নতা আনা হয়েছে।

আমেরিকার ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি নিবন্ধ প্রকাশ হয়েছে, সেখানে একটি দল নামের ক্ষেত্রে জেন্ডার চিহ্নিত করতে সম্প্রতি ইংরেজি প্রোনাউন দে, দেম, দেয়ার (the, them, ther) ব্যবহারের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন।

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বোহের বলেন, ‘এমন সুন্দর ও বিরল প্রাণীর প্রজাতি পাওয়া জীব ও মানবজাতির জন্য খুব সৌভাগ্যের ও উদ্‌যাপন করার বিষয়।’

ভাষাকে অল্প বদলালেও সেটি সংস্কৃতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব রাখে। ভাষা গতিশীল এবং এর পরিবর্তন হওয়া দরকার, সেটা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও বলে মনে করেন তিনি।

ইকুয়েডরে রিসার্ভা রিও কানান্ডের অনুসন্ধানে পিঁপড়াটি প্রথম পাওয়া যায় ২০১৮ সালে।

এরপর অনুসন্ধানী দলটি খেয়াল করে, এটি আরও অন্তত ৮৫০টি প্রজাতির মতোই ও একই পরিবারভুক্ত।

শেয়ার করুন

করোনা শনাক্ত করবে মৌমাছি

করোনা শনাক্ত করবে মৌমাছি

ভাইরাসবিষয়ক অধ্যাপক উইম ভ্যান ডার পোয়েল বলেন, ‘সাধারণ মৌমাছি সংগ্রহ করছি আমরা। এরপর যে মৌমাছিগুলো করোনা পজিটিভ নমুনা চিহ্নিত করত পারছে, তাদের শূল বের করে পাশে রাখা চিনি মেশানো পানি নিতে দেয়া হচ্ছে। ভুল করলে তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।’

ঘ্রাণশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শনাক্তে মৌমাছিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে নেদারল্যান্ডসে।

ডাচ গবেষকদের দাবি, নমুনা পরীক্ষার ফল আসতে আসতে যেখানে কয়েক ঘণ্টা বা দিন লেগে যায়, সেখানে প্রখর ঘ্রাণশক্তির অধিকারী মৌমাছিরা কয়েক সেকেন্ডেই বুঝে যায় ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত কি না।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মৌমাছিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন বাফেনিঙেন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। করোনার উপস্থিতি আছে, এমন নমুনা শনাক্তে পুরস্কারস্বরূপ তাদের দেয়া হচ্ছে চিনি মেশানো পানি। ভুল নমুনা শনাক্তে পুরস্কার দেয়া হচ্ছে না।

এ পদ্ধতিতে অভ্যস্ত করে তোলা হচ্ছে মৌমাছিগুলোকে।

এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়া ভাইরাসবিষয়ক অধ্যাপক উইম ভ্যান ডার পোয়েল বলেন, ‘সাধারণ মৌমাছি সংগ্রহ করছি আমরা। এরপর যে মৌমাছিগুলো করোনা পজিটিভ নমুনা চিহ্নিত করত পারছে, তাদের শূল বের করে পাশে রাখা চিনি মেশানো পানি নিতে দেয়া হচ্ছে। ভুল করলে তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।’

করোনা শনাক্তের এ পদ্ধতি দ্রুতগতির, সস্তা এবং যেসব দেশে পর্যাপ্ত টেস্ট কিট নেই, সেসব দেশে ব্যবহার করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

তবে বেলজিয়ামের ঘ্যেঁত ইউনিভার্সিটির মৌমাছি, কীটপতঙ্গ ও প্রাণী রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডার্ক ডে গ্রাফ জানান, করোনা শনাক্তের প্রচলিত পদ্ধতির বদলে মৌমাছি ব্যবহার বাস্তবসম্মত সমাধান নয়।

তিনি বলেন, ‘মৌমাছিদের করোনা শনাক্তের বিষয়টি চমৎকার। কিন্তু আমি নিজে এ কাজের জন্য মৌমাছি নয়, বরং প্রচলিত নমুনা পরীক্ষাই ভালো বলে মনে করি। মৌমাছিকে বরং অন্য কোনো কাজে লাগানো যায় কি না, সেটাই ভেবে দেখা উচিত।’

শেয়ার করুন

৭৮ হাজার বছরের প্রাচীন কবর আফ্রিকায়

৭৮ হাজার বছরের প্রাচীন কবর আফ্রিকায়

আফ্রিকায় আদিম যুগের মানুষ সম্পর্কে গবেষকদের কাছে তথ্য খুব কম। ছবি: এনডিটিভি

আফ্রিকাই আদি মানবের জন্মস্থান। কিন্তু ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে প্রাচীনকালে শেষকৃত্যের রীতি সম্পর্কে যতোটা জানা গেছে, সে তুলনায় আফ্রিকার বিষয়ে তেমন কোনো তথ্যই নেই।

আফ্রিকার মাটিতে অবমুক্ত হলো ৭৮ হাজার বছরের পুরোনো একটি মানুষের কবর। ধারণা করা হচ্ছে, মহাদেশটিতে এযাবৎকালে প্রাগৈতিহাসিক কালের মানুষের যত কবর আবিষ্কৃত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন এটি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন বছর বয়সী একটি শিশুকে কবর দেয়া হয়েছিল সেখানে। দুই পা বুকের সামনে যত্নের সঙ্গে মুড়োনো অবস্থায় অন্তিম শয্যায় শোয়ানো হয় তাকে।

শিশুটির মাথার কাছে বালিশের মতো করে কাফন জাতীয় কাপড় ভাঁজ করে রাখা ছিল।

বিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল নেচারে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণার বিস্তারিত। এতে বলা হয়, কেনিয়া উপকূলে পানির কাছাকাছি স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে আবিষ্কৃত হয়েছে নানা রকম অলঙ্কারে ভর্তি কবরটি। বলা হচ্ছে, প্রস্তর যুগের কোনো এক সময়ের কবর এটি।

বুধবার গবেষকরা জানান, প্রাচীন যুগে আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের সামাজিক আচরণ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে এ আবিষ্কারের ফলে।

গবেষণা প্রতিবেদনটির প্রধান লেখক স্পেনের বার্গোসে ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার অন হিউম্যান ইভোল্যুশনের পরিচালক মারিয়া মার্টিনোন-টোরেস। তিনি বলেন, কাফনের কাপড়টি কবরে যে কায়দায় রাখা ছিল, তাতে তার মৃত্যুর পর শেষকৃত্যানুষ্ঠান হয়েছিল বলে ধারণা পাওয়া যায়।

শিশুটির কঙ্কালের খণ্ডাংশ মাটি খুঁড়ে বের করা হয়েছিল ২০১৩ সালে। কিন্তু সে সময় পুরো কবরটির সন্ধান পাননি প্রত্নতাত্ত্বিকরা।

তিন মিটার উঁচু গোল কবরটি পুরোপুরি বেরিয়ে আসে পাঁচ বছর আগে। হাড়গোড়ের বেশিরভাগই পঁচে গেছে।

গবেষকরা জানান, শুরুতে তারা বুঝতেই পারেননি যে এটি কবর ছিল। যা কিছু পাওয়া গিয়েছিল, সেগুলোকে প্রথমে স্থানীয় একটি জাদুঘরে এবং পরে স্পেনের গবেষণা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সবকিছুর রাসায়নিক বিশ্লেষণের পর কবরের বিষয়টি বেরিয়ে আসে।

এখন গবেষণা চলছে শিশুটির মাথার খুলি ও মুখের হাড় নিয়ে।

তার মেরুদণ্ড ও পাঁজরের হাড়গোড় প্রায় অক্ষত আছে বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা।

বলা হয়, আফ্রিকাই আদি মানবের জন্মস্থান। কিন্তু ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে প্রাচীনকালে শেষকৃত্যের রীতি সম্পর্কে যতোটা জানা গেছে, সে তুলনায় আফ্রিকার বিষয়ে তেমন কোনো তথ্যই নেই।

এর আগে ইসরায়েলেও আদি যুগের একটি কবর অবমুক্ত হয়। সেটির বয়স এক লাখ ২০ হাজার বছর বলে ধারণা করা হয়।

শেয়ার করুন

নিয়ন্ত্রণ হারানো চীনা রকেট ধেয়ে আসছে পৃথিবীতে

নিয়ন্ত্রণ হারানো চীনা রকেট ধেয়ে আসছে পৃথিবীতে

ওয়েনশ্যাং স্পেস লঞ্চ সেন্টার থেকে গত ২৯ এপ্রিল লং মার্চ-ফাইভবি রকেটের উৎক্ষেপণ দেখছেন উৎসাহী চীনারা। ছবি: এএফপি

প্রতি সেকেন্ডে চার মাইলের বেশি গতিতে ছুটে আসছে রকেটটি। এ গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর দুই ঘণ্টারও কম সময়ে ভূপৃষ্ঠে আঘাত হানতে সক্ষম সেটি।

নিয়ন্ত্রণ হারানো ২১ টন ওজনের চীনা রকেট লং মার্চ ফাইভবি পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়তে পারে শনিবার। জনবসতিপূর্ণ কোনো এলাকায় সেটি বিধ্বস্ত হতে পারে বলে শঙ্কা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, পৃথিবীতে রকেটটির প্রত্যাবর্তনের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ। কিন্তু ঠিক কোথায় এটি ভূপাতিত হবে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি।

নিয়ন্ত্রণ হারানো রকেটটির প্রতিদিনের অবস্থান প্রকাশ করা হচ্ছে স্পেস ট্র্যাক অ্যাপে। নতুন তথ্য পেলেই তা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র মাইক হাওয়ার্ড।

তিনি বলেন, ‘রকেটটির অবস্থান সম্পর্কে জানতে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চলছে। ধারণা করা হচ্ছে ৮ মে’র কোনো এক সময়ে পৃথিবীতে আছড়ে পড়বে রকেটটি। কিন্তু এখনও বোঝা যাচ্ছে না যে সেটি বায়ুমণ্ডলের ঠিক কোন অংশ থেকে পৃথিবীতে ঢুকবে।’

অন্যান্য স্যাটেলাইট ট্র্যাকারও ১০০ ফুট লম্বা ও ১৬ ফুট চওয়া রকেটটি শনাক্ত করেছে।

চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় হাইনান প্রদেশের ওয়েনশ্যাং স্পেস লঞ্চ সেন্টার থেকে বৃহস্পতিবার উৎক্ষেপণ করা হয় লং মার্চ-ফাইভবি রকেট। সেই রকেটটিরই একটি অংশ এটি।

বলা হচ্ছে, প্রতি সেকেন্ডে চার মাইলের বেশি গতিতে ছুটে আসছে রকেটটি। এ গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর দুই ঘণ্টারও কম সময়ে ভূপৃষ্ঠে আঘাত হানতে সক্ষম সেটি।

হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টারের অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের গবেষক জোনাথন ম্যাকডোয়েল দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, রকেটটির গতিপথ সুবিধার বলে মনে হচ্ছে না। শেষবার চীন একই প্রযুক্তির একটি রকেট ছোঁড়ার পর অনেকগুলো বড়, লম্বা রড আকাশে ছড়িয়ে পড়েছিল। আইভরি কোস্টের বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল সেগুলোর আঘাতে। বেশিরভাগই অবশ্য বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে পুড়ে গিয়েছিল। যে কয়েকটা ভূপৃষ্ঠে আঘাত হেনেছিল, তাতে যে কেউ আঘাত পাননি- এটাই অনেক।’

চলতি সপ্তাহেই ম্যাকডোয়েল জানান যে রকেটটির মূল কাঠামো অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। ভূপৃষ্ঠে আঘাত করার আগে নিউইয়র্ক থেকে মাদ্রিদের সমান দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে এটি। সুদূর চিলি বা নিউজিল্যান্ডে গিয়েও ভূপাতিত হতে পারে।

তবে পৃথিবীতে আঘাত করার আগেই বায়ুমণ্ডলে এর অনেকটা অংশ পুড়ে যাবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। যে অংশগুলো না পুড়ে আস্ত থেকে যাবে সেগুলো সাগর কিংবা মরু অঞ্চলে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি।

কিন্তু জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অংশগুলোর আছড়ে পড়া এবং ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

২০২২ সালের মধ্যে মহাকাশে চীনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ স্টেশন চালুর লক্ষ্যে গত ২৯ এপ্রিল রকেটটির মাধ্যমে তিয়ানহে মডিউল পাঠায় বেইজিং, যাতে নভোচারীদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। বেইজিংয়ের উচ্চাভিলাষী মহাকাশ কর্মসূচির সবশেষ অগ্রগতি এটি।

চলতি বছরের মধ্যেই আরও অনেক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এ ধরনের কমপক্ষে ১০টি মডিউল কক্ষপথে পাঠানোর পরিকল্পনা আছে বেইজিংয়ের।

বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা একমাত্র মহাকাশ স্টেশন আইএসএসের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, কানাডা, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এতে অংশ নিতে দেয়া হয়নি চীনকে।

২০২৪ সালেই মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে আইএসএসের। ধারণা করা হচ্ছে, এরপর পৃথিবীর কক্ষপথে একমাত্র মহাকাশ স্টেশনটি হবে চীনের।

আকারে এটি আইএসএসের চার ভাগের এক ভাগ। কিন্তু এতে মহাকাশ গবেষণাগারের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকবে চীনের।

শেয়ার করুন

করোনা: তথ্য চেয়ে ভারত সরকারকে বিজ্ঞানীদের চিঠি

করোনা: তথ্য চেয়ে ভারত সরকারকে বিজ্ঞানীদের চিঠি

করোনাভাইরাস সেজে দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে সচেতন করার চেষ্টা চালাচ্ছেন ভারতের এক পুলিশ সদস্য। ছবি: এএফপি

মহামারি নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে ভারত সরকার। দেশটির শীর্ষ স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিএমআর করোনা পরীক্ষা করাতে আসা সবার বয়স, বাসস্থান ও শারীরিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহ করেছে। এ তথ্যগুলো কিছু প্রশ্নের উত্তর জোগাতে সহায়তা করতে পারে।

ভারতে করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় শিগগিরই সরকারি সংস্থাগুলোর সংগ্রহ করা তথ্য ব্যবহারের সুযোগ চেয়েছেন দেশটির বিজ্ঞানীরা।

গবেষণার জন্য তথ্য সরবরাহ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে সরকারের কাছে খোলা চিঠিও দিয়েছেন তারা।

করোনা শনাক্ত ও জিনোম সিকোয়েন্সের ডাটাবেজ উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে ২৯ এপ্রিল প্রকাশিত ওই চিঠিতে ৭৪০ জন বিজ্ঞানী স্বাক্ষর করেছেন।

বিজ্ঞানবিষয়ক ওয়েবসাইট সায়েন্সম্যাগের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

স্বাক্ষরকারীদের একজন পশ্চিমবঙ্গের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োমেডিক্যাল জেনোমিকসের গবেষক পার্থপ্রতীম মজুমদার বলেন, ‘এ তথ্যগুলো পেতে এখন অনেক ভোগান্তি ও আবেদনের ভেতর দিয়ে যেতে হচ্ছে।’

বিষয়টি নিয়ে পরদিন শুক্রবারই একটি প্রজ্ঞাপনে গবেষকদের তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানান সরকারের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা কে বিজয়রাঘবন।

তবে এরপরও পরিস্থিতির কোনো বদল ঘটেনি বলে অভিযোগ গবেষকদের। তারা জানিয়েছেন, তথ্য চেয়ে করা অনেক আবেদনের কোনো উত্তরও দেয়নি সরকারি সংস্থাগুলো।

মহামারি নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে ভারত সরকার। দেশটির শীর্ষ স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) করোনা পরীক্ষা করাতে আসা সবার বয়স, বাসস্থান ও শারীরিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহ করেছে।

এ তথ্যগুলো কিছু প্রশ্নের উত্তর জোগাতে সহায়তা করতে পারে। যেমন আগের কোনো রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে করোনার ঝুঁকি বেশি কি না, কাদের ক্ষেত্রে টিকা কেমন কাজ করছে ইত্যাদি।

ভেলোর ক্রিশ্চিয়ান মেডিক্যাল কলেজের অণুজীব গবেষক গগণদীপ ক্যাং বলেন, ‘অনেকেই জানতে চান, জায়গাভেদে মৃত্যুহার কেমন; শহর ও গ্রামভেদে এ হার আলাদা কি না। মানুষ ঠিকমতো সেবা পাচ্ছে কি না, সেটি বোঝার জন্য এ তথ্যগুলো দরকার।’

পুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের জীববিজ্ঞানী এল. এস শশীধর জানান, করোনা মহামারি মোকাবিলায় যে পরামর্শক কমিটি সরকারকে সহায়তা করছে তাদের কাছেও পর্যাপ্ত তথ্য নেই।

গবেষক পার্থপ্রতীম মজুমদার জানান, মহারাষ্ট্রে বি.১.৬১৭ নামের করোনার ধরনটি ফেব্রুয়ারিতেই ব্যাপকভাবে ছড়াতে শুরু করে। কিন্তু এ ধরনটি বেশি সংক্রামক বা বিপজ্জনক কি না, সে বিষয়ে তথ্য জানাতে দেরি করেছিল ভাইরাস নিয়ে কাজ করা সরকারি সংস্থা।

তিনি বলেন, ‘শুধু সরকার নয়, এ তথ্যগুলোর প্রতি আমাদের অনেকের নজর রাখা দরকার।’

বিজ্ঞানীদের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত তথ্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও এ বিষয়ে এখনও কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

পার্থপ্রতীম মজুমদার বলেন, ‘সরকারি প্রজ্ঞাপনে শুধু বলা হয়েছে, খুব শিগগিরই তথ্য দেয়া হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেটি কখন?’

তিনি বলেন, ‘এর আগেই অনেক সরকারি সংস্থা তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি সময়মতো রক্ষা করেনি।’

শেয়ার করুন

দুই মিনিটে ঘুমিয়ে পড়বেন যেভাবে

দুই মিনিটে ঘুমিয়ে পড়বেন যেভাবে

ঘুমানোর জায়গা ভালো না হওয়া, শরীরের অসুবিধাজনক অবস্থান, দুশ্চিন্তাসহ ঠিক সময়ে ঘুম না আসার অনেক কারণ রয়েছে। অনেক সময় নিছক ঘুমানোর চেষ্টার কারণেও ঘুম আসতে দেরি হতে পারে।

বিছানায় ওলটপালট করছেন অথচ ঘুম আসছে না? ঘুমানোর চেয়ে বেশি সময় নষ্ট হচ্ছে ঘুমানোর চেষ্টায়? ঘুমের এমন সমস্যা আপনার একার নয়।

সুস্থ থাকার জন্য প্রত্যেক মানুষেরই ঘড়ি ধরে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম আমাদের উজ্জীবিত করে, মাথা ঠাণ্ডা রাখে, হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখে ও এতে শরীরের বাড়তি ওজনও কমে।

ঘুমানোর জায়গা ভালো না হওয়া, শরীরের অসুবিধাজনক অবস্থান, দুচিন্তাসহ ঠিক সময়ে ঘুম না আসার অনেক কারণ রয়েছে। অনেক সময় নিছক ঘুমানোর চেষ্টার কারণেও ঘুম আসতে দেরি হতে পারে!

ঘুমের এই সমস্যার সমাধান কী? কীভাবে আমরা দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে পারি?

অনেক টোটকা সমাধানের পাশাপাশি দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার কিছু বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির কথা জানানো হয়েছে টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে।

সামরিক পদ্ধতি

দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। প্রথমে মুখের পেশিগুলোকে শিথিল করে নিন। ঘাড়ের পেশিকেও শিথিল করে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন। দুই পা ও উরুকে শিথিল করে কোনো একটি সুন্দর দৃশ্যের কথা ভাবুন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনি দেখবেন, ঘুমিয়ে পড়েছেন!

যত বেশি সময় ধরে এটি অনুশীলন করবেন, তত দ্রুত আপনি ঘুমিয়ে পড়তে পারবেন।

৪-৭-৮ পদ্ধতি

জিহ্বাকে মুখের তালুতে ঠেকান। ঠোঁট বন্ধ রেখে জিহ্বা একইরকম রাখুন। এখন ধীরে ধীরে ঠোঁট খুলুন এবং মুখ দিয়ে শ্বাস ছাড়ুন। আবার শ্বাস নিয়ে ঠোঁট বন্ধ করুন। এক থেকে চার পর্যন্ত গুনে সাত সেকেন্ড শ্বাস বন্ধ রাখুন। এবার আট সেকেন্ড ধরে শ্বাস ছাড়ুন।

অন্তত চার বার এই ৪-৭-৮ পদ্ধতিটি অনুশীলনে আপনার পুরো শরীর শিথিল হয়ে আসবে এবং আপনি ঘুমিয়ে পড়বেন।

তবে যাদের শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা আছে তারা পদ্ধতিটি অনুসরণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

প্রগ্রেসিভ মাসল রিল্যাক্সাসেশন (পিএমআর)

নিদ্রাহীনতায় ভোগা মানুষদের জন্য এটি খুবই কার্যকরী পদ্ধতি। প্রথমে আপনার চোখের ভ্রূ অন্তত পাঁচ সেকেন্ডের জন্য উপরের দিকে তুলে রাখুন। এর ফলে কপালে কিছুটা চাপ পড়বে। ভ্রূ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে দশ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন। এবার দুই গাল চওড়া করে হাসার ভান করুন। কয়েক সেকেন্ড পরে মুখ স্বাভাবিক অবস্থায় আনুন। একটু পরে শরীরের বিভিন্ন অংশ শিথিল করুন। এর ফলে আপনার সমস্ত দুশ্চিন্তা দূর হবে এবং দ্রুত ঘুমিয়ে পড়বেন।

প্যারাডক্সিক্যাল ইনটেনশন

আপনি যদি প্রায়ই নিদ্রাহীনতায় ভোগেন তাহলে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার জন্য এটি ভালো উপায়। এতে শিথিল হওয়ার বদলে শরীরকে জেগে থাকতে বলা হয়। এর ফলে শরীর দ্রুতই নিজেকে ক্লান্ত মনে করে ও ঘুমিয়ে পড়তে চায়। এই পদ্ধতি খুব একটা প্রচলিত না হলেও অন্য যেকোনো উপায়ের চেয়ে দ্রুত কাজ করে।

এই কৌশলগুলো ছাড়াও দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার জন্য স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা জরুরি। পুষ্টিকর খাবারও এক্ষেত্রে ভালো ভূমিকা রাখে। ঘুমাতে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে ক্যাফেইন বা উত্তেজক পানীয় পরিহার করতে হবে। রাতে হালকা খাবার পাকস্থলীকে চাপমুক্ত রাখে। এটি ভালো ঘুমে সাহায্য করে।

শেয়ার করুন