20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
চাঁদে মিলেছে বিপুল পানির সন্ধান

চাঁদে মিলেছে বিপুল পানির সন্ধান

নাসা বলছে, আগের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি পানি রয়েছে চাঁদের বুকে। কেবল অন্ধকারাচ্ছন্ন মেরু অঞ্চলেই নয়, সূর্যালোক পৌঁছায় যেসব অংশে সেখানেও রয়েছে পানির উপস্থিতি। পানির এই আধার চাঁদের বুকে মানব বসতি গড়তে নাসার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সহায়ক হবে।

চাঁদে পানির বিপুল উপস্থিতির সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা- নাসা।

সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন নাসার বিজ্ঞানীরা।

তারা বলছেন, আগের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি পানি রয়েছে চাঁদের বুকে। কেবল অন্ধকারাচ্ছন্ন মেরু অঞ্চলেই নয়, সূর্যালোক পৌঁছায় যেসব অংশে সেখানেও রয়েছে পানির উপস্থিতি।

পানির এই আধার চাঁদের বুকে মানব বসতি গড়তে নাসার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সহায়ক হবে বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

এ বিষয়ক দুটি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে নেচার অ্যাস্ট্রোনমি জার্নালে। আর সেই গবেষণায় যুক্ত বিজ্ঞানীরাই তাদের অনুসন্ধানের ফলাফল সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন।

নাসার লুনার রিকনোসিন্স অরবিটার ২০০৯ সাল থেকে ঘুরছে চাঁদের চারপাশে। এছাড়া, পৃথিবীর প্রায় ১১ কিলোমিটার উপর থেকে মহাকাশে নজর রাখছে স্ট্র্যাটোস্ফেরিক অবজারভেটরি ফর ইনফ্রারেড অ্যাস্ট্রোনমি, সংক্ষেপে সোফিয়া

এ দুটি পর্যবেক্ষক কেন্দ্রের অনুসন্ধানের ভিত্তিতেই চাঁদে বিপুল পানির অস্তিত্ব থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে নাসা।

প্রথম অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা সোফিয়া থেকে এমন এক তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ চালিয়েছেন, যার মাধ্যমে চাঁদের আলোকিত অংশেও পানিকণার অস্তিত্ব ধরা পড়েছে।

সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে নাসার সায়েন্স মিশন ডাইরেক্টরেটের অ্যাস্ট্রোফিজিক্স ডিভিশনের প্রধান পল হেটজ বলেন, ‘আমাদের কাছে চাঁদের সূর্যালোকিত অংশে পানি থাকার কিছু ইঙ্গিত আগে থেকেই ছিল। এখন আমরা নিশ্চিতভাবে জানি সেটা আছে। এই আবিষ্কার চন্দ্রপৃষ্ঠ সম্পর্কে আমাদের ধারণা বদলে দেয়ার পাশাপাশি দূর মহাকাশে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের জোগান সম্পর্কে উৎসাহিত করবে।’

সোফিয়া আসলে বিশেষায়িত একটি এয়ারক্র্যাফট- বোয়িং সেভেন ফোর সেভেন এসপি। মহাকাশের নজর রাখার কাজে একে ব্যবহার করছে নাসা।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বেশ উপরের দিকে থাকায় সোফিয়া বায়ুমণ্ডলের ইনফ্রারেড জটিলতার প্রায় ৯৯ শতাংশকেই পেছনে ফেলে নির্বিবাদে মহাকাশে নজর রাখতে পারে। পৃথিবীর বুকের যে কোনো টেলিস্কোপের চেয়ে সোফিয়ার টেলিস্কোপ থেকে দূর আকাশের অনেক নিখুঁত ছবি পান নাসার বিজ্ঞানীরা।

নাসার লুনার রিকনোসিন্স অরবিটারের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে দ্বিতীয় গবেষণায়। আর তাতে বেরিয়ে এসেছে, চাঁদের যে অংশে কখনোই সূর্যের আলো পৌঁছায় না, সেই এলাকার পরিমাণ সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার বর্গমাইল। এতদিন বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, এমন অংশ মাত্র সাত হাজার বর্গমাইল।

চাঁদের এই বিশাল অন্ধকার অংশেও রয়েছে জমাট বাঁধা বরফের বিপুল সঞ্চয়। এই গবেষণা দলের সদস্য এবং ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো বোলডারের সহকারী অধ্যাপক পল হায়েন বলেন, ‘আমাদের অনুসন্ধান সঠিক হলে চাঁদে সুপেয় পানি, রকেট জ্বালানিসহ নাসার জন্য পানিসংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় আর কিছুর অভাব থাকবে না।’

নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির অধীনে ২০৩০ এর দশকের মধ্যে চাঁদে মানব বসতি গড়ার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সেখানে ২০২৪ সালে প্রথম নারীকে পাঠানোর কথা রয়েছে।

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বরফের সম্ভাব্য অস্তিত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান করছিল নাসা। এছাড়া, এক সময়ে লাভার স্রোত বইত চাঁদের বুকে এমন একটি খাদ নিয়েও সংস্থাটি বিশেষভাবে আগ্রহী। নাসা মনে করছে, খাদটি চাঁদে মানুষের নিরাপদ বসতি গড়ার একটি আদর্শ জায়গা হতে পারে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য