দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়েও বঙ্গবন্ধু চেয়ার

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়েও বঙ্গবন্ধু চেয়ার

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

আইসিসিআর বলছে, বঙ্গবন্ধু চেয়ারের লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়নের বিষয়ে আরও বেশি ধারণা পাওয়া। এটি ভারতের প্রতিবেশি প্রথম এবং অ্যাক্ট ইস্ট পলিসির প্রতিফলন। এ পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক, শিল্প এবং সংস্কৃতির বিনিময় বাড়বে। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সম্মান জানিয়ে এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ-ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরকে সামনে রেখে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রবর্তন করতে যাচ্ছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর)।

শনিবার সংস্থাটি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এ বছরের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়।

আইসিসিআর বলছে, বঙ্গবন্ধু চেয়ারের লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়নের বিষয়ে আরও বেশি ধারণা পাওয়া। এটি ভারতের প্রতিবেশি প্রথম এবং অ্যাক্ট ইস্ট পলিসির প্রতিফলন। এ পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক, শিল্প এবং সংস্কৃতির বিনিময় বাড়বে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্থিতিশীল অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আর্থসামাজিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তনের কারণে ভারতীয় একাডেমিয়া ও কন্ট্রিবিউটর থেকে নীতি নির্ধারকদের আন্তর্জাতিক ভাবে বাংলাদেশ অধ্যয়নের বিষয়ে মনোযোগী হওয়ার সময় হয়েছে। এই চেয়ার সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

১২ জুলাই আইসিসিআরের মহাপরিচালক দিনেশ কে পাটনায়েক এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক পিসি জোসি নিহ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বঙ্গবন্ধু চেয়ার স্থাপনের বিষয়ে সমঝোতা সই করবেন। আগামী ৫ বছরের জন্য এই সমঝোতা জারি থাকবে।

একজন বিদেশি অধ্যাপক অথবা এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কেউ এই চেয়ারে অধিষ্ঠিত হবেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত কাউকে প্রাধান্য দেয়া হবে। ইন্দো-বাংলাদেশ সম্পর্কিত সংস্কৃতি ঐতিহ্য এবং নৃবিজ্ঞান, বুদ্ধিস্ট স্টাডিস, ভূগোল, ইতিহাস, আধুনিক ভারতীয় ভাষা (বাংলাসহ), সংগীত ও চারুকলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং সমাজবিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেয়া হবে।

এর আগে আইসিসিআর বিভিন্ন দেশে ভারত অধ্যয়ন বিষয়ে বিভিন্ন চেয়ার প্রবর্তন করেছে কিন্তু ভারতে বাংলাদেশ সম্পর্কিত চেয়ার এটিই প্রথম।

আরও পড়ুন:
হাঁড়িভাঙ্গার বিনিময়ে আসছে রানি
হাসিনার হাঁড়িভাঙ্গায় মন ছুঁয়েছে মোদির
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে সৌরভের বাড়িতে মমতা
প্যারিসে বাজেয়াপ্ত ভারত সরকারের ২০ সম্পত্তি
মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েই টুইটারকে হুঁশিয়ারি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কলকাতায় শেখ কামালের জন্মদিন পালন

কলকাতায় শেখ কামালের জন্মদিন পালন

কলকাতায় পালন হয়েছে শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মদিন। ছবি: সংগৃহীত

উপহাইকমিশনার তৌফিক হাসান বলেন, ‘বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী, তারুণ্যের প্রতীক ছিলেন শেখ কামাল। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হলেও তার মধ্যে কোনো অহমিকা ছিল না। তিনি ছিলেন মার্জিত, বিনয়ী, বন্ধুবৎসল ও উপকারী। সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের তরুণ সমাজের বিকাশে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চার উদ্বুদ্ধকরণে তার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭২তম জন্মদিন পালন হয়েছে।

কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের বাংলাদেশ গ্যালারিতে বৃহস্পতিবার এই জন্মদিনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

এদিন শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন বিশিষ্টজনেরা।

উপহাইকমিশনার তৌফিক হাসান তার স্বাগত ভাষণে বলেন, ‘বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী, তারুণ্যের প্রতীক ছিলেন শেখ কামাল। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হলেও তার মধ্যে কোনো অহমিকা ছিল না।

‘তিনি ছিলেন মার্জিত, বিনয়ী, বন্ধুবৎসল ও উপকারী। সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের তরুণ সমাজের বিকাশে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চার উদ্বুদ্ধকরণে তার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।’

প্রখ্যাত সাংবাদিক সুখরঞ্জন দাশগুপ্ত বলেন, ‘শেখ কামাল একজন সৌম্য, সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায় তার অবাধ বিচরণ ছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর এডিসি ছিলেন তিনি। বসতেন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের অস্থায়ী কার্যালয় কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে, বর্তমানে যা শেকসপিয়ার সরণি।’

কাউন্সিলর (শিক্ষা ও ক্রীড়া) রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর অন্যতম সংগঠক।’

উপহাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব (কাউন্সিলর) রাসেল জমাদার বলেন, ‘শেখ কামালের জন্ম ও কর্মময় জীবন আমাদের কাছে অতুলনীয়। কারণ সততার কষ্টিপাথরে তিনি ছিলেন অনন্য।’

কাউন্সিলর মোহাম্মদ বশির উদ্দিন বলেন, ‘শেখ কামাল ছিলেন মুক্তমনা। বঙ্গবন্ধুর সন্তান হওয়ায় স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতকচক্রের নির্মম অত্যাচারের শিকার হন শেখ কামাল।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের বুলেটের আঘাতে শেখ কামাল শহিদ হন।

শেখ কামালের রাজনৈতিক সহকর্মী সুবীর হোমরায় তার স্মৃতিচারণায় বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের ছাত্র শেখ কামাল ছিলেন ভালো ক্রিকেটার, নাট্যকর্মী, সংগীত অনুরাগী এবং উজ্জ্বল ছাত্রনেতা। তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ ছিলেন।’

উপহাইকমিশনের বাংলাদেশ গ্যালারিতে শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের অবদান নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন:
হাঁড়িভাঙ্গার বিনিময়ে আসছে রানি
হাসিনার হাঁড়িভাঙ্গায় মন ছুঁয়েছে মোদির
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে সৌরভের বাড়িতে মমতা
প্যারিসে বাজেয়াপ্ত ভারত সরকারের ২০ সম্পত্তি
মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েই টুইটারকে হুঁশিয়ারি

শেয়ার করুন

লোকসভার নিরাপত্তা কর্মীকে নিগ্রহের অভিযোগ তৃণমূল সাংসদদের বিরুদ্ধে

লোকসভার নিরাপত্তা কর্মীকে নিগ্রহের অভিযোগ তৃণমূল সাংসদদের বিরুদ্ধে

ভারতের সংসদ। ফাইল ছবি

রাজ্যসভার কাচের দরজা ভেঙে আহত হওয়ার ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানিয়ে লোকসভার সচিবকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নারী নিরাপত্তাকর্মী চন্দ্রকলা। এ ঘটনায় অল্পবিস্তর জখম হয়েছেন সাংসদ অর্পিতা ঘোষও।

রাজ্যসভা থেকে সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল সাংসদদের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার এবং শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ এনেছেন লোকসভার নারী নিরাপত্তাকর্মী চন্দ্রকলা।

রাজ্যসভার কাচের দরজা ভেঙে আহত হওয়ার ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানিয়ে লোকসভার সচিবকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় অল্পবিস্তর জখম হয়েছেন সাংসদ অর্পিতা ঘোষও।

সব মিলিয়ে বুধবার রাজ্যসভায় তৃণমূল সাংসদদের বরখাস্ত হওয়ার ঘটনার রেশ তো কাটলই না, বরং নতুন মাত্রা পেল।

তৃণমূল অবশ্য বুধবার থেকেই অন্য দাবি জানিয়ে আসছে। বৃহস্পতিবার সময় ধরে ধরে ওই দিনের ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন।

টুইটারে একটি ভিডিও তুলে দিয়ে ডেরেক লিখেছেন, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পেগাসাস কাণ্ডে আলোচনা করতে রাজি হয়নি সরকার। এরপর ৩০ জন বিরোধী সাংসদ ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। সকাল ১১টা ১৩ মিনিটের দিকে প্ল্যাকার্ড হাতে থাকার কারণে বরখাস্ত করা হয় ছয় সাংসদকে।

দুপুর ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে সেদিনের মতো স্থগিত হওয়ার পরই তিন তৃণমূল সাংসদকে সংসদ কক্ষে ঢুকতে বাধা দেন একজন পুরুষ মার্শাল। গোটা ঘটনা তুলে ধরে ডেরেকের প্রশ্ন, ‘এটা কী গণতন্ত্র চলছে?’

তৃণমূলের যুক্তি, সদনের মধ্যে রাজ্যসভায় সাংসদ দোলা সেনের ব্যাগ রয়ে গিয়েছিল। তিনি সেটি আনতে যেতে চাইলেও তাকে আনতে দেয়া হচ্ছিল না। অথচ অধিবেশন শেষ হয়ে গিয়েছিল সেদিনের মতো অর্থাৎ সাসপেনশান উঠেও গিয়েছিল।

পরে ডেরেক ও ব্রায়েন নিয়ম দেখিয়ে সুর চড়াতেই সুর নরম করে সরকার পক্ষ। ঘটনা পরম্পরা বলছে একদিনে পেগাসাস নিয়ে যেমন বিরোধী-সরকার দ্বন্দ্ব চরমে, তখন নিরাপত্তার প্রশ্নটি নতুন মাত্রা নিতে পারে।

তৃণমূল ছেড়ে কথা বলবে না। দেখার বিষয় সরকার কী অবস্থান নেয়। একটি সূত্রের খবর, চারদিক থেকে কোণঠাসা সরকার চাইছে যত দ্রুত সম্ভব লোকসভা অধিবেশন শেষ করতে।

আরও পড়ুন:
হাঁড়িভাঙ্গার বিনিময়ে আসছে রানি
হাসিনার হাঁড়িভাঙ্গায় মন ছুঁয়েছে মোদির
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে সৌরভের বাড়িতে মমতা
প্যারিসে বাজেয়াপ্ত ভারত সরকারের ২০ সম্পত্তি
মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েই টুইটারকে হুঁশিয়ারি

শেয়ার করুন

দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে স্বার্থপর বিরোধীরা: মোদি

দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে স্বার্থপর বিরোধীরা: মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

সংসদের চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিন থেকে বিরোধীরা পেগাসাস আড়িপাতা কেলেংকারি, তিনটি নতুন কৃষি আইন, মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদে সব বিষয়ে আলোচনার আশ্বাস দিলেও পেগাসাস কেলেংকারিকে ‘নন ইস্যু’ আখ্যা দিয়ে আলোচনার দাবি মানতে অস্বীকার করেছেন সংসদীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী।

ভারতীয় সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের শুরু থেকে বিরোধীদের বিক্ষোভে কার্যত বারবার উত্তাল হয়েছে রাজ্যসভা ও লোকসভা। সংসদে ২২টি বিল পাশ হয়েছে আলোচনা ছাড়াই। এমন পরিস্থিতিতে আগেও বিরোধীদের দোষারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

আবার একবার নাম না করে বৃহস্পতিবার বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন তিনি। বিরোধীরা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে দেশকে পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করলেন মোদি।

তার কথায়, ‘এভাবে দেশের অগ্রগতি আটকানো যাবে না।’

উত্তর প্রদেশে ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্নযোজনা’র প্রাপকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে এ কথা বলেন মোদি।

সংসদের চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিন থেকে বিরোধীরা পেগাসাস আড়িপাতা কেলেংকারি, তিনটি নতুন কৃষি আইন, মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী সংসদে সব বিষয়ে আলোচনার আশ্বাস দিলেও পেগাসাস কেলেংকারিকে ‘নন ইস্যু’ আখ্যা দিয়ে আলোচনার দাবি মানতে অস্বীকার করেছেন সংসদীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী।

ভার্চুয়াল মাধ্যমে ভাষণ দিতে গিয়ে এদিন মোদি বলেন, ‘একদিকে আমার দেশ, দেশের যুব সম্প্রদায় জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর বিরোধীরা রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে এমন কাজ করছে, যাতে তারাই আত্মঘাতী গোল করছে। নিজের স্বার্থে দেশের সময় নষ্ট করছে।’

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘দেশ কী চায়, দেশ কী পাচ্ছে, দেশ কীভাবে বদলাচ্ছে তাতে কিছু যায় আসে না বিরোধীদের।’

এদিন তিনি বিরোধীদের বার্তা দিয়ে সাফ জানান, বিরোধীদের জন্য দেশ কখনও থেমে থাকবে না, দেশের অগ্রগতি আটকানো যাবে না।

বিরোধীদের প্রতি মোদির ক্ষোভ নতুন নয়। এর আগে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিরোধী সাংসদদের বার্তা দিয়েছেন তিনি। এর আগে দলীয় সাংসদদের বৈঠকে একই বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।

রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেনের প্রসঙ্গে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যিনি কাগজ ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেললেন, তার কোনো অনুতাপ নেই।’

টুইটে ডেরেক ও ব্রায়েন বিল পাস করানোকে ‘পাপড়ি চাট’ তৈরির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। বৈঠকে সেই প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, ‘বিল পাস করানো নিয়ে একজন বর্ষীয়ান সাংসদ অপমানজনক মন্তব্য করেছেন। এর আগে সরাসরি কংগ্রেসের নাম করে দলীয় বৈঠকে বার্তা দেন তিনি। কংগ্রেস অধিবেশনে কোনো কাজ করতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি।’

এ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে দেশের নিরাপত্তা সুরক্ষিত নয়। ভারতের ইতিহাসে কখনও ফোনে আড়িপাতার মতো ঘটনা ঘটেনি। পেগাসাস স্পাইওয়্যার কিনে সেগুলো ব্যবহার করা হয়েছে।’

সাংসদের দাবি, এই অভিযোগ নিয়ে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ দুজনেই রহস্যজনকভাবে নিরব। কেন গণতন্ত্র মানা হচ্ছে না, সেটি নিয়ে মুখ খোলার দাবি জানিয়েছেন তিনি। সুখেন্দু শেখরের প্রশ্ন, ‘এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা হবে না তো কোথায় হবে?’

আরও পড়ুন:
হাঁড়িভাঙ্গার বিনিময়ে আসছে রানি
হাসিনার হাঁড়িভাঙ্গায় মন ছুঁয়েছে মোদির
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে সৌরভের বাড়িতে মমতা
প্যারিসে বাজেয়াপ্ত ভারত সরকারের ২০ সম্পত্তি
মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েই টুইটারকে হুঁশিয়ারি

শেয়ার করুন

ব্লাসফেমি মামলায় জামিন, মন্দির ভাঙচুর

ব্লাসফেমি মামলায় জামিন, মন্দির ভাঙচুর

পাকিস্তানে বুধবার এক মন্দিরে হামলা হয়। ছবি: ডন

পাকিস্তানের একটি মাদ্রাসার অভিযোগের ভিত্তিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ​৯ বছরের ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত শিশুটিকে জামিন দিলে মেনে নিতে পারেননি স্থানীয়রা। লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে গণেশ মন্দির ভাঙচুর করেন তারা।

ব্লাসফেমি মামলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী ৯ বছরের এক ছেলেকে জামিন দেয়ায় পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে একটি মন্দির ভাঙচুর করেছে ইসলাম ধর্মাবলম্বী শতাধিক মানুষ।

পাঞ্জাবের রহিম ইয়ার খান জেলার ভং শহরে বুধবার ওই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে ডন ও বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভং শহরে এক মাদ্রাসায় শিশুছেলেটি প্রস্রাব করেছিল বলে অভিযোগ আছে।

সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৪ জুলাই দারুল উলুম আরবিয়া তেলিমুল কোরান মাদ্রাসার হাফেজ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের অভিযোগের ভিত্তিতে ৯ বছরের ছেলেটির বিরুদ্ধে মামলা করে ভং পুলিশ।

পাকিস্তান দণ্ডবিধির ২৯৫-এ ধারায় মামলাটি হয়।

মামলার পর মাদ্রাসা প্রশাসনের কাছে ক্ষমা চান স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের বয়োজ্যেষ্ঠরা। তাদের ভাষ্য, আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং মানসিক প্রতিবন্ধী।

তবে চার দিন আগে ওই ছেলে জামিন পাওয়ায় বুধবার কয়েকজন ব্যক্তি আদালতের জামিন নির্দেশের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের প্ররোচিত করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, লোকজন লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে গণেশ মন্দির ভাঙচুর করছেন। পরে ভাঙচুরকারীরা তিন ঘণ্টারও বেশি সুক্কুর-মুলতান সড়ক অবরোধ করেন।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা রিয়াসাত আলী বলেন, ‘ভাঙচুরে মন্দির ভবনের আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

রহিম ইয়ার খান জেলা পুলিশের মুখপাত্র আহমেদ নাওয়াজ চীমা জানান, ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

চীমা জানান, আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক। তবে তার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিরাপত্তার স্বার্থে ওই ছেলেকে রহিম ইয়ার খান জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই অঞ্চলে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে অর্থসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল, যা বিশৃঙ্খলার মূল কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
হাঁড়িভাঙ্গার বিনিময়ে আসছে রানি
হাসিনার হাঁড়িভাঙ্গায় মন ছুঁয়েছে মোদির
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে সৌরভের বাড়িতে মমতা
প্যারিসে বাজেয়াপ্ত ভারত সরকারের ২০ সম্পত্তি
মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েই টুইটারকে হুঁশিয়ারি

শেয়ার করুন

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চুক্তি বাস্তবায়নে ভারতের তাড়া

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চুক্তি বাস্তবায়নে ভারতের তাড়া

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ফাইল ছবি

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, আমাদের অবশ্যই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্থিতিস্থাপকতা এবং প্রশমনের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সমাপ্ত সমঝোতা স্মারকটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সই করা সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে চিঠি লিখেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

বৃহস্পতিবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

এতে বলা হয়, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে লেখা চিঠিতে বলেন, আমাদের অবশ্যই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্থিতিস্থাপকতা এবং প্রশমনের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সমাপ্ত সমঝোতা স্মারকটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে হবে।

জয়শঙ্কর এ বিষয়ে তার আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, এই চুক্তি বাস্তবায়ন দুই দেশকে ভবিষ্যতে এই ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত থাকতে সাহায্য করবে।

'আমরা আনন্দিত যে বাংলাদেশ আমাদের দুর্যোগ প্রতিরোধক অবকাঠামোর জন্য কোয়ালিশনে যোগদানের আমন্ত্রণ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।'

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন ভালোভাবেই জানেন যে সমগ্র বিশ্ব, বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চল এখন ঘন ঘন জলবায়ু সংক্রান্ত দুর্যোগের সাক্ষী।

চিঠিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন যে দুর্যোগ মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, একে অপরের সেরা অনুশীলন থেকে শেখার পাশাপাশি একে অপরকে সহায়তা করাও এখন সময়ের দাবি।

জয়শঙ্কর মহারাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বন্যায় প্রাণ হারানো মানুষের জন্য শোক প্রকাশ করে দেয়া চিঠির জন্য মোমেনকে ধন্যবাদ জানান।

আরও পড়ুন:
হাঁড়িভাঙ্গার বিনিময়ে আসছে রানি
হাসিনার হাঁড়িভাঙ্গায় মন ছুঁয়েছে মোদির
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে সৌরভের বাড়িতে মমতা
প্যারিসে বাজেয়াপ্ত ভারত সরকারের ২০ সম্পত্তি
মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েই টুইটারকে হুঁশিয়ারি

শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গে বন্যা: মোদি সরকারকে দায়ী করলেন মমতা

পশ্চিমবঙ্গে বন্যা: মোদি সরকারকে দায়ী করলেন মমতা

বুধবার পশ্চিমবঙ্গের আমতায় বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: ফেসবুক

বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে মমতা বলেন, ‘এটা বৃষ্টির বন্যা নয়। এটা পানি ছাড়ার বন্যা। ম্যান মেইড ফ্লাড। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, ডিভিসি (দামোদর ভ্যালি কর) ইচ্ছা মতো পানি ছাড়ছে। এটা কেন্দ্রের খাল না সংস্কার করার ফল।’  

পশ্চিমবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্র সরকারকে দায়ী করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বুধবার রাজ্যের বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে আমতায় গিয়ে মমতা বলেন, ‘এটা বৃষ্টির বন্যা নয়। এটা পানি ছাড়ার বন্যা। ম্যান মেইড ফ্লাড। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, ডিভিসি (দামোদর ভ্যালি কর) ইচ্ছা মতো পানি ছাড়ছে। এটা কেন্দ্রের খাল না সংস্কার করার ফল।’

এদিন আকাশপথে মুখ্যমন্ত্রীর বন্যা বিধ্বস্ত খানাকুল পরিদর্শনে যাওয়ার কথা থাকলেও আবহাওয়া খারাপ থাকার জন্য তিনি সিদ্ধান্ত বদল করে সড়কপথে আমতা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে যাওয়ার পথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফোন পান মমতা। ফোনালাপে ডিভিসির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

মোদি মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতির সামগ্রিক খবর নেন। কোন জেলার কী অবস্থা, বন্যায় কত প্রাণহানি হয়েছে, অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি কী হয়েছে সে বিষয়েও দুজনের কথা হয়।

এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে টুইট করে বলা হয়, ‘বাঁধ থেকে ছাড়া পানিতে যে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে, সেটি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বন্যা কবলিত এলাকার সকলে যাতে সুস্থ ও নিরাপদ থাকেন এজন্য প্রার্থনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।’

সড়কপথে আমতা পৌঁছে বন্যা দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। গোটা এলাকা পানিমগ্ন থাকায় পানিতে দাঁড়িয়ে প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সরকারের পক্ষ থেকে বন্যা দুর্গতদের সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেন তিনি।

টানা বৃষ্টি আর ডিভিসির ছাড়া পানিতে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোর বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে আমতা, ঘাটাল, উদয় নারায়ণপুরের বন্যা পরিস্থিতি খুবই শোচনীয়।

আমতার দুই নম্বর ব্লকের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা সম্পূর্ণ পানির তলায়। উদয় নারায়ণপুরের সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত প্লাবিত। এলাকার কয়েক লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।

ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। দুর্গতদের যাতে খাবার ও খাবার পানির সমস্যা না হয় সেটি দেখার জন্য জেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।

খারাপ আবহাওয়ার জন্য আমতার দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে কলকাতায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমি খানাকুলে যাব ভেবেছিলাম। তবে অবস্থা খারাপ। সাবধানে থাকুন।’

পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে শুক্রবার বন্যা কবলিত খানাকুল এলাকা পরিদর্শনে যেতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন:
হাঁড়িভাঙ্গার বিনিময়ে আসছে রানি
হাসিনার হাঁড়িভাঙ্গায় মন ছুঁয়েছে মোদির
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে সৌরভের বাড়িতে মমতা
প্যারিসে বাজেয়াপ্ত ভারত সরকারের ২০ সম্পত্তি
মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েই টুইটারকে হুঁশিয়ারি

শেয়ার করুন

পেগাসাস কাণ্ডে বিক্ষোভ, ৬ তৃণমূল সাংসদকে সাসপেন্ড

পেগাসাস কাণ্ডে বিক্ষোভ, ৬ তৃণমূল সাংসদকে সাসপেন্ড

ভারতের সংসদ ভবন। ছবি; সংগৃহীত

টুইটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘আমাদের সাংসদদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে ৫৬ ইঞ্চির গডফাদার হার মেনেছেন। আপনি আমাদের সাসপেন্ড করতে পারেন কিন্তু চুপ করাতে পারেন না। আমরা মানুষের জন্য লড়াই করে যাব, সত্যের জন্য লড়াই করে যাব। শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও লড়াই করব।’

ফোনে আড়িপাতার ঘটনায় বিক্ষোভ করায় তৃণমূল কংগ্রেসের ছয় সাংসদকে একদিনের জন্য সাসপেন্ড করেছেন ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষের (রাজ্যসভা) চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু।

ওই সাংসদদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পেগাসাস কেলেংকারি নিয়ে আলোচনার দাবিতে সংসদের ওয়েলে নেমে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখিয়ে নিজেদের পদকে অসম্মান করেছেন তারা।

সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল সাংসদরা হলেন দোলা সেন, শান্তা ছেত্রী, মৌসম নূর, মুহম্মদ নাদিমুল হক, আবীর রঞ্জন বিশ্বাস এবং অর্পিতা ঘোষ। এর আগে সংসদ থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল তৃণমূলের আরেক সাংসদ শান্তনু সেনকে।

পেগাসাস কাণ্ডে আলোচনা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিবৃতি দাবিতে বুধবার রাজ্যসভার ওয়েলে নেমে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন তৃণমূল সাংসদরা৷

রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু বারবার তাদের সতর্ক করে নিজেদের জায়গায় ফিরে যেতে অনুরোধ করেন৷ সংসদীয় রীতি ভেঙে বিক্ষোভ দেখানোয় শাস্তি দেয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি৷ কিন্তু তাতেও শান্ত হননি তৃণমূল সাংসদরা৷

এরপরেই ছয় সাংসদকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেন চেয়ারম্যান৷ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে টুইট করেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন।

সব বিরোধী একজোট হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে টুইটে তিনি লিখেন, ‘সরকার বিরোধীদের মধ্যে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু তাতে তারা ব্যর্থ।’

সাংসদদের সাসপেন্ড করার পর টুইটে বিজেপিকে কটাক্ষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘হার মেনেছেন ৫৬ ইঞ্চির গডফাদার।’

টুইটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক লিখেছেন, ‘আমাদের সাংসদদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে ৫৬ ইঞ্চির গডফাদার হার মেনেছেন। আপনি আমাদের সাসপেন্ড করতে পারেন কিন্তু চুপ করাতে পারেন না। আমরা মানুষের জন্য লড়াই করে যাব, সত্যের জন্য লড়াই করে যাব। শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও লড়াই করব।’

তৃণমূল সাংসদদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি সংসদকে অসম্মান করার অভিযোগ তুলেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। বুধবার তৃণমূল সাংসদের টুইট প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুক্তার আব্বাস নকভি বলেন, ‘যদি পাপড়ি চাটে অ্যালার্জি থাকে, তাহলে মাছের ঝোল খান। কিন্তু সংসদকে মাছের বাজারে পরিণত করবেন না। যেভাবে ষড়যন্ত্র করে সংসদকে অমর্যাদা করা হয়েছে, তা আগে কখনও দেখা যায়নি।’

সোমবারই টুইটে ডেরেক লিখেছিলেন, ‘প্রতি সাত মিনিটে একটি করে বিল পাশ করা হয়েছে। এটা কি বিল পাশ নাকি পাপড়ি চাট বানানো?’

টুইটে ডেরেক হিসেব দিয়ে দেখিয়েছিলেন অধিবেশনের প্রথম ১০ দিনের মধ্যে ১২টি বিল পাশ করানো হয়েছে। গড়ে সাত মিনিটে এক একটি বিল পাশ করানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এছাড়া মঙ্গলবারই বিজেপির একটি বৈঠকে তৃণমূল সাংসদের প্রসঙ্গ তুলে ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, তারা সংসদকে অপমান করছেন, মানুষকে অপমান করছেন।

আরও পড়ুন:
হাঁড়িভাঙ্গার বিনিময়ে আসছে রানি
হাসিনার হাঁড়িভাঙ্গায় মন ছুঁয়েছে মোদির
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে সৌরভের বাড়িতে মমতা
প্যারিসে বাজেয়াপ্ত ভারত সরকারের ২০ সম্পত্তি
মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েই টুইটারকে হুঁশিয়ারি

শেয়ার করুন