হাতসাফাইয়ের নেশা থেকে গ্র্যাজুয়েট শেষে পেশা চুরি

হাতসাফাইয়ের নেশা থেকে গ্র্যাজুয়েট শেষে পেশা চুরি

সৌমাল্যের বরাতে পুলিশ জানায়, স্নাতকোত্তর করেও মনমতো চাকরি পাননি তিনি। সে জন্যই চুরিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি।

একের পর এক চুরির ঘটনার কূলকিনারা করতে পারছিল না ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গোয়েন্দা পুলিশ। হাওড়া সাঁকরাইলের একটি চুরির ঘটনার অভিযোগের পর ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর সৌমাল্য চৌধুরী ও তার সাগরেদদের রোববার মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া থেকে গ্রেপ্তার করে হাওড়া সিটি পুলিশ।

ছোটবেলা থেকে হাতসাফাইয়ের অভ্যাস ছিল। নিজের বাড়ি, পাশের বাড়ি, প্রতিবেশী। এভাবেই নেশা হয়ে দাঁড়ায় চুরি। প্রতিবেশীর ছোটখাট জিনিস চুরি করার সেই ছোটবেলার অভ্যাসকে, ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর শেষে পেশা বানিয়ে ফেলেন সৌমাল্য।

সৌমাল্যের বরাতে পুলিশ জানায়, স্নাতকোত্তর করেও মনমতো চাকরি পাননি তিনি। সে জন্যই চুরিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি।

তিন বছরে আসানসোল হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুরে ১৬০টি চুরির ঘটনায় সৌমাল্য চৌধুরী যুক্ত বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

৯ জুন হাওড়া আন্দুলের বাসিন্দা অভিজ্ঞান ঘোষ নামের এক ব্যক্তির বাড়ির আলমারি থেকে ১০ ভরি সোনার গয়না চুরি যায়। আলমারির চাবি যথাস্থানেই আছে। কিন্তু সোনাদানা নেই।

অভিজ্ঞানের মা তাকে জানান, দিন কয়েক আগে এক অপরিচিত যুবক স্কুটি নিয়ে পানি খেতে বাড়িতে এসেছিলেন। যুবকের চেহারার বর্ণনা দেন তার মা।

এরপর অভিজ্ঞান ঘোষ হাওড়া নাজিরগঞ্জ থানায় যান চুরির অভিযোগ জানাতে। তখন স্কুটি নিয়ে ওই থানার বাইরেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন এক যুবককে। যার সঙ্গে তার মার দেয়া বর্ণনার যুবকের মিল পান। বুদ্ধি করে সে সময় অভিজ্ঞান যুবকের স্কুটির নম্বর টুকে নেন বলে জানায় পুলিশ।

অভিজ্ঞান এরপর নিজের কিছু সূত্র কাজে লাগিয়ে জানতে পারেন ওই স্কুটি আসানসোলে নথিভুক্ত। আসানসোল পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জহানতে পারেন সউকটির মালিকের নাম সৌমাল্য চৌধুরী।

অভিজ্ঞানকে আসানসোল পুলিশ জানায়, এই সৌমাল্য চৌধুরীর বিরুদ্ধে অসংখ্য চুরির অভিযোগ আছে।

অভিজ্ঞান বিস্তারিত জানান হাওড়া নাজিরগঞ্জ থানাকে। তদন্তে নেমে হাওড়া সিটি পুলিশ বিভিন্ন রাস্তা, টোল প্লাজার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে, সৌমাল্য চৌধুরীকে চিহ্নিত করে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া থেকে দুই সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, নিজের স্কুটি নিয়ে আসানসোল, হাওড়া, হুগলি এলাকায় ঘুরে ঘুরে চুরির উদ্দেশ্যে রেকি করতেন। কোন বাড়ির অবস্থা কি, বাড়ির লোকজন কখন থাকে, কখন থাকে না সবকিছু বুঝে নিয়ে তারপর চুরি করতেন তিনি।

হাওড়া সিটি পুলিশের ডিসি সাউথ প্রতীক্ষা ঝারখরিয়া জানান, ‘গত কয়েকমাসে শুধুমাত্র হাওড়াতে ছয়টি চুরির অভিযোগ রয়েছে সৌমাল্যর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া আসানসোলে ১৬টি অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে চন্দননগর পুলিশ কমিশনের এলাকাতেও।

‘বাবা সরকারি কর্মকর্তা, মা ছিলেন শিক্ষিকা। ছেলের কীর্তিতে বাবা-মা দুজনেই ছিলেন তিতিবিরক্ত।

এমনকি ছেলের এমন কাজকর্মের জন্য লজ্জায় আত্মহত্যা করেছেন সৌমাল্য চৌধুরীর মা।’

আরও পড়ুন:
সেপটিক ট্যাংকে মিলল ‘চুরি হওয়া’ শিশুর মরদেহ
চোরাই মোটরবাইকের ভাগ না পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন
হাসপাতাল থেকে করোনা রোগীর মোবাইল চুরি
ব্যাংক ‘চুরির টাকাসহ’ ম্যানেজার ও ক্যাশিয়ার গ্রেপ্তার
সাইকেল চুরির অভিযোগে ২ জন কারাগারে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘একজন তালেবানকেও জীবিত ছাড়ব না’

‘একজন তালেবানকেও জীবিত ছাড়ব না’

শুক্রবার আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশে তালেবানের বিরুদ্ধে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও আফগান মিলিশিয়া অবস্থান নেয়। ছবি: এএফপি

লস্কর গাহর দুই লাখ বাসিন্দার উদ্দেশে জেনারেল সাদাত বলেন, ‘আপনারা যত তাড়াতাড়ি পারেন বাড়িঘর ছেড়ে চলে যান। আপনারা গেলেই আমরা অভিযান শুরু করব।’

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হেলমান্দ প্রদেশের অবরুদ্ধ রাজধানী লস্কর গাহ থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

তালেবানের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযানের ঠিক আগমুহূর্তে এ আহ্বান জানানো হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি ও বার্তা সংস্থা এএফপি

হেলমান্দে তালেবানের বিরুদ্ধে অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেনারেল সামি সাদাত।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত কয়েক দিনে লড়াইয়ে লস্কর গাহ শহরে তালেবান ও আফগান বাহিনীর তীব্র লড়াইয়ে কমপক্ষে ৪০ বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়।

প্রাদেশিক রাজধানী শহরটির বেশির ভাগ অংশ তালেবান কবজা করে নিয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়।

তবে আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী তালেবানের কাছে লস্কর গাহ না হারানোর প্রতিজ্ঞা করায় সেখানে এখনও সংঘর্ষ চলছে।

লস্কর গাহর দুই লাখ বাসিন্দার উদ্দেশে জেনারেল সাদাত বলেন, ‘আপনারা যত তাড়াতাড়ি পারেন বাড়িঘর ছেড়ে চলে যান। আপনারা গেলেই আমরা অভিযান শুরু করব।’

তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আপনাদের পক্ষে বাড়িঘর ছাড়া কঠিন। আমাদের জন্যও এটা কঠিন।

‘আপনারা যদি কিছুদিনের জন্য বাস্তুচ্যুত হন, তাহলে দয়া করে আমাদের ক্ষমা করবেন।’

জেনারেল সাদাত আরও বলেন, ‘তালেবানরা যেখানেই রয়েছে, সেখানেই লড়াই হবে। তাদের কোনো সদস্যকে জীবিত ছাড়া হবে না।’

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক অভিযানে হেলমান্দ ছিল কেন্দ্রস্থল।

ওই অঞ্চল কোনোভাবে তালেবানের দখলে গেলে তা হবে আফগান সরকারের বড় ধরনের কৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিক পরাজয়।

লস্কর গাহ তালেবান নিয়ে নিলে ২০১৬ সালের পর এটাই হবে সংগঠনটির প্রথম প্রাদেশিক রাজধানী দখল।

‘রাস্তায় লাশের পর লাশ’

লস্কর গাহর বাসিন্দাদের ভাষ্য, তালেবানের ভয়াবহ হামলায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

এক বাসিন্দা বিবিসিকে বলেন, ‘তালেবান আমাদের প্রতি সদয় হবে না। আর আফগান সরকারও বোমা হামলা থামাবে না।

‘রাস্তায় লাশের পর লাশ। আমরা জানি না, তারা তালেবান নাকি বেসামরিক নাগরিক।’

আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘শহরের সব প্রান্তেই লড়াই চলছে। আমি জানি না কোথায় যাব।’

প্রেক্ষাপট

আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই দেশটি দখলে মে মাসের শুরু থেকেই তৎপরতা চালায় তালেবান।

এ নিয়ে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রতিদিনই তাদের সংঘর্ষ বাধছে।

এরই মধ্যে আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি জেলা এবং গুরুত্বপূর্ণ বর্ডার ক্রসিং নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তালেবান।

২০০১ সালে টুইন টাওয়ারে হামলা চালানো জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে তালেবানের সম্পর্কের জেরে আফগানিস্তানে সে সময় সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো।

মিত্র বাহিনীর সম্মিলিত অভিযানে ওই বছরই আফগানিস্তানের ক্ষমতা থেকে তালেবানকে উৎখাত করা হয়।

তালেবান উৎখাত হলেও আফগানিস্তানে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোভুক্ত দেশের সেনারা।

চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বরের আগেই আফগানিস্তান থেকে সব সেনা সরাতে নিজেদের সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

এপ্রিলে বাইডেনের ওই ঘোষণার পর ন্যাটোর অন্য সদস্যরাষ্ট্রগুলোও আফগানিস্তান থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহারের কথা বলে। ধীরে ধীরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি থেকে বিদেশি সেনা সরতে শুরু করে, যা এখন প্রায় শেষের পথে।

আরও পড়ুন:
সেপটিক ট্যাংকে মিলল ‘চুরি হওয়া’ শিশুর মরদেহ
চোরাই মোটরবাইকের ভাগ না পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন
হাসপাতাল থেকে করোনা রোগীর মোবাইল চুরি
ব্যাংক ‘চুরির টাকাসহ’ ম্যানেজার ও ক্যাশিয়ার গ্রেপ্তার
সাইকেল চুরির অভিযোগে ২ জন কারাগারে

শেয়ার করুন

দানিশকে হত্যা করেছে তালেবান, দাবি আফগান কর্মকর্তার

দানিশকে হত্যা করেছে তালেবান, দাবি আফগান কর্মকর্তার

আফগানিস্তানে নিহত ভারতীয় সাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকী। ছবি: পিটিআই

আফগান জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনীর মুখপাত্র আজমল ওমর সিনওয়ারি নিশ্চিত করে বলেছেন, দানিশ সিদ্দিকীকে তালেবান ধরে নিয়ে যায় এবং পরে তাকে হত্যা করে।

আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশে পুলিৎজারজয়ী ভারতীয় ফটোসাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকীর লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে নিহত হননি। তালেবান যোদ্ধারা দানিশকে ধরে নিয়ে গিয়ে বর্বরভাবে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বলে দাবি করেছে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর মুখপাত্র।

প্রথমে দাবি করা হয়েছিল, আফগান সেনা ও তালেবানের লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে দানিশ সিদ্দিকী নিহত হন।

আফগান জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনীর মুখপাত্র আজমল ওমর সিনওয়ারি নিশ্চিত করে বলেছেন, দানিশ সিদ্দিকীকে তালেবান ধরে নিয়ে যায় এবং পরে তাকে হত্যা করে।

ইন্ডিয়া টুডে টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আফগান ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বিচ্ছিন্নতার কোনো নিশ্চয়তা নেই। যে এলাকায় দানিশ হত্যার শিকার হয়েছেন সেটি তালেবানের নিয়ন্ত্রণাধীন। বিষয়টি এখনও তদন্ত হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী খুঁজে পেতে সময় লাগছে।’

গত সপ্তাহে আমেরিকাভিত্তিক ওয়াশিংটন এক্সামিনার ম্যাগাজিন প্রথমবারের মতো দাবি করে, দানিশ সিদ্দিকী কোনো ক্রসফায়ারে নিহত হননি, তাকে তালেবান যোদ্ধারা ধরে নিয়ে গিয়ে বর্বরোচিতভাবে হত্যা করে। দানিশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই তাকে এভাবে হত্যা করা হয়।

৩৮ বছর বয়সী দানিশ সিদ্দিকী রয়টার্সের হয়ে আফগানিস্তানে একটি অ্যাসাইনমেন্টে ছিলেন। ১৭ জুলাই কান্দাহার শহরের স্পিন বলদাখ জেলায় আফগান ও তালেবান সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষের পর দানিশের মরদেহ পায় আফগান পুলিশ।

ওই পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘তালেবান যখন সিদ্দিকীকে ধরে তখন তিনি জীবিত ছিলেন। তালেবান সিদ্দিকীর পরিচয় যাচাই করে এবং তারপর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। কমান্ডার এবং তার দলের অন ্রসদস্যরা তাকে উদ্ধারে গিয়ে নিহত হন।’

আজমল ওমর সিনওয়ারি বলেন, ‘তালেবান ওই এলাকা নিয়ন্ত্রণের দাবি করছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তালেবান পাকিস্তানের আর্থিক সহায়তা ও সমর্থনে আফগানিস্তানের সরকারের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।’

আফগান বাহিনীর গাড়িবহরে রকেট হামলার ছবিসহ বেশ কিছু ছবি তুলেছিলেন দানিশ সিদ্দিকী।

কান্দাহার প্রদেশের কান্দাহার শহরের ভেতর ও আশপাশে তালেবানের সঙ্গে আফগান সেনাবাহিনীর লড়াই তীব্র রূপ নিলে গত ১০ জুলাই ভারতের কনস্যুলেট থেকে দেশটির বিমানবাহিনীর একটি ফ্লাইটে কূটনীতিক, কর্মচারী ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ প্রায় ৫০ জনকে দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে নয়াদিল্লি।

আরও পড়ুন:
সেপটিক ট্যাংকে মিলল ‘চুরি হওয়া’ শিশুর মরদেহ
চোরাই মোটরবাইকের ভাগ না পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন
হাসপাতাল থেকে করোনা রোগীর মোবাইল চুরি
ব্যাংক ‘চুরির টাকাসহ’ ম্যানেজার ও ক্যাশিয়ার গ্রেপ্তার
সাইকেল চুরির অভিযোগে ২ জন কারাগারে

শেয়ার করুন

শহর দখল ঠেকাতে তালেবানের ওপর বোমা হামলা

শহর দখল ঠেকাতে তালেবানের ওপর বোমা হামলা

তালেবান যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে গুলি করছেন আফগান সেনা। ছবি: এএফপি

পুলিশ বলছে, রোববার আফগানিস্তানের দক্ষিাঞ্চলীয় প্রদেশ কান্দাহারে একটি মর্টার শেল এক গাড়িতে আঘাত করে। এতে কমপক্ষে পাঁচ বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

আফগানিস্তানে একের পর এক শহর দখলে নিচ্ছে তালেবান যোদ্ধারা। সবশেষ বড় তিনটি শহরে কঠিন লড়াইয়ের পর তা দখলে নেয় তালেবান।

এমন শহর দখল ঠেকাতে আফগান সেনারা বোমা হামলা শুরু করেছে তালেবানদের ওপর।

স্থানীয় লোকজনের বরাতে আলজাজিরা জানায়, পূর্বাঞ্চলীয় শহর হেরাতে শত শত কমান্ডো মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের শহর লস্করগাহে রোববার আরও বেশি সেনা পাঠানোর অনুরোধ করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় আফগান বিমান হামলায় অনেক মানুষ মরে রাস্তায় পড়ে ছিল।

পুলিশ বলছে, রোববার আফগানিস্তানের দক্ষিাঞ্চলীয় প্রদেশ কান্দাহারে একটি মর্টার শেল এক গাড়িতে আঘাত করে। এতে কমপক্ষে পাঁচ বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

ঘটনাটি ঘটেছে কান্দাহার শহরের উপকণ্ঠে দুপুরের দিকে। সেখানে শহর দখলে এগিয়ে আসা তালেবান ও আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের সময়।

পুলিশের মুখপাত্র জামাল নাসের এই হামলার জন্য তালেবানকে দায়ী করেছে।

আফগানিস্তানে মে মাসের শুরুতে যখন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিদেশি সেনা প্রত্যাহার করার ঘোষণা আসে তখন থেকে তালেবানদের সঙ্গে লড়াই শুরু হয় আফগান বাহিনীর।

এখন দেশটি থেকে প্রায় সব বিদেশি সেনা সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পর থেকেই একের পর এক শহর দখলে লড়াই করছে তালেবান যোদ্ধারা।

এরই মধ্যে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহর ও গ্রামীণ অনেক অঞ্চল দখল করেছে। এমনকি তালেবানরা প্রাদেশিক রাজধানীগুলোতে দখলে লড়াই করছে।

আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ও তালেবানের আগের শক্ত ঘাঁটি কান্দাহারের বিমানবন্দরে রোববার ভোরে তালেবান যোদ্ধারা তিনটি রকেট হামলা চালায়। এরপর সেখানে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিমানবন্দরের প্রধান মাসুদ পাসতুন বলেন, তালেবানের ছোড়া দুটি রকেট রানওয়েতে আঘাত করেছে। এতে রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেটি মেরামতে কাজ করা হচ্ছে।

রাজধনী কাবুলের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের তথ্য তারা পাননি।

তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ রয়টার্সকে বলেন, ‘কান্দাহার বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করার কারণ হচ্ছে শক্ররা ওই বিমানবন্দর ব্যবহার করে আমাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।’

তালেবান যোদ্ধাদের থেকে শহর দখল রক্ষা করতে বিমানবন্দরটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের সব যোগাযোগের অন্যতম একটি হিসেবে বিমানবন্দরটি ব্যবহার হয়।

আরও পড়ুন:
সেপটিক ট্যাংকে মিলল ‘চুরি হওয়া’ শিশুর মরদেহ
চোরাই মোটরবাইকের ভাগ না পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন
হাসপাতাল থেকে করোনা রোগীর মোবাইল চুরি
ব্যাংক ‘চুরির টাকাসহ’ ম্যানেজার ও ক্যাশিয়ার গ্রেপ্তার
সাইকেল চুরির অভিযোগে ২ জন কারাগারে

শেয়ার করুন

লকডাউন দিয়ে গরিবদের ক্ষুধার্ত রাখা উচিত নয়: ইমরান

লকডাউন দিয়ে গরিবদের ক্ষুধার্ত রাখা উচিত নয়: ইমরান

রোববার সিন্ধু সরকারের লকডাউনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ছবি: পিটিআই

লকডাউনে ভারতের বিপর্যস্ত অর্থনীতির কথা উল্লেখ করে সিন্ধু সরকারের উদ্দেশে ইমরান বলেন, ‘জনগণের কথা না ভেবেই তাদের (ভারত) সরকার লকডাউন দেয়। ভারত সরকার উচ্চবিত্ত ও অভিজাত শ্রেণির কথাই শুধু ভেবেছিল।’

খাদ্যের ব্যবস্থা না করে টানা নয় দিনের লকডাউন দেয়ায় সিন্ধু সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

এতে প্রদেশটির সাধারণ মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানান তিনি।

ফোনে জনগণের সঙ্গে লাইভ প্রশ্নোত্তর পর্বে রোববার তিনি এসব মন্তব্য করেন বলে ডনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

করোনা মহামারির প্রথম তিন ধাক্কা রোধে পাকিস্তান সরকারের নেয়া পদক্ষেপে সহযোগিতা করায় প্রশ্নোত্তর পর্বের শুরুতে জনগণকে ধন্যবাদ জানান ইমরান।

দেশটিতে চলমান করোনার চতুর্থ ধাক্কা মোকাবিলায়ও জনগণের কাছ থেকে একই সহযোগিতা চান তিনি।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত টানা নয় দিনের আংশিক লকডাউন দিয়েছে পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিন্ধু প্রদেশ সরকার।

এ বিষয়ে ইমরান বলেন, ‘সিন্ধু সরকার লকডাউন আরোপ করতে চেয়েছিল। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তাদের মতবিরোধ হয়।

‘করোনার সংক্রমণ রোধে সিন্ধু সরকারের সিদ্ধান্ত সঠিক। তবে আমাদের দেখা উচিত, লকডাউনের হাত থেকে অর্থনীতি কী বাঁচবে?

‘লকডাউনের সময় দিনমজুর থেকে শুরু করে সমাজের গরিব জনগোষ্ঠী কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করবে?’

এসব প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে লকডাউন দেয়া উচিত নয় বলে সিন্ধু সরকারকে জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

লকডাউনে ভারতের বিপর্যস্ত অর্থনীতির কথা উল্লেখ করে সিন্ধু সরকারের উদ্দেশে ইমরান বলেন, ‘জনগণের কথা না ভেবেই তাদের (ভারত) সরকার লকডাউন দেয়।

‘ভারত সরকার উচ্চবিত্ত ও অভিজাত শ্রেণির কথাই শুধু ভেবেছিল।’

সিন্ধু সরকারের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘লকডাউন আরোপ করা হলে মানুষকে ক্ষুধার্ত রাখা হয়। এই বিষয়টি সিন্ধু সরকারের জানা উচিত।

‘জনগণকে খাবার দেয়ার মতো সম্পদ না থাকলে লকডাউন দিয়ে তাদের ক্ষুধার্ত রাখা উচিত নয়।’

করোনার সংক্রমণ মোকাবিলায় ‘স্মার্ট’ লকডাউনের নীতি ও গণটিকাদান কার্যক্রম সঠিক পন্থা বলে জানান ইমরান।

পাকিস্তানের অর্থনীতি কঠিন সময় পেরিয়ে সুদিনে ফিরছে। এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে দিকেও সতর্ক থাকতে বলেন তিনি।

আরও পড়ুন:
সেপটিক ট্যাংকে মিলল ‘চুরি হওয়া’ শিশুর মরদেহ
চোরাই মোটরবাইকের ভাগ না পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন
হাসপাতাল থেকে করোনা রোগীর মোবাইল চুরি
ব্যাংক ‘চুরির টাকাসহ’ ম্যানেজার ও ক্যাশিয়ার গ্রেপ্তার
সাইকেল চুরির অভিযোগে ২ জন কারাগারে

শেয়ার করুন

কান্দাহার বিমানবন্দরে তালেবানের রকেট হামলা

কান্দাহার বিমানবন্দরে তালেবানের রকেট হামলা

কান্দাহার বিমানবন্দরে শনিবার রাতে রকেট হামলা চালায় তালেবান। ছবি: এএফপি

তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা কান্দাহার বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছি। কারণ শত্রুরা এটিকে আমাদের বিরুদ্ধে বিমান হামলার জন্য ব্যবহার করছে।’

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহার বিমানবন্দরে কমপক্ষে তিনটি রকেট হামলা চালিয়েছে তালেবান।

শনিবার গভীর রাতে এসব হামলা হয় বলে দেশটির কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি

কান্দাহার বিমানবন্দরের প্রধান মাসুদ পশতুন বলেন, ‘গত রাতে বিমানবন্দর লক্ষ্য করে তিনটি রকেট ছোড়া হয়। এগুলোর মধ্যে দুটি রানওয়েতে আঘাত হানে।

‘এমন পরিস্থিতিতে কন্দাহার বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।’

পশতুন জানান, রানওয়ে মেরামতের কাজ চলছে। আশা করা যাচ্ছে, রোববার রাতের দিকে এটি ফের কার্যকর হবে।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিমান পরিচালনা কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা কান্দাহার বিমানবন্দরে রকেট হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দেশটির বিমান পরিচালনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা কান্দাহার বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছি।

‘কারণ শত্রুরা এটিকে আমাদের বিরুদ্ধে বিমান হামলার জন্য ব্যবহার করছে।’

শনিবার কান্দাহার শহরের দখল নিয়ে আফগান সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তালেবান যোদ্ধাদের তীব্র লড়াই হয়।

গুল আহমেদ কামিন নামের কান্দাহারের এক সংসদ সদস্য জানিয়েছিলেন, যেকোনো সময় দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরটির দখল নিতে পারে তালেবান।

এরই মধ্যে কান্দাহারের লাখ লাখ মানুষ সংঘর্ষ এড়াতে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রতি মুহূর্তে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। গত ২০ বছরে শহরের ভেতর এত ভয়াবহ সংঘর্ষ দেখিনি।’

গুল আহমেদ বলেন, ‘কান্দাহারকে নিজেদের অস্থায়ী রাজধানী করতে চাইছে তালেবান। এই শহর দখল তাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

‘কান্দাহার তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে আশপাশের আরও পাঁচ থেকে ছয়টির মতো প্রদেশ আমরা হারাব।’

তিনি বলেন, ‘কান্দাহার শহরের বিভিন্ন জায়গায় এ মুহূর্তে ছড়িয়ে আছে তালেবান যোদ্ধারা।

‘তারা যদি পুরোপুরি শহরের ভেতরে ঢুকে পড়ে, তাহলে তাদের হটাতে ভারী অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে না আফগান বাহিনী। কারণ এতে শহরের বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষ হতাহত হবে।’

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ ন্যাটোভুক্ত দেশের সেনা সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই দেশটি দখলে মে মাসের শুরু থেকেই তৎপরতা চালায় তালেবান। এ নিয়ে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রতিদিনই তাদের সংঘর্ষ বাধছে।

সম্প্রতি আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি জেলা এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বর্ডার ক্রসিং নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তালেবান।

চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হামলার ২০ বছর পূর্ণ হবে।

২০০১ সালে টুইন টাওয়ারে হামলা চালানো জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে তালেবানের সম্পর্কের জেরে আফগানিস্তানে সে সময় সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো।

মিত্র বাহিনীর সম্মিলিত অভিযানে ওই বছরই আফগানিস্তানের ক্ষমতা থেকে তালেবানকে উৎখাত করা হয়।

তালেবান উৎখাত হলেও আফগানিস্তানে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোভুক্ত দেশের সেনারা।

চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বরের আগেই আফগানিস্তান থেকে সব সেনা সরাতে নিজেদের সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

এপ্রিলে বাইডেনের ওই ঘোষণার পর ন্যাটোর অন্য সদস্যরাষ্ট্রগুলোও আফগানিস্তান থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহারের কথা বলে। ধীরে ধীরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি থেকে বিদেশি সেনা সরতে শুরু করে, যা এখন প্রায় শেষের পথে।

আরও পড়ুন:
সেপটিক ট্যাংকে মিলল ‘চুরি হওয়া’ শিশুর মরদেহ
চোরাই মোটরবাইকের ভাগ না পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন
হাসপাতাল থেকে করোনা রোগীর মোবাইল চুরি
ব্যাংক ‘চুরির টাকাসহ’ ম্যানেজার ও ক্যাশিয়ার গ্রেপ্তার
সাইকেল চুরির অভিযোগে ২ জন কারাগারে

শেয়ার করুন

অসম মুখ্যমন্ত্রীর নামে মামলা পুনর্বিবেচনা করবে মিজোরাম

অসম মুখ্যমন্ত্রীর নামে মামলা পুনর্বিবেচনা করবে মিজোরাম

২৬ জুলাই অসম-মিজোরাম সীমান্তে সংঘর্ষের ঘটনায় ৬ পুলিশসহ ৭ জন নিহত হয়। ফাইল ছবি

মুখ্যসচিব লালনুমাভিয়া চুয়াংগো রোববার সকালে বলেন, ‘আমি কিংবা মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গা কেউই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মার নামে মামলাটি সম্পর্কে জানতাম না।’

রাজ্যের সীমান্তে সহিংসতার পর অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা, পুলিশের মহাপরিদর্শক, উপমহাপরিদর্শক, এসপিসহ রাজ্যটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের নামে মামলা করে মিজোরাম।

ইন্ডিয়ার টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মার নামে করা মামলাটি পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন মিজোরামের মুখ্যসচিব লালনুমাভিয়া চুয়াংগো।

মুখ্যসচিব লালনুমাভিয়া চুয়াংগো রোববার সকালে বলেন, ‘আমি কিংবা মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গা কেউই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মার নামে মামলাটি সম্পর্কে জানতাম না।’

তিনি বলেন, ‘আমি এবং মুখ্যমন্ত্রীর অজ্ঞাতে মামলাটি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আমাকে বলেছেন সেটি পুনর্বিবেচনা করতে। আমি ওই কর্মকর্তাকে ডেকে পাঠিয়েছি।’

অসম-মিজোরাম সীমান্তের সংঘর্ষে অসমের ছয় পুলিশ এবং এক বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। সেই ঘটনায় মিজোরাম পুলিশের মহাপরিদর্শক (সদরদপ্তর) অসমের মুখ্যমন্ত্রীসহ পুলিশের চার শীর্ষ কর্মকর্তার নামে হত্যাচেষ্টা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসহ আরও কিছু অভিযোগ আনেন।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী বিশ্ব শর্মা বলেছেন, তিনি তদন্তে সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে তার প্রশ্ন, কেন কোনো নিরপেক্ষ সংস্থাকে ঘটনাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হলো না।

২৬ জুলাইয়ের সেই সংর্ঘষে সাত জন নিহতের পাশাপাশি অসমের পুলিশ সুপারসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

আলোচনার আহ্বান অমিত সাহার

ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য দুটির মধ্যে সংঘাতের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত সাহা আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, অমিত সাহার সঙ্গে এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা ও মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত সাহা দুই মুখ্যমন্ত্রীকে টেলিফোনে সীমান্তে সংঘাতের বিষয়টি নিরসর করার আহ্বান জানান।

জোরামথাঙ্গা টুইটারে লেখেন, ‘টেলিফোনে স্বারষ্ট্রমন্ত্রী অমিত সাহা ও অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে যে কথা হয়েছে তাতে আমরা সীমান্তে সংঘর্ষ নিরসনে একমত হয়েছি। আমরা মিজোরাম-অসম সীমান্তে সংঘাত কমিয়ে আনতে আলোচনা করতেও একমত হয়েছি।’

মিজোরামের তিনটি জেলা আইজআওল, কোলাসিব ও মামিতের মোট ১৬৪ দশমিক ছয় কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে অসমের কাচার, হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জ জেলার সঙ্গে।

রাজ্য দুটির মধ্যে সীমান্ত নিয়ে সংঘাতের ইতিহাস কয়েক দশকের। প্রতিবারই দুই পক্ষের নিরাপত্তারক্ষী ও স্থানীয়রা পরস্পরের প্রতি অনুপ্রবেশের অভিযোগ তোলে। মাত্র এক মাস আগেও বিবাদে জড়িয়েছিল তারা।

সবশেষ সহিংসতার সূত্রপাত অসমের কাচার ও মিজোরামের কোলাসিব জেলায় বিতর্কিত ১৯৮ বর্গমাইল আন্তরাজ্য সীমান্তে। সেখানে মিজোরামের বিরুদ্ধে নির্মাণকাজের অভিযোগ অসমের।

সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে এলেও দুই রাজ্যের সীমান্ত এলাকায় এখনও পরিস্থিতি থমথমে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন দুই মুখ্যমন্ত্রী।

এ অবস্থায় অঞ্চলটিতে আধা সামরিক বাহিনী সিআরপিএফের সেনা বাড়িয়েছে কেন্দ্র। অসম ও মিজোরামের পুলিশের মাঝখানে অবস্থান করছে মোট ৫০০ সিআরপিএফ জওয়ান। তাদের সঙ্গে যোগ দেবে সিআরপিএফের আরও দুটি দল।

আরও পড়ুন:
সেপটিক ট্যাংকে মিলল ‘চুরি হওয়া’ শিশুর মরদেহ
চোরাই মোটরবাইকের ভাগ না পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন
হাসপাতাল থেকে করোনা রোগীর মোবাইল চুরি
ব্যাংক ‘চুরির টাকাসহ’ ম্যানেজার ও ক্যাশিয়ার গ্রেপ্তার
সাইকেল চুরির অভিযোগে ২ জন কারাগারে

শেয়ার করুন

জম্মুর আকাশে এক দিনে ৩ ড্রোন

জম্মুর আকাশে এক দিনে ৩ ড্রোন

প্রথম দুটি ড্রোনের দেখা মিলেছে সাম্বা জেলায়, শনিবার রাত ৮টা ও ৯টায়। সেটি দেখার পর জম্মুর ডোমানা এলাকায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে আরেকটি ড্রোনের দেখা মেলে।

জম্মুর বিমানবাহিনীর বিমানবন্দরে চলতি বছরের জুনে ড্রোন হামলার পর সেখানে বিস্ফোরকভর্তি ড্রোনের দেখা পাওয়া গেছে জুলাইয়েও।

এবার এক দিনে তিনটি ড্রোন দেখতে পাওয়ার দাবি করা হয়েছে জম্মুর আকাশে। এমনকি কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এগুলো দেখা গেছে।

ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়, জম্মুর ডোমানা এলাকায় শনিবার রাতে ড্রোনের মতো বস্তু দেখা গেছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেটি দুইবার দেখতে পাওয়ার কথা জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় এক তরুণ ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছেন। সেখানে তিন মিনিটের মধ্যেই সেটি অদৃশ্য হয়ে যায় বলে জানান ওই তরুণ।

শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে তিনটি ড্রোন দেখতে পাওয়ার কথা জানান ওই তরুণ ও স্থানীয় লোকজন।

প্রথম দুটি ড্রোনের দেখা মিলেছে সাম্বা জেলায়, শনিবার রাত ৮টা ও ৯টায়। সেটি দেখার পর জম্মুর ডোমানা এলাকায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে আরেকটি ড্রোনের দেখা মেলে।

এরপর নিরাপত্তা বাহিনী ওই এলাকাগুলোতে ড্রোনের খোঁজে অভিযানে নামে।

গত জুনে জম্মু বিমানবন্দরে পরপর দুটি ড্রোন হামলার পর থেকে ওই অঞ্চলে ড্রোন সতর্কতা জারি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জম্মুর সীমান্ত এলাকায় ওই হামলার পর কয়েকবার ড্রোন দেখা গেছে। একটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি করে ড্রোন ভূপাতিতও করে।

সেই ড্রোনে পাঁচ কেজি বিস্ফোরক ছিল বলে দাবি করে পুলিশ। ড্রোনটি পাকিস্তান থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল বলেও দাবি তাদের।

১৫ আগস্ট বিজয় দিবস পালন করবে ভারত। এর আগে জন্মুসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ড্রোনসহ অন্য ডিভাইস ওড়ানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ভারত সরকার।

জম্মু ও কাশ্মীরের ডিসিপি দিলবাগ সিং প্রতিটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
সেপটিক ট্যাংকে মিলল ‘চুরি হওয়া’ শিশুর মরদেহ
চোরাই মোটরবাইকের ভাগ না পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন
হাসপাতাল থেকে করোনা রোগীর মোবাইল চুরি
ব্যাংক ‘চুরির টাকাসহ’ ম্যানেজার ও ক্যাশিয়ার গ্রেপ্তার
সাইকেল চুরির অভিযোগে ২ জন কারাগারে

শেয়ার করুন