কাশ্মীরে বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি, ২৪ জুন সর্বদলীয় বৈঠক

কাশ্মীরে বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি, ২৪ জুন সর্বদলীয় বৈঠক

কাশ্মীরের বিশেষ ক্ষমতা প্রত্যাহারের পর দীর্ঘদিন চলে কারফিউ। ছবি: এএফপি

উপত্যকায় গণতান্ত্রিক রীতি মেনেই সম্পন্ন হয়েছে জেলা উন্নয়ন পর্যদের নির্বাচনও। এবার তাই জম্মু-কাশ্মীরে আরও বৃহৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপের তোড়জোড় শুরু করল কেন্দ্র।

কাশ্মীর আপাতত শান্ত। ত্বরান্বিত হচ্ছে উন্নয়নকাজ। উপত্যকার উন্নয়ন নিয়ে শুক্রবারই জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভাল্লা, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) ডিরেক্টর অরবিন্দ কুমার, ‘র’ প্রধান সামন্ত কুমার গোয়েল, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল কুলদীপ সিং এবং জম্মু ও কাশ্মীরের ডিজিপি দিলবাগ সিংয়ের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

এর মধ্যেই উপত্যকায় গণতান্ত্রিক রীতি মেনেই সম্পন্ন হয়েছে জেলা উন্নয়ন পর্যদের নির্বাচনও। এবার তাই জম্মু-কাশ্মীরে আরও বৃহৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপের তোড়জোড় শুরু করল কেন্দ্র।

২৪ জুন নয়াদিল্লিতে সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দিয়েছে ভারত সরকার। মূলত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভাভিত্তিক এলাকা পুনর্গঠন নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

কবে হতে পারে জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভা ভোট। তা নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, উপত্যকার রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে কেন্দ্রের এই বৈঠকই জম্মু-কাশ্মীরের আগামী বিধানসভা ভোটের প্রথম পদক্ষেপ।

২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারত সরকার সংবিধান থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ মুছে দেয়ায় জম্মু-কাশ্মীরের ‘বিশেষ মর্যাদা’ বিলোপ পায় উপত্যকার। জম্মু ও কাশ্মীরকে ভেঙে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপরই দীর্ঘ সময় ধরে উপত্যকায় শান্তি বজায় রাখতে জারি ছিল কারফিউ।

৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত করার পর থেকেই কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে চলে যায় জম্মু-কাশ্মীরের সব রাজনৈতিক দল। সেই সময়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মেহবুবা মুফতি, ফারুক আবদুল্লা, ওমর আবদুল্লার মতো শীর্ষ নেতারা।

সর্বদলে যোগ দেয়ার জন্য কেন্দ্রের পক্ষে এরই মধ্যে জম্মু-কাশ্মীরের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আহ্বান পৌঁছেছে।

তবে বিজেপি বিরোধী গুপকার জোট এই বৈঠকে অংশ নেবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

একটি ইংরেজি দৈনিককে এই তথ্য জানিয়েছেন পিডিপি নেত্রী মেহেবুবা মুফতি।

এক সপ্তাহ আগেই গুপকার জোটের বৈঠক হয়। সেখানেই জোটের চেয়ারপারসন তথা ন্যাশনাল কনফারেন্স প্রধান ফারুখ আবদুল্লাহ বলেছিলেন, ‘আমরা কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার দরজা বন্ধ করে রাখিনি। প্রস্তাব এলে ভেবে দেখা যাবে।’

সূত্রের খবর, জম্মু-কাশ্মীরের ডিলিমিটেশন কমিটি উপত্যকার ২০টি জেলা প্রশাসনকে গত মঙ্গলবার চিঠি দিয়ে প্রতি জেলা ও বিধানসভার জনঘনত্ব, স্থানবিবরণের তথ্য চেয়ে পাঠায়।

এর মধ্যেই প্রায় সব জেলাই তথ্য কমিশনের কাছে জমা করেছে। ২০২০ সালের মার্চে উপত্যকা ডিলিমিটেশন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। যার মেয়াদ এ বছর মার্চে এক বছরের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।

চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জন প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে এই কমিশনের বৈঠকে মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ও সাংসদ যুগল কিশোর ছাড়া বাকি তিন সদস্য অংশ নেননি।

এই কমিশনের বাকি সদস্যরা হলেন ফারুখ আবদুল্লাহ, মহম্মদ আকবর ও হাসনয়েন মাসুদি।

সরকারের একটি সূত্র জানাচ্ছে, ‘সুরক্ষা থেকে উন্নয়ন, কাশ্মীরের পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে। এখনই পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরুর সেরা সময়। তাই সর্বদল বৈঠকের ডাক দিয়েছে কেন্দ্র। ফলে এই কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের উন্নয়নের পর্যালোচনা বৈঠকও ডাকা হয়েছে।’

এটা কি আসলে জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভা ভোটের প্রধান পদক্ষেপ? কেন্দ্রীয় সরকারের সূত্র জানাচ্ছে, ‘সে রকমটা হতে পারে। পরিস্থিতি ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষেই সেখানে বিধানসভা ভোটের ঘোষণা করা যেতে পারে। তবে ডিলিমিটেশন কমিশনের রিপোর্ট জমার পরই সবকিছু চূড়ান্ত হবে।’

আরও পড়ুন:
দেড় বছর পর স্কুলে কাশ্মীরের শিক্ষার্থীরা
নিয়ন্ত্রণরেখায় গোলাগুলি বন্ধে রাজি ভারত-পাকিস্তান
সময় হলে রাজ্যের মর্যাদা পাবে কাশ্মীর: অমিত শাহ
স্বাধীন কাশ্মীর প্রশ্নে নমনীয় ইমরান
দেড় বছর পর ফোরজি ফিরে পাচ্ছে কাশ্মীর

শেয়ার করুন

মন্তব্য