২৯০ শতাংশ মৃত্যু কম দেখিয়েছে মধ্যপ্রদেশ

২৯০ শতাংশ মৃত্যু কম দেখিয়েছে মধ্যপ্রদেশ

ভারতের মধ্যপ্রদেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করা হচ্ছে। ছবি: এএফপি

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে চলতি বছরের এপ্রিল ও মে এই দুই মাসে মধ্যপ্রদেশে মারা গেছে দুই লাখ ৩০ হাজার মানুষ। এই মৃত্যু স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ২৯০ শতাংশ বেশি।

ভারতের মধ্যপ্রদেশে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় যত মানুষ মারা যাওয়ার হিসাব দিয়েছে দেশটির সরকার, সেই সংখ্যা নিয়ে এবার প্রশ্ন উঠেছে। মহামারির আগের সময় ও চলতি বছরের সময়ে মৃত্যুর তুলনা করে এই দাবি করা হচ্ছে।

এ ছাড়া করোনায় মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে একটি অনুসন্ধান করেছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। তারাও মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভূপাল জেলায় গত এপ্রিলে যে মৃত্যুর সংখ্যা পেয়েছে সেটি সরকারের দেয়া সংখ্যার চেয়ে ঢের বেশি।

মধ্যপ্রদেশে গত কয়েক মাসে যে পরিমাণ মানুষ মারা গেছে তা করোনার আগে মারা যাওয়া মানুষের চেয়ে অন্তত তিন গুণ বেশি বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানান হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সরকারি পরিসংখ্যান থেকে করোনায় মৃত্যুর একটা অংশ মাত্র জানা যাচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা ঢের বেশি।

সিভিল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমের তথ্য অনুসারে, প্রথমবারের মতো সাংবাদিক রুক্মিনি এস মধ্যপ্রদেশে ২০১৮ ও ২০১৯ সালের মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ করেছেন। সেই দুই বছরের এপ্রিল ও মে দুই মাসে মধ্যপ্রদেশে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল গড়ে ৫৯ হাজার।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে চলতি বছরের এপ্রিল ও মে এই দুই মাসে মধ্যপ্রদেশে মারা গেছে দুই লাখ ৩০ হাজার মানুষ। এই মৃত্যু স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ২৯০ শতাংশ বেশি।

সবচেয়ে বেশি মৃত্যু অর্থাৎ ১ লাখ ৭৪ হাজার রেকর্ড হয়েছে শুধু মে মাসে। এপ্রিলে এই মৃত্যু ছিল এক লাখ ৫৬ হাজার।

মধ্যপ্রদেশের সরকার গত এপ্রিল ও মে মাসে রাজ্যটিতে করোনায় মোট চার হাজার ১০০ মানুষের মৃত্যুর খবর দিয়েছে।

এমন হিসাব সামনে আসার পর মধ্যপ্রদেশে করোনায় মৃত্যু নিয়ে আবারও জোরালো প্রশ্ন উঠেছে।

রাজ্যটিতে করোনায় মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিষয়টি এটাই প্রথম নয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি মধ্যপ্রদেশের ভূপাল জেলার শ্মশান ও কবরস্থানে খোঁজ করে চলতি বছরের এপ্রিলে করোনায় ৩ হাজার ৮১১ জনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছে।

কিন্তু সরকারি তথ্য বলছে, এপ্রিলে জেলায় মাত্র ১০৪ জন করোনায় মারা গেছেন।

বিষয়টি নিয়ে এনডিটিভি রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও মন্তব্য করতে রাজি হননি কোনো কর্মকর্তা।

গত বৃহস্পতিবার বিহার রাজ্য সরকার মহামারিতে প্রাণহানির সংশোধিত তালিকা প্রকাশের ফলে এক দিনে মৃত্যুর রেকর্ড হয় ভারতে। সেদিন মৃত্যুর হিসাব দেয়া হয় ৬ হাজার ১৪৮ জনের। যা এক দিনে সর্বোচ্চ।

এ ছাড়া মহারাষ্ট্রেও করোনায় মৃত্যুর সংখ্যার সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

ভারতে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেছে তিন লাখ ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ।

আরও পড়ুন:
‘করোনা দেবীর’ কাছে প্রার্থনা গ্রামবাসীর
নারী পরিচালকের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা বিজেপির
শিশুদের রেমডেসিভির দেয়া যাবে না: ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
মোদিকে দাড়ি কাটতে ১০০ টাকা পাঠালেন চা বিক্রেতা
ভারতে করোনা আক্রান্ত শিশুদের রেমডিসিভির প্রয়োগে মানা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘সাধারণ সর্দিজ্বরে পরিণত হবে করোনা’

‘সাধারণ সর্দিজ্বরে পরিণত হবে করোনা’

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা উদ্ভাবনের অন্যতম প্রধান গবেষক ড. সারাহ গিলবার্ট। ছবি: স্কাই নিউজ

করোনার অন্যতম টিকা উদ্ভাবক সারাহ গিলবার্ট বলেন, ‘সাধারণত ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তন ধীর গতির হতে থাকে। একই সঙ্গে মানুষের দেহে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে থাকে। অন্য সব মৌসুমি করোনাভাইরাসের মতোই হয়ে আসবে সার্স-কভ-টুর বর্তমান রূপটিও।’ তবে ভবিষ্যৎ মহামারির জন্যও এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে বলেও সতর্ক করেন গিলবার্ট। তার মতে, এ খাতে এখন অল্প বিনিয়োগও দীর্ঘমেয়াদে কয়েক শ কোটি পাউন্ড অর্থ সাশ্রয় করতে পারে।

পৃথিবী থেকে নির্মূল না হলেও ছোঁয়াচে করোনাভাইরাস আগামী বছরের মধ্যেই সাধারণ সর্দিজ্বরে রূপ নেবে বলে মনে করেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ভাইরাসবিশেষজ্ঞ ডেইম সারাহ গিলবার্ট। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা উদ্ভাবনের অন্যতম প্রধান গবেষক তিনি।

স্কাই নিউজের বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাভাইরাসের বিবর্তন ক্ষমতা খুব শিগগিরই সীমিত হয়ে আসবে বলে মনে করেন ড. সারাহ গিলবার্ট।

তিনি বলেন, ‘নতুন করে ভাইরাসটি ছড়ানোর জন্য তো আর কোনো জায়গা নেই। ভাইরাসটির যাওয়ার মতো জায়গা আর বেশি বাকি নেই বলে আরও বিবর্তনের মাধ্যমে টিকার কার্যক্ষমতাকে ফাঁকি দেয়ারও উপায় নেই তার। কারণ একটা পর্যায়ে যাওয়ার পর সময়ের সঙ্গে ভাইরাস দুর্বল হতে শুরু করে।’

রয়্যাল সোসাইটি অফ মেডিসিনের একটি ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে বুধবার এসব কথা বলেন গিলবার্ট।

যুক্তরাজ্য মহামারির সবচেয়ে কঠিন ধাক্কা পেরিয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করে তিনি জানান, করোনাভাইরাস আরও প্রাণঘাতী হয়ে উঠবে বলে যে শঙ্কা ছিল, তা ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে আসছে।

গিলবার্ট বলেন, ‘সাধারণত ভাইরাস সহজে ছড়িয়ে পড়ে বলেই এর প্রকোপ এক সময় কমতে শুরু করে। সার্স-কভ-টুর এই সংস্করণের চেয়ে একই প্রজাতির আরও সংক্রামক বা শক্তিশালী ভাইরাস আসবে বলে মনে করার সময় পার করে এসেছি আমরা।’

এর আগে টিকা না নেয়া সব শিশু করোনায় আক্রান্ত হবে বলে ইংল্যান্ডের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা অধ্যাপক ক্রিস হুইটির মন্তব্য করেন। তার মতে, মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমছে বলে ভাইরাসটির ছড়ানো অব্যাহত থাকবে।

বিপরীতে সারাহ গিলবার্টের মতে, করোনাভাইরাসের উপসর্গ আস্তে আস্তে সাধারণ সর্দিজ্বরের মতোই মৃদু অসুস্থতা তৈরি করবে।

তিনি বলেন, ‘সাধারণত ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তন ধীর গতির হতে থাকে। একই সঙ্গে মানুষের দেহে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে থাকে। অন্য সব মৌসুমি করোনাভাইরাসের মতোই হয়ে আসবে সার্স-কভ-টুর বর্তমান রূপটিও।’

ড. গিলবার্ট আরও বলেন, ‘এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বহুল প্রত্যাশিত সে সময়টা কবে আসবে। আর তার আগ পর্যন্ত ভাইরাসের কবল থেকে বেঁচে থাকতে আমাদের করণীয় কী।’

তবে ভবিষ্যৎ মহামারির জন্যও এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে বলেও ওয়েবিনারে সতর্ক করেন গিলবার্ট। তার মতে, এ খাতে এখন অল্প বিনিয়োগও দীর্ঘমেয়াদে কয়েক শ কোটি পাউন্ড অর্থ সাশ্রয় করতে পারে।

একই কথা বলেছেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির আরেক অধ্যাপক স্যার জন বেল। তিনি বলেন, ‘আগামী বছর বসন্তেই করোনা সাধারণ সর্দিজ্বরে রূপ নিতে পারে। কারণ বেশিরভাগ মানুষ টিকা নেয়ায় কিংবা ভাইরাসের সংস্পর্শে চলে আসায় করোনার বিরুদ্ধে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ছে।

শীত পেরিয়ে গেলে যুক্তরাজ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে বলেও উল্লেখ করেন স্যার জন বেল। তিনি বলেন, ‘মহামারির গতিপ্রকৃতি লক্ষ্য করলে দেখবেন, ছয় মাস আগের চেয়ে এখন অনেক ভালো অবস্থায় আছে দেশ।’

এর আগে করোনার টিকা উদ্ভাবনকারী আরেক প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের মডার্নার প্রধান নির্বাহী স্তেফানে বানসেল বলেন, এক বছরের মধ্যে করোনা মহামারির ইতি ঘটবে। কারণ হিসেবে টিকা উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রয়োজন অনুপাতে সরবরাহে সক্ষমতার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
‘করোনা দেবীর’ কাছে প্রার্থনা গ্রামবাসীর
নারী পরিচালকের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা বিজেপির
শিশুদের রেমডেসিভির দেয়া যাবে না: ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
মোদিকে দাড়ি কাটতে ১০০ টাকা পাঠালেন চা বিক্রেতা
ভারতে করোনা আক্রান্ত শিশুদের রেমডিসিভির প্রয়োগে মানা

শেয়ার করুন

কিশোরীকে গণধর্ষণ, অপ্রাপ্তবয়স্কসহ ২৬ আসামি গ্রেপ্তার

কিশোরীকে গণধর্ষণ, অপ্রাপ্তবয়স্কসহ ২৬ আসামি গ্রেপ্তার

প্রতীকী ছবি

গত জানুয়ারিতে প্রথমবার মেয়েটিকে ধর্ষণ করে মূল অভিযুক্ত এবং পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে। এরপর ভিডিওটি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে সে এবং বাকিরা মিলে বারবার মেয়েটিকে বিভিন্ন এলাকায় ডাকত এবং ধর্ষণ করত। শেষ পর্যন্ত বুধবার রাতে দোম্বিভালির মানপাড়া থানায় হাজির হয়ে অভিযোগ জানায় মেয়েটি; নাম উল্লেখ করে ২৯ জনের।

নয় মাস ধরে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে গণর্ধষণের পর প্রকাশ্যে এসেছে বর্বর এ ঘটনা। জানা গেছে, ২৯ জন পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে তাকে। অভিযুক্তদের মধ্যে দুইজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

গা শিউড়ে ওঠার মতো এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের থানে জেলায়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বারবার ধর্ষণের শিকার হয়েছে মেয়েটি।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, থানের দোম্বিভালি এলাকায় এ ঘটনায় অপ্রাপ্তবয়স্ক দুইজনসহ ২৬ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনজন পলাতক।

পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার দাত্তা কারালে জানান, মূল অভিযুক্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেটি ধর্ষণের শিকার মেয়েটির বন্ধু ছিল। গত জানুয়ারিতে প্রথমবার সে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে এবং পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে।

এরপর ভিডিওটি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে মূল অভিযুক্ত এবং বাকিরা মিলে বারবার মেয়েটিকে বিভিন্ন এলাকায় ডাকত এবং ধর্ষণ করত।

শেষ পর্যন্ত বুধবার রাতে দোম্বিভালির মানপাড়া থানায় হাজির হয়ে নিজে অভিযোগ জানায় মেয়েটি। এরপরই প্রকাশ্যে আসে ঘটনাটি। ধর্ষণের ঘটনায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করেছে সে।

ধর্ষণের শিকার মেয়েটি বর্তমানে একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় গণধর্ষণ ও যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে শিশুসুরক্ষা আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, যেসব স্থানে মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তদন্তের জন্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের ডেকে পাঠানো হয়েছে। ভিডিওসহ অন্যান্য প্রমাণও সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

অভিযুক্তদের প্রায় সবাই একই এলাকার বাসিন্দা এবং ধর্ষণের শিকার মেয়েটি ও মূল অভিযুক্তের পরিচিত।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা দেবেন্দ্র ফড়নাভিস।

এনসিপির আইনপ্রণেতা বিদ্যা চাভান জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের কয়েকজন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্য। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যেন ধর্ষণের বিচারে বাধা না হয়, তা নিশ্চিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
‘করোনা দেবীর’ কাছে প্রার্থনা গ্রামবাসীর
নারী পরিচালকের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা বিজেপির
শিশুদের রেমডেসিভির দেয়া যাবে না: ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
মোদিকে দাড়ি কাটতে ১০০ টাকা পাঠালেন চা বিক্রেতা
ভারতে করোনা আক্রান্ত শিশুদের রেমডিসিভির প্রয়োগে মানা

শেয়ার করুন

রাশিয়ার একই অঞ্চলে ৩ মাসে তৃতীয় বিমান বিধ্বস্ত, প্রাণহানি

রাশিয়ার একই অঞ্চলে ৩ মাসে তৃতীয় বিমান বিধ্বস্ত, প্রাণহানি

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে কামশাৎকা উপদ্বীপ পর্যটকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। ছবি: এএফপি/ফাইল

দুর্গম একটি অঞ্চলে বিমানটির ধ্বংসাবশেষের সন্ধান মিলেছে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পায়ে হেঁটে সেখানে পৌঁছেছে উদ্ধারকারী দল। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দুর্ভাগ্যক্রমে বিমান বিধ্বস্তের স্থানে কাউকেই জীবিত পাইনি আমরা।’

রাশিয়ার ফার ইস্ট অঞ্চলে বুধবার একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ গেছে ছয় আরোহীর সবার। এ নিয়ে অঞ্চলটিতে টানা তিন মাসে পরপর তিনটি বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হলো অর্ধশত মানুষ।

রাশিয়ার জরুরি সেবা মন্ত্রণালয়ের বৃহস্পতিবারের বিবৃতির সূত্র উল্লেখ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনাকবলিত আন্তানোভ আন-২৬ বিমানটি ৪২ বছরের পুরোনো ছিল।

বিমানটি যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ও রাডার থেকে গায়েব হয়ে যাওয়ার পর দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রশাসন। রাশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরে কারিগরি দিক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা একটি প্রতিষ্ঠানের ছিল বিমানটি।

দুর্গম একটি অঞ্চলে বিমানটির ধ্বংসাবশেষের সন্ধান মিলেছে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পায়ে হেঁটে সেখানে পৌঁছেছে উদ্ধারকারী দল।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দুর্ভাগ্যক্রমে বিমান বিধ্বস্তের স্থানে কাউকেই জীবিত পাইনি আমরা।’

ফার ইস্টেই কামশাৎকা অঞ্চলে আগস্টে ১৬ আরোহীসহ একটি এমআই-এইট হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ যায় কমপক্ষে আটজনের। রাজধানী মস্কো থেকে পর্যটকদের নিয়ে হেলিকপ্টারটি সেইন্ট পিটার্সবার্গে যাচ্ছিল। পথে কামশাৎকা উপদ্বীপের দক্ষিণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি হ্রদে পড়ে যায় সেটি।

গত কয়েক বছরে রাশিয়ার বিমান ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে বহু বছরের পুরোনো মেয়াদোত্তীর্ণ বিমান ও হেলিকপ্টারগুলোর দুর্ঘটনায় পড়া প্রায় নিয়মিত সংবাদ দেশটিতে।

এর আগে জুলাইয়ে কামশাৎকাতেই ২৮ আরোহী নিয়ে আরেকটি আন্তোনোভ আন-২৬ বিমান বিধ্বস্ত হয়। নিহত হয় আরোহীদের সবাই।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে কামশাৎকা উপদ্বীপ পর্যটকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। মস্কো থেকে ছয় হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার দুই হাজার কিলোমিটার পশ্চিমে এর অবস্থান।

আরও পড়ুন:
‘করোনা দেবীর’ কাছে প্রার্থনা গ্রামবাসীর
নারী পরিচালকের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা বিজেপির
শিশুদের রেমডেসিভির দেয়া যাবে না: ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
মোদিকে দাড়ি কাটতে ১০০ টাকা পাঠালেন চা বিক্রেতা
ভারতে করোনা আক্রান্ত শিশুদের রেমডিসিভির প্রয়োগে মানা

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে সংবাদপত্র-ম্যাগাজিন ছাপা বন্ধ

আফগানিস্তানে সংবাদপত্র-ম্যাগাজিন ছাপা বন্ধ

বন্ধ হয়ে যাওয়া জনপ্রিয় সংবাদপত্র আরমান মিলির প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ শোয়াইব পার্সা বলেন, ‘২২ জন কর্মী কাজ করছিলেন আমাদের প্রতিষ্ঠানে। সবাই এখন বেকার। আবার সংবাদপত্র প্রকাশ শুরু করার আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় আছি আমরা।’

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে আফগানিস্তানে প্রায় ১৫০টি প্রিন্ট মিডিয়া আউটলেট দৈনিক সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিন ছাপা বন্ধ করে দিয়েছে। কয়েকটি আউটলেট অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত রাখলেও বাকিরা স্থায়ীভাবে কার্যক্রম বন্ধে বাধ্য হয়েছে।

আফগানিস্তান ন্যাশনাল জার্নালিস্টস ইউনিয়ন বুধবার জানায়, বেসামরিক সরকার পতনের পর থেকে গত প্রায় দেড় মাসে সংবাদপত্রের ছাপা সংস্করণ প্রকাশ বন্ধ হয়ে গেছে।

টোলো নিউজের বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে আফগান সংবাদমাধ্যম।

ন্যাশনাল জার্নালিস্টস ইউনিয়নের প্রধান নির্বাহী আহমেদ শোয়াইব ফানা বলেন, ‘দেশে প্রিন্ট মিডিয়ার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সামাজিক সংকটের মুখে পড়ব আমরা।’

আফগান সংবাদপত্র ৮ সোভের প্রতিবেদক আলী হাকমল জানান, তার প্রতিষ্ঠান বর্তমানে অনলাইনে সব সংবাদ প্রকাশ করছে। তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা পূরণের সাধ্যাতীত চেষ্টা করছি আমরা। কিন্তু এখন মানুষের কাছে খবর পৌঁছে দিতে অনলাইনে সংবাদ প্রকাশেই গুরুত্ব দিচ্ছি।’

পত্রিকাটির প্রধান আশাক আলী এহসাস বলেন, ‘প্রতিদিন আমাদের সংবাদপত্রের ১৫ হাজার কপি প্রকাশ হচ্ছিল। রাজধানী কাবুল ও আরও কয়েকটি প্রদেশে পত্রিকা সরবরাহ হতো। সরকার পতনের পর সংবাদপত্র ছাপা ও বিপণনের কাজ চরমভাবে ব্যাহত হওয়ায় প্রিন্ট সংস্করণ প্রকাশ বন্ধ করতে হলো।’

বন্ধ হয়ে যাওয়া আরেকটি জনপ্রিয় সংবাদপত্র আরমান মিলি। সংবাদপত্রটির প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ শোয়াইব পার্সা বলেন, ‘২২ জন কর্মী কাজ করছিলেন আমাদের প্রতিষ্ঠানে। সবাই এখন বেকার। আবার সংবাদপত্র প্রকাশ শুরু করার আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় আছি আমরা।’

দেশজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বিজ্ঞাপন হারিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো। এ ছাড়া তালেবান দেশের শাসনব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর অনেক অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী আফগানিস্তান ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

চলতি সপ্তাহে কয়েকটি পর্যবেক্ষক সংস্থা জানায়, গত এক মাসে কার্যক্রম সংকুচিত হয়ে গেছে ১৫৩টি আফগান সংবাদমাধ্যমের। অর্থসংকট ও তালেবানশাসিত সরকার তথ্যে প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে সীমিত করে দেয়ায় এমন পরিস্থিতি।

যদিও এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তালেবানের তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যম মুক্ত, কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি।

আরও পড়ুন:
‘করোনা দেবীর’ কাছে প্রার্থনা গ্রামবাসীর
নারী পরিচালকের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা বিজেপির
শিশুদের রেমডেসিভির দেয়া যাবে না: ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
মোদিকে দাড়ি কাটতে ১০০ টাকা পাঠালেন চা বিক্রেতা
ভারতে করোনা আক্রান্ত শিশুদের রেমডিসিভির প্রয়োগে মানা

শেয়ার করুন

জলাবদ্ধ কলকাতা যেন মৎস্য খামার

জলাবদ্ধ কলকাতা যেন মৎস্য খামার

কলকাতার নিউটাউনে জলাবদ্ধ সড়কে মাছ ধরার ভিডিও প্রকাশ করেন পিউ মণ্ডল নামের নারী। ছবি: আনন্দবাজার

জলাবদ্ধ সড়কে মাছ ধরার একটি ঘটনা তুলে ধরেছে আনন্দবাজার। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, কলকাতার নিউটাউনে ডুবে যাওয়া সড়কে জাল ফেলে মাছ ধরার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন পিউ মণ্ডল নামের নারী। তার সে ভিডিও দেখে চোখ কপালে ওঠে অনেকের।

আশ্বিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে কলকাতার অনেক অঞ্চলে। কোথাও কোথাও ‍বৃষ্টির পানি ঢুকে গেছে বাড়িতে। কোথাও আবার পানিতে থইথই সড়ক।

এমন পরিস্থিতিতেও আনন্দের খোরাক পেয়েছেন কলকাতার কিছু বাসিন্দা। বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় সড়কেই মিলেছে মাছ। সেখানে জাল ফেলে মাছ ধরতেও দেখা গেছে।

জলাবদ্ধ সড়কে মাছ ধরার একটি ঘটনা তুলে ধরেছে আনন্দবাজার। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, কলকাতার নিউটাউনে ডুবে যাওয়া সড়কে জাল ফেলে মাছ ধরার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন পিউ মণ্ডল নামের নারী। তার সে ভিডিও দেখে চোখ কপালে ওঠে অনেকের।

মাছ ধরা নিয়ে আনন্দবাজার অনলাইনকে পিউ বলেন, ‘ওই ভিডিও তোলা হয়েছে কারিগরি ভবনের সামনে। মঙ্গলবার রাতে ভাইয়ের সঙ্গে খাবার কিনতে যাচ্ছিলাম। বাইকের আলো রাস্তার জলে পড়তেই চিকচিক করতে দেখি। ঠাহর করে বুঝতে পারি, প্রচুর মাছ ওই জলে।

‘বাইক থেকে নেমে ভাই-বোন মিলে হাত দিয়ে বেশ কিছু মাছ ধরি। তখনই বাড়িতে ফোন করে জাল আনার কথা বলি। সারা রাত ধরে প্রায় ১৫ কেজি মাছ ধরা হয়।’

পিউ আরও বলেন, ‘এভাবে মাছ ধরতে পেরে খুব আনন্দ পেয়েছি। পরদিন সকালে গোটা পাড়ায় সেই মাছ বিলি করা হয়।’

আরও পড়ুন:
‘করোনা দেবীর’ কাছে প্রার্থনা গ্রামবাসীর
নারী পরিচালকের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা বিজেপির
শিশুদের রেমডেসিভির দেয়া যাবে না: ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
মোদিকে দাড়ি কাটতে ১০০ টাকা পাঠালেন চা বিক্রেতা
ভারতে করোনা আক্রান্ত শিশুদের রেমডিসিভির প্রয়োগে মানা

শেয়ার করুন

বায়ুদূষণে বছরে ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু

বায়ুদূষণে বছরে ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু

বায়ু দূষণে বেশি ভুগছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো। ছবি: সংগৃহীত

বায়ুদূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের যে ব্যাপক ক্ষতি করছে, তার ‘পরিষ্কার প্রমাণ’ রয়েছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। আর ক্ষতির পরিমাণ ধারণার চেয়ে অনেক বেশি বলে সংগঠনটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বায়ুদূষণে সবচেয়ে বেশি ভুগছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলো।

বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসে ক্যানসার, হৃৎপিণ্ডজনিত সমস্যা, স্ট্রোক ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

বায়ুদূষণজনিত মৃত্যু কমাতে ২০০৫ সালের পর প্রথমবারের মতো বায়ুমান নির্ধারণে নতুন গাইডলাইন নির্ধারণ করেছে ডব্লিউএইচও।

এই গাইডলাইন অনুযায়ী ১৯৪টি সদস্য রাষ্ট্রকে নভেম্বরে কোপ২৬ সম্মেলনের আগেই বায়ুদূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধে পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতিসংঘের আওতাধীন সংস্থাটি।

এর উদ্দেশ্য বায়ুর নানা দূষণ কমিয়ে আনা। সেই সঙ্গে বায়ুর সঙ্গে মিশ্রিত অতি ক্ষুদ্র পদার্থ ও নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড হ্রাস করা, যা জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোয় তৈরি হয়।

ডব্লিউএইচও বলেছে, ‘মানব স্বাস্থ্যের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি বায়ুদূষণ অন্যতম ভয়াবহ পরিবেশগত ঝুঁকি।’

বায়ুদূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের যে ব্যাপক ক্ষতি করছে তার ‘পরিষ্কার প্রমাণ’ রয়েছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। আর ক্ষতির পরিমাণ ধারণার চেয়ে অনেক বেশি বলে সংগঠনটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়ুদূষণে সবচেয়ে বেশি ভুগছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলো। কারণ এসব দেশ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর বেশি নির্ভরশীল।

যানবাহনের ধোঁয়া ও গ্যাসজাতীয় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। আর বায়ুতে অতিক্ষুদ্র কণাগুলো গঠিত হয় বায়ুতে মিশে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিকের বিক্রিয়ার ফলে। এসব রাসায়নিকের উৎস রঙের ব্যবহার, বিভিন্ন ধরনের জীবাণুনাশক তরল ও দ্রবণ।

আরও পড়ুন:
‘করোনা দেবীর’ কাছে প্রার্থনা গ্রামবাসীর
নারী পরিচালকের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা বিজেপির
শিশুদের রেমডেসিভির দেয়া যাবে না: ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
মোদিকে দাড়ি কাটতে ১০০ টাকা পাঠালেন চা বিক্রেতা
ভারতে করোনা আক্রান্ত শিশুদের রেমডিসিভির প্রয়োগে মানা

শেয়ার করুন

তালেবানের পক্ষে সমাবেশে নারীদের অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল?

তালেবানের পক্ষে সমাবেশে নারীদের অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল?

কাবুলের শহীদ রাব্বানি এডুকেশন ইউনিভার্সিটির লেকচার থিয়েটারে সমবেত নারীদের পরনে ছিল তিন খণ্ডের কালো বোরকা। অথচ আফগান নারীদের প্রচলিত বোরকা নীল রঙের এবং একখণ্ড কাপড়। ছবি: এএফপি

অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক মানুষ তালেবানের প্রতি নারীদের সমর্থনের সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর একটি কারণ ছিল, লেকচার থিয়েটারের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার আগে বা পরে কাবুলের রাস্তায় একই পোশাক আর প্ল্যাকার্ড হাতে নারীদের সারি বেঁধে হেঁটে যাওয়ার ছবি। সেসব ছবিতে নারীদের পাহারায় অস্ত্র হাতে তালেবান যোদ্ধাদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছিল সমাবেশে অংশ নেয়া নারীদের পরনে থাকা বোরকার ধরন নিয়েও।

তালেবানের সমর্থনে আপাদমস্তক কালো কাপড়ে মোড়ানো নারীদের সমাবেশের কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। শতাধিক নারীর অংশগ্রহণে ওই সমাবেশ কাবুলের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় গত ১১ সেপ্টেম্বর।

সে সময় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, তালেবানের জেন্ডার বৈষম্যমূলক কট্টর নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে ওই সমাবেশে অংশ নেন প্রায় ৩০০ নারী। কথিত ইসলামপন্থিদের সমর্থনে এবং পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে সমাবেশে কথা বলেছিলেন নারী বক্তারা; শ্রোতার আসনে থাকা নারীরা উড়িয়েছিলেন তালেবানের পতাকা।

তালেবানের আরোপিত নিয়ম মেনে কঠিন রক্ষণশীল পোশাকে শিক্ষা গ্রহণের বার্তা দিয়েছিলেন তারা। হাতে গোনা কয়েকজন নীল রঙের বোরকা পরলেও বেশির ভাগই ছিলেন কালো নিকাবে। চোখ বাদে পুরো শরীর ঢাকা ছিল তাদের, চোখেও ছিল পাতলা কাপড়ের আবরণ, হাতে ছিল গ্লাভস।

সমাবেশে অংশ নেয়া কয়েকজন নারীর বরাত দিয়ে টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (টিআরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, তালেবানের প্রতি নারীদের সমর্থন দেখানোর ওই আয়োজন পুরোটাই ছিল সাজানো।

তালেবান নারীদের অধিকার হরণ করছে বলে বিশ্বজুড়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা মিথ্যা প্রমাণে নারীদের বাধ্য করা হয়েছিল ওই সমাবেশে অংশ নিতে। উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বকে দেখানো যে, আফগান নারীরা তালেবানের শাসনে, নতুন কঠোর জীবনবিধানে সন্তুষ্ট।

সমাবেশে অংশ নেয়া নারী মারজানা (ছদ্মনাম)। আয়োজনে নিজের অংশ নেয়ার নেপথ্যের ঘটনা তিনি জানিয়েছেন নিজ বাড়িতে বসেই। তাও শোনা যায় না এমন কণ্ঠে, রীতিমতো ফিসফিস করে কথা বলছিলেন তিনি। সে কণ্ঠেও স্পষ্ট ছিল আতঙ্ক।

তিনি বলেন, ‘অনেকে বোরকা পরেই উপস্থিত হয়েছিলেন। আমিসহ বাকিদের কালো বোরকা পরতে দেয়া হয়েছিল। আমাদের পুরো মুখ ঢেকে ছিল ওই পোশাকে।’

সেদিন আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের শহীদ রাব্বানি এডুকেশন ইউনিভার্সিটির লেকচার থিয়েটারে সমবেত হয়েছিলেন ওই নারীরা। তালেবানের সমর্থনে লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল তাদের হাতে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির অধ্যাপক মারজানা আরও জানান, এক শিক্ষার্থীকে আগে লিখে রাখা একটি বক্তব্য লেকচার হলে পড়ে শোনাতে বলা হয়। ইংরেজি ভাষায় লেখা ছিল বক্তব্যটি।

অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক মানুষ তালেবানের প্রতি নারীদের সমর্থনের সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এর একটি কারণ ছিল, লেকচার থিয়েটারের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার আগে বা পরে কাবুলের রাস্তায় একই পোশাক আর প্ল্যাকার্ড হাতে নারীদের সারি বেঁধে হেঁটে যাওয়ার ছবি।

তালেবানের পক্ষে সমাবেশে নারীদের অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল?

সেসব ছবিতে নারীদের পাহারায় অস্ত্র হাতে তালেবান যোদ্ধাদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছিল।

ওই সমাবেশের আগে ও পরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন তালেবানবিরোধী বিক্ষোভে চড়াও হতে দেখা গিয়েছে সশস্ত্র এই তালেবান যোদ্ধাদের। বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করায় আফগান সংবাদকর্মীদেরও নির্মমভাবে পিটিয়েছিল তালেবান যোদ্ধারা।

সেই তালেবান যোদ্ধারাই আবার তাদের সমর্থনে হওয়া সমাবেশের খবর প্রচারে সাংবাদিকদের ডেকে পাঠিয়েছিল।

প্রশ্ন উঠেছিল সমাবেশে অংশ নেয়া নারীদের পরনে থাকা বোরকার ধরন নিয়েও। বেশির ভাগ নারীই হাত গ্লাভসে আর চোখ-মুখ নিকাবে ঢেকে রেখেছিলেন। পা থেকে মাথা পর্যন্ত পরা ছিলেন কালো বোরকা।

অর্থাৎ বহির্বিশ্ব, বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে আফগান নারীদের বোরকা পরা নিয়ে যে ধারণা প্রচলিত, সেটাই স্পষ্ট ছিল সমাবেশে অংশ নেয়া নারীদের পোশাকে।

আরব বিশ্বে প্রচলিত কালো রঙের বোরকার তিনটি অংশ আলাদা- গলা থেকে পা পর্যন্ত একটি ঢোলা আলখাল্লা, মাথা ঢাকার কাপড় ও মুখ ঢাকার নিকাব। এ ধরনের পোশাকই পরেছিলেন সমাবেশে অংশ নেয়া বেশির ভাগ নারী।

অথচ আফগান নারীরা সাধারণত নীল রঙের বোরকা পরেন। আফগানিস্তানের প্রচলিত বোরকা মানে বিশাল একখণ্ড নীল রঙের কাপড়, যা দিয়ে নারীর মাথা থেকে পা পর্যন্ত, এমনকি চোখও ঢাকা থাকে।

তালেবানের সমর্থনে সমাবেশে অংশ নেয়া আরেক নারী নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মুখসহ সারা শরীর ঢেকে নিতে কালো রঙের বোরকাগুলো আমাদের তালেবান যোদ্ধারা দিয়েছিল। আমি পরতে চাইনি ওই পোশাক।

‘যখন বলেছিলাম যে আমি পরব না এই বোরকা, ওরা চিৎকার শুরু করল। মোট কথা, ওই পোশাক পরতে তারা আমাদের বাধ্য করেছে। তারপর চুপচাপ থিয়েটারে গিয়ে বসে থাকতে বলেছে।

‘বোরকার ভেতরে ঢোকার পর আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। তারা বক্তৃতা দিচ্ছিল। আমি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুধু শুনেছি।’

ছবি ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বিশ্লেষণেও এটা স্পষ্ট হয়েছে যে ওই সমাবেশ শুধু যে তালেবানের অনুমতিতে হয়েছিল তা-ই নয়, আয়োজনও করেছিল খোদ তালেবানই।

তালেবানের সমর্থনে ওই সমাবেশের এক বক্তা বলেছিলেন, তালেবানবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়া নারীরা ‘প্রকৃত আফগান নারীদের প্রতিনিধিত্ব করেন না এবং তারা আফগানিস্তানের মুখ নন। তারা ব্যক্তিগত স্বার্থে আফগান নারীদের মিথ্যা ভাবমূর্তি তুলে ধরছেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদেরও সাক্ষাৎকার নেয়ার চেষ্টা করেছিল টিআরটি। কিন্তু সাড়া পায়নি। তালেবানের সমর্থনে ওই অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছায় অংশ নেয়া নারী শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল। সাড়া দেননি তারাও।

সমাবেশের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে। কয়েক শ আফগান নারী টুইটারে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী রঙিন পোশাক পরা ছবি প্রকাশ করেন। ‘ডু নট টাচ মাই ক্লোথস’ হ্যাশট্যাগে টুইটারে প্রতিবাদের ঝড় তোলেন তারা।

টুইটারে বিবিসির সাংবাদিক সোদাবা হায়দারে বলেন, ‘এটাই আমাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। আমাদের তো ভাত খাওয়ার চালটাও রঙিন। একই রকম রঙিন আমাদের জাতীয় পতাকাও।’

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রথম দফায় প্রায় ছয় বছর আফগানিস্তান শাসন করেছিল ধর্মভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন তালেবান। নব্বইয়ের দশকের শাসনামলে মেয়েশিশু, কিশোরী ও নারীদের শিক্ষা গ্রহণ, জীবিকা উপার্জন, বেড়ানোসহ সব ধরনের মৌলিক অধিকার হরণ করেছিল গোষ্ঠীটি। পরিবারের পুরুষ সদস্য ছাড়া বাড়ির বাইরে পা রাখারও অনুমতি ছিল না নারীদের।

২০ বছরের ব্যবধানে গত ১৫ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান। শুরুতে নব্বইয়ের দশকের মতো কঠোর নিয়ম চালু না করার আশ্বাস দিলেও সে কথা রাখেনি গোষ্ঠীটি।

এরই মধ্যে আফগানিস্তানের নারী মন্ত্রণালয় স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে নতুন শাসক গোষ্ঠী। রাজধানী কাবুলে নগর প্রশাসনের নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়িতে থাকার আদেশ দিয়েছে। ছাত্র-শিক্ষকদের নিয়ে সব স্কুল চালু হলেও স্কুলে যাচ্ছে না ছাত্রী ও শিক্ষিকারা।

ছেলেমেয়েদের একসঙ্গে শিক্ষা গ্রহণে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে বলে রোববার নিশ্চিত করেছেন তালেবানশাসিত সরকারের উচ্চশিক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল বাকি হাক্কানি। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হলে নারীদের হিজাব পরতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মারজানা বলেন, ‘আমরা পড়াশোনা করার কিংবা কাজে ফেরার অনুমতি পাব কি না জানি না। স্পষ্ট করে কিছুই বলা হচ্ছে না। ভবিষ্যতে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে, কে জানে।’

আরও পড়ুন:
‘করোনা দেবীর’ কাছে প্রার্থনা গ্রামবাসীর
নারী পরিচালকের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা বিজেপির
শিশুদের রেমডেসিভির দেয়া যাবে না: ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
মোদিকে দাড়ি কাটতে ১০০ টাকা পাঠালেন চা বিক্রেতা
ভারতে করোনা আক্রান্ত শিশুদের রেমডিসিভির প্রয়োগে মানা

শেয়ার করুন