কলকাতার উপ-হাইকমিশনের  প্রেস সচিব হলেন রঞ্জন সেন

কলকাতার উপ-হাইকমিশনের প্রেস সচিব হলেন রঞ্জন সেন

‘সাংবাদিক রঞ্জন সেনকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক ছাড়ার শর্তে এই নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি কাজে যোগ দেয়ার দিন থেকে পরের দুই বছর ভারতের কলকাতায় অবস্থিত উপহাইকমিশনের প্রেস উইংয়ের প্রথম সচিবের (প্রেস) দায়িত্ব পালন করবেন।’

বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল একুশে টেলিভিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বার্তা সম্পাদক রঞ্জন সেনকে ভারতের কলকাতার উপ-হাইকমিশনের প্রেস উইংয়ের প্রথম সচিব (প্রেস) পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে মঙ্গলবার এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সাংবাদিক রঞ্জন সেনকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক ছাড়ার শর্তে এই নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি কাজে যোগ দেয়ার দিন থেকে পরের দুই বছর ভারতের কলকাতায় অবস্থিত উপহাইকমিশনের প্রেস উইংয়ের প্রথম সচিবের (প্রেস) দায়িত্ব পালন করবেন।

এটি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বলেও মন্ত্রণালয়ের উপসচিব অলিউর রহমানের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

স্বরা ভাস্করের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ

স্বরা ভাস্করের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ

বলিউড অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর। ছবি: সংগৃহীত

দাঙ্গায় উসকানি দেয়া ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করার অভিযোগে বলিউড অভিনেত্রীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩, ১৫৩এ, ২৫৯এ, ৫০৫ ও ১২০বি ধারার ভিত্তিতে অভিযোগ করা হয়েছে।

দিল্লি লাগোয়া উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে এক মুসলমান নিগ্রহের ঘটনায় ভুয়া খবর ছড়ানোর অভিযোগে বলিউড অভিনেত্রী স্বরা ভাস্করের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

বুধবার দিল্লির তিলক মার্গ থানায় অমিত আচার্য নামের এক আইনজীবী স্বরা ভাস্করসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন, যাতে স্পষ্ট এফআইআরের আবেদন জানানো হয়েছে।

দাঙ্গায় উসকানি দেয়া ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করার অভিযোগে বলিউড অভিনেত্রীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩, ১৫৩এ, ২৫৯এ, ৫০৫ ও ১২০বি ধারার ভিত্তিতে অভিযোগ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্বরা ভাস্কর, টুইটারের ভারতীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনীশ মাহেশ্বরী, সাংবাদিক আফরা খানুম শেরওয়ানিসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে তারা অভিযোগ পেয়েছে।

সংশ্লিষ্ট অভিযোগনামায় বলা হয়, তারা প্রত্যেকেই গাজিয়াবাদের প্রবীণ নাগরিকের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর শেয়ার করে সেটাকে সাম্প্রদায়িকতার রং দেয়ার চেষ্টা করেন।

গাজিয়াবাদের মুসলমান বৃদ্ধকে নিগ্রহের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আবদুল সামাদ সাইফি নামের ওই বৃদ্ধকে অটোরিকশায় করে বাড়ি পৌঁছে দেয়ার নামে নির্জন এলাকায় নিয়ে যান অভিযুক্তরা। এরপর সেখানে তাকে মারধর করা হয় এবং জয় শ্রীরাম বলার জন্য চাপ দেয়া হয়।

তবে পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা ওই বৃদ্ধকে মারধর করেন, কারণ তার থেকে কেনা তাবিজে কোনো কাজ হয়নি বলে। আর সেই ঘটনাকেই সাম্প্রদায়িকতার রং দেয়ার চেষ্টা করেন স্বরা, এমনটাই অভিযোগ উত্তর প্রদেশ পুলিশের।

উত্তর প্রদেশ পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং কেন্দ্রের নয়া ডিজিটাল নীতি অনুসরণ না করায় টুইটারের আইনি সুরক্ষা তুলে নেয়া হয়।

পরে দিল্লি পুলিশের কাছেও টুইটের মাধ্যমে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ জানান এক আইনজীবী। তিনি অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর, সাংবাদিক আফরা খানুম, আসিফ খান ও টুইটার অধিকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

তার অভিযোগ, গোটা ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে তারা নিজেদের টুইটার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন।

অবশ্য এর পরিপ্রেক্ষিতে এখনও কোনো এফআইআর করা হয়নি বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

অন্যদিকে ভারতে টুইটার অধিকর্তা হিসেবে মনীশ মাহেশ্বরীও গোটা বিষয় সম্পর্কে কোনো পদক্ষেপ নেননি এবং ভুয়া টুইটগুলোও সরিয়ে ফেলেননি।

এর আগে উত্তর প্রদেশ পুলিশের পক্ষ থেকেও একই অভিযোগ আনা হয় টুইটারের বিরুদ্ধে।

শেয়ার করুন

রাজ্যপালকে ‘বাচ্চা ছেলে’ বললেন মমতা

রাজ্যপালকে ‘বাচ্চা ছেলে’ বললেন মমতা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: পিটিআই

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, ‘রাজ্যপাল যখন করা হয়েছিল, তখন আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়নি। নিয়ম হচ্ছে, রাজ্যের সঙ্গে পরামর্শ করে রাজ্যপাল পাঠানো। উনি কাদের সঙ্গে দেখা করবেন, তার ব্যাপার। উনি তো বিজেপির লোক।’

পশ্চিমবঙ্গের ভোট-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে অতি সক্রিয় রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের দিল্লি সফরকে কটাক্ষ করে বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাকে সরানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে দু-তিনবার চিঠি লিখেছি। বাচ্চা ছেলে তো নয়, যে বকাঝকা করে চুপ করিয়ে দেব।’

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘রাজ্যপাল যখন করা হয়েছিল, তখন আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়নি। নিয়ম হচ্ছে, রাজ্যের সঙ্গে পরামর্শ করে রাজ্যপাল পাঠানো। উনি কাদের সঙ্গে দেখা করবেন, তার ব্যাপার। উনি তো বিজেপির লোক।’

বিধানসভা নির্বাচনের এক মাস পরও রাজ্যের ভোট-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের সংঘাত সমানে চলছে।

বিরামহীন টুইটযুদ্ধে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বারবার সোচ্চার হয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।

এর ফলে রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যপালের দিল্লি গিয়ে রাষ্ট্রপতিকে রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে নোট দেয়া খুবই ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি নিয়ে সোচ্চার বিজেপির দুই রাজ্য নেতা।

সোমবার বিজেপির ৫০ বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে বৈঠক করেন রাজ্যপাল। তারপর দিল্লি যান তিনি।

বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, ‘বাংলায় কোনো রাজনৈতিক সহিংসতা হচ্ছে না। বিজেপির গিমিক ভায়োলেন্স চলছে। বঙ্গভঙ্গ হতে দেব না। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মানে কী?

‘জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ির জমি বিক্রি করে দেব নাকি? আমাদের এখানে কোনো গণ্ডগোল নেই । দিল্লি পুলিশের থেকে আমাদের পুলিশ ভালো কাজ করছে।’

শেয়ার করুন

শান্তি সূচকে সাত ধাপ এগিয়ে ৯১তম বাংলাদেশ

শান্তি সূচকে সাত ধাপ এগিয়ে ৯১তম বাংলাদেশ

বৈশ্বিক শান্তি সূচকে ১৬৩টি দেশের মধ্যে ৯১তম অবস্থানে বাংলাদেশ।

বৈশ্বিক শান্তি সূচকে ২.০৬৮ স্কোর করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশটির উপরে আছে ভুটান ও নেপাল।

বৈশ্বিক শান্তি সূচক-২০২১ এ গত বছরের চেয়ে সাত ধাপ এগিয়ে ১৬৩টি দেশের মধ্যে ৯১তম স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অফ ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিস প্রতি বছর বৈশ্বিক শান্তি সূচক তৈরি করে।

নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, সামরিকীকরণ এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে সবচেয়ে বেশি শান্তিপূর্ণ থেকে সবচেয়ে কম শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকা করা হয়।

চলতি বছরের সূচক বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে ইনস্টিটিউট অফ ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিস

বৈশ্বিক শান্তি সূচকে ২.০৬৮ স্কোর করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশটির উপরে আছে ভুটান ও নেপাল।

শান্তি সূচকে ২.০৩৩ স্কোর করে ৮৫তম অবস্থান নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় অবস্থানে নেপাল। প্রথম স্থানে আছে ১.৫১ স্কোর করা ভুটান। তালিকায় দেশটির অবস্থান ২২।

২০২১ সালের সূচকে এশীয় দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ সিঙ্গাপুর। বিশ্বে দেশটির অবস্থান ১১।

এ বছরের সূচকে দেখা যায়, বৈশ্বিক শান্তির গড় মাত্রা ০.০৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গত ১৩ বছরে এ নিয়ে নয়বার টানা বৈশ্বিক শান্তিতে অবনমন ঘটে।

বিশ্বের ৮৭টি দেশের শান্তি পরিস্থিতি উন্নতি ঘটেছে। অন্যদিকে ৭৩টি দেশের পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতির দিকে।

সূচক অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকার সবার উপরে আছে আইসল্যান্ড। ২০০৮ সাল থেকেই দেশটি টানা ১ম অবস্থানে রয়েছে। আর দক্ষিণ এশিয়ার দেশ আফগানিস্তান শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকার সবার নিচে অবস্থান করছে। এ নিয়ে টানা চারবার দেশটি ১৬৩টি তম অবস্থান ধরে রখেছে।

ভারত ২.৫৫৩ স্কোর করে তালিকায় ১৩৫তম অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান ২.৮৬৮ স্কোর করে ১৬৩টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫০তম। আর ২.০৮৩ স্কোর করে ৯৫ স্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা।

শেয়ার করুন

চীনের ঋণে ফাঁসছে পাকিস্তান

চীনের ঋণে ফাঁসছে পাকিস্তান

চীনের কাছ থেকে নেয়া ১০০ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধে আরও ১ বছরের সময় চান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ছবি: সংগৃহীত

ষাটের দশক থেকেই চীন ও পাকিস্তান ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়ে উঠেছে। গত কয়েক বছরে চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর (সিপিইসি) পরিকল্পনার আওতায় বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে পাকিস্তান। এর মধ্যে ১০০ কোটি ডলার পরিশোধের কথা আছে আগামী ২৩ জুলাই। কিন্তু এক বছর সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছেন ইমরান খান। যদিও এর আগে ৩০০ কোটি ডলারের ঋণ পুনর্গঠনের চিঠি প্রত্যাখ্যান করেছে চীন।

ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনের কাছ থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে নেয়া ঋণ এখন গলার কাঁটা হচ্ছে পাকিস্তানের। সময়মতো পরিশোধ করতে না পেরে এখন এক বছরের সময় চেয়ে আবেদন করেছে ইসলামাবাদ। তবে বেইজিং কোনো সাড়া দিচ্ছে না।

পাকিস্তানের দৈনিক দ্য ফ্রন্টিয়ার পোস্টের প্রতিবেদন উল্লেখ করে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের কাছ থেকে ১০০ কোটি ডলারের ঋণ পরিশোধ না করে এক বছর সময় চেয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

আগামী ২৩ জুলাই পাকিস্তানের ওই ঋণ পরিশোধের কথা আছে। তবে গত ৮ জুলাই তিনি চীনের স্টেট কাউন্সিলের প্রধান লি কেকিয়াংকে চিঠি লিখে আরও এক মাস সময় দেয়ার প্রস্তাব রাখেন।

এই বাড়তি সময়ের জন্য ইমরান ১ শতাংশ করে সুদ পরিশোধের প্রস্তাব রাখেন।

ষাটের দশক থেকেই চীন ও পাকিস্তান ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়ে উঠেছে। গত কয়েক বছরে চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর (সিপিইসি) পরিকল্পনার আওতায় বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে পাকিস্তান। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ঋণ এখন পাকিস্তানের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

চীনের ঋণে ফাঁসছে পাকিস্তান

পাকিস্তানে চীনের অর্থায়নে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হয়।

আগেও চীনের কাছ থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধ করা নিয়ে বিপাকে পড়েছে পাকিস্তান। চলতি বছরেই ৩০০ কোটি ডলারের একটি ঋণ পুনর্গঠনের জন্য বেইজিংয়ের কাছে আবেদন জানিয়েছিল ইসলামাবাদ। সেই ঋণও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্যই নেয়া হয়। কিন্তু চীন এই আবেদন রাখেনি।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়ে ইসলামাবাদের ফের আলোচনার অনুরোধে প্রত্যাখ্যান করে চীন। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ঋণ মওকুফ করতে হলে সে ক্ষেত্রে চীনের ব্যাংকের শর্ত সংশোধন করা লাগবে।

পাকিস্তানের অনুরোধের জবাবে চীন আরও জানায়, সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির ধারা আবার পুনর্বিবেচনায় রাজি নয় চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অফ চায়নাসহ অন্যান্য ব্যাংক।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চের শেষের দিকে পাকিস্তানের ঋণ ও দেনা ৪৫ দশমিক ৪৭০ ট্রিলিয়ন রুপিতে উন্নীত হয়, যা আগের বছরের চেয়ে ২ দশমিক ৬৬৬ ট্রিলিয়ন রুপি বা ৬ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি। এই অঙ্ক পাকিস্তানের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ১০৯ শতাংশ।

এই ঋণের একটি বড় অংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নেয় পাকিস্তান।

২০১৮ সালেও পাকিস্তানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ঋণের পরিমাণ ছিল ৭২০ কোটি ডলার। চলতি বছরের মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৮০ কোটি ডলারে। চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে চার বছরের মধ্যে তা গিয়ে ঠেকবে ২ হাজার ৬৩০ কোটি ডলারে।

চীনের ঋণে ফাঁসছে পাকিস্তান

চীনের স্টেট কাউন্সিলের প্রধান লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

এসব কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবেই পরিশোধ করতে হচ্ছে ৫৯০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ। কয়েক বছরের মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৯৮০ কোটি ডলারে। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে পাকিস্তানের মোট ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির জিডিপির ১১ শতাংশে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হলেও সেগুলোর সঞ্চালনব্যবস্থা ভালো নয়। ফলে গ্রাহকরা এর সুবিধা পাচ্ছেন না। এ কারণে দেশটিতে ব্যাপক বিদ্যুৎ-সংকট রয়েই গেছে।

শেয়ার করুন

হরিণের করোনা সুরক্ষায় পিপিই পরে কর্মীরা

হরিণের করোনা সুরক্ষায় পিপিই পরে কর্মীরা

পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র বোলপুরে হরিণের পরিচর্যায় ব্যস্ত কর্মীরা।

নারায়ণ মণ্ডল বলেন, ‘আমরা পশু চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে করোনা বিধি মেনে হরিণের পরিচর্যা করেছি। শুধু পিপিই কিট নয়, হরিণদের যে পাত্রে খাবার দেয়া হয়, যে ছাউনির তলায় তারা আশ্রয় নেয়, সে সব জায়গা নিয়মিত স্যানিটাইজ করা হচ্ছে।’

হরিণের করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে পিপিই কিট পরে পরিচর্যা করছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনকর্মীরা।

শান্তিনিকেতনের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র বোলপুর মহকুমার বল্লভপুর অভয়ারণ্যে দুই শর বেশি চিত্রা হরিণ রয়েছে। তাদের যাতে করোনা সংক্রমণ না ছড়ায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতেই এমন ব্যবস্থা বনকর্মীদের।

বন দপ্তরের স্থানীয় রেঞ্জ অফিসার জয়ন্ত নারায়ণ মণ্ডল জানান, ‘এখন পর্যন্ত ভারতের কোনো বন্যপ্রাণীর করোনা সংক্রমণ দেখা যায়নি। তবে চেন্নাই, হায়দরাবাদে সিংহের মধ্যে মিলেছে করোনা সংক্রমণ।’

নারায়ণ মণ্ডল বলেন, ‘আমরা পশু চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে করোনাবিধি মেনে হরিণের পরিচর্যা করেছি। শুধু পিপিই কিট নয়, হরিণদের যে পাত্রে খাবার দেয়া হয়, যে ছাউনির তলায় তারা আশ্রয় নেয়, সে সব জায়গা নিয়মিত স্যানিটাইজ করা হচ্ছে।’

এ জন্য আটজন বনকর্মীর একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। তারা স্বাস্থ্যকর্মীদের মতো হাতে গ্লাভস, ফেস শিল্ড এবং পিপিই কিট পরে তবেই ডিয়ার পার্কে চিত্রা হরিণের দেখভাল করতে যান।

এখন পর্যন্ত অভয়ারণ্যের কোনো কর্মী করোনায় সংক্রমিত হননি বলে জানিয়েছেন রেঞ্জ অফিসার জয়ন্ত নারায়ণ মণ্ডল।

অন্যদিকে বনমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম ১৫ জুন আলিপুর চিড়িয়াখানা পরিদর্শনে যান জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সেখানে বাঘ-সিংহের খাঁচার উচ্চতা বাড়ানোর কাজ কতটা এগিয়েছে তা খতিয়ে দেখেন তিনি।

এর আগে বাঘ ও সিংহের খাঁচায় পড়ে দুর্ঘটনা ঘটেছিল চিড়িয়াখানায়। তাই দর্শকদের নিরাপত্তার দিকটি তিনি খতিয়ে দেখেন।

বনমন্ত্রী জানান, বহু পুরোনো এই চিড়িয়াখানা। অনেক জিনিস কমজোরি হয়ে গেছে। সেগুলো বদলানোর কাজ শুরু হয়েছে।

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘যদি করোনা বিধিনিষেধ শিথিল হয়, সে ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ মেনে দর্শকদের জন্য আলিপুর চিড়িয়াখানা খুলে দেয়া হবে।’

শেয়ার করুন

শারদা-নারদা: কাশ্মীর সীমান্তে দুই অনাথ ভাল্লুকের বাচ্চা

শারদা-নারদা: কাশ্মীর সীমান্তে দুই অনাথ ভাল্লুকের বাচ্চা

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর অঞ্চলে বেড়ে উঠছে শারদা ও নারদা। ছবি: রয়টার্স

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বন্যপ্রাণী ও ফিশারিজ বিভাগের কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফ বলেন, কাশ্মীরের আন্তর্জাতিক সীমানা লাইন অব কন্ট্রোলের (এলওসি) কাছে শারদা ও নারদা নামের ভাল্লুকের বাচ্চা দুটিকে দেখতে পায় গ্রামবাসী।

পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান সীমান্তে সামরিক অভিযানে সবসময় কেবল মানুষই প্রাণ হারায় তা নয়। সংঘর্ষে অনেক সময় বন্যপ্রাণীও মারা যায়।

ভারত-পাকিস্তানের কয়েক দশকের পুরনো সংঘাতের সাম্প্রতিক শিকার এশীয় জাতের ভাল্লুকের দুই বাচ্চা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে মঙ্গলবার বলা হয়, গত বছর বিতর্কিত কাশ্মীর অঞ্চলের পাকিস্তান অংশে অনাথ বাচ্চা দুটির খোঁজ পাওয়া যায়।

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু-কাশ্মীরের (এজেকে) বন্যপ্রাণী ও ফিশারিজ বিভাগের কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফ বলেন, কাশ্মীরের আন্তর্জাতিক সীমানা লাইন অব কন্ট্রোলের (এলওসি) কাছে শারদা ও নারদা নামের ভাল্লুকের বাচ্চা দুটিকে দেখতে পায় গ্রামবাসী। সে সময় বাচ্চা দুটি চোখ খুলতে পারছিল না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রহরী ও স্বেচ্ছাসেবক প্রায় দুই মাস ধরে তাদের মাকে তন্নতন্ন করে খুঁজে বেড়ায়। অনেক সন্ধান করেও মা-ভাল্লুককে পাওয়া যায়নি।’

মুহাম্মদ আশরাফ বলেন, মা-ভাল্লুকটি হয়তো সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণ বা বোমার আঘাতে মারা গেছে। তার বাচ্চা দুটি হামাগুড়ি দিতে দিতে এলওসির কাছে এলে একপর্যায়ে গ্রামবাসীর নজরে পড়ে।

শারদা-নারদা: কাশ্মীর সীমান্তে দুই অনাথ ভাল্লুকের বাচ্চা

শারদা ও নারদাকে দুমাস ধরে বোতলে করে দুধ খাওয়ানো হয়। পরে ধীরে ধীরে ফল ও সবজি থেকে শুরু করে গম, ভুট্টাসহ অন্যান্য খাবার খেতে দেয়া হয়।

আজাদ জম্মু কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফ্ফরাবাদ থেকে উত্তর-পূর্বে ৬৬ মাইল দূরে দাওয়ারিয়ান গ্রামে শারদা ও নারদাকে রাখা হয়েছে। তারা এখন তুঁত ও আখরোট গাছে উঠতে নামতেই ব্যস্ত থাকে। তাদের দেখতে মাঝেমধ্যে এলাকার শিশু ও বয়স্করা ভিড় জমায়।

কয়েক বছর আগের এক ঘটনা মনে করেন আশরাফ। সে সময় সীমান্ত থেকে দূরে গিরিখাদে মৃত এক ভাল্লুক দেখতে পায় বন্যপ্রাণী বিভাগের কর্মকর্তারা। কালো রঙা ভাল্লুকটির এক পা ছিল না। ধারণা করা হয়, স্থলমাইন বিস্ফোরণে পা উড়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় অনেক বন্যপ্রাণী হয়তো এভাবেই প্রাণ হারায়, যার অল্প কয়েকটিই আমরা জানতে পারি।’

শেয়ার করুন

ইতালির ২ নাবিকের মামলা বন্ধ করল সুপ্রিম কোর্ট

ইতালির ২ নাবিকের মামলা বন্ধ করল সুপ্রিম কোর্ট

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ইন্দিরা ব্যানার্জি ও বিচারপতি এম আর শাহর বেঞ্চে শুনানি শুরু হওয়ার পর ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয় ইতালি সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ক্ষতিপূরণের টাকা জমা দেয়া হয়েছে। এর পরই আদালত মামলা বন্ধের নির্দেশ দেয়।

কেরালার দুই মৎস্যজীবী হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ইতালীয় নাবিকদের মামলা বন্ধ করে দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ওই ঘটনায় ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। ইতালির সরকার ওই ক্ষতিপূরণ দেয়ায় মামলা তুলে নেয়া হয়েছে।

২০১২ সালে ঘটেছিল এই হত্যার ঘটনা।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ইন্দিরা ব্যানার্জি ও বিচারপতি এম আর শাহর বেঞ্চে শুনানি শুরু হওয়ার পর ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয় ইতালি সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ক্ষতিপূরণের টাকা জমা দেয়া হয়েছে। এর পরই আদালত মামলা বন্ধের নির্দেশ দেয়।

কেরালার উপকূলে দুই মৎস্যজীবীর মৃত্যুতে অভিযোগ ওঠে ইতালির নাবিকদের বিরুদ্ধে।

সালভাতোর গিরোন ও ম্যাসিমিলিয়ানো লেটোরে নামের দুই নাবিকের গুলিতেই নিহত হন ভারতের দুই মৎস্যজীবী।

ওই ঘটনায় মৎস্যজীবীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আগেই জমা করতে বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই ক্ষতিপূরণ জমা পড়তে মামলা বন্ধ করল দেশের শীর্ষ আদালত।

ইতালির নাবিকদের বিরুদ্ধে করা মামলা বন্ধ করার আর্জি আগেই জানিয়েছিল ভারত সরকার।

সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এস কে বোবদে, বিচারপতি এ এস বোপান্না ও বিচারপতি ভি রামসুব্রহ্মণ্যমের বেঞ্চ আগেই জানিয়েছিল কেরালার ওই নিহত মৎস্যজীবীদের অ্যাকাউন্টে ক্ষতিপূরণের টাকা না আসা পর্যন্ত এই বিষয়ে কেন্দ্রের আর্জি শোনা হবে না।

জানা গেছে, প্রত্যেক মৎস্যজীবীর পরিবারকে ৪ কোটি টাকা করে দেয়া হবে। বাকি ২ কোটি টাকা দেয়া হবে নৌকার মালিককে।

মূলত ২০১২ সালে স্পেশাল ইকোনমিক জোনের মধ্যে মাছ ধরছিলেন ওই দুই মৎস্যজীবী। সে সময় তাদের আচমকাই গুলি করা হয় বলে অভিযোগ।

ইতালির তেলের ট্যাংকার এমভি এনরিকে লেক্সি থেকে এই গুলি চালানো হয়। এরপরই দুই ইতালীয় নাবিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

ইতালির দাবি ছিল, কিছু বুঝতে না পেরে এই গুলি চালানো হয়েছে। এই ঘটনা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত।

শেয়ার করুন