দেশে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে:  বিএনপি

দেশে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে:  বিএনপি

সরকারের সমালোচনা করে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, খুন, দখল ও গুমের উৎসবে মেতে উঠেছে। দেশে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। সমগ্র জনগোষ্ঠীর জানমাল এখন নিরাপত্তাহীন। স্বাধীনতা শুধু ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের।’

দেশে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ চৌধুরী প্রিন্স।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সরকারের সমালোচনা করে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, খুন, দখল ও গুমের উৎসবে মেতে উঠেছে। দেশে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। সমগ্র জনগোষ্ঠীর জানমাল এখন নিরাপত্তাহীন। স্বাধীনতা শুধু ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলসহ নেতাদের সোমবার রাতে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে তুলে নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এখন তাদের হদিস দিচ্ছে না। এ ধরনের কাজ ফ্যাসিবাদী সরকারের মাধ্যমেই সম্ভব। আমরা অবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাই’

দপ্তরের দায়িত্বে থাকা বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় সরকারের জবাবদিহি নেই। তারা করোনায় অসহায় মানুষকে রক্ষা করছে না। লুটপাটে ব্যস্ত সরকারের লোকজন।

‘প্রধানমন্ত্রীর গুডবুকে থাকতে এখন আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রীরা মিথ্যাচারের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। তারা বিএনপি ও জননন্দিত নেতাদের ব্যাপারে নিয়মিত বিষোদগার করে চলেছেন।’

আরও পড়ুন:
সিলেটে বিএনপি: মাঠে নিষ্ক্রিয়, বিরোধে চাঙা
জিয়াকে নিয়ে মিথ্যাচার জনগণ বিশ্বাস করবে না: ফখরুল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তরুণীর মৃতদেহ ট্রাঙ্কে ভরে বাসে তুলে দেন কথিত স্বামী

তরুণীর মৃতদেহ ট্রাঙ্কে ভরে বাসে তুলে দেন কথিত স্বামী

চট্টগ্রাম শহরে ঈগল পরিবহনের কাউন্টারে গিয়ে ঢাকাগামী একটি টিকেট কেটে শম্পা বেগমের মৃতদেহভর্তি ট্রাঙ্কটি তারই কথিত স্বামী রেজাউল করিম স্বপন তুলে দেন বাসের লকারে। ছবি: নিউজবাংলা

পিবিআই প্রধান বনজ কুমার জানান, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য দেখা দিলে আসামি রেজাউল করিম স্বপন ২০১৫ সালে ২ মে গভীর রাতে শম্পাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। মৃতদেহ গোপন করার জন্য একটি ট্রাঙ্কে ভরে ঢাকাগামী ঈগল পরিবহনের একটি বাসে তুলে দেন এবং সুচতুরভাবে ভিকটিমের বাবাকে স্বপন জানান, শম্পাকে খুলনার বাসে তুলে দেয়া হয়েছে।

ছয় বছর আগে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ঈগল পরিবহনের বাসে রেখে যাওয়া একটি ট্রাঙ্ক থেকে এক তরুণীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে বেরিয়ে এসেছে খুলনার দৌলতপুরের তরুণী শম্পা বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ট্রাঙ্কে ভরে বাসে তুলে দেন তারই কথিত স্বামী নৌবাহিনীর তৎকালীন মেডিক্যাল সহকারী রেজাউল করিম স্বপন।

পিবিআই এর একটি দল শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা ইপিজেড থেকে রেজাউল করিম স্বপনকে গ্রেপ্তার করে। স্বপন আদালতে দেয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

পিবিআই-এর উপ-মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার শনিবার ধানমন্ডির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

তরুণীর মৃতদেহ ট্রাঙ্কে ভরে বাসে তুলে দেন কথিত স্বামী

পিবিআই উপ-মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার ধানমন্ডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। ছবি: নিউজবাংলা

বাসের লকারে ট্রাঙ্কবন্দি মৃতদেহ

২০১৫ সালের ২ মে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার একটি বাসায় শম্পাকে ওড়না দিয়ে পেছিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর নিজের দায় এড়াতে পরিকল্পনা করেন স্বপন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শম্পার মরদেহ তারই একটি হলুদ ট্রাঙ্গে ঢুকিয়ে ৩ মে শহরের এ কে খান মোড়ে রিকশায় করে নিয়ে আসেন স্বপন। সেখানে ঈগল পরিবহনের কাউন্টারে গিয়ে ঢাকাগামী একটি টিকেট কেটে ট্রাঙ্কটি তুলে দেন বাসের লকারে।

স্বপন বাসের হেলপারকে বলেন, সামনের ভাটিয়ারী কাউন্টার থেকে এই টিকেটের মহিলা যাত্রী উঠবেন। তাকে যেন ভালোভাবে ঢাকা নামিয়ে দেয়। কিন্তু পরবর্তী কাউন্টারে যাত্রী না উঠায় বাসটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে এবং বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে গাবতলীতে পৌঁছায়। শেষ গন্তব্যে সকল যাত্রী যে যার মতো তাদের জিনিসপত্র নিয়ে নেমে যায়।

হেলপার দেখতে পান, একটি ট্রাঙ্ক বাসের লকারে মালিকবিহীন পড়ে আছে। তখন বাসের চালক ও হেলপার মিলে ট্রাঙ্কটি লকার থেকে বের করেন এবং বুঝতে পারেন এটি খুবই ভারী। তাদের সন্দেহ হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে দারুসসালাম থানায় খবর দিলে থানা পুলিশ হাজির হয়ে ট্রাঙ্কটি খুলে এবং মরদেহ দেখতে পান। অজ্ঞাত হিসেবে মৃতদেহটির সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় অজ্ঞাত পরিচয়ে দাফন করা হয়।

কেউ বাদী না হওয়ায় থানা পুলিশের পক্ষে উপপরিদর্শক (এসআই) জাহানুর আলী বাদী হয়ে আসামি অজ্ঞাত উল্লেখ করে দারুস সালাম থানায় মামলা করেন।

তদন্তে থানা ও সিআইডি ব্যর্থ হলেও সফল পিবিআই

মামলাটি হওয়ার পর থেকে শুরুতে প্রায় তিন মাস থানা পুলিশ তদন্ত করে। থানা পুলিশের পরে সিআইডি দীর্ঘ চার বছর তদন্ত করে। কিন্তু মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যা রহস্য উন্মোচিত না হওয়ায় আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি।

চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ না করে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেয়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই। ঢাকা মেট্রো (উত্তর) মামলার তদন্ত করে।

ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারের নির্দেশে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) উক্ত মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। ঢাকা মেট্রো (উত্তর) বিশেষ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলমের তত্বাবধানে পরিদর্শক আশরাফুজ্জামান মামলাটি তদন্ত করেন।

যেভাবে শনাক্ত হয় তরুণীর পরিচয়

পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার জানান, ভিকটিমকে শনাক্ত করার জন্য প্রচলিত সকল পদ্ধতি প্রয়োগ করে। চট্টগ্রাম মেট্রো এবং জেলা এলাকার সকল থানায় বিগত ২০১৫ সালে করা নিখোঁজ জিডিগুলো অনুসন্ধান করে তথ্য নিয়ে আসার জন্য পাঠানো হয় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এক সপ্তাহ নিরলস পরিশ্রম করে ঐ সময়ের কাছাকাছি প্রায় ১০-১২টি নিখোঁজ জিডির তথ্য উদঘাটন করেন। জিডিগুলোর মধ্যে ২০১৫ সালের ১০ জুন করা একটির সন্ধান পান তিনি। যাতে দেখা যায়, শম্পা বেগম নামে এক তরুণী চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের ঘটনায় শম্পা বেগমের ভগ্নিপতি আব্দুল মান্নান পাহাড়তলী থানায় জিডিটি করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা জিডিকারী আব্দুল মান্নান এবং শম্পার বাবা ইলিয়াস শেখের (অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য) সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, ২০১৩ সালে রেজাউল করিম স্বপন (অবসরপ্রাপ্ত নৌ বাহিনী সদস্য) খুলনা তিতুমীর নৌঘাঁটিতে কর্মরত থাকা অবস্থায় শম্পা বেগমের সঙ্গে পরিচয় হয়। এই পরিচয়ের সূত্রে প্রথমে প্রেম এবং পরে ভিকটিম তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে স্বপন বদলি হয়ে চট্টগ্রামে চলে যান।

ভিকটিম শম্পাও কিছুদিন পরে চট্টগ্রামে চলে যান। চট্টগ্রামে শম্পার এক ফুপুর বাসায় কিছুদিন থাকেন দুজন। এরপর ফয়েজ লেক এলাকায় একটি হোটেলে কিছুদিন অবস্থান করে এই যুগল। পরে পাহাড়তলীর উত্তর গ্রিনভিউ আবাসিক এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আনোয়ার হোসেনের টিনশেড বাড়ির একটি বাসায় সাবলেট নিয়ে তারা বসবাস শুরু করেন।

এভাবে তারা ২০১৪ থেকে ২০১৫ সালের মে পর্যন্ত একত্রে বসবাস করেন। তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করলেও বিয়ে করেননি।

পিবিআই প্রধান বনজ কুমার জানান, পরবর্তীতে তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য দেখা দিলে আসামি রেজাউল করিম স্বপন শম্পাকে ২০১৫ সালে ২ মে গভীর রাতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। মৃতদেহ গোপন করার উদ্দেশে একটি ট্রাঙ্কে ভরে ঢাকাগামী ঈগল পরিবহনের একটি বাসে তুলে দেন স্বপন এবং সুচতুরভাবে ভিকটিমের বাবাকে জানান, শম্পাকে খুলনার বাসে তুলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে ভিকটিম তার বাবার বাড়িতে না পৌঁছলে তারা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ভিকটিমের ভগ্নিপতি আব্দুল মান্নান পাহাড়তলী থানায় নিখোঁজ জিডিটি করেন।

এই জিডির সূত্র ধরেই নিহতের পরিচয় ও আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান পিবিআই প্রধান বনজ কুমার।

আসামি রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে নৌবাহিনী চট্টগ্রাম অফিসে শম্পার বাবা একটি লিখিত অভিযোগ করেন। তবে সে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলা হয় নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে। দ্বিতীয় দফায় নৌবাহিনীতে আবার অভিযোগ করেন শম্পার বাবা। তখন চাকরির বয়স ১৯ পার হওয়ায় ২০১৯ সালে স্বপনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় নৌবাহিনী। তবে মেয়ে নিখোঁজের সুরাহা পাননি শম্পার বাবা।

শম্পার বাবা ইলিয়াস শেখ বলেন, ‘ছয় বছর ধরে আমার মেয়ে নিখোঁজ ছিল। কোথায়, কী হয়েছে, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। আমার মেয়ে স্বপনকে বিয়ে করার কথা জানিয়েছিল। কয়েকদিন আগে পিবিআই জানিয়েছে, আমার মেয়ের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল গাবতলীতে। কালকে (শুক্রবার) শুনলাম স্বপনকে গ্রেপ্তার করেছে। আমার মেয়েকে হত্যার বিচার চাই।’

আরও পড়ুন:
সিলেটে বিএনপি: মাঠে নিষ্ক্রিয়, বিরোধে চাঙা
জিয়াকে নিয়ে মিথ্যাচার জনগণ বিশ্বাস করবে না: ফখরুল

শেয়ার করুন

গুলশান-বারিধারায় গাড়ি চালাতে লাগবে ট্যাক্স

গুলশান-বারিধারায় গাড়ি চালাতে লাগবে ট্যাক্স

অভিজাত এলাকায় গাড়ি চালাতে অতিরিক্ত ট্যাক্স দিতে হবে। ফাইল ছবি

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহার বাড়িয়ে যানজট এবং বায়ুদূষণ কমানো সম্ভব।

রাজধানীর গুলশান ও বারিধারার মতো অভিজাত এলাকায় গাড়ি চালাতে অতিরিক্ত ট্যাক্স দিতে হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

শনিবার সকালে রাজধানীর মালিবাগ-খিলগাঁও এলাকায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ওয়াকাথন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মেয়র।

ঢাকা উত্তর সিটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রোববার সিটি করপোরেশনের বোর্ড মিটিং হবে। সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ওই কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, 'যেহেতু এটি মেয়র মহোদয়ের একটি পরিকল্পনা, এটি দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। কাল সভার পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’

২০২১ সালের হিসাবে দেশে নিবন্ধিত মোটরযান আছে ৪৭ লাখ ২৯ হাজার ৩৯৩টি। এর মধ্যে রাজধানীতে রয়েছে ১৬ লাখের বেশি গাড়ি। ২০২০ সাল থেকে প্রায় ২ লাখের বেশি গাড়ি এক বছরে নিবন্ধিত হয়েছে।

মেয়র বলেন, এবার দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ‘গণপরিবহনে ও হেঁটে চলি, ব্যক্তিগত গাড়ি সীমিত করি’, যা সময়োপযোগী ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

গুলশান-বারিধারায় গাড়ি চালাতে লাগবে ট্যাক্স

শনিবার রাজধানীর মালিবাগ-খিলগাঁও এলাকায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ওয়াকাথন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহার বাড়িয়ে যানজট এবং বায়ুদূষণ কমানো সম্ভব বলে মনে করেন মেয়র।

তিনি বলেন, ‘নগরীতে বড় বড় ফুটপাত নির্মাণ করা হলেও বিভিন্ন কায়দায় সেগুলো দখল হয়ে যায়, আর ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে না পেরে জনগণকে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হয়, ফলে যানজট বৃদ্ধি পায়।’

সুস্থতার জন্য লোকজন যাতে নির্দিষ্ট জায়গায় সাইকেল চালাতে পারে এবং ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে পারে, সে জন্য সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে মনে করেন মেয়র।

মেয়র কিংবা কাউন্সিলর কার‌ও একার পক্ষে শহরকে রক্ষা করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দলমতনির্বিশেষে সবাইকে জনকল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। সবাই মিলে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতেই হবে।’

রুট পারমিট এবং ফিটনেসবিহীন কোনো গাড়ি রাস্তায় চলাচল করতে পারবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন মেয়র।

নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চাঁদামুক্তভাবে ফুটপাতে ব্যবসার পরিবেশ সৃষ্টির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাই মিলে দখল, দূষণ ও দুষ্ট লোকের কবল থেকে ঢাকাকে মুক্ত করে একটি সুস্থ, সচল ও আধুনিক ঢাকা গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক, ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সিলেটে বিএনপি: মাঠে নিষ্ক্রিয়, বিরোধে চাঙা
জিয়াকে নিয়ে মিথ্যাচার জনগণ বিশ্বাস করবে না: ফখরুল

শেয়ার করুন

হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্প ঘোষণার দাবি

হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্প ঘোষণার দাবি

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সভায় (বর্ধিত) নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি জানায়, সারাদেশে ৬০ হাজার রেস্তোরাঁয় ৩০ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারি রয়েছেন। প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ খাতের সঙ্গে জড়িত। প্রতিষ্ঠান আর জনবল বিবেচনায় পোশাক খাতের পরই হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতের অবস্থান।

দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে হোটেল-রেস্তোরাঁ খাত। গুরুত্বপূর্ন এ খাতকে শিল্প হিসেবে ঘোষণার দাবি করেছেন মালিকরা।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে শনিবার বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সভায় (বর্ধিত) নেতারা এ দাবি করেন।

রেস্তোরাঁ মালিকরা অভিযোগ করেন, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তদারকির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এ খাতের ব্যবসায়ী। জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন ও পরিবেশ অধিদপ্তর বিভিন্ন সময়ে নানা তথ্য-উপাত্ত চেয়ে থাকে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতায় ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হন। তাই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে না রেখে রেস্তোরাঁকে একটি নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অধীনে নেয়ার দাবি জানান তারা।

রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি জানায়, সারাদেশে ৬০ হাজার রেস্তোরাঁয় ৩০ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারি রয়েছেন। প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ খাতের সঙ্গে জড়িত। প্রতিষ্ঠান আর জনবল বিবেচনায় পোশাক খাতের পরই হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতের অবস্থান। সম্ভাবনাময় এ খাত সরকারি নীতি সহায়তা পেলে কর্মসংস্থান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখতে পারবে। হোটেল-রেস্তোরাঁর উন্নয়নে একদিকে যেমন খাদ্য শিল্পে বিপ্লব আসবে অন্যদিকে সরকারের রাজস্বও বাড়বে।

সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, ‘আমরা হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্পের মর্যাদায় চাই। শিল্প হতে যা যা লাগে, আমরা সেসব শুরু করেছি। অন্য কিছু লাগলে সেটাও করা হবে।’

সভায় সমিতির সভাপতি গাজী মো. ওসমান গনি, প্রথম যুগ্ম-মহাসচিব ফিরোজ আলম সুমন, যুগ্ম মহাসচিব ফয়সাল মাহবুব, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ আন্দালিবসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সিলেটে বিএনপি: মাঠে নিষ্ক্রিয়, বিরোধে চাঙা
জিয়াকে নিয়ে মিথ্যাচার জনগণ বিশ্বাস করবে না: ফখরুল

শেয়ার করুন

ব্যাটারিচালিত যান চলাচল নীতিমালার দাবিতে ফের সমাবেশের ঘোষণা

ব্যাটারিচালিত যান চলাচল নীতিমালার দাবিতে ফের সমাবেশের ঘোষণা

শনিবার প্রেসক্লাবের সামনে রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা।

চালক সংগ্রাম পরিষদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ না করা; আধুনিকায়ন করে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স দেয়া; প্রতিটি সড়কে রিকশা, ইজিবাইকসহ স্বল্প গতির যান চলাচলে আলাদা লেন ও সার্ভিস রোড তৈরি করা।

ব্যাটারিচালিত যান চলাচল নীতিমালার দাবিতে ফের সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ। একই সঙ্গে সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপিও দেবে সংগঠনটি।

চার দফা দাবিতে বুধবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

শনিবার প্রেসক্লাবের সামনে পরিষদ আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। এসময় আরও চারটি কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।

এগুলো হলো-

১. ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলাচল নীতিমালায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইককে অন্তর্ভূক্ত করা ও লাইসেন্স দেয়াসহ চার দফা দাবিতে আগামী ১-১৫ অক্টোবর সারা দেশে প্রচারপক্ষ পালন করা। ১১ অক্টোবর সারাদেশে ডিসি অফিসের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং প্রত্যেক জেলায় বিআরটিএকে স্মারকলিপি দেয়া।

২. ১৫-৩০ অক্টোবর চার দফা দাবিতে বিভাগীয় শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক চালক-গ্যারেজ মালিক মেকানিক শ্রমিক সমাবেশ করা।

৩. ১-২০ নভেম্বর বিভাগীয় শহরসহ জেলায় জেলায় স্থানীয় রাজনৈতিক, ট্রেড ইউনিয়ন, পরিবহন শ্রমিক নেতা, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, মেকানিক, চালক-মালিক-যাত্রী প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘ব্যাটারি চালিত যানবাহন উচ্ছেদ নয়, সাধারণ যাত্রী ও শ্রমিকদের স্বার্থে আধুনিকায়ন চাই’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠক করা।

৪. ২০-৩০ নভেম্বর প্রত্যেক জেলা ও অঞ্চলে চার দফা দাবিতে সমাবেশ, মানববন্ধন ও মিছিল করা।

চালক সংগ্রাম পরিষদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ না করা; আধুনিকায়ন করে রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইকসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স দেয়া; প্রতিটি সড়ক-মহাসড়কে রিকশা, ইজিবাইকসহ স্বল্প গতির এবং জনগণের জন্য সীমিত গতির যানবাহন চলাচলের স্বার্থে আলাদা লেন ও সার্ভিস রোড তৈরি করা।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা ভ্যান ও ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান লিপন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল্লাহেল কাফী রতন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন ও সহসভাপতি আব্দুর রাজ্জাকসহ অনেকে। এছাড়া সমাবেশে প্রায় ৩০০ রিকশা চালক উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সিলেটে বিএনপি: মাঠে নিষ্ক্রিয়, বিরোধে চাঙা
জিয়াকে নিয়ে মিথ্যাচার জনগণ বিশ্বাস করবে না: ফখরুল

শেয়ার করুন

বৃষ্টির পানি ধরে রাখলে হোল্ডিং কর রেয়াত সুবিধা

বৃষ্টির পানি ধরে রাখলে হোল্ডিং কর রেয়াত সুবিধা

প্রতীকী ছবি

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘কল্যাণপুর জলাধারের জন্য নির্ধারিত ১৭৩ একর জমির মধ্যে মাত্র ৩ একর জমিতে জলাধার রয়েছে, বাকি ১৭০ একর জমিই অবৈধ দখলদারদের দখলে রয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক। সবাই মিলে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। মাস্তানি করে খাল দখলের দিন শেষ, বিনা নোটিশে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে।’

বৃষ্টির পানি ধরে রাখলে ভবন মালিকদের বিশেষ হোল্ডিং কর রেয়াত দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটি আয়োজিত এক সেমিনারে শুক্রবার তিনি এ ঘোষণা দেন।

‘ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা: সমস্যা ও প্রতিকার’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

বক্তব্যে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব ভবনে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে, আমরা সেসব ভবন মালিকদের বিশেষ হোল্ডিং কর রেয়াত দেব।’

এ ছাড়া তিনি ডিএনসিসির রিটেনশন পন্ডে বায়ো ইকো পার্ক গড়ে তোলার কথা জানান।

আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘রিটেনশন পন্ডের নামে রাজনীতির দোহাই দিয়ে ওখানে বিল্ডিং করে ফেলেছেন। বিভিন্ন ধরনের ঘর উঠেছে। আমি জানাতে চাই, ডিএনসিসি এলাকার রিটেনশন পন্ডে বায়ো ইকো পার্ক গড়ে তোলা হবে।

‘আন্তর্জাতিক গ্রিন বন্ডের মাধ্যমে আমরা সরকারের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে দেড় হাজার কোটি টাকা আন্তর্জাতিক গ্রিন বন্ড দিচ্ছি। কারণ আমরা জলাধার উদ্ধার করব। এর মাধ্যমে ওখানে পার্ক, ইয়ুথ ক্যাম্প হবে, মানুষ ধরবে, কিন্তু এটার জন্য রাজনৈতিক শক্তি দরকার।’

ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ‘হাতিরঝিলের মতো একটি জলাধার দিয়ে কখনও নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়, এই সমস্যার সমাধানে সুপরিকল্পিত একাধিক জলাধার প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘কল্যাণপুর জলাধারের জন্য নির্ধারিত ১৭৩ একর জমির মধ্যে মাত্র ৩ একর জমিতে জলাধার রয়েছে, বাকি ১৭০ একর জমিই অবৈধ দখলদারদের দখলে রয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক। সবাই মিলে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। মাস্তানি করে খাল দখলের দিন শেষ, বিনা নোটিশে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে।’

আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘জনগণের সহায়তায় খাল উদ্ধার ও পরিষ্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। প্রতিটি খালের দুই পারের সীমানা নির্ধারণ করে তা যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য প্রফেসর ড. মো. হোসেন মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দলের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর সবুর।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মফিজুর রহমান।

আরও পড়ুন:
সিলেটে বিএনপি: মাঠে নিষ্ক্রিয়, বিরোধে চাঙা
জিয়াকে নিয়ে মিথ্যাচার জনগণ বিশ্বাস করবে না: ফখরুল

শেয়ার করুন

অফিস কক্ষে ভাইস চেয়ারম্যানের ঝুলন্ত মরদেহ

অফিস কক্ষে ভাইস চেয়ারম্যানের ঝুলন্ত মরদেহ

নিহতের ভাই নুরুল আফসার ভূঁইয়া বলেন, ‘বাড্ডায় লামিনাল গ্রুপ নামের একটি ফরেন ইনভেস্টর অফিস রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এক নারী, তার পার্টনার হিসেবে আমার বড় ভাই ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন।’

রাজধানীর বাড্ডার আফতাবনগর এলাকার একটি অফিস কক্ষ থেকে নুরনবী ভূঁইয়া নামের এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার সকালের দিকে তার পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

বাড্ডা থানার পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে বাড্ডার আফতাবনগর এলাকার নুরুল টাওয়ারের একটি একটি বাসার ৯ তলা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করি।

‘আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।’

তিনি জানান, তাকে হত্যা করা হয়েছে না কি এটি আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে বলা যাবে।

নিহতের ভাই নুরুল আফসার ভূঁইয়া বলেন, ‘বাড্ডায় লামিনাল গ্রুপ নামের একটি ফরেন ইনভেস্টর অফিস রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এক নারী, তার পার্টনার হিসেবে আমার বড় ভাই ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন।

‘সৌদির সঙ্গে কমিশনে ব্যবসা করতেন, আমাদের বাসা থেকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বের হন। ভাইকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান অফিসে যাচ্ছি। এর কিছুক্ষণ পরে খবর পাই অফিসের মধ্যে চাদর দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দেয়ার। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।’

৫৫ বছর বয়সী নূরনবী ভূঁইয়ার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী সোনাইমুড়ী থানার আবির পাড়ায়।

তিনি বাড্ডার আফতাবনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

আরও পড়ুন:
সিলেটে বিএনপি: মাঠে নিষ্ক্রিয়, বিরোধে চাঙা
জিয়াকে নিয়ে মিথ্যাচার জনগণ বিশ্বাস করবে না: ফখরুল

শেয়ার করুন

তিস্তার ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি

তিস্তার ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি

তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানসহ ৬ দফা দাবিতে মানববন্ধন করে ঢাকাস্থ কুড়িগ্রামবাসী। ছবি: নিউজবাংলা

তিস্তা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি ফরিদুল ইসলাম ফরিদ বলেন, ‘কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছেন প্রায় দুই হাজার পরিবার। এসব পরিবারের অধিকাংশই আশ্রয় নিয়েছে রাস্তা ও অন্যের জমিতে। দুই বছরে কুড়িগ্রাম জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার।'

উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে তিন মাস ধরে অব্যাহত তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমর নদীর ভাঙন। এতে বসতভিটা হারিয়েছে কয়েক হাজার পরিবার। এসব নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানসহ ৬ দফা দাবি জানিয়েছে ঢাকাস্থ কুড়িগ্রামবাসী।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শনিবার এক মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া তিস্তা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) নির্বাহী সদস্য ফরিদুল ইসলাম ফরিদ বলেন, ‘কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছেন প্রায় দুই হাজার পরিবার। এসব পরিবারের অধিকাংশই আশ্রয় নিয়েছে রাস্তা ও অন্যের জমিতে।

‘দুই বছরে কুড়িগ্রাম জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। শুধু রাজারহাটেই চলতি মৌসুমে প্রায় ১ হাজার ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এসব নদীর কোথাও কোথাও ভাঙন রোধে দায়সারা কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। নাব্যতা কমে যাওয়ায় তিস্তা নদী ক্রমাগত প্রস্থে বাড়ছে। ভাঙন বেড়ে এক সময়ের ২ কিলোমিটারের তিস্তা এখন ১০ থেকে ১২ কিলোমিটারে পরিণত হয়েছে।’

নেতৃবৃন্দ মানববন্ধনে স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, দ্রুত বাঁধ নির্মাণ, রাস্তায় ও অন্যের জমিতে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলোর জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন তারা।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) আমসা আমিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মেজর (অব.) আব্দুস সালাম, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক রেজানুর রহমান, পরিবেশবিদ ও নদী গবেষক শেখ রোকন, তিস্তা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি ও বাপার নির্বাহী সদস্য ফরিদুল ইসলাম ফরিদ, সাইদুল আবেদীন ডলার, অধ্যাপক ড. মো. ফরহাদ হোসেন ও মোকছেদুর রহমান মাকসুদ সহ ঢাকাস্থ কুড়িগ্রামবাসীর সদস্যরা।

আরও পড়ুন:
সিলেটে বিএনপি: মাঠে নিষ্ক্রিয়, বিরোধে চাঙা
জিয়াকে নিয়ে মিথ্যাচার জনগণ বিশ্বাস করবে না: ফখরুল

শেয়ার করুন