সিলেটে বিএনপি নেতার পদত্যাগের পেছনে অন্তর্কোন্দল

সিলেটে বিএনপি নেতার পদত্যাগের পেছনে অন্তর্কোন্দল

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শামসুজ্জামান জামান পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিলেট জেলা ও মহানগর কমিটিতে তার পছন্দের লোকজন ঠাঁই না পাওয়ায়। জেলায় বিএনপিতে নানান বলয়ের মধ্যে কোন্দল লেগে আছে।

সিলেটে বিএনপি আর বিবাদ যেন সমার্থক হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে দলটিতে গৃহদাহ। নেতাদের মধ্যে অন্তর্কোন্দল।

দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থেকে দলটি যখন রাজনীতির মাঠে কোণঠাসা, বেশিরভাগ নেতারাই নিষ্ক্রিয়, তখনও থেমে নেই গৃহবিবাদ। অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মারপ্যাচে ক্ষুব্ধ হয়ে পদত্যাগ করে বসেছেন সিলেটের কেন্দ্রীয় এক নেতা।

বুধবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-স্বেচ্ছাসেক বিষয়ক সম্পাদক শামসুজ্জামান জামান। সংবাদ সম্মেলনের আগেই দলীয় মহাসচিব বরাবর তিনি পদত্যাগপত্র পাঠান। পদত্যাগপত্র আর সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতাদের ক্ষোভ, হতাশা আর নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন জামান।

ছাত্রদলের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন শামসুজ্জামান জামান। ছাত্রনেতা হিসেবে অচিরেই তার পরিচিতি গড়ে ওঠে। পরে তিনি জেলা বিএনপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন।

জামান বিভিন্ন সময়ে সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সমপাদক এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সিলেটের বিএনপি রাজনীতিতে নিজস্ব একটি বলয় তৈরি করেছেন এই নেতা। যা ‘জামান গ্রুপ’ নামে পরিচিত। জামানের পদত্যাগে তার অনুসারী নেতাদের মধ্যেও হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই পদত্যাগের চিন্তা করছেন বলে জানা গেছে।

তবে সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার বলেন, জামানের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত। তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা। তার পদত্যাগে সিলেট বিএনপিতে কোনো প্রভাব পড়বে না।

কামরুল হুদা জায়গীরদার বলেন, ‘পদত্যাগের আগে জামান কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আলোচনা করতে পারেন। এভাবে পদত্যাগ করা তার উচিত হয়নি বলে আমি মনে করি।’

সিলেট বিএনপিতে বিরোধ দীর্ঘদিনের। এক সময় সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রায়ত এম. সাইফুর রহমান ও নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর মধ্যে বিরোধ ছিলে তুঙ্গে। তাদের একজনের প্রয়াণ ও আরেকজনের অন্তর্ধানেও থামেনি সে বিরোধ। তাদের অনুপস্থিতিতে বরং এখন বহুধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে দলটি। রাজনীতির মাঠে সক্রিয় না থাকলেও বিভিন্ন নেতার অনুসারীরা মিলে গড়ে তুলেছেন অনেকগুলো গ্রুপ-উপ গ্রুপ।

তবে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের অনুসারী ও তার বিরোধী – এই দুই বলয়ের মধ্যেই এখন বিরোধ সবচেয়ে তুঙ্গে। সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও মুক্তাদির বিরোধী বলয়ের হিসেবে পরিচিত।

সম্প্রতি বিএনপির কয়েকটি অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের সিলেট জেলা ও মহানগর কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটি নিয়ে বিএনপির বিরোধ আবার প্রকাশ্য রূপ নেয়। গত বছর ঘোষিত হয় সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি। এই কমিটিগুলোতে নিজেদের পছন্দের লোক ঠাঁই না পাওয়ায় পদত্যাগের ঘো্ষণা দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হকসহ সিলেটের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা। পরে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে তারা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

এবার বিরোধ দেখা দেয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিলেট জেলা ও মহানগর কমিটি নিয়ে। গত মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল এ দুই কমিটির অনুমোদন দেন।

কমিটিতে জেলার শাখায় আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল আহাদ খান জামাল ও সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক ছাত্র নেতা দেওয়ান জাকির হোসেন খান। এদিকে মহানগরের আহবায়ক হিসেবে আব্দুল ওয়াহিদ সুহেল ও সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আজিজুল হোসেন আজিজ।

এই কমিটি নিয়ে আবারও বিরোধ বাধে সিলেট বিএনপিতে। সেই বিরোধের প্রতিক্রিয়ায় পদত্যাগ করে বসেন শামসুজ্জামান জামান। নিজের পদত্যাগপত্রে সমালোচনা করেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও দলের বর্তমান কর্মকাণ্ডের।

বুধবার রাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরাবর লিখিত এক চিঠিতে এ পদত্যাগ করেন তিনি। পরে সংবাদ সম্মেলন করেও এ তথ্য জানান জামান।

সিলেটের ছাত্ররাজনীতির এক সময়ের দাপুটে এই নেতা নিজের পদত্যাগপত্রে লেখেন: ‘১৯৮৫ সাল থেকে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে বিএনপিতে যুক্ত হই। বিএনপির দুর্দিনে এই দলকে প্রতিষ্ঠা করতে জীবনের সোনালি সময় সাধ্যমতো সময় ও অর্থ ব্যয় করেছি। সীমাহীন প্রতিকূলতার মাঝে দলকে প্রতিষ্টা করতে কাজ করেছি। আমি কখনই হালুয়া-রুটির ভাগিদার হইনি, কিংবা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করিনি।’

দলের মহাসচিবকে দেয়া চিঠিতে তিনি আরো লেখেন: ‘অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হলো মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) সিলেট জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষিত হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সেচ্ছাসেবক সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও আমার জেলা ও মহানগর কমিটি ঘোষিত হলো আমার মতামত ও পরামর্শ উপেক্ষা করে। সর্বোপরি যেসব সহযোদ্ধা আন্দোলন করতে যেয়ে জীবন বাজি রেখেছিল, গুলিবিদ্ধ হয়েছিল, এমনকি সমাজ, সংসার থেকে বিতাড়িত হয়েছিল, তাদেরকে চরমভাবে উপেক্ষা করে উপহাসের পাত্রে পরিণত হলো।’

পদত্যাগপত্রে জামান দলের মহাসচবিকে উদ্দেশ্ করে লেখেন: ‘আজকে অত্যন্ত ব্যথিত চিত্তে জানতে ইচ্ছে করে, আপনার দলে নেতৃত্ব পেতে হলে যোগ্যতার মাপকাঠিটা কী? যারা দেশ ও দলকে ভালবাসে, জীবন বাজি রাখে, দুর্দিনে যারা বিশ্বস্ত থাকে, বন্ধুকের বেয়োনেটের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ায়, তাদের পাওয়া উচিত, নাকি লবিং-তদবির অথবা বিশেষ ব্যবস্থায় সবকিছু হাসিল করে তাদের পাওয়া উচিত?

‘যে দলটাকে ভালোবেসে তিল তিল করে বিনির্মাণ করেছিলাম, আজকে সেই দলে আমরাই অনাহুত। আপনারা প্রায়শই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলেন, রাষ্ট্রের কাছে ন্যায় ইনসাফের দাবি তোলেন, কিন্তু নিজের অন্তরাত্মাকে একবার জিজ্ঞেস করে দেখবেন কি, আপনারা আপনাদের নিজেদের কর্মীদের ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন কিনা?’

তিনি আরও লেখেন, ‘বিগত ৩৬টি বছর আপনার দলকে নিরলস সেবা দিয়ে গেছি। হযরত শাহজালাল (রহ.) এর পূণ্যভূমির মানুষ জানে, আমরা কতটা দুঃখের সাগর পাড়ি দিয়েছি। আজকে আমার সহযোদ্ধাদের প্রতি যে অন্যায় আচরণ আপনারা প্রদর্শন করলেন, অবশ্যই প্রকৃতি এর প্রতিবিধান করবে বলে আমার বিঃশ্বাস।

‘আমার জীবনের ৩৬টি বছর আপনাদেরকে সদকা হিসেবে দান করে দিলাম।

মহাসচিবকে পদত্যাগপত্র পাঠানোর পর বুধবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে জামান জানান, তার মতামত ও পরামর্শ উপেক্ষা করে সদ্য ঘোষিত সিলেট জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি অনুমোদন দেওয়ায় তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সদ্য ঘোষিত জেলা স্বেচ্ছাসসেবক দলের আহ্বায়ক হয়েছেন আব্দুল আহাদ খান জামাল। কমিটিতে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয়নি শামসুজ্জামান জামানের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দল যাদের মনে করেছে ত্যাগী, যোগ্য ও পরীক্ষিত, তা্দের নিয়ে কমিটি করেছে। তবে বিএনপি যেহেতু অনেক বড় দল, এর যোগ্য নেতাও অনেক। তাই সবাইকে একসাথে সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটির সময় আমরা সবাইকে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করব।’

আরও পড়ুন:
জিয়াকে নিয়ে মিথ্যাচার জনগণ বিশ্বাস করবে না: ফখরুল
এটা বঙ্গবন্ধুর দেশ, বিএনপিকে নানক
বিএনপির ২৬ নেতা-কর্মী রিমান্ডে, ১৯ জন কারাগারে
চন্দ্রিমার সংঘর্ষে ৩ মামলায় গ্রেপ্তার ৪৭
ক্ষমতা হারানোর ভয়েই বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা: রিজভী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জলবায়ু পরিবর্তন: ক্ষতিপূরণ দাবিতে সড়ক অবরোধ

জলবায়ু পরিবর্তন: ক্ষতিপূরণ দাবিতে সড়ক অবরোধ

জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রের ক্ষতিপূরণ দাবিতে শুক্রবার দুপুরে বরিশাল নগরীতে সড়ক অবরোধ করে এলায়েন্স ফর ইয়ুথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট। ছবি: নিউজবাংলা

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বে প্রতিনিয়ত অক্সিজেন কমছে। গাছ কেটে উজাড় হচ্ছে বন, বিলুপ্ত হচ্ছে বন্য প্রাণী। এতে হুমকির মুখে পড়ছে বিশ্ব। পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক রাখতে উন্নত রাষ্ট্রগুলোকে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ শূন্যের কোটায় আনতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন, শোভাযাত্রা ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন সপ্তাহ উপলক্ষে এলায়েন্স ফর ইয়ুথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট শুক্রবার দুপুরে নগরীর বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়কে এসব কর্মসূচির আয়োজন করে।

বিভাগীয় প্রশাসন এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম বাদল, ফ্রেন্ডস ফর ফিউচার এর বাংলাদেশ কো-অরডিনেটর ফারিয়া হোসেন অমি, সিভিল সোসাইটির মো. আনোয়ার, ইউনিসেফের বরিশাল প্রধান তৌফিক আহমেদ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ চৌধুরীসহ অনেকে।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বে প্রতিনিয়ত অক্সিজেন কমছে। গাছ কেটে উজাড় হচ্ছে বন, বিলুপ্ত হচ্ছে বন্য প্রাণী। এতে হুমকির মুখে পড়ছে বিশ্ব। বাড়ছে সাইক্লোন, বজ্রপাত, ভূমিকম্পসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বাড়েছে নদী ভাঙন।
পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক রাখতে উন্নত রাষ্ট্রগুলোকে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ শূন্যের কোটায় আনতে হবে।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানান তিনি।

মানববন্ধন শেষে ৩৫টি যুব সংগঠনের কর্মীরা শোভাযাত্রা করে নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে পাঁচ মিনিট সড়ক অবরোধ করেন।

আরও পড়ুন:
জিয়াকে নিয়ে মিথ্যাচার জনগণ বিশ্বাস করবে না: ফখরুল
এটা বঙ্গবন্ধুর দেশ, বিএনপিকে নানক
বিএনপির ২৬ নেতা-কর্মী রিমান্ডে, ১৯ জন কারাগারে
চন্দ্রিমার সংঘর্ষে ৩ মামলায় গ্রেপ্তার ৪৭
ক্ষমতা হারানোর ভয়েই বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা: রিজভী

শেয়ার করুন

এবার ৩ শিক্ষকের করোনায় বন্ধ স্কুল

এবার ৩ শিক্ষকের করোনায় বন্ধ স্কুল

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার চিড়াভিজা গোলনা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধান শিক্ষক আল হাসান জায়েদ নওরোজি জানান, করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ায় বুধবার সহকারী শিক্ষক সুশান্ত কুমার ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দেন। পরীক্ষায় তার করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরদিন অন্য দুই শিক্ষক নমুনা দিলে তাদেরও করোনা শনাক্ত হয়।

বেশ কয়েকটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় ক্লাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এবার একটি স্কুলে তিন শিক্ষকের ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার খবর মিলেছে। সেই স্কুলেও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ক্লাস।

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার চিড়াভিজা গোলনা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন বলে শুক্রবার নিশ্চিত করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার ভৌমিক। সব শিক্ষক-কর্মচারীদের করোনা পরীক্ষার জন্য দুই দিন বিদ্যালয়টি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

দেশে করোনা সংক্রমণ কিছুটা কমে আসায় দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। এরপর বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

সবশেষ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ শিশু শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হয়েছে। বুধবার করোনা আক্রান্তের বিষয়টি জানার পর বিদ্যালয়টির দুই শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

এ ছাড়া গোপালগঞ্জে ২১ সেপ্টেম্বর পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হওয়ার পর ওই শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর একই জেলায় তৃতীয় শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হয়। আর মানিকগঞ্জে করোনা উপসর্গে বুধবার মৃত্যু হয়েছে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের করোনা সংক্রমিত হওয়া নিয়ে সরকার অবশ্য বলছে, তারা যে স্কুল থেকেই সংক্রমিত হচ্ছে এমন কোনো প্রমাণ নেই।

শুক্রবার চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘স্কুলে এসেই যে শিক্ষার্থীরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, তার সত্যতা বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সুনির্দিষ্ট কিছু জায়গায় দেখেছি, শিক্ষার্থীরা করোনা আক্রান্ত হয়েছে। আমরা সেখানে ব্যবস্থা নিয়েছি।’

নীলফামারীতে আক্রান্ত তিন শিক্ষক হলেন সুশান্ত কুমার রায়, রমিজুল ইসলাম ও আব্দুল জলিল। তারা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। তিন শিক্ষকই করোনা প্রতিরোধী টিকার দুই ডোজ নিয়েছিলেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আল হাসান জায়েদ নওরোজি জানান, করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ায় বুধবার সহকারী শিক্ষক সুশান্ত কুমার ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দেন। পরীক্ষায় তার করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরদিন অন্য দুই শিক্ষক নমুনা দিলে তাদেরও করোনা শনাক্ত হয়।

এই পরিস্থিতিতে শনিবার ও রোববার বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার ভৌমিক বলেন, ‘যেহেতু তিন শিক্ষক আক্রান্ত হয়েছেন, সে কারণে অন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের নমুনা পরীক্ষার জন্য দুদিন বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সোমবার থেকে ক্লাশ শুরু হবে। করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
জিয়াকে নিয়ে মিথ্যাচার জনগণ বিশ্বাস করবে না: ফখরুল
এটা বঙ্গবন্ধুর দেশ, বিএনপিকে নানক
বিএনপির ২৬ নেতা-কর্মী রিমান্ডে, ১৯ জন কারাগারে
চন্দ্রিমার সংঘর্ষে ৩ মামলায় গ্রেপ্তার ৪৭
ক্ষমতা হারানোর ভয়েই বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা: রিজভী

শেয়ার করুন

বিয়ের আসরে শোকের হানা

বিয়ের আসরে শোকের হানা

নোয়াখালী সদরে গাছে ধাক্কায় বরযাত্রীবাহি মাইক্রোবাসের ১৫ জন আহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

বর মো. রাব্বি বলেন, ‘হানিফ চেয়ারম্যান বাজার পার হলে মাইক্রোবাসের চালক গাড়িটি এলোমেলোভাবে চালাচ্ছিল। তাকে দুইবার সতর্ক করার পরও সে শুনে নাই। এক পর্যায়ে একটি সিএনজি অটোরিকশাকে সাইড দিতে গিয়ে আমাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। আমার বোন ওখানেই মারা যায়।’

বিয়ের আনন্দে হঠাৎ শোকের ছায়া। পণ্ড হয়ে গেল আয়োজন।

বিয়ের আসরে যাওয়ার পথে বরবাহী মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা লাগলে নিহত হন বরের বোন। নিজেও আহত হন বর।

এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জন।

নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়ন সমিতি মসজিদ এলাকায় মান্নাননগর-আলেকজান্ডার সড়কে শুক্রবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় আহত চারজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও চট্রগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে । অন্যদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহেদ উদ্দিন।

নিহত গৃহবধূর নাম সুমি আক্তার। তিনি সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের দুলাল মিয়ার মেয়ে ও বর মো. রাব্বির বোন।

আহতদের সবার বাড়ি সদর উপজেলার পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামে।

ওসি সাহেদ জানান, আহতদের মধ্যে এওজবালিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মুন্নি বেগম ও মমতাজ উদ্দিনের ছেলে মো. দুলালকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেক হাসপাতালে এবং মো. রাসেলের স্ত্রী পপি আক্তার ও মো. খোকনের নয় বছরের শিশু সিফাতকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত অন্যরা হলেন বর মো. রাব্বি, সোনাদিয়া জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন শিহাব উদ্দিন, মাইন উদ্দিনের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও তাদের ১২ বছরের মেয়ে বৃষ্টি আক্তার, পাঁচ বছরের মেয়ে সামিয়া আক্তার, তিন বছরে মেয়ে শ্রাবন্তী আক্তার এবং দুই বছরের ছেলে মো. শাওন, খোকনের মেয়ে রোজিনা আক্তার ও ছেলে তিন বছরের কাউছার আহম্মেদ, মোমিন উল্যার ছেলে ১৩ বছরের আবদুর রহমান ও ১২ বছরের বিজয়।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল হোসেন বলেন, ‘শুক্রবার মো. রাব্বির সঙ্গে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার গুচ্ছগ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছিল। দুপুরে একটি ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাসে বরসহ ২০ বরযাত্রী কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। মাইক্রোবাসটি এওজবালিয়া ইউনিয়নের সমিতি মসজিদ এলাকায় পৌঁছলে সড়কের পাশের একটি গাছের সঙ্গে এর ধাক্কা লাগে। এ সময় বরের বোন সুমি আক্তার ঘটনাস্থলেই মারা যান।’

বর মো. রাব্বি বলেন, ‘হানিফ চেয়ারম্যান বাজার পার হলে মাইক্রোবাসের চালক গাড়িটি এলোমেলোভাবে চালাচ্ছিল। তাকে দুইবার সতর্ক করার পরও সে শুনে নাই। এক পর্যায়ে একটি সিএনজি অটোরিকশাকে সাইড দিতে গিয়ে আমাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। আমার বোন ওখানেই মারা যায়।’

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বলেন, ‘দুর্ঘটনায় নিহত নারীর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে।’

সুধারাম থানার ওসি সাহেদ উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। পরেবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা নেয়ে হবে।

এ ঘটনায় বিয়ের আয়োজন স্থগিত করা হয়েছ বলে জানিয়েছেন মো. রাব্বি।

আরও পড়ুন:
জিয়াকে নিয়ে মিথ্যাচার জনগণ বিশ্বাস করবে না: ফখরুল
এটা বঙ্গবন্ধুর দেশ, বিএনপিকে নানক
বিএনপির ২৬ নেতা-কর্মী রিমান্ডে, ১৯ জন কারাগারে
চন্দ্রিমার সংঘর্ষে ৩ মামলায় গ্রেপ্তার ৪৭
ক্ষমতা হারানোর ভয়েই বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা: রিজভী

শেয়ার করুন

ইয়াবা ফেলে মিয়ানমারে পালিয়েছে চোরাকারবারিরা

ইয়াবা ফেলে মিয়ানমারে পালিয়েছে চোরাকারবারিরা

উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ বিজিবি সদস্যরা

কয়েকজন ইয়াবা কারবারি হেঁটে সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখলে টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে।

কক্সবাজারে ১ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক আলী হায়দার আজাদ আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের ঘুমধুম বিওপির সদস্যরা জানতে পারেন, কিছু ইয়াবা কারবারি বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করব‌ে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটায় ঘুমধুম বিওপির একটি টহল দল কক্সবাজার উখিয়া ৪ নং রাজাপালং ইউপির উখিয়া হিন্দুপাড়া এলাকায় অবস্থান নেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকজন ইয়াবা কারবারি হেঁটে সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখলে টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। পরে তারা ব্যাগ ফেলে দৌড়ে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়। টহল দল ঘটনাস্থল থেকে লুঙ্গি দিয়ে মোড়ানো ব্যাগ তল্লাশি করে আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করে।’

এ ব্যাপারে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় গত ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৭ লাখ ৮১ হাজার ৭২ পিস ইয়াবাসহ ১৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) টহল দল।

আরও পড়ুন:
জিয়াকে নিয়ে মিথ্যাচার জনগণ বিশ্বাস করবে না: ফখরুল
এটা বঙ্গবন্ধুর দেশ, বিএনপিকে নানক
বিএনপির ২৬ নেতা-কর্মী রিমান্ডে, ১৯ জন কারাগারে
চন্দ্রিমার সংঘর্ষে ৩ মামলায় গ্রেপ্তার ৪৭
ক্ষমতা হারানোর ভয়েই বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা: রিজভী

শেয়ার করুন

স্ত্রীর ওপর অভিমানে যুবলীগ নেতার ‘আত্মহত্যা’

স্ত্রীর ওপর অভিমানে যুবলীগ নেতার ‘আত্মহত্যা’

স্ত্রীর সঙ্গে যুবলীগ নেতা যুবলীগ নেতা এমরান হোসেন মুন্না।

মামলায় বলা হয়, কুমিল্লা কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটে (বর্তমানে সরকারি সিটি কলেজ) পড়ার সময় প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যান দুজন। ৮ বছর প্রেমের পর ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি তারা বিয়ে করেন। মেয়েটি পরে ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। আর মুন্না কুমিল্লায়ই ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন। দিন দিন তাদের মধ্যে সম্পর্কে ফাটল ধরে।

‘আর পাঁচটা মানুষের মতো আমার জীবন না। মনে রাখিস, তোর বেইমানির জন্য আত্মহত্যা করলাম..।’

কুমিল্লায় এমন একটি স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মহানগর যুবলীগ নেতা এমরান হোসেন মুন্না।

২৯ বছর বয়সী এই তরুণ কুমিল্লা সদরের বারপাড়ার মতিউর রহমানের ছেলে।

প্রেমের সুবাদে পরিবারের অমতেই বিয়ে করেছিলেন এমরান। কিন্তু এক বছর পার না হতেই তাদের সম্পর্কে দেখা দেয় জটিলতা।

মুন্নার স্ত্রী ঢাকায় পড়াশোনা করেন। সেখানে তিনি আরেকটি সম্পর্কে জড়িয়ে যান বলে ধারণা করতে থাকেন মুন্না। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। আর একপর্যায়ে মুন্না আত্মহত্যা করেছেন, দাবি স্বজনদের।

বুধবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা নগরীর বারপাড়া এলাকায় আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটে। বৃহস্পতিবার রাতে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন মুন্নার বাবা মতিউর রহমান।

মামলায় বলা হয়, কুমিল্লা কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটে (বর্তমানে সরকারি সিটি কলেজ) পড়ার সময় প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যান দুজন। ৮ বছর প্রেমের পর ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি তারা বিয়ে করেন।

মেয়েটি পরে ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। আর মুন্না কুমিল্লায়ই ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন। দিন দিন তাদের মধ্যে সম্পর্কে ফাটল ধরে।

স্বজনদের অভিযোগ, মেয়েটি মুন্নাকে বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন করতেন। চাহিদামতো টাকা দিতে না পারার অজুহাতে মরে যেতেও বলতেন। এতে মানসিকভাবে মুন্না ভেঙে পড়েন।

গত বুধবার মুন্না আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিয়ে স্ত্রীকে ছবি ও মেসেজ পাঠান। কিন্তু তাতেও কর্ণপাত করেননি স্ত্রী। অভিমান করে নিজের শোবার ঘরেই সিলিং ফ্যানে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন মুন্না। পরে পরিবারের লোকজন দরজা ভেঙে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আন্ওয়ারুল আজিম বলেন, ‘পরিবার আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। এটা প্রমাণসাপেক্ষ বিষয়। তাই কেন তিনি আত্মহত্যা করেছেন, তা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা যাবে না।’

আরও পড়ুন:
জিয়াকে নিয়ে মিথ্যাচার জনগণ বিশ্বাস করবে না: ফখরুল
এটা বঙ্গবন্ধুর দেশ, বিএনপিকে নানক
বিএনপির ২৬ নেতা-কর্মী রিমান্ডে, ১৯ জন কারাগারে
চন্দ্রিমার সংঘর্ষে ৩ মামলায় গ্রেপ্তার ৪৭
ক্ষমতা হারানোর ভয়েই বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা: রিজভী

শেয়ার করুন

নিখোঁজের চার মাস পর ঢাকা থেকে উদ্ধার স্কুলছাত্রী

নিখোঁজের চার মাস পর ঢাকা থেকে উদ্ধার স্কুলছাত্রী

নিখোঁজ স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারের পর শুক্রবার লক্ষ্মীপুর আদালতে নেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

গত ২৩ মে সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে ওই কিশোরী নিখোঁজ হয়। পরে তার মা অপহরণের অভিযোগে স্থানীয় জিসানসহ তিন যুবকের নামে মামলা করেন।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থেকে নিখোঁজের চার মাস পর দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে রাজধানী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

রাজধানীর মহাখালীর একটি বাসা থেকে বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধারের পর শুক্রবার বিকেলে তাকে লক্ষ্মীপুর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম রায়হান চৌধুরীর আদালতে নেয়া হয়। সেখানে তার জবানবন্দি নেন বিচারক।

গত ২৩ মে সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে ওই কিশোরী নিখোঁজ হয়। পরে তার মা অপহরণের অভিযোগে স্থানীয় জিসানসহ তিন যুবকের নামে মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক ফরিদ উদ্দিন জানান, ওই কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার দিন বিকেলে তার মা রামগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে লক্ষ্মীপুর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে জিসান আলমসহ তিনজনকে আসামি করে অপহরণ মামলা করেন।

তিনি আরও জানান, আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পরে গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ওই ছাত্রীকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। সবশেষ বৃহস্পতিবার রাতে মহাখালীর একটি বাসায় তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়। তবে এ সময় কাউকে আটক করা যায়নি।

অপহরণ না প্রেম করে পালিয়ে গেছে সে বিষয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

মামলায় কিশোরীর মা অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করত জিসানসহ কয়েক যুবক। এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ জিসানের পরিবারকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্কুলে যাওয়ার পথে জিসানসহ কয়েক বখাটে তাকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে মনিকা আক্তার এখনও অবুঝ। তার বয়স ১৫ বছর। স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে প্রায় উত্ত্যক্ত করত জিসানসহ কয়েক বখাটে। ঘটনার দিন স্কুলে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় তাকে অপহরণ করা হয়।

‘এরপর বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে জিসান আমার মেয়ের প্রাণনাশ এবং অ্যাসিড দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার ভয়ভীতি ও হুমকিধমকি দেয়। মেয়ে উদ্ধার হওয়ায় খুশি। তবে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।’

আরও পড়ুন:
জিয়াকে নিয়ে মিথ্যাচার জনগণ বিশ্বাস করবে না: ফখরুল
এটা বঙ্গবন্ধুর দেশ, বিএনপিকে নানক
বিএনপির ২৬ নেতা-কর্মী রিমান্ডে, ১৯ জন কারাগারে
চন্দ্রিমার সংঘর্ষে ৩ মামলায় গ্রেপ্তার ৪৭
ক্ষমতা হারানোর ভয়েই বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা: রিজভী

শেয়ার করুন

ট্যাংকার বিস্ফোরণ: নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ ‍উদ্ধার

ট্যাংকার বিস্ফোরণ: নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ ‍উদ্ধার

প্রতীকী ছবি

বুধবার বিকেল ৫টার দিকে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে ‘ও সি ওশান’ জাহাজের ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আত্মরক্ষার্থে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হন শ্রমিক সাদ্দাম। শুক্রবার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে একটি তেলের জাহাজে (ট্যাংকার) বিস্ফোরণে নিখোঁজ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

কর্ণফুলী নদীর ব্রিজঘাট এলাকা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে সদরঘাট নৌপুলিশ।

মৃত শ্রমিকের নাম নজরুল ইসলাম সাদ্দাম। তার বাড়ি পটিয়ার চরলক্ষ্যা এলাকায়।

ঘটনার দিন তিনি জাহাজে মেরামতের কাজ করছিলেন।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সদরঘাট নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘ব্রিজঘাট এলাকায় নদীতে মরদেহটি ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়।’

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার বিকেল ৫টার দিকে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে চরপাথরঘাটার ২ নম্বর ওয়ার্ডে ‘ও সি ওশান’ জাহাজের ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জাহাজের লস্কর মো. জিসান চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালে বুধবার রাত ৮টার দিকে মারা যান।

ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় আত্মরক্ষার্থে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হন নজরুল।

সদরঘাট নৌ-থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুধবার বিকেলে মূল ট্যাংক থেকে গ্যাস সংযোগ নিয়ে জাহাজের কোনো একটি অংশে মেরামতের কাজ করছিলেন সাদ্দাম। এ সময় গ্যাস ট্যাংকটি বিস্ফোরিত হলে তিনি নদীতে লাফ দেন। পরে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। আজ (শুক্রবার) তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’

এসআই আবুল কালাম বলেন, ‘ঘটনার পরপরই জাহাজটি ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয় মালিকপক্ষ। তাই খবর পেতে একটু দেরি হয়েছে। তবে রাতে বিষয়টি জানার পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছুই পাইনি। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
জিয়াকে নিয়ে মিথ্যাচার জনগণ বিশ্বাস করবে না: ফখরুল
এটা বঙ্গবন্ধুর দেশ, বিএনপিকে নানক
বিএনপির ২৬ নেতা-কর্মী রিমান্ডে, ১৯ জন কারাগারে
চন্দ্রিমার সংঘর্ষে ৩ মামলায় গ্রেপ্তার ৪৭
ক্ষমতা হারানোর ভয়েই বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা: রিজভী

শেয়ার করুন