জিয়ার সমাধিতে ফুল দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার ২৫: ফখরুল

জিয়ার সমাধিতে ফুল দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার ২৫: ফখরুল

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে নেতা-কর্মীদের ফুলেল শ্রদ্ধা। ছবি: নিউজবাংলা

‘সকালে ৮টা বা তারও আগে যদি কেউ এখানে এসে দাবি করে সে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এসেছে, সেটা যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন আছে। কারণ প্রোগ্রাম তো ১১টার পর। সকালে তারা কী করছেন? তাই তাদের কয়েকজনকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়েছি। এটাকে আটক বা গ্রেপ্তার বলা যাবে না।’

স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়ার সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ২৫ জন নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ৩০ জন নেতা-কর্মী নিয়ে জিয়ার সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়ে জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দলের কর্মসূচিকে ঘিরে এলাকাজুড়ে পুলিশের অবস্থান, মোড়ে মোড়ে তল্লাশির কারণে কর্মীরা ভিড়তে পারেনি। তারা বলেছেন, আমরা ৫০ জন ঢুকতে পারব। শেষে ৫০ জনও ঢুকতে দেয়নি।’

ফখরুল বলেন, ‘আজকেও এখানে আসার সময় আমি শুনেছি ২৫ জনের মতো নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অসংখ্য নেতা-কর্মীকে বাধা দেয়া হয়েছে।’

‘গত পরশু এবং আজকের গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দেয়ার জন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’

মহাসচিব বলেন, ‘একটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাসেবক দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু এত বছর পরে এসেও তারা মুক্ত পরিবেশে কাজ করতে পারছে না।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। সাংবাদিকরা নির্ভয়ে লিখতে পারবে, একটি গণতান্ত্রিক দেশ প্রতিষ্ঠিত হবে, গণতান্ত্রিক চিন্তাধারায় দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, মানুষ নির্ভয়ে কথা বলতে পারবে। কিন্তু সেই পরিস্থিতি এখন আর নেই। বাংলাদেশ এখন একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের যাঁতাকলে পড়েছে।’

চন্দ্রিমা উদ্যানে প্রবেশ করার মুহূর্তে বিএনপির ২৫ নেতা-কর্মীকে আটকের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মহানগর পুলিশের তেজগাঁও জোনের উপপুলিশ কমিশনার রুবাইয়াত জামান বলেন, ‘সকালে ৮টা বা তারও আগে যদি কেউ এখানে এসে দাবি করে সে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এসেছে, সেটা যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন আছে। কারণ প্রোগ্রাম তো ১১টার পর। সকালে তারা কী করছেন? তাই তাদের কয়েকজনকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়েছি। এটাকে আটক বা গ্রেপ্তার বলা যাবে না।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভুইয়া জুয়েল প্রমুখ।

গত পরশু দিন চন্দ্রিমা উদ্যানে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষের কথা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, এই সরকার এত ভীতসন্ত্রস্ত যে তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। তারা এখন জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। যার কারণে তারা সব কিছুতে বাধা দিচ্ছে, শুধু বাধা নয়, দমনমূলক আচরণও করছে।

তারা বলেন, 'করোনা আমলে অনুমতি দেন না। করোনা আমলে আপনারা পরিবহন খুলে দিয়েছেন, হাটবাজার দোকানপাট খুলে দিয়েছেন, শপিং মল খুলে দিয়েছেন। কিন্তু কোনও রাজনৈতিক দলকে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দিচ্ছেন না। উদ্দেশ্য একটাই- করোনাকাল বলেন আর লকডাউন বলেন, এভাবে নির্যাতন করে, নিপীড়ন করে তাদেরকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চায়।’

‘মূল উদ্দেশ্য একটাই, তারা একটি একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায় সম্পূর্ণ ফ্যাসিস্ট কায়দায়। বাকশাল যেভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, সেভাবে।’

তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল যেন আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেন সরকার পতনের আন্দোলন করতে না পারে, তার জন্যই এই দমনমূলক আচরণ করেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

খালেদা জিয়া সুস্থ

বুধবার টিকা নেয়ার পর এখনও পর্যন্ত খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন বলে জানান তিনি।

টিকা নিয়ে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে ফখরুল এড়িয়ে যান।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট

প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট

ভোট শেষে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরভাটা আর জি উচ্চ বিদ্যালয়ে চলছে গণনা। ছবি: নিউজবাংলা

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটের আগেই ৪৪টি ইউপির চেয়ারম্যান পদে ও তিনটি পৌরসভার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় একক প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। সেখানে ভোট হয়েছে অন্য পদগুলোতে। সব পৌরসভায় ভোট হয়েছে ইভিএমে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মধ্যে ১১টিতে ইভিএমে ভোট হয়।

বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, দুজনের প্রাণহানি ও কিছু প্রার্থীর ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ১৬০টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ৯টি পৌরসভার নির্বাচন। ভোট শেষে চলছে গণনা।

কেন্দ্রগুলোতে সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। এর মধ্যে সহিংসতার জেরে কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়।

সহিংসতায় কক্সবাজারে প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন। বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, ভোটের আগেই ৪৪টি ইউপির চেয়ারম্যান পদে ও ৩টি পৌরসভার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় একক প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। সেখানে ভোট হয়েছে অন্য পদগুলোতে।

সব পৌরসভায় ভোট হয়েছে ইভিএমে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মধ্যে ১১টিতে ইভিএমে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা।

প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট

কক্সবাজার

জেলার মহেশখালী ও চকরিয়া পৌরসভা এবং মহেশখালী, টেকনাফ ও কুতুবদিয়ার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়েছে।

এর মধ্যে মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার দুই কেন্দ্রে সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছে। দুই কেন্দ্রেই সংঘর্ষের পর বন্ধ করা হয়েছে ভোট গ্রহণ।

কুতুবদিয়ার বড় ঘোপ ইউনিয়নের পিলটকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ব্যালট ছিনতাইচেষ্টার সময় দুর্বৃত্তদের ওপর গুলি ছোড়ে পুলিশ। সে সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান আব্দুল হালিম। তিনি ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন পাঁচজন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জামশেদুল ইসলাম সিকদার।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে একজন নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন তিন নারী।

প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট

ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকায় কুতুবজোম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম আবুল কালাম। তিনি স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশাররফ হোসেন খোকনের সমর্থক বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাই।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ভোট চলাকালীন ওই কেন্দ্রে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ কামালের সমর্থকদের সঙ্গে চশমার প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। সে সময় গুলিবিদ্ধ হন চারজন। হাসপাতালে নেয়ার পথেই মৃত্যু হয় কালামের।

এ ছাড়া অন্য কেন্দ্রগুলোতে ভোট হয়েছে স্বাভাবিকভাবেই।

বাগেরহাট

জেলার ৬৫টি ইউনিয়নে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে মোরেলগঞ্জ উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে দুপুর ১২টার দিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন আহত হন।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী রিপন চন্দ্র দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষের সমর্থকরা আমার ভাইয়ের ওপর হামলা চালিয়েছে।’

এ অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল জব্বার মোল্লা বলেন, ‘আমার জয় নিশ্চিত জেনে তারা নিজেদের মধ্যে গণ্ডগোল করে দোষ চাপাচ্ছে।’

এই অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের মধ্যে কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদ রানা লালন ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।


ফকিরহাট উপজেলার শুভদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিল দেয়া, ব্যালট পেপার ছিড়ে ফেলাসহ এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছেন।

এ ছাড়া চিতলমারী উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্রে সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। কয়েক জায়গায় হাতাহাতিও হয়।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাটের ৯ উপজেলার ৬৬টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও কচুয়ার রাঢ়ীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যের ১৩টি পদের সব কয়টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন প্রার্থীরা। তাই ভোট হয়েছে ৬৫টি ইউনিয়নে।

সাতক্ষীরা

জেলার কলারোয়া ও তালা উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়েছে। সকালে বৃষ্টি হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার দেখা গেছে প্রায় সব কেন্দ্রেই।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, অনিয়মের অভিযোগ তুলে কলারোয়ার কয়লা ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম ভোট বর্জন করেন।

অনিয়ম হওয়ায় কেড়াগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করে উপজেলা প্রশাসন।

তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর মক্তব কেন্দ্রে ককটেল ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট

আটক ব্যক্তির নাম আজহার হোসেন। তিনি নৌকা প্রতীকের কর্মী বলে জানা গেছে।

এর আগে সকালে শ্রীমন্তকাটি কেন্দ্রের পাশে নৌকার কর্মী-সমর্থকরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজমুল কবির জানান, ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে ইভিএমে ভোট হয়েছে।

নোয়াখালী

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখলসহ নানা অভিযোগ তুলে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট বর্জন করেছেন পাঁচ চেয়ারম্যান প্রার্থী।

ভোট শুরুর ঘণ্টাখানেক পর নিজ নিজ বাড়ি থেকে সংবাদ সম্মেলন করে তারা ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

তারা হলেন বুড়িরচর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিয়া আলী মোবারক কল্লোল, জাহাজমারা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী এটিএম সিরাজ উদ্দিন, চরঈশ্বর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল হালিম আজাদ, সোনাদিয়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম মালয়েশিয়া ও নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেরাজ উদ্দিন।

এ উপজেলায় সাতটি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। এর মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থীরা ভোট বর্জন করায় সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জয় প্রায় নিশ্চিতই।

হাতিয়ার পাশাপাশি ইউপি নির্বাচনের ভোট হয় সুবর্ণচরেও। সেখানে ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট দেন ভোটাররা। ভোটার উপস্থিতি হাতিয়ার চেয়ে সুবর্ণচরেই বেশি দেখা যায়।

কবিরহাট পৌরসভাতেও হয়েছে ভোট। তবে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জহিরুল হক রায়হান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ায় সেখানে কাউন্সিল পদের জন্য ভোট হয়েছে।

ফেনী

জেলার সোনাগাজী পৌরসভায় কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়া, প্রার্থীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ভোট।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আবু নাসের অভিযোগ করেন, বাইরে নিরাপত্তা জোরদার থাকলেও কেন্দ্রের ভেতরে একজনের ভোট অন্যজন দিয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর বহিরাগত সমর্থকরা ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দিয়েছে। একই অভিযোগ ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ইমাম উদ্দিন ভূঁইয়ার।

ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী হিজবুল্লাহ অভিযোগ করেন, তিনি সকালে ২ নম্বর ওয়ার্ডে কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে সরকারদলীয় সমর্থকরা তাকে লাঞ্ছিত করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন।

প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট

এ ছাড়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী অভিযোগ করেন, নির্বাচনি কেন্দ্রের ভেতর পরিবেশ ভালো থাকলেও বাইরে সরকারদলীয় সমর্থকরা তার সমর্থকদের ঢুকতে দেয়নি।

এসব অভিযোগ সত্য নয় জানিয়ে সোনাগাজী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। যাদের কোনো ভোটার নেই তারা এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।’

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, সোনাগাজী পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রের ৪৯টি বুথে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন কক্সবাজারের সাকিবুর রহমান, বাগেরহাটের মামুন আহমেদ, সাতক্ষীরার রফিকুল ইসিলাম শাওন, নোয়াখালীর মোহাম্মদ সোহেল, ফেনীর আরিফুর রহমান ও কুমিল্লার মাহফুজ নান্টু।

শেয়ার করুন

নীলফামারী জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা মঙ্গলবার

নীলফামারী জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা মঙ্গলবার

মঙ্গলবারের বর্ধিত সভার প্রস্তুতি নিচ্ছে নীলফামারী জেলা যুবলীগ। ছবি: নিউজবাংলা

নীলফামারী জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাফর সাদেক তুহিন জানান, আগের কমিটির মেয়াদকাল অনেক আগেই শেষ হয়েছে। জেলা যুবলীগে এখন নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। আগের কমিটির সফলতা, ব্যর্থতা দুটোই রয়েছে।

নীলফামারী জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গলবার। এ সভায় নির্ধারিত হবে আওয়ামী লীগের এই অঙ্গসংগঠনের সম্মেলনের তারিখ।

জেলা শিল্পকলা অডিটোরিয়ামে বর্ধিত সভা সোমবার বেলা ১১টার দিকে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাফর সাদেক তুহিন।

সভা সফল করতে এরই মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক করেছে জেলা যুবলীগের বিভিন্ন ইউনিট।

৭১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৫ সালে। এর তিন বছর পর গঠন করা হয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি। কমিটিতে রামেন্দ্র বর্ধণ বাপ্পীকে সভাপতি এবং শাহিদ মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

যুবলীগের বর্ধিত সভা ঘিরে নীলফামারী জেলা জুড়ে চলছে আলোচনা। কমিটিতে ত্যাগী ও যোগ্যদের জায়গা দেয়ার কথা জানিয়েছেন নেতা-কর্মীরা।

জাফর সাদেক তুহিন জানান, আগের কমিটির মেয়াদকাল অনেক আগেই শেষ হয়েছে। জেলা যুবলীগে এখন নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। আগের কমিটির সফলতা, ব্যর্থতা দুটোই রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মাঝখানে যুবলীগের অনেক নেতাই সাবেক হয়েছেন, তাদের মূল্যায়ন করতে হবে। কালকের (মঙ্গলবার) বর্ধিত সভার মাধ্যমে জেলা যুবলীগের সম্মেলনের দিনক্ষণ ঠিক করা হবে।’

এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান বাদশা, বিশেষ অতিথি হিসেবে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল পারভেজ ও ত্রাণ সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন পাভেলের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ জানান, ‘আমরা এর আগেও সভা করেছিলাম। কিন্তু নানা কারণে সম্মেলনের তারিখ তখন নির্ধারণ করা যায়নি। বর্ধিত সভা থেকে সম্মেলনের দিন এবার হয়ত পাওয়া যাবে।’

শেয়ার করুন

সেলিমা-আমান-শিমুলসহ বিএনপির ৪০ নেতাকর্মীর বিচার শুরু

সেলিমা-আমান-শিমুলসহ বিএনপির ৪০ নেতাকর্মীর বিচার শুরু

বিচার শুরু হওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শীর্ষ নেতা সেলিমা রহমান, আমান উল্লাহ আমান, শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, হাবিব-উন-নবী-খান সোহেল, বরকত উল্লাহ বুলু, মীর সরাফত আলী সফু, আজিজুল বারী হেলাল, শওকত মাহমুদ এবং রাজিব আহসান।

রাজধানীর রামপুরা থানায় করা বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুই মামলায় বিএনপির ৪০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত।

এ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

সোমবার ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৬ এর বিচারক ফাতেমা ফেরদৌসের আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।

বিচার শুরু হওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শীর্ষ নেতা সেলিমা রহমান, আমান উল্লাহ আমান, শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, হাবিব-উন-নবী-খান সোহেল, বরকত উল্লাহ বুলু, মীর সরাফত আলী সফু, আজিজুল বারী হেলাল, শওকত মাহমুদ এবং রাজিব আহসান।

এ মামলার অন্যতম আসামি শফিকুল বারী বাবু মারা গেছেন। এ কারণে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী হান্নান ভূঁইয়া বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ২৯ অক্টোবর সাক্ষ্য নেয়ার তারিখ ঠিক করেছে আদালত।’

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ২০ দলের ডাকা হরতালের সমর্থনে অজ্ঞাতপরিচয় ৪০-৪৫ জন বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী রামপুরার ডিআইটি রোডের ন্যাশনাল ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন।

তারা আব্দুল্লাহপুর থেকে ছেড়ে আসা প্রচেষ্টা পরিবহনের একটি বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেন। এতে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং এক যাত্রী গুরুতর আহত হন। এসময় তারা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে কর্তব্যেও বাধা দেন।

এ ঘটনায় রামপুরা থানার এসআই বাবুল শরীফ ওইদিনই মামলাটি করেন। মামলা তদন্ত করে খিলগাঁও জোনাল টিমের এসআই আশরাফুল আলম ৪১ জনকে অভিযুক্ত করে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক আইনে আদালতে দুটি আলাদা অভিযোগপত্র দেন।

শেয়ার করুন

বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মত চান কাদের

বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মত চান কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

নির্বাচন ও নির্বাচনি পরিবেশ বিনষ্টে বিএনপি এখনই প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্তব্য করেছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘তাদের এসব অসাংবিধানিক প্রয়াস অতীতের মতো কোনো সুফল বয়ে আনবে না, বরং বিদ্যমান কাঠামোর আওতায় একটা ক্রেডিবল ইলেকশন আয়োজনে কী করা যায়, তা নিয়ে আপনারা মতামত দিন।’

সংবিধান মেনে বিদ্যমান আইনি কাঠামোতে কীভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায় তা নিয়ে মতামত নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিতে বিএনপিকে আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগও মতামত কমিশনে দেবে বলে জানান তিনি।

রাজধানীর সরকারি বাসভবন থেকে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি যেমন গায়ের জোরে আইন লঙ্ঘন করতে চায়, তেমনি সংবিধানও জানতে চায় না। জাতীয় নির্বাচন কীভাবে, কার অধীনে হবে- এটা মীমাংসিত বিষয়। সংবিধানসম্মতভাবে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে।’

নির্বাচন ও নির্বাচনি পরিবেশ বিনষ্টে বিএনপি এখনই প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্তব্য কাদেরের। তিনি বলেন, ‘তাদের এসব অসাংবিধানিক প্রয়াস অতীতের মতো কোনো সুফল বয়ে আনবে না, বরং বিদ্যমান কাঠামোর আওতায় একটা ক্রেডিবল ইলেকশন আয়োজনে কী করা যায়, তা নিয়ে আপনারা মতামত দিন। সময় হলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও নির্বাচন কমিশনে মতামত দেবে।’

‘গত ১৩ বছর ধরে বিএনপি আন্দোলনের নিষ্ফল আহ্বান যেমনি ব্যর্থ হয়েছে, বর্তমান প্রয়াসও নিষ্ফল হবে’, যোগ করেন কাদের।

শেখ হাসিনার উদারতা দুর্বলতা নয়

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘উদারতা’, এটাকে ‘দুর্বলতা’ ভাবলে বিএনপি ভুল করবে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশের আইন-আদালতের তোয়াক্কা না করে মনগড়া কথা বলাই বিএনপির স্বভাব। তারা অভিযোগ করেছে, সরকার নাকি বেগম জিয়াকে ভয়ে বিদেশ যেতে দিচ্ছে না। প্রকৃতপক্ষে বিএনপিই বেগম জিয়ার চিকিৎসা চায় কি না তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ আছে।’

বিএনপি নেতারা বেগম জিয়ার মুক্তির ইস্যুতে রাজনীতি করছেন জানিয়ে কাদের বলেন, ‘চিকিৎসার ব্যাপারে যতটা নজর দিচ্ছেন, তার চেয়ে তাদের চিন্তা বেগম জিয়াকে ইস্যু করে রাজনীতি করা।’

বেগম জিয়া কিংবা ক্ষয়িষ্ণু বিএনপিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ভয় পায় না জানিয়ে কাদের বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়ার) বয়স এবং স্বাস্থ্যের ওপর নজর দিয়ে সাজা স্থগিত করেছে চতুর্থবারের মতো। এ উদারতা একমাত্র বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাই দেখিয়েছেন। বিএনপি শেখ হাসিনার উদারতাকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল করবে।’

ভাবনায় এবং চর্চায় বিএনপির একমুখী দর্শন তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের শিকড়কে দিন দিন দুর্বল করছে বলেও মন্তব্য করেন কাদের।

তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়ার চিকিৎসা গ্রহণের বিষয়টি ইতিমধ্যেই মীমাংসিত। বিএনপি সব সময় মীমাংসিত ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করার অপপ্রয়াস চালায়। একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির বিদেশ গমন বিদ্যমান আইনে সুযোগ আছে কি না, এটা বিএনপিও ভালো করে জানে।’

আইন মন্ত্রণালয় বিষয়টি পরিষ্কার করে জানিয়ে দিলেও বিএনপি জেনে-শুনে না জানার ভান করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার কৌশল নিয়েছে বলেও অভিযোগ কাদেরের।

তিনি বলেন, ‘যে নেত্রীর জন্য তারা এত মায়াকান্না কাঁদছেন, সেই নেত্রীর মুক্তির জন্য একটা কার্যকর বিক্ষোভ মিছিলও তারা বাংলাদেশের কোথাও এ যাবৎ করতে পারেনি।’

শেয়ার করুন

নির্বাচনে জাতিসংঘের সহযোগিতা লাগবে না: তথ্যমন্ত্রী

নির্বাচনে জাতিসংঘের সহযোগিতা লাগবে না: তথ্যমন্ত্রী

ফাইল ছবি

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সোমালিয়া বা ইথিওপিয়ার নয় যে, এখানে নির্বাচন অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের সহায়তা লাগবে। আমি মনে করি নির্বাচনের এখনও অনেক বাকি। নির্বাচন কমিশন অনেক শক্তিশালী। এখানে কারও সহযোগিতা প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।’

আগামী জাতীয় নির্বাচন সম্পন্নের বিষয়ে জাতিসংঘের সহায়তা প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

সোমবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সোমালিয়া বা ইথিওপিয়ার নয় যে, এখানে নির্বাচন অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের সহায়তা লাগবে।

‘আমি মনে করি নির্বাচনের এখনও অনেক বাকি। নির্বাচন কমিশন অনেক শক্তিশালী। এখানে কারও সহযোগিতা প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।’

বাংলাদেশ চাইলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতিসংঘ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলে রোববার এক অনুষ্ঠানে জানান ঢাকাস্থ জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পো।

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ কোনো দেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে না। তবে কোনো দেশের সরকার নির্বাচন-প্রক্রিয়ায় সহায়তা চাইলে জাতিসংঘ তা দিয়ে থাকে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘের কোনো সহযোগিতা চাইলে আমরা সেই সহযোগিতা দেবো।’

সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টায় জাতিসংঘ মধ্যস্থতার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না, সে বিষয়টি পরিষ্কার করেননি মিয়া সেপ্পো।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন অনুষ্ঠান একান্তই হোস্ট কান্ট্রির স্টেকহোল্ডারদের বিষয়। তারা চাইলে জাতিসংঘ যেকোনো ধরনের সহায়তা করে। কোনো দেশ চাইলেই তাদের নির্বাচনে সহযোগিতা দেয় জাতিসংঘ। সেটা বাংলাদেশেও ঘটতে পারে।’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বহুল আলোচিত নির্বাচনের আগে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হিসেবে রাজনীতি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তিতে মধ্যস্থতায় দুই দফা ঢাকা এসেছিলেন। কিন্তু সেই সিরিজ সংলাপ সফল হয়নি।

শেয়ার করুন

২২ বছর পর কৃষক দলের কমিটি

২২ বছর পর কৃষক দলের কমিটি

কৃষক দলের নতুন সভাপতি হাসান জাফির তুহিন (বাঁয়ে) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল। ছবি: সংগৃহীত

সংগঠনটির আংশিক কমিটিতে হাসান জাফির তুহিনকে সভাপতি ও শহীদুল ইসলাম বাবুলকে করা হয়েছে সাধারণ সম্পাদক। আর সহসভাপতি হিসেবে আছেন হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু।

২২ বছর পর গঠিত হলো জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি।

সংগঠনটির নেতা হাসান জাফির তুহিনকে সভাপতি এবং শহীদুল ইসলাম বাবুলকে সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত করে আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কমিটির অনুমোদন দেন বলে সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

আংশিক কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে আছেন হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, সহসভাপতি গৌতম চক্রবর্তী, যুগ্ম সম্পাদক পদে টি এস আইয়ুব, মোশারফ হোসেন এবং দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন শফিকুল ইসলাম।

শেয়ার করুন

কক্সবাজারে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২

কক্সবাজারে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২

কক্সবাজারের মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় নির্বাচনি সহিংসতায় ২ জন নিহত হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার দুই কেন্দ্রে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে সাতজন। দুই কেন্দ্রেই সংঘর্ষের পর বন্ধ রাখা হয়েছে ভোট গ্রহণ।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট চলাকালীন কক্সবাজারের মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার দুই কেন্দ্রে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছে। দুটি এলাকায় আহত হয়েছে সাতজন। দুই কেন্দ্রেই সংঘর্ষের পর বন্ধ রাখা হয়েছে ভোট গ্রহণ।

কুতুবদিয়ার বড় ঘোপ ইউনিয়নের পিলটকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সংঘর্ষে নিহত হন আব্দুল হালিম। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন চারজন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জামশেদুল ইসলাম সিকদার।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে একজন নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন তিন নারী।

কুতুবজোম ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকায় কুতুবজোম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম আবুল কালাম। তিনি স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশাররফ হোসেন খোকনের সমর্থক বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাই।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, ভোট চলাকালীন ওই কেন্দ্রে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ কামালের সমর্থকদের সঙ্গে চশমার প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। সে সময় গুলিবিদ্ধ হন চারজন। হাসপাতালে নেয়ার পথেই মৃত্যু হয় কালামের।

গুলিবিদ্ধ তিনজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

কুতুবজোম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের রিটার্নিং কর্মকর্তা জালাল উদ্দীন ইসলামাবাদী জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় কুতুবজোম দাখিল মাদ্রাসা ও কুতুবজোম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট নেয়া বন্ধ আছে।

শেয়ার করুন