চাকরিজীবী লীগ

সঠিক সময়ে সূর্যোদয়ের আশা পদ খোয়ানো হেলেনার

সঠিক সময়ে সূর্যোদয়ের আশা পদ খোয়ানো হেলেনার

স্ট্যাটাসে হেলেনা লেখেন, ‘আমি দলকে ভালোবাসি, আমি দলের সকল সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই। আমি যদি কোনো ভুল করে থাকি তাহলে নেত্রী আমাকে সাজা দিবেন এবং পরক্ষণে আগলে নিবেন আশা করি।’

আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ গঠন করে মূল সংগঠনের নারীবিষয়ক উপকমিটির সদস্যপদ হারানো হেলেনা জাহাঙ্গীর বলেছেন, কিছু কুচক্রী মহলের কারণে তার কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, যা স্বাভাবিক হয়ে যাবে শিগগিরই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্টে রোববার ১০টা ১৮ মিনিটে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা বলেন।

স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘আমি দলকে ভালোবাসি, আমি দলের সকল সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই। আমি যদি কোনো ভুল করে থাকি তাহলে নেত্রী আমাকে সাজা দিবেন এবং পরক্ষণে আগলে নিবেন আশা করি।

‘আমরা কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নই। তবে আমি এটা বিশ্বাস করি, আমার সকল কার্যক্রম ছিল দলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে। কিন্তু কিছু কুচক্রী মহল আমার এই কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তবে মনে রাখবেন সূর্য অস্ত গিয়েছে; সঠিক সময়ে সূর্যের উদয় হবে ইনশা আল্লাহ।’

সম্প্রতি ফেসবুকে নেতা বানানোর ঘোষণা দিয়ে ছবি পোস্ট করে বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ নামের একটি সংগঠন। নামসর্বস্ব এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হেলেনা জাহাঙ্গীর আর সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মনির। তাদের নামসংবলিত পোস্টারে ছেয়ে যায় ফেসবুক।

পোস্টারে সংগঠনটির জেলা, উপজেলা ও বিদেশি শাখায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, দুই-তিন বছর ধরে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করছে তারা। যদিও আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, সংগঠনটির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই।

এ নিয়ে শুক্রবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

নিউজবাংলার প্রতিবেদন প্রকাশের পর শুক্রবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া স্ট্যাটাসে চাকরিজীবী লীগ গঠনের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন হেলেনা জাহাঙ্গীর।

তিনি লেখেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় আর সরকারের হাতকে শক্তিশালী করার প্রত্যাশায় বাংলাদেশের আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ।

‘নামটি অনেকের কাছে নতুন মনে হলেও এটি বেশ অনেক দিন ধরে কাজ করা একটি সংগঠন। এটির বয়স ৩ থেকে ৪ বছর। অনেক দিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে সারা বাংলাদেশব্যাপী। বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩২ জেলায় অফিসসহ কমিটি দেয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে এই সংগঠনটির সদস্য লক্ষ লক্ষ। অবসরপ্রাপ্ত নৌবাহিনী, পুলিশ, সেনাবাহিনী, ব্যাংকার, বেসরকারি অনেক চাকরিজীবী এখানে আছেন।’

তিনি আরও লিখেন, ‘প্রচার-প্রচারণা নেই হয়তো এই জন্য অনেকের অজানা। কিছুদিনের মধ্যেই সবাই জেনে যাবেন। কারণ প্রতিদিন জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে আগামীর কার্যক্রম আলোচনা চলছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলেই এটি অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে দেশ ও জনগণের জন্য নিবেদিত সহায়তাকারী সংগঠন হিসেবে কাজ করবে।’

ওই সংগঠনের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের নারীবিষয়ক উপকমিটি থেকে হেলেনাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন দলটির নারীবিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি।

তিনি নিউজবাংলাকে জানান, দলের নিয়মনীতি ভঙ্গ করায় তার সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে।

চুমকি বলেন, ‘উনি তো কুমিল্লা আওয়ামী লীগের সদস্য। আওয়ামী পরিবারের হিসেবেই আমি জানি। উনার জয়যাত্রা টেলিভিশন নামে একটা মিডিয়া আছে, যেটার সঙ্গে আমাদের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মহোদয় আছেন। এই সুবাদেই উপকমিটিতে ওনাকে আমরা রেখেছি।

‘কিন্তু উনি কী করছেন…আমাদের না জানিয়ে করছেন। আমি ইতোমধ্যে আমাদের দপ্তরে জানিয়েছি, তাকে চিঠি দিয়ে দেয়া হয়েছে। আমাদের উপকমিটিতে যেহেতু তিনি নিয়মনীতি ভঙ্গ করেছেন, তিনি কী করছেন, আমাদের জানাননি, তার সদস্যপদ আমরা বাতিল করে দিয়েছি।’

আরও পড়ুন:
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর কথায় দায়িত্ব নিতে রাজি হই: হেলেনা
জেলা আ. লীগের পদ আগেই হারিয়েছেন হেলেনা
চাকরিজীবী লীগ: আওয়ামী লীগে পদ খোয়ালেন হেলেনা
চাকরিজীবী লীগের নেতা বানাতে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হবে কুমিল্লায় সহিংসতার বিচার

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হবে কুমিল্লায় সহিংসতার বিচার

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন সহিংসতার ওই ঘটনার বিচার করা হবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে।

কুমিল্লায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিচার হবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান।

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়।

এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেনসহ চারজনকে শনিবার সাত দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। অন্য আসামিরা হলেন মণ্ডপে কোরআন পাওয়ার তথ্য ৯৯৯-এ কল করে জানানো ইকরাম হোসেন এবং নগরীর শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের সহকারী খাদেম হুমায়ুন আহমেদ ও ফয়সাল আহমেদ। এই মাজারের মসজিদ থেকেই কোরআন নিয়ে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল। সিসিটিভির ফুটেজে তা ধরা পড়ে।

সিসিটিভির ফুটেজকে প্রমাণ দেখিয়ে কুমিল্লার ঘটনায় করা মামলার বিচার করা যাবে কি না, এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই মামলার যখন পুলিশ প্রতিবেদন পাওয়া যাবে, তখন এটাকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা হবে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ভিডিও ধারণ করার যে এভিডেন্স আছে সেটা গ্রহণ করার একটা ধারা আছে, সেই ধারায় কোনো অসুবিধা হবে না।’

তাহলে মামলাটি কী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে যাচ্ছে? জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বি, জ্বি মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে যাবে।’

অভিযোগ উঠেছে, সাম্প্রতিক সময়ে যেসব সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে, সেগুলোর বিচার বিলম্ব হওয়াতে এ ধরনের ঘটনা ফের ঘটছে।

এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমার যত দূর জানা আছে, নাসিরনগরের যে ঘটনা সেটার তদন্ত বোধহয় এখনও শেষ হয়নি। আমি আপনাদেরকে বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, যতক্ষণ পর্যন্ত তদন্ত শেষ না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত কিন্তু আদালতের বিচারিক এখতিয়ার হয় না। আদালতের হয়তো অনেকগুলো ইন্টারিম অর্ডার দেয়ার ক্ষমতা থাকে, কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত পুলিশ প্রতিবেদন না আসে…আদালত কিন্তু বিচারিক কাজ শুরু করতে পারে না।

‘আমরা সেটার জন্য অপেক্ষা করছি। আমি সকলকে আশ্বস্ত করতে চাই, যে মুহূর্তে তদন্ত শেষ হয়ে এটা বিচারিক আদালতে আসবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সমাপ্তি করা হবে।’

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে কোনো মামলা যাওয়ার অর্থ হলো এটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়া।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০০২-এর ১০ (১) ধারা অনুযায়ী, ওই ট্রাইব্যুনালে কোনো মামলা স্থানান্তরের তারিখ থেকে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।

আইনের ১০ (২) ধারা অনুযায়ী, কোনো অনিবার্য কারণে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হলে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল কারণ লিপিবদ্ধ করে অতিরিক্ত ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে পারবে। একই সঙ্গে এ সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টকে লিখিতভাবে অবহিত করবে, যার একটি অনুলিপি সরকারের কাছে পাঠাতে হবে।

১০ (৩) ধারা অনুযায়ী, উল্লিখিত বর্ধিত সময়ের মধ্যেও যদি যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণে মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হয়, তাহলে ট্রাইব্যুনাল কারণ লিপিবদ্ধ করে আরও ১৫ কার্যদিবস সময় নিতে পারবে। সময় বাড়ানোর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টকে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে, যার একটি অনুলিপি সরকারের কাছে পাঠাতে হবে।

আরও পড়ুন:
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর কথায় দায়িত্ব নিতে রাজি হই: হেলেনা
জেলা আ. লীগের পদ আগেই হারিয়েছেন হেলেনা
চাকরিজীবী লীগ: আওয়ামী লীগে পদ খোয়ালেন হেলেনা
চাকরিজীবী লীগের নেতা বানাতে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন

শেয়ার করুন

হনুমানের সেই গদা পুকুরে ফেলে দেন ইকবাল

হনুমানের সেই গদা পুকুরে ফেলে দেন ইকবাল

নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপে রাখা হনুমানের মূর্তির গদা সরিয়ে রাখা হয় পবিত্র কোরআন শরিফ। বাঁয়ের ছবিটি ১২ অক্টোবরের, ডানেরটি ১৩ অক্টোবর সকালের: ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম তানভীর আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইকবাল মণ্ডপে কোরআন রাখার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। কোরআন রাখার পর হনুমানের গদা নিয়ে তার চলে যাওয়ার দৃশ্য এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ইকবাল গদাটি পরে একটি পুকুরে ফেলে দেন।’

কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখায় প্রধান অভিয়ুক্ত ইকবাল হোসেন মণ্ডপের হনুমানের হাতের গদাটি এলাকার একটি পুকুরে ফেলে দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ইকবালকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম তানভীর আহমেদ।

ধর্ম অবমাননার মামলায় ইকবালসহ চারজনকে শনিবার সাত দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। অন্য আসামিরা হলেন মণ্ডপে কোরআন পাওয়ার তথ্য ৯৯৯-এ কল করে জানানো ইকরাম হোসেন এবং নগরীর শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের সহকারী খাদেম হুমায়ুন আহমেদ ও ফয়সাল আহমেদ। এই মাজারের মসজিদ থেকেই কোরআন নিয়ে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল।

আরও পড়ুন: ধর্ম অবমাননার মামলায় ইকবাল রিমান্ডে

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়।

যেখান থেকে সাম্প্রদায়িক এই সহিংসতার শুরু, সেই নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপে কীভাবে উত্তেজনার শুরু এবং মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এলো, সে বিষয়ে মঙ্গলবার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় মণ্ডপে কোরআন রাখল কারা

পূজার আয়োজক, এলাকাবাসী, তদন্তকারী কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার আগের রাত আড়াইটা পর্যন্ত মন্দিরে পূজাসংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি ছিল। এরপর বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দুজন নারীভক্ত মণ্ডপে এসে হনুমানের মূর্তিতে প্রথম কোরআন শরিফটি দেখতে পান।

হনুমানের সেই গদা পুকুরে ফেলে দেন ইকবাল
মণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখার পর হনুমানের গদা হাতে হেঁটে যাওয়া ইকবাল

পরে বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৩টার দিকে এক ব্যক্তি কোরআন শরিফটি রেখে যান মণ্ডপে। এ সময় হনুমানের হাতের গদাটি সরিয়ে নেন তিনি। গদা হাতে তার চলে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে ওই এলাকারই কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরায়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে বেরিয়ে আসে মণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখা যুবকের নাম ইকবাল হোসেন। ৩০ বছর বয়সী ইকবাল কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিতীয় মুরাদপুর-লস্করপুকুর এলাকার নূর আহম্মদ আলমের ছেলে। নূর আলম পেশায় মাছ ব্যবসায়ী।

হনুমানের সেই গদা পুকুরে ফেলে দেন ইকবাল
কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন শরিফ অবমাননায় প্রধান অভিযুক্ত ইকবালকে ৭ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ

কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম তানভীর আহমেদ নিউজবাংলাকে শনিবার বলেন, ‘ইকবাল মণ্ডপে কোরআন রাখার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। এ মামলার চার আসামিকেই রিমান্ডে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘মণ্ডপে কোরআন রাখার পর হনুমানের গদা নিয়ে ইকবালের চলে যাওয়ার দৃশ্য এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ইকবাল গদাটি পরে একটি পুকুরে ফেলে দেন।’

তবে পুকুরটির অবস্থান সুনির্দিষ্ট করে জানাননি তানভীর আহমেদ।

এক প্রশ্নের জবাবে দিনি বলেন, ‘ইকবাল কোরআন রাখার পর মণ্ডপে সহিংসতার সময়েও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার পিছনে আরও কারা আছে, আমরা খতিয়ে দেখছি।’

তিনি বলেন, ‘সহিংসতার পর ইকবাল প্রথমে কুমিল্লা থেকে ট্রেনে করে চট্টগ্রাম পৌঁছান। সেখান থেকে বিভিন্ন বাহনে করে কক্সবাজারে যান।’

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের যে অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়া যায়, সেখানে শুরুতে প্রবেশে ব্যর্থ হয়েছিলেন প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন। এরপর তিনি গিয়েছিলেন ওই মণ্ডপ থেকে কিছুটা দূরে দিগম্বরীতলার গুপ্ত জগন্নাথ মন্দিরে।

মন্দিরটির গেটের তালা লাঠি দিয়ে ভাঙতে ব্যর্থ হন ইকবাল। এরপর আবার ফিরে আসেন নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে। এ সময় পূজাসংশ্লিষ্টদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তিনি কোরআন শরিফটি হনুমানের ওপর রাখেন। মসজিদ থেকে বের হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর কোরআন রেখে হনুমানের গদা হাতে ফিরে আসেন ইকবাল।

আরও পড়ুন:
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর কথায় দায়িত্ব নিতে রাজি হই: হেলেনা
জেলা আ. লীগের পদ আগেই হারিয়েছেন হেলেনা
চাকরিজীবী লীগ: আওয়ামী লীগে পদ খোয়ালেন হেলেনা
চাকরিজীবী লীগের নেতা বানাতে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন

শেয়ার করুন

পীরগঞ্জ হামলার মাস্টারমাইন্ড কে?

পীরগঞ্জ হামলার মাস্টারমাইন্ড কে?

পীরগঞ্জের করিমপুরে হিন্দুপল্লিতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয়রা জানান, প্রথমে ব্রিজের কাছে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ শুরু হলেও পরে একে একে সব বাড়িতে তাণ্ডব চলে। তবে কার নেতৃত্বে এই তাণ্ডব শুরু হয়, সেটি বোঝা যায়নি।  

পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু গ্রামে সাম্প্রদায়িক হামলার মূল পরিকল্পনায় কারা ছিলেন, সেটি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তবে ঘটনাস্থল থেকে ২০০ গজ দূরেই পাশের বটতলা মসজিদের ইমাম রবিউল ইসলামকে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হামলার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন তিনি। বাড়িতেও কেউ নেই।

প্রতিবেশীরা বলছেন, হামলার পর থেকেই রবিউলের বাড়ির সব সদস্য গা ঢাকা দিয়েছেন।

দুই বছর ধরে ওই মসজিদে ইমামতি করছিলেন রবিউল। তাকে গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

স্থানীয়রা জানান, রোববার মাগরিবের নামাজের পর ঘটনাস্থলের দক্ষিণ পাড়ায় ফেসবুকে ধর্ম অবমাননায় অভিযুক্ত পরিতোষের বাড়িতে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ ও স্থানীয় চেয়ারম্যানরা।

এ সময় মসজিদের মুয়াজ্জিন রাশেদসহ অনেকেই মসজিদের পাশে বটতলা বাজারে ছিলেন। রাশেদও সেদিন থেকে পলাতক রয়েছেন।

ঘটনার শুরু ফেসবুক থেকে

মেহেদী হাসান নামে স্থানীয় এক যুবক বলেন, ‘ঘটনার দিন রোববার সকালে একটি পেজে কমেন্ট করে পরিতোষ সরকার। এটি নজরে আসে খেজমতপুর বউবাজার এলাকার উজ্জ্বল হাসানের।

‘উজ্জ্বল ও পরিতোষ পূর্বপরিচিত। পরিতোষকে গালি দিয়ে ওই কমেন্ট ডিলিট করতে বলে উজ্জ্বল। এ নিয়ে ফোনে এবং কমেন্ট বক্সে দুজনের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় কমেন্ট ডিলিট করবে না বলে জানায় পরিতোষ।’

তিনি বলেন, “ঘটনার পর উজ্জ্বল বলে, ‘সমস্যা নাই, স্ক্রিনশট রেখে দিছি। বাড়ি গেলে তোরে খেলা দেখাব। মুসলমানরা খেপে গেলে তোর ধর্ম উঠে যাবে। বাড়ি গেলে বটের হাটে সবচেয়ে বড় গাছে তোকে বেঁধে রাখব।’

উজ্জ্বল হাসানের মা রোজিনা খাতুন দাবি করেন, ঘটনার আগের দিন শনিবার দিনাজপুরের বীরগঞ্জে চাকরিতে যোগ দেন উজ্জ্বল। সেখানে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেন তিনি। সেখান থেকে ফেসবুকে এসব দেখে শেয়ার দেন উজ্জ্বল।

স্থানীয়রা জানান, রোববার সকালে পরিতোষের ওই কমেন্ট উজ্জ্বল হাসান তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার দেন। সেখান থেকে মুহূর্তেই শত শত শেয়ার হতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা ছড়ায়।

করিমপুর হাজিপাড়ার মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ফেসবুকে পরিতোষের ছবি নিয়া বিকাল থাকি উত্তেজনা। সন্ধ্যার পর উত্তেজনা আরও বাড়ে। এ সময় আশপাশের কিছু ছেলে পরিতোষের বাড়ি ভাঙচুর করতে চায়। তবে এলাকাবাসী বাধা দেয়।’

তিনি বলেন, ‘এ সময় চেয়ারম্যান সাদেকুল ইসলামকে খবর দেয়া হয়। পরে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকেও খবর দেয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ, বিজিবি ও ইউএনও আসেন। তারা উত্তেজিত জনতার সঙ্গে কথা বলেন। এমন করতে করতে রাত সাড়ে ৮টা পার হয়। প্রশাসন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিতোষকে গ্রেপ্তারের কথা বলে। মানুষজন শান্ত হয়।’

কীভাবে হামলা হলো হিন্দুপল্লিতে

স্থানীয়রা জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে রামনাথপুরের করিমপুর দক্ষিণ পাড়ায় (হাজিপাড়া) পরিতোষের বাড়িতে ছিল প্রশাসনের লোকজন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে তাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তারা। এ সময় হঠাৎ উত্তর পাড়ার হিন্দুপল্লির দিকে আগুন দেখা যায়।

তারা জানান, বটতলা মসজিদের পাশে ব্রিজের কাছেই রুহিনী চন্দ্র দাসের বাড়িতে গিয়ে প্রথমে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে ভাঙচুর করা হয়। এরপর ভাঙচুর করা হয় ভবেশ চন্দ্র দাসের বাড়িতে। অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরে অংশ নেয় শত শত হামলাকারী।

পীরগঞ্জ হামলার মাস্টারমাইন্ড কে?
সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন বটের হাট জামে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয়রা জানান, প্রথমে ব্রিজের কাছে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ শুরু হলেও পরে একে একে সব বাড়িতে তাণ্ডব চলে। তবে কার নেতৃত্বে এই তাণ্ডব শুরু হয়, সেটি বোঝা যায়নি।

রুহিনী চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমার বাড়িতে যখন ভাঙচুর করে তখন পালায়ে যাই। রাস্তাত দেখি শোঠা পীরের ওই দিক থেকেও লোক আসতেছে।’

করিমপুর দক্ষিণ পাড়ায় (হাজিপাড়া) যেখানে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবস্থান নিয়েছিল, সেখান থেকে ঘটনাস্থল উত্তর পাড়ার মধ্যে রয়েছে বিশাল ধানক্ষেত। এর দূরত্ব ২৫০ মিটার। পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থলে আসতে সময় লাগবে অন্তত ৫ মিনিট।

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি জানান, হিন্দুপল্লিতে আগুন দেয়ার পর দূর থেকেই রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিকেল থেকেই আসতে থাকে মোটরসাইকেল

রামনাথপুরে ঢোকার মুখে পীরগঞ্জের খেজমতপুরের ঘেগার তলে মুদি ব্যবসা করেন ফিরোজ কবির।

তিনি বলেন, ‘রোববার বিকাল হতে না হতে অনেক মোটরসাইকেল যাওয়া শুরু করে। আমরা বলি এত গাড়ি যায় কই। সন্ধ্যার পর আরও বেশি যাওয়া শুরু করে। আমি তো এই মোড়ে ব্যবসা করি। তিন গ্রামের মানষোক চিনি। তবে যারা গেছে তাদের চিনি নাই। যারা গেছে তারা আমাদের গ্রামের লোক নয়।’

বড় মজিদপুর দক্ষিণ পাড়ার মুদি দোকানি মাহবুব রহমান বলেন, ‘এত মোটরসাইকেল সেই দিন কুটি থাকি আইচচে বলতে পারি না। লোকগুলেক আগে দেকিও নাই। কেম্বা অপরিচিত লাগছিল।’

বটতলা বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী মোস্তফা বলেন, ওই দিন হাটের দিন হওয়ায় শত শত মানুষ ব্রিজের কাছে বটতলা বাজারে অবস্থান নেন।

তারা মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় এসেছিলেন। অনেকেই দোকানের সামনে মোটরসাইকেল রাখছিল।

হামলা ঠেকাতে পারেননি ইউপি চেয়ারম্যানও

রামনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি অসহায় ভাই। অনেক চেষ্টা করেছি যেন কোনো সমস্যা না হয়। তবে শেষ পর্যন্ত পারিনি।’

রিমান্ডে ৩৭ জন

পীরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক হামলার তিন মামলায় এখন পর্যন্ত ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলায় ৩৭ আসামিকে বৃহস্পতিবার তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

বাহিনীটির একটি সূত্র জানিয়েছে, রিমান্ডে থাকা অনেকেই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

আরও পড়ুন:
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর কথায় দায়িত্ব নিতে রাজি হই: হেলেনা
জেলা আ. লীগের পদ আগেই হারিয়েছেন হেলেনা
চাকরিজীবী লীগ: আওয়ামী লীগে পদ খোয়ালেন হেলেনা
চাকরিজীবী লীগের নেতা বানাতে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন

শেয়ার করুন

কোরআন রাখার কথা ‘স্বীকার করেছেন’ ইকবাল

কোরআন রাখার কথা ‘স্বীকার করেছেন’ ইকবাল

কুমিল্লা পুলিশ লাইনে ইকবাল হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

কুমিল্লা শহরে পুলিশ লাইনে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ইকবাল ওই মণ্ডপে কোরআন রাখার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা। 

কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন ইকবাল হোসেন।

কুমিল্লা শহরে পুলিশ লাইনে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ইকবাল কোরআন রাখার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা।

তিনি জানান, মণ্ডপে কোরআন রাখার পর হনুমানের মূর্তি থেকে গদা সরিয়ে নেয়ার কথাও পুলিশের কাছে বলেছেন ইকবাল। তবে কার নির্দেশে এই কাজ করেছেন, তা এখনও ইকবাল জানাননি।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর থেকেই ইকবাল অসংলগ্ন আচরণ করছেন।

কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশ লাইনে নেয়ার পর থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট।

কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ইকবালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেখান থেকে তাকে শুক্রবার দুপুরে নেয়া হয় কুমিল্লা পুলিশ লাইনে।


কুমিল্লা জেলা পুলিশের ডিআইও মনির আহমেদ জানান, বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে ইকবালের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

যেখান থেকে সাম্প্রদায়িক এই সহিংসতার শুরু, সেই নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপে কীভাবে উত্তেজনার শুরু এবং মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এলো, সে বিষয়ে মঙ্গলবার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

পূজার আয়োজক, এলাকাবাসী, তদন্তকারী কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার আগের রাত আড়াইটা পর্যন্ত মন্দিরে পূজাসংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি ছিল। এরপর বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দুজন নারী ভক্ত মণ্ডপে এসে হনুমানের মূর্তিতে প্রথম কোরআন শরিফটি দেখতে পান।


পরে বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৩টার দিকে এক ব্যক্তি কোরআন শরিফটি রেখে যান মণ্ডপে। এ সময় হনুমানের হাতের গদাটি সরিয়ে নেন তিনি। গদা হাতে তার চলে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে ওই এলাকারই কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরায়।


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে বেরিয়ে আসে মণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখা যুবকের নাম ইকবাল হোসেন। ৩০ বছর বয়সী ইকবাল কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিতীয় মুরাদপুর-লস্করপুকুর এলাকার নূর আহম্মদ আলমের ছেলে। নূর আলম পেশায় মাছ ব্যবসায়ী।

কোরআন রাখার কথা ‘স্বীকার করেছেন’ ইকবাল
মণ্ডপে কোরআন রাখায় প্রধান অভিযুক্ত ইকবালের ফাইল ছবি (বাঁয়ে), কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্টে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারের পর পুলিশ হেফাজতে (ডানে)

ইকবালের সহযোগী সন্দেহে ইকরামসহ অন্তত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কুমিল্লা নগরীর শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের সহকারী খাদেম হিসেবে পরিচিত হুমায়ুন আহমেদ ও ফয়সাল আহমেদও রয়েছেন। এই মাজারের মসজিদ থেকেই কোরআন নিয়ে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইকবাল গ্রেপ্তার হওয়ায় এখন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত এবং আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন:
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর কথায় দায়িত্ব নিতে রাজি হই: হেলেনা
জেলা আ. লীগের পদ আগেই হারিয়েছেন হেলেনা
চাকরিজীবী লীগ: আওয়ামী লীগে পদ খোয়ালেন হেলেনা
চাকরিজীবী লীগের নেতা বানাতে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন

শেয়ার করুন

মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কুমিল্লায়

মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কুমিল্লায়

কুমিল্লার মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার ঘটনায় কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার ইকবালকে শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ লাইনে নেয়া হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কক্সবাজারের এসপি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার ভোরে তাকে নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয় কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি দল। দুপুর ১২টায় বহরটি পৌঁছে জেলা পুলিশ লাইনে। সেখানেই রাখা হয়েছে ইকবালকে।

কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার ঘটনায় গ্রেপ্তার ইকবাল হোসেনকে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লা নেয়া হয়েছে।

ইকবালকে বহনকারী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) মাইক্রোবাসটি শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা পুলিশ লাইনে প্রবেশ করে। ইকবালকে এখন সেখানেই রাখা হয়েছে।

জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার নিউজবাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম তানভীর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, ইকবালকে পুলিশ লাইনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট জিজ্ঞাসাবাদ করবে। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।

কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ইকবালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কক্সবাজারের এসপি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার ভোরে তাকে নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয় কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি দল। সহকারী পুলিশ সুপার সোহান ওই দলের নেতৃত্বে ছিলেন।

মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কুমিল্লায়
ইকবালকে নিয়ে এই গাড়িবহর কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় পৌঁছায় শুক্রবার দুপুর ১২টায়

ইকবালকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই অভিযানটি কক্সবাজার জেলা পুলিশের নয়, কুমিল্লা জেলা পুলিশের। আমরা তাদের সাহায্য করেছি।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল কী জানিয়েছেন তা বলেননি পুলিশের এই কর্মকর্তা। তিনি জানান, ইকবালের বিষয়ে বিস্তারিত সব তথ্যই কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানাবে।

ইকবালকে গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আনোয়ার হোসেন বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কক্সবাজারে গ্রেপ্তার ইকবালই কুমিল্লার ইকবাল।’

কক্সবাজারের গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে থাকা ইকবালের ছবি সংগ্রহ করে কুমিল্লায় তার মা আমেনা বেগমকে দেখিয়েছেন নিউজবাংলার কুমিল্লা প্রতিবেদক।

আমেনা বেগমও নিশ্চিত করেন, ছবিটি তার ছেলে ইকবাল হোসেনের।

কুমিল্লা জোলা পুলিশের ডিআইও মনির আহমেদ জানান, বিকালে সংবাদ সম্মেলনে ইকবালের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কুমিল্লায়
কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর চলে ভাঙচুর

ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

যেখান থেকে সাম্প্রদায়িক এই সহিংসতার শুরু, সেই নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপে কীভাবে উত্তেজনার শুরু এবং মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এলো, সে বিষয়ে মঙ্গলবার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

পূজার আয়োজক, এলাকাবাসী, তদন্তকারী কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার আগের রাত আড়াইটা পর্যন্ত মন্দিরে পূজাসংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি ছিল। এরপর বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দুজন নারী ভক্ত মণ্ডপে এসে হনুমানের মূর্তিতে প্রথম কোরআন শরিফটি দেখতে পান।

পরে বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৩টার দিকে এক ব্যক্তি কোরআন শরিফটি রেখে যান মণ্ডপে। এ সময় হনুমানের হাতের গদাটি সরিয়ে নেন তিনি। গদা হাতে তার চলে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে ওই এলাকারই কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরায়।

মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কুমিল্লায়
মণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখার পর হনুমানের গদা হাতে হেঁটে যাওয়া ইকবাল

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে বেরিয়ে আসে মণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখা যুবকের নাম ইকবাল হোসেন। ৩০ বছর বয়সী ইকবাল কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিতীয় মুরাদপুর-লস্করপুকুর এলাকার নূর আহম্মদ আলমের ছেলে। নূর আলম পেশায় মাছ ব্যবসায়ী।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, মণ্ডপে কোরআন রাখায় যে চক্রটি জড়িত, ইকবাল তাদের একজন। তিনি কোরআন রাখার পর ভোরে আরেক অভিযুক্ত ইকরাম হোসেন (৩০) ঘটনাস্থল থেকে ৯৯৯-এ কল করেন।

ইকবালের সহযোগী সন্দেহে ইকরামসহ অন্তত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কুমিল্লা নগরীর শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের সহকারী খাদেম হিসেবে পরিচিত হুমায়ুন আহমেদ ও ফয়সাল আহমেদও রয়েছেন। এই মাজারের মসজিদ থেকেই কোরআন নিয়ে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল।

মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কুমিল্লায়
প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন মাজারের মসজিদ থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে রওনা হন মণ্ডপের দিকে

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের যে অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়া যায়, সেখানে শুরুতে প্রবেশে ব্যর্থ হয়েছিলেন প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন। এরপর তিনি গিয়েছিলেন ওই মণ্ডপ থেকে কিছুটা দূরে দিগম্বরীতলার গুপ্ত জগন্নাথ মন্দিরে।

মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কুমিল্লায়
এই মন্দিরের তালা ভাঙতে ব্যর্থ হন ইকবাল

আরও পড়ুন: কোরআন রাখতে আরেকটি মন্দিরেও গিয়েছিলেন ইকবাল


মন্দিরটির গেটের তালা লাঠি দিয়ে ভাঙতে ব্যর্থ হন ইকবাল। এরপর আবার ফিরে আসেন নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে। এ সময় পূজাসংশ্লিষ্টদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তিনি কোরআন শরিফটি হনুমানের ওপর রাখেন। মসজিদ থেকে বের হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর কোরআন রেখে হনুমানের গদা হাতে ফিরে আসেন ইকবাল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইকবাল গ্রেপ্তার হওয়ায় এখন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত এবং আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন:
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর কথায় দায়িত্ব নিতে রাজি হই: হেলেনা
জেলা আ. লীগের পদ আগেই হারিয়েছেন হেলেনা
চাকরিজীবী লীগ: আওয়ামী লীগে পদ খোয়ালেন হেলেনা
চাকরিজীবী লীগের নেতা বানাতে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন

শেয়ার করুন

কুমিল্লার সহিংসতায় আহত দিলীপের মৃত্যু

কুমিল্লার সহিংসতায় আহত দিলীপের মৃত্যু

নিহত দিলীপ দাস। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘কুমিল্লার সহিংসতায় আহত দিলীপ দাসকে ১৩ তারিখ রাত দেড়টার দিকে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ১৫ তারিখে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়।’

কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার জেরে ঘটে যাওয়া সহিংসতায় আহত দিলীপ দাসের মৃত্যু হয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া।

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার সহিংসতায় আহত দিলীপ দাসকে ১৩ তারিখ রাত দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন তিনি।

‘পরে অবস্থার অবনতি হলে ১৫ তারিখে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।’

দিলীপের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে রাখা রয়েছে বলেও জানান বাচ্চু মিয়া।

নিহতের ভাই অর্জুন কুমার দাশ জানান, ১৩ তারিখ মনোহরপুর রাজেশ্বরী মন্দিরে পূজার জন্য যান দিলীপ। তখনই সেখানে হামলা হয়। মণ্ডপ লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। ইটের টুকরা গিয়ে লাগে দিলীপের মাথায়।

স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়।

কুমিল্লা মহানগর পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অচিন্ত দাস টিটু বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। তার মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি। এ সহিংসতায় কুমিল্লার ১৭ পূজামণ্ডপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন।’

কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এম তানভীর হোসেন বলেন, ‘আহত দিলীপ দাসের মারা যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। খোঁজখবর নিয়ে বিস্তারিত বলা হবে।’

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

আরও পড়ুন:
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর কথায় দায়িত্ব নিতে রাজি হই: হেলেনা
জেলা আ. লীগের পদ আগেই হারিয়েছেন হেলেনা
চাকরিজীবী লীগ: আওয়ামী লীগে পদ খোয়ালেন হেলেনা
চাকরিজীবী লীগের নেতা বানাতে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন

শেয়ার করুন

কুমিল্লায় নেয়া হচ্ছে ইকবালকে

কুমিল্লায় নেয়া হচ্ছে ইকবালকে

মণ্ডপে কোরআন রাখায় প্রধান অভিযুক্ত ইকবালের ফাইল ছবি (বাঁয়ে), কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্টে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারের পর পুলিশ হেফাজতে (ডানে)। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল কী জানিয়েছেন তা বলেননি কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ইকবালের বিষয়ে বিস্তারিত সব তথ্যই কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানাবে। ইকবালকে গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আনোয়ার হোসেন বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কক্সবাজারে গ্রেপ্তার ইকবালই কুমিল্লার ইকবাল।’

কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেনকে কক্সবাজার থেকে নেয়া হচ্ছে কুমিল্লায়।

কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কক্সবাজারের এসপি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার ভোরে তাকে নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয় পুলিশের একটি দল।

পুলিশ বহরের নেতৃত্বে আছেন কুমিল্লার সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সোহান।

ইকবালকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই অভিযানটি কক্সবাজার জেলা পুলিশের নয়, কুমিল্লা জেলা পুলিশের। আমরা তাদের সাহায্য করেছি।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল কী জানিয়েছেন তা বলেননি পুলিশের এই কর্মকর্তা। তিনি জানান, ইকবালের বিষয়ে বিস্তারিত সব তথ্যই কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানাবে।

ইকবালকে গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আনোয়ার হোসেন বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কক্সবাজারে গ্রেপ্তার ইকবালই কুমিল্লার ইকবাল।’

কক্সবাজারের গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে থাকা ইকবালের ছবি সংগ্রহ করে কুমিল্লায় তার মা আমেনা বেগমকে দেখিয়েছেন নিউজবাংলার কুমিল্লা প্রতিবেদক।

আমেনা বেগমও নিশ্চিত করেন, ছবিটি তার ছেলে ইকবাল হোসেনের।

কুমিল্লা জোলা পুলিশের ডিআইও মনির আহমেদ জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টর দিকে কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পৌঁছে যাবে ইকবালকে বহনকারী পুলিশের বহরটি। বিকালে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

কুমিল্লায় নেয়া হচ্ছে ইকবালকে
কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর চলে ভাঙচুর

ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

যেখান থেকে সাম্প্রদায়িক এই সহিংসতার শুরু, সেই নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপে কীভাবে উত্তেজনার শুরু এবং মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এলো, সে বিষয়ে মঙ্গলবার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

পূজার আয়োজক, এলাকাবাসী, তদন্তকারী কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার আগের রাত আড়াইটা পর্যন্ত মন্দিরে পূজাসংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি ছিল। এরপর বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দুজন নারী ভক্ত মণ্ডপে এসে হনুমানের মূর্তিতে প্রথম কোরআন শরিফটি দেখতে পান।

পরে বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৩টার দিকে এক ব্যক্তি কোরআন শরিফটি রেখে যান মণ্ডপে। এ সময় হনুমানের হাতের গদাটি সরিয়ে নেন তিনি। গদা হাতে তার চলে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে ওই এলাকারই কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরায়।

কুমিল্লায় নেয়া হচ্ছে ইকবালকে
মণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখার পর হনুমানের গদা হাতে হেঁটে যাওয়া ইকবাল

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে বেরিয়ে আসে মণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখা যুবকের নাম ইকবাল হোসেন। ৩০ বছর বয়সী ইকবাল কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিতীয় মুরাদপুর-লস্করপুকুর এলাকার নূর আহম্মদ আলমের ছেলে। নূর আলম পেশায় মাছ ব্যবসায়ী।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, মণ্ডপে কোরআন রাখায় যে চক্রটি জড়িত, ইকবাল তাদের একজন। তিনি কোরআন রাখার পর ভোরে আরেক অভিযুক্ত ইকরাম হোসেন (৩০) ঘটনাস্থল থেকে ৯৯৯-এ কল করেন।

ইকবালের সহযোগী সন্দেহে ইকরামসহ অন্তত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কুমিল্লা নগরীর শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের সহকারী খাদেম হিসেবে পরিচিত হুমায়ুন আহমেদ ও ফয়সাল আহমেদও রয়েছেন। এই মাজারের মসজিদ থেকেই কোরআন নিয়ে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল।

কুমিল্লায় নেয়া হচ্ছে ইকবালকে
প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন মাজারের মসজিদ থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে রওনা হন মণ্ডপের দিকে

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের যে অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়া যায়, সেখানে শুরুতে প্রবেশে ব্যর্থ হয়েছিলেন প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন। এরপর তিনি গিয়েছিলেন ওই মণ্ডপ থেকে কিছুটা দূরে দিগম্বরীতলার গুপ্ত জগন্নাথ মন্দিরে।

কুমিল্লায় নেয়া হচ্ছে ইকবালকে
এই মন্দিরের তালা ভাঙতে ব্যর্থ হন ইকবাল

আরও পড়ুন: কোরআন রাখতে আরেকটি মন্দিরেও গিয়েছিলেন ইকবাল


মন্দিরটির গেটের তালা লাঠি দিয়ে ভাঙতে ব্যর্থ হন ইকবাল। এরপর আবার ফিরে আসেন নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে। এ সময় পূজাসংশ্লিষ্টদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তিনি কোরআন শরিফটি হনুমানের ওপর রাখেন। মসজিদ থেকে বের হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর কোরআন রেখে হনুমানের গদা হাতে ফিরে আসেন ইকবাল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইকবাল গ্রেপ্তার হওয়ায় এখন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত এবং আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন:
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর কথায় দায়িত্ব নিতে রাজি হই: হেলেনা
জেলা আ. লীগের পদ আগেই হারিয়েছেন হেলেনা
চাকরিজীবী লীগ: আওয়ামী লীগে পদ খোয়ালেন হেলেনা
চাকরিজীবী লীগের নেতা বানাতে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন

শেয়ার করুন