কোরবানি নিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ‘ফতোয়া’

কোরবানি নিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ‘ফতোয়া’

রাজধানীতে রিকশা ও ভ্যান চালকদের মধ্যে কোরবানির মাংস বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী

‘আল্লাহর বিধান কোরবানির তিন ভাগের দুই ভাগ গরিব মানু্ষের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। ইসলামের এই বিধান যদি আমরা সঠিকভাবে মানতাম, তাহলে দেখা যেত, ঈদের দিন নামাজের পর গরিবের ঘরে মাংস যেত। শুধু তাই না গরিবের ঘরের ছেলে মেয়েরা সপ্তাহে একদিন মাংস খেতে পারত।’

কোনো গরিব মানুষ না খেয়ে থাকলে, তার বাড়িতে মাংস না দিলে কোরবানি হবে না বলে মত দিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

দুপুরে রাজধানীর মীর হাজীরবাগে রিকশা ও ভ্যান চালকদের মধ্যে কোরবানির মাংস বিতরণকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি একটি অনলাইন আলোচনায় এসে আলোচিত এক ধর্মীয় বক্তার সঙ্গে বিতর্কের পর ইসলাম নিয়ে জাফরুল্লাহর পড়াশোনার কথা এসেছে গণমাধ্যমে।

তিনি বলেন, ‘আল্লাহর বিধান কোরবানির তিন ভাগের দুই ভাগ গরিব মানু্ষের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। ইসলামের এই বিধান যদি আমরা সঠিকভাবে মানতাম, তাহলে দেখা যেত, ঈদের দিন নামাজের পর গরিবের ঘরে মাংস যেত। শুধু তাই না গরিবের ঘরের ছেলে মেয়েরা সপ্তাহে একদিন মাংস খেতে পারত।’

রিকশা ও ভ্যানচালকদের উদ্দেশে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রধান বলেন, ‘আপনারা কঠিন পরিশ্রম করেন। কিন্তু সড়কে আপনারা ঠিক মতন চলাফেরা করতে পারেন না। পুলিশের কোনো অধিকার নেই, আপনাকে গালি দেয়ার, আপনার পিঠে থাপ্পড দেয়ার। তারা আপনাদের কাছ থেকে ঘুষ খান।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশ ভাইয়েরা, বড় লোকদের কাছ থেকে ঘুষ খান। রিকশা, ভ্যান চালকদের কাছ থেকে খাইয়েন না।’

একটি নির্দিষ্ট টাকা জমা দিলে রিকশা ও ভ্যান শ্রমিকরা গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে চিকিৎসা পাবেন বলেও জানান জাফরুল্লাহ। বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ, মাত্র ২০০ টাকা দিয়ে মাসব্যাপী গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের চিকিৎসা নেন। এর ফলে আপনার শরীর ভালো থাকবে। আপনার পরিবার ভালো থাকবে। আপনাদের ছেলে মেয়েরা গণস্বাস্থ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের কম খরচে পড়ার সুযোগ পাবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর আদর্শ ও তাঁর জীবন যাপন বাস্তবায়ায়িত হলে দেশে একজন মানুষও না খেয়ে থাকত না।’

তিনি বলেন, “মওলানা ভাসানীর একটি উক্তি ‘কেউ খাবে, কেউ খাবে না, তা হবে না, তার হবে না’। আমাদের সবাইকে এ উক্তি মনে রেখে গরির অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। নতুবা আমাদের সবাইকে মরণের পর আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।’

ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ এ রেজার পরিচালনায় স্থানীয় সামাজ সেবক মোজাম্মেল হক মাস্টারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ফরিদ উদ্দিন, ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন।

আরও পড়ুন:
নূর বলছেন ক্ষমা চেয়েছে বিএনপি, জাফরুল্লাহ বলছেন ‘না’
রূপগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডের দায় আমলাদের: জাফরুল্লাহ
জাফরুল্লাহর দাবি, ৫০ লাখ করে দেয়া হোক ক্ষতিপূরণ
এখন বেক্সিমকোর মতোই এজেন্ট হতে চান জাফরুল্লাহ
বিএনপিতে বিরক্ত জাফরুল্লাহ, বললেন তারা গোঁয়ার

শেয়ার করুন

মন্তব্য