খালেদার পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা ফখরুলের

খালেদার পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা ফখরুলের

২০২০ সালর ২৫ মার্চ মুক্তি হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী কোনো রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন না। এমনকি জাতীয় দিবসগুলোতেও তিনি কোনো বাণী দেননি একবারের জন্যও, ঈদের শুভেচ্ছাও জানাননি দেশবাসীকে।

দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ড স্থগিত হওয়ার পর সাময়িক মুক্ত দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে দেশবাসী ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘২১ জুলাই পবিত্র ঈদুল আজহা। আমি আপনাদের মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সারাদেশের মানুষকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি, দেশবাসীকে ঈদ মোবারক জানাচ্ছি।’

রোববার বিএনপি নেতা সংবাদ সম্মেলনে আসেন। এ সময় তিনি দলীয় প্রধানের পক্ষ থেকে এই শুভেচ্ছা জানান।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজার পর কারাগারে যাওয়া খালেদা জিয়া পরে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হন।

করোনার প্রাদুর্ভাবের পর তার স্বজনদের আবেদনে সাড়া দিয়ে নির্বাহী আদেশে বিএনপি প্রধানের দণ্ড ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বছরের ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে ফেরেন বাড়িতে।

দেশে থেকে চিকিৎসা ও বিদেশে না যাওয়ার দুই শর্তে এই মুক্তির মেয়াদ পরে আরও দুই বার ছয় মাস করে বাড়ে। এই সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কোনো রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন না। এমনকি জাতীয় দিবসগুলোতেও তিনি কোনো বাণী দেননি একবারের জন্যও, ঈদের শুভেচ্ছাও জানাননি দেশবাসীকে।

ফখরুল তার হয়ে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি করোনায় প্রাণ হারানো মানুষদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং এখনও যারা আক্রান্ত আছেন তাদের সুস্থতা কামনা করেন।

এ সময় খালেদা জিয়ার টিকা প্রসঙ্গ নিয়েও কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। তাদের নেত্রী কবে টিকা নেবেন- জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, ‘এটা উনার চিকিৎসকরা বলতে পারবেন।’

গত ৮ জুলাই ‘সুরক্ষা’ অ্যাপসের মাধ্যমে করোনার টিকা নিতে নিবন্ধন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন । ওয়েবসাইটে খালেদা জিয়ার টিকার স্থান মহাখালী ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতাল লেখা হয়েছে। ১০ দিন পর আজ তার নিবন্ধনের এসএমএস এসেছে।

বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে ৫৩ দিন চিকিৎসা শেষে গত ১৯ জুন ৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়া তার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ফেরেন।

গত ১৪ এপ্রিল তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। প্রথম তিন সপ্তাহ চিকিৎসা চলে বাসায়। পরে ২৭ এপ্রিল নেয়া হয় হাসপাতালে।

হাসপাতালে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ চেয়ে আবেদন করা হয়। তবে সরকার জানায়, যে বিধিতে তার দণ্ড স্থগিত করে মুক্তি দেয়া হয়েছে, সেই একই বিধি দ্বিতীয়বার প্রয়োগের সুযোগ নেই।

পরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া তার দণ্ড মওকুফের জন্য রাষ্ট্রপতির আছে ক্ষমার আবেদন করতে পারেন। তিনি তা গ্রহণ করলেই বিদেশে যেতে পারবেন।

আরও পড়ুন:
ফখরুল জেনেছেন, খাদ্যের অভাবে কষ্টে মানুষ
এগুলো দিবাস্বপ্ন: কাদেরকে ফখরুল
খালেদা নিয়ে বক্তব্য রুচিহীন কল্পকাহিনি: ফখরুল
‘জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায়’ তারেকের ‘নতুন দিকনির্দেশনা’
সরকারের আচরণ হানাদার বাহিনীর মতো

শেয়ার করুন

মন্তব্য