কারও নির্দেশে জোট ছাড়িনি, এই হেডলাইনে নিউজ করেন

কারও নির্দেশে জোট ছাড়িনি, এই হেডলাইনে নিউজ করেন

২০ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়া জমিয়ত নেতা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামী ২০ দলীয় জোট ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন বলে জানিয়েছেন জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান। এই কথা স্বীকারও করেছেন জোট ত্যাগের ঘোষণা দেয়া জমিয়তের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বাহাউদ্দিন জাকারিয়া। তবে কারও নির্দেশে এই ঘোষণা দেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

২০ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়ার আগে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীর নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বলে তথ্য পেয়েছেন জোটের সমন্বয়ক বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান। জোট ত্যাগের ঘোষণা দেয়া জমিয়ত নেতা বাহাউদ্দিন জাকারিয়াও এই বৈঠকের কথা স্বীকার করেছেন।

তবে ওই বৈঠকের সঙ্গে তার জোট ছাড়ার ঘোষণার কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন জমিয়তের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বাহাউদ্দিন জাকারিয়া।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কারও নির্দেশে জোট ছাড়িনি, এই হেডলাইনে নিউজ করেন।’

বুধবার দুপুরে জাকারিয়া হঠাৎ সংবাদ সম্মেলনে আসেন দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে। তার দলের সাংগঠনিক শক্তি বা জনভিত্তি এমন কিছু নেই। বিএনপি এসব দলকে জোটে নিয়ে কতটা লাভবান হয়েছে, এ নিয়ে বিতর্ক সেই শুরু থেকেই।

তার পরেও কোনো শরিকের বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ছেড়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে আলোচিত খবর হয়। আর জমিয়ত এই সিদ্ধান্ত জানানোর পর জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খানের সংবাদ সম্মেলন ডাকাও প্রমাণ হয়, ঘোষণায় আলোড়ন হয়েছে জোটে।

নিউজবাংলার সঙ্গে কথা হয়েছে নজরুলের। তিনি সরাসরি কোনো অভিযোগ না করলেও জমিয়তের এই সিদ্ধান্তে সরকারের চাপের বিষয়টি ইঙ্গিত দেন।

কারও নির্দেশে জোট ছাড়িনি, এই হেডলাইনে নিউজ করেন
জমিয়ত চলে যাওয়ার পর সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন ২০ দলের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান

বিএনপি নেতা বলেন, ‘শুনেছি, আজ তারা স্বরাষ্টমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন। তার সঙ্গে দেখা করে এসে এই সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এখন আপনারা অনুমান করে নেন।’

আপনি এই জোট ছাড়ার সিদ্ধান্তের পেছনে সরকারের হাত দেখছেন?- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না আমি তা বলছি না। আমি একটা ইনফরমেশন দিলাম আরকি।’

তবে জমিয়ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কিছু তাদের জানায়নি বলেও জানান নজরুল ইসলাম খান।

জমিয়তের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যাওয়া রাজনীতির বাইরেও অন্য হিসাব-নিকাশ আছে। গত এপ্রিল থেকে হেফাজতে ইসলামের যেসব নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদের মধ্যে এই দলের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন আছেন।

কারও নির্দেশে জোট ছাড়িনি, এই হেডলাইনে নিউজ করেন
এপ্রিলে সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় বহু নেতা গ্রেপ্তার হওয়ার পর হেফাজত ও কওমিপন্থি দলের নেতাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় যাতায়াত শুরু হয়

এই গ্রেপ্তার অভিযান চালানোর পর হেফাজত তার কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বিএনপি জোটের সব নেতাকে বাদ দিয়েছে। আর নেতাদের মুক্ত করতে দফায় দফায় হেফাজতের শীর্ষস্থানীয়রা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে আসছেন।

জমিয়ত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব, শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী, মনির হোসেন কাসেমী, খালিদ সাইফুল্লাহ সাদী, মোহাম্মদ উল্লাহ জামী এখন কারাগারে। গত মার্চ ও এপ্রিলে হেফাজতের সহিংসতা মামলার পাশাপাশি ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর তাণ্ডবের মামলায় এদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনেছে পুলিশ।

‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে, তবে জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত এ কারণে নয়’

জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়া জমিয়তের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বাহাউদ্দিন জাকারিয়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

২০ দল ছাড়ার ঘোষণায় ওই বৈঠকের কী ভূমিকা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেখা করা না করা সেটা বিষয় না। তবে আমরা কারও নির্দেশে জোট ছাড়িনি। আমরা কারও পরামর্শে এই সিদ্ধান্ত নিইনি। আমাদের দলের সিনিয়ররা আলোচনা করে তৃণমূল নেতাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

‘তারা শরিকদের মূল্যায়ন করে না।‘

কী ধরনের মূল্যায়ন আপনারা চান?- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা কারও পরামর্শ নেয় না। একতরফা সিদ্ধান্ত নেয়। তাছাড়া এত আলেম গ্রেপ্তার হলেও তারা প্রতিবাদ করেনি। দুঃসময়ে পাশে না থাকলে কিসের জোট?’

কারও নির্দেশে জোট ছাড়িনি, এই হেডলাইনে নিউজ করেন
বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগের ঘোষণা দিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীর সংবাদ সম্মেলন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জমিয়ত নেতা বলেন, ‘জোটের শরিক দলের যথাযথ মূল্যায়ন না করা, সম্প্রতি শরিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ, মতামত না নিয়ে তিনটি আসনের উপনির্বাচন এককভাবে বর্জনের ঘোষণা করা, বিএনপি মহাসচিবের শরিয়া আইনে বিশ্বাসী না হওয়ার বক্তব্য দেয়া, দেশব্যাপী আলেম ওলামাদের জেল-জুলুমের প্রতিবাদ না করা এবং জোটের শীর্ষ নেতা জমিয়ত মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর ইন্তেকালের পর বিএনপির পক্ষ থেকে সমবেদনা প্রকাশ না করা এবং জানাজায় অংশগ্রহণ না করায় জমিয়তের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। তাই জমিয়ত মনে করে, ২০ দলীয় জোট থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করাই জমিয়তের জন্য কল্যাণকর।’

‘জামায়াত ছাড়া অন্য দল গোনার মতো না’

২২ বছর জোটবদ্ধ থাকার পর ২০ দল ছেড়ে যাওয়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীকে রাজনৈতিক দল হিসেবে পাত্তাই দিচ্ছেন না বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমিরউদ্দিন সরকার।

দুই দশকের জোটসঙ্গীর এভাবে চলে যাওয়াকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন, জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমিরউদ্দিন সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আপনার থেকে মাত্র শুনলাম। যদিও তারা থাকল কি থাকল না, তাতে বিএনপির এমন কোনো ক্ষতি হবে না। আসলে জামায়াত ছাড়া অন্য দল গোনার মতো না।’

তিনি বলেন, ‘তারা তো বাতাসে উড়ে, বাতাস যেদিকে থাকে, সেদিকে তারা যায়। তাদের নিজের কোনো অস্তিত্ব নেই।’

কবে জোট, কারা ছেড়ে গেল

১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক দলগুলোর মোর্চা ইসলামী ঐক্যজোট নিয়ে গঠিত হয় চারদলীয় জোট।

কারও নির্দেশে জোট ছাড়িনি, এই হেডলাইনে নিউজ করেন
১৯৯৯ সালে জাতীয় পার্টি, জামায়াত, ইসলামী ঐক্যজোট নিয়ে গঠন হয় চারদলীয় জোট। সে সময় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও এই জোটের নেতা ছিলেন। পরে দলের সংখ্যা বাড়ায় হয় ২০ দল

এই ইসলামী ঐক্যজোটের একটি শরিক ছিল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামী।

ইসলামী ঐক্যজোট পাঁচ বছর আগে ২০১৬ সালে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করে। আর চারদলীয় জোট গঠনের সময় ইসলামী ঐক্যজোটের প্রধান নেতা আজিজুল হক তারও ১০ বছর আগে ২০০৬ সালেই চারদলীয় জোট ছাড়েন।

অবশ্য কোনো দল জোট ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর একই নামে অন্য দল করে ২০ দলে থেকে গেছেন কয়েকজন নেতা। এ কারণে জোটের দল কখনও কমে না।

২০১৮ সালে লেবার পার্টিও একইভাবে ২০ দল ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দেয়ার পর দলের দুজন নেতা নিজেকে চেয়ারম্যান ও মহাসচিব ঘোষণা করে ২০ দলে থেকে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

আরও পড়ুন:
আরেক শরিক ছেড়ে গেল বিএনপির জোট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রামপুরায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, সড়কে জট

রামপুরায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, সড়কে জট

বাসচাপায় ছাত্র নিহতের ঘটনায় রামপুরা ব্রিজে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

রামপুরা থানা ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আন্দোলন করতে ছাত্ররা রামপুরা ব্রিজে অবস্থান নিয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।’

রাজধানীর রামপুরায় বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনার বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার সকালে রামপুরা ব্রিজে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে বনশ্রী আইডিয়াল স্কুলের ছাত্ররা।

তাদের সঙ্গে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জড়ো হচ্ছে। এতে রামপুরা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের তথ্য নিশ্চিত করেছেন রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম।

রামপুরায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, সড়কে জট
রামপুরায় বাসচাপায় ছাত্র নিহতের বিচার চেয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

তিনি বলেন, ‘আন্দোলন করতে ছাত্ররা রামপুরা ব্রিজে অবস্থান নিয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।’

সোমবার রাতে রামপুরায় বাসের ধাক্কায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর অন্তত ৮টি বাস পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় ভাঙচুর করা হয়েছে আরও চারটি বাস।

রাজধানীতে বেশ কিছুদিন থেকেই হাফ ভাড়ার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

এরই মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়ির ধাক্কায় নিহত হয় নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈম। তার নিহতের ঘটনার বিচার দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে আসছিলেন।

আরও পড়ুন:
আরেক শরিক ছেড়ে গেল বিএনপির জোট

শেয়ার করুন

‘যারা আমাকে বিধবা করল আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন’

‘যারা আমাকে বিধবা করল আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন’

নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বিজিবি সদস্য রুবেল হোসেন মণ্ডল। ছবি: নিউজবাংলা

রুবেলের ভায়রা ভাই আবদুর রশিদ বলেন, ‘পিটিয়ে মারছে কি না তা বলতে পারব না। তবে বিজিবি যে ভাষ্য এখানে দিছে তা হলো, গলায় গুলি লাগছে। পোস্টমর্টেম বা কাটাকাটি যে করছে আমরা তার প্রমাণ পাইছি। লাশের গলায় কাফনের কাপড় প্যাঁচায়ে রাখা ছিল।’

বাবা, মা, স্ত্রী আর দুই সন্তান নিয়ে ছিল রুবেল হোসেন মণ্ডলের সংসার। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষে সহিংসতায় রুবেলের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে বাকি সদস্যরা এখন দিশেহারা।

২০০৩ সালের ডিসেম্বরে বিজিবিতে যোগ দেন রুবেল। নীলফামারী-৫৬ বিজিবির ল্যান্স নায়েক রুবেলের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শালমারা ইউনিয়নের বেইগুনি গ্রামে।

গ্রামের বাড়িতেই থাকেন কৃষক বাবা নজরুল ইসলাম, মা রুলি বেগম, স্ত্রী জেসমিন বেগম এবং দুই সন্তান রাফিহুর রহমান ও রাফিয়া আকতার রিয়া।

২৮ নভেম্বর নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের গাড়াগ্রাম ইউপি নির্বাচনের ফল ঘোষণা শেষে পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাতীয় পার্টির পরাজিত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিকের সমর্থকরা হামলা চালায়। হামলায় রুবেল নিহত হন বলে অভিযোগ ওঠে।

মোবাইলে কথা হয় রুবেলের স্ত্রী জেসমিন বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কীভাবে সে মারা গেল এখনও জানতে পারি নাই। কেউ বলে গুলিতে মরছে। কেউ বলে ডাংগে (পিটিয়ে) মারছে।

‘বিজিবির সদস্যরা বাড়িত লাশ আনছে। সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে মাটি হইছে। এখন আমার ছেলেমেয়েকে দেখবে কে? আমরা চলব কীভাবে?’

এতটুকু বলার পর কিছুক্ষণ থেমে জেসমিন আবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার চাই। যারা আমাকে বিধবা করল আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন।’

রুবেলের ১২ বছরের ছেলে রাফিহুর স্থানীয় একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে আর ১০ বছরের মেয়ে রিয়া পড়ে পঞ্চম শ্রেণিতে।

বাবার মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে দুই সন্তানই কেঁদে যাচ্ছে।

রুবেলের বাবা নজরুল ইসলামের প্রশ্ন, ‘ছেলেটাক ওমরা (তারা) কীসক (কেন) মারল? ওর কী দোষ?’

মায়ের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে রুলি বেগম কিছুই বলতে পারেননি। শুধু কাঁদছিলেন।

রুবেলের হত্যার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা হবে না বলে জানানো হয়েছে। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় মৃত্যু হওয়ায় বিজিবির পক্ষ থেকে মামলা হবে বলে জানানোয় তাদের এই সিদ্ধান্ত।

মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে রুবেলের ভায়রা ভাই আবদুর রশিদ বলেন, ‘পিটিয়ে মারছে কি না তা বলতে পারব না। তবে বিজিবি যে ভাষ্য এখানে দিছে তা হলো, গলায় গুলি লাগছে। পোস্টমর্টেম বা কাটাকাটি যে করছে আমরা তার প্রমাণ পাইছি। লাশের গলায় কাফনের কাপড় প্যাঁচায়ে রাখা ছিল।’

তবে কার গুলিতে মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত নন রশিদ। তিনি বলেন, ‘পুলিশের গুলিতেও হতে পারে, বিজিবির গুলিতেও হতে পারে। আবার আর কেউও গুলি করতে পারে। তবে গুলিতেই যে মারা গেছেন এটা সত্যি।

‘ডিফেন্সের যে পলিসি আছে সে মোতাবেক কিছু টাকা, দাফনের অর্থ আর চাল-ডাল পেয়েছি। বিজিবিই মামলা করবে বলেছে। তাই পরিবার কোনো মামলা করবে না।’

শালমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমির হোসেন শামীম জানান, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রুবেলের দাফন হয়েছে। জানাজায় পরিবার, প্রতিবেশী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেয়।

চেয়ারম্যান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রুবেলের পরিবার একেবারে অসহায় হয়ে গেল। তার অর্থেই পুরো পরিবার চলত। পরিবারটাকে এখন কে দেখবে?’

নির্বাচনি সহিংসতায় বিজিবি সদস্য নিহতের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নীলফামারী পুলিশ।

আরও পড়ুন:
আরেক শরিক ছেড়ে গেল বিএনপির জোট

শেয়ার করুন

রামপুরায় শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়া বাসের হেলপার গ্রেপ্তার

রামপুরায় শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়া বাসের হেলপার গ্রেপ্তার

অনাবিল পরিবহনের এক বাসের চাপায় প্রাণ গেছে এসএসসি পরীক্ষা দেয়া এক শিক্ষার্থীর। ছবি: সংগৃহীত

সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা বাজারে সোনালী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় অনাবিল পরিবহনের একটি বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় মাইনুদ্দিন নামের এক শিক্ষার্থীর। ঘটনার সময় চালককে আটকরা করা গেলেও পালিয়ে গিয়েছিলেন হেলপার।

রাজধানীর রামপুরায় বাসের ধাক্কায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় বাসটির হেলপার চান মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

সায়েদাবাদ এলাকা থেকে মঙ্গলবার সকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে র‌্যাবের মিডিয়া উইং থেকে ক্ষুদে বার্তায় নিশ্চিত করা হয়েছে।

সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা বাজারে সোনালী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় অনাবিল পরিবহনের একটি বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় মাইনুদ্দিন নামের এক শিক্ষার্থীর।

মাইনুদ্দীন একরামুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ায় বাবার ব্যবসায় সহযোগিতা করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা বাজারে সোনালী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা অনাবিল পরিবহনের একাধিক বাসসহ অন্তত আটটি বাসে আগুন ও চারটি বাস ভাঙচুর করে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ এসে রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

দুর্ঘটনার সময় চালককে আটক করে প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাকে পিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে দেয়া হয়। বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই চালক।

ঘটনার পর পালিয়ে যান হেলপার চান মিয়া।

আরও পড়ুন:
আরেক শরিক ছেড়ে গেল বিএনপির জোট

শেয়ার করুন

‘শ্যাকেট’ আবার কোনটি

‘শ্যাকেট’ আবার কোনটি

এই ঠান্ডা এই গরম আবহাওয়ায় শ্যাকেট বেশ আরামদায়ক।

শীতের ঠান্ডা ও গরম মাথায় রেখেই হালের ফ্যাশনে যোগ হয়েছে নতুন পোশাক ‘শ্যাকেট’। শার্ট ও জ্যাকেটের মাঝামাঝি এক ধরনের পোশাক হলো শ্যাকেট। অর্থাৎ, না শার্ট, না জ্যাকেট, বরং এই দুই পোশাক মিলেই তৈরি হয় শ্যাকেট। বর্তমান সময়ে এ পোশাক ফ্যাশন অনুসারীদের অন্যতম চাহিদা।

ফ্যাশনে নতুনত্ব আসাটাই স্বাভাবিক। সময়ের তালে তালে বদলে যায় পোশাকের ধরন ও নকশা। কখনও আবার পুরোনো পোশাকই ফিরে আসে নতুন রূপে। ফ্যাশনের জগতে সেটিও একটি শক্ত অবস্থান গড়ে।

দরজায় উঁকি দিচ্ছে শীতকাল। তবে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন জায়গাতেই। এখনও শীতের ভারী বা মোটা কাপড়ের পোশাক পরার সময় আসেনি, তবে হালকা শীতকেও তো উপেক্ষা করা যায় না।

এই দিকটি মাথায় রেখেই হালের ফ্যাশনে যোগ হয়েছে নতুন পোশাক ‘শ্যাকেট’। শুনে অনেকেরই মনে হতে পারে শ্যাকেট আবার কী?

শার্ট ও জ্যাকেটের মাঝামাঝি এক ধরনের পোশাক হলো শ্যাকেট। অর্থাৎ, না শার্ট, না জ্যাকেট, বরং এই দুই পোশাক মিলেই তৈরি হয় শ্যাকেট। বর্তমান সময়ে এ পোশাক আবার ফ্যাশন অনুসারীদের অন্যতম চাহিদা।

এর সুবিধাও আবার কম না। প্রকৃতিতে এখন এই ঠান্ডা, এই গরম আবহাওয়া। তাই শুধু শার্ট পরে যেমন স্বস্তি লাগে না, তেমনি আবার জ্যাকেট পরেও হতে পারে গরম লাগার চরম অস্বস্তি। এ পরিস্থিতিতে ‘শ্যাকেট’ই যে ভরসা।

চামড়াজাত লেদার, পাতলা উল ও ডেনিম ফেব্রিকের মতো উপকরণ দিয়ে তৈরি শ্যাকেট হালকা শীতে যথাযথ বলা চলে। এ ধরনের পোশাকের ওজনও বেশ হালকা।

শ্যাকেটেরও রয়েছে নানা ধরন। লং শ্যাকেট, শর্ট শ্যাকেট, বেল্ট বা ফিতা দেয়া শ্যাকেট ইত্যাদি। এগুলোর একেকটাতে থাকে আবার একেক ধরনের প্রিন্ট। কোনোটা আবার হয় এক রঙের।

শর্ট শ্যাকেট

‘শ্যাকেট’ আবার কোনটি

যেকোনো ধরনের টপস, টি শার্ট বা স্কার্টের সঙ্গে পরা যায় শর্ট শ্যাকেট। দেখতেও লাগে বেশ। তারকারাও তাদের ফ্যাশনে জুড়ে নিয়েছেন নতুন এ পোশাককে।

লং শ্যাকেট

‘শ্যাকেট’ আবার কোনটি

পাতলা টি শার্ট বা টপসের ওপর জড়িয়ে নিতে পারেন লম্বা শ্যাকেট। জিনস বা বিভিন্ন প্যান্টের সঙ্গেও বেশ মানানসই লম্বা শ্যাকেট। শীত বা গরমে বিমানবন্দরগুলোতে তারকাদের প্রায়ই দেখা যায় লং শ্যাকেটে।

বেল্ট বা ফিতা দেয়া শ্যাকেট

‘শ্যাকেট’ আবার কোনটি

শ্যাকেটে মোটা ফিতা ব্যবহার করে সহজেই যুক্ত হতে পারে হাল ফ্যাশনে। বন্ধ গলার টপ, চাপা জিনস বা কিছুটা ঢোলা ট্রাউজারের সঙ্গে ফিতা দেয়া শ্যাকেট পরা যায় রাতের অনুষ্ঠানেও। এতে ফ্যাশন আর প্রয়োজন মেটে একসঙ্গে।

আরও পড়ুন:
আরেক শরিক ছেড়ে গেল বিএনপির জোট

শেয়ার করুন

তৃতীয় ধাপে আ.লীগের ৫২৫, স্বতন্ত্র ৪৪৬ চেয়ারম্যান

তৃতীয় ধাপে আ.লীগের ৫২৫, স্বতন্ত্র ৪৪৬ চেয়ারম্যান

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। ফাইল ছবি

ইসি সচিবালয় জানায়, নির্বাচনে ১ কোটি ৭৫ লাখ ৫৫ হাজার ২৬৬ ভোটারের মধ্যে ১ কোটি ৩০ লাখ ২৮ হাজার ৩১৮টি ভোট পড়েছে। এবার ভোটার উপস্থিতির হার ৭৪ দশমিক ২১ শতাংশ।

সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৫২৫ প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন। যার মধ্যে ৯৯ ইউপিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন ৯৯ জন।

তৃতীয় ধাপে ১ হাজার ৮টি ইউপিতে নির্বাচনের কথা থাকলেও নির্বাচন হয়েছে হাজারটিতে। যার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান হয়েছেন ৪৪৬ জন।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে একজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বলে সোমবার রাতে জানিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।

বেসরকারি ফলের ভিত্তিতে এ তথ্য জানায় নির্বাচন কমিশন।

রোববার নির্বাচনের পর নির্বাচন কমিশন দাবি করে, সহিংসতা ছাড়াই তৃতীয় ধাপের নির্বাচন সুষ্ঠ ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের দিন ও পরের দিনের সহিংসতায় দেশে ১০ প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

ইসি সচিবালয় জানায়, নির্বাচনে ১ কোটি ৭৫ লাখ ৫৫ হাজার ২৬৬ ভোটারের মধ্যে ১ কোটি ৩০ লাখ ২৮ হাজার ৩১৮টি ভোট পড়েছে। এবার ভোটার উপস্থিতির হার ৭৪ দশমিক ২১ শতাংশ।

আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে ১৭ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে ১ জন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ থেকে ১ জন, ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে ১ জন, সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদের একজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্মসচিব ও গণসংযোগ বিভাগের পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান নিউজবাংলাকে জানান, নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের এ ফল পাওয়া গেছে।

এবারের নির্বাচনি অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, শাখা কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন অফিসার এবং উপজেলা নির্বাচন অফিসারদের কাছ থেকে ফোনে এসব তথ্য পেয়েছে নির্বাচন কমিশন।

তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে ১ হাজার ৮টি ইউনিয়নে ভোটের কথা থাকলেও ভোট হয়েছে ১ হাজার ইউনিয়নে। ৮টিতে ভোট হয়নি। যার মধ্যে কয়েকটি ইউনিয়নে সহিংসতার কারণে ভোট স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।

এবার এবার মোট পাঁচ ধাপে দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়নের ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরই মধ্যে তিন ধাপের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এবং জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আরও দুই ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি। মেয়াদ শেষের আগেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলো শেষ করার পরিকল্পনা করেছে ইসি। গত জুন থেকে ধাপে ধাপে এসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকার প্রার্থীরা বেশি জয় পেলেও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

আরও পড়ুন:
আরেক শরিক ছেড়ে গেল বিএনপির জোট

শেয়ার করুন

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: তিনজন গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: তিনজন গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০

পুলিশ জানায়, ২৮ নভেম্বর কেন্দুয়া ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মো. রায়হান জয়ী হন। পরাজয়ের পর সোমবার সন্ধ্যায় প্রতিন্দ্বন্দ্বী প্রার্থী সাগর মিয়ার সমর্থকরা রায়হানের সমর্থকদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট চালান ও আগুন দেন। এরপর দুই পক্ষের লোকজনের সংঘর্ষ শুরু হলে তিনজন গুলিবিদ্ধসহ ২০ জন আহত হন।

মাদারীপুর সদরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় তিনজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের তালতলা গ্রামে সোমবার সন্ধ্যা থে‌কে রাত ৯টা পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধরা হলেন দত্ত কেন্দুয়া গ্রা‌মের বাবুল মজুমদার, মো. কুদ্দুস ও মো. কায়সার।

পুলিশ জানায়, ২৮ নভেম্বর কেন্দুয়া ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মো. রায়হান জয়ী হন। পরাজয়ের পর সোমবার সন্ধ্যায় প্রতিন্দ্বন্দ্বী প্রার্থী সাগর মিয়ার সমর্থকরা রায়হানের সমর্থকদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট চালান ও আগুন দেন।

এরপর দুই পক্ষের লোকজনের সংঘর্ষ শুরু হলে তিনজন গুলিবিদ্ধসহ ২০ জন আহত হন।

আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সেখান থেকে গুলিবিদ্ধদের ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মু‌জিবুর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় এখনও কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’

এর আগে সোমবার বিকেলে মস্তফাপুর ইউনিয়নের চাপাতলী গ্রামের করিম বাজার এলাকায় সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে জয়ী হাসিয়া বেগমের এক সমর্থকের বাড়িতে পরাজিত সুফিয়া বেগমের লোকজনের হামলার অভিযোগ ওঠে।

হাসিয়ার সমর্থক আনোয়ার মাতুব্বরের অভিযোগ, সুফিয়ার সমর্থকরা তার বাড়িঘর ভাঙচুর করে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছেন। হামলায় আহত হয়েছেন তার স্ত্রীসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য।

মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) গোলাম মোস্তফা রাসেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি। কোথাও সংঘর্ষের খবর পেলে দ্রুত সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। কোনোভাবেই কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’

আরও পড়ুন:
আরেক শরিক ছেড়ে গেল বিএনপির জোট

শেয়ার করুন

১২০০ টাকা দুর্নীতি মামলায় ৪৫ বছর পর নির্দোষ

১২০০ টাকা দুর্নীতি মামলায় ৪৫ বছর পর নির্দোষ

রমজান আলী ছিলেন রংপুর সাব ডিভিশনের কৃষি কর্মকর্তা। ছবি: নিউজবাংলা

রমজান আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুটি টিএ বিলে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ এনে আমার বিরুদ্ধে মামলা করে ট্রেজারি কর্মকর্তা। পরে আদালত আমাকে কারাদণ্ড দেয়। আমি তৎকালীন রংপুর হাইকোর্টের যে শাখা ছিল, সেখানে আপিল দায়ের করি, সেখান থেকে জামিন পাই। এরপর দীর্ঘ দিনেও আপিল শুনানি হয়নি। পরে আমার আইনজীবী জানিয়েছিল মামলাটি শেষ হয়ে গেছে। এরপর আর খোঁজ রাখিনি।’

১২ শ ৯০ টাকার দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ ৪৫ বছর পর দেশের সর্বোচ্চ আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের রমজান আলী। রংপুরের সাব ডিভিশনের কৃষি কর্মকর্তা থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছিল।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ তাকে শুধু খালাসই দেয়নি, ঘটনাটিকে মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করে গত ২৪ নভেম্বর আপিল বিভাগ রায় দিয়েছে। তবে তা জানা যায়, সোমবার বিকেলে।

আদালতে রমজান আলীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল হাই সরকার টুকু। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন আসিফ হাসান।

মামলা থেকে জানা যায়, স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ১ হাজার ২৯০ টাকা দুর্নীতির অভিযোগে তৎকালীন রংপুর সাব ডিভিশনের কৃষি কর্মকর্তা রমজান আলীর বিরুদ্ধে ১৯৭৭ সালে একটি মামলা হয়। মামলায় দুটি টিএ বিলের মাধ্যমে ৫১৬ টাকা ৬৮ পয়সা, ৭৭৩ টাকা ৮২ পয়সা দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়।

মামলায় তখনকার রাজশাহীর বিশেষ আদালত ১৯৮৮ সালে দুর্নীতি দমন আইনে দোষী ঘোষণা করে রমজানকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেয়। পাশাপাশি ৩০০ টাকা জরিমানা করে।

এরপর এ রায়ের বিরুদ্ধে রমজান আলী তৎকালীন রংপুর হাইকোর্টে আপিল দায়ের করেন। এরপর দীর্ঘ ৩৩ বছর আপিল বিভাগে মামলাটি শুনানির জন্য আসে। আপিল বিভাগ তাকে নির্দোষ ঘোষণা করেন।

রমজান আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুটি টিএ বিলে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ এনে আমার বিরুদ্ধে মামলা করে ট্রেজারি কর্মকর্তা। পরে আদালত আমাকে কারাদণ্ড দেয়। আমি তৎকালীন রংপুর হাইকোর্টের যে শাখা ছিল, সেখানে আপিল দায়ের করি, সেখান থেকে জামিন পাই। এরপর দীর্ঘ দিনেও আপিল শুনানি হয়নি। পরে আমার আইনজীবী জানিয়েছিল মামলাটি শেষ হয়ে গেছে। এরপর আর খোঁজ রাখিনি।’

‘হঠাৎ করে মাস দেড়েক আগে দুর্নীতি দমন কমিশন আমার খোঁজ করে। তারা আমাকে জানায় আদালত জানতে চেয়েছে আমি জীবিত আছি কি না। তখন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি সার্টিফিকেট নিয়ে তারা আদালতে দাখিল করে বলে আমি জীবিত। বিষয়টি জেনে আমিও ঢাকায় লোক পাঠিয়ে উকিল ঠিক করলাম। পরে সেই উকিল আমার পক্ষে শুনানি করেছেন। আদালত রায় দিয়ে আমাকে খালাস দিয়েছেন।’

রমজান আলী আরও বলেন, ‘এ রায়ে আমি খুশি, কিন্তু যে মামলার কারণে আমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে আমার চাকরি সংক্রান্ত সুযোগ সুবিধা না পেলে একটি ক্ষতিপূরণ মামলা করব।’

সাবেক এই কৃষি কর্মকর্তা জানান, মামলা হওয়ার পর ১৯৮১ সালে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর থেকে তিনি সে অবস্থাতেই আছেন।

রমজানের পক্ষের আইনজীবী আব্দুল হাই সরকার টুকু বলেন, ‘এ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা করা হয়নি। এ ছাড়া, যে দুটি বিল জব্দ করা হয়েছিল তারও কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়নি। আমরা আদালতে বিষয়গুলো তুলে ধরেছি আদালত সব কিছু দেখে তাকে নির্দোষ বলে রায় দিয়েছেন। এ রায়ের ফলে তার অবসরের বয়স না হলে তিনি চাকরি ফেরত পাবেন।’

আরও পড়ুন:
আরেক শরিক ছেড়ে গেল বিএনপির জোট

শেয়ার করুন