আরেক শরিক ছেড়ে গেল বিএনপির জোট

আরেক শরিক ছেড়ে গেল বিএনপির জোট

বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগের ঘোষণা দিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীর সংবাদ সম্মেলন। ছবি: নিউজবাংলা

জমিয়তের আগে ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর ২০ দলীয় জোট ছেড়ে যায় লেবার পার্টি। ২০১৬ সালের ৭ জুন ২০ দলীয় জোট ছেড়ে যায় মুফতি ফজলুল হক আমিনীর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী ঐক্যজোট। এর আগে বিএনপি শাসনামলে ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করে আলোচিত হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বাবা আজিজুল হকের খেলাফত মজলিস।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে গেছে ধর্মভিত্তিক আরও একটি দল। কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক দল জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামীর একাংশ জানিয়েছে, তারা বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আর সম্পর্ক রাখছে না।

অবশ্য একই নামে জমিয়তের আরেক অংশ এখনও ২০ দলীয় জোটে আছে। ফলে জোটে দলের সংখ্যা একই থাকছে।

বুধবার পুরানা পল্টনে দলীয় রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে এই ঘোষণা দেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া।

এর আগেও একাধিক দল বিএনপির জোট ছেড়ে চলে যাওয়ার পরও জোটে দলের সংখ্যা একই থাকে।

২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর ২০ দলীয় জোট ছেড়ে যায় লেবার পার্টি। তবে ছোট ওই দলের দুই জন নেতা নিজেদের চেয়ারম্যান ও মহাসচিব ঘোষণা করে একই নামে দল নিয়ে জোটে থেকে যান।

২০১৬ সালের ৭ জুন ২০ দলীয় জোট ছেড়ে যায় মুফতি ফজলুল হক আমিনীর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী ঐক্যজোট। যদিও আমিনী এর আগেই মারা গিয়েছিলেন।

তখনও ইসলামী ঐক্যজোট নামেই আরও একটি অংশ থেকে যায় ২০ দলীয় জোটে।

বিএনপি শাসনামলে ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করে আলোচিত হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বাবা আজিজুল হকের খেলাফত মজলিস।

সে সময়ও মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাকের নেতৃত্বে খেলাফত মজলিস নামে আরও একটি দল গঠন হয় এবং তারা বিএনপি-জামায়াত জোটে থেকে যান।

২০ দল ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে জমিয়ত নেতা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া বলেন, ‘২০ দলীয় জোট ত্যাগ করা জমিয়তের জন্য কল্যাণকর। আজ থেকে জোটের কোনো কার্যক্রমে জমিয়ত থাকবে না।’

জোট ছাড়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি, জোটের শরিক দলের যথাযথ মূল্যায়ন না করা, পরামর্শ না করে উপনির্বাচন এককভাবে বর্জন, আলেমদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ না করা, প্রয়াত জমিয়ত মহাসচিব নূর হোসেন কাসেমীর মৃত্যুতে বিএনপির পক্ষ থেকে সমবেদনা না জানানো এবং তার জানাজায় শরিক না হওয়ার কারণ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘এক বিশেষ পরিস্থিতিতে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্য গড়ে তোলে। এর ধারাবাহিকতায় ঐক্যবদ্ধভাবে কয়েকটি জাতীয় নির্বাচন অংশগ্রহণ করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় যে, জোটের শরিক দলের যথাযথ মূল্যায়ন না করা, সম্প্রতি শরিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ মতামত না নিয়ে তিনটি আসনের উপনির্বাচন এককভাবে বর্জনের ঘোষণা করা, বিএনপি মহাসচিবের শরিয়া আইনে বিশ্বাসী না হওয়ার বক্তব্য দেয়া, দেশব্যাপী আলেম ওলামাদের জেল জুলুমের প্রতিবাদ না করা এবং জোটের শীর্ষ নেতা জমিয়ত মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর ইন্তেকালের পর বিএনপির পক্ষ থেকে সমবেদনা প্রকাশ না করা এবং জানাজায় অংশগ্রহণ না করায় জমিয়তের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। তাই জমিয়ত মনে করে, ২০ দলীয় জোট থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করাই জমিয়তের জন্য কল্যাণকর।’

সঙ্গীর জোট ছেড়ে যাওয়া বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তারা এখনও আমাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। আমরা শুনেছি মাত্র।’

বিএনপি যখন জামায়াতের পাশাপাশি কওমিপন্থি ইসলামী ঐক্যজোট গঠন করে, তখন থেকেই জমিয়ত এই জোটের সদস্য। ইসলামী ঐক্যজোট মূলত কওমিপন্থি দলগুলোর একটি মোর্চা ছিল। ছোট ছোট অনেক দলের একটি ছিল জমিয়ত।

জমিয়ত এখন দুই ভাগে বিভক্ত। দুই অংশই বিএনপি-জামায়াত জোটের শরিক ছিল।

‘ভারপ্রাপ্ত’ হয়ে একটি অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাওলানা জিয়াউদ্দিন ও আর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বাহাউদ্দিন জাকারিয়া।

এই অংশের সভাপতি মাওলানা আবদুল মোমিন গত বছর মারা গেলে মাওলানা জিয়াউদ্দিন ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান। গত বছর হেফাজতের মহাসচিব থাকাকালে নূর হোসাইন কাসেমী মারা গেলে হাসচিব হন মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী।

হেফাজতের নাশকতার মামলায় গত এপ্রিলে আফেন্দি গ্রেপ্তারের পর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন বাহাউদ্দিন যাকারিয়া।

জমিয়ত ২০ দলীয় জোট ছেড়ে যেতে পারে, এমন গুঞ্জন কয়েকদিন ধরেই ছিল। এই দলটির শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতাই হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটিতে ছিলেন। আর নাশকতার ঘটনায় দলটির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা এখন কারাগারে।

গ্রেপ্তার নেতাদের মধ্যে আছন জুনায়েদ আল হাবিব, শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী, মনির হোসেন কাসেমী, খালিদ সাইফুল্লাহ সাদী, মোহাম্মদ উল্লাহ জামী।

তাদের মুক্তির জন্য সরকারের সঙ্গে জমিয়ত নানা দেন দরবার করছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে।

জমিয়তের দ্বিতীয় অংশটির নেতৃত্বে রয়েছেন মনসুরুল হাসান রায়পুরী (ভারপ্রাপ্ত সভাপতি) ও মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম (মহাসচিব)। এরা ২০ দলীয় জোটেই আছেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পাহাড়ে মৌলবাদী ও জঙ্গিবাদী শক্তি ঘাঁটি গড়ছে : মেনন

পাহাড়ে মৌলবাদী ও জঙ্গিবাদী শক্তি ঘাঁটি গড়ছে : মেনন

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। ফাইল ছবি

মেনন বলেন, ‘বান্দরবানের থানচির কাছে একটি অঞ্চলে দাওয়াতি ইসলাম ২০০৬ সাল থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছিল আটজনকে নিয়ে। সেখানে আর এই সশস্ত্র সংগঠন ১০৬ জনে কার্যক্রম চালায়। আমি আশা করি, সরকার নিশ্চয় এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে।’

পাহাড়ে মৌলবাদী ও জঙ্গিবাদী শক্তি ঘাঁটি গড়ছে বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

বৃহস্পতিবার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই যুগ পূর্তিতে রাজধানীর আগারগাওঁয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে এক আলোচনায় তিনি এই সতর্কতা করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের যৌথ আয়োজনে এই আলোচনায় মেনন বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে আজকে দেশের জন্য আর একটি বিপদ অপেক্ষা করছে। সেটা হলো মৌলবাদী ও জঙ্গিবাদী শক্তি। পার্বত্য চট্টগ্রামে যারা বাঙালিদের মধ্যে যারা সেটেলার হয়েছেন তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তারা নতুন সংগঠন গড়ে তুলেছে ‘উপজাতি মুসলিম নাগরিক পরিষদ’ নামে।”

তিনি বলেন, ‘বান্দরবানের থানচির কাছে একটি অঞ্চলে দাওয়াতি ইসলাম ২০০৬ সাল থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছিল আটজনকে নিয়ে। সেখানে আর এই সশস্ত্র সংগঠন ১০৬ জনে কার্যক্রম চালায়। আমি আশা করি, সরকার নিশ্চয় এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে।’

তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে রাজনৈতিক সমাধানই যদি উপলক্ষ্য হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই সামরিক সমাধান থেকে দূরে থাকতে হবে। চুক্তির ধারাগুলোকে বাস্তবায়ন করতে হবে।’

মেনন বলেন, ‘২৪ বছর পর চুক্তি নিয়ে যে আনন্দ উচ্ছ্বাস থাকার কথা ছিল, তা আজ নেই বলে আমার মনে হয়।’

তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কারও পেয়েছিলেন। কিন্তু আজ হয়তো সামরিক বন্দুকের জায়গায় অন্য কৌশল নেয়া হয়েছে। এই করোনার সময়েও অন্তত ২০টি ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।’

কবি ও সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, ‘জনসংহতি সমিতির যে বক্তব্য আমরা দেখতে পাচ্ছি, সেখানে যতটা না ক্ষোভ তার চেয়ে আছে বেদনা ও হতাশা। এটার জন্য নিশ্চয় জনসংহতি সমিতি নয়, সরকারি পক্ষ যারা চুক্তি বাস্তবায়ন করছেন না, তারাই দায়ী। এটার জন্য তাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে।’

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রংয়ের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এবং বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) এবং ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য।

এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের কো-চেয়ার সুলতানা কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মেসবাহ কামাল ও সাদেকা হালিম, আইনজীবী সারা হোসেন এবং বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা কাজল দেবনাথও এতে বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুন

খালেদার মুক্তি দাবিতে রাজধানীতে মশাল মিছিল

খালেদার মুক্তি দাবিতে রাজধানীতে মশাল মিছিল

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে বিএনপির মশাল মিছিলে নেতৃত্ব দেন রুহুল কবির রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

রাজধানীর কাকরাইল মোড় থেকে শান্তিনগর মোড় পর্যন্ত এই মশাল মিছিলে নেতাকর্মীরা অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত মুক্তি এবং তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দাবিতে রাজধানীতে মশাল মিছিল করেছে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইল মোড় থেকে শান্তিনগর মোড় পর্যন্ত এই মশাল মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এ সময় নেতাকর্মীরা অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মশাল মিছিলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য মাহমুদুর রহমান সুমন, স্বেচ্ছাসেবক দলের স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. জাহেদুল কবির, যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আহমেদ, ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেবুব মাসুম শান্ত, ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের রবিউল ইসলাম নয়ন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি পার্থদেব মণ্ডল, ওমর ফারুক কাওছার, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন নাছির, মাসুদুর রহমান মাসুদ ও সদস্য রাজু আহমেদ, ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রদলের আব্দুর রহিম প্রমুখ।

শেয়ার করুন

সরকার কেন চুক্তি করেছিল, প্রশ্ন সন্তু লারমার

সরকার কেন চুক্তি করেছিল, প্রশ্ন সন্তু লারমার

বৃহস্পতিবার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই যুগ পূর্তিতে আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে আলোচনায় বক্তব্য দেন দুই যুগ আগে সরকারের সঙ্গে চুক্তিতে সই করা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বা সন্তু লারমা। ছবি: নিউজবাংলা

দুই যুগ আগে সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে সই করা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বা সন্তু লারমা বলেন, ‘আজ প্রশ্ন করতে হচ্ছে, সরকার কেন চুক্তি করেছিল? পার্বত্য সমস্যাকে সমাধানের জন্য, নাকি জুম্ম জনগণের অস্তিত্বকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার জন্য?’

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি অভিযোগ করে একে হতাশাজনক বলেছেন দুই যুগ আগে সরকারের সঙ্গে চুক্তিতে সই করা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বা সন্তু লারমা।

যে সরকার এই চুক্তি করেছিল, গত ২৪ বছরে সেই সরকারই ক্ষমতায় আছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, তা হলে কেন এই চুক্তি করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই যুগ পূর্তিতে রাজধানীর ঢাকার আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে এক আলোচনায় তিনি এই প্রশ্ন রাখেন।

আশির দশক থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে থাকা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সামরিক শাখা ‘শান্তি বাহিনী’কে অস্ত্র সমর্পণে রাজি করিয়ে ১৯৯৭ সালের ১ ডিসেম্বর সই হয় ঐহিতাসিক চুক্তি। এতে সরকারের পক্ষ থেকে সই করেন আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, আর জনসংহতি সমিতির পক্ষ থেকে সই করেন প্রধান সন্তু লারমা।

চুক্তিতে যেসব শর্তের উল্লেখ ছিল, তার অনেকগুলো বাস্তবায়ন হলেও বেশ কিছু ধারা এখনও অবাস্তবায়িত অবস্থায় আছে। প্রতিবছর চুক্তির বার্ষিকীতে সেই বিষয়গুলো উঠে আসে।

সন্তু লারমা বলেন, ‘আজ প্রশ্ন করতে হচ্ছে, সরকার কেন চুক্তি করেছিল? পার্বত্য সমস্যাকে সমাধানের জন্য নাকি, জুম্ম জনগণের অস্তিত্বকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার জন্য?’

তিনি বলেন, ‘যে সরকারের আমলে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, গত ২৪ বছরে সে সরকারই অধিকাংশ সময় ক্ষমতায় আছে। কিন্তু চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া একেবারেই থেমে আছে।... পাহাড়ের মানুষ শান্তিপ্রিয় বলে এখনও অপেক্ষা করছে সরকার চুক্তি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে।’

চুক্তি যদি বাস্তবায়ন না হয়, তবে পাহাড়ের ছাত্র, যুব সমাজ রুখে দাঁড়াবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সন্তু লামরা বলেন, ‘পার্বত্য জনগণ তাদের ভূমির অধিকার, অস্তিত্বকে সুরক্ষার জন্যই আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছিল। পাহাড়ের মানুষের জন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্য থাকত, তা হলে পাহাড়ের জুম্ম জনগণ সরকারের সঙ্গে আলোচনায় আসত না।’

জনসংহতি সমিতির সভাপতি বলেন, ‘সরকার বলছে তারা উন্নয়ন করছে। কিন্তু পাঁচতারকা হোটেল করে পাহাড়িদের জীবিকার সর্বনাশ করা তাদের উন্নয়ন।...পার্বত্য চট্টগ্রাম আজ বড় ধরনের কারাগারে পরিণত হয়েছে। কারাগারে যেভাবে কয়েদিদের বসবাস করতে হয়, আজকে সেভাবেই বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছি।’

সন্তু লারমা করেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে আজ দুটি পক্ষ। একটি পক্ষ যারা পাহাড়ের নিরীহ মানুষ, যারা চুক্তির বাস্তবায়ন চায়; আর আরেকটি পক্ষ সরকার এবং তার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষ।’

আজও জনসংহতি সমিতিকে ‘সন্ত্রাসী দল’ হিসেবে চিহ্নিত করে দমন-পীড়ন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয় আলোচনায়। বলেন, ‘অনেক নেতাকর্মীকে আজ মামলা দিয়ে, হামলা করে নিপীড়ন চালানো হচ্ছে।...বহিরাগত যে গরিব বাঙালিদের জিয়াউর রহমান নিয়ে গিয়েছিল, তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এখনো চলমান। তারা আজ পাহাড়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।

‘সেখানে বলার অধিকার নেই, জীবিকার অধিকার নেই। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত পাহাড়ে আদিবাসী জনগণের জুম চাষ, আদা-হলুদ চাষের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।’

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রংয়ের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের কো-চেয়ার সুলতানা কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মেসবাহ কামাল ও সাদেকা হালিমও আলোচনায় বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুন

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে ভোটে কারচুপির ইঙ্গিত: ফখরুল

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে ভোটে কারচুপির ইঙ্গিত: ফখরুল

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে, আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। আবারও একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক যে বক্তব্য রেখেছেন, তা ভোট কারচুপির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আইনমন্ত্রীর কথায় আবার প্রমাণিত হয়েছে, সরকার ২০১৮ সালের মতো নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে। …আবার ভোটের আগের রাতে অপজিশন পার্টিদের পিটিয়ে বের করে দিয়ে মাঠ খালি করে নির্বাচনে পদ দখল করে নেবে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে চিকিৎসার সুযোগ করে দেয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে, আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। আবারও একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়।’

বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবি জানিয়ে বলেছেন, ‘এটা করা সরকারের জন্যই ভালো। আল্লাহ না করুক তার কোনো ক্ষতি হলে এই দেশের জনগণ আপনাদেন রেহাই দেবে না।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এখানে মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত হয়েছেন। তাদের রাইফেল একবার গর্জে উঠেছিল ১৯৭১ সালে। আরেকবার রাজপথে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব।’

সরকার উন্নয়নের দাবি করলেও দেশের অবস্থা ভালো নয় অভিযোগ করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালগুলোতে গেলে কেউ চিকিৎসা পায় না। অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। ব্যাংকগুলোকে লুটপাট করে শেষ করে দিয়েছে। আর কথায় কথায় বলে উন্নয়নের রোল মডেল নাকি বাংলাদেশ।

‘রাস্তায় পড়ে থাকে মানুষ না খেয়ে, কৃষকরা তাদের ধানের দাম পায় না। আমাদের শ্রমিক ভাইরা তাদের মজুরি পায় না। আমাদের নিম্নবিত্ত আরও নিম্নবিত্ত হচ্ছে। মধ্যবিত্ত আরও নিম্নবিত্ত হয়ে যাচ্ছে। দারিদ্রের সীমা আরও নিচে নেমে গেছে।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার দাবি যৌক্তিক। প্রয়োজন হলে সরকারকে ভর্তুকি দিয়ে হলেও হাফ পাসের ব্যবস্থা করতে হবে।’

জাতীয়বাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সিনিয়র সহসভাপতি কাজী আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ত আবদুস সালাম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয় সম্পাদক জয়নাল আবেদিনও বক্তৃতা করেন।

শেয়ার করুন

৫০তম বিজয় দিবস: শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী

৫০তম বিজয় দিবস: শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী

১৬ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা বাংলাদেশে একটি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। ফাইল ছবি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ মিলিয়ে আমরা ইতিহাসের অসাধারণ সময় অতিক্রম করছি। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠান হবে। আগে এসব অনুষ্ঠান জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে হয়েছিল। জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি থেকে ‘মহা বিজয়ের মহা নায়ক’ শিরোনামে ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠান হবে। ১৬ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী সেখান থেকে সারা বাংলাদেশে একটি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন, সেখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন। কী বিষয়ে শপথ হবে পরে জানানো হবে।’

মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে ১৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শপথ পরিচালনা করবেন বলে জানিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ মিলিয়ে আমরা ইতিহাসের অসাধারণ সময় অতিক্রম করছি। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠান হবে। আগে এসব অনুষ্ঠান জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে হয়েছিল। ১৬ ডিসেম্বর প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ বড় আকারে হবে। সেখানে ছয়টি দেশ মিলিয়ে আন্তর্জাতিক একটা প্যারেড হবে। অনেকগুলো দেশের অংশগ্রহণ থাকবে।’

“জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি থেকে ‘মহা বিজয়ের মহা নায়ক’ শিরোনামে ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠান হবে। ১৬ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী সেখান থেকে সারা বাংলাদেশে একটি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন, সেখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন। কী বিষয়ে শপথ হবে পরে জানানো হবে।”

তিনি বলেন, ‘বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে আলোচনা সভা শুরু হবে। সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি অংশ নেবেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীও এতে অংশ নেবেন। পুরো অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে সাজিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, প্রকৃতি, পরিবেশ সব মিলিয়ে দেশের ৫০ বছরের অগ্রগতি, এসবের সমন্বয়ে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠান হবে।’

‘যাদের আমন্ত্রণ জানাব সময়মতো তাদের অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানো, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে যেন অনুষ্ঠানগুলো হয় সেটার নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও অন্য বিষয়গুলো আজকে পর্যালোচনা করা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে অংশ নেয়াদের করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক বলে জানান কামাল আবদুল নাসের। তিনি বলেন, ‘আমন্ত্রণপত্রে জানিয়ে দেয়া হবে কোথায় কোথায় করোনা পরীক্ষা করতে হবে। করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট ছাড়া কেউ সেখানে উপস্থিত হতে পারবেন না, যেহেতু স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে নমুনা পরীক্ষাটা বাধ্যতামূলক।’

‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব কিছু আমরা ফলো করব। সব মিলিয়ে প্রতিদিন তিন হাজার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। অনুষ্ঠান সারা দেশের পাশাপাশি গোটা পৃথিবীতে সম্প্রচার হবে।’

শেয়ার করুন

‘হাফ ভাড়ার সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করুন’

‘হাফ ভাড়ার সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করুন’

বাসে অর্ধেক ভাড়ার দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

ওবায়দুল কাদের মালিক ও শ্রমিকদের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কথা দিয়ে কথা রাখুন। আপনাদের সিদ্ধান্ত আপনারাই কেন লঙ্ঘন করছেন?’

রাজধানীর বেশ কিছু পরিবহনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের শিক্ষার্থীদের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে হাফ ভাড়া বাস্তবায়নের অনুরোধ করেছেন।

নিজ সরকারি বাসভবনে বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে কাদের এ অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে হাফ ভাড়ার সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করুন।’

ওই সময় কাদের মালিক ও শ্রমিকদের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কথা দিয়ে কথা রাখুন। আপনাদের সিদ্ধান্ত আপনারাই কেন লঙ্ঘন করছেন?’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে হাফ ভাড়ার দাবি মেনে নিয়েছে বাস মালিক সমিতি। তারা বলেছে, এ সিদ্ধান্ত কেবল কার্যকর হবে ঢাকা মহানগর এলাকায়।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ ৩০ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

ওই সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১ ডিসেম্বর থেকে হাফ ভাড়া কার্যকর হবে। হাফ ভাড়া দেয়ার সময় আইডি কার্ড দেখাতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, ছুটির দিনে হাফ ভাড়া কার্যকর হবে না। হাফ ভাড়া ঢাকার বাইরে অন্য জেলার জন্য নয়।

মালিক সমিতি আরও জানায়, সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হাফ ভাড়া দিতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। ওই সময়ের পর বাসে উঠলে পুরো ভাড়া দিতে হবে।

শেয়ার করুন

আমরা চাই খালেদা সুস্থ হোক, বিএনপি চায় মরে যাক: কাদের

আমরা চাই খালেদা সুস্থ হোক, বিএনপি চায় মরে যাক: কাদের

বুধবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও ঢাকা মহানগরের সংসদ সদস্যদের মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমরা তো তার মৃত্যু কামনা করছি না। আমরা চাই তিনি আরোগ্য লাভ করুক। … তাদের (বিএনপি নেতা) বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে একজন জীবিত মানুষকে তারা মেরে ফেলতে চাচ্ছে। তারা মনে হয় চাচ্ছেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু হোক। আমরা শুনতে পাচ্ছি, বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে, খালেদা জিয়া মরলে, বিএনপি কী পরিস্থিতি তৈরি করবে, কীভাবে এটা গণঅভ্যুত্থান তৈরি করবে, সে পরিকল্পনার নীলনকশা তারা তৈরি করছে।’

বিএনপি তার চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু কামনা করছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, তারা চান বিএনপি নেত্রী সুস্থ হয়ে উঠুন।

বুধবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও ঢাকা মহানগরের সংসদ সদস্যদের মতবিনিময় সভা শেষে এমন কথা বলেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঠিক করতে ওই সভা ডাকা হয়েছিল।

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে রাখা বক্তব্যে আওয়ামী লীগ নেতা বেশি কথা বলেন বিএনপির আন্দোলনের হুমকি ও দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ইস্যুতে।

খালেদা জিয়া মারা গেলে রাজনীতি প্রভাব পরবে বলে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের জবাবে কাদের বলেন, ‘প্রভাব পরবে, কি না পরবে, সেটা তো পরের বিসয়। কিন্তু বেগম জিয়ার মৃত্যুর আগের কেন তারা এটা কামনা করছে? আমরা তো তার মৃত্যু কামনা করছি না। আমরা চাই তিনি আরোগ্য লাভ করুক।’

তিনি বলেন, ‘তাদের (বিএনপি নেতা) বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে একজন জীবিত মানুষকে তারা মেরে ফেলতে চাচ্ছে। তারা মনে হয় চাচ্ছেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু হোক। আমরা শুনতে পাচ্ছি, বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে, খালেদা জিয়া মরলে, বিএনপি কী পরিস্থিতি তৈরি করবে, কীভাবে এটা গণঅভ্যুত্থান তৈরি করবে, সে পরিকল্পনার নীলনকশা তারা তৈরি করছে। ওই গণ অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে কীভাবে তারেক জিয়াকে টেমস নদীর ওপার থেকে দেশে ফিরিয়ে এসে এদেশে খমিনী স্টাইলে একটা বিপ্লব করার স্বপ্ন তারা দেখছে। সে স্বপ্ন তাদের দুঃস্বপ্নই থাকবে।’

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে আইন নয়, সরকার বাধা বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য নিয়েও কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বিএনপি যত না উদ্যোগী, তার চেয়ে বেশি হচ্ছে তারা স্বাস্থ্যকে কেন্দ্র করে তারা রাজনীতির ইস্যু খুঁজে বেরাচ্ছে।

‘এটার মধ্য দিয়ে তারা রাজনীতির মাঠ গরম করতে চায়। তাদের ঝিমিয়ে পড়া নেতা-কর্মীদের চাঙা করতে চায়। তারা দেশে একটা বিশৃঙ্খলার আবর্ত তৈরি করতে চায়। সে কারণে বেগম জিয়াকে নিয়ে তারা একেক সময় একেক কথা বলছে।’

খালেদা জিয়াকে বিষ দেয়ার বিষয়ে মির্জা ফখরুল যে অভিযোগ এনেছেন, সেটি নিয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগ নেতা। বলেন, ‘মির্জা ফখরুল কী করে বলেন স্লো পয়জনিং করে বেগম জিয়াকে মারা ষড়যন্ত্র করছে সরকার? ডাক্তার সব আপনাদের, আওয়ামী লীগের ডাক্তারদের তো ওখানে ‍ঢুকতে দেন না। গৃহপরিচালিকা আগেও ছিল, এখনও আছে, সঙ্গে মির্জা ফখরুলরা ঘুরঘুর করেন। স্লো পয়জনিং করলে তো আপনারাই করছেন।’

বিএনপি একটি অশুভ পরিস্থিতি তৈরির ‘প্রণান্তকর অপপ্রয়াস’ করছে বলেও মনে করেন সড়ক মন্ত্রী। কবলেন, ‘বিএনপি বিভিন্নভাবে সামাজিক আন্দোলগুলোতে, ছাত্রদের হাফভাড়ার দাবি, নিরাপদ সড়ক, গামেন্টর্স শ্রমিকদের আন্দোলনে বাতাস দিচ্ছে, উসকানি দিচ্ছে। মাঠে নামার জন্য বিভিন্নভাবে তারা একটা সহিংস বিশৃঙ্খলার আবর্ত তৈরি করার সর্বাত্মক প্রয়াস অব্যাহিত রেখেছে।’

যে কোনো শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, আন্দোলনকে আমরা স্বাগত জানানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যদি সহিংসতা করা হয়, তাহলে তারা কঠোর হবেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সরকার ঢাকা শহরকে বর্ণাঢ্য সাজে সজ্জিত করতে চায় বলেও জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘এখানে আলোকসজ্জা করবো। আমাদের কর্মসূচির মধ্যে ১৮ ডিসেম্বর বিশেষভাবে রয়েছে, উৎসবমুখর বিজয়শোভা যাত্রা করব, যা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তন থেকে শুরু হয়ে ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন পর্যন্ত যাব।’

শেয়ার করুন