‘গুজব প্রতিরোধে’ সভা আওয়ামী লীগের

‘গুজব প্রতিরোধে’ সভা আওয়ামী লীগের

সভার উদ্দেশ্য হল—সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সব নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং দলীয় প্রচার জোরদার, তৃণমূল পর্যায়ের সব কর্মকাণ্ড কী ভাবে তুলে ধরা যায় তা নির্ধারণ এবং বিরোধী পক্ষের অপপ্রচারের পাল্টা জবাব দেয়ার বিষয়ে পরামর্শ দেয়া।

‘গুজব প্রতিরোধে’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সব নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত চায় আওয়ামী লীগ।

এ জন্য এবার মতবিনিয়ন সভা করেছে দলটি। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টায় সভাটি হয়েছে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। দলের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দলটির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিভাগের ৯ জেলার দপ্তর ও উপদপ্তর সম্পাদকদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ওই সভায় দলের কাজের ব্যবস্থাপনায় তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়ছে।

ঢাকা বিভাগের ঢাকা, ঢাকা মহানগর উত্তর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, গাজীপুর, গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর, টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জ জেলার সঙ্গে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলের দপ্তর বিভাগ থেকে ধাপে ধাপে ৮টি বিভাগের জেলাগুলোর দপ্তর ও উপ-দপ্তর সম্পাদকদের সঙ্গে এই সভার আয়োজন করা হচ্ছে। ঢাকা বিভাগে সাংগঠনিক জেলা ১৭টি। শুক্রবার হলো ঢাকা বিভাগের প্রথম সভা।

সভায় আওয়ামী লীগের কাজের ব্যবস্থাপনায় তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভার উদ্দেশ্য হল—সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সব নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং দলীয় প্রচার জোরদার, তৃণমূল পর্যায়ের সব কর্মকাণ্ড কী ভাবে তুলে ধরা যায় তা নির্ধারণ এবং বিরোধী পক্ষের অপপ্রচারের পাল্টা জবাবের বিষয়ে পরামর্শ দেয়া।

সভায় নেতারা বলেন, ২০০৮ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। সেই ডিজিটাল বাংলাদেশে আজ ডিজিটাল স্টোনিংয়ের শিকার। ডিজিটাল প্লাটফর্মে আওয়ামী লীগ ও ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে গুজব-অপপ্রচারের মাধ্যমে দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বক্তব্যে বলেন, ‘বৈশ্বিক সংকট করোনা মহামারির অভিঘাত মোকাবিলায় যখন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাচ্ছে, তখন একটি কুচক্রী মহল গুজব ছড়িয়ে জনগণের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।’

একই সঙ্গে তিনি নেতাদের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলতে এবং তা মেনে চলার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশের একমাত্র রাষ্ট্রনায়ক যিনি বর্তমানে দাঁড়িয়ে দেশ ও জাতির ভবিষ্যতের লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ হচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই মহতী উদ্যোগে শামিল হওয়ার জন্য আমাদের দক্ষ ও প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন নেতা-কর্মী প্রয়োজন। দলীয় ব্যবস্থাপনার কাজে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে সংগঠন শক্তিশালী হবে এবং ডিজিটালাইজড হয়ে উঠবে।’

সভার শুরুতে আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান আলোচ্যসূচি উপস্থাপন করেন এবং কী কারণে সভাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেটা তুলে ধরেন।

আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশনের (সি আর আই) পক্ষ থেকে সভা পরিচালনায় কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হয়। সি আর আই এর পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির কো-অর্ডিনেটর তন্ময় আহমেদ এবং ডাটাবেইজ টিমের সদস্য নুরুল আলম পাঠান মিলন ও জাফরুল শাহরিয়ার জুয়েল সভায় সংযুক্ত ছিলেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য