‘ষড়যন্ত্রে দৃশ্যমান, সংকটে অদৃশ্য বিএনপি-জামায়াত’

‘ষড়যন্ত্রে দৃশ্যমান, সংকটে অদৃশ্য বিএনপি-জামায়াত’

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের উদ্যোগে শুক্রবার শাহ আলীর মাজারে তিন হাজার দুস্থ মানুষের মধ্যে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

নিখিল বলেন, ‘করোনার এই মহাসংকটে বিএনপি-জামায়াত কী ভাবে ক্ষমতায় যেতে পারে তার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাদের কোন নেতা-কর্মী মানুষের পাশে নেই।’

করোনা মহামারির মধ্যেও ক্ষমতায় যেতে বিএনপি-জামায়াত জোটের ষড়যন্ত্র দৃশ্যমান হলেও মানুষের সংকটে তারা অদৃশ্য বলে মন্তব্য করেছেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের উদ্যোগে শুক্রবার শাহ আলীর মাজারে তিন হাজার অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নিখিল বলেন, ‘করোনার এই মহাসংকটে বিএনপি-জামায়াত কী ভাবে ক্ষমতায় যেতে পারে তার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাদের কোন নেতা-কর্মী মানুষের পাশে নেই।’

সরকার পতনে বিপুল টাকা দিয়ে দেশি-বিদেশি লবিস্ট নিয়োগ করলেও, সাধারণ মানুষের দুঃখ দুর্দশায় বিএনপি-জামায়াত পাশে নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বলেন, ‘একটা টাকা নিয়েও তারা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি। মূলত দেশের বিরুদ্ধে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র দৃশ্যমান, কিন্তু মানুষের সংকটে তারা অদৃশ্য।’

পল্লবীতে ৫০০ অসহায়, দুস্থ মানুষের মধ্যে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানেও যোগ দেন নিখিল।

এ সময় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মানুষের এই মহাসংকটে যুবলীগের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই ঘোর সংকটে মানবসেবাই আমাদের একমাত্র ব্রত।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মামুনুর রশীদ, আনোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল পারভেজ, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন পাভেল, তথ্য ও যোগাযোগ (আইটি) সম্পাদক মো. শামছুল আলম অনিকসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
চিকিৎসককে মারধর, যুবলীগ নেতা বহিষ্কার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জেল্লা হারাচ্ছে গণি মিঞার গামছা

জেল্লা হারাচ্ছে গণি মিঞার গামছা

‘গোটা কলকাতায় ছিল ঝালকাঠির গনি মিঞার তাঁতের গামছার কদর। কলকাতার বিধান নগর থেকে কৃষ্ণনগর-লালগোলা যাত্রীবাহী ট্রেনে হকাররা “বাংলার গামছা” নামে ঝালকাঠির গামছা বিক্রি করত। বাংলাদেশ থেকে কেউ এলে আমরা এখনও বলি আমাদের জন্য ঝালকাঠির গামছা নিয়ে আসতে।’

ঝালকাঠির তাঁতের গামছার কদর এক সময় দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছিল। মেশিনচালিত তাঁতের কাছে ধীরে ধীরে হার মানছে এ ঐতিহ্য।

ঝালকাঠির বাসন্ডা নদীর পশ্চিম পাড়ের এলাকাটি পশ্চিম ঝালকাঠি নামে পরিচিত, কাগজে যার বর্তমান নাম বাসন্ডা। এক শতাব্দী আগে এই বাসন্ডার পুরো এলাকা জুড়ে প্রায় দুইশ তাঁতী পরিবার ছিল, যারা হস্তচালিত তাঁতে রঙিন সুতায় শাড়ি, লুঙ্গি এবং গামছা বুনত।

মহাজনদের পদচারণা এবং তাঁতের খটাস খটাস শব্দে মুখরিত থাকত কারিগরবাড়ি। তখন গোটা দেশে ঝালকাঠির তাঁত পণ্যের গৌরব ছিল। বর্তমানে বাসন্ডা কারিগরবাড়িতে দু-চারটি তাঁতী পরিবার তাদের এই পেশা ধরে রেখেছে, বাকিরা চলে গেছে অন্য পেশায়। আধুনিকতার ছোঁয়ায় তাঁতের শাড়ি লুঙ্গির চাহিদা কমেছে।

৭৫ বছরের পুরোনো ঝালকাঠির গনি মিঞার গামছা এক সময় ছিল দেশসেরা। বছর সাতেক আগে গনি মিঞা বার্ধক্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। ঐতিহ্য রক্ষার খাতিরে লোকসান দিয়েও এখনও বাবার তাঁত মেশিনে গামছা বোনেন গনি মিয়ার ছেলে নাসির উদ্দিন মিঞা।

৪০ বছর বয়সী নাসির উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর পরেও আমি ও আমার মা হালিমা বেগম প্রতি সাড়ে ৩ ঘণ্টায় দুটি তাঁতের গামছা তৈরি করতাম। মা এখন সুতা টানতে পারেন না।’

নাসির জানান, গামছাপ্রতি তাদের খরচ হয় ২৫০ টাকা। পাইকারি দর ৩০০ টাকা আর খুচরা মূল্য ৩৫০ টাকা। এতো অল্প লাভে এখন টিকে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। পারিশ্রমিক ধরলে লোকসানই গুণতে হয়।

দেশ এবং দেশের বাইরে এখনও ঝালকাঠির গনি মিঞার গামছার চাহিদা আছে, কিন্তু পুঁজি ও লোকবল অভাবে উৎপাদন কমে গেছে। ঐতিহ্য ধরে রাখতেই কেবল এখনও তাঁতের গামছা বুনে যাচ্ছেন তারা।

জেল্লা হারাচ্ছে গণি মিঞার গামছা

শহরের অনেক পরিবার কলকাতায় তাদের স্বজনদের এই গামছা পাঠায়। সেখান থেকেও কিছু অর্ডার আসে আর মহাজনদের কাছেও পাইকারি দরে কিছু গামছা দেয়া হয়।

গনি মিঞার দূর সম্পর্কের আত্মীয় আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী পারভীন বেগম হস্তচালিত তাঁত মেশিনে ১৭ বছর ধরে গামছা বোনেন। নিউজবাংলাকে পারভীন বেগম জানান, তার তাঁত মেশিন ছোট। তাই তার তৈরি গামছার সাইজও একটু ছোট। সোয়া চার হাত দৈর্ঘ্য ও আড়াই হাত বহরের গামছা বুনতে পারেন, যার পাইকারি দর ২০০ টাকা এবং খুচরা দাম আড়াইশ টাকা। তিনি গামছা বুনে গনি মিয়ার সিল লাগিয়ে বাজারে বিক্রি করেন।

স্থানীয়রা বলেন, এক সময় দিন-রাত খটাস খটাস শব্দ হতো বাসন্ডার তাঁতী পল্লীতে। গনি মিয়ার বাড়িসহ আশপাশের বাড়িগুলোতে মহাজনদের ভিড় লেগেই থাকত। বাসন্ডা এলাকার লাল মিয়া জানান, এক সময় গামছা কেনার সিরিয়াল আগে পাওয়ার জন্য তাঁতীদের সুতা কেনা বাবদ অগ্রিম টাকা দিয়ে যেত মহাজনরা। তাঁতী বাড়ির সেই সুদিন কমে গেছে। তবে এখনও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গামছা কিনতে গনি মিয়ার বাড়িতে মহাজনেরা আসেন।

সত্তরোর্ধ স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম মিঞা জানান, গনি মিয়ার ছেলে নাসির এবং আনোয়ারের স্ত্রী পারভীন বেগমের মতো জেলার আরও তিনটি উপজেলায় এখনও ১০ থেকে ১৫টি পরিবার এ তাঁত শিল্পকে আঁকড়ে আছে। ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ পাওয়ার লুমে গামছা বুনো ঝালকাঠির তাঁতের গামছার লেভেল নকল করে বাজারজাত করছে। ফলে তাঁতে তৈরি প্রকৃত গামছা ব্যবসায়ীরা বাজার হারাচ্ছে। কারণ পাওয়ার লুমের কাছে হস্তচালিত তাঁত মেশিন খরচের প্রতিযোগিতায় টিকতে পারে না।

ব্যবসায়ী জানে আলম জনি বলেন, ‘এখনও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঝালকাঠি সফরে এলে তাদেরকে শীতল পাটি এবং গনি মিয়ার গামছা উপহার দেয়া হয়। প্রবাসী সন্তানদের জন্য এই গামছা এখনও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠায় তাদের মা-বাবারা। আমি জাপানে অনেক গামছা উপহার হিসেবে পাঠিয়েছি। গনি মিঞার গামছা আমাদের ঝালকাঠির ইতিহাসের মাইল ফলক।’

কলকাতার দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার বনগাঁ এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী উত্তম দেবনাথ বলেন, ‘গোটা কলকাতায় ছিল ঝালকাঠির গনি মিয়ার তাঁতের গামছার কদর। কলকাতার বিধান নগর থেকে কৃষ্ণনগর-লালগোলা যাত্রীবাহী ট্রেনে হকাররা “বাংলার গামছা” নামে ঝালকাঠির গামছা বিক্রি করত। বাংলাদেশ থেকে কেউ এলে আমরা এখনও বলি আমাদের জন্য ঝালকাঠির গামছা নিয়ে আসতে।’

ঝালকাঠির তাঁত কারিগররা জানান, হস্তচালিত একটি তাঁত চালিয়ে প্রতিদিন দুটির বেশি গামছা তৈরি করা সম্ভব হয় না। এক বান্ডেল সুতা বরিশালের মহাজনের দোকান থেকে ২ হাজার টাকায় কিনতে হয়। ৬ বান্ডেল সুতা দিয়ে সর্বোচ্চ দেড়শ পিস গামছা তৈরি করা যায়। এ গামছার সাইজ ২ থেকে ৩ হাত। প্রতিটি গামছা তৈরির মজুরি পড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। সুতা ও মজুরি মিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজার টাকা পুঁজি খাটিয়ে আয় আসে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকা। দুই মাসে ১০ হাজার টাকা আয় দিয়ে বর্তমান বাজারে একটি পরিবার চালানো অসম্ভব।

এ ব্যাপারে কথা হয় ঝালকাঠি চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আলহাজ সালাহ উদ্দীন আহমেদ সালেকের সঙ্গে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গামছা ঝালকাঠির একটি শিল্প। এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের চেষ্টা থাকবে। সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর নির্দেশ রয়েছে, কোনো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কোনো ব্যাংক কিংবা বিসিকে ঋণের আবেদন করলে তাকে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের কাছে কেউ এলে চেম্বারের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করা হবে।’

আরও পড়ুন:
চিকিৎসককে মারধর, যুবলীগ নেতা বহিষ্কার

শেয়ার করুন

আন্দোলন করার সময় এসেছে: ছাত্রদল

আন্দোলন করার সময় এসেছে: ছাত্রদল

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল বলেন, ‘এখন সময় এসেছে আন্দোলন করার, দেশ নেত্রী‌কে মুক্ত করার এবং দে‌শে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার।’

দলের হাইকমান্ডকে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছে ছাত্রদল। বিএনপির এই ছাত্র সংগঠনটি বলছে, আন্দোলন করে দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার এখনই সময়।

রাজধানীর নয়া পল্টনে মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে এসব কথা বলেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল। তিনি বলেন, ‘এখন সময় এসেছে আন্দোলন করার, দেশ নেত্রী‌কে মুক্ত করার এবং দে‌শে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার।’

ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, ‘দেশ নেত্রী বেগম খা‌লেদা জিয়া ভীষণ অসুস্থ‌ অথচ এই স্বৈরশাসক আইনের দোহাই দি‌য়ে তা‌কে বি‌দে‌শে সু‌চি‌কিৎসার জন‌্য যে‌তে দি‌চ্ছে না। তারা নি‌জেরা আইন মা‌নে না, অথচ আইনের দোহাই দেয়।

আগামী দিনের আন্দোলনে ছাত্রদল সামনের কাতারে থাকবে জানিয়ে শ্যামল বলেন, ‘সাম‌নে আন্দোল‌নের ঘোষণা আস‌বে, সেই আন্দোলনে বাংলা‌দেশ জাতীয়তাবা‌দী ছাত্রদল অগ্রণী ভূ‌মিকা রাখ‌বে।’

ঢাকসুর সাবেক ভিপি ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সালাম, শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, রফিকুল আলম মজনু, আমিনুল ইসলাম, সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, শহিদুল ইসলাম বাবুল, ফজলুর রহমান খোকন, মোস্তাফিজুর রহমান, আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, হেলাল খান, জাকির হোসেন রোকন, আব্দুর রহিমসহ আরও অনেকে।

বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়ন করা হয়।

আরও পড়ুন:
চিকিৎসককে মারধর, যুবলীগ নেতা বহিষ্কার

শেয়ার করুন

দুই ঘণ্টার চেষ্টায় নিভল পোশাক কারখানার আগুন

দুই ঘণ্টার চেষ্টায় নিভল পোশাক কারখানার আগুন

স্টেশন অফিসার তাশারুফ হোসেন বলেন, পাঁচ তলা ভবনের নিচ তলার ফেব্রিকস ও এক্সেসরিজের গুদামে আগুনের সূত্রপাত। প্রথমে কাশিমপুর ডিবিএলের একটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে জয়দেবপুর ও কালিয়াকৈরের থেকে আরও ছয়টি ইউনিট যোগ দেয়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে।

গাজীপুরের কোনাবাড়িতে পোশাক কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

জরুন এলাকার রিপন গার্মেন্টসে মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে আগুন লাগে, নিয়ন্ত্রণে আসে দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার তাশারুফ হোসেন।

তিনি বলেন, পাঁচ তলা ভবনের নিচ তলার ফেব্রিকস ও এক্সেসরিজের গুদামে আগুনের সূত্রপাত। প্রথমে কাশিমপুর ডিবিএলের একটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে জয়দেবপুর ও কালিয়াকৈরের থেকে আরও ছয়টি ইউনিট যোগ দেয়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে।

কারখানার নিরাপত্তাকর্মী কাজল কুমার ও বিপ্লব বলেন, দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে হঠাৎ নিচতলার গুদামে আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

শ্রমিক হাবিব বলেন, ‘কারখানায় প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। হঠাৎ নিচতলায় আগুন লাগলে আমরা সবাই নিরাপদে বের হয়ে যাই।’

এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
চিকিৎসককে মারধর, যুবলীগ নেতা বহিষ্কার

শেয়ার করুন

কিশোরীর আত্মহত্যা: স্কুল কমিটির সদস্য গ্রেপ্তার

কিশোরীর আত্মহত্যা: স্কুল কমিটির সদস্য গ্রেপ্তার

কিশোরীকে যৌন নির্যাতন ও আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার এই ব্যক্তি। ছবি: নিউজবাংলা

মামলার বরাত দিয়ে ওসি জানান, স্কুলের পরিত্যক্ত ভবনের ছাদে নিয়ে ওই কিশোরীর ওপর যৌন নির্যাতন চালায় রফিকুল ও সহযোগী শাহিনুর- এমন অভিযোগে তাদের আসামি করে গত ৮ নভেম্বর ক্ষেতলাল থানায় মামলা করেন কিশোরীর বাবা। এরপর গত ১৮ নভেম্বর দুপুরে ওই কিশোরীকে রফিকুল, শাহিনুর ও অন্য আসামিরা অপমান করেন। ওইদিন বিকেলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে ওই স্কুলছাত্রী।

জয়পুরের ক্ষেতলালে এক স্কুলছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে বড়তারা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য রফিকুুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নীরেন্দ্র নাথ মণ্ডল জানান, রফিকুলকে সোমবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার নামে স্কুলছাত্রীকে যৌন নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে মামলা আছে।

ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী গত ১৮ নভেম্বর নিজ ঘরে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বরাত দিয়ে ওসি জানান, স্কুলের পরিত্যক্ত ভবনের ছাদে নিয়ে ওই কিশোরীর ওপর যৌন নির্যাতন চালায় রফিকুল ও সহযোগী শাহিনুর- এমন অভিযোগে তাদের আসামি করে গত ৮ নভেম্বর ক্ষেতলাল থানায় মামলা করেন কিশোরীর বাবা। মামলার পর থেকে মেয়েটির পরিবারকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন আসামিরা।

এরপর গত ১৮ নভেম্বর দুপুরে নিজ বাড়ির সামনে ওই কিশোরীকে রফিকুল, শাহিনুর ও অন্য আসামিরা অপমান করেন। যৌন নির্যাতনের জন্য তাকেই দায়ী করে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দেন। মামলা প্রত্যাহার না করলে রফিকুল তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করারও হুমকি দেন তাকে। এ কারণে ওইদিন বিকেলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে ওই স্কুলছাত্রী।

আত্মহত্যার পর ওই কিশোরীর সুইসাইড নোট পাওয়ার দাবি করে তার পরিবার। মামলার এজাহারেও সুইসাইড নোটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর পর থেকেই রফিকুল পলাতক ছিলেন।

ওসি আরও জানান, রফিকুলের এক ছেলে ও এক মেয়ে ওই স্কুলেই পড়ে। যে স্কুলছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে, সে ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। সে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বলে মামলায় উল্লেখ করা আছে। তার মৃত্যুর পরদিন রফিকুল ও শাহিনুরসহ পাঁচজনের নামে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন কিশোরীর বাবা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহারুল আলম বলেন, ‘আসামি রফিকুল ওই কিশোরীকে এক বছর থেকে বিভিন্নভাবে যৌন নির্যাতন চালানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাকে মঙ্গলবার আদালতে তোলার কথা রয়েছে।’

ক্ষেতলাল থানার ওসি নীরেন্দ্র নাথ জানান, দুই মামলায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে আরেকজন হলেন রফিকুলের মামা আব্দুর রাজ্জাক। অন্য তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন:
চিকিৎসককে মারধর, যুবলীগ নেতা বহিষ্কার

শেয়ার করুন

বৈঠকের দিন আরও বড় পতনে তীব্র হতাশা

বৈঠকের দিন আরও বড় পতনে তীব্র হতাশা

দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সাড়ে তিন মাস আগের অবস্থানে নেমে দিন শেষে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৭০৩ পয়েন্টে। এর চেয়ে কম সূচক ছিল ১২ আগস্ট। তখন অবস্থান ৬ হাজার ৬৯৯ পয়েন্ট থাকলেও পুঁজিবাজারে হতাশা ছিল না। বরং শেয়ারদর ও লেনদেন ক্রমেই বাড়তে থাকায় বিনিয়োগাকারীরা এক দশকের হতাশা কাটিয়ে আশান্বিত হয়ে উঠতে থাকে।

টানা ছয়দিন দরপতনের পর একদিন সূচক বাড়লেও পরের দিনই আবার সেই হতাশার বৃত্তে পুঁজিবাজার। টানা দরপতনের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠকের দিনও বড় দরপতন দেখল বিনিয়োগকারীরা। এ নিয়ে আট কর্মদিবসের মধ্যে সাত দিনই সূচকের পতন হলো।

বেলা তিনটায় দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী। গত বৃহস্পতিবার এই বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত জানানোর পর থেকেই এক ধরনের আশা নিরাশার দোলাচল তৈরি হয়।

তবে এর মধ্যেও রোববার বড় পতনে তৈরি হয় আতঙ্ক। সেদিন পতন গিয়ে ঠেকে টানা ৬ দিনে। সপ্তম দিন সোমবার বাজার ঘুরে দাঁড়িয়ে উত্থানের ইঙ্গিত দিয়েও ধরে রাখতে পারেনি। এক পর্যায়ে সূচক ৭১ পয়েন্ট বেড়ে শেয়ার কেনাবেচা হতে থাকলেও পরে দিন শেষে ২১ পয়েন্ট বেড়ে শেষ হয় লেনদেন।

মঙ্গলবার বৈঠকের দিন সকালে অল্প কিছু সময়ের জন্য সূচক বেড়ে লেনদেন হতে থাকলেও গত প্রায় আড়াই মাসের এক সাধারণ চিত্রের মতোই অর্ধেক বেলা শেষে পতন দিয়ে শেষ হয় লেনদেন।

দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সাড়ে তিন মাস আগের অবস্থানে নেমে দিন শেষে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৭০৩ পয়েন্টে। আগের দিনের চেয়ে ৯২ পয়েন্ট হারিয়ে গেছে সূচক থেকে।

এর চেয়ে কম সূচক ছিল ১২ আগস্ট। তখন অবস্থান ৬ হাজার ৬৯৯ পয়েন্ট থাকলেও পুঁজিবাজারে হতাশা ছিল না। বরং শেয়ারদর ও লেনদেন ক্রমেই বাড়তে থাকায় বিনিয়োগাকারীরা এক দশকের হতাশা কাটিয়ে আশান্বিত হয়ে উঠতে থাকে।

সূচক কমার দিন লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। তিন কর্মদিবস পর আবার তা এক হাজার কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করতে পেরেছে। তবে সেটি ক্রয় চাপে নয়, সেটি নিশ্চিত। বিক্রয় চাপ বেশি থাকায় শেয়ারদর পড়ার পর সে সুযোগটি কাজে লাগিয়েছেন ব্যক্তি শ্রেণির বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা।

বৈঠকের দিন আরও বড় পতনে তীব্র হতাশা
যেসব কোম্পানির দরপতনে সূচক কমেছে সবচেয়ে বেশি

আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭০৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যা ছিল ১৪৬ কর্মদিবসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

আড়াইর বেশি শেয়ারের দরপতনের দিন ৮০টির মতো কোম্পানির দর বৃদ্ধি হয়েছে। এমন দিনে এমন কোনো খাত ছিল না যার বিনিয়োগকারীরা হাসিমুখে ঘরে ফিরবে। তবে তুলনামূলক কিছুটা স্বস্তিতে ছিল ব্যাংক খাতের শেয়ারধারীরা। যেসব শেয়ার দর হারিয়েছে সেগুলো শতকরা হিসেবে দর হারিয়েছে কমই।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাজার সংশোধনের সময় দরপতন মোটেও অস্বাভাবিক ঠেকেনি। এর কারণ, এক বছরে মূল্য সূচক বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার পর কিছুটা সংশোধন স্বাভাবিক হিসেবেই ধরে নিয়েছিলেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

আশা করা হয়েছিল, সংশোধন শেষে বাজার আবার উত্থানে ফিরবে এবং বিনিয়োগকারীরা তাদের হারানো টাকা ফিরে পাবে। কিন্তু সেটি হয়নি, উল্টো ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির মধ্যে মতভিন্নতার খবর প্রকাশ্যে চলে আসার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়। দিনের পর দিন হতাশা এক পর্যায়ে তৈরি করে আতঙ্ক।

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনা, এই বিনিয়োগসীমায় বন্ডে বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্তি নিয়ে মতভিন্নতা ছাড়াও অবণ্টিত মুনাফায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা আসবে কি না, এ নিয়ে আগে থেকেই টানপড়েনের মধ্যে সম্প্রতি যোগ হয়েছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনাকারী অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির লেনদেনের তথ্য চাওয়া।

সবশেষ এই নির্দেশ আসার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দিয়ে বিএসইসি বলেছে, তারা এভাবে সরাসরি তথ্য চাইতে পারে না। কোনো তথ্য দরকার পড়লে যেন বিএসইসির মাধ্যমে চাওয়া হয়।

এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে তথ্য আসে যে, মতভিন্নতা নিয়ে বৈঠকে বসবে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই সিদ্ধান্ত আসার পর সাপ্তাহিক কর্মদিবস শুক্র ও শনিবার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা আলোচনা-ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের জন্ম নেয়।

বৈঠকের দিন আরও বড় পতনে তীব্র হতাশা
এই ১০টি কোম্পানি সূচকে কিছুটা হলেও পয়েন্ট যোগ করেছে

কিন্তু কোনো কিছু্ বাজারে চিড় ধরা মনোবল ফেরাতে পারেনি। উল্টো শেয়ার কেনা বন্ধ রেখে কম দামে হলেও শেয়ার বিক্রি করে দিতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। এই বিষয়টি দরপতনকে আরও তরান্বিত করে। যারা লোকসানে শেয়ার বিক্রি করতে রাজি ছিলেন না, তাদের পোর্টফোলিওর আকার দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। এর মধ্যে যারা মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ার কিনেছেন, তাদের অবস্থান আরও খারাপ। পুনর্বিনিয়োগ করতে না পারলে শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য হতে থাকেন হাজার হাজার বিনিয়োগকারী।

আজকের এই দরপতনে প্রধান ভূমিকা ছিল গ্রামীণ ফোনের। ৩.২২ শতাংশ শেয়ারদর কমায় সূচক থেকে হারিয়ে গেছে ২৩.০৬ পয়েন্ট। গত পাঁচ কর্মদিবসে শেয়ারদর ১০ শতাংশের বেশি পড়ে যাওয়া বহুল আলোচিত বেক্সিমকো লিমিটেডের দর কমায় সূচক কমেছে ৮.৭৭ পয়েন্ট।

৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ, প্রথম প্রান্তিকে অভাবনীয় আয়, মালিকপক্ষের তিন কোটি টাকার শেয়ার কেনার ঘোষণায় শেয়ারদর ১৮৫ টাকা ছাড়িয়ে ২০০ টাকার দিকে ছুটছিল। সেখান থেকে নেমে শেয়ারদর এখন ১৫০ টাকার আশেপাশে। গত ২১ অক্টোবর শেয়ারদর দেড়শ টাকা ছাড়নোর পর এতটা নিচে নামেনি কখনও।

শেয়ারদর দেড়শ টাকা ছাড়ানোর পর এমনও দিন গেছে যেদিন সাড়ে তিনশ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে একটি কোম্পানিরই। দুইশ বা আড়াইশ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে, এমন দিন গেছে অনেক। অর্থাৎ উচ্চমূল্যেই শেয়ার লেনদেন হয়েছে বেশি। এ কারণে এই কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা ভীষণ হতাশ।

একই গ্রুপের আগের কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার দর নেমে এসেছে ২০০ টাকার নিচে। গত ১ সেপ্টেম্বর শেয়ারদর ২০০ টাকার ঘর অতিক্রম করার পর এই প্রথমবার এই ঘটনা ঘটল।

স্কয়ার ফার্মা, রবি, ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানি, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, ইউনাইটেড পাওয়ার, ওয়ালটনের মতো শক্তিশালী মৌলভিত্তির কোম্পানির দরপতনের কারণে সূচক কমেছে সবচেয়ে বেশি। দর কমে ৩০ টাকার নিচে নেমে এসেছে এনআরবিসি।

এর বিপরীতে যেসব কোম্পানি সূচক বাড়াতে পেরেছে, সেগুলোর সংখ্যা যেমন কম, তেমনি দর বৃদ্ধির হার কম থাকায় সেগুলো সূচকে পয়েন্ট যোগ করতে পেরেছে খুবই কম। সবচেয়ে বেশি সূচক বাড়ানো ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ৮.১৮ শতাংশ বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে কেবল ২.৫২ পয়েন্ট।

সবচেয়ে বেশি সূচক বাড়ানো ১০টি কোম্পানি কেবল গ্রামীণ ফোনের দরপতনজনিত কারণে সূচকের পতনই ঠেকাতে পারেনি।

আরও আসছে…

আরও পড়ুন:
চিকিৎসককে মারধর, যুবলীগ নেতা বহিষ্কার

শেয়ার করুন

ছাত্রীকে ধর্ষণে মাদ্রাসাশিক্ষকের যাবজ্জীবন

ছাত্রীকে ধর্ষণে মাদ্রাসাশিক্ষকের যাবজ্জীবন

সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে এই মাদ্রাসাশিক্ষককে। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি দুপুরে গাইড বই দেয়ার কথা বলে ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসায় ডেকে নেন সাইফুল। মাদ্রাসার কাছেই নিজ বাড়ির দোতলায় নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঘরে রেখেই পালিয়ে যান তিনি।

বরগুনায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষক সাইফুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেয়া হয়েছে মামলার আরেক আসামি সাইফুলের ভাবী রাশেদা বেগমকে।

বরগুনার জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হাফিজুর রহমান মঙ্গলবার দুপুরে এই রায় দেন।

সাইফুল ইসলামের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুরি ইউনিয়নের সাহেবের হাওলা গ্রামে।

২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি দুপুরে গাইড বই দেয়ার কথা বলে ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসায় ডেকে নেন সাইফুল। মাদ্রাসার কাছেই নিজ বাড়ির দোতলায় নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঘরে রেখেই পালিয়ে যান তিনি।

আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়। সেখান থেকে পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়।

ঘটনার দিন বিকেলেই সাইফুল ও তার ভাবীর বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন ওই কিশোরীর বাবা। সে বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি সাইফুলকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

আরও পড়ুন:
চিকিৎসককে মারধর, যুবলীগ নেতা বহিষ্কার

শেয়ার করুন

ট্রেনে কাটা পড়ে লাইনে বসে থাকা স্কুলছাত্রী নিহত

ট্রেনে কাটা পড়ে লাইনে বসে থাকা স্কুলছাত্রী নিহত

ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত স্কুলছাত্রী নুসরাত জাহান তোয়া। ছবি: নিউজবাংলা

তোয়ার মা শায়লা বেগম বলেন, ‘সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে আমার মেয়ে বের হয়। আমি আর আমার ছোট মেয়ে তাকে খানিকটা এগিয়েও দিয়ে আসি। বান্ধবীর বাসা থেকে তার স্কুলে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার কথা। ও রেললাইনে কীভাবে গেল বুঝতে পারছি না।’

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে।

কালিহাতী উপজেলার ধলাটেঙ্গর এলাকায় মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নুসরাত জাহান তোয়া এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সে পরিবারের সঙ্গে এলেঙ্গা শামসুল হক কলেজের সামনে একটি ভাড়া বাসায় থাকত। তাদের বাড়ি চট্টগ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা স্কুলের পোশাক পরা দুটি ছেলেমেয়েকে রেললাইনে এসে বসে থাকতে দেখেন। মেয়েটি লাইনের ওপর আর ছেলেটি একটু নিচে পাথরের ওপর বসা ছিল। এ সময় উত্তরবঙ্গগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে ওই স্কুলছাত্রী কাটা পড়ে। এরপর ছেলেটি দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়।

পুলিশ তার মোবাইল চেক করে জানায়, দুর্ঘটনার আধ ঘণ্টা আগে সোহাগ আল হাসান জয় নামের এক ছেলের সঙ্গে মেয়েটির মেসেঞ্জারে কথা হয়। তারা রেললাইনে দেখা করতে আসে।

তবে তোয়ার মা শায়লা বেগম বলেন, ‘সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে আমার মেয়ে বের হয়। আমি আর আমার ছোট মেয়ে তাকে খানিকটা এগিয়েও দিয়ে আসি। বান্ধবীর বাসা থেকে তার স্কুলে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার কথা। ও রেললাইনে কীভাবে গেল বুঝতে পারছি না।’

এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল করিম বলেন, ‘আজকে তোয়াদের গণিত পরীক্ষা ছিল। সকালে খবর পাই সে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে।’

ঘারিন্দা রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ এএসআই আব্দুস সবুর জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চিকিৎসককে মারধর, যুবলীগ নেতা বহিষ্কার

শেয়ার করুন