আওয়ামী লীগে স্থবিরতা কাটাতে আরও অপেক্ষা

আওয়ামী লীগে স্থবিরতা কাটাতে আরও অপেক্ষা

২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা

জুলাইয়ের শেষ থেকে আবারও সংগঠনিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

করোনাভাইরাসে স্থগিত থাকা সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করতে জুলাই-আগস্ট থেকে তৎপরতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কিন্তু এতে আবারও বাদ সেধেছে করোনা মহামারি। আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে চায় দলের কেন্দ্রীয় সংসদ।

গত বছরের মার্চে দেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে গত বছরের প্রায় পুরোটা জুড়ে সব সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত রেখেছিল আওয়ামী লীগ। নতুন বছরের অর্ধেক পার হয়ে গেলেও সেই স্থবিরতা পুরোপুরি কাটেনি।

স্বাভাবিক সময়ে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সবসময় নেতাকর্মীদের ভিড় লেগেই থাকত। গত দেড় বছরে সেখানে দলীয় নেতা-কর্মীদের আনাগোনা কম।

করোনার প্রাদুর্ভাবের পর থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে সেভাবে জনসমক্ষে আসতে দেখা যায়নি। নিয়মিত ঘরে বসে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দলীয় কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বিভিন্ন দিবসে আগের মতো জনসমাগম দেখা যাচ্ছে না।

অবশ্য সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশে বিভিন্ন সময় মানবিক কার্যক্রম চালাতে দেখা গেছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের। করোনায় দুস্থদের ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়া কিংবা কৃষকের ধান কেটে দেয়ার মতো কর্মসূচি প্রশংসাও পায়।

এর পরও দেড় বছরে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত কোথাও দলটির কোনো সাংগঠনিক তৎপরতা সেভাবে চোখে পড়েনি। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, এতে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্রমে দূরত্ব বাড়ছে।

নেতাদের সঙ্গে কর্মীদের যে সংযোগ স্বাভাবিক সময়ে ঘটে, তা ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। আর এ কারণে দলে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কাও করছেন তারা।

এদিকে তৃণমূল পর্যায়ের বেশিরভাগ কমিটির মেয়াদ এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। যেগুলোর সম্মেলন এরই মধ্যে হয়েছে, সেগুলো এখনও পূর্ণাঙ্গ হয়নি। সাংগঠনিক তৎপরতা না থাকায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে রয়েছে হতাশা। এ পরিস্থিতিতে জুলাইয়ের শেষ থেকে আবারও সংগঠনিক বিভিন্ন কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের কার্যক্রম আমরা সবসময়ই চলমান রেখেছি। এখন বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে হয়তো অনেক সময় আমাদের কৌশল পরিবর্তন করতে হচ্ছে।

‘সে ক্ষেত্রে করোনার অবস্থা যদি আরও ভয়াবহ হয়, তাহলে আমাদের পরিস্থিতি বিবেচনা করে আবার সেভাবেই চিন্তা করব।’

করোনায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমের স্থবিরতা কাটাতে তৃণমূলের নেতৃত্বের মধ্যে দূরত্ব ঘোচানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গঠন করা হয়েছিল সাংগঠনিক টিম। কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী কিছু কিছু ক্ষেত্রে কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে দলটি।

করোনার মধ্যে সংগঠন গোছানোর চেয়ে মানুষের জীবনকেই প্রাধান্য দিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতারা। এ কারণে বাস্তবতার নিরিখেই সামনে এগোতে চান তারা।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা কমার সম্ভাবনা তো এখন খুব কম বলেই মনে হচ্ছে। যদি কমিয়ে আনা যায়, তাহলে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম আমরা যথাশিঘ্রই শুরু করব।

‘আর যদি কমিয়ে আনতে না পারি, সে ক্ষেত্রে আমাদের আরেকটু সময় নিয়ে পরিকল্পনা নতুন করে গুছিয়ে নিতে হবে।’

নাছিম বলেন, ‘কারণটা হলো আমাদের সবকিছুর মূল উদ্দেশ্য হলো, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভিত আরও জোরদার করা, শক্তিশালী করা। দেশের মানুষের জীবনের চাইতে বড় আর কিছু নাই। লকডাউনে সবকিছু বন্ধ করা হচ্ছে। সব স্তরের বিশেষজ্ঞরা, স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিয়ে যারা ভাবছেন, তাদের পরামর্শ সব কিছু বন্ধ করে দেয়ার।

‘সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের সব কাজ করতে হবে। এটা হলো বাস্তবতা। বাস্তবতার নিরিখেই আমাদের সব কাজ করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আ. লীগের সভাপতি মঈনুদ্দীনের মৃত্যু
আওয়ামী লীগ কি অসাম্প্রদায়িক চরিত্র হারাচ্ছে?
মূল দল একটাই, আওয়ামী লীগ: শেখ হাসিনা
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশের সব অর্জন
প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিলীন, অটুট আওয়ামী লীগ

শেয়ার করুন

মন্তব্য