জাফরুল্লাহকে ‘হুমকি’, কাউসারের পাশেই ছাত্রদল

জাফরুল্লাহকে ‘হুমকি’, কাউসারের পাশেই ছাত্রদল

গত ২৬ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবে জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে ‘সাবধান’ করে কথা বলছেন ছাত্রদল নেতা ওমর ফারুক কাউসার। ছবি: নিউজবাংলা

তারেক জিয়া এই মুহূর্তে আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক। দলকে নিয়ে, অভিভাবককে নিয়ে কথা তোলায় নিজের আবেগ ধরে রাখতে না পেরে সে (কাউসার) তার কথা বলেছে মাত্র। প্রতিবাদ করেছে। এ ধরনের প্রতিবাদকে আমরা সমর্থন করি। ভবিষ্যতে ঘটলেও আমরা তাই করব। একই সঙ্গে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মতো একজন বুজুর্গ ব্যক্তির থেকে এ রকম আচরণ আমরা আশা করি না: ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক

তারেক রহমানকে নিয়ে কথা বললে ‘কিছু হয়ে গেলে আমরা দায়ী থাকব না’ বলে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে প্রকাশ্যে হুমকি দেয়া নেতার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ছাত্রদল। বরং সংগঠনের নেতারা মনে করেন, ওমর ফারুক কাউসার সেদিন ‘সঠিক কাজ করেছেন’।

ছাত্রদল নেতারা এও বলেছেন, ভবিষ্যতেও বিএনপি বা দলের নেতাদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করলে একইভাবে ‘প্রতিবাদ করে যাবেন’ তারা।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে যে আলোচনায় বিএনপি সমর্থক এই বুদ্ধিজীবীকে ‘হুমকি’ দেয়া হয়, সেখানে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এহছানুল হক মিলন। তিনিও সেদিন ছাত্রদল নেতাকে কিছু বলেননি।

এ বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর আলোড়ন তুললেও বিএনপির কোনো নেতা জাফরুল্লাহকে ফোন করে তার খোঁজখবর নেননি। যদিও জাফরুল্লাহ গত কয়েক বছর ধরেই বিএনপির পক্ষ নিয়ে কথা বলে আসছেন।

গত শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সেমিনারে বক্তব্য রাখছিলেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বিএনপির কী করা উচিত তা বলতে গিয়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থানকারী তারেক রহমানকে দুই বছর চুপচাপ থেকে পড়ালেখা করার পরামর্শ দেন। আর তিনি এও বলেন যে, ‘বিএনপি চলে লন্ডন থেকে আসা ওহি দিয়ে।’

এ কথা বলার পর পর শ্রোতার আসনে থাকা ছাত্রদলের সহসভাপতি ওমর ফারুক কাউসার দাঁড়িয়ে ‘স্লামালাইকুম ওস্তাদ’ বলে কটাক্ষকর সম্বোধন করেন জাফরুল্লাহকে।

সবাই চমকে গিয়ে কাউসারের দিকে দৃষ্টি দেন। আর তিনি জাফরুল্লাহর সঙ্গে তর্ক করতে থাকেন। এক পর্যায়ে বলেন, ‘আপনি বিএনপির কে যে আপনার কথা শুনতে হবে?’

পরে বলেন, ‘আপনি আমাদের নেতাকে নিয়ে কথা বলবেন না। যদি বলেন, পরবর্তী সময়ে কিছু হলে কিন্তু আমরা দায়ী না।’

জাফরুল্লাহ চীনপন্থি বাম বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত হলেও গত এক দশক ধরে বিএনপিকে নানা বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে আসছেন। বিএনপি এসব পরামর্শ নিচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তিনি তার সিংহভাগ আলোচনায় বিএনপির কী করা উচিত, তা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে দ্রুত আন্দোলনে যাওয়ার তাগিদও দিয়ে আসছেন তিনি। একাধিকবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে খোলা চিঠিও লিখেছেন তিনি।

গত জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপির জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনেও জাফরুল্লাহ রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। নিজেও যোগ দেন সেই জোটে।

স্বভাবতই তাকে এভাবে প্রকাশ্য ‘হুমকি’ দেয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে যিনি ‘হুমকি’ দিয়েছেন, তার সংগঠন ছাত্রদল এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

জাফরুল্লার কাছে এমন আচরণ আশা করে না ছাত্রদল

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি ফোন বন্ধ করে রেখেছেন। যে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যবহার করতেন, সেটিতেও পাওয়া যায়নি।

পরে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন নিউজবাংলার সঙ্গে। তিনি কাউসারকে সমর্থনই করেন। তিনি মনে করেন না জাফরুল্লাহকে হুমকি দেয়া হয়েছে।

কাউসারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না, জানতে চাইলে শ্যামল বলেন, ‘ব্যবস্থা নেয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমরা বিষয়টি দেখেছি। কাউসারের কথায় কোনো উগ্রবাদী আচরণ ছিল না। উল্টো সে খুব বিনয়ের সঙ্গে সালাম দিয়ে কথা বলেছে।’

ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘জাফরুল্লাহ চৌধুরী একজন সিনিয়র সিটিজেন। মুক্তিযুদ্ধে ওনার একটি ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে তারেক জিয়া এই মুহূর্তে আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক। দলকে নিয়ে, অভিভাবককে নিয়ে কথা তোলায় নিজের আবেগ ধরে রাখতে না পেরে সে (কাউসার) তার কথা বলেছে মাত্র। প্রতিবাদ করেছে। এ ধরনের প্রতিবাদকে আমরা সমর্থন করি। ভবিষ্যতে ঘটলেও আমরা তাই করব। একই সঙ্গে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মতো একজন বুজুর্গ ব্যক্তির থেকে এ রকম আচরণ আমরা আশা করি না।’

কাউসার যা বলছেন

নিউজবাংলার সঙ্গে কথা হয়েছে কাউসারেরও। তিনি বলেন, ‘জনাব তারেক জিয়া আমাদের অভিভাবক। এই দল আমাদের আদর্শ। উনি সব সময় এমন সমালোচনা করে যান। আগেও অনেকবার নানা আপত্তিকর কথা বলে আসছেন। আমরাও রক্ত-মাংসের মানুষ।’

সেদিন তার বক্তব্যে আক্রমণাত্মক কিছু ছিল না বলেও মনে করেন এই ছাত্রদল নেতা। বলেন, ‘উনাকে হুমকি দিইনি। আমি সালাম দিয়ে খুব বিনয়ের সঙ্গে তাকে বলেছি। খারাপ লাগার জায়গা থেকে ওনাকে সতর্ক করেছি মাত্র।’

কারা কিছু করবে বলে আশঙ্কা করছেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা ভিন্নমতে বিশ্বাসী। উনি ওনারটা বলবেন। তবে এই যে উনি যে উল্টাপাল্টা মন্তব্য করেন। আমাদের ছাত্রদলেই কত ছেলে আছে। সবার কন্ট্রোল একরকম না। দলকে নিয়ে, প্রিয় নেতা নিয়ে বাজে মন্তব্য আসলে অনেকেই ক্ষুব্ধ হন। আবেগ থেকে কেউ একজন রাস্তাঘাটে কী বলে ফেলবে না ফেলবে, সেই কথা চিন্তা করে ওনাকে সতর্ক করেছি মাত্র।

‘আর দল নিয়ে, নেতাদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করলে এ রকম প্রতিবাদ আমরা সামনেও করব’- বলেন ছাত্রদলের সহসভাপতি।

সমালোচনা করেই যাব: জাফরুল্লাহ

গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেছেন, তিনি আগেও সমালোচনা করেছেন, ভবিষ্যতেও করবেন।

বিএনপি ও ছাত্রদলকে ইঙ্গিত করে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তারা তো আর মাঠে গিয়ে আন্দোলন করতে পারছে না। খালেদা জিয়াকেও মুক্ত করতে পারছে না। তাই ঘরে বসে দুটো কথা বলে কাজ দেখাইল আর কি। আমি আগেও সমালোচনা করেছি, সামনেও করে যাব। সত্য বলতে দোষের কী?’

জাফরুল্লাহকে ‘হুমকি’, কাউসারের পাশেই ছাত্রদল
জাফরুল্লাহ চৌধুরী জানিয়েছেন, তিনি সমালোচনা করা ছাড়বেন না

সেদিনের ঘটনা নিয়ে মনে কোনো ক্ষোভ আছে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি ঠিক ক্ষুব্ধ না, তবে হাসির মেটার এটা। দুইটা ছেলে সেদিন আগায় আসল। একজন এসে বলল আমাকে, তাদের নেতাকে নিয়ে কিছু না বলতে। আওয়ামী লীগ এক লোকের বন্দনা করে, বিএনপি আরেক লোকের বন্দনা করে। তারই ফলাফল এটা।’

প্রেস ক্লাবে সেদিন যা ঘটেছিল

শনিবার ওই সেমিনারের আয়োজক ছিল এডুকেশন রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ (ইআরআই) নামে বিএনপি সমর্থক একটি সংগঠন। বিষয় ছিল ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী: শিক্ষায় প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি এবং করোনাকালীন শিক্ষা বাজেট: ২০২১-২০২২’।

আলোচনার একপর্যায়ে বিএনপি, তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন জাফরুল্লাহ। মন্তব্য করেন, ‘বিএনপি চলে লন্ডন থেকে আসা ওহি দিয়ে।’

তারেক রহমানকে দুই বছর চুপচাপ বসে লন্ডনে পড়ালেখার পরামর্শও দেন জাফরুল্লাহ।

এ সময় শ্রোতাদের আসনে থাকা ছাত্রদল নেতা কাউসার তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘ওস্তাদ স্লামাইকুম।’

মুহূর্তে সেমিনার কক্ষে উপস্থিত সবাই চমকে যান। সেই ব্যক্তি বলতে থাকেন, ‘আপনি বিএনপির কী? আপনি কে যে আপনার কথা শুনতে হবে? আপনি আমাদের নিয়া উল্টাপাল্টা কথা বলেন?’

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আপনি আগে কথা তো শোনেন।’

তখন ছাত্রদল নেতার সঙ্গে থাকা একজন বলেন, ‘আপনি জয়রে (প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়) নিয়া বলেন।’

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আপনাদের ভালোর জন্য বলি। আপনারা আপনাদের ভালো বোঝেন না।’

ছাত্রদল নেতা কাউসার বলেন, ‘না না, আমরা অবশ্যই বুঝি, আমরা আমাদেরটা বুঝি, আপনি আপনারটা বোঝেন। আপনি আমাদের নেতাকে নিয়ে কখনও এভাবে কথা বলবেন না। আপনি আপনাকে নিয়ে কথা বলেন, যদি বলেন, পরবর্তী সময়ে কিছু হলে কিন্তু আমরা জানি না।’

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘কোনো কিছু হবে না, আপনারা দায়ী হবেন কেন?’

কাউসার বলেন, ‘ধন্যবাদ।’

এই কথোপকথনের পর কাউসার তার সঙ্গীদের নিয়ে সেমিনার কক্ষ ত্যাগ করেন।

আরও পড়ুন:
ছাত্রদল নেতার হুমকি: কিছুই মনে করেননি জাফরুল্লাহ
জাফরুল্লাহকে প্রকাশ্যে ‘হুমকি’ ছাত্রদল নেতার
‘দেশের ১২ কোটি মানুষের জন্মতারিখ নেই’
ধান্ধা ভেবে মেডিক্যাল পেশায় আসছে: জাফরুল্লাহ
৩০ লাখ শহীদের বেশির ভাগই মারা যান ভারতে: ডা. জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ। ছবি: নিউজবাংলা

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, হারুনের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সদরে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

নিহত হারুনুর রশীদ সদর উপজেলার বসিকপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

জেলা সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেয়ার পথে বৃহস্পতিবার ভোররাতে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় লোকজন জানান, বুধবার রাতে হারুন বসিকপুর ইউনিয়নের বটের পুকুর পাড়ে একটি চায়ের দোকানে বসে টেলিভিশনে ক্রিকেট খেলা দেখছিলেন। রাত ৯টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ৫ থেকে ৬ জন এসে তার ওপর হামলা চালায়। তারা তাকে কুপিয়ে চলে যায়।

স্থানীয়রা তাকে সদর হাসপাতালে নিলে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা ঢাকায় পাঠাতে বলেন। ঢাকায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, হারুনের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়নের অভিযোগ, বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জেলা পুলিশ সুপার এস এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’

আরও পড়ুন:
ছাত্রদল নেতার হুমকি: কিছুই মনে করেননি জাফরুল্লাহ
জাফরুল্লাহকে প্রকাশ্যে ‘হুমকি’ ছাত্রদল নেতার
‘দেশের ১২ কোটি মানুষের জন্মতারিখ নেই’
ধান্ধা ভেবে মেডিক্যাল পেশায় আসছে: জাফরুল্লাহ
৩০ লাখ শহীদের বেশির ভাগই মারা যান ভারতে: ডা. জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের বাসা ঘিরে পুলিশ

মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের বাসা ঘিরে পুলিশ

বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেন খোকনের বাসায় ঢোকার চেষ্টা করছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

রাত সাড়ে আটটার দিকে বাসার আশপাশে অবস্থান নেন পুলিশ সদস্যরা। দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর তারা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নবগঠিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন খোকনের বাসা ঘিরে রেখেছেন গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা।

নিউজবাংলাকে বুধবার রাত ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন খোকনের বাসার ম্যানেজার মোহাম্মদ বাশার।

তিনি বলেন, রাত সাড়ে আটটার দিকে বাসার আশপাশে অবস্থান নেন পুলিশ সদস্যরা। দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর তারা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন।

ওই বাসার সিসিটিভি ক্যামেরার একটি ভিডিও এসেছে নিউজবাংলার হাতে। ১৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, গোয়ান্দা সদস্যদের পাশাপাশি সেখানে অবস্থান করছেন থানা-পুলিশ সদস্যরা। আছেন সাদাপোশাকধারী কয়েকজন। তাদের মধ্যে একজন বিএনপি নেতার বাসার দরজায় কড়া নাড়ছেন।

আরও পড়ুন:
ছাত্রদল নেতার হুমকি: কিছুই মনে করেননি জাফরুল্লাহ
জাফরুল্লাহকে প্রকাশ্যে ‘হুমকি’ ছাত্রদল নেতার
‘দেশের ১২ কোটি মানুষের জন্মতারিখ নেই’
ধান্ধা ভেবে মেডিক্যাল পেশায় আসছে: জাফরুল্লাহ
৩০ লাখ শহীদের বেশির ভাগই মারা যান ভারতে: ডা. জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

টিকা নিতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করুন

টিকা নিতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করুন

কাদের বলেন, ‘করোনার গণটিকাদান সফল করতে দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কাজ করবে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নিজে টিকা নেবে ও অন্যদেরও টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠে থাকবে।’

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে দলের নেতা-কর্মীদের মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বুধবার সকালে এক বৈঠকের শুরুতে সভাপতির এ বার্তা নেতা-কর্মীদের কাছে পৌঁছে দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আগস্টে দলের নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে সকালে বৈঠকে বসে কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলী।

ওই সময় করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরে কাদের বলেন, ‘করোনার গণটিকাদান সফল করতে দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

‘১৮ বছরের বেশি বয়সীদের টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কাজ করবে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নিজে টিকা নেবে ও অন্যদেরও টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠে থাকবে।’

দেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ রুখতে ১০ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকার। মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে জানানো হয়, ১১ আগস্ট থেকে ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে। তবে কর্মস্থলে যোগ দিতে নিতে হবে টিকা।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি দেশে গণটিকাদান শুরু হয়। টিকা সংকটের কারণে কিছুদিন টিকাদানে ধীরগতি থাকলেও গত ৩০ জুন নিবন্ধন কার্যক্রম দ্বিতীয় দফায় উন্মুক্ত করে সরকার। একই সঙ্গে টিকা নিবন্ধনের বয়সসীমা কমানো হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৭ আগস্ট সারা দেশে প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু হচ্ছে গণটিকাদান কার্যক্রম। ১৪ হাজার কেন্দ্রে টানা সাত দিনে এক কোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনবে সরকার। দেশের ৮০ ভাগ মানুষকে পর্যায়ক্রমে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের বলেছেন, সরকারের হাতে এখন সোয়া কোটির মতো টিকার ডোজ আছে। এর বাইরেও খুব শিগগিরই দেশে আসছে আরও এক কোটি টিকা।

বৈঠকে বঙ্গবন্ধু হত্যায় দণ্ডিত পলাতক আসামিদের বিষয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হত্যার দণ্ডিত পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার কার্যকরের চেষ্টা অব্যহত আছে।’

আরও পড়ুন:
ছাত্রদল নেতার হুমকি: কিছুই মনে করেননি জাফরুল্লাহ
জাফরুল্লাহকে প্রকাশ্যে ‘হুমকি’ ছাত্রদল নেতার
‘দেশের ১২ কোটি মানুষের জন্মতারিখ নেই’
ধান্ধা ভেবে মেডিক্যাল পেশায় আসছে: জাফরুল্লাহ
৩০ লাখ শহীদের বেশির ভাগই মারা যান ভারতে: ডা. জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

বিএনপির ঢাকার কমিটিতে ছোটখাটো সমস্যা থাকতে পারে: ফখরুল

বিএনপির ঢাকার কমিটিতে ছোটখাটো সমস্যা থাকতে পারে: ফখরুল

বিএনপির ঢাকা মহানগর কমিটি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

‘বিএনপি একটি বিশাল রাজনৈতিক দল। যখন একটি কমিটি তৈরি করা হয়, তখন ছোটখাটো সমস্যা থাকতেই পারে। তবে এবার পরীক্ষিত নেতাদের নিয়েই কমিটি করা হয়েছে। প্রবীণ এবং নবীনের সমন্বয়ে করা হয়েছে।’

ঢাকা মহানগরে বিএনপির যে দুটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে ছোটখাটো সমস্যা থাকতে পারে বলে স্বীকার করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে যাদের নেতৃত্বে রাখা হয়েছে তারা সবাই যোগ্য বলে মনে করেন তিনি।

রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসায় মঙ্গলবার নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি মহাসচিব। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

এক প্রশ্নে ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি একটি বিশাল রাজনৈতিক দল। যখন একটি কমিটি তৈরি করা হয়, তখন ছোটখাটো সমস্যা থাকতেই পারে। তবে এবার পরীক্ষিত নেতাদের নিয়েই কমিটি করা হয়েছে। প্রবীণ এবং নবীনের সমন্বয়ে করা হয়েছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমানের নেতৃত্বে ঢাকা উত্তরের ৪৭ সদস্য এবং আবদুস সালামের নেতৃত্বে দক্ষিণের ৪৯ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি সোমবার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

উত্তরের সদস্যসচিব হয়েছেন আমীনুল হক এবং দক্ষিণের রফিকুল আলম মজনু।

নতুন কমিটি নিয়ে ফখরুল বলেন, ‘দুটি কমিটিই গঠন করা হয়েছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে। এই কমিটির প্রতি সারা দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। নেতাদের সবাই পরীক্ষিত।’

দলের আন্দোলনে নেতারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে বলে আশা করছেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কমিটির মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতির একটা গুণগত পরিবর্তন আসবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

‘অগণতান্ত্রিক একটি সরকার আমাদের সব আশা-আকাঙ্ক্ষা বিনষ্ট করে দিচ্ছে। নতুন নেতারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমিকা রাখবেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য ভূমিকা রাখবেন।’

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ৫ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে কারাগারে যাওয়া বিএনপি নেত্রীর সাজা পরে বেড়ে হয় ১০ বছর। পরে আরও একটি মামলায় তার হয় সাত বছরের কারাদণ্ড।

তবে ২০২০ সালের মার্চে দণ্ড স্থগিত হওয়ার পর খালেদা জিয়া কারাগার থেকে দুই শর্তে বাসায় ফেরেন। ছয় মাসের জন্য তাকে মুক্ত করা হলেও পরে আরও দুই দফায় মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয় আরও ছয় মাস করে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আহ্বায়ক কমিটি অত্যন্ত সক্রিয় থেকে দলকে সুসংগঠিত করবে এবং একটি কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন করবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।’

কবে নাগাদ কাউন্সিল হতে পারে, এমন প্রশ্ন তিনি বলেন, ‘আমাদের যে গঠনতন্ত্র আছে, সে অনুযায়ী কাউন্সিল হবে।’

ঢাকা মহানগর উত্তরের নতুন আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘আজকে গণতন্ত্র অনুপস্থিত, একদলীয় শাসন চলছে। নির্যাতন-নিপীড়ন ও অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। আমরা একযোগে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কাজ করব। যদি প্রয়োজন হয় ১৯৯০ সালের মতো গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সরকারকে সরানো হবে।’

মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। আমাদের উদ্দেশ্য সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা এবং আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা।’

তাবিথ আউয়াল, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, নবী উল্লাহ নবী, ইউনুস মৃধা, মোহাম্মদ মোহন, আতিকুল ইসলাম মতিন, মোশাররফ হোসেন খোকন, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, এস এম জাহাঙ্গীর, শায়রুল কবির খানও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ছাত্রদল নেতার হুমকি: কিছুই মনে করেননি জাফরুল্লাহ
জাফরুল্লাহকে প্রকাশ্যে ‘হুমকি’ ছাত্রদল নেতার
‘দেশের ১২ কোটি মানুষের জন্মতারিখ নেই’
ধান্ধা ভেবে মেডিক্যাল পেশায় আসছে: জাফরুল্লাহ
৩০ লাখ শহীদের বেশির ভাগই মারা যান ভারতে: ডা. জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

পাকিস্তানের আম পেলেন খালেদাও

পাকিস্তানের আম পেলেন খালেদাও

এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুধু পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আম নয়, জাপান থেকে চকলেট দেয়া হয়, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে খেজুর, রাশিয়া, ইন্ডিয়া, ইউরোপসহ বিভিন্ন দূতাবাস থেকে উপহার আসে। সেটা শুধু বিএনপি বা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য না; এটা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কাছেও পাঠানো হয়।’

রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছেও পাকিস্তান থেকে পাঠানো হয়েছে আম।

ঢাকার পাকিস্তান দূতাবাসের পক্ষ থেকে সোমবার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসায় আমের ঝুড়ি পৌঁছে দেয়া হয়।

বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ১ হাজার কে‌জি হা‌ড়িভাঙা আম পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনা।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুধু পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আম নয়, জাপান থেকে চকলেট দেয়া হয়, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে খেজুর, রাশিয়া, ইন্ডিয়া, ইউরোপসহ বিভিন্ন দূতাবাস থেকে উপহার আসে।

‘সেটা শুধু বিএনপি বা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য না; এটা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কাছেও পাঠানো হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকেও ঢাকার সকল দূতাবাসে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় উপহার পাঠানো হয়। বিভিন্ন সিজনে এ সমস্ত ফলমূল পাঠানো হয়।’

আরও পড়ুন:
ছাত্রদল নেতার হুমকি: কিছুই মনে করেননি জাফরুল্লাহ
জাফরুল্লাহকে প্রকাশ্যে ‘হুমকি’ ছাত্রদল নেতার
‘দেশের ১২ কোটি মানুষের জন্মতারিখ নেই’
ধান্ধা ভেবে মেডিক্যাল পেশায় আসছে: জাফরুল্লাহ
৩০ লাখ শহীদের বেশির ভাগই মারা যান ভারতে: ডা. জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

করোনা: বিএনপির হেল্প সেন্টারে বাধার অভিযোগ

করোনা: বিএনপির হেল্প সেন্টারে বাধার অভিযোগ

করোনার সময়ে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণে হেল্প সেন্টার চালু করেছে বিএনপি। ছবি: মেরিনা মিতু/নিউজবাংলা

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহামারিতে জনগণের মধ্যে ওষুধ, অক্সিজেন, সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি করোনা টিকা রেজিস্ট্রেশন সংশ্লিষ্ট তথ্য দিয়ে থাকে করোনা হেল্প সেন্টার।

বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির করোনাভাইরাস সংক্রান্ত হেল্প সেন্টার স্থাপনে বাধা দেয়া হচ্ছে অভিযোগ করে একে ‘অমানবিক অপরাধ’ আখ্যা দিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

শেরপুরে করোনার হেল্প সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মঙ্গলবার তিনি এ কথা বলেন।

‘যেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন শত শত লোক মৃত্যুবরণ করছেন, যেখানে এই মহামারিতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার কথা, সেখানে করোনার হেল্প সেন্টারে বাধা দেয়া অমানবিক অপরাধ। এটা বিস্ময়কর। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে লজ্জাবোধ করছি’, বলেন নজরুল।

ওই সময় কার হুকুমে বাধা দেয়া হয়েছে, তার খোঁজ নিতে বিভাগীয় নেতা-কর্মীদের অনুরোধ জানান তিনি।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহামারিতে জনগণের মধ্যে ওষুধ, অক্সিজেন, সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি করোনা টিকা রেজিস্ট্রেশন সংশ্লিষ্ট তথ্য দিয়ে থাকে করোনা হেল্প সেন্টার।

শেরপুর জেলা বিএনপি জানায়, হেল্প সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠান চলাকালে ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, ডিবির দফায় দফায় বাধার মুখে পড়ে তারা। এ কারণে অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য হয় জেলা বিএনপি।0

ওই অনুষ্ঠানে নজরুল বলেন, ‘টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে আফ্রিকার দরিদ্রতম দেশগুলো থেকেও পিছিয়ে বাংলাদেশ। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক, আফগানিস্তান থেকেও পিছিয়ে বাংলাদেশ। এই অবস্থায় সরকারের উচিত সবাইকে টিকাদানে উৎসাহিত করা।’

চলমান শাটডাউনের মধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্প ও কলকারখানা খুলে দেয়ার বিষয়ে বিএনপির বর্ষীয়ান এ রাজনীতিক বলেন, ‘করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরামর্শক কমিটি যে পরামর্শ দিচ্ছে সরকার তার উল্টোটা করছে। শ্রম মন্ত্রণালয় বলছে মালিকরা তাদের কথা শুনছে না।

‘জনগণের কল্যাণকর এবং যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত না নিলে কেউ মানবে না—এটাই স্বাভাবিক। এই অবস্থায় সরকার আছে বলে মনে হয় না।’

বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা এবং তারেক রহমানের নামে থাকা মামলাগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানান নজরুল।

শেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেলের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল সভায় অন্যদের উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম, ওয়ারেস আলী মামুন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলীসহ অনেকেই।

আরও পড়ুন:
ছাত্রদল নেতার হুমকি: কিছুই মনে করেননি জাফরুল্লাহ
জাফরুল্লাহকে প্রকাশ্যে ‘হুমকি’ ছাত্রদল নেতার
‘দেশের ১২ কোটি মানুষের জন্মতারিখ নেই’
ধান্ধা ভেবে মেডিক্যাল পেশায় আসছে: জাফরুল্লাহ
৩০ লাখ শহীদের বেশির ভাগই মারা যান ভারতে: ডা. জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

বিএনপিতে করোনার থাবা

বিএনপিতে করোনার থাবা

করোনায় মারা যাওয়া বিএনপির কয়েকজন নেতা। ফাইল ছবি

দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দুজন ভাইস চেয়ারম্যান, দলীয় চেয়ারপারসনের তিনজন উপদেষ্টা, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন সম্পাদক ছাড়া আছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কয়েকজন সদস্য। ভাইস চেয়ারম্যান দুজন হলেন চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ও মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী। প্রাণ হারানো বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টারা হলেন জিয়াউর রহমান খান, এম এ হক ও এ কে এম মোশাররফ হোসেন।

করোনাভাইরাসে রীতিমতো কাঁপছে বিএনপি। দলের কেন্দ্রীয় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী আক্রান্ত। মৃত্যুর সংখ্যাও ব্যাপক।

দলের হিসাব বলছে, কেন্দ্রীয় ১৯ জন নেতা প্রাণ হারিয়েছেন সারা বিশ্ব তোলপাড় করা ভাইরাসটিতে। আর সারা দেশে নেতা-কর্মীর এই সংখ্যা ৭০৯ বলে দাবি করছেন নেতারা।

দলটির করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর তালিকা সবশেষ হালনাগাদ করা হয়েছে ১৫ জুন। এর মধ্যে পরে আরও কয়েকজন নেতা-কর্মীর মৃত্যুর খবর এসেছে। তবে তালিকা হালনাগাদ করা হয়নি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স নিউজবাংলাকে জানান, গত দুই মাসেই মারা গেছেন ২৮৩ জন।

বিএনপির করোনা পর্যবেক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত দুই মাসে মৃত্যুর সংখ্যা এমনিতেই বেশি। সরকারের ব্যর্থতাই এর প্রধান কারণ। লকডাউনের তামাশা শেষ করে এখন শাটডাউনের তামাশা শুরু করছে তারা।’

বিএনপিতে করোনার থাবা
করোনায় মৃত্যু হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেনের।

অসচ্ছল নেতা-কর্মীদের পরিবারের পাশে বিএনপি থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল তাদের পরিবারকে দুই ঈদের উপহার পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এদের বাইরে কেউ সহযোগিতার আবেদন করলে তাদেরও দেয়া হবে। এমনিতেও দলীয় তহবিল থেকে যতটুকু সম্ভব আর্থিক অনুদান দেয়া হচ্ছে।’

কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে যারা মারা গেলেন

দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দুজন ভাইস চেয়ারম্যান, দলীয় চেয়ারপারসনের তিনজন উপদেষ্টা, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন সম্পাদক ছাড়া আছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কয়েকজন সদস্য।

ভাইস চেয়ারম্যান দুজন হলেন চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী।

বিএনপিতে করোনার থাবা
রাজশাহী-৪ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আবু হেনা মারা গেছেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে। ফাইল ছবি

প্রাণ হারানো বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টারা হলেন জিয়াউর রহমান খান, এম এ হক ও এ কে এম মোশাররফ হোসেন।

সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান, সহ-গ্রামসরকার বিষয়ক সম্পাদক আমজাদ হোসেনও প্রাণ হারিয়েছেন করোনায়।

অন্য কেন্দ্রীয় নেতারা হলেন নির্বাহী কমিটির সদস্য শফিউল বারী বাবু, খুররম খান চৌধুরী, আহসান উল্লাহ হাসান, পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্য খন্দকার আহাদ আহমেদ, সাবেক মন্ত্রী টি এম গিয়াস উদ্দিন, এ টি এম আলমগীর, সাবেক সংসদ সদস্য আবু হেনা, আমেরিকার বোস্টনে বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক মিতোষ বড়ুয়া, জাতীয় ট্যাক্স-বারের সাবেক সভাপতি গফুর মজুমদার, ওলামা দলের প্রচার সম্পাদক দ্বীন মোহাম্মদ কাশেমী, দিনাজপুর বিএনপির সভাপতি লুৎফর রহমান মিন্টু, রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক।

বিএনপিতে করোনার থাবা
মানিকগঞ্জের বিএনপি নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের এক চেয়ারম্যানেরও মৃত্যু হয় করোনায়। ফাইল ছবি

তৃণমূলে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু চট্টগ্রাম বিভাগে

হালনাগাদের তথ্য অনুযায়ী দলটির সবচেয়ে বেশি নেতা-কর্মী মারা গেছেন চট্টগ্রাম বিভাগে। আর সবচেয়ে কম নেতা-কর্মী মারা গেছেন ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর বিভাগে (সাংগঠনিক বিভাগ)।

বিএনপিতে করোনার থাবা
করোনায় মারা যাওয়া বিএনপি নেতা-কর্মীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয় দলটি। ফাইল ছবি

তালিকা অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগে ২০১ জন, ঢাকা বিভাগে ১৮৬, খুলনা বিভাগে ১৫৪, রংপুর বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ৩৪, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১, ফরিদপুর বিভাগে ১১, বরিশাল বিভাগে ১৯, কুমিল্লা বিভাগে ৩৫ এবং সিলেট বিভাগে ১৫ জন মারা গেছেন।

আরও পড়ুন:
ছাত্রদল নেতার হুমকি: কিছুই মনে করেননি জাফরুল্লাহ
জাফরুল্লাহকে প্রকাশ্যে ‘হুমকি’ ছাত্রদল নেতার
‘দেশের ১২ কোটি মানুষের জন্মতারিখ নেই’
ধান্ধা ভেবে মেডিক্যাল পেশায় আসছে: জাফরুল্লাহ
৩০ লাখ শহীদের বেশির ভাগই মারা যান ভারতে: ডা. জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন