লকডাউন তামাশায় পরিণত হয়েছে: বিএনপি

লকডাউন তামাশায় পরিণত হয়েছে: বিএনপি

৭ দিনের লকডাউনের খবরের পর মাওয়া ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

লকডাউনকে বিএনপি তামাশা বলছে কেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কেন বলব না? আপনারা এর আগে লকডাউন দিলেন। প্রথমে লকডাউন নয়, সাধারণ ছুটি ঘোষণা করল। তখন দেখা গেল, শ্রমিকরা একবার গেল আবার ফিরে এলো। আবার গতকালের সিনটা দেখেন…৭ দিনের ছুটি মনে করে একদল লোক হেঁটে বাড়ির দিকে যাচ্ছে, আরেক দল ঢাকা ফিরছে।’

করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের ঘোষিত লকডাউন এখন তামাশায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। করোনা প্রতিরোধী টিকা সংগ্রহেও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কোনো সমন্বয়হীনতা নেই বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

‘ইতোমধ্যে সরকার ৭ দিনের জন্য পুনরায় লকডাউন ঘোষণা করেছে, যা এখন তামাশায় পরিণত হয়েছে। সরকারের অযোগ্যতা এবং জবাবদিহিহীনতার কারণে লকডাউন সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

‘গরিব সাধারণ মানুষ, দিন আনে দিন খায় শ্রেণির মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা না করে, অপ্রাতিষ্ঠানিক সেক্টরের শ্রমিক ও কর্মরত ব্যক্তিদের নগদ টাকা ট্রান্সফারের ব্যবস্থা না করে লকডাউন কখনোই কার্যকর হতে পারে না।’

লকডাউনকে বিএনপি তামাশা বলছে কেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কেন বলব না? আপনারা এর আগে লকডাউন দিলেন। প্রথমে লকডাউন নয়, সাধারণ ছুটি ঘোষণা করল। তখন দেখা গেল, শ্রমিকরা একবার গেল আবার ফিরে এলো।

‘আবার গতকালের সিনটা দেখেন, জেলার সঙ্গে তারা গাড়ির যোগাযোগটা বন্ধ করে দিল, এখন লকডাউনের ৭ দিনের ছুটি মনে করে একদল লোক হেঁটে বাড়ির দিকে যাচ্ছে, আরেক দল ঢাকা ফিরছে। এগুলো তারা আগে চিন্তা করবে না, কী হতে পারে।’

টিকা সংগ্রহ নিয়েও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা চলছে বলে অভিযোগ তোলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘করোনার ভ্যাকসিন সংগ্রহের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য প্রমাণ করেছে যে, সরকারের মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই।’

সবকিছু এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল। তাই এ সরকারের অবিলম্বে পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি।

জনগণ সহযোগিতা করলে করোনা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে- স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণ তো সহযোগিতা করতে চায়। আপনারা তো জনগণকে সহযোগিতা করার কোনো সুযোগ দিচ্ছেন না। আপনাদের যে চরম দুর্নীতি-অদক্ষতা, সে কারণে করোনা পরিস্থিতি একেবারেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চেলে গেছে।’

করোনা নিয়ন্ত্রণে ভারতের সাম্প্রতিক সাফল্য তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভারতে করোনা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। কিন্তু তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কারণে তা এখন ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রতিটি দেশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে করোনা সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করছে। আর আমাদের সরকার কীভাবে দুই পয়সা ইনকাম হবে, সেই চিন্তা গোটা জাতিকে আজ চরম বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’

‘বিএনপির ভবিষ্যৎ অন্ধকার’- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা এত উদ্বিগ্ন কেন। এ কারণে যে তারা মনে করে, বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল, যারা জনগণের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত করে। এ কারণে যে বিএনপি একমাত্র দল, যারা এই ভয়াবহ দানব সরকারকে পরাজিত করে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

‘আমি বলতে চাই, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ ঘোরতর অমানিশার অন্ধকারে নিমজ্জিত। আওয়ামী লীগ যে কাজগুলো করছে, তা গোটা জাতিকে অন্ধকারে দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জাতির যা কিছু ভালো, সুন্দর ছিল তা ধ্বংস করে দিয়েছে।’

কবি নির্মলেন্দু গুণের একটি কবিতার কয়েকটি পঙক্তি উদ্ধৃত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সময়ের অপেক্ষা। মানুষ যেই দিন জেগে উঠবে। সেই দিন আওয়ামী লীগ পালাবার পথ খুঁজে পাবে না।’

শনিবার অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্তগুলো জানাতে আজকের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন:
শাটডাউনে মাঠে নামছে সেনাবাহিনী
সোমবার নয়, শাটডাউন বৃহস্পতিবার থেকে
‘কী করব, কী খাব’
ফিল্ড হাসপাতাল তৈরির পরামর্শ বিএসএমএমইউ উপাচার্যের
মুভমেন্ট পাস কি এবারও থাকছে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘শেখ কামাল শুধু একজন ব্যক্তি নন, একটি প্রতিষ্ঠান’

‘শেখ কামাল শুধু একজন ব্যক্তি নন, একটি প্রতিষ্ঠান’

শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকীতে নিউজবাংলার আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকীতে নিউজবাংলার বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামাল। তিনি শুধু একজন ব্যক্তি নন, একটি প্রতিষ্ঠান। খেলার মাঠ থেকে রাজনীতির ময়দান পর্যন্ত ছিল অনন্য বিচরণ। ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, ভাবনা জুড়ে ছিল দেশের যুবসমাজ। সামাজিক-সাংস্কৃতিকভাবে উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন শেখ কামাল।

শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকীতে বৃহস্পতিবার নিউজবাংলার বিশেষ আয়োজন ‘চিরঞ্জীব চিরভাস্বর শেখ কামাল’ অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন বক্তারা।

ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্যে শেখ কামালের বন্ধু সালমান এফ রহমান বলেন, ‘সব সময় খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়েই ব্যস্ত থাকত শেখ কামাল। যখন আবাহনী ক্রীড়া চক্র যাত্রা শুরু করেছিল, তখন কিন্তু মোহামেডান ছাড়া মানসম্মত কোনো ক্লাব ছিল না। ওই পরিস্থিতিতে মোহামেডানের মানের মতো আরেকটি ক্লাব গঠন করাই ছিল আবাহনী ক্রীড়া চক্র গঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য।’

শেখ কামালের বহুমুখী প্রতিভার কথা তুলে ধরে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘সে নিজেও ভালো খোলোয়াড় ছিল। ভালো খেলত ক্রিকেট, ফুটবল ও বাস্কেটবল। ভালো গানও করতে পারত, গিটার বাজাতে পারত।’

নিজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা তুলে ধরে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘শেখ কামাল আমার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। নটরডেম কলেজ থেকে তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক, যা আরও গাঢ় হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়। আমরা এক সঙ্গে ৬৯-এর আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলাম। স্বাধীনতার পর শেখ কামাল সিদ্ধান্ত নিলো আবাহনী ক্রীড়া চক্র গঠনের। সেখানেও আমি তার সঙ্গী ছিলাম।

‘সব থেকে আমার কাছে যেটা অবাক লাগে সেটা হলো, শেখ কামাল হলো বঙ্গবন্ধুর ছেলে। আপনারা নিজেরাই কল্পনা করতে পারেন, তার কাছে কী ধরনের ইনফ্লুয়েন্স ছিল। অনেকে আসত। বলত, এ ব্যবসাটা করে দাও, ওটা করে দাও। অনেকে অনেক প্রভাবিত করার চেষ্টা করত, কিন্তু কেউ কোনো সময় বলতে পারে নাই, শেখ কামাল কোনো ব্যবসা করেছে। কারও ব্যবসা নিয়েছে বা ব্যবসা নেয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে।’

আবাহনী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন স্পন্দনের প্রতি শেখ কামালের ভালোবাসার কথা জানিয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আমার মনে আছে, আমি একবার লন্ডন যাচ্ছিলাম। তাকে বললাম, তোমার জন্য কী আনব। বন্ধু হিসেবে সে তো বলতে পারত, একটা ঘড়ি এনে দাও বা একটা টাই এনে দাও। অথচ সে বলল, আবাহনীর জন্য কেইডস নিয়ে এসো।

‘একবার জাপান যাচ্ছিলাম। আবার তাকে বললাম তোমার জন্য কী আনবো? একই কথা। নিজের জন্য কিছুই না। বললো ঠিক আছে, তুমি সেখানে যাচ্ছো, ওখানে ইয়ামাহার ইলেকট্রিক অর্গানটা নিয়ে এসো স্পন্দনের জন্য।’

এক প্রশ্নের জবাবে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘শেখ কামাল বেঁচে থাকলে আমি বিশ্বাস করি, তিনি আজ প্রধানমন্ত্রী হতেন। রাজনীতিবিদ হতেন। উনি বেঁচে থাকলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এত কষ্ট করতে হতো না। তিনিই দেশের দায়িত্ব নিতেন।’

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘শেখ কামাল শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নিজেকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন। কারণ, তাকে আমরা দেখি সব জায়গায়। তাকে দেখি খেলার মাঠে। তাকে দেখি নাটকের মঞ্চে, তাকে দেখি রাজনীতির মঞ্চে। তিনি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠকও ছিলেন। তার পদচারণা ছিল না, এমন কোনো এলাকা আমরা দেখিনি।’

যুব সমাজের প্রতি শেখ কামালের ভালোবাসার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই যুগে যখন আমরা অর্থনীতির কোনো পরিকল্পনা ও কর্মসূচি নেই, কোনো বিষয় গভীরভাবে বিবেচনায় আনি, তখন প্রথমেই আমরা মাথায় নেই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড। দেশে যুব সমাজ কতটা রয়েছে। কতটা মানুষ কর্মক্ষম তা চিন্তা করি। শেখ কামাল যে পরিবারে জন্ম, শেখ কামালের তখনকার যে অবস্থান, সেই অবস্থানে থেকে যে কোনো দিকে যেতে পারতেন। যা খুশি হতে পারতেন, কিন্তু সব কিছু ছেড়ে শেখ কামাল বেছে নিয়েছেন যুব সমাজকে।

‘তিনি সুস্পষ্টভাবে বিশ্বাস করতেন, আমাদের আগামী প্রজন্মই একদিন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যুব সমাজের ওপর তিনি অত্যন্ত বিশ্বাসী ও আশাবাদী ছিলেন। সেজন্য তার প্রত্যেকটি কর্মকাণ্ডই নিবেদিত ছিল যুব সমাজকে ঘিরে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আবাহনীর শুরুর দিকে আমি জড়িত ছিলাম এবং শেখ কামালের রেখে যাওয়া আবাহনী ক্লাবের মাঠ দিয়েই আজকে আমার পরিচয়। প্রায় ২০ বছর আবাহনী ক্রিকেটের সভাপতি ছিলাম। এখনও আবাহনীর আমি একজন পরিচালক। আবাহনীর পরিচালক হওয়ার কারণেই আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হলাম। এর ওপর দাঁড়িয়েই আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে আইসিসির সভাপতি হয়েছি। আমি যা করেছি, আমার যা অর্জন, তার সবগুলোর পেছনে আছেন শেখ কামাল।’

অনুষ্ঠানে শেখ কামালের শেখ কামালের বর্ণাঢ্য জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

তিনি বলেন, ‘বহুমুখী প্রতিভার সমন্বয় ঘটা একজন ব্যক্তিত্ব বলতে যা বুঝানো হয়, শেখ কামাল ছিলেন সে ধরনের একজন মানুষ। তিনি ছিলেন উজ্জ্বল ও প্রদীপ্ত মেধার আলোয় উদ্ভাসিত। সব কিছু ছাড়িয়ে তিনি সর্বোচ্চ মনোযোগী ছিলেন খেলাধুলায়। তার সমসাময়িককালে এতো বড় ও উচ্চতার ক্রীড়া সংগঠক বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে দ্বিতীয় জন জন্ম নেয়নি।’

চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘সাংস্কৃতিক অঙ্গনেরও পুরোধা ছিলেন শেখ কামাল। নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত সাংস্কৃতিক সংগঠন স্পন্দন শিল্প গোষ্ঠী ছিল তখনকার বাঙালি সমাজের কাছে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য ও সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার সূতিকাগার। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে যে স্পন্দন তিনি রেখে গেছেন তা আধুনিক তরুণ সমাজের প্রেরণার উৎস। মঞ্চ নাটকেও তিনি প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। নাট্যচক্র নামে নাট্যগোষ্ঠীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক ছিলেন তিনি।

‘সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হয়েও সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করেছেন। একজন তুখোড় ছাত্রনেতা, ক্ষমতাসীন রাজনীতির খুব কাছের মানুষ হয়েও তিনি কোনোদিন প্রধানমন্ত্রী বাবার প্রভাব খাটাননি। রাজনৈতিক শিষ্টাচার চর্চায় তিনি থেকেছেন আর দশটা সাধারণ কর্মীর মতোই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সাথে চিরতরে নিভিয়ে দেয়া হয় এই ক্ষণজন্মা প্রতিভার আলোকবর্তিকাকে।’

এক প্রশ্নের জবাবে চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘২৩-২৪ বছর বয়সে আমরা কেউ শিক্ষায় থাকি। কেউ চাকরি খুঁজি কিংবা করি। শুধু নিজের উন্নতির চেষ্টাই করে থাকি, কিন্তু শেখ কামাল ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন একজন মানুষ। তার মতো মানুষকে যদি আমরা অনুসরণ করতে পারতাম তাহলে সমাজ হতো গতিশীল, জীবন হতো শৈল্পিক আর বাংলাদেশ হতো সামাজিক-সাংস্কৃতিকভাবে বিশ্বের উন্নত, সমৃদ্ধ রাষ্ট্র।’

আরও পড়ুন:
শাটডাউনে মাঠে নামছে সেনাবাহিনী
সোমবার নয়, শাটডাউন বৃহস্পতিবার থেকে
‘কী করব, কী খাব’
ফিল্ড হাসপাতাল তৈরির পরামর্শ বিএসএমএমইউ উপাচার্যের
মুভমেন্ট পাস কি এবারও থাকছে

শেয়ার করুন

তরুণ লীগের ‘আদম শফিউল্লাহ’, কোণঠাসা তৃণমূল আ.লীগ

তরুণ লীগের ‘আদম শফিউল্লাহ’, কোণঠাসা তৃণমূল আ.লীগ

বাংলাদেশ আওয়ামী তরুণ লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম শফিউল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

অভিযোগ রয়েছে, সাতক্ষীরায় জি এম শফিউল্লাহর পরিবারের সদস্যরা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সেখানে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের টাকার বিনিময়ে তরুণ লীগে পদ দিয়েছেন তিনি। আর এসব ‘হাইব্রিড নেতা’কে দিয়েই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হয়রানি করছেন। তাদের ভয়ে কোণঠাসা ক্ষমতাসীন দলটির তৃণমূলের এসব নেতা-কর্মী।

আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে যেসব ভুঁইফোঁড় সংগঠন গড়ে উঠেছে, সেগুলোর আরেকটি বাংলাদেশ আওয়ামী তরুণ লীগ। ১৩১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি জেলায় জেলায় কমিটি আছে বিতর্কিত সংগঠনটির। কমিটি আছে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এসব ‘কমিটি নিয়ে বাণিজ্য’ করার পেছনে নাম এসেছে ৫০ বছর পেরোনো জি এম শফিউল্লাহর, যিনি ভুঁইফোঁড় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, সাতক্ষীরায় জি এম শফিউল্লাহর পরিবারের সদস্যরা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সেখানে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের টাকার বিনিময়ে তরুণ লীগে পদ দিয়েছেন তিনি। আর এসব ‘হাইব্রিড নেতা’কে দিয়েই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হয়রানি করছেন। তাদের ভয়ে কোণঠাসা ক্ষমতাসীন দলটির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

প্রায় ১৯ বছর বয়সী এই সংগঠনের সবশেষ পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি হয় ২০২০ সালের অক্টোবরে। কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আইয়ুবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জি এম শফিউল্লাহ। এই শফিউল্লাহ এর আগের কমিটিরও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার সঙ্গে কথা বলে নিউজবাংলা জানতে পেরেছে, আলোচিত এই নেতার গ্রামের বাড়ি শ্যামনগর উপজেলার নুরনগর ইউনিয়নের হাবিবপুর (আগের নাম হরিপুর) গ্রামে। তিনি গ্রামের বাড়ি থাকেন না, মাঝেমধ্যে যান। সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুরে তার একটি তিনতলা বাড়ি আছে, সাততলা বাড়ি আছে রাজধানীর মিরপুরে। জি এম শফিউল্লাহ মূলত রাজধানীতে থাকেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা নিউজবাংলাকে জানান, শফিউল্লাহ ২০০১ সালে বিদেশে লোক পাঠানোর ‘দালালি’ শুরু করেন। জনশক্তি রপ্তানির কাজে একটা সময় কুয়েত চলে যান, সেখানে কয়েক বছর থাকেন।

আপন বড় ভাই জামায়াত নেতা!

ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতা বলেন, ‘২০০৬ সালে রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকায় এক মোটর মেকানিকের সঙ্গে পরিচয় হয় শফিউল্লাহর। শুনছি তার মাধ্যমেই শফিউল্লাহ তরুণ লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির জয়েন্ট সেক্রেটারি হয়। ২০১৬ সালে সে তরুণ লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়।’

তিনি জানান, শফিউল্লাহর বাবার দুই স্ত্রী। তারা মোট সাত ভাই। তবে শফিউল্লাহরা আপন দুই ভাই। তার বড় ভাইয়ের নাম জমাত আলী। তিনি দীর্ঘদিন নুরনগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড শাখা জামায়াতে ইসলামীর ‘দায়িত্বশীল’ পদে ছিলেন। দুই বছর আগে সেই ওয়ার্ডের নায়েবে আমির পদ পেয়েছেন। বর্তমানে এই পদেই আছেন।

শ্যামনগর উপজেলার নুরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জানিয়েছেন, শফিউল্লাহর বড় ভাই জমাত আলীকে নিয়মিতই উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচিতে দেখা যায়। জমাত আলী ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতা।

তার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নুরনগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাইদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকায় হরিপুর গ্রামের সবাই এখন আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী হয়ে গেছেন। গ্রামের লোকজন আগে অন্য কোনো দলে যুক্ত থাকলেও এখন আওয়ামী লীগ ছাড়া কেউ নেই।’

নুরনগর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. রুহুল আমিন বলেন, ‘তরুণ লীগ নেতা শফিউল্লাহর বড় ভাই জমাত আলী একসময় জামায়াত ভালোবাসত। আমাদের কর্মী ছিল। আমাদের সঙ্গে থাকত। দীর্ঘদিন দলীয় কার্যক্রম না থানায় এখন তো সবাই নিষ্ক্রিয়।’

এ ব্যাপারে শফিউল্লাহর ভাই জমাত আলীর বক্তব্য জানতে কয়েক দিন ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে নিউজবাংলা। তবে কথা বলতে পারেনি।

শফিউল্লাহ এলাকায় পরিচিত ‘আদম ভাই’ নামেতরুণ লীগের ‘আদম শফিউল্লাহ’, কোণঠাসা তৃণমূল আ.লীগ

শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা নিউজবাংলাকে জানান, বিদেশে লোক পাঠানোর কাজ করায় ২০০১ সালের দিকেই স্থানীয় লোকজনের কাছে জি এম শফিউল্লাহ পরিচিতি পান আদম শফিউল্লাহ হিসেবে। তাকে অনেকেই ‘আদম ভাই’ বলে ডাকেন। তবে এখন তাকে কেউ আদম ভাই বলে ডাকলে তিনি সাড়া দেন না, রাগ করেন।

আওয়ামী লীগের এই নেতা অভিযোগ করেন, জি এম শফিউল্লাহ বিদেশে লোক পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনেকের কাছ থেকেই টাকা নিয়েছেন, কিন্তু বিদেশে পাঠাননি, টাকাও ফেরত দেননি।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, জি এম শফিউল্লাহ বাংলাদেশ আওয়ামী তরুণ লীগে পদ পাওয়ার পর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কমিটি ও তদবির-বাণিজ্য শুরু করেন। তিনি সাতক্ষীরার মতো দেশের প্রায় সব জেলাতেই বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের তরুণ লীগে পদ দিয়েছেন টাকার বিনিময়ে। এভাবে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। নিজেকে ‘বড় নেতা’ হিসেবে জাহির করতে গিয়ে ফেসবুক পেজে বেসরকারি টিভিতে প্রচারিত প্রতিবেদন বিকৃত করে নিজের ঢোল নিজে পিটিয়েছেন তিনি।

তবে সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী তরুণ লীগের টানা দ্বিতীয় মেয়াদের সাধারণ সম্পাদক জি এম শফিউল্লাহ। তিনি বলছেন, সবই অপপ্রচার।

বিএনপি-জামায়াতের লোকজনের কাছে পদ বিক্রি

জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, ২০১৩-১৫ সাল পর্যন্ত সাতক্ষীরায় রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের যেসব নেতা-কর্মীর নামে মামলা হয়, তাদের অনেককেই জি এম শফিউল্লাহ তরুণ লীগের পদ ও সনদপত্র দেন টাকার বিনিময়ে। এসব নেতাই পরবর্তী সময়ে হাইব্রিড নেতা হিসেবে পরিচিতি পান। ওই তিন বছরে শুধু সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানায়ই ৩০টির বেশি মামলা হয় সহিংসতার অভিযোগে।

এ ব্যাপারে নুরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শফিউল্লাহ জামায়াত-বিএনপির অনেক মানুষকে সাহায্য করেছে। তাদের সঙ্গে তার সখ্য অনেক বেশি। অনেককেই টাকার বিনিময়ে তরুণ লীগের পদ দিয়েছেন তিনি।’

‘জিয়া নগরের গোল্ডেন’ তরুণ লীগের সভাপতি

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এই নেতার অভিযোগ, বৈখালী নামের একটা গ্রাম ছিল শ্যামনগরে। বিএনপি আমলে সেই গ্রামের নাম বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নামের সঙ্গে মিল রেখে ‘জিয়া নগর’ করেছিলেন গোল্ডেন নামের এক বিএনপি নেতা।

গোল্ডেন এখন ইতালি থাকেন জানিয়ে সোহেল রানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এই গোল্ডেনকেই বৈখালী ইউনিয়ন তরুণ লীগের সভাপতি বানিয়েছিলেন শফিউল্লাহ। বিনিময়ে নিয়েছিলেন মোটা অঙ্কের টাকা।

‘পরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ব্যাপক প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে তরুণ লীগের ওই কমিটি ভেঙে দিতে বাধ্য হন শফিউল্লাহ। ওই সময়ে নাশকতার মামলার অনেক আসামি বিএনপি-জামায়াতের অনেক লোককে তরুণ লীগের কর্মী বানিয়েছিলেন তিনি।’

তরুণ লীগের চাপে তৃণমূল আওয়ামী লীগ

নুরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানার অভিযোগ, শফিউল্লাহর স্বজনরা বিএনপি-জামায়াত আমলের মতোই ভালো আছেন। ভালো নেই তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘তরুণ লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম শফিউল্লাহ তো কেন্দ্রের বড় নেতা। তাদের বাড়ি নুরনগর ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে। কিন্তু তাদের পরিবারে তো বিএনপি-জামায়াতের বাইরে কোনো লোক নাই।

‘বিএনপি-জামায়াতের সময় সাধারণ মানুষ তাদের হাতে নির্যাতিত হতো। আবার এখনও মানুষ তাদের ওপরে কথা বলতে পারে না। অথচ তার আপন বড় ভাই জামায়াতের স্থানীয় ওয়ার্ডের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করছে।’

আক্ষেপ করে সোহেল রানা বলেন, ‘আমি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়ে কী আর করব, ভাই। বাপ-দাদারা এই দল করে গেছে। আমিও ছাত্রলীগ, তারপর যুবলীগ আর এখন আওয়ামী লীগ করি। রক্তের ভেতর এই দল আছে বলে এই দল করি। কিন্তু এসব ভুঁইফোঁড় নেতার জন্য আর দল করার কোনো সুযোগ নেই। তাদের জন্য এখন এলাকায় বিরাট সমস্যা হয়ে গেছে। তৃণমূলে আমরা এদের জন্য খুব সমস্যায় আছি, ভাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেব, এরা তো কেন্দ্রের বড় নেতা দাবি করে। বড় বড় নেতার সঙ্গে তাদের ছবি আছে, তৃণমূল কর্মীরা তো ওই সব ছবি দেখে তাদের বড় নেতা ভাবে। তাদের কারণে আমাদের মতো তৃণমূল নেতারা খুব সমস্যায় আছি।’তরুণ লীগের ‘আদম শফিউল্লাহ’, কোণঠাসা তৃণমূল আ.লীগ

শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তরুণ লীগ তো একটা ভুঁইফোঁড় সংগঠন। এদের এই শফিউল্লাহ বহুদিন ধরেই আমাদের এলাকায় দলের নাম ভাঙিয়ে চলছে বলে আমি শুনেছি। এদের বিরুদ্ধে আসলে কেন্দ্র থেকে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। আমিও মনে করি, এদের বিষয়টা নেত্রীর নলেজে আসা উচিত এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’

চাকরি দেয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ

শ্যামনগরের সাইদুর রহমান নামে এক যুবক অভিযোগ করে নিউজবাংলাকে জানান, ২০১৭ সালে জি এম শফিউল্লাহ সরকারি ব্যাংকের পিয়ন পদে চাকরি দেয়ার নামে তার কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা নেন, কিন্তু আজ পর্যন্ত তিনি চাকরি দিতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘গত ৩-৪ বছর এই ৭০ হাজার টাকা তুলতে তার পেছন ঘুরতে ঘুরতে আমি শেষ। শফিউল্লাহর মিরপুরের বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে বেশ কয়েকবার টাকা চেয়েছি। কিন্তু শফিউল্লাহ আজ দেব কাল দেব বলে এখনো ঘোরাচ্ছে। সালাম নামে আমার এক পরিচিত লোক আছে, সেও চাকরির জন্য শফিউল্লাকে টাকা দিয়েছিল, কিন্তু কাজও হয়নি, আবার টাকাও ফেরত পায়নি।’

সাইদুর আরও বলেন, ‘শুধু আমরা এই দুজনই না, সাতক্ষীরায় আমার মতো এ রকম শতাধিক ভুক্তভোগী আছে, যারা বিভিন্ন কারণে শফিউল্লাকে টাকা দিয়ে ধরা খেয়েছে। কেউ চাকরির জন্য, কেউ বিদেশ যাওয়া জন্য, কেউ মামলা থেকে বাঁচার জন্য।’

শফিউল্লাহকে ধরে নিয়ে যান ভুক্তভোগীরা

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে বুধবার নিউজবাংলার সঙ্গে কথা হয় শ্রমিক লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতার। নাম না প্রকাশের শর্তে তিনি জানান, সেনা-সমর্থিত বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসা সম্ভাবনা দেখা দিলে শফিউল্লাহ ২৫ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর ভবনে আসা শুরু করেন। সে সময় পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ‘কাছের লোকের’ সঙ্গে তার খুব ভালো সম্পর্ক হয়। তার মাধ্যমে শফিউল্লাহ বিভিন্ন জায়গায় তদবির-বাণিজ্য করতেন।

শ্রমিক লীগের ওই নেতা বলেন, ‘সে সময় একবার নোয়াখালীর কিছু মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন কাজ করে দেয়ার নামে কয়েক লাখ টাকা নেয় শফিউল্লাহ। কিন্তু তাদের কাজ করে দিতে পারেনি। একপর্যায়ে তারা গুলিস্তান এলাকা থেকে শফিউল্লাহকে তুলে নিয়ে যায়। পরে আমরা খবর পেয়ে নোয়াখালী থেকে শফিউল্লাহকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। তখন থেকেই আমরা জানি, শফিউল্লাহ এ রকম ধান্দাবাজি করে চলে।’

শফিউল্লাহর গাড়ি-বাড়ি

সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে জানান, সাতক্ষীরা সদরের রসুলপুর এলাকায় শফিউল্লার একটি তিনতলা বাড়ি আছে। এ ছাড়া রাজধানীর মিরপুরে সনি সিনেমা হলের পেছনে তার একটি সাততলা বাড়ি আছে। এই বাড়ির কিছু ফ্ল্যাট নির্মাণকারী রিয়েল স্টেট কোম্পানির, আর কিছু শফিউল্লাহর। শফিউল্লাহ সব সময় একটি প্রাইভেট কারে চড়েন, যেটি তার কেনা।

ঠিকানা আছে ফেসবুকে, বাস্তবে নেই

জি এম শফিউল্লাহ সম্প্রতি কিছু মেমোরি শেয়ার করেছেন তার ফেসবুক পেজে। এর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তরুণ লীগ আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন তিনি। ভিডিওটি ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর শেয়ার করা হয় ‘প্রচারে তরুণ লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি’ নামের পেজ থেকে।

এই পেজই বাংলাদেশ আওয়ামী তরুণ লীগের ফেসবুক পেজ। এই পেজের পরিচয় অংশে লেখা আছে, বাংলাদেশ আওয়ামী তরুণ লীগ, কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত ও প্রকাশিত। প্রচার ও প্রকাশনায় মো. মুক্তার হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক। সংগঠনটির ঠিকানা দেয়া আছে ২৫ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, ৪র্থ তলা, গুলিস্তান, ঢাকা-১০০০।

তবে নিউজবাংলা বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ ঘুরে জানতে পেরেছে, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর ২৫ নম্বর ভবনের নিচতলায় রয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কার্যালয়। আর ২য় তলায় রয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের অফিস। বহুতল এই ভবনের কোথাও বাংলাদেশ আওয়ামী তরুণ লীগের কোনো অফিস পাওয়া যায়নি।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী নিউজবাংলাকে জানান, ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর ভবনটি পুনর্নির্মাণের সময় ২৫ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর ভবনটি যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসেবে নেয়া হয়। ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভবন পুনর্নির্মিত হওয়ার পর ২৫ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর ভবনটি নিচতলা ছেড়ে দেয়া হয় ঢাকা মহানগর যুবলীগের জন্য। আর যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অফিস ফিরিয়ে আনা হয় ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর নতুন ভবনে। ২৫ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের অফিস। এই ভবনে তরুণ লীগ নামে কোনো সংগঠন নেই।

ভিডিও কারসাজি

জি এম শফিউল্লাহ নিজের ফেসবুক পেজে ৩ বছর আগে পোস্ট করা একটি ভিডিও গত ২ আগস্ট দুপুরে আবার শেয়ার করেছেন। ২০১৮ সালের ১ আগস্টের সেই পোস্ট করে তিনি লিখেছিলেন, ‘মাদকমুক্ত উপজেলা চাই স্লোগানে,,,,, চ্যানেল "9"। জি এম শফিউল্লাহ।’

তরুণ লীগের ‘আদম শফিউল্লাহ’, কোণঠাসা তৃণমূল আ.লীগ

ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেটি ছিল এমপিওভুক্তির দাবিতে রংপুরে নন-এমপিও শিক্ষকদের সমাবেশ নিয়ে চ্যানেল নাইনের একটি প্রতিবেদন।

সেই ভিডিও প্রতিবেদন এডিট করে এমনভাবে প্রচার করা হয়, যা দেখলে মনে হবে বেসরকারি চ্যানেলটি জি এম শফিউল্লাকে ফোকাস করেই সংবাদটি প্রচার করছে। শেয়ার করা এই ভিডিওর প্রশংসা করেছেন তার এক ফেসবুক বন্ধু। তিনি বলেছেন, ‘গ্রেট ভিডিও।’

এই ভিডিওর প্রথমে চ্যানেল নাইনের উপস্থাপককেই সংবাদ পরিবেশন করতে দেখা যায়। বলতে শোনা যায়, এমপিওভুক্তির দাবিতে রংপুরে নন-এমপিও শিক্ষকদের সমাবেশ। তবে প্রতিবেদনের প্রথম ভয়েস ওভারের সময়ই চ্যানেল নাইনের লোগোর পরিবর্তে আরেকটি লোগো ব্যবহার করা হয়, যাতেও চ্যানেল নাইন লেখা। ভিডিওর এই অংশে তরুণ লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম শফিউল্লার গুণকীর্তন করতে দেখা যায় নেতাদের। ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় অনেককে।

ভিডিওটি একটু ভালোভাবে দেখলে যে কারও পক্ষে বোঝা সম্ভব যে, সেটি কারসাজি করে করা হয়েছে।

সব অভিযোগই অস্বীকার জি এম শফিউল্লাহর

আপনার আপন বড় ভাই ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির কি না, জানতে চাইলে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বড় ভাই জামায়াতের নায়েবে আমির, এটা মিথ্যা কথা। আমার ব্যক্তিগত শত্রুরা এসব কথা বলছে।’

সনি সিনেমা হলের পেছনে আপনার সাততলা বাড়ি আছে কি না, জানতে চাইলে শফিউল্লাহ বলেন, ‘এটাও মিথ্যা কথা।’

তাহলে সত্যটা কী, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ফোনে এসব কথা বলা যাবে না, লকডাউন চলে যাক। একদিন আপনার সঙ্গে বসে কথা বলা যাবে।’

বিদেশ পাঠানোর নামে আপনি মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দিচ্ছেন না, এ অভিযোগের বিষয়ে শফিউল্লাহ বলেন, ‘আমার শত্রুরা এসব অভিযোগ করে। কিন্তু এগুলো সত্য না।’

তরুণ লীগ কি আওয়ামী লীগের সংগঠন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি সংগঠন করতে। আমরা ৭২ পৃষ্ঠার একটা বই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দিয়েছি। এখন আমরা কমিটি দেই না। ১০ বছর আগে আমরা কমিটি দিয়েছি।’

তা হলে ২০২০ সালের কমিটির সাধারণ সম্পাদক হলেন কীভাবে, নিউজবাংলার এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান জি এম শফিউল্লাহ।

আপনাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় কোথায়, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের অফিস ২৫ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে। যারা বলছে এখানে আমাদের অফিস নেই, তারা ভুল বলছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করছে, তাদের আমি চিনিই না। আমার ব্যক্তি শত্রু থাকতে পারে, দলের শত্রু থাকতে পারে, আত্মীয় শত্রু থাকতে পারে, তারাই আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করছে।’

আপনার কী কী সম্পদ আছে, জানতে চাইলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন জি এম শফিউল্লাহ।

তার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম বুধবার রাতে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই তরুণ লীগ একটা ভুঁইফোঁড় সংগঠন। আওয়ামী লীগের দৃষ্টিতে আমরা এসব সংগঠনকে আগাছা হিসেবেই চিহ্নিত করে ফেলেছি। এদের সঙ্গে আমাদের দলের কোনো সম্পর্ক নাই। সুবিধাবাদী শ্রেণির মানুষরাই এসব ভুঁইফোঁড় সংগঠন করে থাকে। কোনো ভালো মানুষ এসব ভুঁইফোঁড় সংগঠন করতে পারে না।

‘যাদের সমাজের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই, জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই, তারা নিজেদের স্বার্থ, নিজেদের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য এসব নাম ব্যবহার করে।’

আরও পড়ুন:
শাটডাউনে মাঠে নামছে সেনাবাহিনী
সোমবার নয়, শাটডাউন বৃহস্পতিবার থেকে
‘কী করব, কী খাব’
ফিল্ড হাসপাতাল তৈরির পরামর্শ বিএসএমএমইউ উপাচার্যের
মুভমেন্ট পাস কি এবারও থাকছে

শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ। ছবি: নিউজবাংলা

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, হারুনের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সদরে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

নিহত হারুনুর রশীদ সদর উপজেলার বসিকপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

জেলা সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেয়ার পথে বৃহস্পতিবার ভোররাতে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় লোকজন জানান, বুধবার রাতে হারুন বসিকপুর ইউনিয়নের বটের পুকুর পাড়ে একটি চায়ের দোকানে বসে টেলিভিশনে ক্রিকেট খেলা দেখছিলেন। রাত ৯টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ৫ থেকে ৬ জন এসে তার ওপর হামলা চালায়। তারা তাকে কুপিয়ে চলে যায়।

স্থানীয়রা তাকে সদর হাসপাতালে নিলে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা ঢাকায় পাঠাতে বলেন। ঢাকায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, হারুনের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়নের অভিযোগ, বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জেলা পুলিশ সুপার এস এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’

আরও পড়ুন:
শাটডাউনে মাঠে নামছে সেনাবাহিনী
সোমবার নয়, শাটডাউন বৃহস্পতিবার থেকে
‘কী করব, কী খাব’
ফিল্ড হাসপাতাল তৈরির পরামর্শ বিএসএমএমইউ উপাচার্যের
মুভমেন্ট পাস কি এবারও থাকছে

শেয়ার করুন

মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের বাসা ঘিরে পুলিশ

মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের বাসা ঘিরে পুলিশ

বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেন খোকনের বাসায় ঢোকার চেষ্টা করছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

রাত সাড়ে আটটার দিকে বাসার আশপাশে অবস্থান নেন পুলিশ সদস্যরা। দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর তারা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নবগঠিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন খোকনের বাসা ঘিরে রেখেছেন গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা।

নিউজবাংলাকে বুধবার রাত ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন খোকনের বাসার ম্যানেজার মোহাম্মদ বাশার।

তিনি বলেন, রাত সাড়ে আটটার দিকে বাসার আশপাশে অবস্থান নেন পুলিশ সদস্যরা। দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর তারা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন।

ওই বাসার সিসিটিভি ক্যামেরার একটি ভিডিও এসেছে নিউজবাংলার হাতে। ১৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, গোয়ান্দা সদস্যদের পাশাপাশি সেখানে অবস্থান করছেন থানা-পুলিশ সদস্যরা। আছেন সাদাপোশাকধারী কয়েকজন। তাদের মধ্যে একজন বিএনপি নেতার বাসার দরজায় কড়া নাড়ছেন।

আরও পড়ুন:
শাটডাউনে মাঠে নামছে সেনাবাহিনী
সোমবার নয়, শাটডাউন বৃহস্পতিবার থেকে
‘কী করব, কী খাব’
ফিল্ড হাসপাতাল তৈরির পরামর্শ বিএসএমএমইউ উপাচার্যের
মুভমেন্ট পাস কি এবারও থাকছে

শেয়ার করুন

টিকা নিতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করুন

টিকা নিতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করুন

কাদের বলেন, ‘করোনার গণটিকাদান সফল করতে দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কাজ করবে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নিজে টিকা নেবে ও অন্যদেরও টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠে থাকবে।’

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে দলের নেতা-কর্মীদের মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বুধবার সকালে এক বৈঠকের শুরুতে সভাপতির এ বার্তা নেতা-কর্মীদের কাছে পৌঁছে দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আগস্টে দলের নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে সকালে বৈঠকে বসে কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলী।

ওই সময় করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরে কাদের বলেন, ‘করোনার গণটিকাদান সফল করতে দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

‘১৮ বছরের বেশি বয়সীদের টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কাজ করবে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নিজে টিকা নেবে ও অন্যদেরও টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠে থাকবে।’

দেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ রুখতে ১০ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকার। মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে জানানো হয়, ১১ আগস্ট থেকে ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে। তবে কর্মস্থলে যোগ দিতে নিতে হবে টিকা।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি দেশে গণটিকাদান শুরু হয়। টিকা সংকটের কারণে কিছুদিন টিকাদানে ধীরগতি থাকলেও গত ৩০ জুন নিবন্ধন কার্যক্রম দ্বিতীয় দফায় উন্মুক্ত করে সরকার। একই সঙ্গে টিকা নিবন্ধনের বয়সসীমা কমানো হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৭ আগস্ট সারা দেশে প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু হচ্ছে গণটিকাদান কার্যক্রম। ১৪ হাজার কেন্দ্রে টানা সাত দিনে এক কোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনবে সরকার। দেশের ৮০ ভাগ মানুষকে পর্যায়ক্রমে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের বলেছেন, সরকারের হাতে এখন সোয়া কোটির মতো টিকার ডোজ আছে। এর বাইরেও খুব শিগগিরই দেশে আসছে আরও এক কোটি টিকা।

বৈঠকে বঙ্গবন্ধু হত্যায় দণ্ডিত পলাতক আসামিদের বিষয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হত্যার দণ্ডিত পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার কার্যকরের চেষ্টা অব্যহত আছে।’

আরও পড়ুন:
শাটডাউনে মাঠে নামছে সেনাবাহিনী
সোমবার নয়, শাটডাউন বৃহস্পতিবার থেকে
‘কী করব, কী খাব’
ফিল্ড হাসপাতাল তৈরির পরামর্শ বিএসএমএমইউ উপাচার্যের
মুভমেন্ট পাস কি এবারও থাকছে

শেয়ার করুন

বিএনপির ঢাকার কমিটিতে ছোটখাটো সমস্যা থাকতে পারে: ফখরুল

বিএনপির ঢাকার কমিটিতে ছোটখাটো সমস্যা থাকতে পারে: ফখরুল

বিএনপির ঢাকা মহানগর কমিটি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

‘বিএনপি একটি বিশাল রাজনৈতিক দল। যখন একটি কমিটি তৈরি করা হয়, তখন ছোটখাটো সমস্যা থাকতেই পারে। তবে এবার পরীক্ষিত নেতাদের নিয়েই কমিটি করা হয়েছে। প্রবীণ এবং নবীনের সমন্বয়ে করা হয়েছে।’

ঢাকা মহানগরে বিএনপির যে দুটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে ছোটখাটো সমস্যা থাকতে পারে বলে স্বীকার করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে যাদের নেতৃত্বে রাখা হয়েছে তারা সবাই যোগ্য বলে মনে করেন তিনি।

রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসায় মঙ্গলবার নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি মহাসচিব। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

এক প্রশ্নে ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি একটি বিশাল রাজনৈতিক দল। যখন একটি কমিটি তৈরি করা হয়, তখন ছোটখাটো সমস্যা থাকতেই পারে। তবে এবার পরীক্ষিত নেতাদের নিয়েই কমিটি করা হয়েছে। প্রবীণ এবং নবীনের সমন্বয়ে করা হয়েছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমানের নেতৃত্বে ঢাকা উত্তরের ৪৭ সদস্য এবং আবদুস সালামের নেতৃত্বে দক্ষিণের ৪৯ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি সোমবার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

উত্তরের সদস্যসচিব হয়েছেন আমীনুল হক এবং দক্ষিণের রফিকুল আলম মজনু।

নতুন কমিটি নিয়ে ফখরুল বলেন, ‘দুটি কমিটিই গঠন করা হয়েছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে। এই কমিটির প্রতি সারা দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। নেতাদের সবাই পরীক্ষিত।’

দলের আন্দোলনে নেতারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে বলে আশা করছেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কমিটির মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতির একটা গুণগত পরিবর্তন আসবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

‘অগণতান্ত্রিক একটি সরকার আমাদের সব আশা-আকাঙ্ক্ষা বিনষ্ট করে দিচ্ছে। নতুন নেতারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমিকা রাখবেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য ভূমিকা রাখবেন।’

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ৫ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে কারাগারে যাওয়া বিএনপি নেত্রীর সাজা পরে বেড়ে হয় ১০ বছর। পরে আরও একটি মামলায় তার হয় সাত বছরের কারাদণ্ড।

তবে ২০২০ সালের মার্চে দণ্ড স্থগিত হওয়ার পর খালেদা জিয়া কারাগার থেকে দুই শর্তে বাসায় ফেরেন। ছয় মাসের জন্য তাকে মুক্ত করা হলেও পরে আরও দুই দফায় মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয় আরও ছয় মাস করে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আহ্বায়ক কমিটি অত্যন্ত সক্রিয় থেকে দলকে সুসংগঠিত করবে এবং একটি কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন করবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।’

কবে নাগাদ কাউন্সিল হতে পারে, এমন প্রশ্ন তিনি বলেন, ‘আমাদের যে গঠনতন্ত্র আছে, সে অনুযায়ী কাউন্সিল হবে।’

ঢাকা মহানগর উত্তরের নতুন আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘আজকে গণতন্ত্র অনুপস্থিত, একদলীয় শাসন চলছে। নির্যাতন-নিপীড়ন ও অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। আমরা একযোগে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কাজ করব। যদি প্রয়োজন হয় ১৯৯০ সালের মতো গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সরকারকে সরানো হবে।’

মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। আমাদের উদ্দেশ্য সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা এবং আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা।’

তাবিথ আউয়াল, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, নবী উল্লাহ নবী, ইউনুস মৃধা, মোহাম্মদ মোহন, আতিকুল ইসলাম মতিন, মোশাররফ হোসেন খোকন, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, এস এম জাহাঙ্গীর, শায়রুল কবির খানও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
শাটডাউনে মাঠে নামছে সেনাবাহিনী
সোমবার নয়, শাটডাউন বৃহস্পতিবার থেকে
‘কী করব, কী খাব’
ফিল্ড হাসপাতাল তৈরির পরামর্শ বিএসএমএমইউ উপাচার্যের
মুভমেন্ট পাস কি এবারও থাকছে

শেয়ার করুন

পাকিস্তানের আম পেলেন খালেদাও

পাকিস্তানের আম পেলেন খালেদাও

এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুধু পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আম নয়, জাপান থেকে চকলেট দেয়া হয়, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে খেজুর, রাশিয়া, ইন্ডিয়া, ইউরোপসহ বিভিন্ন দূতাবাস থেকে উপহার আসে। সেটা শুধু বিএনপি বা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য না; এটা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কাছেও পাঠানো হয়।’

রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছেও পাকিস্তান থেকে পাঠানো হয়েছে আম।

ঢাকার পাকিস্তান দূতাবাসের পক্ষ থেকে সোমবার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসায় আমের ঝুড়ি পৌঁছে দেয়া হয়।

বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ১ হাজার কে‌জি হা‌ড়িভাঙা আম পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনা।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুধু পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আম নয়, জাপান থেকে চকলেট দেয়া হয়, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে খেজুর, রাশিয়া, ইন্ডিয়া, ইউরোপসহ বিভিন্ন দূতাবাস থেকে উপহার আসে।

‘সেটা শুধু বিএনপি বা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য না; এটা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কাছেও পাঠানো হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকেও ঢাকার সকল দূতাবাসে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় উপহার পাঠানো হয়। বিভিন্ন সিজনে এ সমস্ত ফলমূল পাঠানো হয়।’

আরও পড়ুন:
শাটডাউনে মাঠে নামছে সেনাবাহিনী
সোমবার নয়, শাটডাউন বৃহস্পতিবার থেকে
‘কী করব, কী খাব’
ফিল্ড হাসপাতাল তৈরির পরামর্শ বিএসএমএমইউ উপাচার্যের
মুভমেন্ট পাস কি এবারও থাকছে

শেয়ার করুন