প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিলীন, অটুট আওয়ামী লীগ

প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিলীন, অটুট আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন তিন নেতা মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান. মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ।

প্রতিষ্ঠার পর গত সাত দশকে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রভাব ও গুরুত্ব অটুট থেকেছে। এ সময়ে এই ভূখণ্ডে অনেক রাজনৈতিক দলের উত্থান ঘটেছে, আবার তারা প্রভাব হারিয়ে নামসর্বস্ব অস্তিত্বে পর্যবসিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ভূমিকায় কোনো হেরফের ঘটেনি, সরকারে থাকতেও না, বিরোধী দলে থাকতেও না।

তিন দশক ধরে লড়াইটা বিএনপির সঙ্গে। তবে আগের পাঁচ দশকে বারবার প্রতিদ্বন্দ্বী পাল্টেছে।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত দেশের রাজনীতিতে বহুবার আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বীর পরিবর্তন হয়েছে। আওয়ামী লীগ ভেঙেও কয়েকটি দলের উত্থান হয়েছে। কিন্তু আবার সময়ের সঙ্গে তারা মিলিয়েও গেছে।

তবে সাত বছর ধরেই প্রতাপের সঙ্গে রাজনীতি করে আসছে বর্তমানে ক্ষমতাসীনরাই। এর মধ্যে সেনা শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব, স্বাধীন বাংলাদেশে জাতির পিতাকে হারানোর পরে বিরুদ্ধ পরিবেশেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই কীভাবে করতে হয়, সেটিও দেখিয়েছে আওয়ামী লীগ।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান জন্মের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তৎকালীন পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক নেতারাই। সে সময় পাকিস্তানের প্রধান রাজনৈতিক দল ছিল মুসলিম লীগ। কিন্তু পরে দলটিতে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক নেতারা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। এ অঞ্চলের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি দেখা দেয়। এমনই এক প্রেক্ষাপটে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন জন্ম নেয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। পরবর্তী সময়ে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে দলের নামকরণ করা হয় আওয়ামী লীগ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হারুন অর রশিদের মতে, আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ দলগুলো রাজনীতিতে হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়ায় পরে তারা জনসমর্থন হারিয়েছে।

অধ্যাপক হারুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ কখনোই বলার মতো কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে জনগণের মন-মানসিকতার চাহিদা বিবেচনায় রেখে যৌক্তিকভাবে কর্মসূচিগুলো যথাসময়ে হাতে নিয়ে ৭২ বছর পথ চলেছে। এ কারণেই আওয়ামী লীগ আজও রাজনৈতিক অগ্রভাবে থেকে, সরকারে থেকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে চলেছে।’

প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিলীন, অটুট আওয়ামী লীগ

নানা সময় আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী পাল্টানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জাসদ মার্জিনালাইজড হয়েছে তার হঠকারী কর্মকাণ্ডের জন্য, নেতিবাচক রাজনীতির জন্য। ভাসানী ন্যাপ হয়েছে বলা যায় একই ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে।’

মুসলিম লীগও জনগণের মনোভাব ধরতে না পেরে হারিয়ে গেছে বলে মনে করেন তিনি। বিএনপিও নানা ভুল করেছে বলে তার মূল্যায়ন।

রাজনীতির মাঠে আওয়ামী লীগের প্রায় তিন দশকের প্রতিপক্ষ বিএনপির মূল্যায়ন অবশ্য একটু ভিন্ন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দীন সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাজনৈতিক অপশক্তি বলতে একটা টার্ম আছে। আওয়ামী লীগের সেই অবস্থা চলছে। কালো ছায়ায় অন্ধকার হয়ে আছে গোটা দেশ। গ্রাস করে নিয়েছে জনগণের ক্ষমতা। বলেন তাহলে কীভাবে টিকে আছে?’

অবশ্য এ ক্ষেত্রে দ্বিমত রয়েছে অধ্যাপক হারুন অর রশিদের। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাকাল থেকে শুরু করে দীর্ঘ ৭২ বছর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে, জনগণের স্বার্থ প্রাধান্য দিয়ে রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় থেকে আসছে। আওয়ামী লীগের মাধ্যমে এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে স্বাধীনতা পেয়েছি, স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। আমাদের এই স্বাধীন ভূখণ্ড, বাংলাদেশে যা কিছু রাজনৈতিক অর্জন, তার সিংহভাগ কৃতিত্বই আওয়ামী লীগের।’

বিএনপির কী ভুল- তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘জামায়াত হলো যুদ্ধাপরাধী দল, স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের রাজনীতিচর্চারই অধিকার থাকার কথা না। সেখানে জিয়াউর রহমান ও বিএনপির কল্যাণে তারা ফিরে এসেছে। স্বাধীনতাবিরোধী মুসলিম লীগকে আত্তীকরণ করে এগিয়েছে বিএনপি।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি, জামায়াত এবং সম্প্রতি হেফাজত- এগুলোর মধ্যে আমি মৌলিক কোনো পার্থক্য দেখি না। বিএনপি একসময় ফ্রিডম পার্টিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে, নির্বাচন করার সুযোগ দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি, সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং জঙ্গিবাদের উত্থানে তারা ভূমিকা রেখেছে।

‘এটা তো কোনো রাজনৈতিক দলের আচার হতে পারে না। মূলত মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধারণ না করে বরং এর পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের কারণে তারা খাদের গহিনে পৌঁছে গেছে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘আমাদের জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল এই ভূখণ্ড হবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের বাংলাদেশ। সেই নীতি যতদিন ধরে রাখতে পারবে, ততদিন আওয়ামী লীগ এ দেশের মানুষের আস্থাশীল দল হিসেবে পরিচিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের এ পথচলায় অনেক দলের জন্ম হয়েছে, অনেকেই এসেছেন। কিন্তু অন্য কোনো রাজনৈতিক দলই মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। এর কারণ হচ্ছে, তাদের নীতি বা আদর্শিক কোনো জায়গা ছিল না।’

লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি সফল বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক দল। যখন তারা সরকারে যায়, তখন দলটাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। বিরোধী দল ও সরকারি দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ভূমিকা দুই রকমের।

‘বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে জনগণের মধ্যে আমরা বেশি দৃশ্যমান দেখি। আর সরকারি দল হিসেবে আমরা আওয়ামী লীগকে দেখি সরকারি বৈঠকখানায়, প্রেসনোটে, ক্রোড়পত্রে– খুব বেশি পরিমাণে এই হচ্ছে বড় পার্থক্য।’

পাঁচ বছরেই নিশ্চিহ্ন মুসলিম লীগ

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল মুসলিম লীগ। কিন্তু এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব বেশি দিন টেকেনি। ক্ষমতায় থাকা মুসলিম লীগকে হটাতে ১৯৫৩ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত হয় নির্বাচনি জোট যুক্তফ্রন্ট।

এই জোটে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিলেন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক শ্রমিক পার্টি, পাকিস্তান গণতন্ত্রী দল, পাকিস্তান খিলাফত দল, নেজামে ইসলাম পার্টি ও কয়েকটি বামপন্থি দল।

১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ২৩৭টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট পায় ২২৩টি আসন। সে সময় ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি।

প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিলীন, অটুট আওয়ামী লীগ

সেই আঘাত আর সামলে উঠতে পারেনি মুসলিম লীগ। রাজনীতিতে একেবারে নিশ্চিহ্নই হয়ে যায় তারা। তবে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর তারা ফিরে আসার চেষ্টা করেছিল তারা। কিন্তু পরে বিএনপিতে বিলীন হয়ে যায় আনুষ্ঠানিকভাবে।

’৫৪ সালের সেই নির্বাচনের পর যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠন করলেও তা খুব বেশি দিন টেকেনি। ওই বছরের মে মাসে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ মন্ত্রিসভা বাতিল করে দিয়ে প্রদেশে গভর্নরের শাসন জারি করেন।

তবে যুক্তফ্রন্টের শরিক দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের এখন অস্তিত্ব নেই, বা থাকলেও তা একেবারেই গুরুত্বহীন হয়ে গেছে।

১৯৫৮ সালে পুরো পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হলে আওয়ামী লীগের লড়াই শুরু হয় সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে।

মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হওয়ার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগকে সামরিক শাসকদের রোষে পড়তে হয়েছে।

এর আগেই অবশ্য ১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগে প্রথম ভাঙন দেখা দেয়। আওয়ামী লীগে থাকা বামপন্থি রাজনীতিকদের নিয়ে ন্যাশনাল আওয়ামী লীগ পার্টি নামে একটি আলাদা রাজনৈতিক দল গঠন করেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা ভাসানী।

পরে বিভিন্ন আন্দোলনে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সামনে আসে এই দলটির নামই।

সে সময় রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকায় এই এলাকায় সবচেয়ে বড় দল কোনটি, তা নিয়ে বিতর্কের সমাধানের সুযোগ ছিল না। এর মধ্যে ন্যাপ বিভক্ত হয়ে পড়ে চীনপন্থি ও মস্কোপন্থি বিভিন্ন গ্রুপে।

প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিলীন, অটুট আওয়ামী লীগ

তার পরেও জনপ্রিয়তার একটি লড়াই হতে পারত ১৯৭০ সালের নির্বাচনে। তবে মওলানা ভাসানী সে পথে আর হাঁটেননি। আর ভূমিধস জয় পেয়ে এই অঞ্চলের অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন বঙ্গবন্ধু, দল হিসেবে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে আওয়ামী লীগ।

এই জয়ের পেছনে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা প্রস্তাবের প্রভাব আছে বলে ধারণা করা হয়। ছয় দফার পক্ষে বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা, তার বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার পরিকল্পনার অভিযোগে মামলা আর গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করার মধ্য দিয়েই তিনি বাঙালির প্রধান নেতায় পরিণত হন।

কিন্তু পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। একপর্যায়ে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে ঘুমন্ত বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকসেনার দল। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হয়।

বড় হতে না হতেই হারিয়ে যায় জাসদ

মুক্তিযুদ্ধের পরে জিয়ার আবির্ভাবের আগ পর্যন্ত কী হয়েছে।

স্বাধীনতার পর আরেকবার ভাঙনের মুখে পড়ে আওয়ামী লীগ। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে প্রথমে ছাত্রলীগ এবং পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের অন্য সহযোগী সংগঠনগুলো থেকে নেতারা বেরিয়ে এসে ১৯৭২ সালে গঠন করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের বেদনাবিধুর ঘটনাপ্রবাহের আগে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে এই জাসদই। তবে জাতির পিতাকে হত্যার বছরে নভেম্বরে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে বিপ্লবের চেষ্টা করে ছিটকে যায় জাসদ। নিয়ন্ত্রণ চলে যায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের হাতে।

বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর নভেম্বরে যে সেনা অভ্যুত্থান ও প্রতি-অভ্যুত্থান হয়, সেখানেও জাসদ নেতাদের বড় ভূমিকা ছিল। পরে ওই বছরের ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমান সামরিক সরকার গঠনেও সমর্থন ছিল জাসদের।

প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিলীন, অটুট আওয়ামী লীগ

কিন্তু সামরিক শাসক জিয়াই জাসদের বিরুদ্ধে একপ্রকার দমন অভিযান শুরু করেন। এরপর জাসদ আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি। পরে বিভিন্ন সময়ে নানা মতে ভাগ হয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে দলটি। এক অংশ বিলীন হয়ে যায় বিএনপিতে, আর বাকি অংশ নিভু নিভু করে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র হয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।

বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট ১৪ দলের অন্যতম শরিক দল জাসদ।

আওয়ামী লীগের প্রতাপের সঙ্গে টিকে থাকার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই রাজনৈতিক দলটি প্রথমত হচ্ছে যে তৃণমুল থেকে গড়ে ওঠা দল। দুই নম্বর হচ্ছে, এটা বাঙালি জাতীয়তাবাদ, অসাম্প্রদায়িকতা এই দর্শনের ওপর দলটি দাঁড়িয়েছে। একপর্যায়ে বঙ্গবন্ধু এ দলকে এই দুই দর্শনের ওপর কেন্দ্র করে স্বশাসন ও স্বাধীনতার সার্বিক যে নেতৃত্ব সেখানে আওয়ামী লীগ সামনের কাতারে ভূমিকা রাখে। সুতরাং বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু জড়িয়ে আছেন, এটা একটা বড় অর্জন।

‘১৫ আগস্টের পর সামরিক শাসকরা, সাম্প্রদায়িক শক্তি ক্ষমতা দখল করে নেয়, তখন সামরিক শাসন অবসানের সংগ্রামে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রত্যাবর্তন, সাম্প্রদায়িকতাকে বর্জন, এ ব্যাপারে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখে। ফলে তারা তাদের একটি দার্শনিক ভিত্তি অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদ, এই দলকে টিকিয়ে রেখেছে।’

অবশ্য মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পরও পরবর্তী সময়ে কেন সে ধারা জাসদ ধরে রাখতে পারেনি, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

জিয়ার আবির্ভাবে নতুন বাস্তবতা

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার আগে বাকশাল প্রবর্তন হওয়ার পর অন্যান্য অনেক দলের সঙ্গে বিলুপ্ত হয় আওয়ামী লীগও। তবে জিয়ার শাসনামলে আওয়ামী লীগ আবার কার্যক্রম শুরু করে।

১৯৭৭-৭৮ সালে আওয়ামীবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের একত্রিত করে জিয়াউর রহমান শুরুতে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) ও পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করেন।

প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিলীন, অটুট আওয়ামী লীগ

বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে নেতৃত্বের অভাবে আওয়ামী লীগও বিভিন্ন মতে বিভক্ত হয়ে যায়। সেই সময় জিয়ার বিরুদ্ধে তেমন কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি আওয়ামী লীগ।

দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনাকে সভাপতি ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। সেই বছরই দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা। শুরু করেন দল গোছানোর কাজ। তবে সেনাবাহিনীতে একের পর এক অভ্যুত্থানের মধ্যে জিয়াউর রহমান নিহত হলে জিয়াবিরোধী রাজপথের লড়াইটা আর বেশি দূর আগায়নি।

জিয়ার মৃত্যুতে লড়াই এরশাদের সঙ্গে

১৯৮২ সালে সেনা অভ্যুত্থানে নিহত হন জিয়াউর রহমান। ক্ষমতায় আসেন আরেক সেনা কর্মকর্তা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনিও জিয়ার পথ ধরেই ক্ষমতায় থেকে গড়ে তোলেন রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি।

এ সময় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বও আসে আওয়ামী লীগ থেকে। এরশাদ সরকারের পতন হলে তার দল জাতীয় পার্টিও হারিয়ে ফেলে ছন্দ।

৯০ দশক থেকে লড়াই বিএনপির সঙ্গে

স্বৈরাচার পতনের পর দেশে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার এক নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি হয়। পরবর্তী তিন দশক ধরে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল হয়ে আছে বিএনপি।

প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিলীন, অটুট আওয়ামী লীগ
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ছয় বছর পর ১৯৮১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের পতাকা বয়ে চলেছেন তার উত্তরসূরি শেখ হাসিনা

তবে বিএনপি এখন আপাতদৃষ্টিতে খুবই দুর্বল অবস্থানে। যদিও দলটি দাবি করছে, তারা গণতান্ত্রিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না, তাদের কর্মী-সমর্থকরা ভোট দিতে পারছে না। সেটি হলে ক্ষমতায় তারাই থাকতে পারত।

ঘটনা যা-ই হোক, ২০০৯ সালের পর থেকে টানা ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। এই দীর্ঘ সময়ে রাজপথে তেমন কোনো গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি বিএনপি। তার ওপর দলের শীর্ষ নেতৃত্ব দুর্নীতির অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় ছন্দ হারিয়ে ফেলেছে দলটি।

আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে চার দলীয় জোট, পরবর্তী সময়ে ২০ দলীয় জোট গঠন করা হয়।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ভোটে জিতলেও পরের নির্বাচনে ভরাডুবি হয়।

২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আগে ড. কামাল হোসেনের গণফোরামের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেও সফল হয়নি তারা।

আওয়ামী লীগও এখনও জোটবদ্ধ রাজনীতি করছে। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগেই তারা গঠন করে মহাজোট।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের শ্রদ্ধা
জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
রোজ গার্ডেন রূপ নিচ্ছে জাদুঘরে
আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বরিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজন
‘নেতাকর্মীরাই দলকে মজবুত ভিত্তি দিয়েছে’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সবকিছু বেরিয়ে এলে ফখরুলের মুখ চুপসে যাবে: তথ্যমন্ত্রী

সবকিছু বেরিয়ে এলে ফখরুলের মুখ চুপসে যাবে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো তারা পাশের দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক নষ্ট করতে চেয়েছিল। কোরআন শরিফ যে একজন মুসলমান যুবক রেখেছিল, সেটি তো তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। সে ধরা পড়লে বোঝা যাবে কার ইন্ধনে এটি করেছে। এটিই তো ঘটনার সূত্রপাত। যখন সবকিছু বেরিয়ে আসবে, তখন মির্জা ফখরুল ইসলামের মুখটা চুপসে যাবে।’

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের মুখ চুপসে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেছেন, ‘এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো তারা পাশের দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক নষ্ট করতে চেয়েছিল। কোরআন শরিফ যে একজন মুসলমান যুবক রেখেছিল, সেটি তো তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। সে ধরা পড়লে বোঝা যাবে কার ইন্ধনে এটি করেছে। এটিই তো ঘটনার সূত্রপাত। যখন সবকিছু বেরিয়ে আসবে, তখন মির্জা ফখরুল ইসলামের মুখটা চুপসে যাবে।’

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনার জন্য আবারও বিএনপি-জামায়াতকেই দায়ী করেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর এই হামলা আসলে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নয়, এটি বাংলাদেশের চেতনার মূল বেদিমূলের ওপর হামলা। এটি সরকারের ওপরও হামলা। কারণ এটি করে তারা সরকারকে দোষারোপ করতে চেয়েছিল। পাশাপাশি একটি সম্প্রদায়ের সঙ্গে আমাদের যে ভালো সম্পর্ক, সেটি নষ্ট করতে চেয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, দেশ যখন স্থিতিশীল, তখন আওয়ামী লীগ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক, সেটির ওপর কালিমা লেপনের হীন উদ্দেশ্যেই আজকের দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের সরকার দৃঢ়ভাবে সেটি দমন করেছে।

‘সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়কে রক্ষার জন্য আমাদের দল অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করছে। তাদের উদ্দেশ্য হীন। তারা আরও এ ধরনের গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করবে। আমি নেতা-কর্মীদের অনুরোধ জানাব, আপাতত এই দুষ্কৃতকারীরা নিবৃত্ত হয়েছে মনে হলেও আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।’

আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, তারা দেশে হানাহানি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে। কিছুটা সফল হয়েছে, আরও চেষ্টা চালাবে। দলের নেতা-কর্মীদের হিন্দু সম্প্রদায় ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পাশে থাকার অনুরোধ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে আমরা মনে করি কেউ সংখ্যালঘু নয়। সবার রক্তস্রোতের বিনিময়ে এ দেশ অর্জিত হয়েছে। এ দেশ সবার। ধর্ম যার যার দেশ সবার। সেই চেতনায় আমরা বিশ্বাস করি।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি জোট থেকে অনেকে পালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দল থেকেও অনেকে বের হয়ে গেছে। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও স্থিতি অবশ্যই সরকার চায়। যেকোনো সরকারের সেটিই কামনা। এ দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে বিএনপি-জামায়াত।’

তিনি বলেন, ‘ভোট এলে ভারতবিরোধী স্লোগান কারা দেয়? বিএনপি। হিন্দু সম্প্রদায়কে ভোটকেন্দ্রে যেতে বারণ কারা করে? এই বিএনপি-জামায়াতই করে।’

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের শ্রদ্ধা
জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
রোজ গার্ডেন রূপ নিচ্ছে জাদুঘরে
আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বরিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজন
‘নেতাকর্মীরাই দলকে মজবুত ভিত্তি দিয়েছে’

শেয়ার করুন

খালেদার ১১ মামলার শুনানি ২২ নভেম্বর

খালেদার ১১ মামলার শুনানি ২২ নভেম্বর

ফাইল ছবি

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার মধ্যে রয়েছে রাজধানীর দারুস সালাম থানায় করা নাশকতার আটটি মামলা, যাত্রাবাড়ী থানার দুটি ও রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলা। যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র নেয়ার বিষয়ে শুনানির জন্য রয়েছে। অপর ১০ মামলা ছিল অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা হত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাসহ মোট ১১ মামলার শুনানির তারিখ একসঙ্গে ঠিক করেছে আদালত।

আগামী ২২ নভেম্বর এই ১১ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে মামলাগুলো শুনানির জন্য তারিখ ঠিক ছিল। তবে হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার পক্ষে অধিকাংশ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছে জানিয়ে সময় আবেদন করেন তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে পরের শুনানির জন্য আগামী ২২ নভেম্বর তারিখ ঠিক করেন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার মধ্যে রয়েছে রাজধানীর দারুস সালাম থানায় করা নাশকতার আটটি মামলা, যাত্রাবাড়ী থানার দুটি ও রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলা।

যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র নেয়ার বিষয়ে শুনানির জন্য রয়েছে। অপর ১০ মামলা ছিল অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি করা হয়।

এদিকে যাত্রাবাড়ী থানার মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রলবোমা হামলা হয়। এতে বাসের ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। পরে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নূর আলম নামে এক যাত্রী।

ওই ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন থানার উপপরিদর্শক এসআই কে এম নুরুজ্জামান।

একই বছরের ৬ মে খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক বশির আহমেদ।

অন্যদিকে ২০১৫ সালে দারুস সালাম থানা এলাকায় নাশকতার অভিযোগে আটটি মামলা করা হয়। এই আট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আসামি করা হয়।

২০১৭ সালের বিভিন্ন সময়ে মামলাগুলোয় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। সব মামলায় খালেদা জিয়াকে পলাতক দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়। পরে খালেদা জিয়া মামলাগুলোয় আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের শ্রদ্ধা
জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
রোজ গার্ডেন রূপ নিচ্ছে জাদুঘরে
আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বরিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজন
‘নেতাকর্মীরাই দলকে মজবুত ভিত্তি দিয়েছে’

শেয়ার করুন

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে দুর্গাপূজায় হামলা: তথ্যমন্ত্রী

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে দুর্গাপূজায় হামলা: তথ্যমন্ত্রী

১৩ অক্টোবর চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌর এলাকায় হাজারখানেক মানুষের মিছিল থেকে হামলা হয় স্থানীয় একটি মন্দিরে। ছবি: নিউজবাংলা

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলা এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক নষ্ট করার জন্য দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বিভিন্ন স্থানে দুর্গাপূজায় হামলা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলা এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক নষ্ট করার জন্য দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য আওয়ামী লীগ অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের প্রাণ তৃণমূল। কেউ যখন খোঁচা দেয় তখন আওয়ামী লীগ জ্বলে ওঠে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকাসহ সারা দেশে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ। কর্মসূচি আহ্বানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা শহরে হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ ও মিছিল হয়েছে। সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা শান্তি সমাবেশ করেছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের দল পরপর তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আছে। তাই সবাই এখন আওয়ামী লীগ হতে চায়। যেসব মানুষ অতীতে আমাদের বিরুদ্ধাচরণ করেছেন এবং সমাজে যারা দুষ্কৃতকারী হিসেবে পরিচিত তারা পিঠ বাঁচানো, সম্পদ রক্ষা ও সম্পদ অর্জনের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ করতে চায়।

‘তাদের আওয়ামী লীগের নৌকায় ওঠার প্রয়োজন নেই। যারা দলের দুঃসময়ে কাজ করছেন এবং বিপদ-আপদে দলের সঙ্গেই ছিলেন তাদেরকে আমরা মূল্যায়ন করব।’

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মালেক, সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকার, ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন ও আনোয়ার হোসেন হেলালসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের শ্রদ্ধা
জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
রোজ গার্ডেন রূপ নিচ্ছে জাদুঘরে
আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বরিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজন
‘নেতাকর্মীরাই দলকে মজবুত ভিত্তি দিয়েছে’

শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগ বিভেদ সৃষ্টির কারখানা: রিজভী

আওয়ামী লীগ বিভেদ সৃষ্টির কারখানা: রিজভী

নয়াপল্টনে বৃহস্পতিবার দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় মৎস্যজীবী দলের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন রুহুল কবির রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, ‘এই দেশে কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ ছিল না। জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে তারা। এই আওয়ামী লীগ হচ্ছে বিভেদ সৃষ্টির কারখানা। আগে তো কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথা শুনি নাই। আপনাদের আমলে তা শুনছি।’

আওয়ামী লীগকে বিভেদ সৃষ্টির কারখানা মন্তব্য করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর সঙ্গে বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দল জড়িত বলছে আওয়ামী লীগ।

তিনি বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো, আপনারা কেন এ ধরনের কথা বলছেন? আপনারা যখনই এ ধরনের কথা বলেন, তখনই জনগণের মনে আরও সন্দেহ সৃষ্টি হয় যে, আপনারাই সুপরিকল্পিতভাবে কোরআনকে অবমাননা এবং হিন্দুদের ওপর আক্রমণের মতো জঘন্যতম ঘটনা ঘটিয়েছেন।’

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় বৃহস্পতিবার দুপুরে মৎস্যজীবী দলের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব, আপনারা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য নষ্ট করেছেন। এই দেশে কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ ছিল না। জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে তারা। এই আওয়ামী লীগ হচ্ছে বিভেদ সৃষ্টির কারখানা।

‘আগে তো কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথা শুনি নাই। আপনাদের আমলে তা শুনছি। কেন আপনাদের আমলে নিজেদের সেক্যুলার দাবি করেন? আর আপনাদের সময়ে এই সাম্প্রদায়িক ঘুমন্ত দানবকে জাগিয়ে তুলে দেশে রক্তপাত সৃষ্টি করেছেন।’

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে রিজভী বলেন, ‘আজ গণমাধ্যম এবং বিভিন্ন পত্রপত্রিকা যে অনুসন্ধানমূলক রিপোর্ট করছে, প্রত্যেকটাতে আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের নাম আসছে। হাজীগঞ্জের হৃদয় ছাত্রলীগের ছেলে। সে তার লোকজন দিয়ে কুমিল্লায় একটা প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে সেখানে ঝামেলা সৃষ্টি করেছে।

‘পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী ও তার লোকজনই এ ধরনের কর্মকাণ্ড করেছেন। সেই মেহেদী বলেছে, সে না, খোকন নামে ছাত্রলীগের সভাপতি, সে এই কাজ করেছে। অথচ বিএনপি নেতা বরকত উল্লাহ বুলুর নামে মামলা দিয়ে দিলেন তারা। নোয়াখালী থেকে গ্রেপ্তার করলেন যুবদলের নেতা-কর্মীদের। কিন্তু সব বেরিয়ে আসছে; কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসছে।’

রিজভী বলেন, ‘সাম্প্রদায়িকতার ঘুমন্ত দানবকে জাগিয়ে তুলে সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছে, কিন্তু এই দানব যে তাদেরই ঘাড় মটকে দেবে, এইটা এখনও টের পাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার পূজামণ্ডপসহ দেশের অন্য অঞ্চলের যে ঘটনা, আমরা বারবার বলে আসছি, এটায় সরকার জড়িত। সেই জিনিসগুলো প্রতিদিন বেরিয়ে আসছে। তাদের সেন্সরশিপ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ফেসবুকে কিছু লিখলেই গ্রেপ্তার হয়। এতকিছুর পরও সত্য বেরিয়ে আসছে; বেরিয়ে আসছে এসব ঘটনার সাথে তাদের ছাত্রলীগ-যুবলীগ জড়িত।’

রিজভী বলেন, ‘তাদের এই অত্যাচার, দুর্নীতি ঢেকে রাখার জন্যই দেশনেত্রী, গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রেখেছে। তাদের এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে যাতে কেউ কথা বলতে না পারে, তার জন্য বেগম খালেদা জিয়া বন্দি এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের নামে লাখ লাখ মামলা।’

মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মাহতাবের সভাপতিত্ব ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবাবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, উলামা দলের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম তালুকদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের নাদিম চৌধুরী, সেলিম মিয়া, জাকির হোসেন খান, ওমর ফারুক পাটোয়ারি, কামাল উদ্দিন চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম রাশেদ, সাইদুল ইসলাম টুটুলু, জহিরুল ইসলাম বাশার ও আমির হোসেন বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের শ্রদ্ধা
জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
রোজ গার্ডেন রূপ নিচ্ছে জাদুঘরে
আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বরিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজন
‘নেতাকর্মীরাই দলকে মজবুত ভিত্তি দিয়েছে’

শেয়ার করুন

শক্তিশালী বিরোধী দল চায় সরকারও: কাদের

শক্তিশালী বিরোধী দল চায় সরকারও: কাদের

ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা ভোটের মাঠে থাকবে আর ভোটকেন্দ্র ছেড়ে বাড়ি চলে যাবে, এমন বিরোধী দল জনগণ চায় না।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মনে করেন, একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল বিরোধী দলের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ বিএনপি।

তিনি দাবি করেছেন, শেখ হাসিনা সরকারও চায় দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল থাকুক।

বৃহস্পতিবার সরকারি বাসভবন থেকে এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, ‘একটি শক্তিশালী বিরোধী দল গুজব ও অপপ্রচার না চালিয়ে জনগণের কথা বলে। বিদেশিদের কাছে নালিশ করে না।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি নেতারা এখন আর নতুন কিছু পাচ্ছেন না। তারা পুরোনো অভিযোগগুলোই বারবার নতুন করে বলছেন। সরকার নাকি দেশকে বিরোধী দলশূন্য করতে চায়।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা ভোটের মাঠে থাকবে আর ভোটকেন্দ্র ছেড়ে বাড়ি চলে যাবে, এমন বিরোধী দল জনগণ চায় না।’

বিএনপিকে গুজব ও অপপ্রচার না চালিয়ে জনগণের পক্ষে কথা বলার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি জনগণের আশপাশে না গিয়ে এখন বিচরণ করছে মিডিয়া ও ভার্চুয়াল জগতে আর বিদেশিদের দ্বারে দ্বারে। তারা ফরমায়েশি বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন, যার সঙ্গে দেশ ও জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই।’

সরকার জনগণের দুঃখ-দুর্দশা উপলব্ধি করতে পারে না, বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে দেশের মানুষ জানে, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সবার আগে যেকোনো দৈব-দুর্বিপাকে জনমানুষের পাশে দাঁড়ায়।’

ওবায়দুল কাদেরের মতে, বিএনপির সুবিধাবাদী চরিত্র এবং ক্ষমতালিপ্সা জনগণের কাছে এখন স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উদ্বেগের সঙ্গে বলেন, ‘একটি অশুভ মহল দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে গুজব, অপপ্রচার চালাচ্ছে; যা আমাদের গণতন্ত্র ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতি হুমকিস্বরূপ।’

তিনি দেশের মানুষকে এসব গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ফেসবুক ও ইউটিউব কর্তৃপক্ষকেও এসবের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানান।

এর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ‘ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’-এর অধীনে নির্মাণাধীন ৩৫টি সেতু ও রংপুর জোনের ২টিসহ মোট ৩৭টি সেতুর উদ্বোধন করেন।

মন্ত্রী তার বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বলেন, ‘নির্মাণাধীন সেতুগুলো দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে সড়ক নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং সাসেক করিডর, এশিয়ান হাইওয়ে, বিমসটেক ও সার্ক হাইওয়ের সঙ্গে সংযুক্তি ঘটাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বর্তমানে সারা দেশে সড়ক নেটওয়ার্কে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু যতই উন্নয়ন হোক সড়ক ও পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি।’

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের শ্রদ্ধা
জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
রোজ গার্ডেন রূপ নিচ্ছে জাদুঘরে
আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বরিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজন
‘নেতাকর্মীরাই দলকে মজবুত ভিত্তি দিয়েছে’

শেয়ার করুন

ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে বহিষ্কার

ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে বহিষ্কার

সদ্য বহিস্কার হওয়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মেহেদী রাসেল। ছবি: নিউজবাংলা

স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক আজিজ মুঠোফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাসেল মূলত জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। তিনি মুজিব আদর্শের সৈনিক নন। তিনি বিভিন্ন অপরাধ থেকে বাঁচতে ছাত্রদল থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগে ঢুকে পড়েন।’

ছাত্রদল থেকে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগে অনুপ্রবেশ করায় আব্দুল্লাহ আল মেহেদী রাসেলকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক আজিজ স্বাক্ষরিত অব্যাহতিপত্রে ২০ অক্টোবর রাতে এই ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

রাসেল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

ওই চিঠিতে বলা হয়, রাসেলের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

চলতি মাসে সংগঠনটির জেলা সভাপতি ও সম্পাদকের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

এ বিষয়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক আজিজ মুঠোফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাসেল মূলত জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। তিনি মুজিব আদর্শের সৈনিক নন। তিনি বিভিন্ন অপরাধ থেকে বাঁচতে ছাত্রদল থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগে ঢুকে পড়েন।’

এসব কারণে রাসেলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে বহিষ্কার

রাসেল ২০০১ সালে বামনডাঙ্গা আঞ্চলিক ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২০০৩ সালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে।

২০১০ সালে স্থানীয় আজেপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুরের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের শ্রদ্ধা
জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
রোজ গার্ডেন রূপ নিচ্ছে জাদুঘরে
আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বরিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজন
‘নেতাকর্মীরাই দলকে মজবুত ভিত্তি দিয়েছে’

শেয়ার করুন

জনতার মুখোমুখি ইউপি নির্বাচনের প্রার্থীরা

জনতার মুখোমুখি ইউপি নির্বাচনের প্রার্থীরা

নওগাঁয় অনুষ্ঠিত হয়েছে জনতার মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি নামের এই অনুষ্ঠান। ছবি: নিউজবাংলা

মান্দা মমিন সাহানা সরকারি ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক বজলুর রশীদ বলেন, ‘এমন একটি আয়োজন সকল ইউনিয়নে হওয়া উচিত। এর মাধ্যমে জনগণ তাদের কথা তুলে ধরতে পারছে জনপ্রতিনিধির কাছে।’

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নওগাঁয় আয়োজিত হয়েছে ‘জনতার মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি’ নামের একটি আলোচনা সভা। তাতে জনসাধারণের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন উপজেলার হাপানিয়া ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা চার চেয়ারম্যানপ্রার্থী, ৩৫ সদস্য প্রার্থী এবং ১৫ নারী সদস্য প্রার্থী।

নওগাঁ সদর উপজেলার হাপানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় হল রুমে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এই সভা হয়। এতে স্থানীয়রা সরাসরি প্রার্থীদের কাছে তাদের প্রত্যাশা ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রার্থীরাও তাদের নানা আশ্বাস দেন।

স্থানীয় চকজাফরাবাদ গ্রামের মুকুল হোসেন বলেন, ‘ভোটের সময় মেলা প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়, কিন্তু নির্বাচিত হলে সেভাবে হামাকে (আমাদের) খোঁজখবর রাখে না। আজক্যা জনতার মুখোমুখি হচে জনপ্রতিনিধিরা। চেয়ারম্যান-মেম্বার নির্বাচিত হলে সঠিকভাবে যেন হামাকে খোঁজখবর লেয় (নেয়) সেল্লা (সেজন্য) কথা কনু (কথা বলেছি)।

‘সরকার থাকা যেসব অনুদান দেয় সেগুলা যেন সঠিকভাবে হামাকোক (আমাদের) দেয় এগুলা কথাও কছি। যারা নির্বাচনে অংশ লিচ্চে (নিচ্ছে) তারা হামাকোক কথা দিলো হামাকে পাশে থাকবে। ভালো লাগলে এমন একটা আয়োজন করায়।’

জনতার মুখোমুখি ইউপি নির্বাচনের প্রার্থীরা


এই সভায় অংশ নিয়েছেন প্রায় তিন শতাধিক মানুষ। এর আয়োজন করেছে হাপানিয়া ইউনিয়ন পরিবার নামে স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম ঝন্টু স্থানীয়দের নানা প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘আমি বর্তমান চেয়ারম্যান। এর আগে একবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। আমার অর্পিত দায়িত্ব পালনের সময় আমার বড় অর্জন ছিল মাদক নির্মূল করা… রাস্তা-ঘাট, বয়স্কভাতা নিশ্চিত, বাল্যবিয়েরোধসহ চেষ্টা করেছি আপনাদের জন্য কাজ করার। আবার আমি নির্বাচিত হলে আপনাদের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।’

আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী আফছার আলী স্থানীয়দের বলেন, ‘আপনাদের মনকে প্রশ্ন করবেন। যদি আপনাদের জন্য সামান্য পরিমাণও কাজ করে থাকি তবে আমাকে আবারও ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।’

জনতার মুখোমুখি ইউপি নির্বাচনের প্রার্থীরা


অনুষ্ঠানে মান্দা মমিন সাহানা সরকারি ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক বজলুর রশীদ বলেন, ‘এমন একটি আয়োজন সকল ইউনিয়নে হওয়া উচিত। এর মাধ্যমে জনগণ তাদের কথা তুলে ধরতে পারছে জনপ্রতিনিধির কাছে।’

অনুষ্ঠানের আয়োজক হাপানিয়া ইউনিয়ন পরিবারের সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়াম্যান, মেম্বার প্রার্থীদের জনতার মুখোমুখি করে একটি মেলবন্ধন তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল। যা আজ বাস্তবায়ন হলো।’

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের শ্রদ্ধা
জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
রোজ গার্ডেন রূপ নিচ্ছে জাদুঘরে
আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বরিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজন
‘নেতাকর্মীরাই দলকে মজবুত ভিত্তি দিয়েছে’

শেয়ার করুন