প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিলীন, অটুট আওয়ামী লীগ

প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিলীন, অটুট আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন তিন নেতা মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান. মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ।

প্রতিষ্ঠার পর গত সাত দশকে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রভাব ও গুরুত্ব অটুট থেকেছে। এ সময়ে এই ভূখণ্ডে অনেক রাজনৈতিক দলের উত্থান ঘটেছে, আবার তারা প্রভাব হারিয়ে নামসর্বস্ব অস্তিত্বে পর্যবসিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ভূমিকায় কোনো হেরফের ঘটেনি, সরকারে থাকতেও না, বিরোধী দলে থাকতেও না।

তিন দশক ধরে লড়াইটা বিএনপির সঙ্গে। তবে আগের পাঁচ দশকে বারবার প্রতিদ্বন্দ্বী পাল্টেছে।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত দেশের রাজনীতিতে বহুবার আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বীর পরিবর্তন হয়েছে। আওয়ামী লীগ ভেঙেও কয়েকটি দলের উত্থান হয়েছে। কিন্তু আবার সময়ের সঙ্গে তারা মিলিয়েও গেছে।

তবে সাত বছর ধরেই প্রতাপের সঙ্গে রাজনীতি করে আসছে বর্তমানে ক্ষমতাসীনরাই। এর মধ্যে সেনা শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব, স্বাধীন বাংলাদেশে জাতির পিতাকে হারানোর পরে বিরুদ্ধ পরিবেশেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই কীভাবে করতে হয়, সেটিও দেখিয়েছে আওয়ামী লীগ।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান জন্মের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তৎকালীন পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক নেতারাই। সে সময় পাকিস্তানের প্রধান রাজনৈতিক দল ছিল মুসলিম লীগ। কিন্তু পরে দলটিতে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক নেতারা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। এ অঞ্চলের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি দেখা দেয়। এমনই এক প্রেক্ষাপটে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন জন্ম নেয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। পরবর্তী সময়ে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে দলের নামকরণ করা হয় আওয়ামী লীগ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হারুন অর রশিদের মতে, আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ দলগুলো রাজনীতিতে হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়ায় পরে তারা জনসমর্থন হারিয়েছে।

অধ্যাপক হারুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ কখনোই বলার মতো কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে জনগণের মন-মানসিকতার চাহিদা বিবেচনায় রেখে যৌক্তিকভাবে কর্মসূচিগুলো যথাসময়ে হাতে নিয়ে ৭২ বছর পথ চলেছে। এ কারণেই আওয়ামী লীগ আজও রাজনৈতিক অগ্রভাবে থেকে, সরকারে থেকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে চলেছে।’

প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিলীন, অটুট আওয়ামী লীগ

নানা সময় আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী পাল্টানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জাসদ মার্জিনালাইজড হয়েছে তার হঠকারী কর্মকাণ্ডের জন্য, নেতিবাচক রাজনীতির জন্য। ভাসানী ন্যাপ হয়েছে বলা যায় একই ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে।’

মুসলিম লীগও জনগণের মনোভাব ধরতে না পেরে হারিয়ে গেছে বলে মনে করেন তিনি। বিএনপিও নানা ভুল করেছে বলে তার মূল্যায়ন।

রাজনীতির মাঠে আওয়ামী লীগের প্রায় তিন দশকের প্রতিপক্ষ বিএনপির মূল্যায়ন অবশ্য একটু ভিন্ন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দীন সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাজনৈতিক অপশক্তি বলতে একটা টার্ম আছে। আওয়ামী লীগের সেই অবস্থা চলছে। কালো ছায়ায় অন্ধকার হয়ে আছে গোটা দেশ। গ্রাস করে নিয়েছে জনগণের ক্ষমতা। বলেন তাহলে কীভাবে টিকে আছে?’

অবশ্য এ ক্ষেত্রে দ্বিমত রয়েছে অধ্যাপক হারুন অর রশিদের। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাকাল থেকে শুরু করে দীর্ঘ ৭২ বছর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে, জনগণের স্বার্থ প্রাধান্য দিয়ে রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় থেকে আসছে। আওয়ামী লীগের মাধ্যমে এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে স্বাধীনতা পেয়েছি, স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। আমাদের এই স্বাধীন ভূখণ্ড, বাংলাদেশে যা কিছু রাজনৈতিক অর্জন, তার সিংহভাগ কৃতিত্বই আওয়ামী লীগের।’

বিএনপির কী ভুল- তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘জামায়াত হলো যুদ্ধাপরাধী দল, স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের রাজনীতিচর্চারই অধিকার থাকার কথা না। সেখানে জিয়াউর রহমান ও বিএনপির কল্যাণে তারা ফিরে এসেছে। স্বাধীনতাবিরোধী মুসলিম লীগকে আত্তীকরণ করে এগিয়েছে বিএনপি।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি, জামায়াত এবং সম্প্রতি হেফাজত- এগুলোর মধ্যে আমি মৌলিক কোনো পার্থক্য দেখি না। বিএনপি একসময় ফ্রিডম পার্টিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে, নির্বাচন করার সুযোগ দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি, সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং জঙ্গিবাদের উত্থানে তারা ভূমিকা রেখেছে।

‘এটা তো কোনো রাজনৈতিক দলের আচার হতে পারে না। মূলত মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধারণ না করে বরং এর পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের কারণে তারা খাদের গহিনে পৌঁছে গেছে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘আমাদের জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল এই ভূখণ্ড হবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের বাংলাদেশ। সেই নীতি যতদিন ধরে রাখতে পারবে, ততদিন আওয়ামী লীগ এ দেশের মানুষের আস্থাশীল দল হিসেবে পরিচিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের এ পথচলায় অনেক দলের জন্ম হয়েছে, অনেকেই এসেছেন। কিন্তু অন্য কোনো রাজনৈতিক দলই মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। এর কারণ হচ্ছে, তাদের নীতি বা আদর্শিক কোনো জায়গা ছিল না।’

লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি সফল বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক দল। যখন তারা সরকারে যায়, তখন দলটাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। বিরোধী দল ও সরকারি দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ভূমিকা দুই রকমের।

‘বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে জনগণের মধ্যে আমরা বেশি দৃশ্যমান দেখি। আর সরকারি দল হিসেবে আমরা আওয়ামী লীগকে দেখি সরকারি বৈঠকখানায়, প্রেসনোটে, ক্রোড়পত্রে– খুব বেশি পরিমাণে এই হচ্ছে বড় পার্থক্য।’

পাঁচ বছরেই নিশ্চিহ্ন মুসলিম লীগ

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল মুসলিম লীগ। কিন্তু এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব বেশি দিন টেকেনি। ক্ষমতায় থাকা মুসলিম লীগকে হটাতে ১৯৫৩ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত হয় নির্বাচনি জোট যুক্তফ্রন্ট।

এই জোটে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিলেন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক শ্রমিক পার্টি, পাকিস্তান গণতন্ত্রী দল, পাকিস্তান খিলাফত দল, নেজামে ইসলাম পার্টি ও কয়েকটি বামপন্থি দল।

১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ২৩৭টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট পায় ২২৩টি আসন। সে সময় ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি।

প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিলীন, অটুট আওয়ামী লীগ

সেই আঘাত আর সামলে উঠতে পারেনি মুসলিম লীগ। রাজনীতিতে একেবারে নিশ্চিহ্নই হয়ে যায় তারা। তবে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর তারা ফিরে আসার চেষ্টা করেছিল তারা। কিন্তু পরে বিএনপিতে বিলীন হয়ে যায় আনুষ্ঠানিকভাবে।

’৫৪ সালের সেই নির্বাচনের পর যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠন করলেও তা খুব বেশি দিন টেকেনি। ওই বছরের মে মাসে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ মন্ত্রিসভা বাতিল করে দিয়ে প্রদেশে গভর্নরের শাসন জারি করেন।

তবে যুক্তফ্রন্টের শরিক দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের এখন অস্তিত্ব নেই, বা থাকলেও তা একেবারেই গুরুত্বহীন হয়ে গেছে।

১৯৫৮ সালে পুরো পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হলে আওয়ামী লীগের লড়াই শুরু হয় সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে।

মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হওয়ার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগকে সামরিক শাসকদের রোষে পড়তে হয়েছে।

এর আগেই অবশ্য ১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগে প্রথম ভাঙন দেখা দেয়। আওয়ামী লীগে থাকা বামপন্থি রাজনীতিকদের নিয়ে ন্যাশনাল আওয়ামী লীগ পার্টি নামে একটি আলাদা রাজনৈতিক দল গঠন করেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা ভাসানী।

পরে বিভিন্ন আন্দোলনে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সামনে আসে এই দলটির নামই।

সে সময় রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকায় এই এলাকায় সবচেয়ে বড় দল কোনটি, তা নিয়ে বিতর্কের সমাধানের সুযোগ ছিল না। এর মধ্যে ন্যাপ বিভক্ত হয়ে পড়ে চীনপন্থি ও মস্কোপন্থি বিভিন্ন গ্রুপে।

প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিলীন, অটুট আওয়ামী লীগ

তার পরেও জনপ্রিয়তার একটি লড়াই হতে পারত ১৯৭০ সালের নির্বাচনে। তবে মওলানা ভাসানী সে পথে আর হাঁটেননি। আর ভূমিধস জয় পেয়ে এই অঞ্চলের অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন বঙ্গবন্ধু, দল হিসেবে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে আওয়ামী লীগ।

এই জয়ের পেছনে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা প্রস্তাবের প্রভাব আছে বলে ধারণা করা হয়। ছয় দফার পক্ষে বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা, তার বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার পরিকল্পনার অভিযোগে মামলা আর গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করার মধ্য দিয়েই তিনি বাঙালির প্রধান নেতায় পরিণত হন।

কিন্তু পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। একপর্যায়ে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে ঘুমন্ত বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকসেনার দল। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হয়।

বড় হতে না হতেই হারিয়ে যায় জাসদ

মুক্তিযুদ্ধের পরে জিয়ার আবির্ভাবের আগ পর্যন্ত কী হয়েছে।

স্বাধীনতার পর আরেকবার ভাঙনের মুখে পড়ে আওয়ামী লীগ। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে প্রথমে ছাত্রলীগ এবং পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের অন্য সহযোগী সংগঠনগুলো থেকে নেতারা বেরিয়ে এসে ১৯৭২ সালে গঠন করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের বেদনাবিধুর ঘটনাপ্রবাহের আগে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে এই জাসদই। তবে জাতির পিতাকে হত্যার বছরে নভেম্বরে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে বিপ্লবের চেষ্টা করে ছিটকে যায় জাসদ। নিয়ন্ত্রণ চলে যায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের হাতে।

বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর নভেম্বরে যে সেনা অভ্যুত্থান ও প্রতি-অভ্যুত্থান হয়, সেখানেও জাসদ নেতাদের বড় ভূমিকা ছিল। পরে ওই বছরের ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমান সামরিক সরকার গঠনেও সমর্থন ছিল জাসদের।

প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিলীন, অটুট আওয়ামী লীগ

কিন্তু সামরিক শাসক জিয়াই জাসদের বিরুদ্ধে একপ্রকার দমন অভিযান শুরু করেন। এরপর জাসদ আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি। পরে বিভিন্ন সময়ে নানা মতে ভাগ হয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে দলটি। এক অংশ বিলীন হয়ে যায় বিএনপিতে, আর বাকি অংশ নিভু নিভু করে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র হয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।

বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট ১৪ দলের অন্যতম শরিক দল জাসদ।

আওয়ামী লীগের প্রতাপের সঙ্গে টিকে থাকার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই রাজনৈতিক দলটি প্রথমত হচ্ছে যে তৃণমুল থেকে গড়ে ওঠা দল। দুই নম্বর হচ্ছে, এটা বাঙালি জাতীয়তাবাদ, অসাম্প্রদায়িকতা এই দর্শনের ওপর দলটি দাঁড়িয়েছে। একপর্যায়ে বঙ্গবন্ধু এ দলকে এই দুই দর্শনের ওপর কেন্দ্র করে স্বশাসন ও স্বাধীনতার সার্বিক যে নেতৃত্ব সেখানে আওয়ামী লীগ সামনের কাতারে ভূমিকা রাখে। সুতরাং বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু জড়িয়ে আছেন, এটা একটা বড় অর্জন।

‘১৫ আগস্টের পর সামরিক শাসকরা, সাম্প্রদায়িক শক্তি ক্ষমতা দখল করে নেয়, তখন সামরিক শাসন অবসানের সংগ্রামে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রত্যাবর্তন, সাম্প্রদায়িকতাকে বর্জন, এ ব্যাপারে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখে। ফলে তারা তাদের একটি দার্শনিক ভিত্তি অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদ, এই দলকে টিকিয়ে রেখেছে।’

অবশ্য মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পরও পরবর্তী সময়ে কেন সে ধারা জাসদ ধরে রাখতে পারেনি, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

জিয়ার আবির্ভাবে নতুন বাস্তবতা

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার আগে বাকশাল প্রবর্তন হওয়ার পর অন্যান্য অনেক দলের সঙ্গে বিলুপ্ত হয় আওয়ামী লীগও। তবে জিয়ার শাসনামলে আওয়ামী লীগ আবার কার্যক্রম শুরু করে।

১৯৭৭-৭৮ সালে আওয়ামীবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের একত্রিত করে জিয়াউর রহমান শুরুতে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) ও পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করেন।

প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিলীন, অটুট আওয়ামী লীগ

বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে নেতৃত্বের অভাবে আওয়ামী লীগও বিভিন্ন মতে বিভক্ত হয়ে যায়। সেই সময় জিয়ার বিরুদ্ধে তেমন কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি আওয়ামী লীগ।

দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনাকে সভাপতি ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। সেই বছরই দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা। শুরু করেন দল গোছানোর কাজ। তবে সেনাবাহিনীতে একের পর এক অভ্যুত্থানের মধ্যে জিয়াউর রহমান নিহত হলে জিয়াবিরোধী রাজপথের লড়াইটা আর বেশি দূর আগায়নি।

জিয়ার মৃত্যুতে লড়াই এরশাদের সঙ্গে

১৯৮২ সালে সেনা অভ্যুত্থানে নিহত হন জিয়াউর রহমান। ক্ষমতায় আসেন আরেক সেনা কর্মকর্তা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনিও জিয়ার পথ ধরেই ক্ষমতায় থেকে গড়ে তোলেন রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি।

এ সময় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বও আসে আওয়ামী লীগ থেকে। এরশাদ সরকারের পতন হলে তার দল জাতীয় পার্টিও হারিয়ে ফেলে ছন্দ।

৯০ দশক থেকে লড়াই বিএনপির সঙ্গে

স্বৈরাচার পতনের পর দেশে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার এক নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি হয়। পরবর্তী তিন দশক ধরে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল হয়ে আছে বিএনপি।

প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিলীন, অটুট আওয়ামী লীগ
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ছয় বছর পর ১৯৮১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের পতাকা বয়ে চলেছেন তার উত্তরসূরি শেখ হাসিনা

তবে বিএনপি এখন আপাতদৃষ্টিতে খুবই দুর্বল অবস্থানে। যদিও দলটি দাবি করছে, তারা গণতান্ত্রিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না, তাদের কর্মী-সমর্থকরা ভোট দিতে পারছে না। সেটি হলে ক্ষমতায় তারাই থাকতে পারত।

ঘটনা যা-ই হোক, ২০০৯ সালের পর থেকে টানা ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। এই দীর্ঘ সময়ে রাজপথে তেমন কোনো গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি বিএনপি। তার ওপর দলের শীর্ষ নেতৃত্ব দুর্নীতির অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় ছন্দ হারিয়ে ফেলেছে দলটি।

আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে চার দলীয় জোট, পরবর্তী সময়ে ২০ দলীয় জোট গঠন করা হয়।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ভোটে জিতলেও পরের নির্বাচনে ভরাডুবি হয়।

২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আগে ড. কামাল হোসেনের গণফোরামের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেও সফল হয়নি তারা।

আওয়ামী লীগও এখনও জোটবদ্ধ রাজনীতি করছে। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগেই তারা গঠন করে মহাজোট।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের শ্রদ্ধা
জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
রোজ গার্ডেন রূপ নিচ্ছে জাদুঘরে
আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বরিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজন
‘নেতাকর্মীরাই দলকে মজবুত ভিত্তি দিয়েছে’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিএনপিকে তত্ত্বাবধায়কের স্বপ্ন না দেখার পরামর্শ

বিএনপিকে তত্ত্বাবধায়কের স্বপ্ন না দেখার পরামর্শ

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ব্রজগোপাল টাউন হলে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যখন নির্বাচন হয় তখন প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরকারের অধীনে থাকেন না, তাদের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতে চলে যায়। নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করে থাকে।

বিএনপিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বপ্ন না দেখার পরামর্শ দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। শনিবার বিকেলে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ব্রজগোপাল টাউন হলে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ পরামর্শ দেন।

এ সময় বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তত্ত্বাবায়ক সরকারের স্বপ্ন দেখে লাভ নেই। দেশে রাত ১২টার পর যারা টেলিভিশনের পর্দা গরম করে কথা বলেন তাদের দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর হবে না।’

‘বিএনপি সিরিজ মিটিং করে বলেছে যে, তারা আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে যাবেনা। কিন্তু নির্বাচন তো কোন সরকারের অধীনে হয়না, নির্বাচন হয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে’ যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘যখন নির্বাচন হয় তখন প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরকারের অধীনে থাকেন না, তাদের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতে চলে যায়। নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করে থাকে।

‘সরকার তখন ডিসি, এসপি, ইউএনও কাউকেই বদলি করতে পারে না। সব নির্বাচন কমিশনের হাতে চলে যায়।’

এ সময় সরকারের উন্নয়ন কাজের চিত্র তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে আজ প্রতিটি মানুষের চেহারা বদলে গেছে। খালি পায়ে, ছেঁড়া কাপড়ে মানুষ দেখা যায় না। কুঁড়েঘর খুঁজে পাওয়া যায় না সহজে। এই বদলে যাওয়া কোন যাদুর কারণে হয় নাই, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যাদুকরী নেতৃত্বে আজকে এই দেশ বদলে গেছে।

‘বিএনপি নেতারা বলেছিল, এই সরকার পদ্মাসেতু করতে পারবে না। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার সেই পদ্মা সেতু তৈরি করে দেখিয়েছে। আমি সেদিনের অপেক্ষায় আছি যেদিন বিএনপি নেতারা পদ্মাসেতুর উপর দিয়ে গাড়ি করে যাবে।’

বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বললাম তখন অনেকেই এর অর্থ বোঝে নি। এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা।

‘এখন ঘরে বসেই টাকা লেনদেন, বিশ্ববিদ্যায়ে ভর্তি আবেদন করা যায়, কৃষক ক্ষেত থেকে সমস্যার ছবি পাঠিয়ে সমাধান পায়। এটিই ডিজিটাল বাংলাদেশ।’

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের শ্রদ্ধা
জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
রোজ গার্ডেন রূপ নিচ্ছে জাদুঘরে
আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বরিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজন
‘নেতাকর্মীরাই দলকে মজবুত ভিত্তি দিয়েছে’

শেয়ার করুন

নামাজ পড়ি না বলে মুরতাদ বলতে পারেন না: জাফরুল্লাহ

নামাজ পড়ি না বলে মুরতাদ বলতে পারেন না: জাফরুল্লাহ

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ নয়: সম্প্রীতি, ইনসাফ ও সহনশীলতাই ইসলাম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমি নামাজ পড়ি না বলে আমাকে মুরতাদ বলার অধিকার আলেমদের নাই। এ বিষয়ে আল্লাহ সিদ্ধান্ত নিবেন। নামাজ পড়ি না বলে আমাকে বেত মারার অধিকার আপনার নাই, খোদা বিচার করবেন। আজকে আলেমদের নামে কেনো বলাৎকারের অভিযোগ আসবে? অন্যরা করলে দোষ হয় না, কিন্তু আপনারা করলে দোষ হবে। কারণ মানুষ আপনাদের সম্মান করে। আপনারা যেকোন দোষ করলে দোষটা বড় হয়ে যায়।’

গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, কেউ নামাজ আদায় না করলে তাকে মুরতাদ বলার অধিকার আলেমদের নেই।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৃতীয় তলায় ‘সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ নয়: সম্প্রীতি, ইনসাফ ও সহনশীলতাই ইসলাম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। আলোচনা সভা আয়োজন করে, বাংলাদেশ জাতীয় মুফাসসির পরিষদ।

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আমি নামাজ পড়ি না বলে আমাকে মুরতাদ বলার অধিকার আলেমদের নাই। এ বিষয়ে আল্লাহ সিদ্ধান্ত নিবেন। নামাজ পড়ি না বলে আমাকে বেত মারার অধিকার আপনার নাই, খোদা বিচার করবেন। আজকে আলেমদের নামে কেনো বলাৎকারের অভিযোগ আসবে? অন্যরা করলে দোষ হয় না, কিন্তু আপনারা করলে দোষ হবে। কারণ মানুষ আপনাদের সম্মান করে। আপনারা যেকোন দোষ করলে দোষটা বড় হয়ে যায়।’

ভোট ডাকাতির চেয়ে বড় জঙ্গি কে প্রশ্ন রেখে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ভোট ডাকাতির চেয়ে বড় জঙ্গি নাই। যাদের দাড়ি আছে, টুপি পড়ে তাদের জঙ্গি বলি। এটা অন্যায়, ভাঁওতাবাজি। এই ভাঁওতাবাজি বন্ধের জন্য আমাদেরকে বুদ্ধিমান হতে হবে।’

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার নামই হলো জিহাদ। মানুষের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে ইসলাম একটি বিজ্ঞানসম্মত ধর্ম। অর্ধমের বিরুদ্ধে সংগ্রামই জিহাদ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামই জিহাদ। অধিকার বঞ্চিত মানুষের ন্যায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই জিহাদ।

‘জিহাদ বললে আমাদের লজ্জা পাওয়ার কিছু নাই। ভাবতে হবে আমি ন্যায়ের পক্ষে আছি। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গিকার ছিল গণতন্ত্র, সামান্য এবং জনগণের অধিকার। মুক্তিযুদ্ধে সবই ইসলামের কথা বলেছি। মানুষের কথায় বলেছি, ন্যায়ের কথাই বলেছি। আজ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ভূলন্ঠিত, সে জন্য সংগ্রামে যেতে হবে।’

তালেবানদের সাহায্য করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তালেবানরা মুক্তিযোদ্ধা। তারা ২০ বছর যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। তাদের সালাম করতে হবে। শুধু সালাম করলে হবে না, দায়িত্বও আছে। সেখানে খাদ্য সংকটের কথা উঠেছে। এখানে ১৬ কোটি মানুষ, তালেবানদের কয়েক বছর খাওয়াতে পারেন।’

উপস্থিত সবার উদ্দেশে আফগানিস্তানে দ্রুত খাদ্য সহায়তা পাঠানোর আহ্বান জানান জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আল্লামা সাইয়েদ কামাল উদ্দিন জাফরী, উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, ড. মাওলানা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী, মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফেরদৌস (পীর সাহেব), মুফতি একেএম ফারুক সিদ্দিকী ও কাজী আবু হুরাইরাহ সভাপতি জাতীয় ইমাম সমিতি। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মুহাম্মদ এমরানুল হক মোহাদ্দিস, নয়াটলা কামিল মাদরাসা।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের শ্রদ্ধা
জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
রোজ গার্ডেন রূপ নিচ্ছে জাদুঘরে
আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বরিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজন
‘নেতাকর্মীরাই দলকে মজবুত ভিত্তি দিয়েছে’

শেয়ার করুন

রাঙ্গা পরিবহন জগতের সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজ: কাদের মির্জা

রাঙ্গা পরিবহন জগতের সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজ: কাদের মির্জা

মেয়র মির্জা বলেন, ‘এ রাঙ্গা সেই রাঙ্গা, যে রাঙ্গাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৌরসভার মেয়র থেকে এনে মন্ত্রী বানিয়েছেন। আর আজকে সেই রাঙ্গা প্রধানমন্ত্রীকে বলে স্বৈরাচার।...আর আমাকে বলে আমি সারা দেশে বিতর্কিত। শরম যদি লাগে গো ঘোমটা দিয়ে চলো গো।’

জাতীয় পার্টির চিফ হুইপ সংসদ সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গাকে পরিবহন জগতের সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজ বলে আখ্যা দিয়েছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

বসুরহাট পৌরসভা মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে শনিবার দুপুরে তিনি এ কথা বলেন।

মেয়র মির্জা বলেন, ‘এ রাঙ্গা সেই রাঙ্গা, যে রাঙ্গাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৌরসভার মেয়র থেকে এনে মন্ত্রী বানিয়েছেন। আর আজকে সেই রাঙ্গা প্রধানমন্ত্রীকে বলে স্বৈরাচার।

‘রাঙ্গা সাহেব পরিবহন সেক্টরের খবর কী? এই পরিবহন জগতে ধুয়ে-মুছে খেয়ে ফেলেছেন। আর আমাকে বলেন আমি সারা দেশে বিতর্কিত। শরম যদি লাগে গো ঘোমটা দিয়ে চলো গো।’

৭ দিনের আলটিমেটাম বেঁধে দিয়ে কাদের মির্জা বলেন, ‘আগামী ৭ দিনের মধ্যে কোম্পানীগঞ্জের সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি জানাচ্ছি। অন্যায়ভাবে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। কোম্পানীগঞ্জে দ্রুত গ্যাস-সংযোগ ও চর এলাহীর ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছি।’

কাদের মির্জা আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার সব অর্জন দুর্নীতিবাজরা ও প্রশাসন শেষ করে দিচ্ছে। এটা আমরা মানতে পারি না। আওয়ামী লীগের কাছে মানুষ অনেক কিছু আশা করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ করব তিনি যেন মানুষের হৃদয়ের ভাষা বোঝার চেষ্টা করেন।’

জয় বাংলা ও জয় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্লোগানের দাবি জানিয়ে কাদের মির্জা বলেন, ‘বাংলাদেশে জয় বাংলা ও জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়ায় অনেকে ভিন্নভাবে দেখেন। জয় বাংলা হলো জাতীয় স্লোগান। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি এটিকে জাতীয় স্লোগান করা হোক।’

অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুছ, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আজিজুল হক, উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আজিজ, পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়েরসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের শ্রদ্ধা
জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
রোজ গার্ডেন রূপ নিচ্ছে জাদুঘরে
আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বরিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজন
‘নেতাকর্মীরাই দলকে মজবুত ভিত্তি দিয়েছে’

শেয়ার করুন

আ.লীগের সভায় প্রচার সম্পাদকের নিরাপত্তায় ডিবি

আ.লীগের সভায় প্রচার সম্পাদকের নিরাপত্তায় ডিবি

নিরাপত্তা শঙ্কায় সভা শেষে ডিবি প্রহরায় বের হন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক নজরুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার এবং প্রচার সম্পাদক নজরুল ইসলামের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। আজকের সভায় আলোচ্যসূচীতে ছিল প্রচার সম্পাদক নজরুলকে করা শোকজের জবাব। ওই শোকজ ঘিরে যে কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভা শেষে প্রচার সম্পাদক নজরুল ইসলাম বের হয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পাহারায়।

এ ঘটনায় নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

শহরের সুর সম্রাট ওস্তাদ দি আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গনে শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে সভা। শুরু থেকেই সভাস্থলে ছিলেন পুলিশ ও ডিবিসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার এবং প্রচার সম্পাদক নজরুল ইসলামের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। আজকের সভায় আলোচ্যসূচীতে ছিল প্রচার সম্পাদক নজরুলকে করা শোকজের জবাব। ওই শোকজ ঘিরে যে কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।

সভায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীসহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে নিরাপত্তা শঙ্কায় ডিবি পাহারায় সভাস্থল ত্যাগ করেন নজরুল।

নেতাকর্মীরা আরও জানান, জেলা আওয়ামী লীগের দুই নেতার মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে কয়েক মাস আগে। ওই সময় সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের বিরুদ্ধে পৌর এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার লাইসেন্স নিয়ে অনিয়মসহ নানা অভিযোগ এনে ফেসবুকে পোস্ট দেন নজরুর ইসলাম।

এরপর ৩০ জুলাই আল মামুনের বাড়িতে আগুন লাগে। এ ঘটনায় নজরুল ইসলামকে আসামি করে মামলা হয়।

এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বিরোধের জেরে নজরুল ইসলামকে শোকজও করা হয়। শনিবার জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভায় শোকজের জবাব দেয়ার কথা ছিল বলে জানিয়েছেন দলের নেতারা। তবে নজরুল ইসলাম তা অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় আমাকে শোকজের উত্তর দিতে হবে এমন কোনো চিঠি পাইনি। আর শোকজের উত্তর এমপিকে আমি আরও আগেই দিয়ে দিয়েছিলাম। শোকজের উত্তর কী দিয়েছি তা বলতে চাচ্ছি না।’

এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, ‘প্রচার সম্পাদকের বিরুদ্ধে আমি মামলা করেছি। তাই কোনো ছাত্রলীগ নেতাকর্মী যেন তার সঙ্গে ঝামেলা না করে সেজন্য তিনি ডিবি পুলিশের নিরাপত্তায় সভাস্থল ত্যাগ করেছেন।’

শোকজের জবাবের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, নজরুল ইসলামের জবাব সভায় গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এজন্য তাকে আরও তিন দিন সময় দেয়া হয়েছে।

নেতাকর্মীদের ভিড়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের কমিটি হবে, সে কারণে উৎসুক নেতাকর্মীরা ভিড় জমিয়েছেন।’

জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন জানান, নজরুল ইসলামের শোকজের জবাব সন্তোষজনক হয়নি। এজন্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি সর্বসম্মতিক্রমে আরও তিন দিন সময় বাড়িয়ে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের শ্রদ্ধা
জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
রোজ গার্ডেন রূপ নিচ্ছে জাদুঘরে
আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বরিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজন
‘নেতাকর্মীরাই দলকে মজবুত ভিত্তি দিয়েছে’

শেয়ার করুন

তত্ত্বাবধায়ক নয়, ইসির অধীনে নির্বাচন: কৃষিমন্ত্রী

তত্ত্বাবধায়ক নয়, ইসির অধীনে নির্বাচন: কৃষিমন্ত্রী

টাঙ্গাইল সার্কিট হাউসে শনিবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: নিউজবাংলা

কৃষিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদের দ্বাদশ নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন। সংবিধানের আলোকে আগামী সংসদ নির্বাচন হবে, দায়িত্ব পালন করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনারদের ওপর কারও কোনো হস্তক্ষেপ নেই।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক নয়, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

শনিবার সকালে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদের দ্বাদশ নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন। সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, কমিশনাররা নির্বাচন দেবেন। বাংলাদেশে কোনো নিরপেক্ষ সরকার হবে না, তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না, হবে সাংবিধানিক সরকার। সংবিধানের আলোকে আগামী সংসদ নির্বাচন হবে, দায়িত্ব পালন করবে ইসি। নির্বাচন কমিশনারদের ওপর কারও কোনো হস্তক্ষেপ নেই।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচন এলেই জ্বালাও-পোড়াও শুরু করে। বিগত দিনে তারা ট্রেনে আগুন দিয়েছে, রেললাইন তুলে নিয়েছে, বিদ্যুতের লাইন কেটেছে। তারা ৫০০-এর বেশি মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে।

পরে মন্ত্রী শহরের পৌর উদ্যানে বীর বিক্রম আব্দুস সবুর খানের স্মরণসভায় যোগ দেন।

এতে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বালা মিয়া।

বক্তব্য দেন সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুকসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের শ্রদ্ধা
জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
রোজ গার্ডেন রূপ নিচ্ছে জাদুঘরে
আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বরিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজন
‘নেতাকর্মীরাই দলকে মজবুত ভিত্তি দিয়েছে’

শেয়ার করুন

সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে হিসাব চেয়ে চিঠি: রিজভী

সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে হিসাব চেয়ে চিঠি: রিজভী

জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদে রাজধানীর নয়াবাজারে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ করতে সরকার এখন নানা কালাকানুন করছে। আদালত দিয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করার চেষ্টা করছে। সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চিঠি দিয়ে হয়রানি করছে।’

মুখ বন্ধ করতেই ব্যাংক হিসাব চেয়ে ১১ সাংবাদিক নেতাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) চিঠি দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদে রাজধানীর নয়াবাজার এলাকায় শনিবার দুপুরে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ করতে সরকার এখন নানা কালাকানুন করছে। আদালত দিয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করার চেষ্টা করছে। সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চিঠি দিয়ে হয়রানি করছে।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খানসহ ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বিএফআইইউ।

আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাবের সব তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি, ট্রানজেকশন প্রোফাইল, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত লেনদেনের বিবরণী।

ব্যাংক হিসাব চাওয়ার নামে সম্মানহানির প্রতিবাদে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে করেন ১১ সাংবাদিক নেতা। তাদের দাবি, উদ্দেশ্যমূলক এই চিঠি সাংবাদিকদের মাঝে ভয় ভীতি ছড়ানোর কৌশল হতে পারে।

রিজভীও তাই মনে করেন। তিনি বলেন, ‘মূলত, মানুষের মুখ স্তব্ধ করে দিতে সরকার এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে। গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ করে দিতে চায় তারা।’

বিএনপির এই বর্ষীয়ান নেতা বলেন, ‘ভোটারবিহীন সরকার দুর্নীতে চ্যাম্পিয়ন হলেও অন্য সবদিক থেকে ব্যর্থ হয়েছে। এ সরকারের আমলে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দুর্নীতির রেকর্ড হয়েছে। বর্তমানে তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। বিশ্ব সম্প্রদায়ও তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

‘বাংলাদেশে যাতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় সেজন্য দেশের মানুষের দাবির সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশও দাবি জানাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইইউসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন থেকে শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচণ্ড চাপ দিচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরবে ইনশাল্লাহ।’

বিক্ষোভ সমাবেশে আরও অংশ নেন ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা আরিফুর রহমান, যুবদল নেতা সাঈদ হাসান মিন্টু, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ডা. জাহিদুল কবির, যুবদল নেতা মেহেবুব মাসুম শান্ত, বিএনপি নেতা লতিফুল্লাহ জাফরু, ফরিদ জুয়েল, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সারা করিম লাকি, মনজুরুল হক, আশু মোহাম্মদ, হাজী জাহিদ, মো. হালিম, ছাত্রদল নেতা রাহু আহমেদসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের শ্রদ্ধা
জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
রোজ গার্ডেন রূপ নিচ্ছে জাদুঘরে
আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বরিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজন
‘নেতাকর্মীরাই দলকে মজবুত ভিত্তি দিয়েছে’

শেয়ার করুন

‘সরকারবিরোধী রূপকল্প তৈরি করছে বিএনপি’

‘সরকারবিরোধী রূপকল্প তৈরি করছে বিএনপি’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি বিশেষ সিরিজ সভায় অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা না করে সরকারবিরোধী সিরিজ ষড়যন্ত্রের রূপকল্প তৈরির গোপন বৈঠক করছে। মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও বিএনপিতে গণতন্ত্রের কোনো চর্চা নেই।’

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সময়ের কয়েকটি বৈঠককের প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এসব বৈঠকে সরকারবিরোধী রূপকল্প তৈরি করা হচ্ছে।

২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ শনিবার সকালে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি বিশেষ সিরিজ সভায় অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা না করে সরকারবিরোধী সিরিজ ষড়যন্ত্রের রূপকল্প তৈরির গোপন বৈঠক করছে। মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও বিএনপিতে গণতন্ত্রের কোনো চর্চা নেই।

‘বিএনপি গণতন্ত্রের কথা বলে, অথচ তাদের সম্মেলনের এক বছর পরে আমাদের এক টার্ম শেষ হয়ে আরেক টার্মেরও এক বছর আট মাস পেরিয়ে গেছে। আমাদের সম্মেলনে আমি যখন সাধারণ সম্পাদক হয়েছি, এর এক বছর আগে তাদের জাম্বুজেট ৫০১ সদস্যের কমিটি হয়েছে, কিন্তু এখনও সেই কমিটি দিয়েই চলছে।’

নিজেদের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা না করে বিএনপি কীভাবে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে, সে প্রশ্ন তুলে ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা বলেন, ‘তারা মুখে গণতন্ত্রের বড় বড় বুলি আওড়ায়, তাদের নিজেদের ঘরেই গণতন্ত্রের চর্চা নেই। তাদের সম্মেলন হয় না, তাদের কমিটি হয় না, কমিটির মিটিং পর্যন্ত হয় না। এই অবস্থা দিয়ে যে পার্টি চলছে, তারা দেশে গণতন্ত্র কীভাবে প্রতিষ্ঠা করবে? সেটাই একটা বিরাট প্রশ্ন চিহ্ন হয়ে ঝুলে থাকে।’

কাদের অভিযোগ করে বলেন, ‘অবৈধ অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত বিএনপির গণতান্ত্রিক রীতিনীতির কোনো দায়ভার তাদের নেই। তাদের তথাকথিত বিশেষ যে সিরিজ সভাগুলো হয়েছে। এগুলো অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা নয়।

‘এখানে গণতন্ত্রের কিছু নেই। কীভাবে সরকারকে ঠেকাবে, কীভাবে দেশের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করবে, কীভাবে বিভিন্ন অপশক্তিকে উসকে দেবে। কারণ বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক শক্তির বিশ্বস্ত ঠিকানা হচ্ছে বিএনপি এবং তারাই পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে এই সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলোকে জিইয়ে রেখেছে। আমরা জানি, তাদের এখন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রতি কোনো শ্রদ্ধা নেই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করে তারা।’

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের আগেই বিএনপি নানা ষড়যন্ত্র শুরু করছে বলে অভিযোগ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের।

তিনি বলেন, ‘আগামী বছর নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রাক্কালে বিএনপি আবার নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন গঠনকে কেন্দ্র করে। নির্বাচন কমিশন যথাসময়ে যেভাবে হয়, আমাদের দেশের আইনগত প্রক্রিয়ায় যে বিধান রয়েছে, সেভাবে আমাদের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।’

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারকে ইঙ্গিত করে কাদের বলেন, ‘গতবারও রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠন করেছিলেন, সেই সার্চ কমিটিতে বিএনপিরও প্রতিনিধিত্ব ছিল। তাদের একজন এখনও আছেন। বিভিন্ন সময় তিনি নোট অব ডিসেন্ট দেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। এটা গণতন্ত্রের বিউটি। বাইরে এসে তিনি মাঝে মাঝে যে অবস্থার সৃষ্টি করেন, সেটা গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য এবং নির্বাচন কমিশনের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

আওয়ামী লীগের আগাম সম্মেলনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করলে তা নাকচ করে দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগাম সম্মেলন কেন হবে? আওয়ামী লীগের ইতিহাসে আগাম কোনো সম্মেলন হয়নি। নির্বাচন যথাসময়ে হবে, আওয়ামী লীগের সম্মেলনও যথাসময়ে হবে।’

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের শ্রদ্ধা
জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
রোজ গার্ডেন রূপ নিচ্ছে জাদুঘরে
আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বরিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজন
‘নেতাকর্মীরাই দলকে মজবুত ভিত্তি দিয়েছে’

শেয়ার করুন