গরুর গাড়িতে সরকারকে শিক্ষার হুঁশিয়ারি সিপিবির

গরুর গাড়িতে সরকারকে শিক্ষার হুঁশিয়ারি সিপিবির

ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ হলে গরুর গাড়ি দিয়ে রাজপথ বন্ধের হুমকি দিয়েছে সিপিবি। ছবি: সংগৃহীত

বিক্ষোভ সমাবেশে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘ইজিবাইক এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে দেয়া না হলে সরকারকেও আমরা চলতে দেব না। সরকারকে শিক্ষা দিতে আমরা গরুর গাড়ি চালাব। রাজপথ গরুর গাড়ি দিয়ে ভরিয়ে দেব। একটা এসি গাড়িও আমরা চলতে দেব না।’

ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে না দিলে রাজপথে গরুর গাড়ি চালানোর হুমকি দিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সমানে বুধবার রিকশাভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ হুমকি দেন।

সারা দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের সরকারি ঘোষণার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

এতে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতা সাদেকুর রহমান শামীম, পরিবহন শ্রমিকনেতা হযরত আলী, রিকশাভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহাদৎ খাঁ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল ইসলাম নাদিমসহ অনেকে।

বিক্ষোভ সমাবেশে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘ইজিবাইক এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে দেয়া না হলে সরকারকেও আমরা চলতে দেব না। সরকারকে শিক্ষা দিতে আমরা গরুর গাড়ি চালাব।

‘রাজপথ গরুর গাড়ি দিয়ে ভরিয়ে দেব। একটা এসি গাড়িও আমরা চলতে দেব না।’

আরও পড়ুন: সারা দেশে বন্ধ হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান

তিনি বলেন, ‘রিকশার গতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, ব্রেক কীভাবে আরেকটু উন্নত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আমাকে দায়িত্ব দিলে রিকশাচালক ভাইদের সঙ্গে আলোচনা করে সেসব ব্যবস্থা করে দেব। কিন্তু অহেতুক অজুহাত তুলে ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং ইজিবাইক বন্ধ করা চলবে না।’

গরুর গাড়িতে সরকারকে শিক্ষার হুঁশিয়ারি সিপিবির

সমাবেশে বলা হয়, সারা দেশে লাখ লাখ রিকশাচালক চড়া সুদে ঋণ নিয়ে অথবা সম্পত্তি বন্ধক রেখে ব্যাটারিচালিত রিকশা কিনেছেন। এই রিকশা শ্রমিকদের অমানবিক শ্রম লাঘব করেছে। গণপরিবহন হিসেবে দেশের শহর কিংবা গ্রামে রিকশা অপরিহার্য। এ অবস্থায় সরকার ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করে চালকদের পথে বসিয়ে দিতে চাইছে।

এতে এক বক্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বাহন বলে আমরা রিকশা নিয়ে গর্ব করে থাকি। দেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে পাঁচ তারকাবিশিষ্ট হোটেলগুলোতে রিকশার ঝলমলে প্রদর্শনী হয়।

‘প্রবাসী বাঙালিরা পরিবেশবান্ধব যানটিকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে উপস্থাপন করে থাকেন।’

শ্রমিকনেতারা বলেন, সরকারি সিদ্ধান্তে সারা দেশে অন্তত পাঁচ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ হয়ে যাবে। ‘অমানবিক’ এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

তাদের ভাষ্য, বুয়েট প্রস্তাবিত রিকশাবডি, এমআইএসটি উদ্ভাবিত গতি নিয়ন্ত্রক, উন্নত ব্রেকসহ ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমোদন দিতে হবে। রিকশাচালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স দিতে হবে। সমস্যার যুক্তিসংগত সমাধানে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে।

আরও পড়ুন:
‘এহন কি চুরি ডাহাতি করমু’
রিকশা টানার শক্তি ছিল না: রিকশা গার্ল
শাহিনের ঝলমলে অটোরিকশায় টিভি, ফ্যান, ফিল্টার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিএনপিতে করোনার থাবা

বিএনপিতে করোনার থাবা

করোনায় মারা যাওয়া বিএনপির কয়েকজন নেতা। ফাইল ছবি

দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দুজন ভাইস চেয়ারম্যান, দলীয় চেয়ারপারসনের তিনজন উপদেষ্টা, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন সম্পাদক ছাড়া আছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কয়েকজন সদস্য। ভাইস চেয়ারম্যান দুজন হলেন চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ও মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী। প্রাণ হারানো বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টারা হলেন জিয়াউর রহমান খান, এম এ হক ও এ কে এম মোশাররফ হোসেন।

করোনাভাইরাসে রীতিমতো কাঁপছে বিএনপি। দলের কেন্দ্রীয় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী আক্রান্ত। মৃত্যুর সংখ্যাও ব্যাপক।

দলের হিসাব বলছে, কেন্দ্রীয় ১৯ জন নেতা প্রাণ হারিয়েছেন সারা বিশ্ব তোলপাড় করা ভাইরাসটিতে। আর সারা দেশে নেতা-কর্মীর এই সংখ্যা ৭০৯ বলে দাবি করছেন নেতারা।

দলটির করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর তালিকা সবশেষ হালনাগাদ করা হয়েছে ১৫ জুন। এর মধ্যে পরে আরও কয়েকজন নেতা-কর্মীর মৃত্যুর খবর এসেছে। তবে তালিকা হালনাগাদ করা হয়নি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স নিউজবাংলাকে জানান, গত দুই মাসেই মারা গেছেন ২৮৩ জন।

বিএনপির করোনা পর্যবেক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত দুই মাসে মৃত্যুর সংখ্যা এমনিতেই বেশি। সরকারের ব্যর্থতাই এর প্রধান কারণ। লকডাউনের তামাশা শেষ করে এখন শাটডাউনের তামাশা শুরু করছে তারা।’

বিএনপিতে করোনার থাবা
করোনায় মৃত্যু হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেনের।

অসচ্ছল নেতা-কর্মীদের পরিবারের পাশে বিএনপি থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল তাদের পরিবারকে দুই ঈদের উপহার পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এদের বাইরে কেউ সহযোগিতার আবেদন করলে তাদেরও দেয়া হবে। এমনিতেও দলীয় তহবিল থেকে যতটুকু সম্ভব আর্থিক অনুদান দেয়া হচ্ছে।’

কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে যারা মারা গেলেন

দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দুজন ভাইস চেয়ারম্যান, দলীয় চেয়ারপারসনের তিনজন উপদেষ্টা, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন সম্পাদক ছাড়া আছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কয়েকজন সদস্য।

ভাইস চেয়ারম্যান দুজন হলেন চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী।

বিএনপিতে করোনার থাবা
রাজশাহী-৪ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আবু হেনা মারা গেছেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে। ফাইল ছবি

প্রাণ হারানো বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টারা হলেন জিয়াউর রহমান খান, এম এ হক ও এ কে এম মোশাররফ হোসেন।

সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান, সহ-গ্রামসরকার বিষয়ক সম্পাদক আমজাদ হোসেনও প্রাণ হারিয়েছেন করোনায়।

অন্য কেন্দ্রীয় নেতারা হলেন নির্বাহী কমিটির সদস্য শফিউল বারী বাবু, খুররম খান চৌধুরী, আহসান উল্লাহ হাসান, পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্য খন্দকার আহাদ আহমেদ, সাবেক মন্ত্রী টি এম গিয়াস উদ্দিন, এ টি এম আলমগীর, সাবেক সংসদ সদস্য আবু হেনা, আমেরিকার বোস্টনে বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক মিতোষ বড়ুয়া, জাতীয় ট্যাক্স-বারের সাবেক সভাপতি গফুর মজুমদার, ওলামা দলের প্রচার সম্পাদক দ্বীন মোহাম্মদ কাশেমী, দিনাজপুর বিএনপির সভাপতি লুৎফর রহমান মিন্টু, রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক।

বিএনপিতে করোনার থাবা
মানিকগঞ্জের বিএনপি নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের এক চেয়ারম্যানেরও মৃত্যু হয় করোনায়। ফাইল ছবি

তৃণমূলে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু চট্টগ্রাম বিভাগে

হালনাগাদের তথ্য অনুযায়ী দলটির সবচেয়ে বেশি নেতা-কর্মী মারা গেছেন চট্টগ্রাম বিভাগে। আর সবচেয়ে কম নেতা-কর্মী মারা গেছেন ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর বিভাগে (সাংগঠনিক বিভাগ)।

বিএনপিতে করোনার থাবা
করোনায় মারা যাওয়া বিএনপি নেতা-কর্মীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয় দলটি। ফাইল ছবি

তালিকা অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগে ২০১ জন, ঢাকা বিভাগে ১৮৬, খুলনা বিভাগে ১৫৪, রংপুর বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ৩৪, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১, ফরিদপুর বিভাগে ১১, বরিশাল বিভাগে ১৯, কুমিল্লা বিভাগে ৩৫ এবং সিলেট বিভাগে ১৫ জন মারা গেছেন।

আরও পড়ুন:
‘এহন কি চুরি ডাহাতি করমু’
রিকশা টানার শক্তি ছিল না: রিকশা গার্ল
শাহিনের ঝলমলে অটোরিকশায় টিভি, ফ্যান, ফিল্টার

শেয়ার করুন

সরকার শ্রমিকদের মানুষই ভাবে না: জি এম কাদের

সরকার শ্রমিকদের মানুষই ভাবে না: জি এম কাদের

গার্মেন্টস খোলার খবরে রাজধানীমুখী শ শ শ্রমিক বরিশাল বাস টার্মিনাল এলাকায় শনিবার সকাল থেকে জড়ো হয়েছেন। ছবি: তন্ময় তপু/নিউজবাংলা

‘গেল বছরের লকডাউন থেকে শিক্ষা নেয়নি সংশ্লিষ্টরা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের শ্রমিকশ্রেণির মানুষ। মনে হচ্ছে সরকার শ্রমিকদের মানুষই ভাবে না।’

শ্রমিকদের সরকার তাদের মানুষ ভাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

শাটডাউনের মধ্যে শনিবার শ্রমিকরা বাস-লঞ্চ না পেয়ে ট্রাকে চেপে, পায়ে হেঁটে বা ছোট ছোট বাহনে করে ঢাকায় এসেছে রোববার থেকে কাজে যোগ দিতে। এই বিষয়টি তুলে ধরে জাপা নেতা বলেন, ‘অপরিকল্পিত লকডাউনের নামে শ্রমিকদের প্রতি যে উদাসীনতা দেখানো হয়েছে, তা সভ্য সমাজে মেনে নেয়া যায় না।’

সোমবার এক বিবৃতিতে সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ‘অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে এক বছরের মাথায় আবারও শ্রমিকদের হেঁটে, কয়েক গুণ বেশি খরচ করে রাজধানীতে ফিরতে হয়েছে। যেসব শ্রমিক দেশের সমৃদ্ধির জন্য অর্থনীতির চাকা সচল রাখে, তাদের সঙ্গে অশোভন ও নির্মম আচরণ করা হয়েছে।’

সরকার শ্রমিকদের মানুষই ভাবে না: জি এম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ফাইল ছবি

জি এম কাদের বলেন, ‘গেল ২১ জুলাই কোরবানির ঈদের আগে ঈদের যাত্রী পরিবহনে গণপরিবহন চলেছে মাত্র দুই দিন। আবার ঈদের এক দিন পরেই কঠোর বিধিনিষেধের কারণে বন্ধ হয়ে যায় গণপরিবহন। স্বল্প সময়ে গণপরিবহনে গাদাগাদি করে ঈদযাত্রায় চলাচল করেছে লাখো মানুষ।

‘আবার কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে গেল ৩০ জুলাই হঠাৎ ঘোষণা ১ অক্টোবর থেকে তৈরি পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে। এমন ঘোষণায় স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

‘প্রতিটি ফেরিতে কয়েক হাজার মানুষ গাদাগাদি করে নদী পার হয়েছেন। এসব কারণে মারাত্মকভাবে উপেক্ষিত হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি।’

২০২০ সালে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর সাধারণ ছুটিতে যখন পোশাক কারখানা খুলে দেয়া হয়, তখনও একইভাবে শ্রমিকরা ঢাকায় ফিরেছেন। সেই বিষয়টি উল্লেখ করে জিএম কাদের বলেন, ‘গেল বছরের লকডাউন থেকে শিক্ষা নেয়নি সংশ্লিষ্টরা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের শ্রমিকশ্রেণির মানুষ। মনে হচ্ছে সরকার শ্রমিকদের মানুষই ভাবে না।’

মহামারি নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পিত লকডাউন, ব্যাপক হারে গণটিকা কর্মসূচি জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেখানে দেখা যাচ্ছে সকল ক্ষেত্রে চরম সমন্বয়হীনতা। সে কারণে কমছে না করোনার ভয়াবহ সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা।’

আরও পড়ুন:
‘এহন কি চুরি ডাহাতি করমু’
রিকশা টানার শক্তি ছিল না: রিকশা গার্ল
শাহিনের ঝলমলে অটোরিকশায় টিভি, ফ্যান, ফিল্টার

শেয়ার করুন

ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি

ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি

পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার নির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে নতুন কমিটি দিয়েছে বিএনপি। সোমবার দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কমিটি ঘোষণা করেন।

দপ্তরের চলতি দায়িত্বে থাকা এমরান সালেহ প্রিন্সের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার নির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

ঢাকা মহানগর উত্তর

আমানউল্লাহ আমানকে আহ্বায়ক এবং আমিনুল হককে সদস্যসচিব করে বিএনপি-ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার ৪৭ সদস্যবিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ ছাড়া কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে আব্দুল আলী নকি (গুলশান), যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার (তেজগাঁও), যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুল ইসলাম মতিন (মোহাম্মদপুর), যুগ্ম আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন (বিমানবন্দর), যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টি, যুগ্ম আহ্বায়ক এ জি এম শামসুল হক (বাড্ডা), যুগ্ম আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন মতি (কাফরুল), যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান (ভাটারা), যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তার হোসেন (খিলক্ষেত), যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা (তুরাগ) এবং সদস্য হিসেবে ৩৫ জনের নাম ঘোষণা করা হয়।

ঢাক মহানগর দক্ষিণ

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আবদুস সালামকে আহ্বায়ক এবং রফিকুল আলম মজনুকে সদস্যসচিব করে বিএনপি-ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার ৪৯ সদস্যবিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ ছাড়া কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে নবী উল্ল্যাহ নবী (যাত্রাবাড়ী), যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস মৃধা (খিলগাঁও), যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মোহন (কোতোয়ালি), যুগ্ম আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন খোকন (লালবাগ), যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সাত্তার (সূত্রাপুর), যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ (কলাবাগান), যুগ্ম আহ্বায়ক আ ন ম সাইফুল ইসলাম (শ্যামপুর), যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন উর রশিদ হারুন (মতিঝিল), যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর আহমেদ রবিন (কদমতলী), যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদ স্বেচ্ছাসেবক দল, যুগ্ম আহ্বায়ক এস কে সেকেন্দার কাদির (পল্টন), যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন (কামরাঙ্গীরচর), সদস্যসচিব রফিকুল আলম মজনু (শান্তিনগর) এবং সদস্য হিসেবে ৩৪ জনের নাম ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন:
‘এহন কি চুরি ডাহাতি করমু’
রিকশা টানার শক্তি ছিল না: রিকশা গার্ল
শাহিনের ঝলমলে অটোরিকশায় টিভি, ফ্যান, ফিল্টার

শেয়ার করুন

ঈর্ষান্বিত হয়েই বিএনপির মিথ্যাচার: হানিফ

ঈর্ষান্বিত হয়েই বিএনপির মিথ্যাচার: হানিফ

সোমবার সকালে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল কলেজ প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে উপহারসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মাহবুব-উল-আলম হানিফ। ছবি: নিউজবাংলা

‘বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল একটা ভালো কাজ করেছে এমনটা তারা আজ দেখাতে পারে না। বিএনপি ঈর্ষান্বিত হয়ে মিথ্যাচারে ব্যস্ত। বিএনপির প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা বর্তমান সরকারকে সহায়তা না করেন, অন্তত নির্লজ্জ মিথ্যাচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন না।’

বিএনপি নেতারা ঈর্ষান্বিত হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ।

সোমবার সকালে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল কলেজ প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে উপহারসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ‘বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল একটা ভালো কাজ করেছে এমনটা তারা আজ দেখাতে পারে না। বিএনপি ঈর্ষান্বিত হয়ে মিথ্যাচারে ব্যস্ত। বিএনপির প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা বর্তমান সরকারকে সহায়তা না করেন, অন্তত নির্লজ্জ মিথ্যাচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন না।’

‘এই করোনার দুর্যোগের সময়ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে যাচ্ছেন। বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল সাহেব সুযোগ পেলেই মিথ্যাচার করেন। এই করোনার সময়ও তারা জাতিকে বিভ্রান্ত করছেন, মিথ্যাচার করছেন।’

তিনি বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আমরা ৮০ ভাগ জনগণকে যেন ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে পারি সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যেন এক কোটি মানুষকে টিকা দিতে পারি, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।’

‘তারা (বিএনপি) বলেন, এক সপ্তাহে কি এক কোটি লোককে টিকা দেয়া যায়? আমাদের টিকা মজুত আছে এবং এক সপ্তাহে প্রতিটি ইউনিয়নে পাঁচ হাজার জনকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে এক কোটিরও বেশি ব্যক্তি টিকার আওতায় আসবেন।’

আওয়ামী লীগ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মির্জা ফখরুলরা সরকারের কোনো উন্নয়ন দেখেন না। ঢাকায় মেট্রোরেল চালু হচ্ছে, পায়রা বন্দর হচ্ছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ৪ হাজার মেগাওয়াট থেকে ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে, কর্ণফুলী টানেল হচ্ছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে, অজস্র উন্নয়ন হচ্ছে। এগুলোর কোনোটাই বিএনপির চোখে পড়ে না।’

ঈর্ষান্বিত হয়েই বিএনপির মিথ্যাচার: হানিফ
সোমবার সকালে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল কলেজ প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে উপহারসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি বলেন, ‘করোনা একটি ভয়াবহ রোগ। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বারবার দেশবাসীর কাছে অনুরোধ করেছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলার জন্য, যথাযথভাবে মাস্ক পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য, ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য।’

‘আমরা এখনও বলছি লকডাউন করোনার সংক্রমণ রোধের একমাত্র উপায় নয়। করোনা সংক্রমণ রোধ করতে হলে ভ্যাকসিন নিতে হবে, তবেই শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে। সবাইকে মাস্ক পরতে হবে এবং হাত পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে হাতের মাধ্যমে নাকে, চোখে-মুখে ভাইরাস প্রবেশ করতে না পারে। আমরা সবাই সচেতন হিসেবে ঘরের বাইরে যখন যাব তখন অবশ্যই মাস্ক পরব। এতে আমরা নিরাপদ থাকতে পারব, অন্যকেও নিরাপদ রাখতে পারব।’

দুর্যোগে একমাত্র আওয়ামী লীগই সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। হানিফ বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একমাত্র দল যারা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদেশের যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমাদের এই ত্রাণ কার্যক্রম চলবে।’

‘যারা বিত্তবান আছেন তাদের প্রতি আমি আগেও আহ্বান জানিয়েছি, আজও আহ্বান জানাচ্ছি, অসহায় মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। পাশাপাশি যে যার জায়গা থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেয়ে ভালো কোনো কাজ হতে পারে না।’

আরও পড়ুন:
‘এহন কি চুরি ডাহাতি করমু’
রিকশা টানার শক্তি ছিল না: রিকশা গার্ল
শাহিনের ঝলমলে অটোরিকশায় টিভি, ফ্যান, ফিল্টার

শেয়ার করুন

করোনায় মৃত্যু লাখের নিচে কিছুতেই নয়: ফখরুল

করোনায় মৃত্যু লাখের নিচে কিছুতেই নয়: ফখরুল

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে করোনায় মৃত্যু হওয়া একজনের লাশ নিয়ে স্বজনদের অপেক্ষা। ফাইল ছবি

‘পত্রিকাতেই আছে বাড়িতে মৃত্যুর সংখ্যা হচ্ছে ৬৫ ভাগ। তাহলে চিন্তা করেন। এই ২০ হাজার ৯১৪ জনের সঙ্গে ৬৫ ভাগ যোগ করেন। তাহলে এই সংখ্যা একলাখের নিচে কখনই না।’

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর যে সংখ্যা সরকার প্রকাশ করে, তা সত্য নয় বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার দাবি, এই রোগে মারা গেছে এক লাখের বেশি।

সোমবার সকালে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন।

সরকারের প্রকাশ করা তথ্যে প্রকৃত সত্য উঠে আসছে না অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘তারা যে তথ্যগুলো দেয়, সেটা শুধুমাত্র তাদের ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য, জনগণকে বিভ্রান্ত করা জন্য, প্রতারণা করার জন্য তারা এই তথ্যগুলো জনগনের সামনে দেয়।’

সরকারি হিসেবে ১ আগস্ট পর্যন্ত দেশে করোনায় মারা গেছে ২০ হাজার ৯১৬ জন। আর ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ১২ লাখ ৬৪ হাজার ৩২৮ জনের শরীরে।

করোনার সংক্রমণ আরও বেশি হয়েছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘এটা একদম ডাহা মিথ্যা কথা। মানুষজন টেস্টই তো করতে পারছেন না। তারা উপজেলা পর্যায়ে টেস্ট দেন না। জেলা পর্যায়ে টেস্ট দেয়, সেখানে গিয়েও মানুষ টেস্ট করতে পারে না। ঢাকায় যে পরীক্ষার কেন্দ্রগুলো আছে সেখানেও দুই ঘণ্টা টেস্ট করা হয়, বাকি আর হয় না। এখানেই কিন্তু স্ক্রিন আউট করে দিচ্ছে।’

মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘পত্রিকাতেই আছে বাড়িতে মৃত্যুর সংখ্যা হচ্ছে ৬৫ ভাগ। তাহলে চিন্তা করেন। এই ২০ হাজার ৯১৪ জনের সঙ্গে ৬৫ ভাগ যোগ করেন। তাহলে এই সংখ্যা একলাখের নিচে কখনই না।’

তিনি বলেন, ‘আজকের একটি পত্রিকায় হেডিং হচ্ছে- করোনা নিয়ে সরকারের নানা অসঙ্গতি। এই কথাটা আমরা বার বার বলে আসছি। ইফ ইউ ডোন্ট গ্যাট দেট এক্সজেট ডেটা- আপনি সমাধান করবেন কী করে?

‘সুতরাং আপনি প্রথমেই ভুল করছেন এবং সেটা জেনেশুনে ভুল করছেন। আজকে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার এতো বড় একটা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এটা কোনো দায়িত্বশীল সরকার করতে পারে না।’

করোনায় মৃত্যু লাখের নিচে কিছুতেই নয়: ফখরুল
ভার্চুয়াল এক আয়োজনে বক্তব্য রাখছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘সিলেটে তারা বলেছে যে, চারটা হাসপাতালে সরকারি হিসাব ১৩৬ জন চিকিৎসাধীন ছিল গতকাল পর্যন্ত। প্রকৃত পক্ষে সেখানে চিকিৎসাধীন আছে ৪৩৬ জন। তিনশ রোগী নাই-গায়েব।

‘এখন গায়েবি মামলার মতো গায়েবি বেড, গায়েবি সংখ্যা, গায়েবি রোগী উড়ে যাচ্ছে, চলে যাচ্ছে। হাসপাতালও উধাও হয়ে গেছে।

‘মানুষের মারা যাওয়ার সময়ে যখন সে চায় যে, সরকার তার পাশে দাঁড়াবে, তখন সে চায় তার অন্তত চিকিৎসা হবে। কিন্তু অক্সিজেনের জন্য মানুষ হাহাকার করছে, সেই অক্সিজেন নেই।’

‘আইসিইউ বেড নিয়েও মিথ্যা তথ্য’

করোনা চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত কয়েকটি হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা না থাকলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভুল তথ্য দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘ভোলা, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, জামালপুর- এই পাঁচ জেলায় করোনা ২০টি আইসিইউ রয়েছে বলে জানানো হচ্ছে। কিন্তু আসলে এগুলোতে কোনো আইসিইউ নাই। মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে।

গণপরিবহন ছাড়া শ্রমিক আনার সমালোচনা

শনিবার বাস, লঞ্চ বন্ধ রেখে পোশাক শ্রমিকদের ঢাকায় আসতে বলারও তীব্র সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব। বলেন, ‘হঠাৎ করেই এক তারিখ থেকে কলকারখানা সরকার খুলে দিল, যানবাহন খুলল না। ফলে মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। হেঁটে, রিকশায়, যে যেভাবে পারে কাজে যোগ দিতে ঢাকায় এসেছে।

‘এর পরে তাদের বোধদয় হয়েছে যে, রাত্রিতে বলল, গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত গণপরিবহন খোলা থাকবে। তালগোল হেরে যায়। আমি এ জন্য বলেছিলাম যে, আমার কাছে মনে হয় যারা এসব সিদ্ধান্ত দেন তারা সব পাবনা হেমায়েতপুর থেকে এসেছেন।’

তিনি বলেন, ‘এটা তাদের সিদ্ধান্তহীনতা নয়, এটা পরিকল্পিত। তারা তো বলেই যে, বাংলাদেশে ৫ লক্ষ লোক ১০ লক্ষ লোক মরে গেলে কী হবে। এতো দেশের মানুষ। এই হচ্ছে এই সরকার। যাদের জনগণের প্রতি কোনো দায়িত্ব নেই, যারা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে রাজনৈতিকভাবে। এখন তারা মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।’

‘তারা ছিনিমিনি খেলছে’

‘সরকার করোনা মোকাবিলা করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং জনগণের জীবন নিয়ে তারা ছিনিমিনি খেলছে’-এমন মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকে বলছি যে, এটা যেহেতু বৈশ্বিক মহামারি এবং ভয়াবহ একটি বিষয়, এটাকে মোকাবিলা করতে হবে সকলকে সঙ্গে নিয়ে।

করোনায় মৃত্যু লাখের নিচে কিছুতেই নয়: ফখরুল
করোনায় মারা যাওয়া একজনের মরদেহ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফাইল ছবি

‘আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম একটা জাতীয় কমিটি গঠন করে জাতীয় বিশেষজ্ঞসহ সমস্ত জনগণকে সম্পৃক্ত করে এই করোনা মহামারিকে মোকাবিলা করবার জন্য।

‘দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা দেখেছি, যে কোনো দুর্যোগ অথবা যে কোনো মহামারি পুরোটাই হয়ত নির্মূল করা যায় না, কোনোটারই সমাধান করা যায় না। কিন্তু এটা অনেক সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে করা যায় যদি দেশের মানুষকে আমরা সম্পৃক্ত করতে পারি।

‘আজকে যদি রাজনৈতিক দলগুলো সম্পৃক্ত হতো, আজকে যদি সমস্ত এনজিওগুলো সম্পৃক্ত হতো, আজকে যদি স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনগুলো সম্পৃক্ত হতে পারত, তাহলে দেখা যেত যে, আজকে এই পরিস্থিতি এতো মারাত্মক আকার ধারণ করতো না।’

করোনাকালে কেনাটাকায় দুর্নীতির অভিযোগ এন ফখরুল বলেন, ‘তিনশ টাকার জিনিস তারা ৩ হাজার টাকায় নেয়, পাঁচশ টাকার জিনিস তারা ৫০ হাজার টাকায় নেয়। আমরা দেখেছি যে, এখন পর্যন্ত যতগুলো তথ্য আমাদের কাছে এসছে, পত্র-পত্রিকায় বেরিয়ে এসছে যে, এই করোনাকালে দুর্নীতি করে তাদের (স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের) ড্রাইভার পর্যন্ত ৪/৫ কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে।'

আরও পড়ুন:
‘এহন কি চুরি ডাহাতি করমু’
রিকশা টানার শক্তি ছিল না: রিকশা গার্ল
শাহিনের ঝলমলে অটোরিকশায় টিভি, ফ্যান, ফিল্টার

শেয়ার করুন

রপ্তানি আদেশ বাতিল ঠেকাতেই খোলা গার্মেন্টস

রপ্তানি আদেশ বাতিল ঠেকাতেই খোলা গার্মেন্টস

ঈদের পর চালু হওয়া নারায়ণগঞ্জের একটি কারখানায় যাচ্ছেন শ্রমিকরা। ছবি: নিউজবাংলা

সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে কাদের বলেন, ‘ইতিমধ্যেই বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ থেকে ভিয়েতনাম এগিয়ে গেছে। করোনাকালে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় পোশাক রপ্তানি কমেছে। এই প্রেক্ষাপটে রপ্তানি আদেশসমূহ কোনোভাবে বাতিল হোক তা সরকার চায় না। জীবন ও জীবিকার সাথে সমন্বয় করে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরকার সচেষ্ট।’

রপ্তানি আদেশ বাতিল ঠেকাতেই সরকার গার্মেন্টস খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

নিজ বাসভবনে সোমবার সকালে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

কাদের বলেন, ‘ইতিমধ্যেই বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ থেকে ভিয়েতনাম এগিয়ে গেছে। করোনাকালে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় পোশাক রপ্তানি কমেছে। এই প্রেক্ষাপটে রপ্তানি আদেশসমূহ কোনোভাবে বাতিল হোক তা সরকার চায় না। জীবন ও জীবিকার সাথে সমন্বয় করে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরকার সচেষ্ট।

‘দেশের ভবিষ্যৎ এবং কল্যাণ চিন্তা করেই সরকার বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।’

ওই সময় গার্মেন্টস খোলার বিরোধিতা করে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের সমালোচনাও করেন কাদের।

তিনি বলেন, ‘ফখরুল সাহেব একদিকে শ্রমিকদের স্বার্থ নিয়ে কথা বলেন, অপরদিকে গার্মেন্টস খুলে দিলেও আবার বিরোধিতা করেন।’

গত ১ জুলাই থেকে চলমান শাটডাউনের মধ্যে ঈদের ছুটির সময় ৮ দিনের জন্য শিথিল করার সময়ই ঘোষণা আসে, ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে কলকারখানাও।

ঈদের পাশাপাশি শাটডাউনের কারণে দীর্ঘ ছুটি পাওয়া যাবে বলে শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের পথ ধরেন। ঈদের ছুটি শেষে কারখানা খুলে দিতে মালিকপক্ষের আবেদন নাকচ করে গত মঙ্গলবারও জানানো হয়, ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত সবকিছু বন্ধ থাকবে।

শুক্রবার রাতে হঠাৎ করেই আদেশ আসে, রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা ১ আগস্ট থেকে চালু থাকবে। এ খবর শুনে লাখ লাখ শ্রমিক শনিবার ট্রাকে-ভ্যানে চেপে পণ্য হয়ে ফিরেছেন।

কেউ কেউ ফিরেছেন স্বল্পগতির যানবাহনে ভেঙে ভেঙে, কেউ ফিরেছেন হেঁটে।

ফেরি পারাপারে যে চিত্র দেখা গেছে, তা করোনাকালে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। হাজার হাজার শ্রমিক গাদাগাদি করে উঠেছেন ফেরিতে। আর এ-সংক্রান্ত ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি তীব্র সমালোচনা করছেন অনেকে।

শ্রমিকদের এভাবে ফেরার ঘটনায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীরা দায় দিচ্ছেন পোশাক ব্যবসায়ীদের। আর ব্যবসায়ীরা দায় দিচ্ছেন শ্রমিকদের।

ব্রিফিংয়ে বিএনপিকে সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপ্রসূত মিথ্যাচার বাদ দিয়ে করোনায় অসহায় ও আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মাঠে থেকে জনমানুষের পাশে রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি গৃহকোণে অবস্থান করছে।

‘করোনা সংকটে সরকার নাকি কিছুই করছে না, বিএনপিই নাকি জনগণের সাথে রয়েছে। বিএনপি মহাসচিবের এসব বক্তব্য আজগুবি এবং কাল্পনিক। এটা তাদের অক্ষমতা আর ব্যর্থতা আড়াল করার অপপ্রয়াস।’

রপ্তানি আদেশ বাতিল ঠেকাতেই খোলা গার্মেন্টস

কাদের বলেন, ‘বিএনপি করোনা সংকটে জনগণের পাশে আছে, এ কথা পাগলেও বিশ্বাস করে না। বিএনপি গৃহকোণে আইসোলেশনে থেকে গোয়েবলসীয় কায়দায় বাক্য চর্চা করছে। সংকট দেখলে বিএনপি নেতারা শামুকের মতো খোলসের আড়ালে গুটিয়ে থাকা আর পলায়নপরতা জনগণের কাছে এখন স্পষ্ট।

‘যারা নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচনের দিন ঘরে বসে থাকে আর আন্দোলনের ডাক দিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে পুলিশের গতিবিধি দেখে, তারা করোনাকালে জনমানুষের সাথে রয়েছে, এ কথা এখন কেউই বিশ্বাস করে না।’

বিএনপির সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘সরকার নাকি করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে লুকোচুরি করছে। বিএনপি নেতাদের এই অভিযোগ হাস্যকর। করোনার নমুনা পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন, ফলাফলসহ প্রতিটি বিষয়ে প্রযুক্তির সহায়তায় এবং বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে, এখানে তথ্য লুকানোর কোনো সুযোগ নেই।

‘এসব তথ্য লুকিয়ে সরকারের কী লাভ?’

করোনা টিকা নিয়ে ‘মিথ্যাচার’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, ‘এ করোনাকালে বিএনপিকে হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। তারা করোনা সংকটকে দেখছে চোখ বন্ধ করে অন্ধের হাতি দেখার মতো করে।

‘ভ্যাকসিন নিয়ে বর্তমানে কোনো সংকট নেই। অথচ একটি মহল ভ্যাকসিনসংকট আছে বলে আতঙ্ক তৈরির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। এই স্বার্থান্বেষী মহল সংকটে মানুষের মনোবল ভেঙে দেয়ার অপচেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী একদিকে টিকাদান কার্যক্রম চলতে থাকবে, অন্যদিকে ভ্যাকসিন আসাও অব্যাহত থাকবে। একসাথে কয়েক কোটি ভ্যাকসিন জমিয়ে রেখে কার্যক্রম শুরু করার কথা যারা ভাবছেন, তারা সঠিক বলছেন না।

‘ভ্যাকসিন একদিকে আসতে থাকবে, পাশাপাশি ভ্যাকসিন প্রদানের কর্মসূচিও চলতে থাকবে। এ নিয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই। আগামী সাত আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী গ্রাম পর্যায়ে গণটিকাদান কার্যক্রম। এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যে সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।’

আরও পড়ুন:
‘এহন কি চুরি ডাহাতি করমু’
রিকশা টানার শক্তি ছিল না: রিকশা গার্ল
শাহিনের ঝলমলে অটোরিকশায় টিভি, ফ্যান, ফিল্টার

শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের নাম ভাঙানো ‘দরজি মনির’ আটক

আওয়ামী লীগের নাম ভাঙানো ‘দরজি মনির’ আটক

‘বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মনির খান। ছবি: সংগৃহীত

রোববার রাতে তাকে আটকের বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশীদ। তিনি বলেন, ‘তাকে আমরা আটক করে নিয়ে এসেছি। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’

আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে ‘বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদ’ নামে আরেকটি ভুঁইফোঁড় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মনির খানকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রোববার রাতে তাকে আটকের বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশীদ। তিনি বলেন, ‘তাকে আমরা আটক করে নিয়ে এসেছি। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ক্ষমতাসীন দলটির অনেক নেতার সঙ্গেই তার ‘ওঠা-বসার’ ছবি আছে। অভিযোগ আছে, এর সব ছবিই ফটোশপে কারসাজি করা। তিনি ভুঁইফোঁড় সংগঠনটি খুলে বিএনপি-জামায়াত এবং তাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের অনেক নেতাকে টাকার বিনিময়ে পদ দিয়েছেন।

এ ছাড়া মনির জমির দালালি এবং তদবির-বাণিজ্য করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ আছে। তার চেষ্টা এখন কেরানীগঞ্জ ও সাভারের অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত ঢাকা-২ আসনের এমপি হওয়া।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, ‘বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদ’-এর মতো সংগঠনের সঙ্গে দলটির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যারা এ ধরনের ভুঁইফোঁড় সংগঠন চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মনির খান প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ছবি কারসাজি করেছেন।

আওয়ামী লীগ এবং দলটির সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা জানান, বছর ১৫ আগে রাজধানীর গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ের উল্টো পাশের একটি কাপড়ের দোকানে দরজির কাজ করতেন এই মনির খান। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দলটির রাজনীতিতে সক্রিয় হতে শুরু করেন তিনি। মুজিব কোট পরে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে যোগ দিতে থাকেন। তবে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ের চেয়ে তাকে বেশি দেখা যেত ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে। কারণ, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়েই একসময় দরজির কাজ করতেন মনির খান।

চাকরিজীবী লীগ নামে একটি ভুঁইফোঁড় সংগঠনের জন্ম দিয়ে আলোচনায় আসা হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গত ২৯ জুলাই রাতে আটকের পরপরই আলোচনা শুরু হয় এই মনির খানকে নিয়ে। আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সরব হন তার বিরুদ্ধে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

আরও পড়ুন:
‘এহন কি চুরি ডাহাতি করমু’
রিকশা টানার শক্তি ছিল না: রিকশা গার্ল
শাহিনের ঝলমলে অটোরিকশায় টিভি, ফ্যান, ফিল্টার

শেয়ার করুন