‘নেতাকর্মীরাই দলকে মজবুত ভিত্তি দিয়েছে’

‘নেতাকর্মীরাই দলকে মজবুত ভিত্তি দিয়েছে’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দলটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল অসাম্প্রদায়িকতা ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন, রাষ্ট্র পরিচালনায় জনমতের প্রতিফলন নিশ্চিত করা, বিশ্বের মুসলমানদের সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব জোরদার এবং বিশ্ব শান্তির পথকে প্রশস্ত করা।

জাতির পিতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শত প্রতিকূলতার পরেও দলকে মজবুত ভিত্তিতে দাঁড় করিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে আমাদের সকল নেতাকর্মী ও সমর্থকরা শত প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে আজ অত্যন্ত মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছে।

‘আওয়ামী লীগের লক্ষ্যই হলো দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ এবং বাঙালিদের বিশ্বের বুকে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। আমার দৃঢ় বিশ্বাস দলের মধ্যে শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো ও গণতন্ত্রের চর্চা অটুট থাকলে কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না।’

এ সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে দলের নেতাকর্মীদের আহ্বানও জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বাণীতে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার ঘটনাক্রম তুলে ধরেন সরকার প্রধান।

তিনি বলেন, ‘পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে বাঙালির মুক্তি এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকার রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩-২৪ শে জুন এক সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

‘দলটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল অসাম্প্রদায়িকতা ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন, রাষ্ট্র পরিচালনায় জনমতের প্রতিফলন নিশ্চিত করা, বিশ্বের মুসলমানদের সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব জোরদার এবং বিশ্ব শান্তির পথকে প্রশস্ত করা।

‘কারাবন্দি অবস্থায় তরুণ ছাত্রনেতা শেখ মুজিব নবগঠিত সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং সাংগঠনিক তৎপরতার জন্য ১৯৫৩ সালের নভেম্বরে দ্বিতীয় সম্মেলনেই তাকে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।’

বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগের ভূমিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই ৬২-এর ছাত্র আন্দোলন, ৬৪-এর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধ, ৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি মুক্তির সনদ রচনা এবং ৬৯-এর গণআন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরশাসন অবসানের প্রতিশ্রুতি অর্জন দলটিকে মুক্তিকামী মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত করে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শেখ মুজিবের নেতৃত্বের জন্য আওয়ামী লীগকে ৭০-এর নির্বাচনে পূর্ব-বাংলার মানুষ তাদের মুক্তির ম্যান্ডেট দিয়েছিল। জাতীয় এবং প্রাদেশিক পরিষদে দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক জান্তা জনগণের এ রায়কে উপেক্ষা করে, শুরু করে প্রহসন। ১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সকল সংসদ সদস্য ছয় দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র প্রণয়নের শপথ গ্রহণ করেন।’

তিনি বলেন, ‘২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি নিধন শুরু করে। বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এর পরপরই জান্তা সরকার জাতির পিতাকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানের নির্জন কারাগারে প্রেরণ করে।

‘তিনি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণশক্তি। তার অবিচল নেতৃত্বে বাঙালি জাতি মরণপণ যুদ্ধ চালিয়ে যায়।’

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। ১২ জানুয়ারি তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন। ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধানে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর করেন।

‘১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে পুনরায় সরকার গঠন করে। জাতির পিতার আহ্বানে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বন্ধু দেশসমূহ দ্রুত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। অতি অল্পদিনের মধ্যেই বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় এবং মাত্র সাড়ে তিন বছরেই স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী চক্র আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ গ্রহণ করে। বিদেশে থাকায় আমি এবং আমার বোন শেখ রেহানা প্রাণে বেঁচে যাই।

‘২৬ সেপ্টেম্বর দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারি করে এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করে। ৩ নভেম্বর কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে। মোস্তাক-জিয়া চক্র খুনিদের বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করে ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। তারা মার্শাল ল জারির মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করে পাকিস্তানি কায়দায় দেশ শাসন করতে থাকে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিদেশে থাকা অবস্থায় ৮১ সালের ১৩-১৫ ফেব্রুয়ারি সম্মেলনে আমাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করে। প্রায় ছয় বছর রিফিউজি জীবন শেষে ৮১ সালের ১৭ মে আমি দেশে ফিরে এসে দলের দায়িত্বভার গ্রহণ করি।

‘সারা দেশে প্রান্তিক মানুষের দুঃখ-দুর্দশা চিত্র স্বচক্ষে অবলোকন করি এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন সংগঠিত করি। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে স্বৈরাচারী ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে পরাজিত করে সরকার গঠন করে। একই বছরে ১২ নভেম্বর ‘দায়মুক্ত অধ্যাদেশ বাতিল আইন-১৯৯৬’ সংসদে পাশ করে। এর মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরু হয়।’

দেশ গঠনে আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গত সাড়ে বারো বছরে আমরা উন্নয়নের সকল সূচকে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছি। অর্থনৈতিক অগ্রগতির মানদণ্ডে বিশ্বের প্রথম পাঁচটি দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছি। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।

‘আমরা দারিদ্র্যের হার ২০.৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে এনেছি। মাথাপিছু আয় ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলারে উন্নীত করেছি। আমাদের মানুষের গড় আয়ু ৭৩ বছর। ৯৯ শতাংশ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিচ্ছি। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও এক্সপ্রেসওয়ে এবং কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সড়ক, রেল, বিমান ও নৌ ও সমুদ্র যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক করেছি। দেশকে আমরা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এ রূপান্তরিত করেছি। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ কোটি ছাড়িয়েছে।

‘বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশিতে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করেছি। রূপকল্প-২০২১ এর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করেছি।’

সরকারে ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মুজিববর্ষে আমরা অঙ্গীকার করেছি কেউ গৃহহীন থাকবে না। শহরের সকল সুযোগ-সুবিধা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও পৌঁছে দেব। আমরা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করে যাচ্ছি।

‘২০৩০ সালের মধ্যে ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট’ অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দ্বিতীয় পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি। বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ গ্রহণ করেছি।’

আরও পড়ুন:
৭২ পেরিয়েও দাপুটে আওয়ামী লীগ
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আ. লীগের সীমিত আয়োজন
আওয়ামী লীগের সামনে দুই চ্যালেঞ্জ
ঢাকার সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটাতে চায় আ. লীগ
সীমিত পরিসরে ২৩ জুন উদযাপন করবে আওয়ামী লীগ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ‘কটূক্তি’, বেকায়দায় মেয়র জাহাঙ্গীর

বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ‘কটূক্তি’, বেকায়দায় মেয়র জাহাঙ্গীর

মেয়র জাহাঙ্গীরের ভিডিওর প্রতিবাদে টঙ্গীতে তার কুশপুতুল পোড়ানো হয়। ছবি: নিউজবাংলা

চার মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, হেফাজতের প্রয়াত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গে তার সখ্য ও রাষ্ট্রীয় দুটি সংস্থা নিয়ে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করছেন মেয়র জাহাঙ্গীর। তবে এই জনপ্রতিনিধির দাবি, এই ভিডিও এডিট করা। তিনি এখন দেশের বাইরে আছেন, ফিরে মামলা করবেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে।

একটি ঘরোয়া আয়োজনে এই কটূক্তির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

এই ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, মেয়র মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন, বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীন করার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

তবে মেয়রের দাবি, ভিডিও কারসাজি করা। যেসব কথা শোনা যাচ্ছে, সেগুলো সুপার এডিট করা। তিনি এখন দেশের বাইরে আছেন, ফিরেই মামলা করবেন।

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া চার মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, হেফাজতের প্রয়াত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গে তার সখ্য ও রাষ্ট্রীয় দুটি সংস্থা নিয়ে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করছেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফেসবুকে মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তুলছেন। বুধবার সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনও হয়েছে।

মেয়রের মন্তব্যে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও পড়েছেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। তবে মেয়রের অনুসারীরা বলছেন, গত তিন বছরে গাজীপুরে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল মেয়রকে বিতর্কিত করতে এমন বক্তব্য প্রচার করছে।

ভিডিওতে যা দেখা যায়, যা শোনা যায়

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির প্রথম দিকে মেয়র জাহাঙ্গীরকে নীল রঙের জামা পরে চেয়ারে বসে কারও সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।

ভিডিওটির প্রথম দিকে মেয়রকে দেখা গেলে বাকি অংশে শুধু অডিও বক্তব্য শোনা যায়। কিছু কিছু অংশ ছিল অস্পষ্ট।

ভিডিওটি কে বা কারা কবে ধারণ করেছেন, সেটি জানা যায়নি। কারাই বা সেটি ফেসবুকে ছেড়েছে, সেটিও অজানা।

বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ‘কটূক্তি’, বেকায়দায় মেয়র জাহাঙ্গীর
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম

ভিডিওটির শুরুতে মেয়র জাহাঙ্গীরকে মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতে শোনা যায়। তার দাবি, বঙ্গবন্ধু তার স্বার্থে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। পাকিস্তান ভাঙার পেছনে রাষ্ট্রপতি হওয়ার বাসনা কাজ করেছে বলেও মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

তার ধারণা, বাংলাদেশ স্বাধীন না হয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে থাকলে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত জাতি থাকত এখানকার মানুষ।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের প্রসঙ্গে টেনে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি রাসেল সাহেবকে এইখানে নিয়া ফালাইছি। আমি চাইছি রাসেল সাহেব ভুল করুক। আমি ইচ্ছা করেই চাইছি হেও মিছিলটাতে এটেন্ড করুক।’

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজমত উল্লাহ আমারে জীবনে মারার লাইগা লোক কন্টাক্ট করছে, সব করছে। এখন সে আমার কর্মী হইছে। ...আমারে জিগায় কী করছ? আমারে কয়দিন জিগাইছে কী করো, কেমনে সম্ভব? হেও সব জানে না! আমি তো খেলা জিতছি।’

জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি মন্ত্রীরে নিয়া মাথা ঘামাই না। জাহিদ আহসান রাসেল আছে না? তারে নিয়া আমি এক মিনিটও চিন্তা করি না। খালি জাস্ট শুইনা রাখো, বিশ্বাস করার দরকার নাই। আমি চিন্তা করলাম সে তো মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠই। দরকারটা কী আমার এখানে, পরিবর্তনে কী হইব? এখানে পরিবর্তনের লাভ টা কার?’

গত তিন বছরেও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে প্যানেল মেয়র নির্বাচন করা হয়নি। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনাও চলছে। এ বিষয়ে ভিডিওটিতে মেয়রকে বলতে শোনা যায়, ‘প্যানেল মেয়র দেই না। দিলে কী হইব? আমারে কি কাউন্সিলররা মেয়র বানাইছে? আমার কি মেয়রগিরি যাইবগা? যেমন আমি এখানে প্যানেল মেয়র করি নাই। রাসেল এমপি অনেকরে মেয়র বানাইয়া দিতেছে, অনেকরে কাউন্সিলর বানাইয়া দিতেছে। প্রধানমন্ত্রী আরেকজনরে ভারপ্রাপ্ত দিব?’

বাংলাদেশের দুটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্তাব্যক্তি তার নিকটাত্মীয় উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘বাতাসটা আমার কাছে বইলা যায়।’

বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি এমনকি হেফাজতের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলার কথাও বলেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

তিনি বলেন, ‘আমি জামায়াতের সাথে চলি না? বিএনপির সাথে চলি না? অন্য পার্টি আছে না সবার সাথেই তো কথা বলি। এই যে আমার সাথে ঘণ্টা তিনেক আগেও বাবুনগরী (হেফাজতের প্রয়াত আমির) প্রায় ৪৭ মিনিট কথা বলছে। সে আসতে চায়। আমি কথা বলছি না?

‘ধীরাশ্রম, ঝাঝর, চান্দরা আছে ৮/১০ বিঘা, দিঘিরচালা আছে ১৬ বিঘা, তেলিপাড়াও আছে। আমার এখানে সাড়ে তিন শ বিঘা জমি আছে। এই নির্বাচনের সময়েও দশ হাজার কোটি টাকা আনছি।’

নিউজবাংলাকে মেয়র যা বলেছেন

বিদেশে অবস্থানকারী মেয়রের সঙ্গে নিউজবাংলার কথা হয়েছে মোবাইল ফোনে। তিনি এই ভিডিও সম্পর্কে কিছু না জানার দাবি করেন।

বিষয়বস্তু জানানো হলে তিনি বলেন, ‘এগুলো সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। ভিডিওটি কারা বানাইল, কারা ইডিট করল, কিছুই জানি না। আমার প্রত্যেকটি কথা জোড়া দেয়া। আমার কথা কেটে কেটে বিকৃতভাবে প্রকাশ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি যখন ভাওয়াল কলেজের ভিপি নির্বাচন করেছি, তখন থেকেই একটা মহল আমার বিরোধিতা করেছে। সেই বিরোধীরা উপজেলা নির্বাচন, সিটি করপোরশেন নির্বাচনসহ আজও সক্রিয়। আমি দেশে ফিরে মামলা করব।’

আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের প্রতিবাদ

মেয়র জাহাঙ্গীরের ভিডিওটি প্রকাশের পর প্রতিবাদ জানাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরাই।

বুধবার সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে কাজী আজিমউদ্দিন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যুবলীগ নেতা নাহিদ মোড়লের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন হয়। পরে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি দেয় বিক্ষোভকারীরা।

বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ‘কটূক্তি’, বেকায়দায় মেয়র জাহাঙ্গীর

বিকেল সাড়ে ৫টায় টঙ্গীর স্টেশন রোড এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েক শ নেতা-কর্মী।

বিকেলে নগরীর গাছা থানাধীন বোর্ডবাজার এলাকায় ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন মণ্ডলের নেতৃত্বে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মিছিল বের হয়। এ সময় ঝাড়ু হাতে নিয়ে মিছিলে যোগ দেন শতাধিক নারী।

রাতে টঙ্গীতে আরেকটি মিছিল থেকে জাহাঙ্গীরের কুশপুতুল পোড়ানো হয়।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে অশালীন ও ক্ষমার অযোগ্য বক্তব্য রেখেছে সে। আমাদের রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তার এই বক্তব্য। একটা দায়িত্বশীল পদে থেকে ত্রিশ লক্ষ শহীদদের অবমাননা করে কথা বলা, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করা, এটা নিশ্চয়ই কোনো মানবিক পর্যায়ে পড়ে না। এটা একটি নিন্দনীয় কাজ, তাই সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ করছে।‘

তিনি বলেন, ‘সে সবাইকে নিয়েই এমন বাজে মন্তব্য করে। আমরা অনেক কিছুই আগে শুনেছি, কিছু বলিনি। কিন্তু আজকে রাষ্ট্র এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যেটা বলেছে, এটা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। আওয়ামী লীগের চরম শত্রুও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এমন অসৌজন্যমূলক ও অপমানজনক মন্তব্য করেনি।

‘সে (জাহাঙ্গীর) দেশের বাইরে আছে। আমরা বসব এটা নিয়ে। তারপর দলগতভাবে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হব।’

বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে বলেও জানান আজমত উল্লাহ খান।

ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়রকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য সময়ও বেঁধে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

গাজীপুর মহানগর তাঁতী লীগের সভাপতি শাহ আলম মঙ্গলবার তার ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র বঙ্গবন্ধুকে স্বার্থপর সুবিধাবাদী বলায় আমি প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

টঙ্গী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী মঞ্জুর বুধবার দুপুরে তার ফেসবুকে লেখেন, ‘ভয়েস ক্লিপ নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে মেয়র সাহেবের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য দিয়ে এটা সংযোজিত প্রমাণ করা, নয়তো উক্ত বক্তব্যের জন্য গাজীপুরবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার অনুরোধ জানাচ্ছি। নয়তো টঙ্গী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।’

টঙ্গী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ শামীম লেখেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তিকারীকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে অবিলম্বে বহিষ্কার চাই।’

অন্যদিকে মেয়রের বক্তব্যকে সুপার এডিটিং দাবি করে মেয়র অনুসারীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করছেন।

শেখ রাসেল শিশু-কিশোর পরিষদ গাজীপুর মহানগরের সভাপতি হেলাল উদ্দিন ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে ভিডিওতে ছবি বসিয়ে সুপার ভয়েস এডিটিং করে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়ে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’

গত ২০ সেপ্টেম্বর তিনি ভারত সফরে যান। টিকিট পেলে আজ (বুধবার) রাতেই দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন মেয়র।

আরও পড়ুন:
৭২ পেরিয়েও দাপুটে আওয়ামী লীগ
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আ. লীগের সীমিত আয়োজন
আওয়ামী লীগের সামনে দুই চ্যালেঞ্জ
ঢাকার সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটাতে চায় আ. লীগ
সীমিত পরিসরে ২৩ জুন উদযাপন করবে আওয়ামী লীগ

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার পাওয়ায় ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল

প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার পাওয়ায় ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল। ছবি: নিউজবাংলা

দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পথে কেউ যেন বাধা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান ছাত্রলীগ সভাপতি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার’ প্রদান এবং ‘মুকুট মণি’ হিসেবে আখ্যায়িত করায় আনন্দ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়।

বুধবার বিকেলে রাজু ভাস্কর্যের সামনে মিছিল পরবর্তী সমাবেশে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বের দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল। দারিদ্র্য বিমোচন, সুরক্ষা, শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিতে শেখ হাসিনার মডেল সারা বিশ্বে পরিচিত হয়েছে। তিনি আজ দেশরত্ন থেকে বিশ্বরত্ন হিসেবে পরিচিত লাভ করেছেন।’

আল নাহিয়ান খান বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা এই করোনাকালেও দেশের উন্নয়নকে অব্যাহত রেখে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি নিজের মমতায় মায়ানমার সরকারের অত্যাচারে এদেশে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন। তাদের তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। বিশ্ব নেতারা অবাক দৃষ্টিতে নেত্রীর দিকে তাকিয়ে আছেন। দেশরত্নের নেতৃত্ব থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।’

দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পথে কেউ যেন বাধা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান ছাত্রলীগ সভাপতি।

ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘দারিদ্র বিমোচন, শান্তি রক্ষা, নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং করোনকালে বাংলাদেশের অগ্রগতি ধরে রাখার জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিশেষ পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।’

আনন্দ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দসহ ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের সহস্রাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
৭২ পেরিয়েও দাপুটে আওয়ামী লীগ
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আ. লীগের সীমিত আয়োজন
আওয়ামী লীগের সামনে দুই চ্যালেঞ্জ
ঢাকার সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটাতে চায় আ. লীগ
সীমিত পরিসরে ২৩ জুন উদযাপন করবে আওয়ামী লীগ

শেয়ার করুন

মানুষের ভালো থাকা সহ্য হয় না বিএনপির

মানুষের ভালো থাকা সহ্য হয় না বিএনপির

দেশের মানুষের ভালো থাকা বিএনপির সহ্য হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব কাল্পনিক অভিযোগ করে বলছেন দেশের মানুষ ভালো নেই। আসলে দেশের মানুষ করোনার অভিঘাত মোকাবিলা করে ভালো আছে বলেই বিএনপি নেতাদের কষ্ট হচ্ছে। নেতিবাচক রাজনৈতিক মানসিকতার কারণে বিএনপিই নিজেদের ভালো থাকার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে মিথ্যাচার আর বিষোদগারকে রোজনামচায় পরিণত করার কারণেই দেশের মানুষের ভালো থাকা বিএনপির সহ্য হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ঢাকার সরকারি বাসভবন থেকে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বুধবার এ মন্তব্য করেন কাদের।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব কাল্পনিক অভিযোগ করে বলছেন দেশের মানুষ ভালো নেই। আসলে দেশের মানুষ করোনার অভিঘাত মোকাবিলা করে ভালো আছে বলেই বিএনপি নেতাদের কষ্ট হচ্ছে।’

বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘ক্ষমতার মোহে অন্ধ, যারা মিথ্যাচার করে আর বিষোদগারকে যারা রোজনামচায় পরিণত করেছে, মানুষের ভালো থাকা তাদের পছন্দ না করা এটাই স্বাভাবিক।’

‘নেতিবাচক রাজনৈতিক মানসিকতার কারণে বিএনপিই নিজেদের ভালো থাকার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে’- যোগ করেন তিনি।

মানুষের ভালো থাকা সহ্য হয় না বিএনপির
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

করোনার অভিঘাত মোকাবিলা করে জীবন এখন স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন ‘বিএনপি গৃহকোণে বসে নসিহত করছে। তাদের এমন নেতিবাচক বক্তব্য একদিকে মানুষের এগিয়ে চলার উদ্যমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অপরদিকে নিজেদের হতাশাকে জাতির সামনে স্পষ্ট করে তোলে।’

‘সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ভাঙা রেকর্ড জনগণ গত ১৩ বছর শুনে আসছে’ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ঘরে বসে বিএনপি কৃষক, শ্রমিক আর সাংবাদিকদের জন্য মায়াকান্না দেখায়।’

কৃষক পণ্যের উৎপাদিত মূল্য পাচ্ছে না বলে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ প্রসঙ্গেও কথা বলেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘এদেশে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু যা করেছেন সে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

কৃষিবান্ধব সরকার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উৎপাদন, পণ্যমূল্য, পণ্য বাজারজাতকরণ, উপকরণ সরবরাহ এবং ঋণ ও প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে দেশে এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন বলেও জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির শাসনামলে উৎপাদনের জন্য সার চেয়েও পায়নি কৃষকরা, বরং কৃষকদের বুকে গুলি চালিয়েছিল বিএনপি সরকার। কৃষকরা পায়নি প্রয়োজনীয় সাপোর্ট, ভর্তুকি, অথচ আজ বিএনপি নেতারা কৃষকদের জন্য মেকি দরদ দেখাচ্ছে।’

এসডিজি অগ্রগতি সম্মাননা পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন

২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে নিজেদের অগ্রগতির স্বীকৃতি মিলিছে বাংলাদেশের। এসডিজি অর্জনে ২০১৫ থেকে ২০২০ পর্যন্ত বিভিন্ন সূচকে এগিয়ে থাকায় ‘এসডিজি প্রোগ্রেস অ্যাওয়ার্ড’ পেল বাংলাদেশ।

এসডিজির নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ সম্মাননা গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মানুষের ভালো থাকা সহ্য হয় না বিএনপির
এসডিজির নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘এসডিজি প্রোগ্রেস অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য আওয়ামী লীগসহ দেশের সকল মানুষের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান ওবায়দুল কাদের।

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।

দারিদ্র্য দূরীকরণ, পৃথিবীর সুরক্ষা ও সবার জন্য শান্তি সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেয়ার স্বীকৃতি হিসেবে এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার তাকে দেয়া হয়েছে বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এই অনন্য অর্জন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।’

আরও পড়ুন:
৭২ পেরিয়েও দাপুটে আওয়ামী লীগ
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আ. লীগের সীমিত আয়োজন
আওয়ামী লীগের সামনে দুই চ্যালেঞ্জ
ঢাকার সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটাতে চায় আ. লীগ
সীমিত পরিসরে ২৩ জুন উদযাপন করবে আওয়ামী লীগ

শেয়ার করুন

জাতীয় পার্টির ভবিষ্যত উজ্জ্বল: জি এম কাদের

জাতীয় পার্টির ভবিষ্যত উজ্জ্বল: জি এম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের মানুষ তাদেরই পছন্দ করে যারা শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে পারে। যারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায় তারা মানুষের কাছে ঘৃনিত।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, ‘জাতীয় পার্টি উজ্জ্বল ভবিষ্যত নিয়ে রাজনীতির মাঠে আছে। ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিলো। এক যুগের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে বিএনপিও রাজনীতিতে দিশেহারা। কিন্তু দীর্ঘ ৩১ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে থেকেও জাতীয় পার্টি রাজনীতির মাঠে লড়ছে।’

বুধবার দুপুরে বনানীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় গোলাম মোহাম্মদ কাদের এসব কথা বলেন।

পার্টির উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কারণ জানিয়ে জি এম কাদের বলেন, ‘জাতীয় পার্টি দেশের মানুষের আস্থা আর ভালোবাসা নিয়ে রাজনীতি করে। দেশের মানুষ বলছে, জাতীয় পার্টির শাসনামলেই দেশের মানুষ ভালো ছিলেন।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান দাবি করেছেন, নির্বাচনে দেশের মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। নির্বাচনের প্রতি বিমুখ হয়ে পড়েছে। সরকার সমর্থিত প্রার্থীদের চাপে বিরোধী প্রার্থীরা নির্বাচনের মাঠে টিকতেই পারছে না।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনের মাঠে শেষ পর্যন্ত লড়তে হবে। যারা মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনের মাঠে লড়াই করতে পারবে না, তাদের স্থান জাতীয় পার্টিতে হবে না।

‘দেশের মানুষ তাদেরই পছন্দ করে যারা শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে পারে। যারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায় তারা দেশের মানুষের কাছে ঘৃনিত।’

এসময় দলের কেন্দ্রীয় ও মানিকগঞ্জ জেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
৭২ পেরিয়েও দাপুটে আওয়ামী লীগ
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আ. লীগের সীমিত আয়োজন
আওয়ামী লীগের সামনে দুই চ্যালেঞ্জ
ঢাকার সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটাতে চায় আ. লীগ
সীমিত পরিসরে ২৩ জুন উদযাপন করবে আওয়ামী লীগ

শেয়ার করুন

নিষ্ঠুর শাসন অবসানে জনগণ ঐক্যবদ্ধ: ফখরুল

নিষ্ঠুর শাসন অবসানে জনগণ ঐক্যবদ্ধ: ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

‘ব্যর্থতা আড়াল করতেই সরকার অমানবিক ও নিষ্ঠুরতার আশ্রয় নিয়ে জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। জনগণকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না। জনগণ এখন সরকারের সকল কু-কর্ম ও নিষ্ঠুর শাসন অবসানে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।’

বর্তমান সরকারের শাসনকে নিষ্ঠুর উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, এই শাসনের অবসানে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। আর এই অবস্থায় জনগণকে ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না।

বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিএনপি, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতাকে গ্রেপ্তার এবং ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা ও কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মিসভা বানচালের প্রতিবাদে এই বিবৃতি দেন তিনি।

ফখরুল বলেন, ‘দেশে যে দুঃশাসন কায়েম হয়েছে তাতে রাজনীতি করার গণতান্ত্রিক অধিকারকে পদদলিত করা হচ্ছে। আজ্ঞাবাহী প্রশাসন যন্ত্রকে অপব্যবহার করে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসনের মাধ্যমে জনগণকে জিম্মি করে ফেলেছে।’

করোনা মহামারি ও রাষ্ট্র পরিচালনার সব ক্ষেত্রে সরকার ব্যর্থ অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘ব্যর্থতা আড়াল করতেই সরকার অমানবিক ও নিষ্ঠুরতার আশ্রয় নিয়ে জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।’

জনগণকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘জনগণ এখন সরকারের সকল কু-কর্ম ও নিষ্ঠুর শাসন অবসানে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।’

ফখরুল বলেন, সমগ্র দেশটাই এখন বন্দিশালায় পরিণত হয়েছে। করোনা মহামানির সময়েও বিরোধী দলগুলোর নেতা-কর্মীদেরকে গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক কাহিনি তৈরি করে মামলা ও কারান্তরীণের ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

প্রতিটি মূহুর্ত আতঙ্কে রয়েছে বলেই বিরোধী দলের যে কোনো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বানচালে সরকার এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা।

বিবৃতিতে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার এবং যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানান ফখরুল।

আরও পড়ুন:
৭২ পেরিয়েও দাপুটে আওয়ামী লীগ
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আ. লীগের সীমিত আয়োজন
আওয়ামী লীগের সামনে দুই চ্যালেঞ্জ
ঢাকার সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটাতে চায় আ. লীগ
সীমিত পরিসরে ২৩ জুন উদযাপন করবে আওয়ামী লীগ

শেয়ার করুন

বাকশাল হয়েছিল কৃষকের কল্যাণে: পরিকল্পনামন্ত্রী

বাকশাল হয়েছিল কৃষকের কল্যাণে: পরিকল্পনামন্ত্রী

রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্‌তারা

কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের ভিত তৈরি হয়েছে বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই। তার উপরে বহুতল ভবন তুলছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বলেনছেন পরিকল্পনামন্ত্রী-

কৃষক-শ্রমিক-আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠনের প্রসংশা করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, ‘নিন্দুকেরা বাকশাল নিয়ে অনেক কথা বলে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষকের কল্যাণেই বাকশাল গঠন করেছিলেন। আমি বাকশাল সমর্থন করি।’

বুধবার রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন: কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির রূপান্তর’ শীর্ষক এক সেমিনারে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিকল্পনামন্ত্রী ডক্টর শামসুল আলম, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস-এর মহাপরিচালক বিনায়ক সেনসহ অন্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কৃষিখাতে বঙ্গবন্ধুর অবদান তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের ভিত তৈরি হয়েছে বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই। তার উপরে বহুতল ভবন তুলছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফার্মগেটের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল-এর জায়গায় হোটেল নির্মাণের কথা ছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কারণেই বিএআরসি ভাঙা সম্ভব হয়নি। তিনি সব সময় কৃষক দরদী ছিলেন। তাদের কল্যাণেই বঙ্গবন্ধু বাকশাল গঠন করেছিলেন।’

কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘যেহেতু দিনদিন কৃষি জমি কমছে, কিন্তু মানুষ বাড়ছে। তাই উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর কোন বিকল্প নাই। এজন্য কৃষি যান্ত্রিকীকরণের উপর জোর দিতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে কৃষকদের আরও বেশি সুবিধা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের উপর আরও গুরুত্ব দেয়া হবে। যাতে এসব পণ্য বাহিরে রপ্তানি করা যায়।’

রাজ্জাক মনে করেন, বিআইডিএস-এর অনেক সক্ষমতা আছে। বিআইডিএস-এ যেন দেশের সেরা মেধাবীরা আসতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ যাতে এগিয়ে যেতে পারে এ জন্য উদ্যোক্তাদের সহজশর্তে কম সুদে ঋণ দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পণ্যের বহুমুখী ব্যবহারের উপরও সরকার জোর দিয়েছে। যেমন- আমরা শুধু দুধ খাব না, দুধ থেকে আরও ২৮ থেকে ২৯ ধরনের পণ্য তৈরি করা যায়, সেদিকে নজর দেয়া হচ্ছে। মাছ দিয়েও বিভিন্ন ধরনের খাদ্য পণ্য উৎপাদন করা যেতে পারে। আমাদের বাড়তি শাকসবজি এবং অপ্রজনীয় বিভিন্ন পণ্য যেমন- সামুদ্রিক শৈবাল বাইরে রপ্তানি হচ্ছে।’

বিআইডিএস-এর মহাপরিচালক বিনায়ক সেন বলেন, `গ্রামের মহিলারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে। পরিবারের উপার্জনের জন্য পুরুষরা অনেকেই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন কিংবা পরিবারের বাইরে থাকছেন দিনের পর দিন। ‌‌মহিলারা শক্ত হাতে পরিবার দেখাশোনা করছেন। এমনকি বিভিন্ন ছোট ছোট কাজ করে পরিবারকে আর্থিক অর্থসহায়তা দিচ্ছেন। তাদের জন্য কিছু করা যায় কিনা, সে বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
৭২ পেরিয়েও দাপুটে আওয়ামী লীগ
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আ. লীগের সীমিত আয়োজন
আওয়ামী লীগের সামনে দুই চ্যালেঞ্জ
ঢাকার সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটাতে চায় আ. লীগ
সীমিত পরিসরে ২৩ জুন উদযাপন করবে আওয়ামী লীগ

শেয়ার করুন

প্রার্থী ‘সরে যাওয়া’ ঠেকাতে জাপার মনিটরিং সেল

প্রার্থী ‘সরে যাওয়া’ ঠেকাতে জাপার মনিটরিং সেল

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয়। ফাইল ছবি

জাপার যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম বলেন, ‘এবার বিভাগীয় পর্যায়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে স্থানীয় নির্বাচনগুলো দেখার জন্য। তারাই গভীরভাবে মনিটরিং করবে প্রার্থীদের বিষয়গুলো যে কী কারণে দলের প্রার্থীরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।’ 

স্থানীয় নির্বাচনে দলের নেতাকর্মীদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার ঠেকাতে এবার বিভাগওয়ারী মনিটরিং সেল করছে জাতীয় পার্টি (জাপা)।

মঙ্গলবার নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন জাপার যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে (ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদ) অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করতে আট বিভাগীয় কমিটির আওতায় মনিটরিং সেল করেছেন।

‘ওই সেল সার্বক্ষণিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবে। প্রার্থীরাও তাদের যে কোনো সমস্যা (রাজনৈতিক, প্রসাশনিক, সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় এমন কাজ, অন্য দলের চাপ বা শক্তি প্রয়োগ) সেলকে জানাবেন। মনিটরিং সেল ওই মোতাবেক ব্যবস্থা নেবে।’

প্রার্থী নির্বাচন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিচ্ছে বলেই কি এমন সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে মাহমুদ আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসলে এটা ঠিক না, এবার এটাও। আসলে আগে আমাদের দলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করত।

‘এবার বিভাগীয় পর্যায়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে স্থানীয় নির্বাচনগুলো দেখার জন্য। তারাই গভীরভাবে মনিটরিং করবে প্রার্থীদের বিষয়গুলো যে কী কারণে দলের প্রার্থীরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।’

এর আগে দলকে না জানিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় ২৪ জুন ঢাকা-১৪ আসনের উপনির্বাচনের প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান মোস্তাককে বহিষ্কার করে জাতীয় পার্টি। তিনি দলের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।

এর আগে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার পর ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোয় কুমিল্লা-৫ আসনে দলীয় প্রার্থী জসিম উদ্দিনকেও দল থেকে বাদ দেয়া হয়।

শুক্রবার কুমিল্লা-৭ আসনের উপনির্বাচনে ভোট থেকে সরে দাঁড়ান জাপার ভাইস চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা উত্তর জেলা জাপার আহ্বায়ক লুৎফর রেজা খোকন। এ ঘটনায় তাকেও বহিষ্কার করে জাতীয় পার্টি।

রোববার যশোর সদর উপজেলা নির্বাচনে দলকে না জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান দলীয় প্রার্থী মুফতি নুরুল আমিন। তাকেও বহিষ্কার করেছে দলটি।

সোমবার এক আলোচনা সভায় দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়া নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

তিনি বলেছেন, ‘যারা ভোটের লড়াই থেকে সরে যাবেন, জাতীয় পার্টিতে তাদের প্রয়োজন নেই।’

জাতীয় পার্টির বিভাগওয়ারী সেলে যারা

ঢাকা বিভাগে রয়েছেন গোলাম মোহাম্মদ রাজু, মিজানুর রহমান মিরু ও মাহমুদ আলম; চট্টগ্রাম বিভাগে বেলাল হোসেন, সৈয়দ মো: ইফতেকার আহসান হাসান; রাজশাহী বিভাগে জহিরুল ইসলাম জহির, নুরুল ইসলাম ওমর; খুলনা বিভাগে মো. সাহিদুর রহমান টেপা ও সুমন আশরাফ; সিলেট বিভাগে এটিইউ তাজ রহমান ও সৈয়দ মঞ্জুরুল হোসেন মঞ্জু এবং বরিশাল বিভাগে রয়েছেন সংসদ সদস্য রানা মো. সোহেল এমপি ও ইকবাল হোসেন তাপস ।

এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগের মনিটরিং সেলে রয়েছেন মোস্তফা আল মাহমুদ ও জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া এবং রংপুর বিভাগে রয়েছেন এসএম ইয়াসির ও মো. আব্দুর রাজ্জাক।

আরও পড়ুন:
৭২ পেরিয়েও দাপুটে আওয়ামী লীগ
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আ. লীগের সীমিত আয়োজন
আওয়ামী লীগের সামনে দুই চ্যালেঞ্জ
ঢাকার সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটাতে চায় আ. লীগ
সীমিত পরিসরে ২৩ জুন উদযাপন করবে আওয়ামী লীগ

শেয়ার করুন