‘খালেদার করোনার দায় আ.লীগের কাঁধে আসতে পারে’

‘খালেদার করোনার দায় আ.লীগের কাঁধে আসতে পারে’

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির সময় হেফাজতের ব্যানারে বিএনপি-জামায়াতের সক্রিয় অংশগ্রহণে যে তাণ্ডব হয়েছে, সেটিকে অস্বীকার করা এবং অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর অপচেষ্টা বিএনপি মহাসচিবের মিথ্যাচারেরই বহিঃপ্রকাশ। ভাবছি, কখন যে তিনি আবার বলে বসেন, খালেদা জিয়ার করোনা হওয়ার জন্যও আওয়ামী লীগ দায়ী।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার দায় আওয়ামী লীগের ওপর চাপানো হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মন্ত্রী।

‘মার্চের তাণ্ডব হেফাজত নয়, আওয়ামী লীগেরই সাজানো’- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী এ শঙ্কা জানান।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির সময় হেফাজতের ব্যানারে বিএনপি-জামায়াতের সক্রিয় অংশগ্রহণে যে তাণ্ডব হয়েছে, সেটিকে অস্বীকার করা এবং অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর অপচেষ্টা বিএনপি মহাসচিবের মিথ্যাচারেরই বহিঃপ্রকাশ। ভাবছি, কখন যে তিনি আবার বলে বসেন, খালেদা জিয়ার করোনা হওয়ার জন্যও আওয়ামী লীগ দায়ী।’

এ বছরের ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চ যেসব ঘটনা চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য স্থানে ঘটেছে, সেগুলো কারা ঘটিয়েছে, সেই ভিডিও ফুটেজ সরকারের কাছে আছে বলে দাবি করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আসামিদের বিচার হচ্ছে, যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। মির্জা ফখরুল যখন এই কথাগুলো বলেন, তখন প্রমাণিত হয় তারা যে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তা অস্বীকার করার জন্যই বলেছেন। এ রকম জঘন্য মিথ্যাচার একজন সিনিয়র রাজনীতিবিদের কাছ থেকে কখনও কাম্য নয়।’

বরং ওই সব ঘটনায় তার নিন্দা জানানো উচিত ছিল জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সেটি না করে বরং এভাবে মিথ্যাচার করে এ ধরনের ঘটনাকে উসকে দেয়া হচ্ছে, প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে, এটি কখনও সমীচীন নয়।’

জনগণের উত্তাল আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ভেসে যাবে বলে মির্জা ফখরুল যে মন্তব্য করেছেন, তার জবাবেও কথা বলেছেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কথা আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার ৬ মাস পর থেকে, অর্থাৎ ১২ বছর ধরে শুনে আসছি। বাস্তবতা হচ্ছে, জনগণের রায় নিয়ে পরপর তিনবার জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেছেন, দেশ পরিচালনা করছেন। এসব কথা বলে নিজেরা নিজেদের হাস্যকর করে তুলছেন।’

বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর পারিবারিকভাবে দুই দফা ক্ষমতায় ছিলেন বলেও মন্তব্য করেছেন হাছান মাহমুদ।

সম্প্রতি মির্জা ফখরুল দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ ইতিহাস বিকৃতি করছে। তার এই বক্তব্যের সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফখরুল সাহেব পারিবারিকভাবে দুবার ক্ষমতায় ছিলেন। তার বাবা এরশাদ সাহেবের মন্ত্রী ছিলেন। তিনি আবার খালেদা জিয়ার মন্ত্রী ছিলেন। তারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন বঙ্গবন্ধুর নাম রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনসহ সব প্রচারযন্ত্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ক্রমাগতভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছিল।’

ওই সময় জাতির পিতাকে অস্বীকার করা হয়েছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার খলনায়ককে নায়ক বানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আজকে যখন ঠিক ইতিহাসটা জনগণ জানতে পারছে, তখন তাদের গাত্রদাহ হচ্ছে। এ জন্য তারা এসব কথা বলছে।’

জিয়াউর রহমানের খেতাব

জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের প্রক্রিয়া নিয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সঠিক উত্তর দিতে পারবে। তবে এ কথা ঠিক, জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধার ছদ্মাবরণে পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করেছেন।’

গণমাধ্যমকর্মী আইন

গণমাধ্যমকর্মী আইন প্রণয়নের অগ্রগতির বিষয়েও জানতে চাওয়া হয় তথ্যমন্ত্রীর কাছে। তিনি বলেন, ‘আইনের চূড়ান্ত খসড়া আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং হয়ে মন্ত্রিসভায় যাবে।

‘এ আইন প্রণীত হলে বিএনপির সময় গণমাধ্যমকর্মীদের যে শ্রমিক বানিয়ে দেয়া হয়েছিল, সেটি থেকে মুক্তি লাভ হবে। সম্প্রচারের সঙ্গে যুক্তদের আইসি সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। যেকোনো সময় ছাঁটাই করা অনেকটা বন্ধ হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
মানুষ ‘মিথ্যা ফখরুল’ বললেও আমি বলতে চাই না: হাছান
মহামারিতে দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেপ্তার করা যায় কি না, প্রশ্ন হাছানের
বাংলাদেশের গণমাধ্যম উন্নত দেশের চেয়েও স্বাধীন: তথ্যমন্ত্রী
মিথ্যা বলায় পুরস্কার থাকলে পেতেন ফখরুল: হাছান
ডিজিটাল আইন মানুষের নিরাপত্তার জন্য: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য