দুই ডজনকে ডিঙালেন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা   

দুই ডজনকে ডিঙালেন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা   

সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাবিবুর রহমান হাবিব এর আগে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দেশে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটিতে সদস্য করা হয় হাবিবকে। এর আগে ২০১৪ ও ২০১৯ সালের নির্বাচনেও সিলেট-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন হাবিব।

মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন দুই ডজন নেতা। রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী, প্রবাসী, ব্যবসায়ী সকলেই চাইছিলেন সিলেট-৩ আসনে ‘নৌকার মাঝি’ হতে।

২৫ মে এ নিয়ে নিউজবাংলায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিলো ‘সিলেট-৩: আওয়ামী লীগের ‘হকল খাড়া’।

তবে ‘হকলকে’ টপকে শেষ পর্যন্ত চমক দেখিয়েছেন হাবিবুর রহমান হাবিব। শনিবার অপেক্ষোকৃত তরুণ এই নেতাকে সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে স্বভাবতই খুশি হাবিব। মনোনয়ন না পেয়ে অন্য প্রত্যাশীরা কিছুটা হতাশ হলেও নৌকার বিজয়ে একসঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছেন তাদের সবাই।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাবিবুর রহমান হাবিব এর আগে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দেশে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটিতে সদস্য করা হয় হাবিবকে। এর আগে ২০১৪ ও ২০১৯ সালের নির্বাচনেও সিলেট-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন চান হাবিব।

মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এক যুগ আমি মানুষের পাশে ছিলাম। সিলেট-৩ আসনের জনগণের সঙ্গে আছি। আজ এর মূল্যায়ন পেয়েছি।’

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়াকে নিজের জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার উল্লেখ করে হাবিব বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সব সদস্যের কাছে চির কৃতজ্ঞ। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার। আমি এই আস্থার প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করব।’

দলের অপর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রসঙ্গে হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘যারা মনোনয়ন চেয়েছিলেন তারা সকলেই যোগ্য। তারা সবাই আমার নেতা। ওনারা প্রায় সবাই আমার সিনিয়র। তাদের সকলকে নিয়েই আমি কাজ করব।’

তিনি বলেন, ‘আমি আমার অনুসারীদের বলে দিয়েছি, আমার মনোনয়ন পাওয়ার খবরে কেউ মিষ্টি বিতরণ করবেন না। উল্লাস করবেন না। যারা আমার সাথে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন তারা যাতে মনে কষ্ট না পান সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

হাবিব বলেন, ‘২০১৪ এ ২০১৯ সালের নির্বাচনেও আমি সিলেট-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম। তখন পাইনি। তবু এলাকার মানুষের সঙ্গে ছিলাম। এই এলাকার উন্নয়নে আমার অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। সিলেট-৩ আসনের এলাকাগুলোকে উন্নয়নের মডেলে পরিণত করতে চাই।’

দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলার একাংশ নিয়ে সিলেট-৩ আসন। এই আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস ১১ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কয়েক দফা পিছিয়ে ২৮ জুলাই এই আসনে ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

সিলেট-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সিলেট জেলা জজ কোর্টের পিপি নিজম উদ্দিন।

শনিবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, ‘আমি মনোনয়ন না পেলেও যিনি মনোনয়ন পেয়েছেন তার পক্ষে আছি। নেত্রী যাকে পছন্দ করেছেন, তার বিরোধিতা করা উচিত নয়। এখন সবাই মিলে আমরা নৌকাকে বিজয়ী করতে কাজ করব।’

দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। গত নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন তিনি। দুবারই বঞ্চিত হতে হয় মিসবাহকে।

এ প্রসঙ্গে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, ‘দল যাকে যোগ্য মনে করেছে তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। আমি ছাত্রজীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি। কখনোই দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাইনি। এখনও সে সুযোগ নেই।’

দল যোগ্যতম ব্যক্তিকেই মনোনয়ন দিয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল বলেন, ‘আমি নৌকার প্রার্থী হতে চেয়েছিলাম। নৌকা না পেলে আমার আর প্রার্থী হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। বরং নৌকার প্রার্থীই যিনিই হবেন তার পক্ষে কাজ করব।’

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন এই আসনের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ মুজিবর রহমান জকনও। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন তিনি।

জকন বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত আমরা মাথা পেতে নিয়েছি। দলের মধ্যে অনেকেই মনোনয়ন চাইতে পারে। কিন্তু দল যে সিদ্ধান্ত দেবে তার বিরোধিতা আমরা কেউ করব না। আমরা এখন সবাই নৌকার বিজয়ে কাজ করব।’

প্রয়াত সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর স্ত্রী ফারজানা সামাদও স্বামীর আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। শনিবার একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সিলেট-৩ আসনে আওয়ামী লীগের আরও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সিলেট চেম্বারের সহসভাপতি তাহমিন আহমদ, সাবেক ছাত্রনেতা মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌস সুলতান, জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ শমসের জামাল, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছিত টুটুল, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টু, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ম্যানচেস্টার শাখার সাবেক সভাপতি স্যার এনাম উল ইসলাম, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক আসম আসম মিসবাহ, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সাইফুল আলম, আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য এম সাদরুল আহমেদ খানসহ অনেকে।

এই উপনির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। তবে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিককে এই আসনে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট-৩ আসনে মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৯ ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২৮ হাজার ৬১৮ এবং নারী ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৬৯১ জন।

আরও পড়ুন:
তৃণমূলেই আস্থা আওয়ামী লীগের
নৌকা পোড়খাওয়া রাজনীতিকের হাতেই
তিন উপনির্বাচনে নৌকার মাঝি মিন্টু, হাবিব ও হাসেম
৩ উপনির্বাচনে নৌকার মাঝি নির্ধারণ শনিবার
সবাই চান এমপি হতে, কেন্দ্র বলছে সাংগঠনিক দুর্বলতা

শেয়ার করুন

মন্তব্য