দলীয় পদ থেকে অব্যাহতির প্রতিবাদে ৬ দাবি চকরিয়ার সাংসদের

দলীয় পদ থেকে অব্যাহতির প্রতিবাদে ৬ দাবি চকরিয়ার সাংসদের

চকরিয়ার সংসদ সদস্য জাফর আলম বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের অব্যাহতির আদেশ অবৈধ। একজন দলীয় সাংসদকে কমিটি থেকে অব্যাহতি দেয়া এখতিয়ার বহির্ভূত। এই ক্ষমতা জেলা আওয়ামী লীগের নেই।

সংসদ সদস্যকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া বৈধ নয় বলে মন্তব্য করেছেন কক্সবাজারের চকরিয়ার সংসদ সদস্য জাফর আলম। উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার একদিন পর তিনি এই প্রতিক্রিয়ায় দেন। সেইসঙ্গে ছয়টি দাবি নিয়ে কেন্দ্রের কাছে যাবেন বলেও জানান তিনি।

চকরিয়া পৌর নির্বাচনে দলের মনোনীত মেয়র প্রার্থীর ওপর হামলা ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য জাফরকে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেয় জেলা আওয়ামী লীগ। সেই ঘোষণা দেয়া বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, তাকে দল থেকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রের কাছে সুপারিশও পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে শুক্রবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করেন জাফর। তিনি বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের অব্যাহতির আদেশ অবৈধ। একজন দলীয় সাংসদকে কমিটি থেকে অব্যাহতি দেয়া এখতিয়ার বহির্ভূত। এই ক্ষমতা জেলা আওয়ামী লীগের নেই।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগ দূর্নীতিবাজ ও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি। এদের কাছে থেকে সুবিচার আশা করা যায় না। এজন্য তিনি ছয়টি দাবি নিয়ে রাজধানীতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাবেন।

দাবিগুলোর মধ্যে আছে, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন, অব্যাহতির আদেশ প্রত্যাহার, পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিটে জেলা আওয়ামী লীগের হস্তক্ষেপ ও দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টিকারীদের আইনের আওতায় আনা।

দাবির মধ্যে আরও আছে জেলা হোটেল মোটেল জোনে মেয়র মুজিবুর রহমানের দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও নানা অপকর্ম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

জাফর আলম জানান, এসব দাবি নিয়ে তিনি রোববার ঢাকা যাবেন।

জেলা আওয়ামী লীগ থেকে জাফরকে অব্যাহতি দেয়ার পর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সরওয়ার আলমকে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সমর্থক ও নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এবং চকরিয়া ও পেকুয়ার বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করে।

পরে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

আরও পড়ুন:
এমপিকে ক্ষুব্ধ জনতার কাদা
সাত থানার পুলিশকে হুঁশিয়ারি ডিসি আহাদের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ ৬ মাস বাড়ল

খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ ৬ মাস বাড়ল

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিতের পর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসভবনে ফেরেন বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তার ছোট ভাই শর্ত সাপেক্ষে মুক্তির সময় বৃদ্ধির একটি আবেদন করেছিলেন। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আমরা সেটি অনুমোদন দিয়েছি। শর্তগুলো সব আগের মতোই থাকবে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বৃদ্ধি করল সরকার।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তার ছোট ভাই শর্ত সাপেক্ষে মুক্তির সময় বৃদ্ধির একটি আবেদন করেছিলেন। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আমরা সেটি অনুমোদন দিয়েছি। শর্তগুলো সব আগের মতোই থাকবে।’

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিন দফায় ছয় মাস করে ১৮ মাস মুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আগে খালেদাকে স্থায়ীভাবে মুক্ত করে দিতে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছিল। তবে আইন মন্ত্রণালয় বলেছে, স্থায়ীভাবে মুক্ত করার এখতিয়ার আদালতের।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গত ৭ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আবেদনের বিষয়ে মতামত দেন। তাতে খালেদার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর সুপারিশ করেন মন্ত্রী।

আগের তিন দফার মতো এবারও বিদেশে না যাওয়া এবং বাড়িতে চিকিৎসার শর্তে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয় খালেদা জিয়ার। পরে উচ্চ আদালতে আপিল করলে সাজা বেড়ে হয় দ্বিগুণ।

উচ্চ আদালতের আদেশের পর দিন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার রায় হয় বিচারিক আদালতে। এ মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড পান বিএনপি নেত্রী। ফলে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর।

দুই মামলায় খালেদার জামিন নিশ্চিত করতে বিএনপির আইনজীবীদের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তার স্বজনরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন নিয়ে যান।

সরকার প্রধানের নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিত হলে সাবেক সরকার প্রধানকে দুই শর্তে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ মুক্তি দেয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে বিএনপি নেত্রী ফেরেন তার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায়।

খালেদার সাময়িক মুক্তি পাওয়ার শর্ত দুটি হলো: বিএনপি নেত্রী দেশেই চিকিৎসা নেবেন এবং তিনি বিদেশে যাবেন না।

গত এপ্রিলে খালেদা জিয়া করোনায় আক্রান্ত হলে বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়ার অনুরোধ করা হয়। তবে সরকার সে দাবি নাকচ করে। জানানো হয়, রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আর তিনি তা গ্রহণ করলেই কেবল বিদেশে যাওয়ার সুযোগ আছে।

দ্বিতীয় আরেকটি পথ হলো আদালত থেকে নির্দোষ প্রমাণ হয়ে আসা। কিন্তু জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আপিল বিভাগে আর চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্ট বিভাগে শুনানিতে বিএনপি নেত্রীর আইনজীবীরা কোনো আগ্রহই দেখাচ্ছেন না।

খালেদা জিয়া বন্দিত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে বাসায় ফেরার পর তার সাময়িক মুক্তির মেয়াদ পরে ছয় মাস করে দুই দফায় বাড়ানো হয়।

তৃতীয় দফায় দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর। এবার চতুর্থ দফায় মুক্তির মেয়াদ বাড়নোয় তার আরও ছয় মাস কারাগারে যেতে হবে না।

বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে এই দুটি মামলা ছাড়াও আরও অন্তত ৩০টি মামলা আছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মামলা অভিযোগ গঠনের অপেক্ষায় আছে।

আরও পড়ুন:
এমপিকে ক্ষুব্ধ জনতার কাদা
সাত থানার পুলিশকে হুঁশিয়ারি ডিসি আহাদের

শেয়ার করুন

জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান হলেন গায়ক শাফিন

জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান হলেন গায়ক শাফিন

জনপ্রিয় গায়ক শাফিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের নবম জাতীয় সম্মেলনের প্রদত্ত ক্ষমতা ও গঠনতন্ত্রের ধারা ১২ এর ৩ উপধারা অনুযায়ী শাফিনকে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছেন।

জনপ্রিয় ব্যান্ড মাইলসের লিড ভোকালিস্ট শাফিন আহমেদ জাতীয় পার্টির (জাপা) ভাইস চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছেন।

দলটির যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

মাহমুদ জানান, জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের নবম জাতীয় সম্মেলনের প্রদত্ত ক্ষমতা ও গঠনতন্ত্রের ধারা ১২ এর ৩ উপধারা অনুযায়ী শাফিনকে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছেন।

এর বাইরে বোরহান উদ্দিন আহমেদ মিঠুকে দলের কেন্দ্রীয় সদস্যপদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

শাফিন মাইলসের তুমুল জনপ্রিয় শিল্পী। তার মা ফিরোজা বেগম ছিলেন বিখ্যাত নজরুলসংগীত শিল্পী। বাবা কমল দাশগুপ্ত ছিলেন বিখ্যাত শিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক।

২০১৮ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন শাফিন। ২০১৯ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। সে সময় তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়।

এর আগে শাফিন ববি হাজ্জাজের দল এনডিএমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
এমপিকে ক্ষুব্ধ জনতার কাদা
সাত থানার পুলিশকে হুঁশিয়ারি ডিসি আহাদের

শেয়ার করুন

পুলিশ ইন্সপেক্টর মামুন হত্যা: ফারিয়ার আত্মসমর্পণ

পুলিশ ইন্সপেক্টর মামুন হত্যা: ফারিয়ার আত্মসমর্পণ

প্রতীকী ছবি

এ মামলায় ফারিয়া বিনতে মীমকে গত বছরের ১১ অক্টোবর জামিন দেয় হাইকোর্ট। এরপর কারাগার থেকে মুক্তি মিলে। তবে এ জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। পরে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত তার জামিন স্থগিত করে।

সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে পুলিশের ইন্সপেক্টর মামুন ইমরান খান হত্যা মামলার আসামি ফারিয়া বিনতে মিম ওরফে মাইশা আত্মসমর্পণ করেছেন।

বিচারিক আদালকে আসামি ফারিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে রোববার আপিল বিভাগে জানান তার আইনজীবী শেখ মুশফিক উদ্দিন বখতিয়ার।

পরে প্রধান বিচারপতিসহ পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ বিষয়ে শুনানির জন্য ২৬ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করে দেয়।

মামলা থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৮ জুলাই রাতে বনানীর একটি অ্যাপার্টমেন্টে ভিকটিম মামুন ইমরান খানকে ডেকে এনে মারধর করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ১০ জুলাই গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাধীন উলখোলার বাইরদিয়া রাস্তার পাশের বাঁশের ঝোপে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

ওই ঘটনায় ১০ জুলাই নিহতের ভাই জাহাঙ্গীর আলম খান বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় মামলা করেন। একই বছরের ১৮ জুলাই দিনগত রাতে রাজধানীর বাড্ডা ও হাজারীবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর আগে রহমত উল্লাহ নামে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জড়িতদের গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন ডিবির যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, মামুন ইমরান খান টেলিভিশনের বিভিন্ন ক্রাইম সিরিয়ালেও অভিনয় করতেন। রহমতউল্লাকে তার বাসায় জন্মদিনের দাওয়াত দেন আসামি আফরিন।

রহমতউল্লাহ ওই অনুষ্ঠানে পুলিশ বন্ধু মামুনকেও যাওয়ার অনুরোধ করেন। আর সেই জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়েই খুন হন পুলিশ কর্মকর্তা মামুন।

এরপর তার মরদেহ গুম করতে বস্তায় ভরে রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কালীগঞ্জের জঙ্গলে পেট্রোল দিয়ে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়।

ওই বছরের ১০ জুলাই বাসায় ফেরার সঙ্গে সঙ্গে রহমতউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। পরে তার দেয়া তথ্যানুযায়ী তিন নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামুন ইমরান খানের গ্রামের বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার কলাকুপা এলাকায়। তিনি ২০০৫ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন।

এ মামলায় ফারিয়া বিনতে মীমকে গত বছরের ১১ অক্টোবর জামিন দেয় হাইকোর্ট। এরপর কারাগার থেকে মুক্তি মিলে। তবে এ জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। পরে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত তার জামিন স্থগিত করে।

এই অবস্থায় ২৬ আগস্ট ফারিয়া নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে ওঠে।

আরও পড়ুন:
এমপিকে ক্ষুব্ধ জনতার কাদা
সাত থানার পুলিশকে হুঁশিয়ারি ডিসি আহাদের

শেয়ার করুন

‘ছাত্রলীগের কারণে শয্যাশায়ী, তারাই ফোন ধরে না’

‘ছাত্রলীগের কারণে শয্যাশায়ী, তারাই ফোন ধরে না’

অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মেশকাত হোসাইন। ছবি: নিউজবাংলা

ছাত্রলীগের শয্যাশায়ী উপ-প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক মেশকাত হোসাইনের মা পারুল বেগম বলেন, ‘নেতাগো ম্যালাবার মোবাইল করছি। তারা ফোন ধরে নাই। এরা যদি একটু সহযোগিতা করত, তাইলে এরে লইয়া আমি আর দেশে আইতাম না, ঢাকায় অর চিকিৎসা করাইতাম। ওরা যেহেতু ফোন ধরে নাই, আমি ত আর একা কুলাইতে পারমু না। তাই তারে দেশে লইয়া আইছি।’

‘অনেক আশা-ভরসা করে ছেলেডারে ঢাহা ভার্সিটিতে পড়াইতে পাডাইছি। আশা ছিল, ছেলেডা পড়া লেহা করবে, চাকরি-বাকরি ধরবে। কিন্তু পোলাডা এমন নেতাগো পাছে পড়ল, এই নেতারাই অরে শেষ কইরা দিলো।'

শয্যাশায়ী ছেলের পাশে বসে মোবাইল ফোনে নিউজবাংলাকে কথাগুলো বলছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক মেশকাত হোসাইনের মা পারুল বেগম।

চার দিন ধরে গুরুতর অসুস্থ ছাত্রলীগের মেশকাত হোসাইন। ছেলের অসুস্থতায় সহযোগিতার জন্য ছাত্রলীগ সভাপতিকে ফোন দিয়েও সাড়া মেলেনি। বাধ্য হয়ে ছেলেকে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর নিয়ে যায় মা পারুল বেগম।

আক্ষেপ করে নিউজবাংলাকে পারুল বেগম বলেন, ‘নেতাগো ম্যালাবার মোবাইল করছি। তারা ফোন ধরে নাই। এরা যদি একটু সহযোগিতা করত, তাইলে এরে লইয়া আমি আর দেশে আইতাম না, ঢাকায় অর চিকিৎসা করাইতাম। ওরা যেহেতু ফোন ধরে নাই, আমি ত আর একা কুলাইতে পারমু না। তাই তারে দেশে লইয়া আইছি।’

পারুল বেগম আরও বলেন, ‘ঢাহা থেইকা আহনের সময় পোলার যে অবস্থা হইয়া গেছিল, মনে করছি ঐহানেই তারে থুইয়া আহা লাগবে। জাগায় জাগায় নেতাগো মোবাইল করছি। তারা ফোন ধরে নাই।’

এখন মেশকাত হোসেনের কী অবস্থা জানতে চাইলে মা পারুল বেগম বলেন, ‘স্যালাইন দিছি, গিরায় গিরায় বল-শক্তি পায় না। একছের বমি করে। কোনো কিছু খাইতে-লতেই পারে না। এহন স্যালাইন দিছি, ঘুমের ওষুধ খাওয়াইয়া ঘুম লওয়াইতেছি।’

মেশকাত কী রোগে ভুগছেন, জানতে চাইলে তার মা জানান, ডাক্তার কিছু বলছে না। তার শরীরে হারের জোড়ায় জোড়ায় প্রচণ্ড ব্যথা। কিছু খেতে পারেন না। বিছানা থেকেও উঠতে পারে না।

গুরুতর অসুস্থ অথচ নিজ দলের কেন্দ্রীয় দুই নেতা কোনো খোঁজ না নেয়ার অভিযোগ ছাত্রলীগের উপ-প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক মেশকাতের। ক্ষোভে-দুঃখে মাকে মেশকাত অনুরোধ করেন যেন তার মৃত্যুর পর ছাত্রলীগ থেকে কোনো দোয়ার আয়োজন না করা হয়, প্রেস রিলিজ না দেয়া হয়। এ ছাড়া ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যেন তার জানাজায় না আসেন।

এ নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক থেকে পোস্টও দেন মেশকাত। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘জীবনটা নিভু নিভু, আল্লাহর কাছে স্বাভাবিক মৃত্যু কামনা করছিলাম। গত ১৪ তারিখে আমি খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ি। ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বারবার ফোন দিই কিছু একটা করার জন্য, কিন্তু তারা ফোন ধরেননি। এতে বুঝা যায়, আমরা মরলেও তাদের সমস্যা নাই।’

আক্ষেপ করে মেশকাত বলেন, ‘জীবনে যেই পার্টির জন্য এত সময় ব্যয় করলাম, সেই পার্টি আমার অসুস্থতারও খোঁজ নিতে পারে না। তারা খোঁজ নিত যদি তাদের দালালি করতাম। যাই হোক, আমার প্রতিবাদ থেমে গেলেও তৃণমূলের কোনো না কোনো কর্মী প্রতিবাদের কলম হাতে তুলে নেবে আশা রাখি।’

মেশকাতের এমন অভিযোগের প্রসঙ্গে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত দুই মাসে আমার ফোনে মেশকাতের কোনো কলই আসেনি। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অনেকেই অসুস্থ থাকে। সবার খোঁজখবর নিয়েছি। ওর (মেশকাত) খোঁজ নেব না কেন! খোঁজ নিতে হলে তো সে যে অসুস্থ সেটি আমার জানা লাগবে।’

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের এমন দাবির বিষয়টি স্বীকারও করেন মেশকাত হোসাইন। তিনি বলেন, ‘সভাপতিকে ফোন দেয়া মানেই দুজনকেই ফোন দেয়া। জয় ভাইকে ফোন দিয়েও যেখানে তিনি ফোন ধরেননি, লেখক ভট্টাচার্য তো আমার ফোন ধরবেই না। কারণ এই লেখক ভট্টাচার্যই মধুর ক্যান্টিনে বসে আমাকে বলেছে, সে আমার রাজনীতি খেয়ে দেবে।’

মেশকাত বলেন, ‘প্রথম যেদিন অসুস্থ হয়েছিলাম, তখন ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা না পেয়ে জয় ভাইকে অনেকবার ফোন দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। যে সংগঠনের জন্য এত কিছু করলাম, সে সংগঠনের সভাপতি আমার ফোন ধরে না।’

কথাগুলো বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন মেশকাত হোসেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠেই তিনি বলেন, ‘এই সংগঠনের জন্যই আমি অসুস্থ হয়েছি। না খেয়ে সারা দিন মধুর ক্যান্টিনে বসে ছিলাম। এ জন্যই আজকে আমার এই অসুস্থতা। আমি সংগঠনের ভুলত্রুটি নিয়ে লেখালেখি করি দেখেই তারা দুজন আমাকে শেষ করে দিচ্ছে। এই পার্টির জন্যই আমার পরিবার আর আমি শেষ হয়ে গেলাম।’

ফোন না ধরার বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে ফোন না ধরার অভিযোগটি নতুন নয়। ফোন রিসিভ না করায় অনেক কেন্দ্রীয় নেতাও এই নেতার ওপর ক্ষুব্ধ।

আরও পড়ুন:
এমপিকে ক্ষুব্ধ জনতার কাদা
সাত থানার পুলিশকে হুঁশিয়ারি ডিসি আহাদের

শেয়ার করুন

নামাজ পড়ি না বলে মুরতাদ বলতে পারেন না: জাফরুল্লাহ

নামাজ পড়ি না বলে মুরতাদ বলতে পারেন না: জাফরুল্লাহ

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ নয়: সম্প্রীতি, ইনসাফ ও সহনশীলতাই ইসলাম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমি নামাজ পড়ি না বলে আমাকে মুরতাদ বলার অধিকার আলেমদের নাই। এ বিষয়ে আল্লাহ সিদ্ধান্ত নিবেন। নামাজ পড়ি না বলে আমাকে বেত মারার অধিকার আপনার নাই, খোদা বিচার করবেন। আজকে আলেমদের নামে কেনো বলাৎকারের অভিযোগ আসবে? অন্যরা করলে দোষ হয় না, কিন্তু আপনারা করলে দোষ হবে। কারণ মানুষ আপনাদের সম্মান করে। আপনারা যেকোন দোষ করলে দোষটা বড় হয়ে যায়।’

গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, কেউ নামাজ আদায় না করলে তাকে মুরতাদ বলার অধিকার আলেমদের নেই।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৃতীয় তলায় ‘সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ নয়: সম্প্রীতি, ইনসাফ ও সহনশীলতাই ইসলাম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। আলোচনা সভা আয়োজন করে, বাংলাদেশ জাতীয় মুফাসসির পরিষদ।

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আমি নামাজ পড়ি না বলে আমাকে মুরতাদ বলার অধিকার আলেমদের নাই। এ বিষয়ে আল্লাহ সিদ্ধান্ত নিবেন। নামাজ পড়ি না বলে আমাকে বেত মারার অধিকার আপনার নাই, খোদা বিচার করবেন। আজকে আলেমদের নামে কেনো বলাৎকারের অভিযোগ আসবে? অন্যরা করলে দোষ হয় না, কিন্তু আপনারা করলে দোষ হবে। কারণ মানুষ আপনাদের সম্মান করে। আপনারা যেকোন দোষ করলে দোষটা বড় হয়ে যায়।’

ভোট ডাকাতির চেয়ে বড় জঙ্গি কে প্রশ্ন রেখে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ভোট ডাকাতির চেয়ে বড় জঙ্গি নাই। যাদের দাড়ি আছে, টুপি পড়ে তাদের জঙ্গি বলি। এটা অন্যায়, ভাঁওতাবাজি। এই ভাঁওতাবাজি বন্ধের জন্য আমাদেরকে বুদ্ধিমান হতে হবে।’

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার নামই হলো জিহাদ। মানুষের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে ইসলাম একটি বিজ্ঞানসম্মত ধর্ম। অর্ধমের বিরুদ্ধে সংগ্রামই জিহাদ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামই জিহাদ। অধিকার বঞ্চিত মানুষের ন্যায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই জিহাদ।

‘জিহাদ বললে আমাদের লজ্জা পাওয়ার কিছু নাই। ভাবতে হবে আমি ন্যায়ের পক্ষে আছি। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গিকার ছিল গণতন্ত্র, সামান্য এবং জনগণের অধিকার। মুক্তিযুদ্ধে সবই ইসলামের কথা বলেছি। মানুষের কথায় বলেছি, ন্যায়ের কথাই বলেছি। আজ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ভূলন্ঠিত, সে জন্য সংগ্রামে যেতে হবে।’

তালেবানদের সাহায্য করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তালেবানরা মুক্তিযোদ্ধা। তারা ২০ বছর যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। তাদের সালাম করতে হবে। শুধু সালাম করলে হবে না, দায়িত্বও আছে। সেখানে খাদ্য সংকটের কথা উঠেছে। এখানে ১৬ কোটি মানুষ, তালেবানদের কয়েক বছর খাওয়াতে পারেন।’

উপস্থিত সবার উদ্দেশে আফগানিস্তানে দ্রুত খাদ্য সহায়তা পাঠানোর আহ্বান জানান জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আল্লামা সাইয়েদ কামাল উদ্দিন জাফরী, উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, ড. মাওলানা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী, মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফেরদৌস (পীর সাহেব), মুফতি একেএম ফারুক সিদ্দিকী ও কাজী আবু হুরাইরাহ সভাপতি জাতীয় ইমাম সমিতি। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মুহাম্মদ এমরানুল হক মোহাদ্দিস, নয়াটলা কামিল মাদরাসা।

আরও পড়ুন:
এমপিকে ক্ষুব্ধ জনতার কাদা
সাত থানার পুলিশকে হুঁশিয়ারি ডিসি আহাদের

শেয়ার করুন

রাঙ্গা পরিবহন জগতের সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজ: কাদের মির্জা

রাঙ্গা পরিবহন জগতের সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজ: কাদের মির্জা

মেয়র মির্জা বলেন, ‘এ রাঙ্গা সেই রাঙ্গা, যে রাঙ্গাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৌরসভার মেয়র থেকে এনে মন্ত্রী বানিয়েছেন। আর আজকে সেই রাঙ্গা প্রধানমন্ত্রীকে বলে স্বৈরাচার।...আর আমাকে বলে আমি সারা দেশে বিতর্কিত। শরম যদি লাগে গো ঘোমটা দিয়ে চলো গো।’

জাতীয় পার্টির চিফ হুইপ সংসদ সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গাকে পরিবহন জগতের সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজ বলে আখ্যা দিয়েছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

বসুরহাট পৌরসভা মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে শনিবার দুপুরে তিনি এ কথা বলেন।

মেয়র মির্জা বলেন, ‘এ রাঙ্গা সেই রাঙ্গা, যে রাঙ্গাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৌরসভার মেয়র থেকে এনে মন্ত্রী বানিয়েছেন। আর আজকে সেই রাঙ্গা প্রধানমন্ত্রীকে বলে স্বৈরাচার।

‘রাঙ্গা সাহেব পরিবহন সেক্টরের খবর কী? এই পরিবহন জগতে ধুয়ে-মুছে খেয়ে ফেলেছেন। আর আমাকে বলেন আমি সারা দেশে বিতর্কিত। শরম যদি লাগে গো ঘোমটা দিয়ে চলো গো।’

৭ দিনের আলটিমেটাম বেঁধে দিয়ে কাদের মির্জা বলেন, ‘আগামী ৭ দিনের মধ্যে কোম্পানীগঞ্জের সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি জানাচ্ছি। অন্যায়ভাবে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। কোম্পানীগঞ্জে দ্রুত গ্যাস-সংযোগ ও চর এলাহীর ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছি।’

কাদের মির্জা আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার সব অর্জন দুর্নীতিবাজরা ও প্রশাসন শেষ করে দিচ্ছে। এটা আমরা মানতে পারি না। আওয়ামী লীগের কাছে মানুষ অনেক কিছু আশা করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ করব তিনি যেন মানুষের হৃদয়ের ভাষা বোঝার চেষ্টা করেন।’

জয় বাংলা ও জয় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্লোগানের দাবি জানিয়ে কাদের মির্জা বলেন, ‘বাংলাদেশে জয় বাংলা ও জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়ায় অনেকে ভিন্নভাবে দেখেন। জয় বাংলা হলো জাতীয় স্লোগান। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি এটিকে জাতীয় স্লোগান করা হোক।’

অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুছ, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আজিজুল হক, উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আজিজ, পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়েরসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
এমপিকে ক্ষুব্ধ জনতার কাদা
সাত থানার পুলিশকে হুঁশিয়ারি ডিসি আহাদের

শেয়ার করুন

আ.লীগের সভায় প্রচার সম্পাদকের নিরাপত্তায় ডিবি

আ.লীগের সভায় প্রচার সম্পাদকের নিরাপত্তায় ডিবি

নিরাপত্তা শঙ্কায় সভা শেষে ডিবি প্রহরায় বের হন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক নজরুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার এবং প্রচার সম্পাদক নজরুল ইসলামের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। আজকের সভায় আলোচ্যসূচীতে ছিল প্রচার সম্পাদক নজরুলকে করা শোকজের জবাব। ওই শোকজ ঘিরে যে কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভা শেষে প্রচার সম্পাদক নজরুল ইসলাম বের হয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পাহারায়।

এ ঘটনায় নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

শহরের সুর সম্রাট ওস্তাদ দি আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গনে শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে সভা। শুরু থেকেই সভাস্থলে ছিলেন পুলিশ ও ডিবিসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার এবং প্রচার সম্পাদক নজরুল ইসলামের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। আজকের সভায় আলোচ্যসূচীতে ছিল প্রচার সম্পাদক নজরুলকে করা শোকজের জবাব। ওই শোকজ ঘিরে যে কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।

সভায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীসহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে নিরাপত্তা শঙ্কায় ডিবি পাহারায় সভাস্থল ত্যাগ করেন নজরুল।

নেতাকর্মীরা আরও জানান, জেলা আওয়ামী লীগের দুই নেতার মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে কয়েক মাস আগে। ওই সময় সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের বিরুদ্ধে পৌর এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার লাইসেন্স নিয়ে অনিয়মসহ নানা অভিযোগ এনে ফেসবুকে পোস্ট দেন নজরুর ইসলাম।

এরপর ৩০ জুলাই আল মামুনের বাড়িতে আগুন লাগে। এ ঘটনায় নজরুল ইসলামকে আসামি করে মামলা হয়।

এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বিরোধের জেরে নজরুল ইসলামকে শোকজও করা হয়। শনিবার জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভায় শোকজের জবাব দেয়ার কথা ছিল বলে জানিয়েছেন দলের নেতারা। তবে নজরুল ইসলাম তা অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় আমাকে শোকজের উত্তর দিতে হবে এমন কোনো চিঠি পাইনি। আর শোকজের উত্তর এমপিকে আমি আরও আগেই দিয়ে দিয়েছিলাম। শোকজের উত্তর কী দিয়েছি তা বলতে চাচ্ছি না।’

এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, ‘প্রচার সম্পাদকের বিরুদ্ধে আমি মামলা করেছি। তাই কোনো ছাত্রলীগ নেতাকর্মী যেন তার সঙ্গে ঝামেলা না করে সেজন্য তিনি ডিবি পুলিশের নিরাপত্তায় সভাস্থল ত্যাগ করেছেন।’

শোকজের জবাবের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, নজরুল ইসলামের জবাব সভায় গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এজন্য তাকে আরও তিন দিন সময় দেয়া হয়েছে।

নেতাকর্মীদের ভিড়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের কমিটি হবে, সে কারণে উৎসুক নেতাকর্মীরা ভিড় জমিয়েছেন।’

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন জানান, নজরুল ইসলামের শোকজের জবাব সন্তোষজনক হয়নি। এজন্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি সর্বসম্মতিক্রমে আরও তিন দিন সময় বাড়িয়ে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
এমপিকে ক্ষুব্ধ জনতার কাদা
সাত থানার পুলিশকে হুঁশিয়ারি ডিসি আহাদের

শেয়ার করুন