কথায় কথায় হাততালিতে ক্ষুব্ধ ফখরুল

কথায় কথায় হাততালিতে ক্ষুব্ধ ফখরুল

‘আজকে এখানে বসেছি আমরা। মিলিত হয়েছি আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্পর্কে জানার জন্য। এটা হাততালির অনুষ্ঠান নয়। বারবার বলা হয়েছে মঞ্চ থেকে যে হাততালি দেবেন না। আপনারা দিয়েই যাচ্ছেন।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪০ তম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভা। মঞ্চ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, হাততালি দেবেন না। কিন্তু নেতা-কর্মীরা কথায় কথায় হাততালি আর স্লোগান দেন।

বিষয়টি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ক্ষুব্ধ করে। তিনি বলেন, ‘এটা হাততালির অনুষ্ঠান নয়। বারবার বলা হয়েছে মঞ্চ থেকে যে হাততালি দেবেন না। আপনারা দিয়েই যাচ্ছেন।’

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

ক্ষুব্ধ ফখরুল বলেন, ‘আমি তখন থেকে ওখানে বসে বসে লক্ষ করছি। আপনাদের প্রিয় নেতারা যারাই বক্তব্য দিচ্ছেন, আপনারা শুধু স্লোগান দিচ্ছেন, স্লোগান দিচ্ছেন, হাততালি দিচ্ছেন। যেখানে হাততালি দেয়ার কথা না আজকে। বারবার বলা হয়েছে মঞ্চ থেকে যে হাততালি দেবেন না। এটা হাততালির অনুষ্ঠান নয়। আপনারা দিয়েই যাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘আলোচনা সভা কাকে বলে সেটা বুঝতে হবে, কনফারেন্স কাকে বলে সেটা বুঝতে হবে, সংলাপ কাকে বলে সেটা বুঝতে হবে, তা যদি না বুঝি তাহলে রাজনৈতিক দলের সদস্য হলাম কেন?’

স্লোগান রাজপথে দেয়ার বিষয়, তা নেতা-কর্মীদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে দলের মহাসচিব বলেন, ‘বক্তার যে আসল কথা, তা কেউ শোনেন না। এখানে প্রচণ্ড গরম। সবাই অস্থির হয়ে যাচ্ছে। গরমে সিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। তারপরে আপনাদের স্লোগান। স্লোগান অত্যন্ত ভালো জিনিস ভাই। চলেন না রাজপথে যাই। গিয়ে স্লোগান দিই।’

বিএনপির বর্ষীয়ান এই নেতা বলেন, ‘আমার তো কম অভিজ্ঞতা হয়নি। বয়স ৭৩ পার হয়ে গেছে। এই যে ইশরাকের আব্বা সাদেক হোসেন খোকা সাহেব যখন ঢাকা মহানগরের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন থেকে তো আমি আছি। দেখছি তো। দয়া করে ওই জিনিসগুলো মনে রাখবেন। আজকে এখানে বসেছি আমরা।

‘মিলিত হয়েছি আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্পর্কে জানার জন্য। ইচ্ছা ছিল আজকে আপনাদের তার সম্পর্কে বলব। কিন্তু এখন আর বলার কোনো অবকাশ নেই। সেই মানসিকতাও নাই। আর আপনারা সেটা শুনতেও আসেননি। যাই হোক এটা আপনারা মনে রাখলে খুশি হব। সবাই খুশি হবে উপকৃত হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশবাসী জানতে পারবে যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কে ছিল? এই যে সাত দিন, আট দিন, নয় দিন ১০ দিন ধরে আমরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী পালন করছি, কেন করছি? এই জন্য করছি, তার সম্পর্কে দেশের মানুষকে জানাতে চাই। এজন্য করছি যে আওয়ামী লীগ আজকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করছে।’

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘আপনারা নেতাদের নামে স্লোগান দিচ্ছেন। আজকে দেশে যাচ্ছি বেগম খালেদা জিয়া কোথায়? আপনারা কেউ তার মুক্তি দাবি করে স্লোগান দেননি।’

আজকের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি মন্তব্য করলে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের মধ্যে স্মিত হেসে সভার সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, ‘স্যার আপনি বলেন, সবাই শুনবে।’

এর জবাবে ফখরুল বলেন, এখানে বলার পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। আজকের অনুষ্ঠানের পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে।

অবশ্য অনুষ্ঠান শেষে নেতা-কর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের জন্মই তো সেই তামাশা থেকে: ফখরুল
সময় হলে আমাদের জয় নিশ্চিত হবে: ফখরুল
ফখরুল বললেন তাবিথ জনগণের মেয়র
আন্দোলনের সময় আসেনি: ফখরুল; তীব্র আন্দোলন: নজরুল
সময়মতো আন্দোলনের ডাক: ফখরুল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিতর্কিতদের দলে স্থান হবে না: কাদের

বিতর্কিতদের দলে স্থান হবে না: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সামনের নির্বাচনে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হলে দলের মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য ফিরিয়ে আনতে হবে। কর্মীরা কোণঠাসা হয়ে গেলে আওয়ামী লীগ কোণঠাসা হয়ে যাবে। নিজেদের অবস্থান ভারী করার জন্য পকেট কমিটি করা যাবে না এবং বিতর্কিত কাউকে দলে ঠাঁই দেয়া যাবে না।’

বিতর্কিত কাউকে দলে স্থান দেয়া যাবে না বলে দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে রোববার সকালে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

কাদের বলেন, ‘সামনের নির্বাচনে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হলে দলের মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য ফিরিয়ে আনতে হবে। কর্মীরা কোণঠাসা হয়ে গেলে আওয়ামী লীগ কোণঠাসা হয়ে যাবে।

‘নিজেদের অবস্থান ভারী করার জন্য পকেট কমিটি করা যাবে না এবং বিতর্কিত কাউকে দলে ঠাঁই দেয়া যাবে না।’

ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের এই নেতা বলেন, ‘১২ বছর আগের ঋণগ্রস্ত বাংলাদেশ এখন ঋণ সহায়তার এক অভূতপূর্ব সাফল্যের দেশ। বিশ্ব আজ অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের দিকে। নানান প্রতিকূলতা পেরিয়ে শেখ হাসিনার বাংলাদেশ আজ এক প্রত্যয়ী এবং সম্ভাবনাময় দীপ্যমান বাংলাদেশ।

‘অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ আজ মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। প্রবাসী আয় প্রাপ্তিতে বাংলাদেশ একধাপ এগিয়ে এখন সপ্তম স্থানে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৪৫ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা আরও বাড়বে, বাড়বে সমৃদ্ধি।’

বিএনপির সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘এ দেশে লুটপাটতন্ত্র চালু করেছিল বিএনপি। দলটি বাংলাদেশকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে ‘বহুদলীয় তামাশায়’ পরিণত করতে চেয়েছিল।

‘বিএনপির শাসনামলে দুর্নীতির কারণে তাদের কোনো নেতাকে শাস্তির আওতায় আনা হয়নি, অন্যদিকে শেখ হাসিনা দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে চলে। বিএনপি মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন চায় না, তারা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন করতে চায়।’

জিয়াউর রহমান প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘নিজ কর্মেই জিয়াউর রহমান ইতিহাসের খলনায়কে পরিণত হয়েছেন। বিএনপি এ দেশের জন্য কী করেছে, যার জন্য জনগণ তাদের আন্দোলনে সাড়া নেবে?

‘প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগ নয়, জিয়া নিজ কর্মের কারণেই ইতিহাসের কাঠগড়ায় খলনায়ক হিসেবে চিহ্নিত। ইতিহাস বিকৃতির জন্য জনগণ জিয়াউর রহমানকে কোনো দিন ক্ষমা করবে না। জিয়া ইতিহাসের বিচারে অভিযুক্ত। ইতিহাসের ফুটনোটকে বিএনপি মহানায়ক বানানোর অপচেষ্টা করে যাচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
আ.লীগের জন্মই তো সেই তামাশা থেকে: ফখরুল
সময় হলে আমাদের জয় নিশ্চিত হবে: ফখরুল
ফখরুল বললেন তাবিথ জনগণের মেয়র
আন্দোলনের সময় আসেনি: ফখরুল; তীব্র আন্দোলন: নজরুল
সময়মতো আন্দোলনের ডাক: ফখরুল

শেয়ার করুন

পৌর নির্বাচন: ঝালকাঠিতে ১৮ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

পৌর নির্বাচন: ঝালকাঠিতে ১৮ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

ঝালকাঠি পৌরসভা ভোট আগামী ২১ জুন। ছবি: নিউজবাংলা

রিটার্নিং কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কামাল হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনে সহিংসতা যাতে না হয় সেজন্য ৯ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া পুলিশ ও র‌্যাব তো থাকছেই।’

ঝালকাঠির পৌরসভা ভোট সোমবার। সেখানে ৯টি ওয়ার্ডে ২২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৮টিই ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার মধ্যে আবার ১৩টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেসব কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন নিউজবাংলাকে জানান, গোটা নির্বাচনি এলাকায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। প্রতিটি ভোট কেন্দ্র ও সড়কে থাকছে পুলিশের একাধিক দল।

তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা চৌকি। তল্লাশী করা হচ্ছে জেলার বাইরে থেকে আসা যানবাহন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কামাল হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনে সহিংসতা যাতে না হয় সেজন্য ৯ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া পুলিশ ও র‌্যাব তো থাকছেই।’

যে প্রার্থীদের কাছে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র আছে, ভোটের দিন সহিংসতা এড়াতে তাদের অস্ত্র থানায় জমা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বীরা।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক জোহর আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নির্বাচনি এলাকায় অস্ত্র বহন করা যাবে না।’

দেশে স্থগিত হওয়া ১১টি পৌরসভা নির্বাচনের মধ্যে একটি ঝালকাঠি। এ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মুখোমুখি অবস্থানে আওয়ামী লীগ।

২২টি কেন্দ্রেই ভোট হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)।

এই পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ডের তিনটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছে। বাকি ছয়টিতে ৩১ জন কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

৯ ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৬ জন।

মেয়র পদের জন্য নৌকা প্রতীক নিয়ে মাঠে আছেন বর্তমান মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার। প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন নারিকেল গাছ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র আফজাল হোসেন ও হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাবিবুর রহমান।

এ পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৬৩৬ জন। এর মধ্যে নারী ২০ হাজার ১৬০; পুরুষ ১৯ হাজার ৪৭৬।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের জন্মই তো সেই তামাশা থেকে: ফখরুল
সময় হলে আমাদের জয় নিশ্চিত হবে: ফখরুল
ফখরুল বললেন তাবিথ জনগণের মেয়র
আন্দোলনের সময় আসেনি: ফখরুল; তীব্র আন্দোলন: নজরুল
সময়মতো আন্দোলনের ডাক: ফখরুল

শেয়ার করুন

পাঁচ পুরুষের সঙ্গে এক নারীর লড়াই

পাঁচ পুরুষের সঙ্গে এক নারীর লড়াই

বরগুনার আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে সোহেলী পারভীন মালা নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ছবি: নিউজবাংলা

সোহেলী পারভীন মালা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থেকে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলাম। কিন্তু বিএনপি-সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ একাধিকবার আমার কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করেছেন। এ পর্যন্ত আমার ২০ জনেরও বেশি কর্মী-সমর্থককে আহত করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনটি প্রচার কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।’

প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বরগুনার ২৯টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল সোমবার। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে ভোটের প্রচার। প্রচারে গিয়ে প্রার্থীরা একে-অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।

জেলার আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থী হয়ে লড়ছেন সোহেলী পারভীন মালা। একই ইউনিয়নে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে পাঁচ প্রার্থীর সঙ্গে।

সোহেলী পারভীন মালা উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি ওই ইউনিয়নের প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম নুরুল হক তালুকারের স্ত্রী।

নুরুল হক তালুকদার ২০২০ সালের ৪ জুলাই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি আড়পাঙ্গাশিয়া ইউপির তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন।

প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনে বরগুনা জেলার ২৯টি ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে প্রায়াত নুরুল হক তালুকদারের স্ত্রী সোহেলী পারভীন মালাকে মনোনয়ন দেয়া হয়।

সোহেলী পারভীন মালা জেলার একমাত্র নৌকা মনোনীত নারী প্রার্থী। তিনি পটুয়াখালীর রাঙাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের টানা তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আবু হাসনাত আবদুল্লাহর মেয়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মালার বিপরীতে ওই ইউনিয়নে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ। এ ছাড়া রাকিবুল ইসলাম দেলোয়ার, সদরুল ইসলাম মনির, মাহবুবুর রহমান জাফর বিশ্বাস ও হুমায়ুন কবীর বাচ্চু মিয়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।

ভোটাররা বলছেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নৌকার সোহেলী পারভীন মালার সঙ্গে আবুল কালামের।

ভোটের মাঠে প্রথম হলেও স্বামী প্রয়াত নুরুল হক তালুকদার একাধিকবার নির্বাচনে অংশ নেয়ায় স্ত্রী হিসেবে প্রচারে মালার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার নিজ নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা চালান মালা।

এ ছাড়া ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে রাজনীতিতে তার পদচারণ আগে থেকেই। ইউপি চেয়ারম্যান বাবার রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা, বিয়ের পর স্বামীর রাজনীতির খাতিরে ইউনিয়নের রাজনীতিতে আগে থেকেই তিনি দক্ষ। ফলে নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রচার-প্রচারণায় খুব একটা বেগ পেতে হয়নি।

প্রয়াত চেয়ারম্যান নুরুল হক তালুকদারে মৃত্যুতে স্ত্রী প্রার্থী হওয়ায় মালার প্রতি এলাকাবাসীর একধরনের ‘সিমপ্যাথি’ কাজ করছে। সবকিছু মিলিয়ে তিনি ভালো অবস্থানে রয়েছেন বলে জানান অনেক ভোটার।

মালা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার স্বামী আমৃত্যু এই ইউনিয়নের মানুষের পাশে থেকে সেবা করেছেন। তার অকালমৃত্যুতে আমি ভেঙে পড়েছিলাম। আমার ছেলে সন্তান নেই, দুটো মেয়ে নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় পড়েছিলাম। এ অবস্থায় এলাকার লোকজন আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সাহস জুগিয়ে ভরসা দিয়ে পাশে থেকেছেন।’

মালা আরও বলেন, ‘স্বামীর মৃত্যুর পর আমার মনে হয়েছে এলাকার লোকজন তাদের অভিভাবক হারিয়েছেন। তাদের আবদারে আমি একপর্যায়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমায় মনোনয়ন দিয়ে সম্মানিত করেছেন। প্রধানন্ত্রীর মনোনয়নের সম্মান রাখতে আমি মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করি।’

তবে রাজনীতি নামের পিচ্ছিল পথটা মালার জন্য সুখকর ছিল না। প্রচারে নেমে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের রোষের শিকার হয়েছেন একাধিকবার।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থেকে প্রচার চালিয়ে আসছিলাম। কিন্তু বিএনপি-সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ একাধিকবার আমার কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করেছেন। এ পর্যন্ত আমার ২০ জনেরও বেশি কর্মী-সমর্থককে আহত করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনটি প্রচার কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।’

১৯ জুন নির্বাচনি প্রচার শেষ হয়েছে। ২১ জুন ২৯টি ইউনিয়নের মতো আড়পাঙ্গাশিয়াতেও ভোট গ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের জন্মই তো সেই তামাশা থেকে: ফখরুল
সময় হলে আমাদের জয় নিশ্চিত হবে: ফখরুল
ফখরুল বললেন তাবিথ জনগণের মেয়র
আন্দোলনের সময় আসেনি: ফখরুল; তীব্র আন্দোলন: নজরুল
সময়মতো আন্দোলনের ডাক: ফখরুল

শেয়ার করুন

ভুলের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে বিএনপি: নানক

ভুলের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে বিএনপি: নানক

লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে শনিবার মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। ছবি: নিউজবাংলা

নানক বলেন, ‘বিএনপি নেতৃত্ব ও অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। তারা জনগণের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। সে কারণে বিএনপি আজ জন রায়কে ভয় পায়। আর জনগণকে ভয় পায় বলেই বিএনপি উপনির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে আতঙ্কবোধ করে।’

রাজনীতির খেই হারিয়ে বিএনপি ভুলের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।

শনিবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে দলীয় নেতা কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর আংশিক) আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষে এ মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়।

নানক বলেন, ‘ বিএনপি নেতৃত্ব ও অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। তারা জনগণের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। সে কারণে বিএনপি আজ জন রায়কে ভয় পায়। আর জনগণকে ভয় পায় বলেই বিএনপি উপনির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে আতঙ্কবোধ করে।’

তিনি বলেন, ‘ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করতে হবে। নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।’

২১ জুন লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন। এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ শিপন। এতে বিএনপি প্রার্থী দেয়নি।

জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম ফারুক পিঙ্কু সভায় সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপনির্বাচনে প্রার্থী নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশিদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌর মেয়র আবু তাহের, মোজাম্মেল হক মিলন, মোজাম্মের হায়দার মাসুম, নুরুল হুদা পাটোয়ারী, রাসেল মাহমুদ মান্না, মোমিন পাটোয়ারীসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের জন্মই তো সেই তামাশা থেকে: ফখরুল
সময় হলে আমাদের জয় নিশ্চিত হবে: ফখরুল
ফখরুল বললেন তাবিথ জনগণের মেয়র
আন্দোলনের সময় আসেনি: ফখরুল; তীব্র আন্দোলন: নজরুল
সময়মতো আন্দোলনের ডাক: ফখরুল

শেয়ার করুন

১০ বছর পর নির্বাচন, আগ্রহ নেই ভোটারদের

১০ বছর পর নির্বাচন, আগ্রহ নেই ভোটারদের

দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ছবি: নিউজবাংলা

ভোটার সাদেকুর রহমান ও ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘করোনা মহামারিতে আমরা ভোট দিতে কিভাবে যাব। এমনিতে দিনাজপুরে করোনা বেড়ে গেছে। এর মধ্যে ভোট দিতে যাওয়া ভয়ের কারণে হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

আর এক দিন পর দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ। সীমানা জটিলতায় ১০ বছর অপেক্ষার পর ভোটের আগ মুহূর্তে চলছে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন তারা। তবে করোনা পরিস্থিতিতে নির্বাচনে আগ্রহ নেই ভোটারদের।

১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘খ’ শ্রেণীর এ পৌরসভার সবশেষ নির্বাচন হয় ২০১১ সালের ১২ জানুয়ারি। সীমানা জটিলতার কারণে ১০ বছর আটকে ছিল সেতাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন।

উপজেলা নির্বাচন অফিস জানায়, ২১ জুন ইভিএমের মাধ্যমে ২১ হাজার ৩৫৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার কথা। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ৩২৬ এবং মহিলা ভোটার ১১ হাজার ৩২ জন। নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য এরই মধ্যে ১০টি কেন্দ্রের ৭৪টি বুথ প্রস্তুত করা হয়েছে।

সেতাবগঞ্জে টানা ১১ বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন আব্দুস সবুর।

এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে ৫ জন, ৩টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১২ জন এবং ৯টি সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মেয়র পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আসলাম, হাতুড়ী প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটির রশিদুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এছাড়াও মেয়র পদে লড়াইয়ে আছেন তিন জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। তাদের মধ্যে নারিকেল গাছ প্রতীকে হাবিবুর রহমান দুলাল, জগ প্রতীকে নাহিদ বাসার চৌধুরী, মোবইল প্রতীক নিয়ে আছেন নাজমুন নাহার মুক্তি।

প্রার্থীরা এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটারদের মাঝে তেমন কোনো উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে না।

ভোটার সাদেকুর রহমান ও ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘করোনা মহামারিতে আমরা ভোট দিতে কিভাবে যাব। এমনিতে দিনাজপুরে করোনা বেড়ে গেছে। এর মধ্যে ভোট দিতে যাওয়া ভয়ের কারণে হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার ছন্দা পাল বলেন, ‘সেতাবগঞ্জ পৌরসভার ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করাতে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ভোটারেরা যেনো কেন্দ্র এসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোট দিতে পারেন সে দিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।’

সেতাবগঞ্জ পৌরসভায় প্রথমবারের মত ইভিএমে ভোট গ্রহণ হবে।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের জন্মই তো সেই তামাশা থেকে: ফখরুল
সময় হলে আমাদের জয় নিশ্চিত হবে: ফখরুল
ফখরুল বললেন তাবিথ জনগণের মেয়র
আন্দোলনের সময় আসেনি: ফখরুল; তীব্র আন্দোলন: নজরুল
সময়মতো আন্দোলনের ডাক: ফখরুল

শেয়ার করুন

শফি আহমদ চৌধুরীকে বহিষ্কার করল বিএনপি

শফি আহমদ চৌধুরীকে বহিষ্কার করল বিএনপি

শফি আহমদ চৌধুরী। ফাইল ছবি

‘দলের সিদ্ধান্ত ও শৃঙ্খলা অমান্য করার পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জুন শফি আহমদ চৌধুরীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছিল। ওই নোটিশের জবাবে তার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য ও সন্তোষজনক হয়নি বিধায় তাকে বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।’

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শফি আহমদ চৌধুরীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শনিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানা হয়েছে।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও দলীয় দপ্তরের দায়িত্বে থাকা এমরান সালেহ প্রিন্সের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে দলীয় গঠনতন্ত্রের ৫(গ) ধারা মোতাবেক শফি আহমদ চৌধুরীকে জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

‘দলের সিদ্ধান্ত ও শৃঙ্খলা অমান্য করার পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জুন শফি আহমদ চৌধুরীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছিল। ওই নোটিশের জবাবে তার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য ও সন্তোষজনক হয়নি বিধায় তাকে বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।’

আরও পড়ুন:
আ.লীগের জন্মই তো সেই তামাশা থেকে: ফখরুল
সময় হলে আমাদের জয় নিশ্চিত হবে: ফখরুল
ফখরুল বললেন তাবিথ জনগণের মেয়র
আন্দোলনের সময় আসেনি: ফখরুল; তীব্র আন্দোলন: নজরুল
সময়মতো আন্দোলনের ডাক: ফখরুল

শেয়ার করুন

দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা: ১৯ আওয়ামী লীগ নেতাকে বহিষ্কার

দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা: ১৯ আওয়ামী লীগ নেতাকে বহিষ্কার

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের প্রেস বিজ্ঞপ্তি। ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২১ জুন বরিশাল সদর, হিজলা, মুলাদী, বানারীপাড়া, বাকেরগঞ্জ ও বাবুগঞ্জে ইউপি নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছেন, এমন ১৯ জনকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করায় বরিশালে ১৯ আওয়ামী লীগ নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।

শনিবার বিকেলে এ তথ্য জানিয়েছেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস।

জেলা আওয়ামী লীগের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২১ জুন বরিশাল সদর, হিজলা, মুলাদী, বানারীপাড়া, বাকেরগঞ্জ ও বাবুগঞ্জ উপজেলার ইউপি নির্বাচনে
দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছেন, এমন ১৯ জনকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নির্ধারণ করেছিল।

তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস নিউজবাংলাকে বলেন, যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারী। তাদের মধ্যে কেউ দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন, আবার কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন।

বহিষ্কৃতদের সঙ্গে যারা যোগাযোগ বা নৌকাবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

হিজলায় বহিষ্কৃতরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পণ্ডিত সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ, ফারুক সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন হাওলাদার, হরিনাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুর রহমান সিকদার।

মুলাদীর বহিষ্কৃত নেতারা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মুন্সী, সদস্য মজিবুর রহমান শরীফ, ইউসুফ আলী।

বানারীপাড়ায় বহিষ্কার হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তাজেম আলী হাওলাদার।

সদর উপজেলায় বহিষ্কার হলেন কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম, চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম।

বাকেরগঞ্জের বহিষ্কার হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনায়েত হোসেন পান্না, দাড়িয়াল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বাছের আহম্মেদ বাচ্চু, গারুরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিন তালুকদার মিন্টু, কলসকাঠি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুস সালাম তালুকদার।

বাবুগঞ্জে বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থনকারী জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম মীর, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা মনির খান, ইসমাইল ব্যাপারী এবং জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আ. রব ব্যাপারীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের জন্মই তো সেই তামাশা থেকে: ফখরুল
সময় হলে আমাদের জয় নিশ্চিত হবে: ফখরুল
ফখরুল বললেন তাবিথ জনগণের মেয়র
আন্দোলনের সময় আসেনি: ফখরুল; তীব্র আন্দোলন: নজরুল
সময়মতো আন্দোলনের ডাক: ফখরুল

শেয়ার করুন