সবাই চান এমপি হতে, কেন্দ্র বলছে সাংগঠনিক দুর্বলতা

সবাই চান এমপি হতে, কেন্দ্র বলছে সাংগঠনিক দুর্বলতা

‘দুটি কারণে এটি হচ্ছে। একটি হলো, এই মুহূর্তে রাজনীতির মাঠে আওয়ামী লীগের বিকল্প শক্তির তেমন কোনো অবস্থান নেই। আমাদের আওয়ামী লীগের বিরোধী যারা আছে, তাদের সাংগঠনিক ও জনসমর্থনে দুর্বলতার কারণেই অনেকের মধ্যেই এমন ধারণা হয়েছে যে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেলেই জয় সুনিশ্চিত।’

ঢাকা-১৪ আসনের আসন্ন উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চেয়েছেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের ৩৩ জন নেতা-কর্মী। এ ছাড়া একই সময় অনুষ্ঠেয় কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ আসনেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতা-কর্মী দলের মনোনয়ন চেয়েছেন। এর মধ্যে কুমিল্লা-৫-এ ৩৫ জন এবং সিলেট-৩-এ ২১ জন আওয়ামী লীগের টিকিট পেতে আগ্রহ জানিয়েছেন।

আপাতদৃষ্টিতে উপনির্বাচনে এত বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর মনোনয়ন সংগ্রহকে গণতান্ত্রিক অধিকার মনে করা হলেও বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা বলছেন, কোনো দলের জন্যই এটি শুভ লক্ষণ নয়। এটি সাংগঠনিক দুর্বলতার পরিচায়ক।

ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হকের মৃত্যুর পর এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে বেশ আগে থেকেই দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের তৎপরতা দেখা গেছে। অনেকেই দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। অনেকেই এলাকায় লাগিয়েছেন প্রচারণামূলক পোস্টার ও ব্যানার।

অবশ্য রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি আগেই ঘোষণা দিয়েছে, তারা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। এ কারণে নেতা-কর্মীদের অনেকেরই মনে বিশ্বাস জন্মেছে, যিনি মনোনয়ন পাবেন, জয় হবে তারই। এ কারণে সহজে সংসদে যেতে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যাও অনেক বেশি।

এরই মধ্যে এই আসনে নৌকা প্রতীক পেতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী যেমন আছেন, তেমনি আছেন সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরাও।

মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান, ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এ মান্নান কচি, স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বের চৌধুরী, ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সভাপতি সাবিনা আক্তার তুহিন, মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিরিন রুখসানা, প্রয়াত আসলামুল হকের স্ত্রী মাকছুদা হকসহ দুই ডজনেরও বেশি নেতা-কর্মী।

গত ৪ এপ্রিল রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মৃত্যু হয় ৬০ বছর বয়সী আসলামুলের। তিনি ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০১৪ সাল ও ২০১৮ সালেও জয়লাভ করেন।

তার মৃত্যুর পর গত ১৩ এপ্রিল আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ভোট হওয়ার কথা ২৮ জুলাই।

ঢাকা-১৪-সহ তিন আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে ১২ জুন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

প্রয়াত আসলামুল হকের স্ত্রী মাকছুদা হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বামীর অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নিতেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছি। এলাকাকে চাঁদামুক্ত, ইভ টিজিংমুক্ত করার পাশাপাশি এলাকাবাসীর নানা সমস্যা সমাধানই আমার লক্ষ্য।’

মাকছুদা বলেন, ‘আমার স্বামী আওয়ামী লীগের একজন পরীক্ষিত নেতা। সে যেভাবে দলকে ভালোবাসত, সভাপতির যে নির্দেশ সেগুলো যেভাবে পালন করত, এমন নিবেদিত কর্মী আমি খুব কমই দেখেছি। আপা, যেটা নির্দেশ করেছেন, সে কিন্তু সেটা শতভাগ করার চেষ্টা করেছে।

‘নেতা-কর্মী এবং এলাকার জন্য সে যা করেছে, এগুলো সবাই জানে। সে হিসেবে আমি আশাবাদী। ওপরে আল্লাহ, নিচে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। যদি আমাকে এখানে তিনি যোগ্য মনে করেন, যদি আমাকে মনোনয়ন দেন, তাহলে তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব। তাকে আমি নিশ্চয়ই নিরাশ করব না।’

ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এ মান্নান কচি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি আবেদন করেছি। এখন সবকিছু মাননীয় সভানেত্রী আর বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। প্রত্যাশা তো আছেই, যেহেতু কাজ করি। ওনারা সিদ্ধান্ত নেবেন, যেটাই নেবেন আমি মেনে নেব।

‘মনোনয়ন পেলে চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করার ইচ্ছা আছে। এলাকায় একজন এমপির কাজ হলো সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকি করা। মানুষ যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে। মানুষ যেন ব্যবসা-বাণিজ্য ঠিকমতো করতে পারে। এ কাজগুলোই আমি করব।’

নেতা-কর্মীদের বিপুল আগ্রহ থাকলেও আসলে বিপুলসংখ্যক মনোনয়নপ্রত্যাশীর ঘটনাকে ভালোভাবে দেখছে না কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে এমনটা হতে পারে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একই আসনে বিপুলসংখ্যক মনোনয়নপ্রত্যাশী বা আগ্রহী হওয়াটা ভালো নয়। আমি মনে করি, রাজনীতিতে এটাকে খুব ভালো মনে করার কোনো সুযোগ নেই।

‘দুটি কারণে এটি হচ্ছে। একটি হলো, এই মুহূর্তে রাজনীতির মাঠে আওয়ামী লীগের বিকল্প শক্তির তেমন কোনো অবস্থান নেই। আমাদের আওয়ামী লীগের বিরোধী যারা আছে, তাদের সাংগঠনিক ও জনসমর্থনে দুর্বলতার কারণেই অনেকের মধ্যেই এমন ধারণা হয়েছে যে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেলেই জয় সুনিশ্চিত।’

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই নেতা আরও বলেন, ‘এ ধারণার বশবর্তী হয়ে অনেকের মধ্যে তীব্র আকাঙ্ক্ষা জেগে উঠেছে। তারা ভাবছে, যদি মনোনয়ন পাওয়া যায়, তাহলে তারা হয়তো সংসদ সদস্য হতে পারবে। প্রত্যেক রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরই তো স্বপ্ন থাকে যে তারা রাজনীতি করে জনগণের সেবা করার জন্য জনপ্রতিনিধি হবে। নির্বাচন করার জন্য আগ্রহ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক।

‘বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর মনোনয়ন প্রত্যাশার কারণ একটাই। মাঠে আমাদের শক্ত প্রতিপক্ষ না থাকায় তাদের মধ্যে ধারণা হয়েছে মনোনয়ন পেলেই হয়তো জয়লাভ করবে। আমাদের সাংগঠনিক কিছু দুর্বলতাও হয়তো আছে। এ কারণেই হয়তো এ পর্যায়ে চলে এসেছে।’

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, তিন উপনির্বাচনে ১৫ জুন মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৭ জুন। ১৮, ১৯ ও ২০ জুন আপিলের দিন ঠিক করা হয়েছে। প্রার্থিতা বাতিলের শেষ দিন ২৩ জুন। প্রতীক বরাদ্দের তারিখ ২৪ জুন।

আরও পড়ুন:
তিন আসনে আওয়ামী লীগের টিকিট চান ৯৪ জন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতাকে ছাত্রলীগের পদোন্নতি

ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতাকে ছাত্রলীগের পদোন্নতি

মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়া নাজমুল হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হওয়া নাজমুল হোসেনকে ২০১৮ সালে যে প্যাডে রায়পুর ইউনিয়ন শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক করে ছাত্রদলের কমিটির ঘোষণা করা হয়, তা এখন ছড়িয়ে পড়েছে। নাজমুল অবশ্য এই ছবিকে কারসাজি বলছেন।

আরও এক ছাত্রদল নেতার ছাত্রলীগের পদ পাওয়া নিয়ে ফরিদপুরে তোলপাড় চলছে।

রায়হান রনি নামে এক তরুণ আলফাডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকা অবস্থায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পাওয়া নিয়ে আলোচনার মধ্যেই মধুখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক নাজমুল হোসেনকে করা হয়েছে মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক।

ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতাকে পদোন্নতি দিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা নিয়ে সংগঠনে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ।

যদিও নাজমুলের ছাত্রদল সম্পৃক্ততা অস্বীকার করছেন তাকে পদ দেয়া ও সুপারিশ করা ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতারা। নাজমুল নিজেও দাবি করেছেন, তার পরিবার সব সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছে।

ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা এও বলেছেন, নাজমুলের ছাত্রদল সম্পৃক্ততার অভিযোগ তারাও শুনেছেন। এটা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে ২০১৮ সালে নাজমুলকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে যে প্যাডে ছাত্রদলের সেই কমিটির ঘোষণা করা হয়, তা এখন ছড়িয়ে পড়েছে। আর একে নাজমুল অবশ্য কারসাজি বলছেন।

গত ১২ জুন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান ও ফাহিম আহমেদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এতে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে রবিন মোল্যা ও ইনজামামুল আলম অনিককে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কমিটিতে নাজমুল হোসেনকে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

উপজেলা ছাত্রলীগের নব-নির্বাচিত সভাপতি রবিন মোল্যার দাবি, নাজমুল দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আসছেন। সেই হিসেবেই তাকে পদ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নাজমুল ছাত্রদল করতেন, বিষয়টি আমাদেরকেও অনেকেই জানিয়েছে, তবে খোঁজ নিয়ে এর কোনো সত্যতা পাইনি।’

তবে মধুখালী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওমর ফারুক জানান, ২০১৮ সালের উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটিতে নাজমুল হোসেন যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন।

ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতাকে ছাত্রলীগের পদোন্নতি
২০১৮ সালে ছাত্রদলের কমিটিতে আর তিন বছর পর ছাত্রলীগের কমিটিতে নাজমুল

মধুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক বকু বলেন, ‘নাজমুল হোসেন ছাত্রদলের রাজনীতি করত-এই বিষয়টি জানা নেই। তবে নাজমুল দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। ছাত্রলীগের মিছিল মিটিংয়ে তাকে দেখেছি।

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান বলেন, ‘রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলেই নাজমুল হোসেনকে ছাত্রলীগের পদ দেয়া হয়েছে। নাজমুল দীর্ঘদিন যাবৎ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকার সুপারিশেই তাকে পদ দেয়া হয়েছে।’

নাজমুল হোসেন ছাত্রদল করতেন- এমন অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর সাত্তার শেখ বলেন, ‘নাজমুল হোসেনের বাড়ি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে। ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রত্যয়ন পত্র পেয়েই নাজমুলকে ছাত্রলীগের পদ দিতে আমি সুপারিশ করেছি।’

নাজমুল হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও ছাত্রদল করার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমার পরিবার দীর্ঘদিন যাবৎ আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পারিবারিক কারণেই ছোটবেলা থেকেই আমিও ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আসছি।’

তিনি বলেন, ‘একটি মহল আমার বিরুদ্ধে এধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। আপনারা এলাকায় এসে খোঁজ নিয়ে দেখেন আমি এবং আমার পরিবারের সম্পর্কে।’

সম্প্রতি ছাত্রদল নেতা রায়হান রনির ছাত্রলীগে পদ পাওয়া নিয়ে তুমুল আলোচনা হয়। এর মধ্যে গত ১৯ জুন তাকে ছাত্রলীগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। আর ছাত্রদল তাকে বহিষ্কার করে।

আরও পড়ুন:
তিন আসনে আওয়ামী লীগের টিকিট চান ৯৪ জন

শেয়ার করুন

সহিংসতা, ২ মৃত্যু, বর্জনের মধ্যে শেষ হলো ইউপি ভোট

সহিংসতা, ২ মৃত্যু, বর্জনের মধ্যে শেষ হলো ইউপি ভোট

ভোলা ও বরিশালে নির্বাচনি সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন। এর বাইরে আরও কয়েক জেলায় হয়েছে সংঘর্ষ। পাঁচ ইউপিতে ভোট বর্জনের ঘটনা ঘটেছে।

দুই জেলায় ভোটে সহিংসতায় দুইজন নিহত, পাঁচ জেলায় প্রার্থীদের বর্জন ও কয়েক জেলায় সহিংসতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।

ভোট হয়েছে লক্ষ্মীপুর-২ আসন এবং দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ ও ঝালকাঠি পৌরসভাতেও।

সোমবার সকাল ৮টায় ভোট শুরু হয় ১৩ জেলার ৪১ উপজেলার ২০৪টি ইউনিয়নে। চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

এসব জেলায় বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে নিউজবাংলার প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, ভোটার উপস্থিতি সকাল থেকেই ছিল চোখে পড়ার মতো। বরিশাল বিভাগের কয়েক জেলায় সকালে বৃষ্টি নামলেও ভোটার উপস্থিতি কমেনি।

বরিশাল জেলায় তিন ইউনিয়নে ভোটের সময় সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে সংঘর্ষের পর ককটেল বিস্ফোরণে একজন নিহত হন। আহত হন দুইজন।

হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের খাগেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তারের জেরে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ ও ৮টি ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সহিংসতার কারণে ঘণ্টাখানেক ভোট বন্ধ থাকে।

একই উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের গঙ্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র দখল নিয়ে নৌকা প্রতীকের সমর্থকদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ হয়। এতে এক আনসার সদস্য ও এক পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানেও ফাঁকা গুলি করে পুলিশ। এখানেও কিছু সময়ের জন্য ভোট গ্রহণ ব্যাহত হয়।

সহিংসতা, ২ মৃত্যু, বর্জনের মধ্যে শেষ হলো ইউপি ভোট
গৌরনদীর খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণে একজন নিহত হন

বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের আবুল কালার ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইচেষ্টার ঘটনায় দেড় ঘণ্টা ভোট বন্ধ থাকে। নষ্ট হয় ২০ থেকে ২৫টি ব্যালট।

এই জেলার মুলাদী উপজেলায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেন গাছুয়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোকসেদ মীর ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল মালেক শিকদার।

উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী উর্মিলা বাড়ৈ অনিয়মের অভিযোগে ভোট বর্জন করেন।

ভোলায় চরফ্যাশনের হাজারিগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরফকিরা কোয়াইড প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সদস্য পদ প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হন। আহত হন দুইজন।

তজুমদ্দিনের চাচরা ইউনিয়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রিয়াদ হোসেন হান্নান। তিনি সেখানে পুনর্নির্বাচনের দাবিও করেন।

সম্ভুপুর ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তাবিষয়ক উপসচিব আশহাফুল রহমান তিন পোলিং এজেন্টকে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

আরও কিছু কেন্দ্রে বিক্ষিপ্তভাবে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

সহিংসতা, ২ মৃত্যু, বর্জনের মধ্যে শেষ হলো ইউপি ভোট
ভোলায় চরফ্যাশনের হাজারিগঞ্জ ইউনিয়নের সংঘর্ষে নিহত হন একজন

পটুয়াখালীর বাউফলে কেশবপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন পাঁচজন। কনকদিয়া ইউনিয়নে একটি কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টকে বের করে দেয়ার অভিযোগে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোট বর্জন করেন।

ঝালকাঠিতে ভোটার উপস্থিতি বিভাগের অন্য জেলার তুলনায় ছিল কম। এই জেলার নলছিটি উপজেলার সুজিতপুর ইউনিয়নে সদস্য পদ প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ফাঁকা গুলি করে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। তবে ভোট গ্রহণ বন্ধ হয়নি।

ভোট হয়েছে ঝালকাঠি পৌরসভারও। অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আফজাল হোসেন।

ভোট হয়েছে দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ পৌরসভাতেও। ভোটারদের মধ্যে নারীদের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক।

সহিংসতা, ২ মৃত্যু, বর্জনের মধ্যে শেষ হলো ইউপি ভোট

দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

লক্ষ্মীপুরে রামগতি ও কমলনগরে ৬টি ইউনিয়নে হয়েছে ভোট। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর-২ আসনে হয়েছে উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ।

এর মধ্যে কমলনগরের তারাবগঞ্জের উত্তর চরপাগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ফয়সাল আহমদ রতন ও নৌকার প্রার্থী মির্জা আশ্রাফুল জামাল রাসেলের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন।

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিঙ্কুর গাড়িসহ পাঁচটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে বিজিবি ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এর আগে কেন্দ্রের বাইরে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া মধ্য চরপাগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তোরাবগঞ্জ ইসলাম পাড়া আনসার আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

রামগতির বেশ কয়েকটি কেন্দ্র থেকে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

অন্যান্য জেলায় ভোট হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন বরিশাল থেকে তন্ময় তপু, ভোলা থেকে আদিল তপু, পটুয়াখালী থেকে জাকারিয়া হৃদয়, ঝালকাঠি থেকে হাসনাইন তালুকদার দিবস, দিনাজপুর থেকে কুরবান আলী এবং লক্ষ্মীপুর থেকে আনিস কবির।

আরও পড়ুন:
তিন আসনে আওয়ামী লীগের টিকিট চান ৯৪ জন

শেয়ার করুন

কোথায় দুর্নীতি প্রমাণ দিন: বিএনপিকে কাদের

কোথায় দুর্নীতি প্রমাণ দিন: বিএনপিকে কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সড়ক অবকাঠামো খাতে পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, টানেলসহ যে কয়টি মেগা-প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে- সেখানে কোনো দুর্নীতি হলে কাল্পনিক অভিযোগ না করে সুস্পষ্ট প্রমাণ দিন। স্পেসিফিক প্রমাণ দিন, কোথায় দুর্নীতি হয়েছে?’

মেগা প্রকল্প নিয়ে বিএনপি নেতাদের দুর্নীতির অভিযোগকে কাল্পনিক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ ব্যাপারে দলটিকে প্রমাণ দিতে বলেছেন তিনি।

সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সোমবার সকালে এক ব্রিফিংয়ে বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ করে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘যারা নিজেদের সময় দেশে একটি মেগা প্রকল্প করার সাহস ও সক্ষমতা দেখাতে পারেনি তারাই আজ মেগা প্রকল্প নিয়ে মেগা-মিথ্যাচারে নেমেছে। এটা তাদের পরিকল্পিত অপচেষ্টা।

‘এটা তাদের প্রতিহিংসাপরায়ণ ও ব্যর্থ এক বিরোধীদলের ঈর্ষাকাতরতা ছাড়া কিছু নয়। বিএনপি সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম দেখে নিজেদের আমলের ব্যর্থতা ঢাকতে পরিকল্পিত মিথ্যাচার করছে।’

ওবায়দুল কাদেরের মতে, বিএনপি উন্নয়নবিমুখ কথা-সর্বস্ব রাজনৈতিক দল। তাদের সময় বড় প্রকল্প নেওয়ার মানসিক সাহস সক্ষমতা ছিলো না। শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে অদম্য গতিতে।

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘সড়ক অবকাঠামো খাতে পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, টানেলসহ যে কয়টি মেগা-প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে- সেখানে কোনো দুর্নীতি হলে কাল্পনিক অভিযোগ না করে সুস্পষ্ট প্রমাণ দিন।

‘স্পেসিফিক প্রমাণ দিন, কোথায় দুর্নীতি হয়েছে? আসলে দুর্নীতি প্রবণতা তাদের মগজে এবং অস্থিমজ্জায় মিশে গেছে। বিএনপির শাসনামলে যে দুর্নীতি তারা করেছে, তা আজও ভুলতে পারেনি বিএনপি। বিএনপি আবার সুযোগ পেলে জনগণের সম্পদ লুন্ঠনের অপেক্ষায় রয়েছে কিন্তু জনগণ বিএনপির এ দুঃস্বপ্ন কখনো সফল হতে দিবে না।’

অব্যাহত মিথ্যাচার করে দেশের ইমেজ নষ্ট করাই বিএনপির লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘নিজেরা ক্ষমতায় থাকাকালে দেশকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিল। আর এখন শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে ঈর্ষান্বিত হয়ে দুর্নীতির গন্ধ খুঁজে বেড়ায়

‘বিএনপি তাদের শাসনামলে দুর্নীতিতে বারবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার কলঙ্কতিলক দেশকে পরিয়েছিল, যা জনগণ এখনও ভুলে যায়নি। যারা হাওয়া ভবন নামের খাওয়া ভবন তৈরি করে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল। তাদের মেগা-প্রকল্প দেখলে মনোযন্ত্রণা হওয়াই স্বাভাবিক।’

বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে কাদের বলেন, দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি স্পষ্ট ও কঠোর। যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে নিজ দলের নেতাকর্মীদেরও ছাড় দেয়া হয়নি। অপরদিকে বিএনপি দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণতো দূরের কথা গঠনতন্ত্র থেকে দুর্নীতিবাজদের অযোগ্যতা বিষয়ক ধারা বাতিল করে আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজদের দল হিসেবে নিজেদের স্বীকৃতি দিয়েছে।

‘আপনাদের গঠনতন্ত্রে দুর্নীতিবিরোধী ৭ ধারা ফিরিয়ে আনুন। একদিকে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে অন্যদিকে কল্পিত অভিযোগ করাকে জনগণ নৈতিকতা বিরোধী বলেই মনে করেন।’

আরও পড়ুন:
তিন আসনে আওয়ামী লীগের টিকিট চান ৯৪ জন

শেয়ার করুন

লক্ষ্মীপুরে দুই প্রার্থীর সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ১০

লক্ষ্মীপুরে দুই প্রার্থীর সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ১০

লক্ষ্মীপুরে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল করা নিয়ে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ছবি: নিউজবাংলা

ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকরা জানান, শান্তিপূর্ণ ভোট চলছিল। হঠাৎ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা নৌকার পক্ষ নিয়ে কেন্দ্র দখল করতে আসলে ভোটাররা তাদের ধাওয়া দেন। তবে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বলছেন, কেন্দ্রের বাইরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল করা নিয়ে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

কমলনগরের তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের চর পাগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সোমবার দুপুর ১টার দিকে ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নৌকা প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির গাড়িসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ আধা ঘণ্টার জন্য বন্ধ রেখে আবার চালু করা হয়।

আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকরা জানান, শান্তিপূর্ণ ভোট চলছিল। হঠাৎ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা নৌকার পক্ষ নিয়ে কেন্দ্র দখল করতে আসলে ভোটাররা তাদের ধাওয়া দেন।

তবে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বলছেন, কেন্দ্রের বাইরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

সকাল থেকে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে লক্ষ্মীপুর-২ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন ও রামগতি-কমলনগরের ৬টি ইউপিতে নির্বাচন শুরু হয়। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউপি নির্বাচনি এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে কিছু বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নৌকার পক্ষের লোকজন ভোটারদের প্রভাবিত করতে স্থানীয় চর পাগলা কেন্দ্রে যান। এ সময় ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকরা তাদের ধাওয়া করলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়।

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিঙ্কুর গাড়িসহ তার সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীদের আরও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আতিক আহমেদ জানান, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুর্বৃত্তরা কেন্দ্রে হামলা চালায়। এ সময় ২০ মিনিট ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে ইভিএম পদ্ধতিতে আর রামগতি ও কমলনগরের ৬ ইউপিতে ব্যালটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ নির্বাচন।

সংসদীয় আসনে এমপি পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন ও লাঙল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য শেখ ফায়েজ উল্লাহ শিপন লড়ছেন।

এ আসনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৬টি। এর মধ্যে ৯৭টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়েছে। এখানে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২ হাজার ৯৬৩।

এদিকে রামগতির চর বাদাম, চর রমিজ, চর পোড়াগাছা ও কমলনগরের চর ফলকন, হাজির হাট ও তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নে ৫৭টি কেন্দ্রে ভোট চলছে।

এসব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪০ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৮৩ জন ও সদস্য পদে ২৫১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ ইউনিয়নে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩১ জন ভোটার।

আরও পড়ুন:
তিন আসনে আওয়ামী লীগের টিকিট চান ৯৪ জন

শেয়ার করুন

পৌর নির্বাচনের ভোট বর্জন ঝালকাঠির স্বতন্ত্র প্রার্থীর

পৌর নির্বাচনের ভোট বর্জন ঝালকাঠির স্বতন্ত্র প্রার্থীর

স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজাল বলেন, সকাল ৮টায় ভোট শুরুর পরপরই পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের সবকটি কেন্দ্র থেকে তার পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়েছেন নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থীর লোকজন। বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবগত করা হলেও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি।

ঝালকাঠি পৌরসভা নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আফজাল হোসেন।

এই ঘোষণা লিখিতভাবে সোমবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের পাঠিয়েছেন তিনি।

আফজাল জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র। এই নির্বাচনে তিনি নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে লড়ছিলেন।

আফজাল বলেন, সকাল ৮টায় ভোট শুরুর পরপরই পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের সবকটি কেন্দ্র থেকে তার পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়েছেন নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থীর লোকজন। বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবগত করা হলেও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি। তাই ভোট বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি এখনও লিখিত কোনো কাগজ পাইনি।’

তিনি ভোট বর্জন করায় এখন মেয়র পদের জন্য লড়াই হচ্ছে নৌকা প্রতীকের বর্তমান মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার এবং ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের হাবিবুর রহমানের মধ্যে।

আরও পড়ুন:
তিন আসনে আওয়ামী লীগের টিকিট চান ৯৪ জন

শেয়ার করুন

তজুমদ্দিনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জন

তজুমদ্দিনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জন

চাচড়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রিয়াদ হোসেন হান্নান বলেন, ‘নির্বাচন শুরুর আগে বহিরাগতরা আমার সমর্থকদের দেড় শ ঘরে ভাঙচুর ও হামলা চালায়। এতে আমার অন্তত ১০০ কর্মী আহত হয়েছেন।’

ভোলার তজুমদ্দিনে নির্বাচন বর্জন করেছেন চাচড়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রিয়াদ হোসেন হান্নান।

ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার, অনিয়ম ও কর্মী-সমর্থকদের মারধরসহ নানা অভিযোগ তুলে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

নিজ বাড়িতে দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভোট শুরুর পরপরই তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেন নৌকাপ্রার্থীর কর্মীরা। যেসব কেন্দ্রে এজেন্ট ছিল, তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন শুরুর আগে বহিরাগতরা আমার সমর্থকদের দেড় শ ঘরে ভাঙচুর ও হামলা চালায়। এতে আমার অন্তত ১০ কর্মী আহত হয়েছেন। ভোটের পরিবেশ না থাকা এবং নানা অনিয়ম হওয়ায় ভোট থেকে সরে গিয়েছি। বিষয়টি প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনকেও লিখিতভাবে জানিয়েছি।’

বর্জনের ঘোষণার পর তিনি পুনর্নির্বাচনের দাবিও জানান।

তার অভিযোগ পেয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আমির খসরু গাজী।

আরও পড়ুন:
তিন আসনে আওয়ামী লীগের টিকিট চান ৯৪ জন

শেয়ার করুন

মুলাদীতে নির্বাচন বর্জন, দেহেরগতিতে ব্যালট ছিনতাইচেষ্টা

মুলাদীতে নির্বাচন বর্জন, দেহেরগতিতে ব্যালট ছিনতাইচেষ্টা

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ ‍এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বরিশালের মুলাদীর ৪ নম্বর গাছুয়া ‍ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী। ছবি: নিউজবাংলা

কারচুপির অভিযোগ ‍এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বরিশালের মুলাদী ‍উপজেলার ৪ নম্বর গাছুয়া ‍ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোকসেদ মীর। আর বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নে ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে এক ঘন্টা যাবৎ ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ ‍এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বরিশালের মুলাদী ‍উপজেলার ৪ নম্বর গাছুয়া ‍ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী (আনারস প্রতীক) মোকসেদ মীর।

এলাকায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‍‘ইউনিয়নের ৯টি কেন্দ্রে আমার ‍এজেন্ট দেয়া হয়েছে। কিন্তু ভোট শুরুর পরপরই তাদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী জসিম ‍‍উদ্দিনের সমর্থকরা ‍এজেন্টদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়েছে। বিষয়টি প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ‍এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের অবহিত করা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।’

তিনি অভিযোগ করেন, রোববার তার বাসভবনের কাছেই ‍একাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ভোটারদের আতঙ্কিত করতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকরা এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন। বিষয়টি থানার ওসিকে অবহিত করার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এসব কারণে নির্বাচন বর্জন করছেন বলে ঘোষণা দেন তিনি।

ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টা

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নে আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে সোমবার দুপুর ১টার দিকে ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে এক ঘন্টা যাবৎ ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে।

কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল জানান, দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে একদল লোক ১ নম্বর কক্ষে ঢুকে সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার মাহামুদ হোসেনের কাছ থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়।

মুলাদীতে নির্বাচন বর্জন, দেহেরগতিতে ব্যালট ছিনতাইচেষ্টা
দেহেরগতি ইউনিয়নে আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টায় ২০ থেকে ২৫টির মত ব্যালট নষ্ট হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

মাহামুদ হোসেন জানান, ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলেও তারা নিয়ে যেতে পারেনি। এই ঘটনায় ২০ থেকে ২৫টির মত ব্যালট নষ্ট হয়েছে।

কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সেলিম নিয়াজী জানান, এই ঘটনায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ভোট গ্রহণ শুরু হয়নি, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।

আরও পড়ুন:
তিন আসনে আওয়ামী লীগের টিকিট চান ৯৪ জন

শেয়ার করুন