সরকার পতনে আন্দোলনের ডাক দিতে বললেন গয়েশ্বর

সরকার পতনে আন্দোলনের ডাক দিতে বললেন গয়েশ্বর

‘দলের নেতা তারেক রহমান, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিদেশের মাটিতে, তেমনি অবস্থায় আমরা ভার্চুয়ালি এমন আলোচনার মধ্য দিয়ে কথা বলে যাচ্ছি ৷ আমার মনে হয় কথায় কাজ হবে না। জিয়ার কথায় চলতে হবে, কথা কম কাজ বেশি ৷ এখন মনে হচ্ছে কথা বলার থেকে বেশি জরুরি সরকারকে পতন কীভাবে করাব ৷ সেই পতনের ডাক দেন, সেই আন্দোলনের ডাক দেন।’

সরকার পতনের জন্য আন্দোলনের ডাক দিতে বলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘দলের নেতা তারেক রহমান, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিদেশের মাটিতে, তেমনি অবস্থায় আমরা ভার্চুয়ালি এমন আলোচনার মধ্য দিয়ে কথা বলে যাচ্ছি ৷ আমার মনে হয় কথায় কাজ হবে না। জিয়ার কথায় চলতে হবে, কথা কম কাজ বেশি ৷

‘এখন মনে হচ্ছে কথা বলার থেকে বেশি জরুরি সরকারের পতন কীভাবে করাব ৷ সেই পতনের ডাক দেন, সেই আন্দোলনের ডাক দেন। আমরা যদি অতীতের কোনো ইতিহাসে থাকি, আগামী ইতিহাসেও আমরা থাকব ৷ আর একটি ইতিহাস সৃষ্টি করব।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি।

মঙ্গলবার প্রেস ক্লাবে আরেকটি অনুষ্ঠানে গয়েশ্বর রায় মন্তব্য করেছিলেন, বর্তমানে বিএনপিতে ৮০ জন নেতা, ২০ জন কর্মী। সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ। যেদিন সবাই কর্মী হবে, সামনে একজন নেতা হবে, সেদিন গণতন্ত্র মুক্তি পাবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মন্ত্রীদের ভাষা সুস্থ-সভ্য নয়: বিএনপি

মন্ত্রীদের ভাষা সুস্থ-সভ্য নয়: বিএনপি

প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

মির্জা ফখরুল ইসলাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তিনি বিএনপির ভুল ছাড়া আর কিছুই দেখতে পান না। শুধু বিএনপি-বিএনপি-বিএনপি। আপনারা বলে থাকেন, বিএনপি নাকি নাই; বিএনপি যদি না-ই থাকে তাহলে বিএনপিকে নিয়ে এত দুঃস্বপ্ন দেখেন কেন?’

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা যেসব কথা বলেন সেগুলো কোনো সুস্থ্য-সভ্য মানুষের ভাষা হতে পারে না বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনাদের মন্ত্রীরা যে ভাষায় কথা বলেন, কোনো সুস্থ-সভ্য মানুষ এ ভাষায় কথা বলতে পারে না।’

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমাবেশে এ কথা বলেন ফখরুল।

সম্প্রতি তথ্য প্রতিমন্ত্রী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমান সম্পর্কে অশালীন ভাষায় বক্তব্য দেন। সে বিষয়টিকেই সামনে এনে এসব কথা বলেন ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এরইমধ্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ভাইরাল হয়েছে। এতে দল এবং দলেও বাইরেও সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তিনি বিএনপির ভুল ছাড়া আর কিছুই দেখতে পান না। শুধু বিএনপি-বিএনপি-বিএনপি। আপনারা বলে থাকেন, বিএনপি নাকি নাই; বিএনপি যদি না-ই থাকে তাহলে বিএনপিকে নিয়ে এত দুঃস্বপ্ন দেখেন কেন?’

সমবেশে মির্জা ফখরুল দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করে বলেন, ‘তাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা একটি মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে তার সাজা দেয়া হয়েছে। যেখানে লোয়ার কোর্ট থেকে দেয়া হয়েছিল ৫ বছর সাজা, সেখানে হাইকোর্টে দেয়া হয়েছে ১০ বছর। এতেই বোঝা যায় কীভাবে রাষ্ট্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করছেন। কীভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করছেন। গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। এই রাষ্ট্রকে একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন। সে কারণে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা না দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্রের কথা মুখে বলে, বিশ্বাস করে না। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে তারা একই কাজ করে আসছে। এক সময় গণতন্ত্রকে বাদ দিয়ে বাকশাল গঠন করে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপি নেত্রী বলে আমরা বলছি না, বেগম খালেদা জিয়া এই দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য, আপোষহীন ভূমিকার জন্য দেশের মানুষই তার মুক্তি চায়।’

শ্রমিকরা সবসময় আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে অবহেলিত উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য, যারা ক্ষমতায় আছে তারা বড় মানুষদের কথা চিন্তা করেন। যাদের মিল আছে, ফ্যাক্টরি আছে তাদেরকে প্রণোদনা দেন। কিন্তু যারা মিল ফ্যাক্টরিগুলোর চালু রেখেছেন, গাড়ির চাকা চালু রেখেছেন তাদেরকে কোনো প্রণোদনা দেননি।

‘সরকার উন্নয়ন কথা বলে। এই উন্নয়ন কাদের হচ্ছে? সাধারণ মানুষের কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। সে জন্য দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে হবে সেই জন্য বলছি না। এই সরকারকে সরাতে হবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলসহ অন্যরা।

আরও পড়ুন:
বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকীতে আ.লীগের শ্রদ্ধা

সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকীতে আ.লীগের শ্রদ্ধা

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর (মাঝে) সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (বাঁয়ে)। ছবি: সংগৃহীত

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে একজন ‘দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক’ আখ্যা দিয়ে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা।

‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ হিসেবে পরিচিত উপমহাদেশের বরেণ্য রাজনৈতিক নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন।

রোববার সকালে ঢাকার সুপ্রিম কোর্টের পাশে তিন নেতার মাজারে তার সমাধিতে এই শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের নেতারা।

১৯৬৩ সালের এই দিনে লেবাননের বৈরুতের এক হোটেলকক্ষে নিঃসঙ্গ অবস্থায় মারা যান তিনি।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী একাধারে ছিলেন রাজনীতিক, আইনজ্ঞ, বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভা ও গণপরিষদের সদস্য এবং অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রীসহ তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি শ্রমজীবীসহ অবহেলিত মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বার্থরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বরেণ্য এই রাজনীতিকের ৫৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আলাদা বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী আমৃত্যু আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন। গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গণতন্ত্রের বিকাশসহ এতদাঞ্চলের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নে যে অবদান রেখে গেছেন জাতি তা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তার জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক চিন্তাচেতনা ও জনগণের সার্বিক কল্যাণে উদ্বুদ্ধ করবে।’

আব্দুল হামিদ বলেন, ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী উপমহাদেশে রাজনীতি ও গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দেয়া বাণীতে বলেন, ‘হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি বিকাশের জন্য এ অঞ্চলের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সারা জীবন কাজ করেছেন।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে একজন ‘দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক’ আখ্যা দিয়ে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘একজন প্রতিভাবান রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে তার দক্ষ পরিচালনায় গণমানুষের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আরও বিকশিত হয়। তার সুযোগ্য উত্তরসূরি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব পাকিস্তান সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে।’

গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ও মানুষের কল্যাণে এ মহান নেতার জীবন ও আদর্শ সাহস ও প্রেরণা জোগায় বলেও উল্লেখ করেছেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘জাতি তার অবদান সব সময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।’

সোহরাওয়ার্দীর দেয়া গণতন্ত্র পঁচাত্তরের পর ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে বারবার বলি হয়েছে, নির্বাচনের কফিনে গণতন্ত্রকে বারবার লাশ বানানো হয়েছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এই গণতন্ত্রকে শৃঙ্খলমুক্ত করার আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।’

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জন্ম ১৮৯২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে। তিনি কলকাতা হাইকোর্টের খ্যাতনামা বিচারক স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দীর কনিষ্ঠ সন্তান।

পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন সোহরাওয়ার্দী।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর মুসলিম লীগ সরকারের একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করেন এই রাজনীতিক। তার প্রচেষ্টায় ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণীত হয়।

১৯৫২ সালের ভাষার জন্য রক্ত দিয়ে বাঙালির যে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটে, তার নেতৃত্বেও ছিলেন সোহরাওয়ার্দী।

আরও পড়ুন:
বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

খালেদার রক্তক্ষরণ আপাতত বন্ধ: চিকিৎসক

খালেদার রক্তক্ষরণ আপাতত বন্ধ: চিকিৎসক

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

মেডিক্যাল বোর্ডের এক চিকিৎসক বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শরীরের অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। ওষুধ প্রয়োগের কারণে খালেদা জিয়ার রক্তক্ষরণ সাময়িক বন্ধ হয়েছে। ওনার পুনরায় যেন রক্তক্ষরণ না হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ দেয়া হচ্ছে।’

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রধান অসুখ পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের এক সদস্য।

মেডিক্যাল বোর্ডের ওই সদস্য রোববার সকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শরীরের অবস্থা আগের চেয়ে ভালো ওষুধ প্রয়োগের কারণে খালেদা জিয়ার রক্তক্ষরণ সাময়িক বন্ধ হয়েছে। ওনার পুনরায় যেন রক্তক্ষরণ না হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ দেয়া হচ্ছে।’

প্রতিদিনের মতো গতকাল শনিবার বিকেলে খালেদার স্বাস্থ্যের বিষয় নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠক হয়েছে। মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ কয়েকজন চিকিৎসক বৈঠকে অংশ নেন। আজ বিকেলেও মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

গতকাল বৈঠক থেকে নতুন করে কয়েকটি স্বাস্থ্যের পরীক্ষা দেয়া হয়েছে বলে জানান ওই চিকিৎসক।

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক আছে। ইনসুলিন দিয়ে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। এখন রক্তের হিমোগ্লোবিন ৮ দশমিক ৫০ আছে।’

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বাসার তৈরি খাবার খাচ্ছেন খালেদা জিয়া।

শারীরিক নানা জটিলতা নিয়ে ১৩ নভেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে।

তার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের কথা বলা হয়। এমনকি তিনি চরম সংকটাপন্ন দাবি করে তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার দাবি তোলে দলটি।

তখন থেকে বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার দাবিতে বেশ কিছু কর্মসূচি পালন করে আসছে।

আরও পড়ুন:
বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

ওবায়দুল কাদের নিজেকে শ্রেষ্ঠ সার্জন মনে করেন: রিজভী

ওবায়দুল কাদের নিজেকে শ্রেষ্ঠ সার্জন মনে করেন: রিজভী

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শ‌নিবার অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (অ্যাব) উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রুহুল কবির রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘তাদের বক্তব্য শুনলে মনে হয়, তারা প্রধানমন্ত্রীকে মনে করেন সবচেয়ে বড় মেডিসিনের ডাক্তার। ওবায়দুল কাদের নিজেকে মনে করেন বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ সার্জন। আর হাছান মাহমুদ নিজেকে গ্যাস্ট্রোলজির বিখ্যাত অধ্যাপক মনে করেন।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও চিকিৎসা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতা এবং সরকারের মন্ত্রীরা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শ‌নিবার অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (অ্যাব) উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে মানববন্ধনে তি‌নি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও চিকিৎসা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী এবং সরকারের মন্ত্রীরা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দিচ্ছেন। তাদের বক্তব্য শুনলে মনে হয়, তারা প্রধানমন্ত্রীকে মনে করেন সবচেয়ে বড় মেডিসিনের ডাক্তার। ওবায়দুল কাদের নিজেকে মনে করেন বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ সার্জন। আর হাছান মাহমুদ নিজেকে গ্যাস্ট্রোলজির বিখ্যাত অধ্যাপক মনে করেন।’

রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থা যদি এতই ভালো হয়, তাহলে চার্টার বিমানে করে ওবায়দুল কাদেরকে কেন বিদেশ নেয়া হয়েছিল?’

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সম্রাটের মতো, সুলতানের মতো দেশ চালাচ্ছেন। আর তার মন্ত্রীরা আমিরের মতো চলেন। প্রধানমন্ত্রী যা বলেন, তার আমির-ওমরারা একই বুলি আওড়াতে থাকেন। তি‌নি যা বলেন, তার মন্ত্রীরা আরও বা‌ড়িয়ে বলেন।’

‌রিজভী বলেন, ‘পা‌কিস্তানসহ অনেক দেশকেই আমেরিকা তাদের গণতন্ত্র সম্মেলনে ডেকেছে, কিন্তু বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কারণ একটাই আপনার প্লাস্টিকের গণতন্ত্র, কচুপাতার ওপরে যে পা‌নি থাকে, সেই পা‌নির মতো গণতন্ত্র। কচুপাতার মতো টলা দিলেই পানি পড়ে যাবে।’

আইনমন্ত্রীর উদ্দেশে তি‌নি বলেন, ‘এ দেশে বিচার বিভাগ কোথায় স্বাধীন? তারেক রহমানকে একজন বিচারক খালাস দেয়ার কারণে তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি তো বিচার-বিশ্লেষণ করে নিরপেক্ষ রায় দিয়েছিলেন।

‘আজকে সাবেক প্রধান বিচারপতিকে পিস্তল ঠে‌কিয়ে কেন দেশছাড়া করলেন? এটা কোন আইন? কোন প্রক্রিয়ার কথা বলছেন? দেশের কোনো আইনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য বাধা নেই। এই আইনের বাধা একজনই, সেটা হলো শেখ হাসিনা। আজকে তি‌নি নিজেকে দেশের আইন মনে করেন। তিনি যা বলছেন, তা-ই আইন। তি‌নি চাইলে যে যত বড় হোক না কেন, তাকে শাস্তি পেতে হবে। যত বড় রাজনীতিবিদ হোন না কেন, শা‌স্তি পেতে হবে। য‌দি সে ভালো মানুষও হয়, প্রধানমন্ত্রী চাইলে শাস্তি পেতে হবে।’

খালেদা জিয়ার বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান রিজভী।

প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান চুন্নুর পরিচালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন অ্যাবের সেক্রেটারি প্রকৌশলী আলমগীর হাসিন আহমেদ, বিএনপির গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সেলিম ভুঁইয়া, বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, সেক্রেটারি শহীদুল ইসলাম, প্রকৌশলী আব্দুল হালিম পাটোয়ারী, প্রকৌশলী মিয়া মো. কাইয়ুম, প্রকৌশলী মাহবুব আলম, রিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া, প্রকৌশলী আসিফ হোসেন রচি, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের রফিকুল ইসলাম।

কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী মুহিত রুমি, হেলাল উদ্দিন তালুকদার, কামরুল হাসান সাইফুল, শফিউল আলম তালুকদার সবুজসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

রাজনীতিতে ‘অসুস্থ প্রতিযোগিতা’ চান না পরশ

রাজনীতিতে ‘অসুস্থ প্রতিযোগিতা’ চান না পরশ

যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ শেখ ফজলুল হক মণির ৮৩তম জন্মদিনে আলোচনা সভায় তার পুত্র শেখ ফজলে শামস পরশ। ছবি: নিউজবাংলা

শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, ‘সাফল্য অর্জন করতে হবে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে। যোগ্যতা আর দক্ষতা থাকলে কাউকে ডিঙানোর প্রয়োজন হবে না। কাউকে ঘুষ দেয়া বা তদ্বির করার দরকার হবে না। কোন বড় ভাইয়েরও দরকার হবে না।’

রাজনীতিতে একে অপরকে ডিঙিয়ে ওপরে ওঠার ‘অসুস্থ প্রতিযোগিতা’ ছাড়তে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ।

রাজধানীতে শনিবার সকালে এক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ শেখ ফজলুল হক মণির ৮৩তম জন্মদিনে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে শনিবার যুবলীগ আয়োজন করে আলোচনা সভার।
এতে শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, ‘সাফল্য অর্জন করতে হবে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে। কাকে ডিঙিয়ে কোথায় উঠবো, এমন অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে। যোগ্যতা আর দক্ষতা থাকলে কাউকে ডিঙানোর প্রয়োজন হবে না।

‘যোগ্যতাই আপনাদের সাফল্যের দরজায় পৌঁছে দেবে। কাউকে ঘুষ দেয়া বা তদবির করার দরকার হবে না। কোনো বড় ভাইয়েরও দরকার হবে না।’

মানবিক, বিজ্ঞানভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা আগামী দিনে যুবলীগের লক্ষ্য বলে জানান পরশ।

পিতার আদর্শ স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘শেখ মণি যুবলীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে যুবসমাজকে সংগঠিত করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। স্বল্পন্নোত রাষ্ট্র থেকে আজকে বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে আমরা উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের কাতারে। আমাদের চিহ্নিত করতে হবে আগামীর সংগ্রাম কী, প্রতিকূলতা কী।’

যুক্তিনির্ভর পরিবেশ তৈরি হলে সাধারণ মানুষের ওপর নিপীড়ন যেমন কমবে, তেমনি মানুষ কুসংস্কারমুক্ত হবে বলেও বিশ্বাস করেন পরশ।

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি আর মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। আমাদের এই সম্প্রীতির বাংলাদেশে আর ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টি করতে পারবে না, ধর্মীয় দাঙ্গা সৃষ্টি করতে পারবে না। বিজ্ঞান ও মেধাভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা তৈরি হলে মানুষকে আর ধোঁকা দেয়া সম্ভব না।’

প্রগতিশীল সমাজ ব্যবস্থায় ধর্মান্ধতার কোনো স্থান নেই জানিয়ে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা শুধু একটা হাল ফ্যাশন দ্বারস্থ রাজনৈতিক বক্তব্য না, ধর্মনিরপেক্ষতা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। যার যার বিশ্বাস তার তার। বিশ্বাস কখনো চাপিয়ে দেয়া যায় না।’

পরশ বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জোট এদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চায় না। তারা আজ অপপ্রচারের আশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, কীভাবে ক্ষমতায় আসা যায়, কীভাবে বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা রোধ করা যায়? তাদের উদ্দেশ্য, বাংলাদেশকে একটা পশ্চাদপদ, মৌলবাদী ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করা।’

সরকারের নানা সহায়ক কর্মসূচী তুলে ধরে তিনি জানান, মানুষের কল্যাণে খাদ্য, শীতবস্ত্র বিতরণ ও টেলিমেডিসিন সেবার পাশাপাশি গৃহহীনদের আশ্রয়ণ কর্মসূচি অব্যাহত আছে। ৮ ডিসেম্বর এই কর্মসূচির তৃতীয় ধাপের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভায় শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরী বলেন, ‘বিত্ত-বৈভবের জন্য রাজনীতি না। দেশের উন্নয়ন আর জনগণের জন্য রাজনীতি করতে হবে।’

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, ‘খালেদার শরীরে বিষ প্রয়োগের যে অভিযোগ তুলছে বিএনপি নেতারা, সেটা হলে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য তারা নিজেরা এ কাজ করেছেন।’

এর আগে শনিবার সকালে বনানী কবরস্থানে শহীদ শেখ ফজলুল হক মণিসহ ১৫ আগস্টে নিহতদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।

যুবলীগ প্রতিষ্ঠাতার জন্মদিনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, খাদ্য বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যুবলীগ।

আরও পড়ুন:
বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

দেশকে আর অস্থীতিশীল করতে দেব না: কৃষিমন্ত্রী

দেশকে আর অস্থীতিশীল করতে দেব না: কৃষিমন্ত্রী

টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকসহ অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতা বিরোধী চক্র এখনও তৎপর রয়েছে। তারা বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে দেখতে চায় না। বাংলাদেশকে তারা পাকিস্তানের অঙ্গরাজ্য করতে চায়। তারা নির্বাচিত একটি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়। তাদের সে চেষ্টা কখনও সফল হবে না।’

স্বাধীনতা বিরোধী চক্র দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, দেশকে আর অস্থিতিশীল করতে দেবে না সরকার।

টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে শনিবার দুপুরে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতা বিরোধী চক্র এখনও তৎপর রয়েছে। তারা বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে দেখতে চায় না। বাংলাদেশকে তারা পাকিস্তানের অঙ্গরাজ্য করতে চায়। তারা নির্বাচিত একটি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়।

‘তাদের সে চেষ্টা কখনও সফল হবে না। কারণ দেশের মানুষ এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। দেশের উন্নয়নের উগ্রযাত্রা আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে। কেউ এটাকে প্রতিরোধ করতে পারবে না। দেশকে আমরা আর অস্থীতিশীল করতে দেব না।’

ছাত্রলীগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় অর্জন। আর এই অর্জনে মূল ভূমিকা রেখেছে ছাত্রলীগ।

‘সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্রলীগে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করা হচ্ছে। এই নেতৃত্বই আগামী দিনে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

আরও বক্তব্য দেন টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু এমপি ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মামুনুর রশীদ মামুন।

সম্মেলনে জেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

‘খালেদা জিয়া না থাকলে আওয়ামী লীগও থাকবে না’

‘খালেদা জিয়া না থাকলে আওয়ামী লীগও থাকবে না’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়া আছে বলে সীমান্তে এখনও শত্রুরা ভয় পায়। তিনিই এ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতীক। তিনি না থাকলে গণতন্ত্র থাকবে না। খালেদা জিয়া না থাকলে আওয়ামী লীগও থাকবে না।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া না থাকলে দেশের গণতন্ত্র থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আওয়ামী লীগও থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

খালেদার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ পাঠানোর দাবিতে শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়া উড়ে এসে জুড়ে বসেননি, তিনি বাংলাদেশের ত্যাগ স্বীকার করা নেত্রী। অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, বিদেশে চিকিৎসা করতে দিন। অন্যথায় আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তার চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। সেই আন্দোলন হবে আপনাদের পতনের আন্দোলন।

‘খালেদা জিয়া আছে বলে সীমান্তে এখনও শত্রুরা ভয় পায়। তিনিই এ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতীক। তিনি না থাকলে গণতন্ত্র থাকবে না। খালেদা জিয়া না থাকলে আওয়ামী লীগও থাকবে না।’

ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনের সভাপতিত্বে সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল।

বক্তব্য রাখেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন