সরকার পতনে আন্দোলনের ডাক দিতে বললেন গয়েশ্বর

সরকার পতনে আন্দোলনের ডাক দিতে বললেন গয়েশ্বর

‘দলের নেতা তারেক রহমান, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিদেশের মাটিতে, তেমনি অবস্থায় আমরা ভার্চুয়ালি এমন আলোচনার মধ্য দিয়ে কথা বলে যাচ্ছি ৷ আমার মনে হয় কথায় কাজ হবে না। জিয়ার কথায় চলতে হবে, কথা কম কাজ বেশি ৷ এখন মনে হচ্ছে কথা বলার থেকে বেশি জরুরি সরকারকে পতন কীভাবে করাব ৷ সেই পতনের ডাক দেন, সেই আন্দোলনের ডাক দেন।’

সরকার পতনের জন্য আন্দোলনের ডাক দিতে বলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘দলের নেতা তারেক রহমান, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিদেশের মাটিতে, তেমনি অবস্থায় আমরা ভার্চুয়ালি এমন আলোচনার মধ্য দিয়ে কথা বলে যাচ্ছি ৷ আমার মনে হয় কথায় কাজ হবে না। জিয়ার কথায় চলতে হবে, কথা কম কাজ বেশি ৷

‘এখন মনে হচ্ছে কথা বলার থেকে বেশি জরুরি সরকারের পতন কীভাবে করাব ৷ সেই পতনের ডাক দেন, সেই আন্দোলনের ডাক দেন। আমরা যদি অতীতের কোনো ইতিহাসে থাকি, আগামী ইতিহাসেও আমরা থাকব ৷ আর একটি ইতিহাস সৃষ্টি করব।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি।

মঙ্গলবার প্রেস ক্লাবে আরেকটি অনুষ্ঠানে গয়েশ্বর রায় মন্তব্য করেছিলেন, বর্তমানে বিএনপিতে ৮০ জন নেতা, ২০ জন কর্মী। সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ। যেদিন সবাই কর্মী হবে, সামনে একজন নেতা হবে, সেদিন গণতন্ত্র মুক্তি পাবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মনোনয়ন পেয়েও ভোটে অনীহা, জাপা থেকে বহিষ্কার আরও ১

মনোনয়ন পেয়েও ভোটে অনীহা, জাপা থেকে বহিষ্কার আরও ১

দল থেকে বাদ পড়েছেন জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আসলামুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা-১৪ ও আবদুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে কুমিল্লা-৫ আসন শূন্য ঘোষণা করার পর সেখানে উপনির্বাচনের তারিখ দেয়া হয়েছিল। দুটি আসনে লাঙ্গল প্রতীক পেয়েও ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় পার্টির দুই নেতা। আর এ কারণে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ঢাকা-১৪ আসনের উপনির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীক দেয়া মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোয় তাকে দল থেকেই বাদ দিয়েছে জাতীয় পার্টি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক এম এ রাজ্জাক খান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মোস্তাক দলটির ভাইস চেয়ারম্যান।

এ নিয়ে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পাওয়া দুই নেতাকে একই কারণে দল থেকে বহিষ্কার করা হলো। কুমিল্লা-৫ আসনেও একইভাবে ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোয় দল থেকে বাদ পড়েছেন জসিম উদ্দিন।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আসলামুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা-১৪ ও আবদুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে কুমিল্লা-৫ আসন শূন্য ঘোষণা করার পর সেখানে উপনির্বাচনের তারিখ দেয়া হয়েছিল।

নির্বাচনে কারচুপি হয় এমন অভিযোগ এনে বিএনপি আগেই জানিয়েছে, তারা ভোটে আসবে না। এ অবস্থায় জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিই একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের।

তবে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের শূন্য আসন লক্ষ্মীপুর-২-এ জাতীয় পার্টি একেবারে সুবিধা করতে পারেনি। সেখানে আওয়ামী লীগের নৌকায় সাড়ে ৯৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। আর এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এককাট্টা হয়ে লড়েওনি।

এর বাইরে সিলেট-৩ আসনেও ভোট হচ্ছে। সেখানেই কেবল জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পাওয়া আতিউর রহমান আতিকই এখন পর্যন্ত ভোট নিয়ে বেশ আগ্রহী। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া হাবিবুর রহমানের প্রার্থিতা ঠেকাতে তিনি চেষ্টাও করেছেন।

আতিকের দাবি, হাবিব বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যেরও নাগরিক। এ কারণে তার ভোটে দাঁড়ানোর যোগ্যতা নেই। তবে নির্বাচন কমিশন হাবিবের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে।

মোস্তাকুর রহমান মোস্তাককে বহিষ্কার করার বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক রাজ্জাক খান বলেন, `দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় মোস্তাকুর রহমান মোস্তাককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে মোস্তাকুর রহমান মোস্তাকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন:
বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

বিএনপি নেতারা যেন সার্কাসের ক্লাউন: কাদের

বিএনপি নেতারা যেন সার্কাসের ক্লাউন: কাদের

বিএনপি নেতাদের সার্কাসের ক্লাউনের সঙ্গে তুলনা করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

‘সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকগুলোতে দেখুন, প্রতিটি সূচকে শেখ হাসিনা সরকারের অর্জনের ফলেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। এটা বাংলাদেশ সরকারের কোনো বানানো সূচক নয়, এটা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার তৈরি সূচক,’ বিএনপি মহাসচিবকে উদ্দেশ করে বলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেবরা এসব দেখতে পান না। তারা ততটুকুই বলেন, যতটুকু টেমস নদীর ওপার থেকে তাদের কাছে ফরমায়েশ আকারে ভেসে আসে।’

বিএনপি নেতাদের সার্কাসের ক্লাউনের সঙ্গে তুলনা করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার নিজ বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের কথাবার্তা শুনে মনে হয় যেন সার্কাসের ক্লাউনরা বক্তব্য রাখছে। তাদের এই নেতিবাচক ধারা এবং ক্লাউনের ভূমিকা পালন থেকে কবে ফিরে আসবে?’

‘রাজনীতিতে প্রতিপক্ষ থাকবে, তাই বলে সাদাকে সাদা বলা যাবে না এমনটি নয়। রাজনীতির মাঠে বিএনপিকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি কিন্তু বিএনপি আওয়ামী লীগকে শত্রুজ্ঞান করে। দেশের রাজনীতিতে ওয়ার্কিং আন্ডারস্ট্যান্ডিং বিএনপিই নষ্ট করেছে।’

বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে কাদের বলেন, দেশ-বিদেশে যখন শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রশংসা করা হয় তখন বিএনপি কষ্ট পায়। সত্য লুকানো আর অসত্যের সঙ্গে সখ্য বিএনপির পুরনো অভ্যাস।

‘সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকগুলোতে দেখুন, প্রতিটি সূচকে শেখ হাসিনা সরকারের অর্জনের ফলেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। এটা বাংলাদেশ সরকারের কোনো বানানো সূচক নয়, এটা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার তৈরি সূচক,’ বিএনপি মহাসচিবকে উদ্দেশ করে বলেন তিনি।

কাদের বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগের ইতিবাচক পরিবেশ বাংলাদেশে বিরাজ করছে। আপনারা (বিএনপি) আন্দোলনের নামে আগুন-সন্ত্রাস আর জনগণের সম্পদ ধ্বংসের রাজনীতি পরিত্যাগ করুন, তাহলেই বিনিয়োগকারীরা আরও উৎসাহী ও আস্থাশীল হবে।

‘বিশ্ব অর্থনীতি যখন করোনা অভিঘাত মোকাবিলা করতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন নতুন করে বেড়েছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী। উন্নয়ন উৎপাদনে গতি হয়েছে মন্থর। এমন প্রতিকূলতার মাঝেও শেখ হাসিনা সরকার দক্ষতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে মানুষের জীবনের সুরক্ষার পাশাপাশি জীবিকার চাকা সচল রাখতে। অর্থনীতির গতিপ্রবাহ ধরে রেখে প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা বজায় রাখার মতো চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ অতিক্রম করেছে।’

তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেবরা এসব দেখতে পান না। তারা ততটুকুই বলেন যতটুকু টেমস নদীর ওপার থেকে তাদের কাছে ফরমায়েশ আকারে ভেসে আসে।’

পদ্মা সেতুর ৮৬ ভাগ সার্বিক কাজ শেষ

এর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বোর্ড সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। এ সময় তিনি বলেন, ‘নানান অনিশ্চয়তার দোলাচলে আর চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ। ৪১টি স্প্যানের সব কটি সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে।

‘গতকাল পর্যন্ত মূল সেতুর নির্মাণকাজের অগ্রগতি শতকরা প্রায় ৯৩ দশমিক ৫০ ভাগ। নদীশাসন কাজের অগ্রগতি ৮৩ দশমিক ৫০ ভাগ। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি শতকরা ৮৬ ভাগ। আশা করা যাচ্ছে, ২০২২ সালের জুন মাস নাগাদ পদ্মা সেতু নির্মাণ শেষে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।’

এ সময় মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মাণকাজের এ পর্যন্ত অগ্রগতি শতকরা ৭০ ভাগ।

আরও পড়ুন:
বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

গৌরনদীতে সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৩

গৌরনদীতে সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৩

স্বজনদের অভিযোগ, বুধবার সকালের দিকে খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিজয়ী সদস্য প্রার্থী ফিরোজ মৃধার লোকজন শাহ আলমকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। সন্ধ্যার দিকে সংঘবদ্ধ হয়ে তারা বেইলি ব্রিজ এলাকায় শাহ আলমের ওপর হামলা চালায়। তাকে মারধর করা হয়।

বরিশালের গৌরনদীতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে একই এলাকায় নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতায় দুদিনের ব্যবধানে তিনজন নিহত হলেন।

বার্থি ইউনিয়নের বেইলি ব্রিজ এলাকায় বুধবার সন্ধ্যার দিকে সবশেষ ঘটনাটি ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম শাহ আলম খান। তার বাড়ি বার্থি ইউনিয়নের বড় দুলালী গ্রামে। তিনি খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পরাজিত (টিউবওয়েল মার্কা) সদস্য প্রার্থী মন্টু হাওলাদারের ভায়রা।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শাহ আলমের স্বজনরা জানান, বুধবার সকালের দিকে খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিজয়ী সদস্য প্রার্থী ফিরোজ মৃধার লোকজন শাহ আলমকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। সন্ধ্যার দিকে সংঘবদ্ধ হয়ে তারা বেইলি ব্রিজ এলাকায় শাহ আলমের ওপর হামলা চালায়। তাকে মারধর করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে নেয়া হয় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এর আগে ২১ জুন নির্বাচনের দিন ককটেল হামলায় ফিরোজ মৃধার সমর্থক মৌজে আলী মৃধা নিহত হন। একই দিন সন্ধ্যায় ককটেল হামলায় আবু বকর নামে আরেক যুবক নিহত হন।

ওসি আফজাল জানান, মৌজে আলী হত্যার ঘটনায় গত মঙ্গলবার তার ছেলে নজরুল মৃধা ২১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ মামলার তিন আসামি সদ্য বিজয়ি ইউপি সদস্য ফিরোজ মৃধা এবং তার দুই সহযোগী মাহফুজুর রহমান ইমন ও নয়ন মৃধাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আর আবু বক্কর হত্যার ঘটনায় তার বাবা আনজু ফকির অর্ধশতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির নামে মামলা করেছেন। সেই মামলায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

আরও পড়ুন:
বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

বরগুনায় নৌকার ভরাডুবি যেসব কারণে

বরগুনায় নৌকার ভরাডুবি যেসব কারণে

বরগুনায় উপনির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী (উপরে বাঁ থেকে) মজিবুল হক কিসলু, মোশাররফ মাস্টার, আলমগীর বিশ্বাস, সিদ্দিকুর রহমান, শরীফ ইলিয়াস স্বপন, কুদ্দুস খান।

জেলা নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত প্রাথমিক চূড়ান্ত ফলে দেখা গেছে, ঢলুয়া, ফুলঝুড়ি ও বরগুনা সদর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। বদরখালী, গৌরীচন্না, আয়লা-পাতাকাটা, বুড়িরচর, কেওড়াবুনিয়া ও নলটোনা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। নলটোনা ও বদরখালী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের (বিএনপি-সমর্থিত) কাছে হেরেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।

সদ্যসমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বরগুনা সদর উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের ছয়টিতেই স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। মাত্র তিনটিতে জয় পেয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এই তিন ইউনিয়নেও জয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে ‘প্রভাব বিস্তার’-এর অভিযোগ উঠেছে।

বরগুনা আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বলছেন, জনপ্রিয় প্রার্থীদের মনোনয়ন না দেয়া, সাংগঠনিক তৎপরতায় ঘাটতি ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কিছু নেতা-কর্মীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণেই নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের এমন পরাজয় হয়েছে।

ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপে গত সোমবার ২১ জুন বরগুনা সদর উপজেলার ৯টিসহ সারা দেশের ২০৪টি ইউপিতে ভোট হয়। জেলা নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত প্রাথমিক চূড়ান্ত ফলে দেখা গেছে ঢলুয়া, ফুলঝুড়ি ও বরগুনা সদর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। বদরখালী, গৌরীচন্না, আয়লা-পাতাকাটা, বুড়িরচর, কেওড়াবুনিয়া ও নলটোনা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

নলটোনা ও বদরখালী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের (বিএনপি-সমর্থিত) কাছে হেরেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এর মধ্যে নলটোনায় আওয়ামী লীগ সভাপতি আলমগীর বিশ্বাস হেরেছেন বিএনপি নেতা কেএম সফিকুজ্জামান মাহফুজের কাছে।

বদরখারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শরীফ ইলিয়াস হোসেন স্বপন হেরেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি-সমর্থিত) মতিউর রহমান রাজার কাছে।

বুড়িরচরে বরগুনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান পরাজিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীরের কাছে, যিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত।

জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম মজিবুল হক কিসলু দলীয় মনোনয়ন পেয়ে আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়নের নির্বাচনে অংশ নেন। তিনি নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের কাছে হেরেছেন।


বরগুনায় নৌকার ভরাডুবি যেসব কারণে

গৌরীচন্না ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল কুদ্দুস খান। তিনিও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী তানভীর সিদ্দিকীর কাছে হেরেছেন। একইভাবে কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন হেরেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান নসার কাছে।

ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের এমন ভরাডুবি নিয়ে ক্ষুব্ধ তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

নলটোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম জাকির বলেন, ‘নলটোনা ইউনিয়নে গতবার হুমায়ুন কবীরকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দুর্নীতির করায় এবার তাকে মনোনয় দেয়া হয়নি। মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় কবির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে আমাদের নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচার চালায়। তিনি কালোটাকা ছড়িয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করে। নৌকাকে হারানোর জন্য এইখানে নিজে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী দায়ী। ত্যাগীদের মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের মনোযোগী হওয়া জরুরি।’

কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকির হোসেন হারুন বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নে মনিরুজ্জামান নশা এবার জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন। তাকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেয়া হয় মোশাররফ মাস্টারকে। এ কারণেই নৌকা হেরেছে। আমি মনে করি, মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা যাচাইবাছাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা না হলে দলেরই অপমান হয়ে যায়।’

একই রকম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অন্য সব ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা। দলের এই ভরাডুবির জন্য তারা জেলা ও উপজেলার নেতাদের স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি ও গ্রুপিংকে দায়ী করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরগুনা সদর উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা জানান, সংসদ সদস্য, জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা যে যার পছন্দের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার সুপারিশ পাঠান। এতে তৃণমূলের মতামত অগ্রাহ্য হয়। ভরাডুবির এটাই সবচেয়ে বড় কারণ।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মুহাম্মদ ওলি উল্লাহ ওলি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যদি মনেপ্রাণে চায় তাহলে বরগুনায় আওয়ামী লীগকে হারানোর কেউ নাই। কিন্তু বাস্তবতা হলো আমাদের অনেক প্রার্থী হেরেছেন। আমরা তৃণমূলের মতামতেই প্রার্থী যাচাইবাছাই করেছি। এখানে আমাদের কোনো হাত ছিল না।

‘আমরা শুধু গত নির্বাচনে দলের বাইরে গিয়ে যারা কাজ করেছেন, বিদ্রোহী হয়েছেন- এমন প্রার্থীদের বাদ দিয়ে সুপারিশ পাঠিয়েছি। দলের প্রার্থীরা হেরে যাওয়ার পর আমার মনে হয়েছে, এখন তৃণমূলকে ঢেলে সাজাতে হবে। আমরা সে কাজটি দ্রুত শুরু করব।’

আরও পড়ুন:
বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

ধর্ষণ মামলা ঠেকাতে ‘বিয়ে না করেই তালাকনামা’

ধর্ষণ মামলা ঠেকাতে ‘বিয়ে না করেই তালাকনামা’

‘বোনের মৃত্যুর পর তিনি আমাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু বিয়ে করেননি। বিয়ে না করেই তিনি আমাকে তালাকনামা পাঠিয়েছেন যাতে আমি তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় যেতে না পারি। কিন্তু তার সঙ্গে আমার কবে নিয়ে হলো?’

পাবনার আটঘরিয়ার উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হামিদ মো. মোহাইম্মিন হোসেন চঞ্চলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনেছেন এক তরুণী।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক তরুণী বলেছেন, তিনি যেন ধর্ষণ মামলা না করতে পারেন, সে জন্য বিয়ে না করেই তাকে তালাকনামা পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত চঞ্চল আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য ঘোষিত সাধারণ সম্পাদক।

ওই ছাত্রী জানান, তিনি চট্টগ্রাম ভেটারিনারি অ্যান্ড এমিনের সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। তার বাড়ি পাবনা।

বড় বোনের সঙ্গে ওই চেয়ারম্যানের যোগাযোগ ছিল। তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ তার। তবে মৃত্যুর পর তারা বিষয়টি বুঝতে পারেননি বলে জানান সংবাদ সম্মেলনে।

তিনি বলেন, ‘ধুরন্ধর ও শঠতার আশ্রয় নিয়ে আমার বড় বোনকে হত্যা করলেও আমরা এতদিন বুঝতেই পারিনি। কিছুদিন আগে তার হাতের লেখা ডায়েরি থেকে হত্যাকারী যে চঞ্চল সেটা বুঝতে পারি।’

তিনি বলেন, চেয়ারম্যান চঞ্চল তার বোনকে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে ২০১২ সালে পাবনা শহরে বেড়াতে নিয়ে যান। সেখানে এক বাড়িতে তার বোনকে ধর্ষণ করা হয়। বোন বাড়িতে ফেরার পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎক তাকে মৃত ঘোষণা করে।’

‘বোনের মৃত্যুকে আমরা স্বাভাবিকভাবেই মেনে নেই’- এ কথা উল্লেখ করে সেই তরুণী বলেন, পরে বিষয়টি আমরা বুঝতে পারি।

তার আগেই চঞ্চল তার সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘বোন মারা যাওয়ার পর চঞ্চল সান্ত্বনা দিতে আমাদের বাড়িতে যাতায়াত করতে থাকেন। ২০১৭ সাল পর্যন্ত এভাবেই সামাজিক সম্পর্ক চলে আসছিল। এলাকা প্রভাবশালী হওয়ায় আমরাও বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই মেনে নেই।

‘এক পর্যায়ে চঞ্চল তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন বলে জানান তরুণী। তার আকেও বেড়ানোর কথা বলে পাবনা শহরে নিয়ে যান।

‘সেখানে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং তা মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখেন। আর সেটি ফাঁস করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বারবার অনৈতিক বা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চাপ দিতে থাকেন।’

এক পর্যায়ে হঠাৎ করেই তিনি তালাকনামা পেয়ে অবাক হয়ে যান। নিউজবাংলাকে সেই তরুণী বলেন, ‘বোনের মৃত্যুর পর তিনি আমাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু বিয়ে করেননি। বিয়ে না করেই তিনি আমাকে তালাকনামা পাঠিয়েছেন যাতে আমি তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় যেতে না পারি। কিন্তু তার সঙ্গে আমার কবে নিয়ে হলো?’

তবে এ সকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান আবু হামিদ মো. মোহাইম্মীন হোসেন চঞ্চলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে থানায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি।‘

তবে সংবাদ সম্মেলন করা তরুণী জানিয়েছেন তিনি জেলা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে পুলিশের আইজিপির কাছে অভিযোগ করেছেন।’

আরও পড়ুন:
বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

হাবিবের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা, উচ্চ আদালতে যাবেন আতিক

হাবিবের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা, উচ্চ আদালতে যাবেন আতিক

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব (বাঁয়ে); জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক। ছবি: সংগৃহীত

আপিলকারী জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক জানিয়েছেন- তিনি উচ্চ আদালতে যাবেন। তার দাবি, হাবিবের দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে এবং এ কারণে তিনি প্রার্থী হওয়ার যোগ্য নন।

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বুধবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে মনোনয়ন বৈধ হওয়ার আদেশ দেয়া হয়।

তাকে দ্বৈত নাগরিক দাবি করে তার প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবরে অভিযোগ করেছিলেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক।

বুধবার দুপুরে সেই অভিযোগের শুনানি শেষে হাবিবের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

নির্বাচন কমিশন বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করার পর ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে হাবিব লিখেছেন- ‘সকল বাধা উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশন দ্বৈত নাগরিত্বের প্রমাণ না পাওয়ায় আমার প্রার্থিতা বৈধ বলে জানিয়েছে।’

যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাবিবুর রহমান হাবিব এর আগে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দেশে রাজনীতিতে সক্রিয়। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটিতে সদস্য করা হয় তাকে। ২০১৪ ও ২০১৯ সালের নির্বাচনেও সিলেট-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন চান হাবিব।

আপিলকারী জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক জানিয়েছেন- তিনি উচ্চ আদালতে যাবেন। তার দাবি, হাবিবের দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে এবং এ কারণে তিনি প্রার্থী হওয়ার যোগ্য নন।

করোনা আক্রান্ত হয়ে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস মারা যান। এরপর গত ১১ মার্চ নির্বাচন কমিশন (ইসি) জাতীয় সংসদের সিলেট-৩ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৩ এর দফা (৪) অনুযায়ী, উক্ত শূন্য আসনে ৮ জুনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় শূন্য আসনটিতে ৮ জুন পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন নিতে তফসিল ঘোষণা করে ইসি। আগামী ২৮ জুলাই এই আসনের উপনির্বাচনে ভোট হওয়ার কথা।

সিলেট-৩ আসনে মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৯ ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজার ৬১৮ জন পুরুষ এবং ১ লাখ ২৬ হাজার ৬৯১ জন নারী ভোটার রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনামা অনুযায়ী- আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের যৌথ (তিনি ও তার স্ত্রীর) মালিকানায় সর্বোচ্চ ৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ রয়েছে। বর্তমানে হাবিব ও তার স্ত্রীর কাছে নগদ টাকা আছে আড়াই কোটি টাকারও বেশি। তবে উক্ত ব্যবসায় হাবিবুর রহমান কোনোও আয় উল্লেখ করেননি হলফনামায়।

হাবিবের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই, আগেও ছিল না। হলফনামায় তিনি পেশা দেখিয়েছেন ‘ব্যবসা’।

তিনি নিজেকে প্রবাসী পল্লী গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে পেশা ব্যবসা দেখালেও এ খাত থেকে হাবিবুর রহমান কোনোও আয় উল্লেখ করেননি হলফনামায়।

স্নাতক পাস এই রাজনীতিবিদের কাছে নগদ টাকা আছে ৮৭ লাখ ৫২ হাজার। তার স্ত্রীর কাছে নগদ আছে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৫৮ হাজার ৭৩০ টাকা। সবমিলিয়ে তাদের কাছে নগদ টাকার পরিমাণ ২ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার ৭৩৫।

ব্যাংকে হাবিবুর রহমানের ৫২ হাজার ২৪৪ টাকা ও তার স্ত্রীর ৯ হাজার ৪৪৮ টাকা জমা আছে। শেয়ারবাজারে আছে ৩৫০০ শেয়ার, যেগুলোর মূল্য ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা।

কৃষিখাত থেকে কোনোও আয় নেই হাবিবুর রহমানের। তবে তার স্ত্রী এ খাত থেকে বছরে ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ টাকা আয় করেন। হাবিবের নামে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৩৯৮ টাকার অকৃষি জমি আছে; তবে জমির পরিমাণ তিনি উল্লেখ করেননি।

ঢাকার পূর্বাচলে ৭ কাঠা প্লটের মালিক হাবিব। এর মূল্য ১৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তার কাছে কোনো স্বর্ণ নেই। এমনকি আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রীরও কোনো মূল্য দেখাননি তিনি। ব্যক্তিগত গাড়ি সম্পর্কিত তথ্যও নেই হলফনামায়।

হাবিবের ব্যক্তিগত কোনো ঋণ বা দেনা নেই। তবে প্রবাসী পল্লী গ্রুপের নামে ৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ঋণ আছে।

আরও পড়ুন:
বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

গরুর গাড়িতে সরকারকে শিক্ষার হুঁশিয়ারি সিপিবির

গরুর গাড়িতে সরকারকে শিক্ষার হুঁশিয়ারি সিপিবির

ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ হলে গরুর গাড়ি দিয়ে রাজপথ বন্ধের হুমকি দিয়েছে সিপিবি। ছবি: সংগৃহীত

বিক্ষোভ সমাবেশে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘ইজিবাইক এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে দেয়া না হলে সরকারকেও আমরা চলতে দেব না। সরকারকে শিক্ষা দিতে আমরা গরুর গাড়ি চালাব। রাজপথ গরুর গাড়ি দিয়ে ভরিয়ে দেব। একটা এসি গাড়িও আমরা চলতে দেব না।’

ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে না দিলে রাজপথে গরুর গাড়ি চালানোর হুমকি দিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সমানে বুধবার রিকশাভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ হুমকি দেন।

সারা দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের সরকারি ঘোষণার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

এতে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতা সাদেকুর রহমান শামীম, পরিবহন শ্রমিকনেতা হযরত আলী, রিকশাভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহাদৎ খাঁ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল ইসলাম নাদিমসহ অনেকে।

বিক্ষোভ সমাবেশে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘ইজিবাইক এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে দেয়া না হলে সরকারকেও আমরা চলতে দেব না। সরকারকে শিক্ষা দিতে আমরা গরুর গাড়ি চালাব।

‘রাজপথ গরুর গাড়ি দিয়ে ভরিয়ে দেব। একটা এসি গাড়িও আমরা চলতে দেব না।’

আরও পড়ুন: সারা দেশে বন্ধ হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান

তিনি বলেন, ‘রিকশার গতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, ব্রেক কীভাবে আরেকটু উন্নত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আমাকে দায়িত্ব দিলে রিকশাচালক ভাইদের সঙ্গে আলোচনা করে সেসব ব্যবস্থা করে দেব। কিন্তু অহেতুক অজুহাত তুলে ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং ইজিবাইক বন্ধ করা চলবে না।’

গরুর গাড়িতে সরকারকে শিক্ষার হুঁশিয়ারি সিপিবির

সমাবেশে বলা হয়, সারা দেশে লাখ লাখ রিকশাচালক চড়া সুদে ঋণ নিয়ে অথবা সম্পত্তি বন্ধক রেখে ব্যাটারিচালিত রিকশা কিনেছেন। এই রিকশা শ্রমিকদের অমানবিক শ্রম লাঘব করেছে। গণপরিবহন হিসেবে দেশের শহর কিংবা গ্রামে রিকশা অপরিহার্য। এ অবস্থায় সরকার ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করে চালকদের পথে বসিয়ে দিতে চাইছে।

এতে এক বক্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বাহন বলে আমরা রিকশা নিয়ে গর্ব করে থাকি। দেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে পাঁচ তারকাবিশিষ্ট হোটেলগুলোতে রিকশার ঝলমলে প্রদর্শনী হয়।

‘প্রবাসী বাঙালিরা পরিবেশবান্ধব যানটিকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে উপস্থাপন করে থাকেন।’

শ্রমিকনেতারা বলেন, সরকারি সিদ্ধান্তে সারা দেশে অন্তত পাঁচ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ হয়ে যাবে। ‘অমানবিক’ এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

তাদের ভাষ্য, বুয়েট প্রস্তাবিত রিকশাবডি, এমআইএসটি উদ্ভাবিত গতি নিয়ন্ত্রক, উন্নত ব্রেকসহ ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমোদন দিতে হবে। রিকশাচালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স দিতে হবে। সমস্যার যুক্তিসংগত সমাধানে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে।

আরও পড়ুন:
বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন