মতিন খসরু

সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু। ফাইল ছবি

মতিন খসরুর আসনে আ. লীগের ৩৫ মনোনয়নপ্রত্যাশী

বুড়িচং সদরের ব্যবসায়ী আসলাম বলেন, ‘আমরা বুড়িচংয়ের মানুষ কয়েকজনকে চিনি। তাদের ব্যানার, পোস্টার দেখতাছি। তবে বহুত প্রার্থীরে দেখতাছি পত্রিকা, ফেসবুকে। তারারে আগে কুনু সময় দেহি নাই। কইত্তে আইলে এত প্রার্থী?’

প্রয়াত সংসদ সদস্য আবদুল মতিন খসরুর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ছয় দিনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন কিনেছেন ৩৫ জন।

কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণবপাড়া) আসনের উপনির্বাচন আগামী ১৪ জুলাই। তাতেই অংশ নেয়ার জন্য মতিন খসরুর স্ত্রী, ছোট ভাইসহ ৩৫ জন মনোনয়ন কিনেছেন।

তবে অনেকেই বলছেন এত প্রার্থীর অনেককেই তারা আগে দেখেননি। কারও কারও ধারণা, ৩৫ জনেই থেমে থাকবে না মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা। ১০ জুন পর্যন্ত মনোনয়ন সংগ্রহের সময় থাকায় বাড়তে পারে আরও।

এত প্রার্থীর বিষয়ে বুড়িচং সদরের ব্যবসায়ী আসলাম বলেন, ‘আমরা বুড়িচংয়ের মানুষ কয়েকজনকে চিনি। তাদের ব্যানার, পোস্টার দেখতাছি। তবে বহুত প্রার্থীরে দেখতাছি পত্রিকা, ফেসবুকে। তারারে আগে কুনু সময় দেহি নাই। কইত্তে আইলে এত প্রার্থী?’

ব্রাহ্মণপাড়া টাটেরা এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আগে বহুত প্রার্থীরে দেহি নাই। অহন নির্বাচন আইছে। হুনি কিতা হেতারার বাপ-দাদার বাড়ি নাকি ব্রাহ্মণপাড়ায়। হেছা কথা তাদের কেউরে এলাকায় আগে দেহি নাই।’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও সোনার বাংলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আবু ছালেক মো. সেলিম রেজা সৌরভ বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক দল। যে কেউ প্রার্থী হতে পারে।’

গত ১৪ এপ্রিল ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আবদুল মতিন খসরুর মৃত্যু হয়। এরপর ২ জুন শূন্য ঘোষণা করা হয় তার নির্বাচনি আসন।

নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ১৫ জুন, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ জুন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৩ জুন। প্রতীক বরাদ্দ ২৪ জুন ও ভোট হবে আগামী ১৪ জুলাই।

কারা এই ৩৫ মনোনয়ন সংগ্রহকারী

মনোনয়ন সংগ্রহের প্রথম দিন ৪ জুন মনোনয়ন কেনেন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের পরিচালক এস এম জাহাঙ্গীর, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হেলেনা জাহাঙ্গীর, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও প্রয়াত মতিন খসরুর ভাই আবদুল মমিন ফেরদৌস, মতিন খসরুর স্ত্রী সেলিমা সোবহান খসরু, ব্যারিস্টার সোহরাব খান চৌধুরী, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর খান চৌধুরী, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সোনার বাংলা কলেজের অধ্যক্ষ আবু ছালেক মো. সেলিম রেজা সৌরভ।

৫ জুন মনোনয়ন সংগ্রহ করেন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য জাহেদুল আলম, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী চৌধুরী মানিক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার মো. নিজামুল ইসলাম, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শাহিদা বেগম, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসেম খান, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম সরকার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপকমিটির সদস্য শাহ জালাল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির সদস্য আনিসুর রহমান, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল বারী, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এম এ মতিন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আল-আমিন ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ জাহের।

৬ জুন মনোনয়ন সংগ্রহ করেন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মাহতাব হোসেন, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জিয়াউল হাসান মাহমুদ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ নেতা (স্বাচিপ) নওশের আলম, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আল আমিন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোস্তফা কামাল ও বুড়িচং উপজেলা চেয়ারম্যান আখলাক হায়দার।

৭ জুন মনোনয়ন সংগ্রহ করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুছ ছালাম বেগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহসাহিত্য সম্পাদক মোহাম্মদ ফারুক আহাম্মদ ও বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম।

৮ জুন মনোনয়ন সংগ্রহ করেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল জলিল, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহসম্পাদক এহতেশামুল হাসান ভূইয়া, বুড়িচং উপজেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস ও ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ তরিকত উল্লাহ।

৯ জুন মনোনয়ন সংগ্রহ করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ও বুড়িচং উপজেলা যুবলীগের সদস্য এম এ জলিল ভূইয়া।

আরও পড়ুন:
নিষ্ঠার সঙ্গে অসুস্থ স্ত্রীর সেবা করেছেন মতিন খসরু
মতিন খসরুর ফাঁকা আসনে প্রার্থী কারা
খসরুর আসন শূন্য, গেজেট ইসিতে
বাবা-মায়ের পাশে সমাহিত মতিন খসরু
খসরুর সম্মানে বন্ধ সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক কাজ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সীমিত পরিসরে ২৩ জুন উদযাপন করবে আওয়ামী লীগ

সীমিত পরিসরে ২৩ জুন উদযাপন করবে আওয়ামী লীগ

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। ফাইল ছবি

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘বরাবরই যেমন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমরা আনন্দমুখরভাবে উদযাপন করি, এবার প্যানডামিকের কারণে সেভাবে তো আর সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে।’ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘জনগণের পার্টিসিপেশন আমরা ব্যাপক করতে পারব না, তবে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জনগণের সব ধরনের সমন্বয় সাধন করেই আমরা করব।’

করোনা মহামারির মধ্যে এবারও সীমিত পরিসরেই দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করবে আওয়ামী লীগ। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনাড়ম্বরভাবেই এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হবে।

আগামী ২৩ জুন ৭৩ বছরে পড়ছে দেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া দলটির জন্য দিনটি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিবছর বেশ ঘটা করেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো।

কিন্তু গত বছরের মতো এবারও বাদ সেধেছে বৈশ্বিক করোনা মহামারি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি, দলীয় কার্যালয়ে আলোকসজ্জা আর ভার্চুয়াল আলোচনা সভার মধ্যেই সীমিত রাখা হবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের সব আয়োজন।

দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় বিধিনেষেধ, স্বাস্থ্যবিধি, লকডাউনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে থাকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বরাবরই যেমন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমরা আনন্দমুখরভাবে উদযাপন করি এবার প্যানডামিকের কারণে সেভাবে তো আর সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

‘এর মধ্যে একটা হচ্ছে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি। তারপর থাকবে দলীয় কার্যালয়গুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। এ ছাড়া একটা আলোচনা সভা হবে ভার্চুয়ালি, সেখানে হয়তো আমাদের দলের সভানেত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন।

‘এর পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়গুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা, যদিও এখনও এটা চূড়ান্ত হয়নি। করোনার সময় আসলে সব ধরনের উৎসব থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে। মানুষের দুর্যোগ আর মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়ে আমাদের সংগ্রাম করতে হচ্ছে। এর মধ্যে যতটুকু আড়ম্বরতা বাদ দিয়ে করা যায় তাই করা হচ্ছে।’

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর মুসলীম লীগই ছিল দেশটির প্রধান রাজনৈতিক দল। কিন্তু ক্রমান্বয়ে পাকিস্তানিদের রাজনৈতিক আধিপত্যবাদের বিষয়টি সামনে এলে পূর্ব পাকিস্তানে আলাদা একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখেন এ অঞ্চলের রাজনৈতিক নেতারা।

এরই অংশ হিসেবে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলীর কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে জন্ম নেয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলীম লীগ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল। মূলত মুসলীম লীগের প্রগতিশীল অংশ এই রাজনৈতিক দলটির সঙ্গে যুক্ত হন।

প্রতিষ্ঠার সময় আওয়ামী মুসলীম লীগের সভাপতি হন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী আর সাধারণ সম্পাদক হন শামসুল হক। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৫৫ সালের দলের নাম থেকে মুসলিম অংশটি বাদ দিয়ে দলের নামকরণ করা হয় আওয়ামী লীগ।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানে পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল এই রাজনৈতিক দল। বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে যতগুলো গণতান্ত্রিক আন্দোলন হয়েছে তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আওয়ামী লীগের নাম।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বও এসেছে এই দল থেকে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন নিয়ে আওয়ামী লীগের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম নিউজবাংলাকে বলেন, অনাড়ম্বরভাবে দলের তৃণমূল পর্যায়েও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এটা আওয়ামী লীগের একটি বিশেষ দিন ও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। করোনার কারণে আগের মতো হবে না। কিন্তু আমরা চেষ্টা করব সব পর্যায়ে একেবারে ইউনিয়ন থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা, মহানগর, নগরে আমরা ২৩ জুন পালন করব। আলোকসজ্জা থেকে আরম্ভ করে যতটুকু সম্ভব। সীমিত পরিসরে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করে আমরা তা উদযাপন করব।

‘জনগণের পার্টিসিপেশন আমরা ব্যাপক করতে পারব না, তবে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জনগণের সব ধরনের সমন্বয় সাধন করেই আমরা করবো। সাজসজ্জার দিকে নজর দেব। একটু লাইটিং করা, পতাকা উত্তোলন, শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা তো থাকবেই।’

আরও পড়ুন:
নিষ্ঠার সঙ্গে অসুস্থ স্ত্রীর সেবা করেছেন মতিন খসরু
মতিন খসরুর ফাঁকা আসনে প্রার্থী কারা
খসরুর আসন শূন্য, গেজেট ইসিতে
বাবা-মায়ের পাশে সমাহিত মতিন খসরু
খসরুর সম্মানে বন্ধ সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক কাজ

শেয়ার করুন

টিকা ঠেকাতে লবিস্ট লাগিয়েছে বিএনপি, অভিযোগ নানকের

টিকা ঠেকাতে লবিস্ট লাগিয়েছে বিএনপি, অভিযোগ নানকের

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবীদ ইনস্টিটিউটে কৃষকলীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির এক অনুষ্ঠানে গাছ লাগান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। ছবি: নিউজবাংলা

‘আজ পুরো দেশ এক বছরের বেশি সময় ধরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশ যখন ভ্যাকসিন দিতে পারে নাই তখন আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে টিকা এনে প্রমাণ দিয়েছেন তিনিই রাষ্ট্রনায়ক।’

বাংলাদেশ যাতে করোনার টিকা না পায় এ জন্য বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবীদ ইনস্টিটিউটে কৃষকলীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

নানক অভিযোগ করেন, ‘দুঃখজনক হলো, আজকে যখন বাংলাদেশে আবার ভ্যাকসিনের প্রয়োজন তখন ওই কুলাঙ্গাররা, ওই বিএনপি-জামায়াত আর লন্ডনে বসে কুলাঙ্গার তারেক রহমান আন্তর্জাতিক লবিস্ট নিয়োগ করেছে, যাতে বাংলাদেশ আর কোনো দেশ থেকে ভ্যাক্সিন আনতে না পারে।’

তিনি বলেন, ‘আজ পুরো দেশ এক বছরের বেশি সময় ধরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশ যখন ভ্যাকসিন দিতে পারে নাই তখন আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে টিকা এনে প্রমাণ দিয়েছেন তিনিই রাষ্ট্রনায়ক।’

‘কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো, বিএনপির কুলাঙ্গাররা ভ্যাকসিন প্রত্যাখ্যান করেছিল। এই ভ্যাকসিন না নেয়ার জন্য তারা বলেছিলেন। কিন্তু ভ্যাকসিন এসেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। শেখ হাসিনার নির্দেশে ভ্যাকসিন নিয়েছে দেশের মানুষ।’

এ সময় ১৫ আগষ্ট জন্মদিন পালন করায় খালেদা জিয়ারও সমালোচনা করেন নানক। তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করে বাংলার মানুষের হৃদয়ে আঘাত করেছেন। সত্যের বাতি তিল তিল করে জ্বলে। সত্যকে কোনদিন ধামাচাপা দেয়া যায় না।

‘জাতির পিতাকে হত্যার দিনে আপনি (খালেদা জিয়া) পাকিস্তানি আইএসআইকে খুশি করার জন্য মিথ্যা জন্মদিন পালন করে কেক কেটে আমাদের সঙ্গে, বাংলার মানুষের সঙ্গে উপহাস করেছিলেন। অসুখ হয়ে হাসপাতালে শয্যাশায়ী হওয়ার পর মনের ভুলে জন্ম তারিখটি লিখে ফেলেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আদালতে মামলা হয়েছে। জন্ম তারিখের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবে আদালত। কী অপরাধ করেছে বেগম জিয়া, কী অপরাধ করেছেন আপনারা—সেটি আদালত রায় দেবে। তার জন্য অপেক্ষা করেন। আদালত স্বাধীন রয়েছে। তাই মির্জা ফখরুলের আঁতে ঘা লেগেছে।’

‘সে কারণে আজকে তিনি বলেছেন, এই দেশে আদালত নিরপেক্ষ নয়। কী কারণে নিরপেক্ষ নয়? বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম তারিখ এর ব্যাপারে নির্দেশনা দেবে সেই কারণে?’

আরও পড়ুন:
নিষ্ঠার সঙ্গে অসুস্থ স্ত্রীর সেবা করেছেন মতিন খসরু
মতিন খসরুর ফাঁকা আসনে প্রার্থী কারা
খসরুর আসন শূন্য, গেজেট ইসিতে
বাবা-মায়ের পাশে সমাহিত মতিন খসরু
খসরুর সম্মানে বন্ধ সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক কাজ

শেয়ার করুন

‘লুটপাট বন্ধ করতে পারলে বাজেটের সুফল মিলত’

‘লুটপাট বন্ধ করতে পারলে বাজেটের সুফল মিলত’

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম রুমিন ফারহানা। ফাইল ছবি

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘একটা সরকারের চরিত্রের ওপর নির্ভর করে বাজেটের চরিত্র কেমন হবে। সরকার যদি হয় বাই দ্যা লুটার্স, ফর দ্যা লুটার্স, অব দ্যা লুটার্স তাহলে বাজেটও হবে লুটেরাদের রক্ষারই বাজেট। তাতে জনগণের অংশীদারত্ব থাকবে না সেটাই স্বাভাবিক।’

লুটপাট বন্ধ আর সরকারের দক্ষতা বাড়াতে পারলে এই বাজেট বরাদ্দেও জনগণ অনেক কিছুই পেতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

মঙ্গলবার সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

সংরক্ষিত আসনের এই এমপি বলেন, সরকারের দিক থেকে বাজেট একেবারে ঠিক আছে।

‘ক্ষমতায় থাকতে যাকে প্রয়োজন তার জন্যই তো বাজেট হবে। জনগণের ম্যান্ডেট লাগলে জনগণকে খুশি করতে হবে। আর যদি প্রয়োজন হয় ব্যবসায়ী আর আমলা, তাহলে তাদের জন্যই বাজেট হবে; হয়েছেও সেটা।’

তিনি বলেন, করোনার লকডাউনের মধ্যে গত বছর অর্থমন্ত্রী বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে লোক হাসিয়েছিলেন। এবার তিনি দাবি করছেন ৭ দশমিক ২ শতাংশের কথা। যদিও বিশ্বব্যাংকের মতে এটি ৫ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে।

‘প্রবৃদ্ধি মানেই যে সু-সরকার, সুশাসন বা জনগণের সরকার তা নয়। তার প্রমাণ ১৯৬৮ এবং ১৯৬৪ সালে আইয়ুব খানের আমলে পূর্ব পাকিস্তানের দুটি উল্লেখযোগ্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৪৮ এবং ১০ দশমিক ৯৫ শতাংশ।’

রুমিন ফারহানা বলেন, বাজেটে বলা হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। অথচ স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয় কেবলই বাড়ছে। ২০১২ সাল থেকে চিকিৎসায় ব্যক্তিগত খরচ ৬০ শতাংশ থেকে ক্রমাগত বেড়ে ৭২ শতাংশে পৌঁছেছে। বাকি ২৮ শতাংশের পুরোটাও সরকারের ব্যয় নয়, এর একটা বড় অংশ এনজিও থেকে আসে। প্রতি বছর স্বাস্থ্য ব্যয় মেটাতে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যান ৬৬ লাখ মানুষ।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এখনও ভারত থেকে তিন কোটি টিকা পাওয়ার গল্প করছেন। অথচ ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে এই বছর শেষ হওয়ার আগে তারা কোনোরকম টিকা রপ্তানি করতে পারবে না। যদিও টিকার দাম আগেই চুকানো হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা আগের মতোই তিন লাখ টাকা রাখা হয়েছে। করোনার মধ্যেই সাধারণ স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী এবং সন্তানদের অনলাইন ক্লাসের জন্য ডিজিটাল ডিভাইস, ইন্টারনেট ডেটা, ‘ইলেকট্রনিক গ্যাজেট’ কেনা ইত্যাদি খাতে খরচ অনেক বেড়েছে। নানা দফায় গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে বেড়েছে যাতায়াত ব্যয়ও। সহজে শনাক্ত করা যায় বলে চাকরিজীবী মধ্যবিত্তদেরই আয়করের প্রধান টার্গেটে পরিণত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। দেশের মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের অনেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। ট্রাস্ট আইনের অধীনে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর আয়কর বসানো বেআইনি এবং এটা পরবর্তীতে ছাত্র-ছাত্রীদের টিউশন ফি-এর ওপর ধার্য হয়ে তাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলবে।

তিনি আরও বলেন, সর্বোপরি সর্বগ্রাসী দুর্নীতি, লুটপাটের কারণে বাজেটে যেটুকু বরাদ্দ হয় সেটুকুর উপকারও জনগণের কাছে পৌঁছে না।

‘লুটপাট বন্ধ আর সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারলে এই বাজেট বরাদ্দেও জনগণ অনেক কিছুই পেতে পারত। একটা সরকারের চরিত্রের ওপর নির্ভর করে বাজেটের চরিত্র কেমন হবে। সরকার যদি হয় বাই দ্যা লুটার্স, ফর দ্যা লুটার্স, অব দ্যা লুটার্স তাহলে বাজেটও হবে লুটেরাদের রক্ষারই বাজেট। তাতে জনগণের অংশীদারত্ব থাকবে না সেটাই স্বাভাবিক।’

আরও পড়ুন:
নিষ্ঠার সঙ্গে অসুস্থ স্ত্রীর সেবা করেছেন মতিন খসরু
মতিন খসরুর ফাঁকা আসনে প্রার্থী কারা
খসরুর আসন শূন্য, গেজেট ইসিতে
বাবা-মায়ের পাশে সমাহিত মতিন খসরু
খসরুর সম্মানে বন্ধ সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক কাজ

শেয়ার করুন

হেফাজতের আজহারুল রিমান্ডে

হেফাজতের আজহারুল রিমান্ডে

ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলামের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজহারুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

হেফাজত নেতা আজহারুল ইসলামকে মঙ্গলবার ভোরে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নাশকতার একাধিক মামলার আসামি। ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে হেফাজতের তাণ্ডবের মামলা ছাড়াও সাম্প্রতিক নাশকতার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

নাশকতার একাধিক মামলার আসামি, ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলামের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজহারুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আদেশ দিয়েছে আদালত।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের (সিএমএম) বিচারক দেবব্রত বিশ্বাস মঙ্গলবার রিমান্ডের এ আদেশ দেন। এদিন আজহারুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানান ডিবির মতিঝিল জোনাল টিমের পরিদর্শক কামরুজ্জামান।

আসামিপক্ষে আইনজীবী মো. পারভেজ, খাদেমুল ইসলাম ও আল মাহমুদ খান রিমান্ড বাতিলের পাশাপাশি জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন আদালতে যাত্রাবাড়ী থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা এসআই শাহ আলম।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

নাশকতার একাধিক মামলার আসামি, ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলামের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজহারুল ইসলামকে মঙ্গলবার ভোরে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মাহাবুব আলম।

আজহারুল ইসলামকে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে হেফাজতের তাণ্ডবের মামলা ছাড়াও সাম্প্রতিক নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সফর ঠেকাতে হেফাজত দেশজুড়ে তাণ্ডব চালায়।

মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৬ মার্চ রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে হেফাজতের কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের জেরে সহিংসতা হয় চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে। এতে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর থেকে সরকারের সঙ্গে হেফাজতের দূরত্ব বাড়তে থাকে। বিভিন্ন মামলায় গত কয়েক দিনে গ্রেপ্তার হয়েছেন ধর্মভিত্তিক সংগঠনটির অন্তত ৩৫ নেতা। নাশকতার বিভিন্ন ঘটনায় এসব নেতার ভূমিকা যাচাইয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

আরও পড়ুন:
নিষ্ঠার সঙ্গে অসুস্থ স্ত্রীর সেবা করেছেন মতিন খসরু
মতিন খসরুর ফাঁকা আসনে প্রার্থী কারা
খসরুর আসন শূন্য, গেজেট ইসিতে
বাবা-মায়ের পাশে সমাহিত মতিন খসরু
খসরুর সম্মানে বন্ধ সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক কাজ

শেয়ার করুন

দেশ চালাচ্ছে পুতুল সরকার: আব্বাস

দেশ চালাচ্ছে পুতুল সরকার: আব্বাস

সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। ছবি: নিউজবাংলা

মির্জা আব্বাস বলেন, একটা পুতুল সরকার বসা আছে, তারাই দেশ চালাচ্ছে। বিশেষ মহল একত্রিতভাবে নিজেদের গা বাঁচানোর জন্য পুতুলটিকে টিকিয়ে রেখেছে। আমার বারবার মনে হয়, এ দেশ সম্ভবত আওয়ামী লীগ চালাচ্ছে না।

আওয়ামী লীগ নয়, বিশেষ মহলের স্বার্থে পুতুল সরকার দেশ চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মঙ্গলবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সদস্যসচিব নিপুণ রায় চৌধুরীর মুক্তির দাবিতে সংগঠনটি এই প্রতিবাদ সমাবেশ করে।

মির্জা আব্বাস বলেন, একটা পুতুল সরকার বসা আছে, তারাই দেশ চালাচ্ছে। বিশেষ মহল একত্রিতভাবে নিজেদের গা বাঁচানোর জন্য পুতুলটিকে টিকিয়ে রেখেছে। আমার বারবার মনে হয়, এ দেশ সম্ভবত আওয়ামী লীগ চালাচ্ছে না।

তিনি বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা তারা বিদেশে পাচার করে দিয়েছে। সরকার-ঘনিষ্ঠ এমন কোনও সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি নেই, যারা চুরি-ডাকাতি-লুট করেনি। পি কে হালদারের মতো বহু বেসরকারি এবং সরকারি কর্মচারীরা বাংলাদেশের টাকা লুট করেছে। তারা দেশে অবস্থান করছে আর তাদের সন্তানদের পাঠিয়ে দিয়েছে বিদেশে।

মির্জা আব্বাস বলেন, লুটপাটকারীদের বিচার হবে। খুন, লুট, গুম সবকিছুর বিচার হবে। যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকে তাদের বিচার হবে। সেই বিচারের ভয়েই বিশেষ গোষ্ঠী সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে।

ফোরামের সদস্য মীর সরাফত আলী সপুর সভাপতিত্বে ও আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপি নেতা শিরিন সুলতানা, আজিজুল বারী হেলাল, আফরোজা আব্বাস, আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলসহ নেতারা।

আরও পড়ুন:
নিষ্ঠার সঙ্গে অসুস্থ স্ত্রীর সেবা করেছেন মতিন খসরু
মতিন খসরুর ফাঁকা আসনে প্রার্থী কারা
খসরুর আসন শূন্য, গেজেট ইসিতে
বাবা-মায়ের পাশে সমাহিত মতিন খসরু
খসরুর সম্মানে বন্ধ সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক কাজ

শেয়ার করুন

খালেদার জন্মদিন নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করুন: কাদের

খালেদার জন্মদিন নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করুন: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সদস্যপদ বিরতণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিএনপি নেতাদের প্রতি এ আহ্বান জানান তিনি। বিএনপি নেতাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কারো কারো ক্ষেত্রে প্রকৃত জন্ম তারিখ আর সার্টিফিকেটের জন্ম তারিখ এক নয়। তাই বলে কি কারো পাঁচটি জন্ম তারিখ থাকবে?’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে তা দূর করতে দলটির নেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সদস্যপদ বিরতণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ আহ্বান জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতি বেগম জিয়ার জন্মদিন নিয়ে বিভ্রান্তির অবসান চায়। বিএনপিকে প্রমাণ করতে হবে ১৫ আগস্ট বেগম জিয়ার সত্যিকার জন্মদিন কি না।’

বিএনপি নেতাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘কারো কারো ক্ষেত্রে প্রকৃত জন্ম তারিখ আর সার্টিফিকেটের জন্ম তারিখ এক নয়। তাই বলে কি কারো পাঁচটি জন্ম তারিখ থাকবে?’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘জাতির সবচেয়ে কষ্টের দিন, জাতীয় শোক দিবসে হঠাৎ করেই ভুয়া জন্মদিন পালন, উৎসব করে কেক কাটা বিএনপির প্রতিহিংসা আর মিথ্যাচারের রাজনীতির বিকৃত উদাহরণ।

‘বিএনপির ক্ষমতায় আসার পর শোক দিবসে ভুয়া জন্মদিন পালন শুরু করা শোক দিবসকে কটাক্ষ করারই নামান্তর। বিএনপি প্রমাণ করেছে যে, তাদের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জড়িত। বঙ্গবন্ধু হত্যার মধ্য দিয়ে বিএনপি প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষের যে রাজনীতি শুরু করেছিল তারই ধারাবাহিকতা ১৫ আগস্ট বেগম খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্মদিন পালন।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে বিশ্বব্যাপী উৎপাদন ব্যবস্থা ও প্রবৃদ্ধিতে ধীর গতি এবং অনেক উন্নত দেশ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে যেখানে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্জিত প্রবৃদ্ধি এবং ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা ইতোমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।

‘জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা থেকে প্রকাশিত গ্লোবাল ফুড আউটলুক- জুন ২০২১ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসেছে, করোনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যও চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়াকে টপকে এখন তৃতীয় স্থানে।’

অনুষ্ঠানে ভেদাভেদ ভুলে দলীয় নেতাকর্মীদের এক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে অগ্রযাত্রা, তা এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐকবদ্ধ থাকতে হবে। মতভেদ ভুলে দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

‘সদস্য সংগ্রহে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীরা প্রাথমিক সদস্য না হতে পারে। এক ব্যক্তি কোনোভাবেই দুই পদে থাকতে পারবে না।’

আরও পড়ুন:
নিষ্ঠার সঙ্গে অসুস্থ স্ত্রীর সেবা করেছেন মতিন খসরু
মতিন খসরুর ফাঁকা আসনে প্রার্থী কারা
খসরুর আসন শূন্য, গেজেট ইসিতে
বাবা-মায়ের পাশে সমাহিত মতিন খসরু
খসরুর সম্মানে বন্ধ সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক কাজ

শেয়ার করুন

খালেদা জিয়ার কিছু হলে দায় সরকারের: নজরুল

খালেদা জিয়ার কিছু হলে দায় সরকারের: নজরুল

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আমরা ওনার (খালেদা জিয়ার) চিকিৎসার কথা বলেছি, আমরা বিদেশে নেয়ার কথা বলেছি- আমরা অনুরোধ করেছি। কিন্তু চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তারা চিকিৎসা করতে দেবে না। আমি বলতে চাই, খালেদা জিয়ার কিছু হলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার আপনাকে নিতে হবে।’

রাজধানীর এভারকেয়ার হসপিটালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হলে এর দায় সরকারকে নিতে হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম খান।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে তিনি আহ্বান জানান।

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিন-তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। ওনাকে কেউ প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে দেয় নাই। এ দেশের লক্ষ-কোটি মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে কোটি কোটি ভোটের ব্যবধানে তিনি এ দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। আজকে সেই প্রধানমন্ত্রী অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ধুঁকে ধুঁকে মরছেন। ওনার সুচিকিৎসা হচ্ছে না।’

প্রধানমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমরা ওনার (খালেদা জিয়া) চিকিৎসার কথা বলেছি, আমরা বিদেশে নেয়ার কথা বলেছি- আমরা অনুরোধ করেছি। কিন্তু চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তারা চিকিৎসা করতে দেবে না। আমি বলতে চাই, খালেদা জিয়ার কিছু হলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার আপনাকে নিতে হবে।’

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। শুরুতে গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় থেকে চিকিৎসা নিলেও ২৭ এপ্রিল ভর্তি করা হয় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে। খালেদা জিয়া করোনামুক্ত হন ৯ মে। কিন্তু বাসায় ফেরা হচ্ছে না তার। বিএনপি থেকে বলা হচ্ছে, অন্যান্য শারীরিক জটিলতা থেকে জ্বর ওঠে খালেদা জিয়ার।

খালেদা জিয়ার কিছু হলে দায় সরকারের: নজরুল
নিপুণ রায়ের মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্যে বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান। ছবি: নিউজবাংলা

বাংলাদেশ নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের উদ্যোগে সংগঠনটির সদস্যসচিব ও বিএনপির কার্যনির্বাহী সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর মুক্তির দাবিতে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সংগঠনের সদস্য মীর সরাফত আলী সপু; সঞ্চালনায় ছিলেন আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘নিপুণ রায়ের প্রতি যে অন্যায় তারা (সরকার) করেছে আমরা তার প্রতিবিধান চাই। আমি চাই যে, তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়া হোক। সরকার তার রাজনৈতিক স্বার্থে না হয় অপরাধ করেছে, আমরা আশা করব, আদালত পবিত্র স্থান সেখানে অন্তত সে সুবিচার পাবে।

‘আমরা জানি যে নিপুণ রায় চৌধুরীর একটা ছোট মেয়ে আছে। সেই মেয়ের কাছ থেকে তার মাকে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন করে রাখা-এটা খুব বিশাল অমানবিক রাজনীতি। তাকে অন্যায়ভাবে আটক করে রাখা হয়েছে।’

শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিকেরা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কর্মীরা, তারেক রহমানের ভাই এবং বোনেরা ভয় পায় না দাবি করে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি ভাঙেও নাই, বিএনপি দুর্বলও হয় নাই।’

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, বিএনপি নেতা শিরিন সুলতানা, আজিজুল বারী হেলাল, আফরোজা আব্বাস, আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েলসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
নিষ্ঠার সঙ্গে অসুস্থ স্ত্রীর সেবা করেছেন মতিন খসরু
মতিন খসরুর ফাঁকা আসনে প্রার্থী কারা
খসরুর আসন শূন্য, গেজেট ইসিতে
বাবা-মায়ের পাশে সমাহিত মতিন খসরু
খসরুর সম্মানে বন্ধ সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক কাজ

শেয়ার করুন