বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর

বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর

‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান তিন তরকারি দিয়ে ভাত খেতেন। মাছ থাকলে মাংস থাকত না, মাংস থাকলে মাছ থাকত না, সঙ্গে ডাল ও ভাজি দিয়ে খেতেন।… বন্দনা পছন্দ করতেন না। তাকে যদি কেউ বিশেষণ দিয়ে কথা বলতেন তিনি তাকে বসিয়ে দিতেন। কিন্তু কেউ যদি তার সমালোচনা করতেন, তিনি তাকে উৎসাহ দিতেন।’

বর্তমানে বিএনপিতে ৮০ জন নেতা, ২০ জন কর্মী। সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ মন্তব্য করে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘যেদিন সবাই কর্মী হবে, সামনে একজন নেতা হবে, সেদিন গণতন্ত্র মুক্তি পাবে।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪০ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি এই সভার আয়োজন করে।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান তিন তরকারি দিয়ে ভাত খেতেন। মাছ থাকলে মাংস থাকত না, মাংস থাকলে মাছ থাকত না, সঙ্গে ডাল ও ভাজি দিয়ে খেতেন।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বন্দনা পছন্দ করতেন না। তাকে যদি কেউ বিশেষণ দিয়ে কথা বলতেন তিনি তাকে বসিয়ে দিতেন। কিন্তু কেউ যদি তার সমালোচনা করতেন, তিনি তাকে উৎসাহ দিতেন। কিন্তু আমরা এখন কমবেশি সবাই বন্দনা পছন্দ করি।’

জিয়াউর রহমান ভাষণ-স্লোগান দিয়ে রাজনীতি করতেন না। তিনি উৎপাদনের রাজনীতি করতেন বলেও উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি থাকাকালে জিয়াউর রহমান যে উপহার পেতেন, তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা রাখতেন। আর এখনকার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উপহারের ঘড়ি হাতে দিয়ে রাখেন।’

তিনি বলেন, ‘এখনকার নেতারা মার্সিডিজ গাড়ি ছাড়া চলাচল করেন না। আর জিয়াউর রহমান মাত্র ১৩ শ সিসির গাড়ি ব্যবহার করতেন।’

সভায় ঢাকা মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি বজলুল বাসিত আনজু সভাপতিত্ব করেন। এতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুলসহ অনেকে বক্তৃতা করেন।

আরও পড়ুন:
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কুমিল্লা-৫ আসনের এমপি আ. লীগের হাশেম

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কুমিল্লা-৫ আসনের এমপি আ. লীগের হাশেম

কুমিল্লা-৫ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হলেন আওয়ামী লীগের আবুল হাশেম। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে চিঠি দিয়ে তার জয়ের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে দিয়েছি।’

কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম।

কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ কামরুল হাসান হাশেমের এমপি হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, গত ২০ জুন জাতীয় পার্টির মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিন প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেন। ২৩ জুন ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। সেদিন জসিম উদ্দিনের আবেদন গ্রহণ করে এই আসনে একক প্রার্থী হিসেবে নৌকা রাখা হয়।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার প্রতীক বরাদ্দের দিন নৌকার প্রার্থী আবুল হাশেম খানকে কুমিল্লা-৫ আসনের একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান আরও বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে চিঠি দিয়ে তার জয়ের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে দিয়েছি।’

আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী হওয়ার পর আবুল হাশেম খান বলেন, ‘আমি প্রথমেই শ্রদ্ধা জানাই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি। কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। যিনি আমার প্রতি বিশ্বাস রেখেছেন।’

‘আমার বিজয় আমি বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়াবাসীকে উৎসর্গ করলাম। আমি দায়িত্বগ্রহণের পর মাদক নির্মূল হবে আমার প্রধান কাজ।’

আবুল হাশেম খান আরও বলেন, ‘কুমিল্লা-৫ আসনের প্রয়াত সাংসদ অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরুর অসমাপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়ন করব। দুই উপজেলার যানজট দূর করাসহ পৌরসভায় উন্নীত করার ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে চেষ্টা করব।

‘বিশেষ করে মাদক কারবারি, মাদক সেবনকারীকে চিরতরে নির্মূল করতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চাই।’

গত ১৪ জুন পর্যন্ত এ আসনে মোট আটজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও ১৫ জুন মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন মাত্র দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

সবশেষে প্রার্থী হিসেবে মাঠে অবস্থান জানান দেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল হাশেম খান ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী জসিম উদ্দিন।

পরে গত ২০ জুন দলীয় সিদ্ধান্ত ছাড়াই চুপিসারে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী জসিম উদ্দিন। এতেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথ সুগম হয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল হাশেম খানের।

কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু ১৪ এপ্রিল মারা যান। ২১ এপ্রিল আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। তিনি এ আসন থেকে মোট পাঁচবার (১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৯, ২০১৪ ও ২০১৮) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

সম্মেলনের দুই বছরেও কমিটি পায়নি জবি ছাত্রলীগ

সম্মেলনের দুই বছরেও কমিটি পায়নি জবি ছাত্রলীগ

প্রেমঘটিত এক ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে দিনভর সংঘর্ষের পর ২০১৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শোভন-রাব্বানী কমিটি জবি ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করে। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছাত্রলীগের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়া হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের ২০ জুলাই। সম্মেলন হলেও সেদিন কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি ছাত্রলীগ। শিগগিরই কমিটি ঘোষণা হবে জানালেও পেরিয়ে যায় প্রায় দুই বছর। এই দীর্ঘ সময়েও বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কমিটি দিতে পারেনি ছাত্রলীগ। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন নেতা-কর্মীরা।

কমিটির জন্য জবির বেশ কিছু ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ধরনা দিলেও কাজে আসেনি তাদের চেষ্টা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছাত্রলীগের কমিটিতে দেখা দিয়েছে দীর্ঘ জট।

এই জট নিরসনে দ্রুত কমিটি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জবির ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক শরীফ-সিরাজ কমিটি ৩ অক্টোবর ২০১২ সালে এক বছরের জন্য অনুমোদন পায়। এক বছরের জন্য দায়িত্ব নিলেও পার হয়ে যায় ৪ বছর। সর্বশেষ কমিটি হয় ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর। সে সময় মো. তরিকুল ইসলামকে সভাপতি ও শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেলকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩৯ সদস্যের কমিটি করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

সেই কমিটি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই একের পর এক নেতার বিরুদ্ধে উঠতে তাকে অভিযোগ। একটা পর্যায়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বিরাগভাজন নেতা-কর্মীরদের বিভিন্ন ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়।

সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন নেতাকে পরে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকায় ছাত্রলীগ থেকেই বহিষ্কার করা হয়। এরপর বাড়তে থাকে নেতাদের মধ্যে অন্তঃকোন্দল।

এরপর প্রেমঘটিত এক ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে দিনভর সংঘর্ষের পর ২০১৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শোভন-রাব্বানী কমিটি জবি ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করে। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছাত্রলীগের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়া হয়।

জবিতে দ্রুত ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের জন্য পদপ্রত্যাশী নেতা-কর্মীরা দৌড়ঝাঁপ করছেন দীর্ঘদিন।

পদপত্যাশী এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের এই অবস্থার দ্রুত সমাধান হলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচি। আর কত দিন ঘোরা যায় তাদের (কেন্দ্রীয় দুই নেতা) পেছনে। তারা কমিটি নিয়ে মুখও খোলেন না। কবে দেবে সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট কথাও বলেন না। আমাদের তো ক্যারিয়ার আছে? নেতা হলে রাজনীতি করব, না হলে ব্যবসাবা চাকরি করতে হবে।’

২০১২ সালের পরে যারা (৭ম ব্যাচ) বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকেই সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত আছেন। এরাও পরিচয় ছাড়া রাজনীতি করে চলেছেন। ৭ম থেকে ১১তম ব্যাচের বিভিন্ন বিভাগের কর্মীরা অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছেন আবার অনেক কর্মী পদ-পদবির অর্থাৎ পরিচয় পাওয়ার আশায় এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতিতে যুক্ত আছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ছাত্রলীগ কর্মী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে ভার্সিটি জীবনের প্রথম থেকে সক্রিয় রাজনীতি করে এখনও পরিচয়হীন আছি। আশায় আছি নতুন কমিটি হলে পদ পাব। এ জন্য ১ বছরের গ্যাপও হয়েছে। কিন্তু কবে কমিটি হবে জানি না।’

জবির বিজ্ঞান অনুষদের এক ছাত্রলীগ কর্মী জানান, গত সাড়ে তিন বছরেও তিনি রাজনীতিতে নিজের পরিচয় পাননি। নতুন কমিটিতে পদ পাবেন, এমনটা আশা তার।

জবি ছাত্রলীগের এই অবস্থা নিয়ে সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একটা দীর্ঘ সেশনজটের সৃষ্টি হয়েছে, এই দায় সম্পূর্ণটাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের। তারা যথাসময়ে কমিটি দিতে পারেনি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতেও তাদের সময় লাগে।’

তিনি বলেন, ‘তারা কি কারণে জগন্নাথে কমিটি আটকায় রাখে আমি বুঝি না। এটা তারাই ভালো বোঝে।’

তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে না পারার ব্যর্থতা স্বীকার করে সাবেক এই নেতা বলেন, ‘আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারিনি, এটা আমাদের ব্যর্থতা ছিল।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি (শরিফ-সিরাজ কমিটি) ও যুবলীগের সহসম্পাদক হিমেলুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সব সময় বঞ্চিত হয়ে আসছে। এখনও হচ্ছে।

যথাসময়ে কমিটি না দেয়ায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা যাবেই। এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে তথা সংগঠন নেতৃত্ব শূন্যতায় ভুগবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ বরাবরই অবহেলিত ও বৈষম্যের শিকার বলে মনে করেন এই নেতা।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এই অবস্থায় দায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ওপর বর্তায় উল্লেখ্য করে বলেন, জবি ছাত্রলীগকে মূল্যায়ন করে শক্তিশালী সংগঠন করা হোক।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বারবার ফোন করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি।

আরও পড়ুন:
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

মনোনয়ন পেয়েও ভোটে অনীহা, জাপা থেকে বহিষ্কার আরও ১

মনোনয়ন পেয়েও ভোটে অনীহা, জাপা থেকে বহিষ্কার আরও ১

দল থেকে বাদ পড়েছেন জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আসলামুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা-১৪ ও আবদুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে কুমিল্লা-৫ আসন শূন্য ঘোষণা করার পর সেখানে উপনির্বাচনের তারিখ দেয়া হয়েছিল। দুটি আসনে লাঙ্গল প্রতীক পেয়েও ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় পার্টির দুই নেতা। আর এ কারণে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ঢাকা-১৪ আসনের উপনির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীক দেয়া মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোয় তাকে দল থেকেই বাদ দিয়েছে জাতীয় পার্টি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক এম এ রাজ্জাক খান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মোস্তাক দলটির ভাইস চেয়ারম্যান।

এ নিয়ে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পাওয়া দুই নেতাকে একই কারণে দল থেকে বহিষ্কার করা হলো। কুমিল্লা-৫ আসনেও একইভাবে ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোয় দল থেকে বাদ পড়েছেন জসিম উদ্দিন।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আসলামুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা-১৪ ও আবদুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে কুমিল্লা-৫ আসন শূন্য ঘোষণা করার পর সেখানে উপনির্বাচনের তারিখ দেয়া হয়েছিল।

নির্বাচনে কারচুপি হয় এমন অভিযোগ এনে বিএনপি আগেই জানিয়েছে, তারা ভোটে আসবে না। এ অবস্থায় জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিই একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের।

তবে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের শূন্য আসন লক্ষ্মীপুর-২-এ জাতীয় পার্টি একেবারে সুবিধা করতে পারেনি। সেখানে আওয়ামী লীগের নৌকায় সাড়ে ৯৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। আর এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এককাট্টা হয়ে লড়েওনি।

এর বাইরে সিলেট-৩ আসনেও ভোট হচ্ছে। সেখানেই কেবল জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পাওয়া আতিউর রহমান আতিকই এখন পর্যন্ত ভোট নিয়ে বেশ আগ্রহী। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া হাবিবুর রহমানের প্রার্থিতা ঠেকাতে তিনি চেষ্টাও করেছেন।

আতিকের দাবি, হাবিব বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যেরও নাগরিক। এ কারণে তার ভোটে দাঁড়ানোর যোগ্যতা নেই। তবে নির্বাচন কমিশন হাবিবের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে।

মোস্তাকুর রহমান মোস্তাককে বহিষ্কার করার বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক রাজ্জাক খান বলেন, `দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় মোস্তাকুর রহমান মোস্তাককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে মোস্তাকুর রহমান মোস্তাকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন:
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

বিএনপি নেতারা যেন সার্কাসের ক্লাউন: কাদের

বিএনপি নেতারা যেন সার্কাসের ক্লাউন: কাদের

বিএনপি নেতাদের সার্কাসের ক্লাউনের সঙ্গে তুলনা করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

‘সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকগুলোতে দেখুন, প্রতিটি সূচকে শেখ হাসিনা সরকারের অর্জনের ফলেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। এটা বাংলাদেশ সরকারের কোনো বানানো সূচক নয়, এটা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার তৈরি সূচক,’ বিএনপি মহাসচিবকে উদ্দেশ করে বলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেবরা এসব দেখতে পান না। তারা ততটুকুই বলেন, যতটুকু টেমস নদীর ওপার থেকে তাদের কাছে ফরমায়েশ আকারে ভেসে আসে।’

বিএনপি নেতাদের সার্কাসের ক্লাউনের সঙ্গে তুলনা করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার নিজ বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের কথাবার্তা শুনে মনে হয় যেন সার্কাসের ক্লাউনরা বক্তব্য রাখছে। তাদের এই নেতিবাচক ধারা এবং ক্লাউনের ভূমিকা পালন থেকে কবে ফিরে আসবে?’

‘রাজনীতিতে প্রতিপক্ষ থাকবে, তাই বলে সাদাকে সাদা বলা যাবে না এমনটি নয়। রাজনীতির মাঠে বিএনপিকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি কিন্তু বিএনপি আওয়ামী লীগকে শত্রুজ্ঞান করে। দেশের রাজনীতিতে ওয়ার্কিং আন্ডারস্ট্যান্ডিং বিএনপিই নষ্ট করেছে।’

বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে কাদের বলেন, দেশ-বিদেশে যখন শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রশংসা করা হয় তখন বিএনপি কষ্ট পায়। সত্য লুকানো আর অসত্যের সঙ্গে সখ্য বিএনপির পুরনো অভ্যাস।

‘সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকগুলোতে দেখুন, প্রতিটি সূচকে শেখ হাসিনা সরকারের অর্জনের ফলেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। এটা বাংলাদেশ সরকারের কোনো বানানো সূচক নয়, এটা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার তৈরি সূচক,’ বিএনপি মহাসচিবকে উদ্দেশ করে বলেন তিনি।

কাদের বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগের ইতিবাচক পরিবেশ বাংলাদেশে বিরাজ করছে। আপনারা (বিএনপি) আন্দোলনের নামে আগুন-সন্ত্রাস আর জনগণের সম্পদ ধ্বংসের রাজনীতি পরিত্যাগ করুন, তাহলেই বিনিয়োগকারীরা আরও উৎসাহী ও আস্থাশীল হবে।

‘বিশ্ব অর্থনীতি যখন করোনা অভিঘাত মোকাবিলা করতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন নতুন করে বেড়েছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী। উন্নয়ন উৎপাদনে গতি হয়েছে মন্থর। এমন প্রতিকূলতার মাঝেও শেখ হাসিনা সরকার দক্ষতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে মানুষের জীবনের সুরক্ষার পাশাপাশি জীবিকার চাকা সচল রাখতে। অর্থনীতির গতিপ্রবাহ ধরে রেখে প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা বজায় রাখার মতো চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ অতিক্রম করেছে।’

তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেবরা এসব দেখতে পান না। তারা ততটুকুই বলেন যতটুকু টেমস নদীর ওপার থেকে তাদের কাছে ফরমায়েশ আকারে ভেসে আসে।’

পদ্মা সেতুর ৮৬ ভাগ সার্বিক কাজ শেষ

এর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বোর্ড সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। এ সময় তিনি বলেন, ‘নানান অনিশ্চয়তার দোলাচলে আর চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ। ৪১টি স্প্যানের সব কটি সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে।

‘গতকাল পর্যন্ত মূল সেতুর নির্মাণকাজের অগ্রগতি শতকরা প্রায় ৯৩ দশমিক ৫০ ভাগ। নদীশাসন কাজের অগ্রগতি ৮৩ দশমিক ৫০ ভাগ। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি শতকরা ৮৬ ভাগ। আশা করা যাচ্ছে, ২০২২ সালের জুন মাস নাগাদ পদ্মা সেতু নির্মাণ শেষে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।’

এ সময় মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মাণকাজের এ পর্যন্ত অগ্রগতি শতকরা ৭০ ভাগ।

আরও পড়ুন:
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

গৌরনদীতে সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৩

গৌরনদীতে সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৩

স্বজনদের অভিযোগ, বুধবার সকালের দিকে খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিজয়ী সদস্য প্রার্থী ফিরোজ মৃধার লোকজন শাহ আলমকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। সন্ধ্যার দিকে সংঘবদ্ধ হয়ে তারা বেইলি ব্রিজ এলাকায় শাহ আলমের ওপর হামলা চালায়। তাকে মারধর করা হয়।

বরিশালের গৌরনদীতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে একই এলাকায় নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতায় দুদিনের ব্যবধানে তিনজন নিহত হলেন।

বার্থি ইউনিয়নের বেইলি ব্রিজ এলাকায় বুধবার সন্ধ্যার দিকে সবশেষ ঘটনাটি ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম শাহ আলম খান। তার বাড়ি বার্থি ইউনিয়নের বড় দুলালী গ্রামে। তিনি খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পরাজিত (টিউবওয়েল মার্কা) সদস্য প্রার্থী মন্টু হাওলাদারের ভায়রা।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শাহ আলমের স্বজনরা জানান, বুধবার সকালের দিকে খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিজয়ী সদস্য প্রার্থী ফিরোজ মৃধার লোকজন শাহ আলমকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। সন্ধ্যার দিকে সংঘবদ্ধ হয়ে তারা বেইলি ব্রিজ এলাকায় শাহ আলমের ওপর হামলা চালায়। তাকে মারধর করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে নেয়া হয় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এর আগে ২১ জুন নির্বাচনের দিন ককটেল হামলায় ফিরোজ মৃধার সমর্থক মৌজে আলী মৃধা নিহত হন। একই দিন সন্ধ্যায় ককটেল হামলায় আবু বকর নামে আরেক যুবক নিহত হন।

ওসি আফজাল জানান, মৌজে আলী হত্যার ঘটনায় গত মঙ্গলবার তার ছেলে নজরুল মৃধা ২১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ মামলার তিন আসামি সদ্য বিজয়ি ইউপি সদস্য ফিরোজ মৃধা এবং তার দুই সহযোগী মাহফুজুর রহমান ইমন ও নয়ন মৃধাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আর আবু বক্কর হত্যার ঘটনায় তার বাবা আনজু ফকির অর্ধশতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির নামে মামলা করেছেন। সেই মামলায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

আরও পড়ুন:
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

বরগুনায় নৌকার ভরাডুবি যেসব কারণে

বরগুনায় নৌকার ভরাডুবি যেসব কারণে

বরগুনায় উপনির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী (উপরে বাঁ থেকে) মজিবুল হক কিসলু, মোশাররফ মাস্টার, আলমগীর বিশ্বাস, সিদ্দিকুর রহমান, শরীফ ইলিয়াস স্বপন, কুদ্দুস খান।

জেলা নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত প্রাথমিক চূড়ান্ত ফলে দেখা গেছে, ঢলুয়া, ফুলঝুড়ি ও বরগুনা সদর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। বদরখালী, গৌরীচন্না, আয়লা-পাতাকাটা, বুড়িরচর, কেওড়াবুনিয়া ও নলটোনা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। নলটোনা ও বদরখালী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের (বিএনপি-সমর্থিত) কাছে হেরেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।

সদ্যসমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বরগুনা সদর উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের ছয়টিতেই স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। মাত্র তিনটিতে জয় পেয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এই তিন ইউনিয়নেও জয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে ‘প্রভাব বিস্তার’-এর অভিযোগ উঠেছে।

বরগুনা আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বলছেন, জনপ্রিয় প্রার্থীদের মনোনয়ন না দেয়া, সাংগঠনিক তৎপরতায় ঘাটতি ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কিছু নেতা-কর্মীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণেই নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের এমন পরাজয় হয়েছে।

ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপে গত সোমবার ২১ জুন বরগুনা সদর উপজেলার ৯টিসহ সারা দেশের ২০৪টি ইউপিতে ভোট হয়। জেলা নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত প্রাথমিক চূড়ান্ত ফলে দেখা গেছে ঢলুয়া, ফুলঝুড়ি ও বরগুনা সদর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। বদরখালী, গৌরীচন্না, আয়লা-পাতাকাটা, বুড়িরচর, কেওড়াবুনিয়া ও নলটোনা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

নলটোনা ও বদরখালী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের (বিএনপি-সমর্থিত) কাছে হেরেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এর মধ্যে নলটোনায় আওয়ামী লীগ সভাপতি আলমগীর বিশ্বাস হেরেছেন বিএনপি নেতা কেএম সফিকুজ্জামান মাহফুজের কাছে।

বদরখারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শরীফ ইলিয়াস হোসেন স্বপন হেরেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি-সমর্থিত) মতিউর রহমান রাজার কাছে।

বুড়িরচরে বরগুনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান পরাজিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীরের কাছে, যিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত।

জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম মজিবুল হক কিসলু দলীয় মনোনয়ন পেয়ে আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়নের নির্বাচনে অংশ নেন। তিনি নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের কাছে হেরেছেন।


বরগুনায় নৌকার ভরাডুবি যেসব কারণে

গৌরীচন্না ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল কুদ্দুস খান। তিনিও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী তানভীর সিদ্দিকীর কাছে হেরেছেন। একইভাবে কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন হেরেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান নসার কাছে।

ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের এমন ভরাডুবি নিয়ে ক্ষুব্ধ তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

নলটোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম জাকির বলেন, ‘নলটোনা ইউনিয়নে গতবার হুমায়ুন কবীরকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দুর্নীতির করায় এবার তাকে মনোনয় দেয়া হয়নি। মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় কবির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে আমাদের নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচার চালায়। তিনি কালোটাকা ছড়িয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করে। নৌকাকে হারানোর জন্য এইখানে নিজে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী দায়ী। ত্যাগীদের মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের মনোযোগী হওয়া জরুরি।’

কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকির হোসেন হারুন বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নে মনিরুজ্জামান নশা এবার জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন। তাকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেয়া হয় মোশাররফ মাস্টারকে। এ কারণেই নৌকা হেরেছে। আমি মনে করি, মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা যাচাইবাছাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা না হলে দলেরই অপমান হয়ে যায়।’

একই রকম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অন্য সব ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা। দলের এই ভরাডুবির জন্য তারা জেলা ও উপজেলার নেতাদের স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি ও গ্রুপিংকে দায়ী করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরগুনা সদর উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা জানান, সংসদ সদস্য, জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা যে যার পছন্দের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার সুপারিশ পাঠান। এতে তৃণমূলের মতামত অগ্রাহ্য হয়। ভরাডুবির এটাই সবচেয়ে বড় কারণ।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মুহাম্মদ ওলি উল্লাহ ওলি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যদি মনেপ্রাণে চায় তাহলে বরগুনায় আওয়ামী লীগকে হারানোর কেউ নাই। কিন্তু বাস্তবতা হলো আমাদের অনেক প্রার্থী হেরেছেন। আমরা তৃণমূলের মতামতেই প্রার্থী যাচাইবাছাই করেছি। এখানে আমাদের কোনো হাত ছিল না।

‘আমরা শুধু গত নির্বাচনে দলের বাইরে গিয়ে যারা কাজ করেছেন, বিদ্রোহী হয়েছেন- এমন প্রার্থীদের বাদ দিয়ে সুপারিশ পাঠিয়েছি। দলের প্রার্থীরা হেরে যাওয়ার পর আমার মনে হয়েছে, এখন তৃণমূলকে ঢেলে সাজাতে হবে। আমরা সে কাজটি দ্রুত শুরু করব।’

আরও পড়ুন:
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

ধর্ষণ মামলা ঠেকাতে ‘বিয়ে না করেই তালাকনামা’

ধর্ষণ মামলা ঠেকাতে ‘বিয়ে না করেই তালাকনামা’

‘বোনের মৃত্যুর পর তিনি আমাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু বিয়ে করেননি। বিয়ে না করেই তিনি আমাকে তালাকনামা পাঠিয়েছেন যাতে আমি তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় যেতে না পারি। কিন্তু তার সঙ্গে আমার কবে নিয়ে হলো?’

পাবনার আটঘরিয়ার উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হামিদ মো. মোহাইম্মিন হোসেন চঞ্চলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনেছেন এক তরুণী।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক তরুণী বলেছেন, তিনি যেন ধর্ষণ মামলা না করতে পারেন, সে জন্য বিয়ে না করেই তাকে তালাকনামা পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত চঞ্চল আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য ঘোষিত সাধারণ সম্পাদক।

ওই ছাত্রী জানান, তিনি চট্টগ্রাম ভেটারিনারি অ্যান্ড এমিনের সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। তার বাড়ি পাবনা।

বড় বোনের সঙ্গে ওই চেয়ারম্যানের যোগাযোগ ছিল। তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ তার। তবে মৃত্যুর পর তারা বিষয়টি বুঝতে পারেননি বলে জানান সংবাদ সম্মেলনে।

তিনি বলেন, ‘ধুরন্ধর ও শঠতার আশ্রয় নিয়ে আমার বড় বোনকে হত্যা করলেও আমরা এতদিন বুঝতেই পারিনি। কিছুদিন আগে তার হাতের লেখা ডায়েরি থেকে হত্যাকারী যে চঞ্চল সেটা বুঝতে পারি।’

তিনি বলেন, চেয়ারম্যান চঞ্চল তার বোনকে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে ২০১২ সালে পাবনা শহরে বেড়াতে নিয়ে যান। সেখানে এক বাড়িতে তার বোনকে ধর্ষণ করা হয়। বোন বাড়িতে ফেরার পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎক তাকে মৃত ঘোষণা করে।’

‘বোনের মৃত্যুকে আমরা স্বাভাবিকভাবেই মেনে নেই’- এ কথা উল্লেখ করে সেই তরুণী বলেন, পরে বিষয়টি আমরা বুঝতে পারি।

তার আগেই চঞ্চল তার সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘বোন মারা যাওয়ার পর চঞ্চল সান্ত্বনা দিতে আমাদের বাড়িতে যাতায়াত করতে থাকেন। ২০১৭ সাল পর্যন্ত এভাবেই সামাজিক সম্পর্ক চলে আসছিল। এলাকা প্রভাবশালী হওয়ায় আমরাও বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই মেনে নেই।

‘এক পর্যায়ে চঞ্চল তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন বলে জানান তরুণী। তার আকেও বেড়ানোর কথা বলে পাবনা শহরে নিয়ে যান।

‘সেখানে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং তা মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখেন। আর সেটি ফাঁস করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বারবার অনৈতিক বা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চাপ দিতে থাকেন।’

এক পর্যায়ে হঠাৎ করেই তিনি তালাকনামা পেয়ে অবাক হয়ে যান। নিউজবাংলাকে সেই তরুণী বলেন, ‘বোনের মৃত্যুর পর তিনি আমাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু বিয়ে করেননি। বিয়ে না করেই তিনি আমাকে তালাকনামা পাঠিয়েছেন যাতে আমি তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় যেতে না পারি। কিন্তু তার সঙ্গে আমার কবে নিয়ে হলো?’

তবে এ সকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান আবু হামিদ মো. মোহাইম্মীন হোসেন চঞ্চলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে থানায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি।‘

তবে সংবাদ সম্মেলন করা তরুণী জানিয়েছেন তিনি জেলা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে পুলিশের আইজিপির কাছে অভিযোগ করেছেন।’

আরও পড়ুন:
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন