সময় হলে আমাদের জয় নিশ্চিত হবে: ফখরুল

সময় হলে আমাদের জয় নিশ্চিত হবে: ফখরুল

জাতীয় প্রেস ক্লাবে মঙ্গলবার এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘এত ত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। সময় হলে আমাদের জয় নিশ্চিত হবে।’ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি।

সময় হলে জয় নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে মঙ্গলবার এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এত ত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। সময় হলে আমাদের জয় নিশ্চিত হবে।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি।

আওয়ামী লীগ ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমানকে আওয়ামী লীগই ছোট করছে। আওয়ামী লীগ যেখানে ব্যর্থ, বিএনপি সেখানে সফল।’

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান তথ্যমন্ত্রী সব মিথ্যা বলেন। তিনি সম্ভবত হিটলারের তথ্যমন্ত্রী ছিলেন।

‘আওয়ামী লীগের এসব নেতা-কর্মী বারবার মিথ্যা বলতে বলতে একবার সত্য বলে ফেলে। তাদের মুখ দিয়ে সত্যটা বেরিয়ে আসে।’

বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ করে দলটির মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা আশাহত না হয়ে দাবি আদায়ে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যান। ইনশাল্লাহ জয় আমাদের আসবে।’

আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতা দখল করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমরা শুরু থেকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখন আমাদের অনেকের বয়স ৭০-এর ওপরে। অনেক সময় ইচ্ছা থাকলেও আমাদের আন্দোলন করা সম্ভব হয় না। দেশের ইতিহাসে যুবকরা বিশেষ ভূমিকা রাখে। সব অন্যায় ও আওয়ামীবিরোধী আন্দোলন যুবকদের শুরু করতে হবে। আন্দোলন শুরু হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে, এরপর সে আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘জেগে উঠতে হবে, জাগাতে হবে। যুবকরা কোথায়? অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিএনপি সব সময় সোচ্চার আছে। এখনও জেল-জুলুম ও নির্যাতন হচ্ছে। আমার নামেও অনেক মামলা রয়েছে, হাজিরা দিয়ে যাচ্ছি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রচার করে আসছে। স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে জিয়াকে আওয়ামী লীগ খলনায়ক বানানোর চেষ্টা করছে।

‘আমি বলতে চাই, মেজর জিয়াউর রহমান এ দেশের রাষ্ট্রনায়ক। জিয়াউর রহমান যদি সেই দিন স্বাধীনতার হাল না ধরতেন, তাহলে এ দেশ কখনো স্বাধীন হতো না। কাজেই জিয়াউর রহমানের সমালোচনা থেকে আওয়ামী লীগের দূরে থাকা উচিত।’

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘৭২ সালের সংবিধানকে কেটে-ছিঁড়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনরায় বহালের দাবি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিদেশে টাকা পাচার ঠেকানো যাচ্ছে না। তারা বিভিন্নভাবে দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ না করলে পরিণতি ভালো হবে না।’

এ সময় পদ-পদবির জন্য রাজনীতি না করতে দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী যতবার ক্ষমতায় এসেছে, গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। আর বিএনপি বারবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছে। এ জন্য দেশের মানুষ সব সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে ভালোবাসে এবং বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে চায়।’

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ।

আরও পড়ুন:
ফখরুল বললেন তাবিথ জনগণের মেয়র
আন্দোলনের সময় আসেনি: ফখরুল; তীব্র আন্দোলন: নজরুল
সময়মতো আন্দোলনের ডাক: ফখরুল
ছয় কোটি মানুষকে কেন ১৫ হাজার করে টাকা দিলেন না
জলবায়ু তহবিলের টাকাও লুট: মির্জা ফখরুল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

১০ বছর পর নির্বাচন, আগ্রহ নেই ভোটারদের

১০ বছর পর নির্বাচন, আগ্রহ নেই ভোটারদের

দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ছবি: নিউজবাংলা

ভোটার সাদেকুর রহমান ও ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘করোনা মহামারিতে আমরা ভোট দিতে কিভাবে যাব। এমনিতে দিনাজপুরে করোনা বেড়ে গেছে। এর মধ্যে ভোট দিতে যাওয়া ভয়ের কারণে হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

আর এক দিন পর দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ। সীমানা জটিলতায় ১০ বছর অপেক্ষার পর ভোটের আগ মুহূর্তে চলছে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন তারা। তবে করোনা পরিস্থিতিতে নির্বাচনে আগ্রহ নেই ভোটারদের।

১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘খ’ শ্রেণীর এ পৌরসভার সবশেষ নির্বাচন হয় ২০১১ সালের ১২ জানুয়ারি। সীমানা জটিলতার কারণে ১০ বছর আটকে ছিল সেতাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন।

উপজেলা নির্বাচন অফিস জানায়, ২১ জুন ইভিএমের মাধ্যমে ২১ হাজার ৩৫৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার কথা। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ৩২৬ এবং মহিলা ভোটার ১১ হাজার ৩২ জন। নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য এরই মধ্যে ১০টি কেন্দ্রের ৭৪টি বুথ প্রস্তুত করা হয়েছে।

সেতাবগঞ্জে টানা ১১ বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন আব্দুস সবুর।

এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে ৫ জন, ৩টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১২ জন এবং ৯টি সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মেয়র পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আসলাম, হাতুড়ী প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটির রশিদুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এছাড়াও মেয়র পদে লড়াইয়ে আছেন তিন জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। তাদের মধ্যে নারিকেল গাছ প্রতীকে হাবিবুর রহমান দুলাল, জগ প্রতীকে নাহিদ বাসার চৌধুরী, মোবইল প্রতীক নিয়ে আছেন নাজমুন নাহার মুক্তি।

প্রার্থীরা এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটারদের মাঝে তেমন কোনো উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে না।

ভোটার সাদেকুর রহমান ও ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘করোনা মহামারিতে আমরা ভোট দিতে কিভাবে যাব। এমনিতে দিনাজপুরে করোনা বেড়ে গেছে। এর মধ্যে ভোট দিতে যাওয়া ভয়ের কারণে হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার ছন্দা পাল বলেন, ‘সেতাবগঞ্জ পৌরসভার ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করাতে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ভোটারেরা যেনো কেন্দ্র এসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোট দিতে পারেন সে দিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।’

সেতাবগঞ্জ পৌরসভায় প্রথমবারের মত ইভিএমে ভোট গ্রহণ হবে।

আরও পড়ুন:
ফখরুল বললেন তাবিথ জনগণের মেয়র
আন্দোলনের সময় আসেনি: ফখরুল; তীব্র আন্দোলন: নজরুল
সময়মতো আন্দোলনের ডাক: ফখরুল
ছয় কোটি মানুষকে কেন ১৫ হাজার করে টাকা দিলেন না
জলবায়ু তহবিলের টাকাও লুট: মির্জা ফখরুল

শেয়ার করুন

দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা: ১৯ আওয়ামী লীগ নেতাকে বহিষ্কার

দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা: ১৯ আওয়ামী লীগ নেতাকে বহিষ্কার

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের প্রেস বিজ্ঞপ্তি। ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২১ জুন বরিশাল সদর, হিজলা, মুলাদী, বানারীপাড়া, বাকেরগঞ্জ ও বাবুগঞ্জে ইউপি নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছেন, এমন ১৯ জনকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করায় বরিশালে ১৯ আওয়ামী লীগ নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।

শনিবার বিকেলে এ তথ্য জানিয়েছেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস।

জেলা আওয়ামী লীগের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২১ জুন বরিশাল সদর, হিজলা, মুলাদী, বানারীপাড়া, বাকেরগঞ্জ ও বাবুগঞ্জ উপজেলার ইউপি নির্বাচনে
দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছেন, এমন ১৯ জনকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নির্ধারণ করেছিল।

তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস নিউজবাংলাকে বলেন, যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারী। তাদের মধ্যে কেউ দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন, আবার কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন।

বহিষ্কৃতদের সঙ্গে যারা যোগাযোগ বা নৌকাবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

হিজলায় বহিষ্কৃতরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পণ্ডিত সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ, ফারুক সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন হাওলাদার, হরিনাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুর রহমান সিকদার।

মুলাদীর বহিষ্কৃত নেতারা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মুন্সী, সদস্য মজিবুর রহমান শরীফ, ইউসুফ আলী।

বানারীপাড়ায় বহিষ্কার হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তাজেম আলী হাওলাদার।

সদর উপজেলায় বহিষ্কার হলেন কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম, চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম।

বাকেরগঞ্জের বহিষ্কার হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনায়েত হোসেন পান্না, দাড়িয়াল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বাছের আহম্মেদ বাচ্চু, গারুরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিন তালুকদার মিন্টু, কলসকাঠি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুস সালাম তালুকদার।

বাবুগঞ্জে বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থনকারী জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম মীর, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা মনির খান, ইসমাইল ব্যাপারী এবং জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আ. রব ব্যাপারীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ফখরুল বললেন তাবিথ জনগণের মেয়র
আন্দোলনের সময় আসেনি: ফখরুল; তীব্র আন্দোলন: নজরুল
সময়মতো আন্দোলনের ডাক: ফখরুল
ছয় কোটি মানুষকে কেন ১৫ হাজার করে টাকা দিলেন না
জলবায়ু তহবিলের টাকাও লুট: মির্জা ফখরুল

শেয়ার করুন

‘আ. লীগ জিয়াকে খলনায়ক বানাতে চায়’

‘আ. লীগ জিয়াকে খলনায়ক বানাতে চায়’

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের উদ্যোগে ‘জিয়াউর রহমান: ইতিহাসের ধ্রুবতারা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন মির্জা ফখরুল। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমি কখনও কাউকে ছোট করতে চাই না। যার যেটা পাওনা আছে সেটা তাকে দিতে হবে। পাওনাটা আছে যার, যিনি যুদ্ধ শুরু করলেন, অবস্থা পাল্টে দিলেন, যুদ্ধ শুরু করে দেশের স্বাধীনতার মূল কাজটা শুরু করলেন, তাকে একেবারে বাদ দিয়ে দিলেন?’

আওয়ামী লীগ সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে খলনায়কে পরিণত করতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের উদ্যোগে ‘জিয়াউর রহমান: ইতিহাসের ধ্রুবতারা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে, জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক ছিলেন না। অনেকে বলেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেননি। তিনি পাকিস্তানের অনুচর ছিলেন। এভাবে তাকে একটা খলনায়কে পরিণত করতে চায়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে শিশুদেরকে শেখানো হয়, জিয়াউর রহমান হচ্ছেন কিলার। শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার সঙ্গে নাকি জিয়াউর রহমান জড়িত। এ কথা সব জায়গায় বলা হয়। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সর্বনিন্ম যে কর্মী—সবাই একই কথা বলেন।’

‘ওটাকে আমাদের কাউন্টার করতে হবে। আমরা যারা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করি, শহীদ জিয়ার আদর্শে বিশ্বাস করি। এটা বুঝাতে হবে, মিথ্যা বলছেন তারা। কেন বলছেন, কী কারণে বলছে, এটাও আমাদের বুঝাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যে যুদ্ধ হয়েছে, রেসকোর্সে যে অস্ত্র সমর্পন হয়েছে সেখানে কারা কারা ছিল। আমরা যারা ইতিহাস পড়ি তারা জানি, আমাদের যে সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানী—তিনিই ছিলেন না। অথচ (ভারতের) আর্মির কাছে সারেন্ডার করেছে। এ বিষয়গুলো জানা দরকার। কেন, কী কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারলেন না, কেন তাকে উপস্থিত হতে দেয়া হলো না। ৭৫ সালের পরে কেন কী কারণে এত বড় একটা রাজনৈতিক দল, একজন অবিসংবাদিত নেতা অতি দ্রুত এদেশের মানুষের আস্থা হারালেন—এ জিনিসগুলো বোঝা দরকার, জানা দরকার।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমি কখনও কাউকে ছোট করতে চাই না। যার যেটা পাওনা আছে সেটা তাকে দিতে হবে। পাওনাটা আছে যার, যিনি যুদ্ধ শুরু করলেন, অবস্থা পাল্টে দিলেন, যুদ্ধ শুরু করে দেশের স্বাধীনতার মূল কাজটা শুরু করলেন, তাকে একেবারে বাদ দিয়ে দিলেন?’

‘শুধু তাকে না, তাদের (আওয়ামী লীগের) লোকগুলোকেও বাদ দিয়েছে। ওসমানীর কথা একবারও বলে না। তাজ উদ্দীনের কথা কেউ একবার উচ্চারণও করে না। মানে একজন মানুষ ছাড়া আর কোনো মানুষই নাই, এখন এই হচ্ছে তাদের ইতিহাস।’

বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ঢাবি সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়েদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ অন্য নেতারা।

আরও পড়ুন:
ফখরুল বললেন তাবিথ জনগণের মেয়র
আন্দোলনের সময় আসেনি: ফখরুল; তীব্র আন্দোলন: নজরুল
সময়মতো আন্দোলনের ডাক: ফখরুল
ছয় কোটি মানুষকে কেন ১৫ হাজার করে টাকা দিলেন না
জলবায়ু তহবিলের টাকাও লুট: মির্জা ফখরুল

শেয়ার করুন

শ্রীলঙ্কা ও সুদানকে সহায়তা সামর্থ্যের প্রমাণ

শ্রীলঙ্কা ও সুদানকে সহায়তা সামর্থ্যের প্রমাণ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

কাদের বলেন, ‘এই মহামারি করোনাকালেও বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে ২০০ মিলিয়ন ডলার এবং সুদানকে ৭.৭ মিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা দিয়েছে। এতেই বোঝা যায় বাংলাদেশের অবস্থান আজ কোথায় এসে পৌঁছেছে।’

শ্রীলঙ্কা ও সুদানকে অর্থ সহায়তা দিয়ে বাংলাদেশ নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে শনিবার সকালে নিজ বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

কাদের বলেন, ‘এই মহামারি করোনাকালেও বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে ২০০ মিলিয়ন ডলার এবং সুদানকে ৭.৭ মিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা দিয়েছে। এতেই বোঝা যায় বাংলাদেশের অবস্থান আজ কোথায় এসে পৌঁছেছে।

‘বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় আজ ২ হাজার ২২৭ ডলার, যা কল্পনাও করা যায় না।’

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উন্নয়ন তুলে ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘১২ বছর আগের পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আলোর পথে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে। ১২ বছর আগের বাংলাদেশ ও আজকের বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অর্জনে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।

‘বাংলাদেশের এই বিশাল উন্নয়ন-অর্জনই বিএনপির গাত্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ জন্যই বিএনপি নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের এই অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘দেশকে অস্থিতিশীল করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় বিএনপি। শেখ হাসিনা সরকারের অভূতপূর্ব উন্নয়নের সুফল জনগণ পেতে শুরু করছে।

‘উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির এই ইতিবাচক ধারা বাধাগ্রস্ত করতেই বিএনপি এবং তাদের দোসররা আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে।’

আরও পড়ুন:
ফখরুল বললেন তাবিথ জনগণের মেয়র
আন্দোলনের সময় আসেনি: ফখরুল; তীব্র আন্দোলন: নজরুল
সময়মতো আন্দোলনের ডাক: ফখরুল
ছয় কোটি মানুষকে কেন ১৫ হাজার করে টাকা দিলেন না
জলবায়ু তহবিলের টাকাও লুট: মির্জা ফখরুল

শেয়ার করুন

টিকা ঠেকাতে ষড়যন্ত্রে বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী

টিকা ঠেকাতে ষড়যন্ত্রে বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী

প্রেসক্লাবে আলোচনা সভায় তথ্যমন্ত্রী হাছান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বেই বাংলাদেশ সাহায্য গ্রহীতা থেকে এখন ঋণদাতা দেশে পরিণত হয়েছে।’ ছবি: নিউজবাংলা

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘টিকা আসার পর তা যেন জনগণ না নেয়, সে জন্য টিকার বিরুদ্ধে বিএনপি অপপ্রচার চালিয়েছে। আবার কয়দিন পরে নিজেরাই গোপনে টিকা নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ প্রকাশ্যে টিকা নিয়ে স্বস্তিও প্রকাশ করেছেন।’

বিশ্বের কোনো দেশ থেকে বাংলাদেশ যেন করোনার টিকা সংগ্রহ করতে না পারে, তার জন্য বিএনপি গোপনে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দেশের মানুষকে করোনা মহামারি থেকে রক্ষায় সরকারের টিকা সংগ্রহের কাজের শুরু থেকেই এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে বিএনপি। এমনকি টিকা আসার পর তা যেন জনগণ না নেয়, সে জন্য টিকার বিরুদ্ধে তারা অপপ্রচারও চালিয়েছে।

‘আবার কয়দিন পরে নিজেরাই গোপনে টিকা নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ প্রকাশ্যে টিকা নিয়ে স্বস্তিও প্রকাশ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘এখন যখন বাংলাদেশ বিভিন্ন সূত্র থেকে টিকা সংগ্রহের চেষ্টা করছে, তখন সাত সমুদ্রপারে বিএনপির বৈদেশিক শাখাগুলো ভেতরে ভেতরে অপচেষ্টা চালাচ্ছে যাতে বাংলাদেশ টিকা না পায়।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো ষড়যন্ত্রে কাজ হবে না, সরকার বিভিন্ন সূত্র থেকে টিকা আনবে। শিগগিরই আবার ব্যাপকভাবে টিকাদান শুরু হবে।’

ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে চুক্তির পরও সিরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রোজেনেকার টিকা পাচ্ছে না বাংলাদেশ।

এ অবস্থায় চীন ও রাশিয়ার কাছ থেকে টিকা কেনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। কিন্তু এখনও চূড়ান্ত কিছু হয়নি।

একপর্যায়ে টিকার অভাবে ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া গণটিকা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

অবশ্য চীনের সিনোফার্ম ১১ লাখ টিকা উপহার পাঠালে সেটি দিয়ে শনিবার থেকে আবারও দেশে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়।

এর বাইরেও যুক্তরাষ্ট্র ফাইজার উদ্ভাবিত কিছু টিকা উপহার দিয়েছে বাংলাদেশকে। টিকা কার্যক্রমে এ টিকাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে গণটিকার কার্যক্রম আবার কবে শুরু হবে, তা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারছে না সরকার।

বিএনপি নেতাদের বিভিন্ন মন্তব্যের সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী হাছান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বেই বাংলাদেশ সাহায্য গ্রহীতা থেকে এখন ঋণদাতা দেশে পরিণত হয়েছে। দেশের এই উন্নয়ন, অগ্রগতি বিএনপির সহ্য হচ্ছে না বলেই তারা নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে।

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে যখন দেশে এসেছিলেন, সে সময় তিনি যেন দেশে না আসতে পারেন সে জন্য তৎকালীন জিয়াউর রহমান ও তার সরকার নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল। এমনকি দেশে এলেও যাতে জনসমাগম না হয়, সে জন্যও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছিল। কিন্তু সেসব তুচ্ছ করে জননেত্রী শেখ হাসিনা ফিরেছেন। জনগণের রায়ে চারবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশকে বিশ্বে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘৪০ বছরের দীর্ঘ পথচলায় বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রমাণ করেছেন, তিনি শুধু সময়ের সাহসী সন্তানই নন, ষড়যন্ত্র-দুর্যোগের মধ্যেও অবিচল থেকে জাতিকে নেতৃত্বও দেন।’

আরও পড়ুন:
ফখরুল বললেন তাবিথ জনগণের মেয়র
আন্দোলনের সময় আসেনি: ফখরুল; তীব্র আন্দোলন: নজরুল
সময়মতো আন্দোলনের ডাক: ফখরুল
ছয় কোটি মানুষকে কেন ১৫ হাজার করে টাকা দিলেন না
জলবায়ু তহবিলের টাকাও লুট: মির্জা ফখরুল

শেয়ার করুন

হাবিব-শফির বাগ্‌যুদ্ধে উত্তাপ সিলেটে

হাবিব-শফির বাগ্‌যুদ্ধে উত্তাপ সিলেটে

সিলেট-৩ আসনের প্রার্থী (বাঁ থেকে) আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব ও স্বতন্ত্র শফি আহমদ চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও শিল্পপতি শফি আহমদ প্রার্থী হওয়ার ঘোষণার পরই এই আসনে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস মিলছিল। এখন শুরুতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমানের সঙ্গে তার কথার লড়াই সেই আভাসকে আরও গাঢ় করে তুলেছে।

এখনও প্রচার শুরু হয়নি। প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন কেবল। এর মধ্যেই কথার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছেন হাবিবুর রহমান হাবিব ও শফি আহমদ চৌধুরী। এই দুজনের বাগ্‌যুদ্ধ উত্তাপ ছড়াচ্ছে সিলেট-৩ আসনের নির্বাচনি মাঠে।

হাবিবুর রহমান এই আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। আর শফি আহমদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।

সিলেট-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এর আগে চারবার প্রার্থী হয়েছেন শফি। একবার নির্বাচিতও হয়েছেন। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তিনি।

এই দুজন ছাড়াও সিলেট-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আরেক শিল্পপতি আতিকুর রহমান আতিক। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জুনায়েদ মুহাম্মদ মিয়া। ফাহমিদা হোসেন লুমা এবং শেখ জাহেদুর রহমান মাসুম নামে আরও দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও বৃহস্পতিবার যাচাই-বাছাইয়ে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। অবশ্য তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।

প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও শিল্পপতি শফি আহমদ প্রার্থী হওয়ার ঘোষণার পরই এই আসনে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস মিলছিল। এখন শুরুতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমানের সঙ্গে তার কথার লড়াই সেই আভাসকে আরও গাঢ় করে তুলেছে।

বাগ্‌যুদ্ধের শুরুটা করেন শফি চৌধুরী। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে গত সোমবার শফি আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘সিলেট-৩ আসনের প্রয়াত সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর স্ত্রী ফারজানা সামাদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। তিনি আমাকে সমর্থন দিয়েছেন।’

সাংসদ মাহমুদের মৃত্যুতেই এই আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে। এতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন সামাদের স্ত্রী ফারজানাসহ দলটির অন্তত দুই ডজন নেতা।

গত মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আগের দিনের বক্তব্য আবারও উল্লেখ করে শফি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিয়ে দলের মধ্যেই অসন্তোষ রয়েছে। দলের নেতা-কর্মীরা আশা করেছিলেন মানবিক দিক বিবেচনায় মাহমুদ উস সামাদের স্ত্রীকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ তার প্রতি সহানুভূতি না দেখানোর কারণে দলের নেতা-কর্মীরা মারাত্মক ক্ষুব্ধ।

‘এ ছাড়া দলের সিনিয়র নেতারা মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ায় দলটির নেতা-কর্মীরা অসন্তুষ্ট। তারাও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। জামায়াতও আমাকে নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহ দিচ্ছে। সব মিলিয়ে দলীয় নেতা-কর্মী ও এলাকার মানুষের সমর্থন উপেক্ষা করতে না পেরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছুটে এসে প্রার্থী হতে হয়েছে।’

শফি চৌধুরীর এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব। গত বুধবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তিনি। এতে এক সাংবাদিক শফি চৌধুরীর মন্তব্যের বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ সময় হাবিব বলেন, নির্বাচনি এলাকার তিন উপজেলার আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী নৌকা প্রতীকের পক্ষে রয়েছেন। অন্য যারা মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন, তারাও তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। সবাইকে নিয়ে তিনি নির্বাচন করবেন।

নৌকা প্রতীকের বাইরে কোনো নেতা-কর্মী নেই দাবি করে হাবিব বলেন, ‘শফি চৌধুরী বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। তিনি বয়স্ক মানুষ। কোন সময় কী বলেন, কী করেন তার ঠিক নেই। তার কর্মীদেরই বলতে শুনেছি, বয়সের কারণে তিনি প্যান্টে প্রস্রাব-পায়খানা পর্যন্ত করে দেন। সুতরাং তার কথায় কান দিয়ে লাভ নেই।’

তরুণ হাবিবের এমন মন্তব্য নজরে পড়েছে প্রবীণ শফি আহমদের। শুক্রবার এক ভিডিওবার্তায় এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার বয়স এখন ৮৪ বছর। আজকেও সারা দিন নির্বাচনি কাজে এলাকায় ছিলাম। একবারও বাথরুমে যেতে হয়নি। আমার কাপড়চোপড়ও অপরিষ্কার হয়নি। এখনও অজু আছে।’

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় শফি চৌধুরীকে শোকজ করেছে বিএনপি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনগণের চাপে আমি প্রার্থী হয়েছি। এই আসনটি বিএনপির ঘাঁটি। এই ঘাঁটি নষ্ট হতে দেয়া যায় না। এ ছাড়া এমপি থাকাকালে আমি এই এলাকায় অনেক উন্নয়ন করিয়েছি। জনগণ তা আজও মনে রেখেছে। এসব বিবেচনায়ও আমি প্রার্থী হয়েছি। আশা করছি বিএনপিও তা বুঝতে পারবে।’

শফি জানান, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। ওই সময়ও তার বিরুদ্ধে দল কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

প্রবীণ এই বিএনপি নেতার দাবি, তিনি বিএনপির রাজনীতি করলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ১১ মার্চ মারা যান সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ২৮ জুলাই এ আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা।

আরও পড়ুন:
ফখরুল বললেন তাবিথ জনগণের মেয়র
আন্দোলনের সময় আসেনি: ফখরুল; তীব্র আন্দোলন: নজরুল
সময়মতো আন্দোলনের ডাক: ফখরুল
ছয় কোটি মানুষকে কেন ১৫ হাজার করে টাকা দিলেন না
জলবায়ু তহবিলের টাকাও লুট: মির্জা ফখরুল

শেয়ার করুন

ছাত্রলীগের ঠাকুরগাঁও কমিটি বিলুপ্ত

ছাত্রলীগের ঠাকুরগাঁও কমিটি বিলুপ্ত

মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ছাত্রলীগের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। ছবি: সংগৃহীত

২০১৫ সালের ১৯ জুলাই এক বছর মেয়াদে রনিকে সভাপতি ও সানোয়ার পারভেজকে সাধারণ সম্পাদক করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। পরে ২০১৬ সালের ১০ মে জেলা ছাত্রলীগের ১৫১ সদস্যের কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। 

মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ায় ছাত্রলীগের ঠাঁকুরগাও জেলা কমিটি বিলুপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি।

শুক্রবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিকেলে লেখক ভট্টাচার্য বিজ্ঞপ্তিটি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও পোস্ট করেন।

এতে বলা হয়, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ছাত্রলীগের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।’

ঠাকুরগাঁও শাখার নতুন কমিটিতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীরা আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় দপ্তরে সরাসরি বা ডাকযোগে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার পর থেকে পদপ্রত্যাশী নেতা-কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরব হয়ে ওঠেছেন। অনেকে তাঁদের পছন্দের নেতা-কর্মীকে শীর্ষ পদে দেখতে চেয়ে পোস্ট দেন।

সদর উপজেলা ছাত্রলীগ, কলেজ ছাত্রলীগ ও দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলে কাজ করা নেতাদের অনুসারীরাও ফেসবুকে প্রচার চালাতে শুরু করেছেন।

ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির জেলা শাখার সভাপতি মাহাবুব হোসেন রনি বলেন, ‘কেন্দ্রের এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে বলার কিছুই নেই। তবে সম্মেলনের মাধ্যমে বিদায় নিতে পারলে ভালো হতো। নতুন কমিটি এসে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করবে বলে আশা করি।’

২০১৫ সালের ১৯ জুলাই এক বছর মেয়াদে রনিকে সভাপতি ও সানোয়ার পারভেজকে সাধারণ সম্পাদক করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। পরে ২০১৬ সালের ১০ মে জেলা ছাত্রলীগের ১৫১ সদস্যের কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র।

আরও পড়ুন:
ফখরুল বললেন তাবিথ জনগণের মেয়র
আন্দোলনের সময় আসেনি: ফখরুল; তীব্র আন্দোলন: নজরুল
সময়মতো আন্দোলনের ডাক: ফখরুল
ছয় কোটি মানুষকে কেন ১৫ হাজার করে টাকা দিলেন না
জলবায়ু তহবিলের টাকাও লুট: মির্জা ফখরুল

শেয়ার করুন