ফখরুল বললেন তাবিথ জনগণের মেয়র

তাবিথ আওয়ালসহ বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা কর্মীকে নিয়ে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মহাখালীর সাততলা বস্তিবাসীদের দেখতে যান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

ফখরুল বললেন তাবিথ জনগণের মেয়র

মহাখালীর সাততলা বস্তিতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত দেখতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে আপনাদের এই এলাকার মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল আছেন। যদিও সরকারের নির্বাচন কমিশন তাকে হারিয়ে দিয়েছে। তারপরও জনগণের নির্বাচিত মেয়র তাবিথ।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে এক বছর আগে মেয়র নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তাবিথ আউয়াল বড় ব্যবধানে হারলেও তাকে ‘জনগণের মেয়র’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাজধানীর মহাখালীর সাততলা বস্তিতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তাবিথসহ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে দেখতে গিয়ে তাবিথের ব্যাপারে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীর উদ্দেশে ফখরুল বলেন, ‘আমরা আপনাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছি। আমাদের সঙ্গে আপনাদের এই এলাকার মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল আছেন। যদিও সরকারের নির্বাচন কমিশন তাকে হারিয়ে দিয়েছে। তারপরও জনগণের নির্বাচিত মেয়র তাবিথ।’

বেশ সম্ভাবনা নিয়ে গত বছর ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন তাবিথ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেননি।

পৌনে ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে তাবিথকে হারিয়ে মেয়র পদ ধরে রাখেন আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম। তার পাওয়া ৪ লাখ ৪৭ হাজার ২১১ ভোটের বিপরীতে তাবিথ পান ২ লাখ ৬৪ হাজার ১৬১ ভোট।

ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে বিএনপি বলে আসছিল সুষ্ঠু ভোট হলে আতিকুল নয়, জয় পেতেন তাবিথ।

ফখরুল বললেন তাবিথ জনগণের মেয়র

দুই-তিন দিনের মধ্যে বিএনপি থেকে ত্রাণ

বিএনপি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত সাততলা বস্তিবাসীর পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

স্থায়ী বাসস্থান পেতে বস্তিবাসীর দাবির প্রতি একাত্মতা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি আশা করি, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সামান্য হলেও দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে। আমি আবারও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে তাদের স্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি করছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যদি চালু না হয়, তাহলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। আমরা যারা সমাজের জন্য কাজ করছি, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছি, তাদের কাজ হলো অবিলম্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা।’

এ সময় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মুনসী বজলুল বাসিত আনজু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম নকি, যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
আইন-আদালতকে ইচ্ছেমত ব্যবহার করছে সরকার: ফখরুল
মমতাকে বিএনপির অভিনন্দন
সরকার দেশ চালাচ্ছে মাফিয়াদের নিয়ে: ফখরুল
প্রাণহানির জন্য সরকার দায়ী: ফখরুল
চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে ফখরুল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দুর্নীতিতে জড়িতদের আর মনোনয়ন নয়: কাদের

দুর্নীতিতে জড়িতদের আর মনোনয়ন নয়: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দুদক স্বাধীনভাবে তদন্তের মাধ্যমে কাজ করছে। দলীয় অনেক এমপিরও সাজা হয়েছে, কেউই রেহাই পাচ্ছে না এবং দলীয় পরিচয়ের অনেকেই দুর্নীতির অভিযোগে জেলে আছেন।’

দুর্নীতি ও অপকর্মের সঙ্গে জড়িতরা আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

নিজ বাসায় নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বুধবার সকালে এ কথা বলেন তিনি।

কাদের বলেন, ‘দুর্নীতি ও অপকর্মের সাথে জড়িত কোনো মনোনয়ন প্রত্যাশী আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে কোনোভাবেই মনোনয়ন পাবে না।

‘দুর্নীতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শূন্য সহিষ্ণুতা নীতিতে অটল। মন্ত্রী, এমপি, ব্যবসায়ী, আমলা যারাই দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর।’

তিনি বলেন, ‘দুদক স্বাধীনভাবে তদন্তের মাধ্যমে কাজ করছে। দলীয় অনেক এমপিরও সাজা হয়েছে, কেউই রেহাই পাচ্ছে না এবং দলীয় পরিচয়ের অনেকেই দুর্নীতির অভিযোগে জেলে আছেন।’

সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলায় বিএনপি নেতাদের সমালোচনাও করেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, হাওয়া ভবনের প্রতিষ্ঠাতা বিএনপির মুখে দুর্নীতিবিরোধী বক্তব্য ভূতের মুখে রাম নাম। দুর্নীতি করে যারা দেশ-বিদেশে অর্থ পাচার করেছে বা সম্পদ গড়েছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিএনপি নেতাদের আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, ‘দুদকের মতে তথ্যপ্রমাণের অভাবে অনেক মামলা এগুচ্ছে না, কাজেই ঢালাওভাবে অভিযোগ না করে এবং অন্ধকারে ঢিল না ছুড়ে সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণ দিন,’

এ সময় শেখ হাসিনার সরকারকে গণমাধ্যমবান্ধব বলেও তুলে ধরেন কাদের।

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক সমাজের সুখ-দুঃখের সাথে তিনি (শেখ হাসিনা) জড়িয়ে আছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গণমাধ্যমের ব্যাপক সম্প্রসারণ সরকারের উদারনীতির সাক্ষ্য বহন করে।

‘করোনাকালে মিডিয়া কর্মীদের বন্ধু ও স্বজন হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই পাশে দাঁড়িয়েছেন। পেশাগত মর্যাদা ও আর্থিক সুরক্ষায় নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। গণমাধ্যম কর্মীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তায় আইনগত সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

কাদের বলেন, ‘দেশের গণমাধ্যম কর্মীদের স্বার্থের বিপক্ষে কোনো কাজ শেখ হাসিনা সরকার করেনি, করবেও না। বিএনপির শাসনামলে সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের রেকর্ড গড়েছিল তারা এবং তাদের শাসনামলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহীতার অভিযোগও এনেছিল বিএনপি।

‘গণমাধ্যমের সেই শত্রু ও নির্যাতনকারী বিএনপি আজ সাংবাদিকদের বন্ধু সেজেছে। তাদের মুখোশ সবার জানা, বিভিন্ন পেশায় কর্মরতদের উসকানি দিয়ে বিদ্যমান স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায় বিএনপি।’

এ সময় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনোভাবেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ হবে না বলেও জানান আওয়ামী লীগ নেতা।

আরও পড়ুন:
আইন-আদালতকে ইচ্ছেমত ব্যবহার করছে সরকার: ফখরুল
মমতাকে বিএনপির অভিনন্দন
সরকার দেশ চালাচ্ছে মাফিয়াদের নিয়ে: ফখরুল
প্রাণহানির জন্য সরকার দায়ী: ফখরুল
চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে ফখরুল

শেয়ার করুন

সীমিত পরিসরে ২৩ জুন উদযাপন করবে আওয়ামী লীগ

সীমিত পরিসরে ২৩ জুন উদযাপন করবে আওয়ামী লীগ

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। ফাইল ছবি

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘বরাবরই যেমন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমরা আনন্দমুখরভাবে উদযাপন করি, এবার প্যানডামিকের কারণে সেভাবে তো আর সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে।’ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘জনগণের পার্টিসিপেশন আমরা ব্যাপক করতে পারব না, তবে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জনগণের সব ধরনের সমন্বয় সাধন করেই আমরা করব।’

করোনা মহামারির মধ্যে এবারও সীমিত পরিসরেই দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করবে আওয়ামী লীগ। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনাড়ম্বরভাবেই এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হবে।

আগামী ২৩ জুন ৭৩ বছরে পড়ছে দেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া দলটির জন্য দিনটি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিবছর বেশ ঘটা করেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো।

কিন্তু গত বছরের মতো এবারও বাদ সেধেছে বৈশ্বিক করোনা মহামারি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি, দলীয় কার্যালয়ে আলোকসজ্জা আর ভার্চুয়াল আলোচনা সভার মধ্যেই সীমিত রাখা হবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের সব আয়োজন।

দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় বিধিনেষেধ, স্বাস্থ্যবিধি, লকডাউনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে থাকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বরাবরই যেমন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমরা আনন্দমুখরভাবে উদযাপন করি এবার প্যানডামিকের কারণে সেভাবে তো আর সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

‘এর মধ্যে একটা হচ্ছে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি। তারপর থাকবে দলীয় কার্যালয়গুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। এ ছাড়া একটা আলোচনা সভা হবে ভার্চুয়ালি, সেখানে হয়তো আমাদের দলের সভানেত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন।

‘এর পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়গুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা, যদিও এখনও এটা চূড়ান্ত হয়নি। করোনার সময় আসলে সব ধরনের উৎসব থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে। মানুষের দুর্যোগ আর মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়ে আমাদের সংগ্রাম করতে হচ্ছে। এর মধ্যে যতটুকু আড়ম্বরতা বাদ দিয়ে করা যায় তাই করা হচ্ছে।’

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর মুসলীম লীগই ছিল দেশটির প্রধান রাজনৈতিক দল। কিন্তু ক্রমান্বয়ে পাকিস্তানিদের রাজনৈতিক আধিপত্যবাদের বিষয়টি সামনে এলে পূর্ব পাকিস্তানে আলাদা একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখেন এ অঞ্চলের রাজনৈতিক নেতারা।

এরই অংশ হিসেবে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলীর কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে জন্ম নেয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলীম লীগ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল। মূলত মুসলীম লীগের প্রগতিশীল অংশ এই রাজনৈতিক দলটির সঙ্গে যুক্ত হন।

প্রতিষ্ঠার সময় আওয়ামী মুসলীম লীগের সভাপতি হন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী আর সাধারণ সম্পাদক হন শামসুল হক। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৫৫ সালের দলের নাম থেকে মুসলিম অংশটি বাদ দিয়ে দলের নামকরণ করা হয় আওয়ামী লীগ।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানে পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল এই রাজনৈতিক দল। বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে যতগুলো গণতান্ত্রিক আন্দোলন হয়েছে তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আওয়ামী লীগের নাম।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বও এসেছে এই দল থেকে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন নিয়ে আওয়ামী লীগের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম নিউজবাংলাকে বলেন, অনাড়ম্বরভাবে দলের তৃণমূল পর্যায়েও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এটা আওয়ামী লীগের একটি বিশেষ দিন ও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। করোনার কারণে আগের মতো হবে না। কিন্তু আমরা চেষ্টা করব সব পর্যায়ে একেবারে ইউনিয়ন থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা, মহানগর, নগরে আমরা ২৩ জুন পালন করব। আলোকসজ্জা থেকে আরম্ভ করে যতটুকু সম্ভব। সীমিত পরিসরে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করে আমরা তা উদযাপন করব।

‘জনগণের পার্টিসিপেশন আমরা ব্যাপক করতে পারব না, তবে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জনগণের সব ধরনের সমন্বয় সাধন করেই আমরা করবো। সাজসজ্জার দিকে নজর দেব। একটু লাইটিং করা, পতাকা উত্তোলন, শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা তো থাকবেই।’

আরও পড়ুন:
আইন-আদালতকে ইচ্ছেমত ব্যবহার করছে সরকার: ফখরুল
মমতাকে বিএনপির অভিনন্দন
সরকার দেশ চালাচ্ছে মাফিয়াদের নিয়ে: ফখরুল
প্রাণহানির জন্য সরকার দায়ী: ফখরুল
চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে ফখরুল

শেয়ার করুন

হেফাজতের আজহারুল রিমান্ডে

হেফাজতের আজহারুল রিমান্ডে

ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলামের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজহারুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

হেফাজত নেতা আজহারুল ইসলামকে মঙ্গলবার ভোরে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নাশকতার একাধিক মামলার আসামি। ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে হেফাজতের তাণ্ডবের মামলা ছাড়াও সাম্প্রতিক নাশকতার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

নাশকতার একাধিক মামলার আসামি, ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলামের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজহারুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আদেশ দিয়েছে আদালত।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের (সিএমএম) বিচারক দেবব্রত বিশ্বাস মঙ্গলবার রিমান্ডের এ আদেশ দেন। এদিন আজহারুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানান ডিবির মতিঝিল জোনাল টিমের পরিদর্শক কামরুজ্জামান।

আসামিপক্ষে আইনজীবী মো. পারভেজ, খাদেমুল ইসলাম ও আল মাহমুদ খান রিমান্ড বাতিলের পাশাপাশি জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন আদালতে যাত্রাবাড়ী থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা এসআই শাহ আলম।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

নাশকতার একাধিক মামলার আসামি, ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলামের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজহারুল ইসলামকে মঙ্গলবার ভোরে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মাহাবুব আলম।

আজহারুল ইসলামকে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে হেফাজতের তাণ্ডবের মামলা ছাড়াও সাম্প্রতিক নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সফর ঠেকাতে হেফাজত দেশজুড়ে তাণ্ডব চালায়।

মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৬ মার্চ রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে হেফাজতের কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের জেরে সহিংসতা হয় চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে। এতে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর থেকে সরকারের সঙ্গে হেফাজতের দূরত্ব বাড়তে থাকে। বিভিন্ন মামলায় গত কয়েক দিনে গ্রেপ্তার হয়েছেন ধর্মভিত্তিক সংগঠনটির অন্তত ৩৫ নেতা। নাশকতার বিভিন্ন ঘটনায় এসব নেতার ভূমিকা যাচাইয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

আরও পড়ুন:
আইন-আদালতকে ইচ্ছেমত ব্যবহার করছে সরকার: ফখরুল
মমতাকে বিএনপির অভিনন্দন
সরকার দেশ চালাচ্ছে মাফিয়াদের নিয়ে: ফখরুল
প্রাণহানির জন্য সরকার দায়ী: ফখরুল
চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে ফখরুল

শেয়ার করুন

টিকা ঠেকাতে লবিস্ট লাগিয়েছে বিএনপি, অভিযোগ নানকের

টিকা ঠেকাতে লবিস্ট লাগিয়েছে বিএনপি, অভিযোগ নানকের

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবীদ ইনস্টিটিউটে কৃষকলীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির এক অনুষ্ঠানে গাছ লাগান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। ছবি: নিউজবাংলা

‘আজ পুরো দেশ এক বছরের বেশি সময় ধরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশ যখন ভ্যাকসিন দিতে পারে নাই তখন আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে টিকা এনে প্রমাণ দিয়েছেন তিনিই রাষ্ট্রনায়ক।’

বাংলাদেশ যাতে করোনার টিকা না পায় এ জন্য বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবীদ ইনস্টিটিউটে কৃষকলীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

নানক অভিযোগ করেন, ‘দুঃখজনক হলো, আজকে যখন বাংলাদেশে আবার ভ্যাকসিনের প্রয়োজন তখন ওই কুলাঙ্গাররা, ওই বিএনপি-জামায়াত আর লন্ডনে বসে কুলাঙ্গার তারেক রহমান আন্তর্জাতিক লবিস্ট নিয়োগ করেছে, যাতে বাংলাদেশ আর কোনো দেশ থেকে ভ্যাক্সিন আনতে না পারে।’

তিনি বলেন, ‘আজ পুরো দেশ এক বছরের বেশি সময় ধরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশ যখন ভ্যাকসিন দিতে পারে নাই তখন আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে টিকা এনে প্রমাণ দিয়েছেন তিনিই রাষ্ট্রনায়ক।’

‘কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো, বিএনপির কুলাঙ্গাররা ভ্যাকসিন প্রত্যাখ্যান করেছিল। এই ভ্যাকসিন না নেয়ার জন্য তারা বলেছিলেন। কিন্তু ভ্যাকসিন এসেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। শেখ হাসিনার নির্দেশে ভ্যাকসিন নিয়েছে দেশের মানুষ।’

এ সময় ১৫ আগষ্ট জন্মদিন পালন করায় খালেদা জিয়ারও সমালোচনা করেন নানক। তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করে বাংলার মানুষের হৃদয়ে আঘাত করেছেন। সত্যের বাতি তিল তিল করে জ্বলে। সত্যকে কোনদিন ধামাচাপা দেয়া যায় না।

‘জাতির পিতাকে হত্যার দিনে আপনি (খালেদা জিয়া) পাকিস্তানি আইএসআইকে খুশি করার জন্য মিথ্যা জন্মদিন পালন করে কেক কেটে আমাদের সঙ্গে, বাংলার মানুষের সঙ্গে উপহাস করেছিলেন। অসুখ হয়ে হাসপাতালে শয্যাশায়ী হওয়ার পর মনের ভুলে জন্ম তারিখটি লিখে ফেলেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আদালতে মামলা হয়েছে। জন্ম তারিখের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবে আদালত। কী অপরাধ করেছে বেগম জিয়া, কী অপরাধ করেছেন আপনারা—সেটি আদালত রায় দেবে। তার জন্য অপেক্ষা করেন। আদালত স্বাধীন রয়েছে। তাই মির্জা ফখরুলের আঁতে ঘা লেগেছে।’

‘সে কারণে আজকে তিনি বলেছেন, এই দেশে আদালত নিরপেক্ষ নয়। কী কারণে নিরপেক্ষ নয়? বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম তারিখ এর ব্যাপারে নির্দেশনা দেবে সেই কারণে?’

আরও পড়ুন:
আইন-আদালতকে ইচ্ছেমত ব্যবহার করছে সরকার: ফখরুল
মমতাকে বিএনপির অভিনন্দন
সরকার দেশ চালাচ্ছে মাফিয়াদের নিয়ে: ফখরুল
প্রাণহানির জন্য সরকার দায়ী: ফখরুল
চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে ফখরুল

শেয়ার করুন

‘লুটপাট বন্ধ করতে পারলে বাজেটের সুফল মিলত’

‘লুটপাট বন্ধ করতে পারলে বাজেটের সুফল মিলত’

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম রুমিন ফারহানা। ফাইল ছবি

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘একটা সরকারের চরিত্রের ওপর নির্ভর করে বাজেটের চরিত্র কেমন হবে। সরকার যদি হয় বাই দ্যা লুটার্স, ফর দ্যা লুটার্স, অব দ্যা লুটার্স তাহলে বাজেটও হবে লুটেরাদের রক্ষারই বাজেট। তাতে জনগণের অংশীদারত্ব থাকবে না সেটাই স্বাভাবিক।’

লুটপাট বন্ধ আর সরকারের দক্ষতা বাড়াতে পারলে এই বাজেট বরাদ্দেও জনগণ অনেক কিছুই পেতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

মঙ্গলবার সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

সংরক্ষিত আসনের এই এমপি বলেন, সরকারের দিক থেকে বাজেট একেবারে ঠিক আছে।

‘ক্ষমতায় থাকতে যাকে প্রয়োজন তার জন্যই তো বাজেট হবে। জনগণের ম্যান্ডেট লাগলে জনগণকে খুশি করতে হবে। আর যদি প্রয়োজন হয় ব্যবসায়ী আর আমলা, তাহলে তাদের জন্যই বাজেট হবে; হয়েছেও সেটা।’

তিনি বলেন, করোনার লকডাউনের মধ্যে গত বছর অর্থমন্ত্রী বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে লোক হাসিয়েছিলেন। এবার তিনি দাবি করছেন ৭ দশমিক ২ শতাংশের কথা। যদিও বিশ্বব্যাংকের মতে এটি ৫ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে।

‘প্রবৃদ্ধি মানেই যে সু-সরকার, সুশাসন বা জনগণের সরকার তা নয়। তার প্রমাণ ১৯৬৮ এবং ১৯৬৪ সালে আইয়ুব খানের আমলে পূর্ব পাকিস্তানের দুটি উল্লেখযোগ্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৪৮ এবং ১০ দশমিক ৯৫ শতাংশ।’

রুমিন ফারহানা বলেন, বাজেটে বলা হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। অথচ স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয় কেবলই বাড়ছে। ২০১২ সাল থেকে চিকিৎসায় ব্যক্তিগত খরচ ৬০ শতাংশ থেকে ক্রমাগত বেড়ে ৭২ শতাংশে পৌঁছেছে। বাকি ২৮ শতাংশের পুরোটাও সরকারের ব্যয় নয়, এর একটা বড় অংশ এনজিও থেকে আসে। প্রতি বছর স্বাস্থ্য ব্যয় মেটাতে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যান ৬৬ লাখ মানুষ।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এখনও ভারত থেকে তিন কোটি টিকা পাওয়ার গল্প করছেন। অথচ ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে এই বছর শেষ হওয়ার আগে তারা কোনোরকম টিকা রপ্তানি করতে পারবে না। যদিও টিকার দাম আগেই চুকানো হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা আগের মতোই তিন লাখ টাকা রাখা হয়েছে। করোনার মধ্যেই সাধারণ স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী এবং সন্তানদের অনলাইন ক্লাসের জন্য ডিজিটাল ডিভাইস, ইন্টারনেট ডেটা, ‘ইলেকট্রনিক গ্যাজেট’ কেনা ইত্যাদি খাতে খরচ অনেক বেড়েছে। নানা দফায় গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে বেড়েছে যাতায়াত ব্যয়ও। সহজে শনাক্ত করা যায় বলে চাকরিজীবী মধ্যবিত্তদেরই আয়করের প্রধান টার্গেটে পরিণত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। দেশের মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের অনেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। ট্রাস্ট আইনের অধীনে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর আয়কর বসানো বেআইনি এবং এটা পরবর্তীতে ছাত্র-ছাত্রীদের টিউশন ফি-এর ওপর ধার্য হয়ে তাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলবে।

তিনি আরও বলেন, সর্বোপরি সর্বগ্রাসী দুর্নীতি, লুটপাটের কারণে বাজেটে যেটুকু বরাদ্দ হয় সেটুকুর উপকারও জনগণের কাছে পৌঁছে না।

‘লুটপাট বন্ধ আর সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারলে এই বাজেট বরাদ্দেও জনগণ অনেক কিছুই পেতে পারত। একটা সরকারের চরিত্রের ওপর নির্ভর করে বাজেটের চরিত্র কেমন হবে। সরকার যদি হয় বাই দ্যা লুটার্স, ফর দ্যা লুটার্স, অব দ্যা লুটার্স তাহলে বাজেটও হবে লুটেরাদের রক্ষারই বাজেট। তাতে জনগণের অংশীদারত্ব থাকবে না সেটাই স্বাভাবিক।’

আরও পড়ুন:
আইন-আদালতকে ইচ্ছেমত ব্যবহার করছে সরকার: ফখরুল
মমতাকে বিএনপির অভিনন্দন
সরকার দেশ চালাচ্ছে মাফিয়াদের নিয়ে: ফখরুল
প্রাণহানির জন্য সরকার দায়ী: ফখরুল
চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে ফখরুল

শেয়ার করুন

দেশ চালাচ্ছে পুতুল সরকার: আব্বাস

দেশ চালাচ্ছে পুতুল সরকার: আব্বাস

সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। ছবি: নিউজবাংলা

মির্জা আব্বাস বলেন, একটা পুতুল সরকার বসা আছে, তারাই দেশ চালাচ্ছে। বিশেষ মহল একত্রিতভাবে নিজেদের গা বাঁচানোর জন্য পুতুলটিকে টিকিয়ে রেখেছে। আমার বারবার মনে হয়, এ দেশ সম্ভবত আওয়ামী লীগ চালাচ্ছে না।

আওয়ামী লীগ নয়, বিশেষ মহলের স্বার্থে পুতুল সরকার দেশ চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মঙ্গলবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সদস্যসচিব নিপুণ রায় চৌধুরীর মুক্তির দাবিতে সংগঠনটি এই প্রতিবাদ সমাবেশ করে।

মির্জা আব্বাস বলেন, একটা পুতুল সরকার বসা আছে, তারাই দেশ চালাচ্ছে। বিশেষ মহল একত্রিতভাবে নিজেদের গা বাঁচানোর জন্য পুতুলটিকে টিকিয়ে রেখেছে। আমার বারবার মনে হয়, এ দেশ সম্ভবত আওয়ামী লীগ চালাচ্ছে না।

তিনি বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা তারা বিদেশে পাচার করে দিয়েছে। সরকার-ঘনিষ্ঠ এমন কোনও সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি নেই, যারা চুরি-ডাকাতি-লুট করেনি। পি কে হালদারের মতো বহু বেসরকারি এবং সরকারি কর্মচারীরা বাংলাদেশের টাকা লুট করেছে। তারা দেশে অবস্থান করছে আর তাদের সন্তানদের পাঠিয়ে দিয়েছে বিদেশে।

মির্জা আব্বাস বলেন, লুটপাটকারীদের বিচার হবে। খুন, লুট, গুম সবকিছুর বিচার হবে। যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকে তাদের বিচার হবে। সেই বিচারের ভয়েই বিশেষ গোষ্ঠী সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে।

ফোরামের সদস্য মীর সরাফত আলী সপুর সভাপতিত্বে ও আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপি নেতা শিরিন সুলতানা, আজিজুল বারী হেলাল, আফরোজা আব্বাস, আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলসহ নেতারা।

আরও পড়ুন:
আইন-আদালতকে ইচ্ছেমত ব্যবহার করছে সরকার: ফখরুল
মমতাকে বিএনপির অভিনন্দন
সরকার দেশ চালাচ্ছে মাফিয়াদের নিয়ে: ফখরুল
প্রাণহানির জন্য সরকার দায়ী: ফখরুল
চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে ফখরুল

শেয়ার করুন

খালেদার জন্মদিন নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করুন: কাদের

খালেদার জন্মদিন নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করুন: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সদস্যপদ বিরতণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিএনপি নেতাদের প্রতি এ আহ্বান জানান তিনি। বিএনপি নেতাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কারো কারো ক্ষেত্রে প্রকৃত জন্ম তারিখ আর সার্টিফিকেটের জন্ম তারিখ এক নয়। তাই বলে কি কারো পাঁচটি জন্ম তারিখ থাকবে?’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে তা দূর করতে দলটির নেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সদস্যপদ বিরতণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ আহ্বান জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতি বেগম জিয়ার জন্মদিন নিয়ে বিভ্রান্তির অবসান চায়। বিএনপিকে প্রমাণ করতে হবে ১৫ আগস্ট বেগম জিয়ার সত্যিকার জন্মদিন কি না।’

বিএনপি নেতাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘কারো কারো ক্ষেত্রে প্রকৃত জন্ম তারিখ আর সার্টিফিকেটের জন্ম তারিখ এক নয়। তাই বলে কি কারো পাঁচটি জন্ম তারিখ থাকবে?’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘জাতির সবচেয়ে কষ্টের দিন, জাতীয় শোক দিবসে হঠাৎ করেই ভুয়া জন্মদিন পালন, উৎসব করে কেক কাটা বিএনপির প্রতিহিংসা আর মিথ্যাচারের রাজনীতির বিকৃত উদাহরণ।

‘বিএনপির ক্ষমতায় আসার পর শোক দিবসে ভুয়া জন্মদিন পালন শুরু করা শোক দিবসকে কটাক্ষ করারই নামান্তর। বিএনপি প্রমাণ করেছে যে, তাদের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জড়িত। বঙ্গবন্ধু হত্যার মধ্য দিয়ে বিএনপি প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষের যে রাজনীতি শুরু করেছিল তারই ধারাবাহিকতা ১৫ আগস্ট বেগম খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্মদিন পালন।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে বিশ্বব্যাপী উৎপাদন ব্যবস্থা ও প্রবৃদ্ধিতে ধীর গতি এবং অনেক উন্নত দেশ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে যেখানে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্জিত প্রবৃদ্ধি এবং ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা ইতোমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।

‘জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা থেকে প্রকাশিত গ্লোবাল ফুড আউটলুক- জুন ২০২১ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসেছে, করোনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যও চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়াকে টপকে এখন তৃতীয় স্থানে।’

অনুষ্ঠানে ভেদাভেদ ভুলে দলীয় নেতাকর্মীদের এক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে অগ্রযাত্রা, তা এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐকবদ্ধ থাকতে হবে। মতভেদ ভুলে দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

‘সদস্য সংগ্রহে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীরা প্রাথমিক সদস্য না হতে পারে। এক ব্যক্তি কোনোভাবেই দুই পদে থাকতে পারবে না।’

আরও পড়ুন:
আইন-আদালতকে ইচ্ছেমত ব্যবহার করছে সরকার: ফখরুল
মমতাকে বিএনপির অভিনন্দন
সরকার দেশ চালাচ্ছে মাফিয়াদের নিয়ে: ফখরুল
প্রাণহানির জন্য সরকার দায়ী: ফখরুল
চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে ফখরুল

শেয়ার করুন