আন্দোলনের সময় আসেনি: ফখরুল; তীব্র আন্দোলন: নজরুল

আন্দোলনের সময় আসেনি: ফখরুল; তীব্র আন্দোলন: নজরুল

এখনও আন্দোলনের ডাক দেয়ার সময় আসেনি। সময় হলেই ডাক আসবে। ছাত্র-যুবকরা মাঠে না নামলে সফলতা কঠিন: ফখরুল। গণতন্ত্রহীন এই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিএনপির নেতৃত্বে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে তীব্র গণ-আন্দোলন করা হবে, প্রয়োজন হলে আরও একটা গণ-অভ্যুত্থান করা হবে: নজরুল

এই মুহূর্তে নয়, আন্দোলনের ডাক সময়মতো আসবে বলে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের দিন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নেতা-কর্মীদের বলেছেন লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে।

বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদলের নেতা-কর্মীদের তিনি বলেন, ‘আসুন, সামনে যে লড়াই আসবে, সেই লড়াইয়ে সামনে-পিছনে নয়, পাশাপাশি দাঁড়িয়ে লড়াই করব।’

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি লড়াই শুরু করলে নজরুল ইসলাম খান নিজেও সেই লড়াইয়ে থাকবেন বলে জানান যুবদল নেতাদের। তিনি বলেন, ‘আমার এই বয়সেও আপনাদের সঙ্গে থাকব এবং ইনশাল্লাহ আমরা জয়ী হব।’

দশম সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্তিতে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি সরকার পতনের আন্দোলনে নেমে খালি হাতে ফেরা বিএনপি আর বড় কোনো কর্মসূচিতে যায়নি। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আগে দলটির নেতারা এক দফা তথা সরকার পতনের আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছিলেন। যদিও পরে কোনো কর্মসূচি আসেনি।

নজরুল ইসলাম খান যেদিন এই বক্তব্য রাখেন, সেদিন মির্জা ফখরুল অবশ্য আন্দোলন নিয়ে তাড়াহুড়া না করার কথাই বলেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবেই এক আলোচনায় তিনি বলেন, ‘এখনও আন্দোলনের ডাক দেয়ার সময় আসেনি। সময় হলেই ডাক আসবে। ছাত্র-যুবকরা মাঠে না নামলে সফলতা কঠিন। ছাত্র-শ্রমিক, যুবক-তরুণদের সংগঠিত করে তাদের নেতৃত্বে রাজপথে গণ-অভ্যুত্থান হবে। তরুণদের ছাড়া গণ-অভ্যুত্থান হবে না।’

তবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘গণতন্ত্রহীন এই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিএনপির নেতৃত্বে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে তীব্র গণ-আন্দোলন করা হবে, প্রয়োজন হলে আরও একটা গণ-অভ্যুত্থান করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘একদলীয় গোরস্থানের ওপর বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ৯ বছর আন্দোলন করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।’

গত দুটি সংসদ নির্বাচনের কথা তুলে ধরে নজরুল বলেন, ‘আজকে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয় এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে, বিএনপির ভয়ে আগের রাতে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ।‘

আরও পড়ুন:
সময়মতো আন্দোলনের ডাক: ফখরুল
ছয় কোটি মানুষকে কেন ১৫ হাজার করে টাকা দিলেন না
জলবায়ু তহবিলের টাকাও লুট: মির্জা ফখরুল
তথ্যমন্ত্রীকে ফখরুল: খালেদাকে নিয়ে কথা বলবেন না
ফিলিস্তিনের জন্য বিএনপির ৮০ কার্টন ওষুধ, পাসপোর্ট পরিবর্তনে দুঃখ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

গৌরনদীতে সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৩

গৌরনদীতে সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৩

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বুধবার সকালের দিকে খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিজয়ী সদস্য প্রার্থী ফিরোজ মৃধার লোকজন শাহ আলমকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। সন্ধ্যার দিকে সংঘবদ্ধ হয়ে তারা বেইলী ব্রিজ এলাকায় শাহ আলমের ওপর হামলা চালায়। তাকে মারধর করা হয়।

বরিশালের গৌরনদীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে একই এলাকায় নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতায় দুদিনের ব্যবধানে তিনজন নিহত হলেন।

বার্থি ইউনিয়নের বেইলী ব্রিজ এলাকায় বুধবার সন্ধ্যার দিকে সবশেষ ঘটনাটি ঘটে।

নিহত ব্যাক্তির নাম শাহ আলম খান। তার বাড়ি বার্থি ইউনিয়নের বড় দুলালী গ্রামে। তিনি খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পরাজিত (টিউবয়েল মার্কা) সদস্য প্রার্থী মন্টু হাওলাদারের ভায়রা।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শাহ আলমের স্বজনরা জানান, বুধবার সকালের দিকে খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিজয়ী সদস্য প্রার্থী ফিরোজ মৃধার লোকজন শাহ আলমকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। সন্ধ্যার দিকে সংঘবদ্ধ হয়ে তারা বেইলী ব্রিজ এলাকায় শাহ আলমের ওপর হামলা চালায়। তাকে মারধর করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে নেয়া হয় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এর আগে ২১ জুন নির্বাচনের দিন ককটেল হামলায় ফিরোজ মৃধার সমর্থক মৌজে আলী মৃধা নিহত হন। একই দিন সন্ধ্যায় ককটেল হামলায় আবু বকর নামে আরেক যুবক নিহত হন।

ওসি আফজাল জানান, মৌজে আলী হত্যার ঘটনায় গত মঙ্গলবার তার ছেলে নজরুল মৃধা ২১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ মামলার তিন আসামি সদ্য বিজয়ি ইউপি সদস্য ফিরোজ মৃধা এবং তার দুই সহযোগী মাহফুজুর রহমান ইমন ও নয়ন মৃধাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আর আবু বক্কর হত্যার ঘটনায় তার বাবা আনজু ফকির অর্ধশতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির নামে মামলা করেছেন। সেই মামলায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

আরও পড়ুন:
সময়মতো আন্দোলনের ডাক: ফখরুল
ছয় কোটি মানুষকে কেন ১৫ হাজার করে টাকা দিলেন না
জলবায়ু তহবিলের টাকাও লুট: মির্জা ফখরুল
তথ্যমন্ত্রীকে ফখরুল: খালেদাকে নিয়ে কথা বলবেন না
ফিলিস্তিনের জন্য বিএনপির ৮০ কার্টন ওষুধ, পাসপোর্ট পরিবর্তনে দুঃখ

শেয়ার করুন

বরগুনায় নৌকার ভরাডুবি যেসব কারণে

বরগুনায় নৌকার ভরাডুবি যেসব কারণে

বরগুনায় উপনির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী (উপরে বাঁ থেকে) মজিবুল হক কিসলু, মোশাররফ মাস্টার, আলমগীর বিশ্বাস, সিদ্দিকুর রহমান, শরীফ ইলিয়াস স্বপন, কুদ্দুস খান।

জেলা নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত প্রাথমিক চূড়ান্ত ফলে দেখা গেছে, ঢলুয়া, ফুলঝুড়ি ও বরগুনা সদর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। বদরখালী, গৌরীচন্না, আয়লা-পাতাকাটা, বুড়িরচর, কেওড়াবুনিয়া ও নলটোনা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। নলটোনা ও বদরখালী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের (বিএনপি-সমর্থিত) কাছে হেরেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।

সদ্যসমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বরগুনা সদর উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের ছয়টিতেই স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। মাত্র তিনটিতে জয় পেয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এই তিন ইউনিয়নেও জয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে ‘প্রভাব বিস্তার’-এর অভিযোগ উঠেছে।

বরগুনা আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বলছেন, জনপ্রিয় প্রার্থীদের মনোনয়ন না দেয়া, সাংগঠনিক তৎপরতায় ঘাটতি ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কিছু নেতা-কর্মীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণেই নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের এমন পরাজয় হয়েছে।

ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপে গত সোমবার ২১ জুন বরগুনা সদর উপজেলার ৯টিসহ সারা দেশের ২০৪টি ইউপিতে ভোট হয়। জেলা নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত প্রাথমিক চূড়ান্ত ফলে দেখা গেছে ঢলুয়া, ফুলঝুড়ি ও বরগুনা সদর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। বদরখালী, গৌরীচন্না, আয়লা-পাতাকাটা, বুড়িরচর, কেওড়াবুনিয়া ও নলটোনা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

নলটোনা ও বদরখালী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের (বিএনপি-সমর্থিত) কাছে হেরেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এর মধ্যে নলটোনায় আওয়ামী লীগ সভাপতি আলমগীর বিশ্বাস হেরেছেন বিএনপি নেতা কেএম সফিকুজ্জামান মাহফুজের কাছে।

বদরখারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শরীফ ইলিয়াস হোসেন স্বপন হেরেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি-সমর্থিত) মতিউর রহমান রাজার কাছে।

বুড়িরচরে বরগুনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান পরাজিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীরের কাছে, যিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত।

জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম মজিবুল হক কিসলু দলীয় মনোনয়ন পেয়ে আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়নের নির্বাচনে অংশ নেন। তিনি নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের কাছে হেরেছেন।


বরগুনায় নৌকার ভরাডুবি যেসব কারণে

গৌরীচন্না ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল কুদ্দুস খান। তিনিও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী তানভীর সিদ্দিকীর কাছে হেরেছেন। একইভাবে কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন হেরেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান নসার কাছে।

ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের এমন ভরাডুবি নিয়ে ক্ষুব্ধ তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

নলটোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম জাকির বলেন, ‘ইউনিয়নের জনপ্রিয় প্রার্থীদের উপেক্ষা করে নৌকার মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আমাদের (নলটোনা) ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির এবারও জনপ্রিয় ছিলেন। তাকে বাদ দিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর বিশ্বাসকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আলমগীর বিশ্বাসের জনপ্রিয়তা নেই। সে কারণেই এখানে নৌকার পরাজয় হয়েছে।’

কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকির হোসেন হারুন বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নে মনিরুজ্জামান নশা এবার জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন। তাকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেয়া হয় বাবুল ভাইকে। এ কারণেই নৌকা হেরেছে। আমি মনে করি, মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা যাচাইবাছাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা না হলে দলেরই অপমান হয়ে যায়।’

একই রকম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অন্য সব ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা। দলের এই ভরাডুবির জন্য তারা জেলা ও উপজেলার নেতাদের স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি ও গ্রুপিংকে দায়ী করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরগুনা সদর উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা জানান, সংসদ সদস্য, জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা যে যার পছন্দের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার সুপারিশ পাঠান। এতে তৃণমূলের মতামত অগ্রাহ্য হয়। ভরাডুবির এটাই সবচেয়ে বড় কারণ।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মুহাম্মদ ওলি উল্লাহ ওলি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যদি মনেপ্রাণে চায় তাহলে বরগুনায় আওয়ামী লীগকে হারানোর কেউ নাই। কিন্তু বাস্তবতা হলো আমাদের অনেক প্রার্থী হেরেছেন। আমরা তৃণমূলের মতামতেই প্রার্থী যাচাইবাছাই করেছি। এখানে আমাদের কোনো হাত ছিল না।

‘আমরা শুধু গত নির্বাচনে দলের বাইরে গিয়ে যারা কাজ করেছেন, বিদ্রোহী হয়েছেন- এমন প্রার্থীদের বাদ দিয়ে সুপারিশ পাঠিয়েছি। দলের প্রার্থীরা হেরে যাওয়ার পর আমার মনে হয়েছে, এখন তৃণমূলকে ঢেলে সাজাতে হবে। আমরা সে কাজটি দ্রুত শুরু করব।’

আরও পড়ুন:
সময়মতো আন্দোলনের ডাক: ফখরুল
ছয় কোটি মানুষকে কেন ১৫ হাজার করে টাকা দিলেন না
জলবায়ু তহবিলের টাকাও লুট: মির্জা ফখরুল
তথ্যমন্ত্রীকে ফখরুল: খালেদাকে নিয়ে কথা বলবেন না
ফিলিস্তিনের জন্য বিএনপির ৮০ কার্টন ওষুধ, পাসপোর্ট পরিবর্তনে দুঃখ

শেয়ার করুন

ধর্ষণ মামলা ঠেকাতে ‘বিয়ে না করেই তালাকনামা’

ধর্ষণ মামলা ঠেকাতে ‘বিয়ে না করেই তালাকনামা’

‘বোনের মৃত্যুর পর তিনি আমাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু বিয়ে করেননি। বিয়ে না করেই তিনি আমাকে তালাকনামা পাঠিয়েছেন যাতে আমি তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় যেতে না পারি। কিন্তু তার সঙ্গে আমার কবে নিয়ে হলো?’

পাবনার আটঘরিয়ার উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হামিদ মো. মোহাইম্মিন হোসেন চঞ্চলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনেছেন এক তরুণী।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক তরুণী বলেছেন, তিনি যেন ধর্ষণ মামলা না করতে পারেন, সে জন্য বিয়ে না করেই তাকে তালাকনামা পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত চঞ্চল আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য ঘোষিত সাধারণ সম্পাদক।

ওই ছাত্রী জানান, তিনি চট্টগ্রাম ভেটারিনারি অ্যান্ড এমিনের সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। তার বাড়ি পাবনা।

বড় বোনের সঙ্গে ওই চেয়ারম্যানের যোগাযোগ ছিল। তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ তার। তবে মৃত্যুর পর তারা বিষয়টি বুঝতে পারেননি বলে জানান সংবাদ সম্মেলনে।

তিনি বলেন, ‘ধুরন্ধর ও শঠতার আশ্রয় নিয়ে আমার বড় বোনকে হত্যা করলেও আমরা এতদিন বুঝতেই পারিনি। কিছুদিন আগে তার হাতের লেখা ডায়েরি থেকে হত্যাকারী যে চঞ্চল সেটা বুঝতে পারি।’

তিনি বলেন, চেয়ারম্যান চঞ্চল তার বোনকে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে ২০১২ সালে পাবনা শহরে বেড়াতে নিয়ে যান। সেখানে এক বাড়িতে তার বোনকে ধর্ষণ করা হয়। বোন বাড়িতে ফেরার পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎক তাকে মৃত ঘোষণা করে।’

‘বোনের মৃত্যুকে আমরা স্বাভাবিকভাবেই মেনে নেই’- এ কথা উল্লেখ করে সেই তরুণী বলেন, পরে বিষয়টি আমরা বুঝতে পারি।

তার আগেই চঞ্চল তার সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘বোন মারা যাওয়ার পর চঞ্চল সান্ত্বনা দিতে আমাদের বাড়িতে যাতায়াত করতে থাকেন। ২০১৭ সাল পর্যন্ত এভাবেই সামাজিক সম্পর্ক চলে আসছিল। এলাকা প্রভাবশালী হওয়ায় আমরাও বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই মেনে নেই।

‘এক পর্যায়ে চঞ্চল তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন বলে জানান তরুণী। তার আকেও বেড়ানোর কথা বলে পাবনা শহরে নিয়ে যান।

‘সেখানে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং তা মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখেন। আর সেটি ফাঁস করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বারবার অনৈতিক বা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চাপ দিতে থাকেন।’

এক পর্যায়ে হঠাৎ করেই তিনি তালাকনামা পেয়ে অবাক হয়ে যান। নিউজবাংলাকে সেই তরুণী বলেন, ‘বোনের মৃত্যুর পর তিনি আমাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু বিয়ে করেননি। বিয়ে না করেই তিনি আমাকে তালাকনামা পাঠিয়েছেন যাতে আমি তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় যেতে না পারি। কিন্তু তার সঙ্গে আমার কবে নিয়ে হলো?’

তবে এ সকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান আবু হামিদ মো. মোহাইম্মীন হোসেন চঞ্চলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে থানায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি।‘

তবে সংবাদ সম্মেলন করা তরুণী জানিয়েছেন তিনি জেলা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে পুলিশের আইজিপির কাছে অভিযোগ করেছেন।’

আরও পড়ুন:
সময়মতো আন্দোলনের ডাক: ফখরুল
ছয় কোটি মানুষকে কেন ১৫ হাজার করে টাকা দিলেন না
জলবায়ু তহবিলের টাকাও লুট: মির্জা ফখরুল
তথ্যমন্ত্রীকে ফখরুল: খালেদাকে নিয়ে কথা বলবেন না
ফিলিস্তিনের জন্য বিএনপির ৮০ কার্টন ওষুধ, পাসপোর্ট পরিবর্তনে দুঃখ

শেয়ার করুন

হাবিবের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা, উচ্চ আদালতে যাবেন আতিক

হাবিবের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা, উচ্চ আদালতে যাবেন আতিক

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব (বাঁয়ে); জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক। ছবি: সংগৃহীত

আপিলকারী জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক জানিয়েছেন- তিনি উচ্চ আদালতে যাবেন। তার দাবি, হাবিবের দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে এবং এ কারণে তিনি প্রার্থী হওয়ার যোগ্য নন।

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বুধবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে মনোনয়ন বৈধ হওয়ার আদেশ দেয়া হয়।

তাকে দ্বৈত নাগরিক দাবি করে তার প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবরে অভিযোগ করেছিলেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক।

বুধবার দুপুরে সেই অভিযোগের শুনানি শেষে হাবিবের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

নির্বাচন কমিশন বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করার পর ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে হাবিব লিখেছেন- ‘সকল বাধা উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশন দ্বৈত নাগরিত্বের প্রমাণ না পাওয়ায় আমার প্রার্থিতা বৈধ বলে জানিয়েছে।’

যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাবিবুর রহমান হাবিব এর আগে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দেশে রাজনীতিতে সক্রিয়। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটিতে সদস্য করা হয় তাকে। ২০১৪ ও ২০১৯ সালের নির্বাচনেও সিলেট-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন চান হাবিব।

আপিলকারী জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক জানিয়েছেন- তিনি উচ্চ আদালতে যাবেন। তার দাবি, হাবিবের দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে এবং এ কারণে তিনি প্রার্থী হওয়ার যোগ্য নন।

করোনা আক্রান্ত হয়ে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস মারা যান। এরপর গত ১১ মার্চ নির্বাচন কমিশন (ইসি) জাতীয় সংসদের সিলেট-৩ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৩ এর দফা (৪) অনুযায়ী, উক্ত শূন্য আসনে ৮ জুনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় শূন্য আসনটিতে ৮ জুন পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন নিতে তফসিল ঘোষণা করে ইসি। আগামী ২৮ জুলাই এই আসনের উপনির্বাচনে ভোট হওয়ার কথা।

সিলেট-৩ আসনে মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৯ ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজার ৬১৮ জন পুরুষ এবং ১ লাখ ২৬ হাজার ৬৯১ জন নারী ভোটার রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনামা অনুযায়ী- আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের যৌথ (তিনি ও তার স্ত্রীর) মালিকানায় সর্বোচ্চ ৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ রয়েছে। বর্তমানে হাবিব ও তার স্ত্রীর কাছে নগদ টাকা আছে আড়াই কোটি টাকারও বেশি। তবে উক্ত ব্যবসায় হাবিবুর রহমান কোনোও আয় উল্লেখ করেননি হলফনামায়।

হাবিবের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই, আগেও ছিল না। হলফনামায় তিনি পেশা দেখিয়েছেন ‘ব্যবসা’।

তিনি নিজেকে প্রবাসী পল্লী গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে পেশা ব্যবসা দেখালেও এ খাত থেকে হাবিবুর রহমান কোনোও আয় উল্লেখ করেননি হলফনামায়।

স্নাতক পাস এই রাজনীতিবিদের কাছে নগদ টাকা আছে ৮৭ লাখ ৫২ হাজার। তার স্ত্রীর কাছে নগদ আছে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৫৮ হাজার ৭৩০ টাকা। সবমিলিয়ে তাদের কাছে নগদ টাকার পরিমাণ ২ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার ৭৩৫।

ব্যাংকে হাবিবুর রহমানের ৫২ হাজার ২৪৪ টাকা ও তার স্ত্রীর ৯ হাজার ৪৪৮ টাকা জমা আছে। শেয়ারবাজারে আছে ৩৫০০ শেয়ার, যেগুলোর মূল্য ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা।

কৃষিখাত থেকে কোনোও আয় নেই হাবিবুর রহমানের। তবে তার স্ত্রী এ খাত থেকে বছরে ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ টাকা আয় করেন। হাবিবের নামে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৩৯৮ টাকার অকৃষি জমি আছে; তবে জমির পরিমাণ তিনি উল্লেখ করেননি।

ঢাকার পূর্বাচলে ৭ কাঠা প্লটের মালিক হাবিব। এর মূল্য ১৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তার কাছে কোনো স্বর্ণ নেই। এমনকি আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রীরও কোনো মূল্য দেখাননি তিনি। ব্যক্তিগত গাড়ি সম্পর্কিত তথ্যও নেই হলফনামায়।

হাবিবের ব্যক্তিগত কোনো ঋণ বা দেনা নেই। তবে প্রবাসী পল্লী গ্রুপের নামে ৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ঋণ আছে।

আরও পড়ুন:
সময়মতো আন্দোলনের ডাক: ফখরুল
ছয় কোটি মানুষকে কেন ১৫ হাজার করে টাকা দিলেন না
জলবায়ু তহবিলের টাকাও লুট: মির্জা ফখরুল
তথ্যমন্ত্রীকে ফখরুল: খালেদাকে নিয়ে কথা বলবেন না
ফিলিস্তিনের জন্য বিএনপির ৮০ কার্টন ওষুধ, পাসপোর্ট পরিবর্তনে দুঃখ

শেয়ার করুন

গরুর গাড়িতে সরকারকে শিক্ষার হুঁশিয়ারি সিপিবির

গরুর গাড়িতে সরকারকে শিক্ষার হুঁশিয়ারি সিপিবির

ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ হলে গরুর গাড়ি দিয়ে রাজপথ বন্ধের হুমকি দিয়েছে সিপিবি। ছবি: সংগৃহীত

বিক্ষোভ সমাবেশে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘ইজিবাইক এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে দেয়া না হলে সরকারকেও আমরা চলতে দেব না। সরকারকে শিক্ষা দিতে আমরা গরুর গাড়ি চালাব। রাজপথ গরুর গাড়ি দিয়ে ভরিয়ে দেব। একটা এসি গাড়িও আমরা চলতে দেব না।’

ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে না দিলে রাজপথে গরুর গাড়ি চালানোর হুমকি দিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সমানে বুধবার রিকশাভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ হুমকি দেন।

সারা দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের সরকারি ঘোষণার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

এতে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতা সাদেকুর রহমান শামীম, পরিবহন শ্রমিকনেতা হযরত আলী, রিকশাভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহাদৎ খাঁ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল ইসলাম নাদিমসহ অনেকে।

বিক্ষোভ সমাবেশে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘ইজিবাইক এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে দেয়া না হলে সরকারকেও আমরা চলতে দেব না। সরকারকে শিক্ষা দিতে আমরা গরুর গাড়ি চালাব।

‘রাজপথ গরুর গাড়ি দিয়ে ভরিয়ে দেব। একটা এসি গাড়িও আমরা চলতে দেব না।’

আরও পড়ুন: সারা দেশে বন্ধ হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান

তিনি বলেন, ‘রিকশার গতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, ব্রেক কীভাবে আরেকটু উন্নত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আমাকে দায়িত্ব দিলে রিকশাচালক ভাইদের সঙ্গে আলোচনা করে সেসব ব্যবস্থা করে দেব। কিন্তু অহেতুক অজুহাত তুলে ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং ইজিবাইক বন্ধ করা চলবে না।’

গরুর গাড়িতে সরকারকে শিক্ষার হুঁশিয়ারি সিপিবির

সমাবেশে বলা হয়, সারা দেশে লাখ লাখ রিকশাচালক চড়া সুদে ঋণ নিয়ে অথবা সম্পত্তি বন্ধক রেখে ব্যাটারিচালিত রিকশা কিনেছেন। এই রিকশা শ্রমিকদের অমানবিক শ্রম লাঘব করেছে। গণপরিবহন হিসেবে দেশের শহর কিংবা গ্রামে রিকশা অপরিহার্য। এ অবস্থায় সরকার ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করে চালকদের পথে বসিয়ে দিতে চাইছে।

এতে এক বক্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বাহন বলে আমরা রিকশা নিয়ে গর্ব করে থাকি। দেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে পাঁচ তারকাবিশিষ্ট হোটেলগুলোতে রিকশার ঝলমলে প্রদর্শনী হয়।

‘প্রবাসী বাঙালিরা পরিবেশবান্ধব যানটিকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে উপস্থাপন করে থাকেন।’

শ্রমিকনেতারা বলেন, সরকারি সিদ্ধান্তে সারা দেশে অন্তত পাঁচ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ হয়ে যাবে। ‘অমানবিক’ এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

তাদের ভাষ্য, বুয়েট প্রস্তাবিত রিকশাবডি, এমআইএসটি উদ্ভাবিত গতি নিয়ন্ত্রক, উন্নত ব্রেকসহ ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমোদন দিতে হবে। রিকশাচালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স দিতে হবে। সমস্যার যুক্তিসংগত সমাধানে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে।

আরও পড়ুন:
সময়মতো আন্দোলনের ডাক: ফখরুল
ছয় কোটি মানুষকে কেন ১৫ হাজার করে টাকা দিলেন না
জলবায়ু তহবিলের টাকাও লুট: মির্জা ফখরুল
তথ্যমন্ত্রীকে ফখরুল: খালেদাকে নিয়ে কথা বলবেন না
ফিলিস্তিনের জন্য বিএনপির ৮০ কার্টন ওষুধ, পাসপোর্ট পরিবর্তনে দুঃখ

শেয়ার করুন

দানের টিকায় করোনা মোকাবিলা সম্ভব নয়

দানের টিকায় করোনা মোকাবিলা সম্ভব নয়

জি এম কাদের বলেছেন, প্রতিদিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আশ্বাসের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু কোনো সাফল্য নেই।

‘সারা বিশ্বের উন্নত ও অনুন্নত দেশগুলো এর মধ্যেই রোডম্যাপ অনুযায়ী গণটিকা কর্মসূচি শুরু করেছে। ওই সব দেশের মানুষ জানেন, কখন তাদের টিকাদান কর্মসূচি শেষ হবে। কিন্তু, আমাদের দেশের কেউই জানেন না কখন আমরা গণটিকা শুরু করতে পারব।

দানের সংগৃহীত অপর্যাপ্ত টিকায় করোনার মতো মহামারি মোকাবিলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

বুধবার তার বনানীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ‘সময়ের আয়নায় পল্লীবন্ধু’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাপা চেয়ারম্যান এমন মন্তব্য করেন।

জি এম কাদের বলেন, ‘করোনা মহামারি মোকাবেলায় ভ্যাকসিন প্রধান অস্ত্র হিসাবে বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হচ্ছে।’

‘বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে ৮০ শতাংশ জনসাধারণকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা গেলে স্বাভাবিক জীবন যাপন সম্ভব হবে। অনেক দেশ ক্রমান্বয়ে সে পরিস্থিতি অর্জনের পথে সাফল্য দেখাচ্ছে। আমাদের মতো জনবহুল দেশে উপহার আর দানের সংগৃহীত অপর্যাপ্ত টিকা দিয়ে করোনার মতো মহামারি মোকাবিলা সম্ভব নয়।’

সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ‘প্রতিদিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আশ্বাসের কথা বলা হচ্ছে কিন্তু কোনো সাফল্য নেই।’

‘টিকা কূটনীতিতে বাংলাদেশ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে উপহারের ৫ থেকে ১০ লাখ টিকা পেয়ে স্বস্তির ঢেকুর তুলছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অথচ ১৮ কোটি মানুষের টিকা পাওয়ার বিষয়টি এখনও সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। বিশ্বাসযোগ্য কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই সরকারের ঘোষণায়। টিকার বিষয়ে দেশের মানুষের মাঝে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের মানুষ করোনার টিকা পাওয়ার বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট ঘোষণা জানতে চায়।’

‘সারা বিশ্বের উন্নত ও অনুন্নত দেশগুলো এর মধ্যেই রোডম্যাপ অনুযায়ী গণটিকা কর্মসূচি শুরু করেছে। ওই সব দেশের মানুষ জানেন, কখন তাদের টিকাদান কর্মসূচি শেষ হবে। কিন্তু, আমাদের দেশের কেউই জানেন না কখন আমরা গণটিকা শুরু করতে পারব।’

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘অদূরদর্শিতার কারণে টিকা ক্রয়ে বিকল্প কোনো সোর্স রাখেনি সরকার। অথচ গেল বছর বারবার সরকারকে টিকা ক্রয়ে বিকল্প সোর্স রাখতে পরামর্শ দিয়েছিলাম আমরা। এ ছাড়া বাজেটে টিকা ক্রয়ের জন্য স্পষ্ট বরাদ্দ নেই। তবে বাজেট বক্তৃতায় কিছু দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে ভ্যাকসিন সরবরাহ এবং ভ্যাকসিন ক্রয়ের অর্থপ্রাপ্তির আশ্বাস উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি এখনও সে পর্যায়ে আছে।’

জি এম কাদের বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে বলে মনে হয় না। তাই আমরা চাই উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে অক্সিজেন সহায়তা এবং আইসিইউ থাকতে হবে। সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে জেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে। যেহেতু যথেষ্ট পরিমাণ করোনা ভ্যাকসিন পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না, সে ক্ষেত্রে করোনা ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সে পরিস্থিতিতে আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। তাই পরিকল্পিতভাবে আমাদের দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। গণহারে মৃত্যু ঠেকাতে অনতিবিলম্বে চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নে বাস্তবায়নে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় করোনা ভ্যাকসিনের টিকা উদ্ভাবনের যেকোনো উদ্যোগকে সহযোগিতা দিতে হবে।’

এরশাদ নিয়ে গবেষণা করবে আগামী প্রজন্ম

এ সময় জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের ছোট ভাই জি এম কাদের বলেন, “আগামী প্রজন্ম একসময় পল্লিবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জীবনী নিয়ে গবেষণা করবে। তখন ‘সময়ের আয়নায় পল্লীবন্ধু’ বইটি তরুণ প্রজন্মের কাছে সমাদৃত হবে। আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে এরশাদের অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’’

জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও “সময়ের আয়নায় পল্লীবন্ধু” গ্রন্থের প্রকাশক আহসান আদেলুর রহমানের সভাপাতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রকাশনা উৎসবে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। আরও বক্তব্য রাখেন দলের কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, কো-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
সময়মতো আন্দোলনের ডাক: ফখরুল
ছয় কোটি মানুষকে কেন ১৫ হাজার করে টাকা দিলেন না
জলবায়ু তহবিলের টাকাও লুট: মির্জা ফখরুল
তথ্যমন্ত্রীকে ফখরুল: খালেদাকে নিয়ে কথা বলবেন না
ফিলিস্তিনের জন্য বিএনপির ৮০ কার্টন ওষুধ, পাসপোর্ট পরিবর্তনে দুঃখ

শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগ কি অসাম্প্রদায়িক চরিত্র হারাচ্ছে?

আওয়ামী লীগ কি অসাম্প্রদায়িক চরিত্র হারাচ্ছে?

রাজধানীর ধোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করে ধর্মীয় গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠার পর সম্প্রতি আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচি পালন করে। ফাইল ছবি

২০০৬ সালে খেলাফত মজলিসের সঙ্গে চুক্তি থেকে শুরু করে হেফাজতের ব্যাপারে নমনীয় আচরণ –গত দেড় দশক ধরে প্রশ্ন উঠছে, ধর্মনিরেপক্ষ অবস্থান থেকে আওয়ামী লীগ সরে গেছে কিনা বা গেলে কতটুকু সরেছে। দলের নেতারা বলছেন, দল অটুট আছে। অনেকে বলছেন, ভোটের রাজনীতি প্রভাব ফেলছে। 

রাজনৈতিক দল হিসেবে বরাবরই ধর্মনিরপেক্ষতার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে এসেছে আওয়ামী লীগ। সাম্প্রতিক সময়ে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বা কৌশলগত যোগাযোগ ও সবশেষ প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজায় গার্ড অব অনার দেয়া থেকে নারী প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরত রাখার প্রস্তাব সংক্রান্ত ইস্যুতে নতুন করে সমালোচনায় পড়েছে দলটি।

আওয়ামী লীগ তার ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি থেকে সরে যাচ্ছে কি না, এ নিয়ে সন্দেহ ও সমালোচনা দেখা দিচ্ছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা যদিও এ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলছেন, আওয়ামী লীগ কখনই তার ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি থেকে সরে যায়নি।

প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অব অনার দেওয়ায় নারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বিকল্প চেয়ে সম্প্রতি সুপারিশ করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এ কমিটির প্রধান আওয়ামী লীগের একজন সাংসদ এবং সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান। বাকি সদস্যরাও অধিকাংশই আওয়ামী লীগের।

সংসদীয় কমিটি কী করে নারী-পুরুষ বৈষম্যমূলক ও জেন্ডার স্পর্শকাতর একটি সুপারিশ করল, এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়েছে। পরদিনই জাসদ নেতারা এটির তীব্র সমালোচনা করে সংসদে বক্তব্য রাখেন। তবে শেষ পর্যন্ত সরকার এই পরামর্শ আমলে নেয়নি।

এর আগেও, ইসলামপন্থি উগ্র সংগঠন হেফাজতে ইসলামের নেতাদের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের পরও নমনীয় আচরণ করায় সমালোচনা পড়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। অবশ্য হেফাজত, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করলে তাদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনায় মুখ খোলেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তবে শেষ পর্যন্ত যাত্রাবাড়ীর ওই সড়কদ্বীপে ভাস্কর্য স্থাপন থেকে সরকার সরে এসেছে বলে খবর প্রকাশ হয়েছে।

এর আগে ২০১৭ সালের মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে গ্রিক দেবী থেমিসের ভাস্কর্য অপসারণের দাবিতে হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামপন্থিদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে নমনীয় অবস্থান নিতে দেখা যায় সরকারকে।

আওয়ামী লীগ কি অসাম্প্রদায়িক চরিত্র হারাচ্ছে?
গত কয়েক বছরে দেশে ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রভাব বাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট। আর সরকারও তাদের নানা দাবিতে নানা সময় নমনীয়তা দেখিয়েছে

ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থানের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় সমালোচনার উপলক্ষ তৈরি হয় ২০০৬ সালের নির্ধারিত নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ ইসলামপন্থি দল খেলাফত মজলিসের সঙ্গে পাঁচ দফা চুক্তি করে। তবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সে চুক্তি থেকে দলটি সরে আসে। তখন থেকেই ভোটের রাজনীতিতে এটি স্পষ্ট হয় যে, দেশে ইসলামপন্থি দলগুলোর যে ভোট ব্যাংক রয়েছে, সেটির একটি অংশ পেতে আওয়ামী লীগ আগ্রহী।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে শরিক হিসেবে একটি ইসলামি দল রয়েছে, যেটির নাম বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন (নজিবুল বশর)। এছাড়া মহাজোটে আছে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ (বাহাদুর শাহ)।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আগে ইসলামী ঐক্যজোট (নেজামী), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (হাবিবুর রহমান) ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মান্নান) ও জাকের পার্টির (মোস্তফা আমীর) সঙ্গে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সমঝোতা হয়।

এইসব প্রবণতার কারণে মনে করা হয়, ভোটের রাজনীতির সমীকরণের কথা মাথায় রেখে আওয়ামী লীগ তার ধর্মনিরপক্ষতার নীতিতে কিছু পরিমাণে হলেও আপস করছে।

আওয়ামী লীগের দলীয় গঠনতন্ত্রে লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও মূলনীতি অধ্যায়ের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে অর্জিত সংবিধানের চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতি (পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত) বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র, সকল ধর্ম, বর্ণ ও নৃ-গোষ্ঠীর সমান অধিকার নিশ্চিতকরণ ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অভীষ্ট লক্ষ্য।’

তবে আওয়ামী লীগের ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণও ঐতিহাসিকভাবে একটি ভোটের রাজনীতির সমীকরণ ছিল বলে মনে করেন লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ১৯৪৯ সালে যখন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলীম লীগ হিসেবে এ দলের জন্ম হয়, তখন শুধু মুসলমানরাই এর সদস্য হতে পারতেন। ১৯৫৪ সালে যখন যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন হয়, তখন সেটা ছিল পৃথক নির্বাচন।

তিনি বলেন, ‘এর মানে হলো মুসলমানরা মুসলমানদের ভোট দেবে আর অমুসলমানদের আলাদা প্রার্থী থাকবে। আওয়ামী লীগ একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, তারা পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা বাতিল করবে এবং সব ধর্মের দল নিয়ে নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করবে। এটা যুক্তফ্রন্টের ম্যানিফেস্টোতে ছিল।

‘এ কারণে অমুসলিম জনগোষ্ঠীর একটি বড় সমর্থন আওয়ামী লীগ ৯৫৪ সালের নির্বাচনে পেয়েছিল। এর ফলাফল হচ্ছে ১৯৫৫ সালে যে কাউন্সিল হয়, সেখানে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে দলের নাম আওয়ামী লীগ করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের যে ম্যানিফেস্টো এবং তখন সব দলের সভাপতিরা রেডিও-টিভিতে ভাষণ দিয়েছিলেন, সেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের যে ভাষণ, দুই জায়গাতেই বলা আছে, কুরআন ও সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন আওয়ামী লীগ করবে না। এটা একটা প্রতিশ্রুতি ছিল। সেই প্রতিশ্রুতিটা আওয়ামী লীগ এই ২০২১ সাল পর্যন্ত ধরে রেখেছে।

এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, ‘তখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একটি সমালোচনা ছিল, এরা বোধ হয় ইসলামবিরোধী। সুতরাং এই সমালোচনা কাটাতে শেখ মুজিব এই ঘোষণা দিয়েছিলেন।’

আওয়ামী লীগ কি অসাম্প্রদায়িক চরিত্র হারাচ্ছে?
ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিরোধিতার মুখে সরকার ধোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণও ঝুলিয়ে রেখেছে

অবশ্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, দলটি বরাবর অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কখনোই তার ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি থেকে সরে আসেনি। দল সব সময় বিশ্বাস করে যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। প্রত্যেকের ধর্মের প্রতি রাজনৈতিক দল হিসেবে শ্রদ্ধা করি। কোনো ধর্মের কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত সৃষ্টি করা এটা আমাদের দলের নীতি বিরুদ্ধ।’

তিনি বলেন, ‘ধর্ম দিয়ে কখনও রাষ্ট্র পরিচালিত হয় না। কোনো ধর্মের উপর অন্য কোনো মতাদর্শও চাপিয়ে দেয়া যায় না। এ নীতি থেকে আওয়ামী লীগ কখনোই বিচ্যুত হয়নি।’

তবে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি থেকে আওয়ামী লীগ সরে এসেছে বলে মনে করেন

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষ দল হিসেবে গঠনতন্ত্রে আছে। কিন্তু বিভিন্ন উগ্রবাদী দলগুলো অথবা সাম্প্রদায়িক দলগুলোর সাথে বিভিন্ন সময়ে তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষে যে মেলবন্ধন আমরা লক্ষ্য করি, তা এই গঠনতন্ত্রের পরিপন্থি। একই সাথে মনে হয়, যে আদর্শ নিয়ে আওয়ামী লীগ গঠিত হয়েছিল, সেই আদর্শকে ধারণ করতে যে কোনো কারণেই হোক তারা তা পারছে না।

‘এটার কারণে আমি মনে করি, তাদের কাছে এখন আদর্শের রাজনীতির চেয়ে ভোটের রাজনীতি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। এই ভোটের রাজনীতি সত্তরেও ছিল, বঙ্গবন্ধুর সময়, কিন্তু সেই নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু সাম্প্রদায়িক বা ধর্মান্ধ রাজনৈতিক দলের কাছে আপোস করেননি, আত্মসমর্পণও করেননি। এখানেই সত্তরের আওয়ামী লীগ ও এখনকার আওয়ামী লীগের মধ্যে ব্যতিক্রম।’

অবশ্য আওয়ামী লীগ ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি নমনীয় এ কথার সাথে দ্বিমত রয়েছে ধর্মভিত্তিক দল ও আওয়ামী লীগের ১৪ দলীয় জোটসঙ্গী তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি আদর্শিক দল। স্বাধীনতা এসেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে।

‘আমার যেটা মনে হয়, বিভিন্ন ইসলামী দল বিশেষ করে স্বাধীনতাবিরোধী দল, জঙ্গিবাদের বিষয়ে যাদের অবস্থান আছে, অনেকে যারা জাতীয় পতাকাও তোলে না বা জাতীয় সংগীতকে অস্বীকার করে – এ ধরনের দলগুলো যেন দেশবিরোধী অবস্থানে বা জঙ্গিবাদের দিকে চলে না যায় এ জন্য আওয়ামী লীগ বলবে না সরকার তাদের সুযোগ দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ভোটের জন্য ইসলামপন্থি উগ্রবাদী দলগুলোর প্রতি নমনীয় এটা আমি বিশ্বাস করতে চাই না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সমুন্নত রেখে যারা (ইসলামী দল) আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছে, আর স্বাধীনতার স্বপক্ষের যারা এখনও নেই তাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক কোনো রাজনৈতিক দলেরই নিবন্ধন থাকা উচিত না।’

আরও পড়ুন:
সময়মতো আন্দোলনের ডাক: ফখরুল
ছয় কোটি মানুষকে কেন ১৫ হাজার করে টাকা দিলেন না
জলবায়ু তহবিলের টাকাও লুট: মির্জা ফখরুল
তথ্যমন্ত্রীকে ফখরুল: খালেদাকে নিয়ে কথা বলবেন না
ফিলিস্তিনের জন্য বিএনপির ৮০ কার্টন ওষুধ, পাসপোর্ট পরিবর্তনে দুঃখ

শেয়ার করুন