বিএনপির কাছে ক্ষমতা ভোগের বস্তু: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের

বিএনপির কাছে ক্ষমতা ভোগের বস্তু: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি এ দেশের ইতিহাসে গণতন্ত্রের হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত। বিএনপি নির্বাচনের নামে নির্বাচনের কফিনে বারবার গণতন্ত্রকে লাশ বানিয়েছিল।’

বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ভোগের বস্তু হিসেবে দেখে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ জন্যই দলটি ক্ষমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার দলের বন ও পরিবেশবিষয়ক উপকমিটি আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের বলেন, ‘বিএনপির কাছে ক্ষমতা ভোগের বস্তু, ক্ষমতা ফিরে পেতে তাই তো মরিয়া হয়ে আছে। আর আওয়ামী লীগের রাজনীতি ত্যাগের, এ জন্যই জনগণ শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল। সহিংসতার উপাদান যুক্ত হলে রাজনৈতিক পরিবেশও নষ্ট হবে।’

গণতন্ত্রের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ‘মায়াকান্নার’ কঠোর সমালোচনা করেন ওবায়দুল কাদের।

ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি এ দেশের ইতিহাসে গণতন্ত্রের হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত। বিএনপি নির্বাচনের নামে নির্বাচনের কফিনে বারবার গণতন্ত্রকে লাশ বানিয়েছিল।

‘১৯৭৮ সালের ৩ জুন জিয়াউর রহমান কোন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছিল? সেনাপ্রধানের দায়িত্বে থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল সেনাশাসক জিয়া। তার আগে ১৯৭৭ সালে হ্যাঁ-না ভোটের নামে দেশের নির্বাচনব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল।’

বিএনপিকে প্রশ্ন রেখে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তীব্র সমালোচনা আর মিথ্যাচারের তির ছুড়ে এবং দলীয়ভাবে আপাদমস্তক অগণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রেখে কীভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে বিএনপি?

‘বিএনপি নাকি গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে, কর্মীরা প্রাণ দিচ্ছে, সর্বশেষ জাতীয় প্রেস ক্লাবে তাদের ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের চেয়ার ছোড়াছুড়ি দেশবাসী দেখেছে! এভাবেই কি তারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে?’

বিএনপির প্রতি অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের ২১ হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা, গুম করেছিল। বিএনপি অতীত ভুলে গেলেও দেশের মানুষ ঠিকই মনে রেখেছে।’

আরও পড়ুন:
বাজেট সর্বমহলে প্রশংসিত: ওবায়দুল কাদের
‘বিএনপির রাজনীতিতে থাকা নিয়ে জনগণের আগ্রহ নেই’
ওবায়দুল কাদেরের বাড়ির সামনে ককটেল
‘কোরবানির পশুর চামড়া রপ্তানির অনুমতি দিতে হবে’
টিসিবির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়: জাপা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

হাবিব-শফির বাগ্‌যুদ্ধে উত্তাপ সিলেটে

হাবিব-শফির বাগ্‌যুদ্ধে উত্তাপ সিলেটে

সিলেট-৩ আসনের প্রার্থী (বাঁ থেকে) আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব ও স্বতন্ত্র শফি আহমদ চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও শিল্পপতি শফি আহমদ প্রার্থী হওয়ার ঘোষণার পরই এই আসনে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস মিলছিল। এখন শুরুতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমানের সঙ্গে তার কথার লড়াই সেই আভাসকে আরও গাঢ় করে তুলেছে।

এখনও প্রচার শুরু হয়নি। প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন কেবল। এর মধ্যেই কথার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছেন হাবিবুর রহমান হাবিব ও শফি আহমদ চৌধুরী। এই দুজনের বাগ্‌যুদ্ধ উত্তাপ ছড়াচ্ছে সিলেট-৩ আসনের নির্বাচনি মাঠে।

হাবিবুর রহমান এই আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। আর শফি আহমদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।

সিলেট-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এর আগে চারবার প্রার্থী হয়েছেন শফি। একবার নির্বাচিতও হয়েছেন। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তিনি।

এই দুজন ছাড়াও সিলেট-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আরেক শিল্পপতি আতিকুর রহমান আতিক। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জুনায়েদ মুহাম্মদ মিয়া। ফাহমিদা হোসেন লুমা এবং শেখ জাহেদুর রহমান মাসুম নামে আরও দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও বৃহস্পতিবার যাচাই-বাছাইয়ে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। অবশ্য তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।

প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও শিল্পপতি শফি আহমদ প্রার্থী হওয়ার ঘোষণার পরই এই আসনে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস মিলছিল। এখন শুরুতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমানের সঙ্গে তার কথার লড়াই সেই আভাসকে আরও গাঢ় করে তুলেছে।

বাগ্‌যুদ্ধের শুরুটা করেন শফি চৌধুরী। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে গত সোমবার শফি আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘সিলেট-৩ আসনের প্রয়াত সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর স্ত্রী ফারজানা সামাদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। তিনি আমাকে সমর্থন দিয়েছেন।’

সাংসদ মাহমুদের মৃত্যুতেই এই আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে। এতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন সামাদের স্ত্রী ফারজানাসহ দলটির অন্তত দুই ডজন নেতা।

গত মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আগের দিনের বক্তব্য আবারও উল্লেখ করে শফি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিয়ে দলের মধ্যেই অসন্তোষ রয়েছে। দলের নেতা-কর্মীরা আশা করেছিলেন মানবিক দিক বিবেচনায় মাহমুদ উস সামাদের স্ত্রীকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ তার প্রতি সহানুভূতি না দেখানোর কারণে দলের নেতা-কর্মীরা মারাত্মক ক্ষুব্ধ।

‘এ ছাড়া দলের সিনিয়র নেতারা মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ায় দলটির নেতা-কর্মীরা অসন্তুষ্ট। তারাও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। জামায়াতও আমাকে নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহ দিচ্ছে। সব মিলিয়ে দলীয় নেতা-কর্মী ও এলাকার মানুষের সমর্থন উপেক্ষা করতে না পেরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছুটে এসে প্রার্থী হতে হয়েছে।’

শফি চৌধুরীর এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব। গত বুধবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তিনি। এতে এক সাংবাদিক শফি চৌধুরীর মন্তব্যের বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ সময় হাবিব বলেন, নির্বাচনি এলাকার তিন উপজেলার আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী নৌকা প্রতীকের পক্ষে রয়েছেন। অন্য যারা মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন, তারাও তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। সবাইকে নিয়ে তিনি নির্বাচন করবেন।

নৌকা প্রতীকের বাইরে কোনো নেতা-কর্মী নেই দাবি করে হাবিব বলেন, ‘শফি চৌধুরী বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। তিনি বয়স্ক মানুষ। কোন সময় কী বলেন, কী করেন তার ঠিক নেই। তার কর্মীদেরই বলতে শুনেছি, বয়সের কারণে তিনি প্যান্টে প্রস্রাব-পায়খানা পর্যন্ত করে দেন। সুতরাং তার কথায় কান দিয়ে লাভ নেই।’

তরুণ হাবিবের এমন মন্তব্য নজরে পড়েছে প্রবীণ শফি আহমদের। শুক্রবার এক ভিডিওবার্তায় এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার বয়স এখন ৮৪ বছর। আজকেও সারা দিন নির্বাচনি কাজে এলাকায় ছিলাম। একবারও বাথরুমে যেতে হয়নি। আমার কাপড়চোপড়ও অপরিষ্কার হয়নি। এখনও অজু আছে।’

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় শফি চৌধুরীকে শোকজ করেছে বিএনপি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনগণের চাপে আমি প্রার্থী হয়েছি। এই আসনটি বিএনপির ঘাঁটি। এই ঘাঁটি নষ্ট হতে দেয়া যায় না। এ ছাড়া এমপি থাকাকালে আমি এই এলাকায় অনেক উন্নয়ন করিয়েছি। জনগণ তা আজও মনে রেখেছে। এসব বিবেচনায়ও আমি প্রার্থী হয়েছি। আশা করছি বিএনপিও তা বুঝতে পারবে।’

শফি জানান, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। ওই সময়ও তার বিরুদ্ধে দল কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

প্রবীণ এই বিএনপি নেতার দাবি, তিনি বিএনপির রাজনীতি করলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ১১ মার্চ মারা যান সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ২৮ জুলাই এ আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা।

আরও পড়ুন:
বাজেট সর্বমহলে প্রশংসিত: ওবায়দুল কাদের
‘বিএনপির রাজনীতিতে থাকা নিয়ে জনগণের আগ্রহ নেই’
ওবায়দুল কাদেরের বাড়ির সামনে ককটেল
‘কোরবানির পশুর চামড়া রপ্তানির অনুমতি দিতে হবে’
টিসিবির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়: জাপা

শেয়ার করুন

ছাত্রলীগের ঠাকুরগাঁও কমিটি বিলুপ্ত

ছাত্রলীগের ঠাকুরগাঁও কমিটি বিলুপ্ত

মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ছাত্রলীগের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। ছবি: সংগৃহীত

২০১৫ সালের ১৯ জুলাই এক বছর মেয়াদে রনিকে সভাপতি ও সানোয়ার পারভেজকে সাধারণ সম্পাদক করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। পরে ২০১৬ সালের ১০ মে জেলা ছাত্রলীগের ১৫১ সদস্যের কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। 

মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ায় ছাত্রলীগের ঠাঁকুরগাও জেলা কমিটি বিলুপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি।

শুক্রবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিকেলে লেখক ভট্টাচার্য বিজ্ঞপ্তিটি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও পোস্ট করেন।

এতে বলা হয়, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ছাত্রলীগের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।’

ঠাকুরগাঁও শাখার নতুন কমিটিতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীরা আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় দপ্তরে সরাসরি বা ডাকযোগে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার পর থেকে পদপ্রত্যাশী নেতা-কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরব হয়ে ওঠেছেন। অনেকে তাঁদের পছন্দের নেতা-কর্মীকে শীর্ষ পদে দেখতে চেয়ে পোস্ট দেন।

সদর উপজেলা ছাত্রলীগ, কলেজ ছাত্রলীগ ও দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলে কাজ করা নেতাদের অনুসারীরাও ফেসবুকে প্রচার চালাতে শুরু করেছেন।

ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির জেলা শাখার সভাপতি মাহাবুব হোসেন রনি বলেন, ‘কেন্দ্রের এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে বলার কিছুই নেই। তবে সম্মেলনের মাধ্যমে বিদায় নিতে পারলে ভালো হতো। নতুন কমিটি এসে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করবে বলে আশা করি।’

২০১৫ সালের ১৯ জুলাই এক বছর মেয়াদে রনিকে সভাপতি ও সানোয়ার পারভেজকে সাধারণ সম্পাদক করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। পরে ২০১৬ সালের ১০ মে জেলা ছাত্রলীগের ১৫১ সদস্যের কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র।

আরও পড়ুন:
বাজেট সর্বমহলে প্রশংসিত: ওবায়দুল কাদের
‘বিএনপির রাজনীতিতে থাকা নিয়ে জনগণের আগ্রহ নেই’
ওবায়দুল কাদেরের বাড়ির সামনে ককটেল
‘কোরবানির পশুর চামড়া রপ্তানির অনুমতি দিতে হবে’
টিসিবির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়: জাপা

শেয়ার করুন

‘জনগণের রায়ে বিএনপির ভয়’

‘জনগণের রায়ে বিএনপির ভয়’

লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজ মাঠে শুক্রবার বিকেলে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান। ছবি: নিউজবাংলা

‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছেন। তাই শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী পরাজিত হতে পারেনা, জনগণের রায়ে তার প্রার্থী বিজয়ী হবেন। এ কারণেই বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়।’

জনগণের রায়কে ভয় পেয়ে বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান।

আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজ মাঠে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। তাই শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী পরাজিত হতে পারেনা, জনগণের রায়ে তার প্রার্থী বিজয়ী হবেন। এ কারণেই বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়।’

২১ জুন লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন। এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ শিপন। এতে বিএনপি প্রার্থী দেয়নি।

লক্ষ্মীপুরের উপনির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় নেতা আব্দুর রহমান।

সভায় লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিঙ্কুর সভাপতিত্ব করেন।

বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর সবুর, আমিনুল ইসলাম, তোফায়েল আহমদ, এম আলাউদ্দিন, নুরুলহুদা পাটোয়ারী, আবুল কাশেম, মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া, মমিন পাটোয়ারী, আব্দুল মতলব, রাসেল মাহমুদ মান্না, রায়পুর পৌরসভার মেয়র গিয়াস উদ্দিন রুবেলসহ অনেকে।

আলোচনা সভা পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন।

আরও পড়ুন:
বাজেট সর্বমহলে প্রশংসিত: ওবায়দুল কাদের
‘বিএনপির রাজনীতিতে থাকা নিয়ে জনগণের আগ্রহ নেই’
ওবায়দুল কাদেরের বাড়ির সামনে ককটেল
‘কোরবানির পশুর চামড়া রপ্তানির অনুমতি দিতে হবে’
টিসিবির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়: জাপা

শেয়ার করুন

নেত্রীর ভুল ভাঙাতে পারলাম না: আক্ষেপ নাজমুলের

নেত্রীর ভুল ভাঙাতে পারলাম না: আক্ষেপ নাজমুলের

লন্ডনের বার্থ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। ছবি: ফেসবুক

হার্টে একাধিক ব্লক নিয়ে হাসপাতালে শয্যাশায়ী ছাত্রলীগের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘সবাই আমাকে আল্লাহর ওয়াস্তে ক্ষমা করে দিয়েন। বাঁচব কি না জানি না, তবে এই চরম মুহূর্তে কিছু সত্য কথা বলে যাই, আমি রাজনীতিটা একমাত্র দেশরত্ন শেখ হাসিনারে মেনেই করতাম এবং করি। কোনো দিন তার বাইরে যাইনি।’

একসময় খুবই সাধারণ চলাফেরা ছিল তার। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকেই চলে আসেন পাদপ্রদীপের আলোয়। পরিচিত হয়ে ওঠেন সবার কাছে। পাল্টে যায় সিদ্দিকী নাজমুল আলমের খোলনলচে।

তখন থেকেই প্রায় প্রতি মাসে গাড়ি পাল্টানো যেন নাজমুলের শখে পরিণত হয়। সারাক্ষণ ঠোঁটে জ্বলত দামি সিগারেট। মাথার চেয়ে হাত চলাই নাজমুল ও তার অনুসারীদের এনে দেয় বিশেষ পরিচিতি। বিতর্ক হয়ে ওঠে নাজমুলের সমর্থক।

তবে নাজমুলের ভক্ত-সমর্থক ছিল তার সমসাময়িক নেতাদের তুলনায় ঈর্ষণীয়। ছাত্রলীগের সেই দাপুটে নেতা বহুদিন ধরেই দেশের বাইরে। হার্টে একাধিক ব্লক নিয়ে চিকিৎসাধীন হাসপাতালের বিছানায়।

এ অবস্থায় থেকে নাজমুল প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে লিখেছেন আবেগঘন এক স্ট্যাটাস। তার আক্ষেপ প্রিয় নেত্রীর ভুল ভাঙাতে না পারার।

সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় টানা চার বছর অনেকটা একহাতে ছাত্রলীগের প্রায় সব নিয়ন্ত্রণ করেছেন দাপটের সঙ্গে। ক্ষমতাসীন দলটির সংগঠনটিতে সিদ্দিকী নাজমুলই তখন ছিলেন শেষ কথা। কথিত আছে, এ সময়েই বিপুল সম্পদের মালিক হন তিনি। বনে যান একটি বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালকও।

নেত্রীর ভুল ভাঙাতে পারলাম না: আক্ষেপ নাজমুলের
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম:ফাইল ছবি

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালেই নাজমুল বেশ কয়েকটি দেশে নিয়মিত ভ্রমণ করতেন। সেই সময় থেকেই সেসব দেশে ব্যবসার সঙ্গে জড়ান তিনি।

ছাত্রলীগের দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকেই নাজমুলের নানা সম্পদের খবর আসতে থাকে। সবশেষ ২০১৯ সালের অক্টোবরে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে যুবলীগ ঢাকা দক্ষিণের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটসহ অন্যদের সঙ্গে ওঠে ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতার নাম।

সেই থেকে দেশের বাইরে নাজমুল। বিতর্কিত ঠিকাদার ও যুবলীগ নেতা জিকে শামীমের কেলেঙ্কারিতেও আসে নাজমুলের নাম।

বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে উঠে আসে, সিদ্দিকী নাজমুলের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ক্ষুব্ধ হন তার প্রতি। নাজমুলের দাবি, তার ব্যাপারে নেত্রীকে দেয়া হয়েছে ভুল তথ্য।

লন্ডনের বার্থ হাসপাতাল থেকে ফেসবুকে দেয়া নাজমুলের স্ট্যাটাস

সবাই আমাকে আল্লাহর ওয়াস্তে ক্ষমা করে দিয়েন। বাঁচব কি না জানি না, তবে এই চরম মুহূর্তে কিছু সত্য কথা বলে যাই, আমি রাজনীতিটা একমাত্র দেশরত্ন শেখ হাসিনারে মেনেই করতাম এবং করি। কোনো দিন তার বাইরে যাইনি।

সাবেক অনেক বড় ভাইয়ের কথায় আমি কখনও চলি নাই। বরং পেছনের সারির অনেককে নেতা বানাইছি নিজের ইচ্ছায়। আর প্রেম করেছিলাম, কিন্তু মানিয়ে নিতে পারিনি তাই বিয়ে হয়নি। আর শেষ কথা হলো বাংলাদেশে কোনো ব্যাংকে আমার নামে এক পয়সাও লোন নাই এবং লোনের কোনো টাকা বিদেশেও নিয়ে আসিনি। তদবির ঠিকাদারি দালালি পদ-বাণিজ্য কখনও করিনি।

লন্ডনে গায়ে খাটি। জীবনে যে কাজ করিনি তা করে জীবনযুদ্ধে লিপ্ত ছিলাম। কিন্তু আমার কপাল ভালো না। কিছুক্ষণ আগেই আমার এনজিওগ্রাম সম্পন্ন হয়েছে। অনেকগুলো ব্লক ধরা পড়েছে, ওপেন হার্ট সার্জারি করতে হবে। হয়তোবা আজকালের মধ্যেই করবে, সরকারি হাসপাতালেই করবে। কারণ, এই দেশে চিকিৎসা ফ্রি। তাই আর কেউ কষ্ট কইরা ভুল তথ্য দিয়েন না, যে কোটি টাকার অপারেশন।

নেত্রীর ভুল ভাঙাতে পারলাম না: আক্ষেপ নাজমুলের
ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় ব্যাপক দাপট ছিল সিদ্দিকী নাজমুল আলমের:ফাইল ছবি

যদি মরে যাই একটাই কষ্ট থাকবে নিজের দলের মানুষের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মিডিয়া ট্রায়াল হয়েছে বারবার আমার নামে। আর আফসোস, হয়তোবা বড় কোনো ভাই আমার নামে অনেক মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমার নেত্রীর কান ভারী করে রেখেছে, সেই ভুলগুলো হয়তো ভাঙিয়ে যেতে পারলাম না।

আপা, আপনিই আমার মমতাময়ী জননী স্নেহময়ী ভগিনী। আপনাকে অনেক ভালোবাসি, ক্ষমা করে দিয়েন আমাকে। সবাই ভালো থাকবেন, আপনাদের আর যন্ত্রণা দিব না।

পোস্টটি দেয়ার এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ের মধ্যে রিঅ্যাক্ট পড়ে ৩৫ হাজার। কমেন্ট পড়ে ১০ হাজার। শেয়ার হয় ১ হাজার ৪০০।

নাজমুলের পোস্টে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম লিখেছেন, ‘ইনশাল্লাহ তুমি ভালো হয়ে যাবে। চিন্তা করো না আমাদের দোয়া তোমার সাথেই আছে।’

উত্তরবঙ্গের আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ লিখেছেন, ‘আল্লাহর রহমতে তুমি ফিরে আসবে।’

ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) গোলাম রব্বানী লিখেছেন, ‘ভাই আপনি সুস্থ হয়ে দেশে আসেন। সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই করে প্রকৃত সত্য উন্মোচন করতে হবে। দোয়া করি, অপারেশনটা ভালোয় ভালোয় হয়ে যাক, আপনি দুর্দিনের রাজপথের লড়াকু নাজমুল, একদম ভেঙে পড়বেন না। এবার একসাথে নেত্রীর নামে স্লোগান ধরব ইনশাল্লাহ।’

আরও পড়ুন:
বাজেট সর্বমহলে প্রশংসিত: ওবায়দুল কাদের
‘বিএনপির রাজনীতিতে থাকা নিয়ে জনগণের আগ্রহ নেই’
ওবায়দুল কাদেরের বাড়ির সামনে ককটেল
‘কোরবানির পশুর চামড়া রপ্তানির অনুমতি দিতে হবে’
টিসিবির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়: জাপা

শেয়ার করুন

ব্যবসা ও গণপরিবহনের কারণে সংক্রমণ বাড়ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ব্যবসা ও গণপরিবহনের কারণে সংক্রমণ বাড়ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

গণপরিবহনে গাদাগাদি করে যাত্রী নেয়ায় করোনা সংক্রমণ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ফাইল ছবি

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের হাসপাতালগুলো রোগীতে ভরে গেছে। সামাল দেয়া কঠিন হচ্ছে। আমরা চাই না, ঢাকা ও দেশের অন্য জেলাগুলোয় এই সমস্যা দেখা দিক।’

ব্যবসা-বাণিজ্য ও গণপরিবহনের কারণে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

মন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য যাওয়া-আসা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমের সিজনে আম কেনাকাটা ও ধান কাটার জন্য লোক যাওয়া-আসা করেছেন। এ কারণে সংক্রমণ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

‘উত্তরবঙ্গে বিশেষ করে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা ও নওগাঁ এসব জায়গায় করোনার সংক্রমণ বাড়তি। কোনো কোনো জেলায় করোনা ৩০-৪০ শতাংশ হয়ে গেছে।’

শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়ার নিজ বাসবভনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সংক্রমণের হার কমানোর উপায়ও বাতলে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘যদি করোনা সংক্রমণ রোধ করতে হয়, তাহলে কঠোরভাবে আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’

‘গণপরিবহনে যাত্রীরা গাদাগাদি করে যাতায়াত করেন। এসব কারণে সংক্রমণ হার বাড়ছে। অতএব গণপরিবহনে সরকারের নির্দেশ মেনে যাতায়াত করতে হবে এবং অর্ধেক সিট খালি রাখতে হবে। আমরা দেখছি, গণপরিবহনে এসব মানা হচ্ছে না।’

দেশে ক্রমাগত করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাহিদ মালেক বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের হাসপাতালগুলো রোগীতে ভরে গেছে। সামাল দেয়া কঠিন হচ্ছে। আমরা চাই না, ঢাকা ও দেশের অন্য জেলাগুলোয় এই সমস্যা দেখা দিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে যখন করোনা মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে ছিল, তখন সারা দেশে ১৫০০-এর মতো রোগী ছিল। সংক্রমণ বাড়ায় বর্তমানে সারা দেশে চার হাজারের মতো রোগী আছে এবং প্রত্যেক দিন প্রায় চার হাজারের মতো আক্রান্ত হচ্ছে।

‘বর্তমান হারে যদি রোগী বাড়ে, তাহলে কোনো এক সময়ে হাসপাতালে জায়গা দেয়া কঠিন হয়ে যাবে।’

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইসরাফিল হোসেনের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন সরকার, সাটুরিয়া উপজেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিন ও বালিয়াটি ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমীন।

আরও পড়ুন:
বাজেট সর্বমহলে প্রশংসিত: ওবায়দুল কাদের
‘বিএনপির রাজনীতিতে থাকা নিয়ে জনগণের আগ্রহ নেই’
ওবায়দুল কাদেরের বাড়ির সামনে ককটেল
‘কোরবানির পশুর চামড়া রপ্তানির অনুমতি দিতে হবে’
টিসিবির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়: জাপা

শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের সামনে দুই চ্যালেঞ্জ

আওয়ামী লীগের সামনে দুই চ্যালেঞ্জ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের সামনে এখন দুটি চ্যালেঞ্জ। একটি হচ্ছে মহামারি করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ; আরেকটি হচ্ছে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হলে দলকে আরও শৃঙ্খল করতে হবে।

উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রাক্কালে দুটি বিষয়কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তা হলো ‘করোনাভাইরাস মহামারি’ ও ‘উগ্র সাম্প্রদায়িকতা’।

রাজধানীর সরকারি বাসভবন থেকে শুক্রবার সকালে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে এখন দুটি চ্যালেঞ্জ। একটি হচ্ছে মহামারি করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ; আরেকটি হচ্ছে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা। করোনা প্রতিরোধের পাশাপাশি উগ্র সাম্প্রদায়িকতার চ্যালেঞ্জকেও আমাদের মোকাবিলা করতে হবে। আর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হলে দলকে আরও শৃঙ্খল করতে হবে।’

দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তিতে জোর দেয়া হচ্ছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দলকে আরও সুসংগঠিত, আরও সুশৃঙ্খল করে গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। দেশের সকল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের যেখানে ছোটখাটো বিরোধ আছে, তার সমাধান করতে হবে। এ ব্যাপারে নিজ নিজ বিভাগে যেখানে সাংগঠনিক সমস্যা রয়েছে, তার সমাধানে কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

আওয়ামী লীগের গঠিত কমিটিগুলো নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তা ধানমন্ডিতে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের কাছে জমা দেয়ার পরামর্শও দেন কাদের।

‘বিএনপি ক্ষমতা পেলে রক্তের বন্যা’

বিএনপিকে সাম্প্রদায়িক ও সহিংসতার পৃষ্ঠপোষক উল্লেখ করে দলটির রাজনীতিকে ‘ভাইরাসের চেয়েও ভয়ংকর’ বলে মন্তব্য করেছেন ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক ও সহিংসতার পৃষ্ঠপোষক বিএনপির হাতে এ দেশ ও দেশের মানুষ নিরাপদ নয়। বিএনপির রাজনীতি ভাইরাসের চেয়েও ভয়ংকর। বিএনপির হত্যা, খুন ও সন্ত্রাসের রাজনীতি দেশকে পিছিয়ে দিয়েছিল।

‘এখন বিএনপি নেতাদের বক্তব্য শুনলে মনে হয়, বাংলাদেশের মানুষ নরক যন্ত্রণার মধ্যে আছে। অথচ বৈশ্বিক শান্তি সূচকে বাংলাদেশ গতবারের চেয়ে সাত ধাপ এগিয়েছে। এ দেশে গণতান্ত্রিক, প্রাকৃতিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ বিনষ্টের মূল কুশীলব এবং কারিগর হচ্ছে বিএনপি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শান্তি, স্থিতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে কাদের বলেন, ‘বিএনপির হাতে ক্ষমতা গেলে দেশ আবার অন্ধকারে তলিয়ে যাবে। তারা ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ আবার লাশের পাহাড় হবে। প্রতিশোধপরায়ণ বিএনপি ক্ষমতা হাতে পেলে দেশে রক্তের বন্যা বইয়ে দেবে।’

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি

আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামী বুধবার (২৩ জুন)। দিনটি উদযাপনে দলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণে আয়োজনকে সীমিত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মহামারি করোনার কারণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমরা যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করতে পারছি না। ঘরোয়াভাবে সীমিত পরিসরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে আমাদের কর্মসূচি কাটছাঁট করতে হয়েছে।’

২৩ জুন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তেলন করা হবে।

এদিন সকাল ৯টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবে আওয়ামী লীগ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘২৩ জুন বেলা ৩টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছি। সভায় গণভবন প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।’

এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। দলটির গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআরআই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানোর পাশাপাশি বিশেষ ওয়েবিনারের আয়োজন করবে।

কর্মীদের উদ্দেশে কাদের বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সংগতি রেখে সারা দেশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুরূপ কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
বাজেট সর্বমহলে প্রশংসিত: ওবায়দুল কাদের
‘বিএনপির রাজনীতিতে থাকা নিয়ে জনগণের আগ্রহ নেই’
ওবায়দুল কাদেরের বাড়ির সামনে ককটেল
‘কোরবানির পশুর চামড়া রপ্তানির অনুমতি দিতে হবে’
টিসিবির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়: জাপা

শেয়ার করুন

ভূমিক্ষয় শূন্যে নামিয়ে আনা হবে: পরিবেশমন্ত্রী

ভূমিক্ষয় শূন্যে নামিয়ে আনা হবে: পরিবেশমন্ত্রী

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন। ফাইল ছবি

‘সরকার মরুকরণ ও খরা প্রতিরোধে পানির অপ্রাপ্যতা, বন উজাড়, ভূমিক্ষয় এবং পরিবেশের ওপর মানুষের অপরিকল্পিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে নিরলসভাবে কাজ করছে।’

উর্বর ভূমি সংরক্ষণের পাশাপাশি সবুজ অর্থনীতি ও টেকসই ভবিষ্যত গড়ার লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে ভূমিক্ষয় শুন্যে নামিয়ে আনতে সরকার নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন।

বিশ্ব খরা ও মরুকরণ প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে পরিবেশ অধিদপ্তর আয়োজিত সেমিনারে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

‘ইউএন কনভেনশন টু কমব্যাট ডেজারটিফিকেশন’-এ সই করা দেশ হিসেবে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার মরুকরণ ও খরা প্রতিরোধে পানির অপ্রাপ্যতা, বন উজাড়, ভূমিক্ষয় এবং পরিবেশের ওপর মানুষের অপরিকল্পিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে নিরলসভাবে কাজ করছে।’

এ সময় ভূমির অবক্ষয় রোধে ইটভাটায় সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক পদ্ধতি চালুর কথাও জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘২০২৫ সালের পর সরকারি কাজে মাটির তৈরি ইট ব্যবহার করা যাবে না। সরকার গত বছর সাড়ে আট কোটি গাছ রোপণ করেছে। এ বছরও আট কোটি গাছ রোপণ করবে।’

যেকোনো প্রয়োজনে একটি গাছ কাটা হলে পাঁচটি গাছ লাগানোর নীতি বাস্তবায়ন করার কথাও জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘এ সকল উদ্যোগ ভূমির ক্ষয়রোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।’

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘মরুকরণ ও মৃত্তিকা অবক্ষয় রোধ করে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। কৃষকের আয় বাড়ার পথ প্রসারিত হবে। এ কার্যক্রম জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলোকেও প্রশমিত করতে সহায়ক হবে।’

খরা প্রতিরোধে মন্ত্রী তার বক্তব্যে বনায়ন ও পুনর্বনায়নের পাশাপাশি ওই সব এলাকায় পানি সংরক্ষণাগার স্থাপন করে সেচের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশে নদীতে উজানের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতার বিষয়েও আলোকপাত করেন মন্ত্রী।

মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসান বলেন, ‘ভূমির অবক্ষয় রোধে জাতীয় রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও ঝুঁকি মোকাবেলায় জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় কার্যক্রম এবং খরা ও ভূমিক্ষয় রোধে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল আলোচনায় আরও অংশ নেন উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার ও মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসান।

আরও পড়ুন:
বাজেট সর্বমহলে প্রশংসিত: ওবায়দুল কাদের
‘বিএনপির রাজনীতিতে থাকা নিয়ে জনগণের আগ্রহ নেই’
ওবায়দুল কাদেরের বাড়ির সামনে ককটেল
‘কোরবানির পশুর চামড়া রপ্তানির অনুমতি দিতে হবে’
টিসিবির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়: জাপা

শেয়ার করুন