বাজেট সর্বমহলে প্রশংসিত: ওবায়দুল কাদের

বাজেট সর্বমহলে প্রশংসিত: ওবায়দুল কাদের

‘এই বাজেটটি করা হয়েছে করোনা প্যানডেমিকের মধ্যে জীবন এবং জীবিকার বিষয়টি মাথায় রেখে বাস্তবভিক্তিক, সময়োপযোগী, ব্যবসাবান্ধব, বিনিয়োগবান্ধব এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা দিয়ে। সময়োপযোগী সংকটকালে একটা বাস্তবমুখী বাজেট। ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহল এই বাজেটের প্রশংসা করেছে।’

করোনা মহামারির সংকটকালে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের নিশ্চয়তার যে বাজেট দেয়া হয়েছে, তা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সেই সঙ্গে বিএনপি বাজেট নিয়ে যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে, তার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ‘বাজেটের এই দিনে তারা পূর্ণিমার ঝলমলে আলোতে অমাবস্যার অন্ধকার দেখছে।’

শুক্রবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘করোনাভাইরাস সংকটকালে সামাজিক সুরক্ষা, জীবন ও জীবিকাকে প্রাধান্য দিয়ে, সর্বস্তরের মানুষকে প্রাধান্য দিয়ে, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী বাড়িয়ে এই বাজেটটি করা হয়েছে।’

বাজেট ঘোষণার পরদিন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলীয় এই অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মহামারি সংকটকালে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা দিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে জীবন ও জীবিকাকে প্রাধান্য দিয়ে সর্বস্তরের মানুষকে প্রাধান্য দিয়ে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী বাড়িয়ে এই বাজেটটি করা হয়েছে।

‘এই বাজেটটি করা হয়েছে করোনা প্যানডেমিকের মধ্যে জীবন এবং জীবিকার বিষয়টি মাথায় রেখে বাস্তবভিক্তিক, সময়োপযোগী, ব্যবসাবান্ধব, বিনিয়োগবান্ধব এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা দিয়ে। সময়োপযোগী সংকটকালে একটা বাস্তবমুখী বাজেট। ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহল এই বাজেটের প্রশংসা করেছে।’

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাজেটের এই দিনে তারা পূর্ণিমার ঝলমলে আলোতে অমাবস্যার অন্ধকার দেখছে।’

তিনি বলেন, ‘তারা আজকে আবোল-তাবোল বকছে। তাদের বাজেট বক্তৃতা অন্ধ বিদ্বেষপ্রসূত। কথামালার চাতুরী হচ্ছে বিএনপির বাজেট বক্তব্য। তারা ভালো কিছু চোখে দেখে না। দিনের আলোতে তারা অন্ধকার দেখে। এটা হচ্ছে বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি। তাদের দল কখনও ভালো কিছু দেখে না। চোখ থাকতেও তারা হাওয়া ভবনের কালো চশমা পরে থাকে।’

উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দৌড় বেড়েছে

বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না শুনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দৌড় বেড়ে গেছে বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘এবার মনোনয়ন পেতে ইচ্ছুক প্রার্থীর সংখ্যা অনেক। খুব একটা অসুবিধা নেই, এই কথা মনে করে অনেকেই আবার প্রার্থী হচ্ছেন। পায় আর না পায়, প্রার্থী হতে চায়।

‘কারণ বিএনপি নেই শুনেছে। সে জন্য প্রার্থিতার দৌড়ও বেড়ে গেছে। নেত্রীর সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়নি। সাধারণ একটি গাইডলাইন তিনি দিয়েছেন। সেটা হলো, আমি ত্যাগী ও পরীক্ষিত কাউকে মনোনয়ন দেব। যারা জনগণের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য এবং দুঃসময়ে ছিলেন- এমন একটি ধারণা তিনি আমাকে দিয়েছেন।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এখানে গোয়েন্দা রিপোর্ট থাকবে। দলীয়ভাবেও রিপোর্ট নেয়া হচ্ছে। নেত্রীরও নিজস্ব একটি টিম আছে। সেই টিম দিয়ে তিনি মাঠপর্যায়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। আশা করি, আমরা যথাযথ ব্যক্তিকে মনোনয়নটা দিতে পারব।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যেসব সাংগঠনিক শাখার সম্মেলন হয়েছে, নিয়মিত কমিটি রয়েছে, সেগুলোতে সদস্য সংগ্রহ বই দেয়া শুরু করব। কারণ করোনা কবে শেষ হবে কেউ জানে না। আমাদের এর সঙ্গে বসবাস করতে হবে। এর মধ্যে বাঁচতে শিখতে হবে। আমাদের সংগঠনও চালিয়ে যেতে হবে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলব।’

ঢাকা ইঞ্জিন সচল করতে হবে

ঢাকায় দলের সাংগঠনিক অবস্থা নিয়েও নাখোশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। বলেন, ‘ঢাকা শহর হলো পার্টির ইঞ্জিন। ইঞ্জিন যদি না চলে, বগি চলবে? একে সচল করতে হবে। এটাই আওয়ামী লীগের প্রাণ।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঢাকা সিটির অসংখ্য কমিটি দুজনের। অসংখ্য কর্মী কাজ করেন। সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরলে স্ত্রী ও মা-বাবা জিজ্ঞেস করলে পরিচয় বলতে পারে না। পরিচয় তারা আওয়ামী লীগ করে। অথচ পদ পড়ে আছে, কিন্তু দেয়ার কেউ নাই। যারা এই পরিচয় দেয়া থেকে বঞ্চিত করছেন, তারা সংগঠনকে বঞ্চিত করছেন।’

তিনি বলেন, ‘কর্মী না বলে এখানে বলা যায় আওয়ামী লীগে নেতা কমে গেছে। কারণ পরিচয় নাই তো। এই ঢাকা মহানগর উত্তরে ১৩০০-১৫০০ ইউনিট কমিটি রয়েছে। এখানে শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করে থাকলে হবে না। নেতা না হলে নেতৃত্ব দেবে কেমনে। নেতৃত্ব সৃষ্টি হবে কর্মীদের থেকে।’

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি।

আরও পড়ুন:
‘বিএনপির রাজনীতিতে থাকা নিয়ে জনগণের আগ্রহ নেই’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নৌকা পোড়খাওয়া রাজনীতিকের হাতেই

নৌকা পোড়খাওয়া রাজনীতিকের হাতেই

কুমিল্লা-৫ উপনির্বাচনে নৌকার মনোয়ন পেয়েছেন অ্যাড. আবুল হাশেম খান। ফাইল ছবি

কুমিল্লা-৫ আসনে উপনির্বাচনে নৌকা পাওয়া আবুল হাশেম খান রাজনীতিতে জড়িয়েছেন পাকিস্তান আমলে। তৃণমূলের এই রাজনীতিক একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও। তাকে নিয়ে আগে সেভাবে আলোচনা না থাকলেও কেন্দ্র মূল্যায়ন করেছে তার অভিজ্ঞতা আর দলের জন্য নিষ্ঠাকে।

আলোচনায় ছিলেন না, তবুও পেলেন নৌকার টিকিট। কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাশেম খান।

মনোনয়নে চমক থাকলেও পোড়খাওয়া এই রাজনীতিক পাঁচ দশক ধরেই বয়ে চলেছেন আওয়ামী লীগের পতাকা।

পাকিস্তান শাসনামলে আন্দোলন সংগ্রাম দিয়ে শুরু। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনে অংশ নিয়ে হন গ্রেপ্তার। মুক্তিযুদ্ধেও লড়েছেন অস্ত্র হাতে।

১৯৭৬ সালে বুড়িচং ছাত্রলীগ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৩ সালে হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বছর পরে হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

২০০৩ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। ২০১৮ সালে আহ্বায়ক কমিটি গঠন হলে তাকেই করা হয় আহ্বায়ক। পরের বছর কমিটি গঠন হলে আবার দায়িত্ব পান সভাপতির।

তিনি বুড়িচং উপজেলার উত্তরগ্রামের সন্তান। পেশায় আইনজীবী। জেলা আইনজীবী সমিতিতে একবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০০০ সালে কুমিল্লা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন হাশেম। ২০০৪-২০০৫ সালে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৮-১৯ সালে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

মনোনয়ন পাওয়ার আগে আলোচনায় না থাকলেও দলীয় প্রার্থীর প্রতি সমর্থন দিয়েছেন অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা। তবে নাখোশও হয়েছন তাদের সমর্থকদের কেউ কেউ।

মনোয়নন প্রত্যাশীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন স্বপন। দল মনোনীত প্রার্থীর প্রতি সমর্থন দিয়ে তিনি লেখেন, ‘অ্যাড আবুল হাশেম খানকে নমিনেশন দেয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ।’

মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে আলোচনায় ছিলেন আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং সোনার বাংলা কলেজের অধ্যক্ষ আবু ছালেক মো. সেলিম রেজা সৌরভ।

সেলিম রেজা বলেন, ‘আমি দলের বাইরে নই। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আমি অবিচল।’

কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহসম্পাদক এহতেশামুল হাসান ভূইয়া রুমি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে যোগ্য মনে করেছেন, তাকেই দলীয় প্রার্থী করেছেন। আমি দলীয় প্রার্থীর জন্য কাজ করব।’

মনোয়নের বিষয়ে আলোচনায় ছিলেন প্রয়াত সংসদ সদস্য আবদুল মতিন খসরুর স্ত্রী সেলিমা সোবহান খসরুও। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দলীয় নীতিনির্ধারকরা যাকে যোগ্য মনে করেছেন তাকেই নমিনেশন দিয়েছেন। আমার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য নেই।’

আবুল হাশেম খানের নৌকা প্রতীক পাওয়ায় বুড়িচং বাজারে আনন্দ মিছিল করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। এতে নেতৃত্ব দেন বুড়িচং উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম।

আবুল হাশেম খান নিউজবাংলাকে জানান, এই মনোয়নন তিনি উৎসর্গ করছেন বুড়িচং- ব্রাহ্মণপাড়াবাসীকে।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও ফোনে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হলে বুড়িচং- ব্রাহ্মণপাড়া থেকে প্রথমে মাদক দূর করব। এর পাশাপাশি দুই উপজেলা সদরের যানজট নিরসনে পরিকল্পনা নেব। এছাড়া দুই উপজেলাকে পৌরসভায় উন্নীত করতে বিশেষ পরিকল্পনা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
‘বিএনপির রাজনীতিতে থাকা নিয়ে জনগণের আগ্রহ নেই’

শেয়ার করুন

‘ক্ষমতায় যেতে দিগ্বিদিকশূন্য বিএনপি’

‘ক্ষমতায় যেতে দিগ্বিদিকশূন্য বিএনপি’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি নিজেরাই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিএনপি ক্ষমতাপাগল, তারা এখন দিগ্বিদিকশূন্য। ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার মোহে বিএনপি নেতারা এখন মিথ্যাচার আর ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছেন। তাদের কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। তাদের চরিত্র এখন দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট।’

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা বিএনপি ক্ষমতায় যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ঢাকায় নিজ বাসভবনে শনিবার সকালে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপিকে নির্বাচনে বিজয়ের গ্যারান্টি দিলে নির্বাচন কমিশন তাদের ভাষায় নিরপেক্ষ আর তাদের পক্ষে রায় দিলেই বিচার বিভাগ স্বাধীন। বিএনপি নেতাদের অপরাধ ও দুর্নীতির বিচার না করলে দুদক ভালো।

‘বিএনপি নিজেরাই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিএনপি ক্ষমতাপাগল, তারা এখন দিগ্বিদিকশূন্য। ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার মোহে বিএনপি নেতারা এখন মিথ্যাচার আর ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছেন। তাদের কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। তাদের চরিত্র এখন দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট।’

বিএনপির সমালোচনা করে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের এই নেতা বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতায় ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নয়, তারাই দেশকে অকার্যকর এবং ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করাই সরকারের লক্ষ্য। বিএনপিই বরং একের পর এক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিতর্কিত করছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত এবং বিশ্বসভায় সম্ভাবনাময় দেশ বলে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব শতবর্ষ পালন উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের আগে কারা তাকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিল দেশবাসী তা জানে। কারা হামলা ও এর পৃষ্ঠপোষক এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কারা জড়িত তা ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট হয়েছে।

‘বিএনপি সাম্প্রদায়িক অপশক্তির পৃষ্ঠপোষক। তারা যতই অস্বীকার করুক সাম্প্রদায়িক অপশক্তির তোষণ নীতি থেকে বের হতে পারবে না। ২০১৩-১৪ সালে আগুন-সন্ত্রাস চালিয়ে এর দায় আওয়ামী লীগের ওপর চাপিয়ে দিতে চেয়েছে বিএনপি। নিজেদের অপকর্ম ও ব্যর্থতা আড়াল করতে উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানো বিএনপির পুরোনো অভ্যাস।’

আরও পড়ুন:
‘বিএনপির রাজনীতিতে থাকা নিয়ে জনগণের আগ্রহ নেই’

শেয়ার করুন

দলীয় পদ থেকে অব্যাহতির প্রতিবাদে ৬ দাবি চকরিয়ার সাংসদের

দলীয় পদ থেকে অব্যাহতির প্রতিবাদে ৬ দাবি চকরিয়ার সাংসদের

চকরিয়ার সংসদ সদস্য জাফর আলম বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের অব্যাহতির আদেশ অবৈধ। একজন দলীয় সাংসদকে কমিটি থেকে অব্যাহতি দেয়া এখতিয়ার বহির্ভূত। এই ক্ষমতা জেলা আওয়ামী লীগের নেই।

সংসদ সদস্যকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া বৈধ নয় বলে মন্তব্য করেছেন কক্সবাজারের চকরিয়ার সংসদ সদস্য জাফর আলম। উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার একদিন পর তিনি এই প্রতিক্রিয়ায় দেন। সেইসঙ্গে ছয়টি দাবি নিয়ে কেন্দ্রের কাছে যাবেন বলেও জানান তিনি।

চকরিয়া পৌর নির্বাচনে দলের মনোনীত মেয়র প্রার্থীর ওপর হামলা ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য জাফরকে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেয় জেলা আওয়ামী লীগ। সেই ঘোষণা দেয়া বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, তাকে দল থেকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রের কাছে সুপারিশও পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে শুক্রবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করেন জাফর। তিনি বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের অব্যাহতির আদেশ অবৈধ। একজন দলীয় সাংসদকে কমিটি থেকে অব্যাহতি দেয়া এখতিয়ার বহির্ভূত। এই ক্ষমতা জেলা আওয়ামী লীগের নেই।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগ দূর্নীতিবাজ ও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি। এদের কাছে থেকে সুবিচার আশা করা যায় না। এজন্য তিনি ছয়টি দাবি নিয়ে রাজধানীতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাবেন।

দাবিগুলোর মধ্যে আছে, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন, অব্যাহতির আদেশ প্রত্যাহার, পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিটে জেলা আওয়ামী লীগের হস্তক্ষেপ ও দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টিকারীদের আইনের আওতায় আনা।

দাবির মধ্যে আরও আছে জেলা হোটেল মোটেল জোনে মেয়র মুজিবুর রহমানের দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও নানা অপকর্ম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

জাফর আলম জানান, এসব দাবি নিয়ে তিনি রোববার ঢাকা যাবেন।

জেলা আওয়ামী লীগ থেকে জাফরকে অব্যাহতি দেয়ার পর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সরওয়ার আলমকে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সমর্থক ও নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এবং চকরিয়া ও পেকুয়ার বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করে।

পরে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

আরও পড়ুন:
‘বিএনপির রাজনীতিতে থাকা নিয়ে জনগণের আগ্রহ নেই’

শেয়ার করুন

তিন উপনির্বাচনে নৌকার মাঝি মিন্টু, হাবিব ও হাসেম

তিন উপনির্বাচনে নৌকার মাঝি মিন্টু, হাবিব ও হাসেম

উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়া ঢাকা ১৪ আসনে আগাখান মিন্টু (বাঁয়ে), কুমিল্লা-৫ আসনে আবুল হাসেম খান (মাঝে) ও সিলেট-৩ আসনে হাবিবুর রহমান

দলের মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৮ জুলাই অনুষ্ঠেয় তিন উপনির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে আগাখান মিন্টু, কুমিল্লা-৫ আসনে আবুল হাসেম খান এবং সিলেট-৩ আসনে হাবিবুর রহমান আওয়ামী লীগের হয়ে লড়বেন।

ঢাকা-১৪-সহ তিন উপনির্বাচনে নৌকার প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। দলের মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৮ জুলাই অনুষ্ঠেয় তিন উপনির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে আগাখান মিন্টু, কুমিল্লা-৫ আসনে আবুল হাসেম খান এবং সিলেট-৩ আসনে হাবিবুর রহমান আওয়ামী লীগের হয়ে লড়বেন।

শনিবার বেলা ১১টায় গণভবনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ বোর্ডের অন্য সদস্যরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা-১৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া আগাখান মিন্টু শাহ আলী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

সিলেট-৩-এ মনোনয়ন পাওয়া হাবিবুর রহমান জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আর কুমিল্লা-৫-এ আবুল হাসেম খান বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে ২৮ জুলাই।

নির্বাচন সামনে রেখে গত ৪ জুন থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু করে আওয়ামী লীগ। মনোনয়ন গ্রহণ ও জমা দেয়া শেষ হয় গত বৃহস্পতিবার।

এই তিন আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের ৯৪ জন নেতা-কর্মী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র তোলা হয়েছিল কুমিল্লা-৫ আসন থেকে, ৩৫ জন। এ ছাড়া ঢাকা-১৪ আসনে ৩৩ ও সিলেট-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিট চেয়েছিলেন ২১ জন।

গত ২ জুন নির্বাচন কমিশন এক বৈঠকে ঢাকা, কুমিল্লা ও সিলেটের মোট তিনটি আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।

ঘোষণা অনুযায়ী ১৫ জুন মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। মনোনয়ন বাছাই হবে ১৭ জুন। ১৮, ১৯ ও ২০ জুন আপিলের দিন ঠিক করা হয়েছে। প্রার্থিতা বাতিলের শেষ দিন ২৩ জুন। প্রতীক বরাদ্দের তারিখ ২৪ জুন।

বিএনপি আগ্রহ না দেখালেও সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এরই মধ্যে আসনগুলোতে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে। জাতীয় মোটর শ্রমিক পার্টির সভাপতি মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক ঢাকা-১৪, দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ আতিকুর রহমান সিলেট-৩ এবং জসিম উদ্দিনকে কুমিল্লা-৫ আসনে লাঙ্গল নিয়ে লড়বেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গত ৪ এপ্রিল আসলামুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা-১৪, ১৪ এপ্রিল আবদুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে কুমিল্লা-৫ আর ১১ মার্চ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের মৃত্যুতে ফাঁকা হয় সিলেট-৫ আসন।

শূন্য ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচনে ভোট করতে বাধ্যবাধকতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।

আরও পড়ুন:
‘বিএনপির রাজনীতিতে থাকা নিয়ে জনগণের আগ্রহ নেই’

শেয়ার করুন

সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটাতে চায় আওয়ামী লীগ

সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটাতে চায় আওয়ামী লীগ

কেন্দ্রীয় নেতা বলছেন, খুব শিগগিরই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবেন তারা। জাতীয় কাউন্সিলের আগেই থমকে থাকা সম্মেলনগুলোও শেষ করতে চায় দল।

গত বছরের মার্চে দেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে গত বছরের প্রায় পুরোটা জুড়ে সব সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত রেখেছিল আওয়ামী লীগ। নতুন বছরের অর্ধেক পার হয়ে গেলেও সেই স্থবিরতা কাটাতে পারেনি ক্ষমতাসীন এ দলটি।

স্বাভাবিক সময়ে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ধানমন্ডি ৩/‘এ’-তে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সব সময় নেতাকর্মীদের ভিড় লেগেই থাকত। গত দেড় বছরে সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের আনাগোনা কম।

করোনার প্রাদুর্ভাবের পর থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে সেভাবে জনসমক্ষে আসতে দেখা যায় নি। নিয়মিত ঘরে বসে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দলীয় কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বিভিন্ন দিবসে আগের মতো জনসমাগম দেখা যাচ্ছে না।

গত দেড় বছরে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কোথাও দলটির কোনো সাংগঠনিক তৎপরতা চোখে পড়েনি। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্রমে দূরত্ব বাড়ছে। নেতাদের সাথে কর্মীদের যে সংযোগ স্বাভাবিক সময়ে ঘটে, তা ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। আর এ কারণে দলে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কাও করছেন তারা।

এদিকে, তৃণমূল পর্যায়ের বেশিরভাগ কমিটির মেয়াদ এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। যেগুলোর সম্মেলন এরই মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলো এখনও পূর্ণাঙ্গ হয়নি। সাংগঠনিক তৎপরতা না থাকায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে হতাশা। এই পরিস্থিতি আর জিইয়ে রাখতে চায় না কেন্দ্র।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাংগঠনিক কার্যক্রম সবগুলো তো করা সম্ভব ছিল না, এটা বাস্তবতা। তারপরও কার্যক্রম কিছু ছিল। মানবিক-সামাজিক কার্যক্রম, কর্মীদের সাথে সংযোগ, এই কমিউনিকেশন আমাদের ছিল।

‘রাজনৈতিক দল হিসেবে ব্যাপক ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের মতো দলের নেতাকর্মীদের সাথে যে সম্পর্ক, যে সংযোগটা আমরা সব সময় মেইনটেইন করতাম, এটা এই সময়ে সম্ভব হয় নি, তা অস্বীকার করার বিষয় না।’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, করোনার কারণে সাংগঠনিক তৎপরতা সেভাবে না থাকলেও সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচিতে তৎপর ছিল দল। সীমিত আকারে পরিচালনা করা হয়েছে সাংগঠনিক কার্যক্রম।

দলের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার পরে কর্মসূচি সীমিত করা হয়েছে। সে সময় রাজনৈতিক কর্মসূচির চেয়ে আমরা বেশি গুরুত্ব দিয়েছি সামাজিক দায়িত্ব পালনে, যেমন দুর্যোগ শুরুর পর থেকে এটা মোকাবেলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা, স্বাস্থ্যগত বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নির্দেশনা পৌঁছে দেয়া।

‘বিশেষ করে করোনায় আক্রান্ত মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদেরকে সৎকারে শুরুর দিকে তাদের স্বজনরাও আতঙ্কিত হয়ে এগিয়ে আসে নি, সে সময় আমাদের দলের নেতাকর্মীরাই কিন্তু সৎকারে সহায়তা করেছে। এর পাশাপাশি আমাদের কৃষকদের ফসল ঘরে তুলতেও সহায়তা করা হয়েছে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের যেসব মানুষদের কাজ বন্ধ হয়েছিল, তাদের আমরা খাদ্য সহায়তা দিয়েছি, সরকারের পাশাপাশি। এগুলো আমরা সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে পালন করেছি।’

করোনা মহামারির মধ্যেও তৃণমূল পর্যায়ে আটকে থাকা কিছু কিছু সম্মেলন শেষ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। হানিফ বলেন, ‘এর মাঝেও আমরা সীমিতভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে গিয়েছি। এই কোভিডের মধ্যেও অনেক ইউনিয়ন পর্যায়ে আমরা সম্মেলনগুলো শেষ করেছি। এমনকি একটি জেলা সম্মেলনও করতে পেরেছি।’

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন তারা। করোনা পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে না আসায় আরও কিছুটা সময় জনসমাগম এড়িয়ে চলতে চাইছে দলটি। তবে তৃণমূলে যে সংকট তৈরি হচ্ছে, তারও সমাধান করতে চান তারা।

দলের কেন্দ্রীয় নেতা বলছেন, খুব শিগগিরই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেবেন তারা। দলের জাতীয় কাউন্সিলের আগেই থমকে থাকা সম্মেলনগুলোও শেষ করতে চায় দল।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘এখনও করোনার প্রকোপটা হয়তো কমে নাই, কিন্তু মানুষের মধ্যে আতংক কমে গেছে। এ কারণে আমরা আমাদের সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির চিন্তা করছি। কর্মসূচিও নিয়েছি। স্বাস্থ্যবিধি সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং চিকিৎসক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই আমাদের সাংগঠনিক তৎপরতা চালানো চিন্তা করেছি।

‘আমাদের লক্ষ্য আছে, জাতীয় কাউন্সিলের আগেই আমাদের সমস্ত জেলা উপজেলা কমিটিগুলো ঢেলে সাজাব এবং এগুলো আপডেট করার লক্ষ্যে আমরা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছি। জেলা উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করা হচ্ছে তাদের গাইডলাইন দেয়া হচ্ছে। আমাদের ওয়ার্ড পর্যায় থেকে সম্মেলনের নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। জুন-জুলাইয়ের পরে হয়ত করোনার প্রভাবটা কিছুটা কমে যাবে। আমরা জুলাইয়ের শেষে অথবা এরপর থেকে কাউন্সিলের কাজগুলো শেষ করব।’

নেতারা বলছেন, তারা দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন। তার নির্দেশনা পেলেই দল গোছাতে মাঠে নামবেন নেতারা।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘পরীক্ষামূলকভাবে আমরা কিছু কিছু কাজ শুরু করেছি, বিভিন্ন পর্যায়ে। সাংগঠনিক কার্যক্রম ভার্চুয়াল মাধ্যম ব্যবহার করে শুরু করব। আমাদের করোনার সাথে খাপ খাইয়ে বাস্তবতার ভিত্তিতে সব কিছু সমন্বয় করতে হবে।

‘আমরা সে হিসেবে কাজ করা শুরু করেছি। এখন ঘোষণার অপেক্ষামাত্র। করোনার জন্য বসে থাকা যাবে না। জীবন-জীবিকা যখন কোনোটিকেই অবহেলা করা যায় না। আমরা এতদিন অপেক্ষা করেছি। যেহেতু এর কোনো নির্দিষ্ট সীমা এখনও আমরা পাচ্ছি না, সব মিলিয়েই আমাদের পথ চলতে হবে। কার্যক্রম আমরা বাড়াব। পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে আগামীতে কর্মসূচি নেব। আর সময় নষ্ট করতে চাই না।’

আরও পড়ুন:
‘বিএনপির রাজনীতিতে থাকা নিয়ে জনগণের আগ্রহ নেই’

শেয়ার করুন

সাংগঠনিক টিম গঠনের নির্দেশ আ. লীগের

সাংগঠনিক টিম গঠনের নির্দেশ আ. লীগের

আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দলের সব শাখায় সংগঠনের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে সারাদেশে সাংগঠনিক টিম’ গঠনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

তৃণমূলে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াতে জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও পৌরসভা শাখায় সাংগঠনিক টিম গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় সংসদ।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সই করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দলের সব শাখায় সংগঠনের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে সারাদেশে সাংগঠনিক টিম’ গঠনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও পৌর শাখায় জেলা ও মহানগরের কার্যনির্বাহী সংসদের নেতাদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাংগঠনিক টিম গঠন করতে বলা হয়েছে।

এই সাংগঠনিক টিম সংশ্লিষ্ট জেলা বা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে উপজেলা, থানা ও পৌর শাখার বিদ্যমান সাংগঠনিক সমস্যাসমূহ দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেবে।

একই ভাবে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও ইউনিটের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে উপজেলা, থানা ও পৌর আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের নেতাদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাংগঠনিক টিম গঠন করতে বলা হয়েছে।

এই টিমগুলো সংশ্লিষ্ট উপজেলা, থানা বা পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও ইউনিট শাখার বিদ্যমান সাংগঠনিক সমস্যাসমূহ দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেবে।

আরও পড়ুন:
‘বিএনপির রাজনীতিতে থাকা নিয়ে জনগণের আগ্রহ নেই’

শেয়ার করুন

৩ উপনির্বাচনে নৌকার মাঝি নির্ধারণ শনিবার

৩ উপনির্বাচনে নৌকার মাঝি নির্ধারণ শনিবার

৩ আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের ৯৪ জন নেতা-কর্মী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র তুলেছেন কুমিল্লা-৫ আসন থেকে, ৩৫ জন। এছাড়াও ঢাকা-১৪ তে ৩৩ ও সিলেট-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিট চেয়েছেন ২১ জন।

আগামী ২৮ জুলাই অনুষ্ঠেয় ৩ উপনির্বাচনে নৌকার মাঝি কে হবেন তা নির্ধারণ হবে শনিবার। সকাল ১১টায় গণভবনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ বোর্ডের অন্য সদস্যরাও এতে উপস্থিত থাকবেন।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে ২৮ জুলাই। নির্বাচন সামনে রেখে গত ৪ জুন থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু করে আওয়ামী লীগ। মনোনয়ন গ্রহণ ও জমা দেয়া শেষ হয় বৃহস্পতিবার।

এই ৩ আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের ৯৪ জন নেতা-কর্মী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র তুলেছেন কুমিল্লা-৫ আসন থেকে, ৩৫ জন। এছাড়াও ঢাকা-১৪ তে ৩৩ ও সিলেট-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিট চেয়েছেন ২১ জন।

গত ২ জুন নির্বাচন কমিশন এক বৈঠকে ঢাকা, কুমিল্লা ও সিলেটের মোট ৩টি আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।

ঘোষণা অনুযায়ী ১৫ জুন মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। মনোনয়ন বাছাই হবে ১৭ জুন। ১৮, ১৯ ও ২০ জুন আপিলের দিন ঠিক করা হয়েছে। প্রার্থিতা বাতিলের শেষ দিন ২৩ জুন। প্রতীক বরাদ্দের তারিখ ২৪ জুন।

বিএনপি আগ্রহ না দেখালেও সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এরই মধ্যে আসনগুলোতে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে। জাতীয় মটর শ্রমিক পার্টির সভাপতি মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক ঢাকা-১৪, দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ আতিকুর রহমান সিলেট-৩ এবং জসিম উদ্দিনকে কুমিল্লা-৫ আসনে লাঙ্গল নিয়ে লড়বেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গত ৪ এপ্রিল আসলামুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা-১৪, ১৪ এপ্রিল আবদুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে কুমিল্লা-৫ আর ১১ মার্চ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের মৃত্যুতে ফাঁকা হয় সিলেট-৫ আসন।

শূন্য ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচনে ভোট করতে বাধ্য নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুন:
‘বিএনপির রাজনীতিতে থাকা নিয়ে জনগণের আগ্রহ নেই’

শেয়ার করুন